রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ও আইন | রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কেন গঠিত হয়


রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ও আইন

সূচনা:- দেশীয় রাজ্য গুলোকে ভারতের অন্তর্ভুক্তিকরন করে দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির সমস্যার সমাধান করা হলেও 1950 এর দশকে রাজ্য পুনর্গঠন সংক্রান্ত সমস্যার উদ্ভব হয় এই উদ্দেশ্যে গঠিত হয় রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন ও আইন। (1953-56 খ্রিস্টাব্দ)

প্রেক্ষাপট:- রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন এর গঠনের প্রেক্ষাপট এ দেখা যায় যে:-

1. কংগ্রেসে প্রতিশ্রুতি

স্বাধীনতার পূর্বে কংগ্রেস প্রচার করেছিল যে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে প্রতিটি প্রধান ভাষা গোষ্ঠীর জন্য পৃথক পৃথক ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠিত হবে। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর জাতীয় সংহতি ও প্রশাসনিক কারণে কংগ্রেস ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিরোধিতা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তেলুগু ভাষীদের জন্য তেলুগু অঞ্চলের আন্দোলন শুরু হয় এবং পরিশেষে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠিত হলে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি ওঠে। এরই প্রেক্ষাপটে ফজলের নেতৃত্বে 1953 সালে গঠিত হয় রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন।

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন

3 জন সদস্য নিয়ে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ ফজল আলি অপর দু’জন সদস্য ছিলেন কে. এম পানিককর ও হৃদয়নাথ কুঞ্জরু। এই কমিশন 1955 সালে তার রিপোর্টে ভারতকে 16 টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা সুপারিশ দেন।

রাজ্য পুনর্গঠন আইন:- রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশগুলোকে কিছু পরিমার্জনা করে 1956 সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাশ হয়। এই আইন অনুসারে ভারতকে 14 টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয় এই আইনে বিহারের পুরুলিয়াকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত করা হয়, হায়দ্রাবাদ রাজ্যের অবলুপ্তি ঘটে মধ্যপ্রদেশ নামে একটি নতুন রাজ্য গঠন করা হয়। প্রকৃতির নানাবিধ বিষয় এই আইনের মাধ্যমে করা হয়।রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন আইন গঠিত হয় কেনো?

মূল্যায়ন

পরিশেষে বলা যায় এই ভাষা ভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য সুদৃঢ় হয়। অন্যদিকে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জাতীয় সংহতি শক্তিশালী হয়। তবে একথাও ঠিক যে রাজ্য পুনর্গঠন এর মাধ্যমে ভারতের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.