দীন-ই-ইলাহি এবং সুল-ই-কুল | দীন ই ইলাহি কাকে বলে


দীন-ই-ইলাহি

মোগল সম্রাট আকবর (১৫৫৬ খ্রি.- ১৬০৫ খ্রি.) ছিলেন ভারত তথা বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান শাসক। তাঁর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী, বিশেষ করে সুল-ই-কুল অর্থাৎ ধর্ম-সমন্বয়ের নীতি এবং দীন-ই-ইলাহি নামে ধর্মমতের প্রচার মোগল যুগের শাসকদের ধর্মনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল।


আকবরের ধর্মীয় উদারতা

মোগল সম্রাট আকবর বাল্যকাল থেকেই তাঁর মাতা হামিদা বানু বেগম, গৃহশিক্ষক আব্দুল লতিফ খান, সমকালীন ভক্তিবাদ ও সুফিবাদের উদার, মানবতাবাদী ও সহিয়ু ধর্মীয় আদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। আবুল ফজল আকবরের বাল্যকাল সম্পর্কে লিখেছেন, “মীর শরিফের কাছে কাব্যকথা শুনতে শুনতে তাঁর দুচোখ জলে ভরে উঠত।” বদাউনি লিখেছেন, “আকবর বহুদিন প্রভাতে রাজপ্রাসাদের নিকটে নির্জন স্থানে বসে মাথা নত করে একান্তে ঈশ্বর সাধনায় মগ্ন থাকতেন।” বিভিন্ন ধর্মের আদর্শ তাঁর মধ্যে দার্শনিক ভাবের উদয় ঘটিয়েছিল। আকবর তাঁর সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের রাজত্বকালে যে ধর্মনীতি গ্রহণ করেন তা ভারতের রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সংহতির পক্ষে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। তাঁর ধর্মনীতির দুটি প্রধান দিক ছিল—  সুল-ই-কুল বা ধর্মসহিয়ুতার নীতি গ্রহণ এবং ‘দীন-ই-ইলাহি’র প্রবর্তন।


‘সুল-ই-কুল’ বা ধর্মসহিমৄতা নীতি

মোগল সম্রাট আকবরের ধর্মনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর ‘সুল ই-কুল’ নীতি গ্রহণ। মধ্যযুগের মুসলিম শাসনে আকবরের ‘সুল-ই-কুল’ নীতি একদিকে যেমন অভিনব ছিল অন্যদিকে তেমনি তাঁর মহানুভবতা প্রকাশ করেছিল।


1. প্রেক্ষাপট : খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে বিভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে একপ্রকার অস্থিরতা, সংকট ও সংশয়ের পরিবেশ বিরাজ করছিল। এই পরিস্থিতিতে সম্রাট আকবর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির মোগল সিংহাসনে বসেন। আকবর মধ্যযুগের একজন মুসলিম শাসক হয়েও ধর্মীয় বিষয়ে তিনি গোঁড়ামির পরিচয় দেননি। সিংহাসনে বসার পর থেকে ১৫৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি একজন সুন্নি মুসলমান হিসেবে ধর্মীয় জীবন যাপন করেন


2. ধর্মীয় উদারতার উদ্দেশ্য : ধর্মীয় ক্ষেত্রে আকবরের উদার ও সমন্বয়বাদী নীতি গ্রহণের পশ্চাতে কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল।

  1. রাজনৈতিক প্রয়োজন : আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতবর্ষে রাজনৈতিক শান্তি ও সুস্থিতি প্রতিষ্ঠার জন্য হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও সম্প্রীতির খুবই দরকার।
  2. রাজপুতদের সঙ্গে মিত্রতা: সিংহাসনে বসার পর আকবর দরবারে এবং বাইরে নানা বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে বুঝেছিলেন যে, শুধু মুসলিম কর্মচারীদের উপর ভরসা না রেখে হিন্দু রাজপুত জাতির সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তুললে এদেশে মোগল শাসন আরও শক্তিশালী হবে।
  3. হিন্দু কর্মচারী নিয়োগ : কর্তব্যপরায়ণ ও বিশ্বস্ত হিন্দু কর্মচারীদের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত করে আকবর মোগল শাসনে দক্ষতা আনার চিন্তা করেছিলেন।


3. সুল-ই-কুল আদর্শ

সম্রাট আকবর হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি স্থাপন করে সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এক উদার, মানবিক, পবিত্র ও নমনীয় ধর্মীয় আদর্শ গ্রহণ করেন। তিনি ধর্মীয় ক্ষেত্রে যে উদারতা ও সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেন তা ‘সুল-ই-কুল’ বা ধর্ম-সহিয়ুতার নীতি নামে পরিচিত। বহু ধর্ম ও বহু সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত ভারতবর্ষে ‘সুল-ই-কুল’ বা ধর্ম-সহিয়ুতার নীতি গ্রহণ করে আকবর এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। ঐতিহাসিক ড. ঈশ্বরীপ্রসাদ আকবরকে ‘ধর্ম-সহিয়ু নীতির সর্বাপেক্ষা উদার প্রবর্তক’বলে অভিহিত করেছেন। রাষ্ট্রনীতিতে ধর্ম সহিয়ুতার এরূপ সুমহান আদর্শ গ্রহণের দৃষ্টান্ত মধ্যযুগের শাসকদের মধ্যে বিশেষ দেখা যায় না।


ধর্ম-সহিষ্ণু নীতির বাস্তবায়ন

ধর্ম-সহিয়ুতার নিদর্শন স্বরূপ আকবর

  1. জিজিয়া কর বিলোপ।
  2. ইবাদতখানাানাানা স্থাপন ও
  3. মাহজারনামাামাামা ঘোষণা করেন।


1. ‘জিজিয়া’ কর বিলোপ

১৫৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আকবর একজন নিষ্ঠাবান সুন্নি মুসলমানের মতো ধর্মীয় জীবনযাপন করেন। বদাউনি লিখেছেন যে, এই সময় আকবর দিনে চারবার নামাজ পড়তেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে ইসলামীয় আচার-আচরণ মেনে চলতেন। এই সময় তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিষয়ে উদার মানসিকতা গড়ে উঠতে থাকে। এই সময় থেকেই আকবর হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দেন। ১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি হিন্দুদের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক তীর্থকর এবং ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে জিজিয়া কর তুলে দেন।


2. ইবাদতখানা স্থাপন

আকবরের ধর্মচিন্তার বিবর্তনের
দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি হিন্দুশাস্ত্র ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন ও হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত থাকতে শুরু করেন। খ্রিস্টান, জরথুস্ট্র, শিখ প্রভৃতি মতাদর্শের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধাবান হন। বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের পণ্ডিতদের সঙ্গে তিনি ধর্মীয় আলোচনায় যোগ দিতেন।

  1.  ইবাদতখানার ধর্মচর্চা : এই সময় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রশ্ন তাঁকে আকুল করে তোলে। এসব প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়ার জন্য তিনি ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে ফতেপুর সিক্রিতে ইবাদতখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে সকল ধর্মের মানুষের জন্য ইবাদতখানার দরজা খুলে দেন। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এখানে মুসলিম ধর্মজ্ঞানীদের আলোচনার আসর বসত।
  2. বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের যোগদান : মুসলিম পণ্ডিতদের আলোচনায় গোঁড়ামি ও বিদ্বেষের মনোভাব লক্ষ করে আকবর ১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইবাদতখানার আলোচনায় বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের আহ্বান করেন। হিন্দু পণ্ডিত পুরুষোত্তম, জৈন পণ্ডিত বিজয়সেন ও হরিবিজয় সুরী, খ্রিস্টান পাদরি মনসারেট অ্যাকোয়াভিভা, জরথুস্ট্রীয় ধর্মের পণ্ডিত মাহারজি রানা ছাড়াও বহু বৌদ্ধ, শিয়া, সুন্নি, নাস্তিক এই ধর্মীয় আলোচনায় যোগ দেন।
  3. মানসিক পরিবর্তন : ইবাদতখানার আলোচনার পর আকবরের মনে গভীর পরিবর্তন আসে এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে, কোনো বিশেষ একটি ধর্ম প্রকৃত সত্যের সন্ধান দিতে পারে না। এই সময় থেকে আকবরের আচরণে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি পশুহত্যা নিষিদ্ধ করে নিরামিষ ভোজন শুরু করেন। মাথায় পাগড়ি বেঁধে এবং কপালে তিলক কেটে দরবারে আসতে শুরু করেন।


3. মাহজারনামা ঘোষণা

১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে আকবর ফতেপুর সিক্রির মসজিদের ইমামকে সরিয়ে নিজে মসজিদের উপাসনা পরিচালনার দায়িত্ব নেন এবং সম্রাট আকবরের নামে ‘খুৎবা পাঠ করা হয়। এরপর তিনি ‘মাহজারনামা’ নামে এক ঘোষণার দ্বারা নিজেকে কোরানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী ও ধর্মীয় বিষয়ের প্রধান না বলে ঘোষণা করেন। ঐতিহাসিক ড. ভিনসেন্ট স্মিথ এই ঘোষণাকে ‘অভ্রান্ত কর্তৃত্ব’ বা ‘Infallibility decree‘ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, আকবর এই ঘোষণার দ্বারা একই সঙ্গে পোপ ও সিজারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ঐতিহাসিক ড. আর. পি. ত্রিপাঠীর মতে, এই ঘোষণার দ্বারা আকবর বিভিন্ন ধর্মের সংঘাত দূর করে দেশের ঐক্য সুদৃঢ় করেন। তবে আকবরের এই ঘোষণায় গোঁড়া উলেমা শ্রেণি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং আকবরকে ‘ধর্মদ্রোহী’ বলে ঘোষণা করে।


দীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন

দীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন : ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে মৃত্যুকাল (১৬০৫ খ্রি.) পর্যন্ত আকবরের মনে ধর্মীয় বিবর্তনের তৃতীয় পর্যায় লক্ষ করা যায়। এই সময় তিনি উপলব্ধি করেন যে, বিভিন্ন পার্থক্য সত্ত্বেও প্রত্যেক ধর্মেই কিছু সাধারণ মৌলিক সত্য ও কল্যাণকর দিক আছে। এই দিকগুলির সমন্বয়ে মানবজাতির কল্যাণ করা সম্ভব।


দীন-ই-ইলাহি বলতে কাকে বলে?

1. দীন-ই-ইলাহি বলতে কী বোঝায়? :- আকবর বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তুর সমন্বয়ে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৮১ খ্রি.) দীন-ই-ইলাহি‘ নামে একেশ্বরবাদী আদর্শের প্রবর্তন করেন। আবুল ফজলবদাউনি একে ‘তৌহিদ ই-ইলাহি‘ বলে অভিহিত করেছেন যার অর্থ হল ‘স্বর্গীয় একেশ্বরবাদ‘। এই ধর্মে কোনো বিশেষ ঈশ্বরের কথা না বলে সকল ধর্মের মূল নীতিগুলির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। তাই ইতিহাসবিদ ভন নোয়ার ‘দীন-ই-ইলাহি’-কে একেশ্বরবাদের পরিবর্তে সর্বেশ্বরবাদী বলার পক্ষপাতী।


দীন-ই-ইলাহি মূল নীতি কী

2. দীন-ই-ইলাহির আদর্শ :- ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মমতে পুরোহিত, মন্দির, নবি বা কোনো ধর্মগ্রন্থের স্থান নেই। অতীন্দ্রিয় বিশ্বাস ও নৈতিক জীবন দর্শনের ভিত্তিতে কল্পিত এই ধর্মমতে আকবর আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনের জন্য এক আধ্যাত্মিক পথের সন্ধান করেছেন। হিন্দুধর্মের জন্মান্তরবাদ, উপনিষদের একেশ্বরবাদ, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের অহিংস নীতি, পারসিক ধর্মের সূর্য ও অগ্নি উপাসনা, ইসলামের নামাজ, রমজান প্রভৃতি বিভিন্ন আদর্শের সমন্বয়ে আকবরের এই ধর্মমত গড়ে ওঠে। বদাউনির মতে, সম্রাট দীন-ই-ইলাহির অনুগামীদের কাছ থেকে চার প্রকার আনুগত্য দাবি করতেন। এগুলি হল— সম্রাটের কাছে তাদের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান ও ধর্ম সমর্পণ করার প্রতিশ্রুতি দান। সম্রাটের প্রতি এই চার প্রকার আনুগত্যের বিষয়টি দীন-ই-ইলাহির গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। এছাড়া দীন-ই-ইলাহির অনুগামীদের আরও কয়েকটি আদর্শ মেনে চলতে হত। সেগুলি হল—

  1. উদারতা, সহৃদয়তা, নম্র ও ভদ্র স্বভাব।
  2. অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতা ত্যাগ।
  3. নিরামিষ ভোজন।
  4. দানধর্ম পালন।
  5. বাল্যবিবাহ, জুয়া খেলা, মদ্যপান ইত্যাদির অবসান।
    শিখ গুরু অমর দাসকে আকবর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন
    শিখ গুরু অমর দাসকে আকবর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন


দীন-ই-ইলাহি কি নতুন ধর্মমত?

3. দীন-ই-ইলাহি কি নতুন ধর্মমত? :- আকবর প্রবর্তিত দীন-ই-ইলাহি কোনো নতুন ধর্মমত কি না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

(1) বদাউনির অভিমত:- বদাউনি দীন-ই ইলাহিকে নতুন ধর্মমত বলে উল্লেখ করেছেন।

(2) সিদ্ধান্ত :- দীন-ই-ইলাহিকে নতুন কোনো ধর্মমত না বলে একটি ‘নৈতিক জীবনবাদ’ বলাই অধিক যুক্তিসঙ্গত। কেননা, কোনো ধর্মমতে ধর্মপ্রচারক বা নবী থাকেন এবং সেই ধর্মের নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ থাকে। কিন্তু দীন-ই-ইলাহিতে এসব কিছুই ছিল না। আকবরও একে কোনো নতুন ধর্মমত বলে দাবি করেননি।


আকবরের ধর্মনীতির মূল্যায়ন :

1. সংহতি স্থাপনের উদ্যোগ : আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভারতের মতো বহু জাতি-ধর্মের দেশে শান্তি ও সুশাসন প্রণয়নের জন্য ধর্ম-সহিয়ুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একান্ত প্রয়োজন। ইতিহাসবিদ ড. ঈশ্বরীপ্রসাদও মনে করেন যে, সারা দেশে ঐক্য ও সংহতি স্থাপনের জন্য আকবর দীন-ই-ইলাহিকে ব্যবহার করেছেন।

2. ব্যর্থতা : তবে আকবরের ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মমত বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। হিন্দুদের মধ্যে একমাত্র বীরবল এবং মুসলিমদের মধ্যে আঠারো জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই ধর্ম গ্রহণ করেন। আকবরের পরবর্তী সম্রাটগণ এই ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাননি। তাই আকবরের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই এই ধর্ম বিলুপ্ত হয়।

3. উলেমাদের বিরাগভাজন : ‘দীন-ই-ইলাহি’ প্রচারের জন্য গোঁড়া উলেমা শ্রেণি বরং আকবরকে ইসলামের শত্রু বলে উল্লেখ করেছেন। তাই ইতিহাসবিদ ড. ভিনসেন্ট স্মিথ মন্তব্য করেছেন যে, “দীন-ই-ইলাহি হল আকবরের নির্বুদ্ধিতার প্রধান স্তম্ভ, তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়”।

4. বিশ্ব  ইতিহাসে গুরুত্ব: তবে আকবর ধর্মীয় ক্ষেত্রে যে সহনশীলতা ও উদারতা দেখিয়েছেন তা একটি দুর্লভ ঘটনা। ধর্ম-সহিয়ুতার নীতি গ্রহণ করে তিনি যে দূরদৃষ্টি, সহনশীলতা ও উদার রাষ্ট্রদর্শনের স্বাক্ষর রেখেছেন তা বিশ্ব ইতিহাসে তাঁকে স্থায়ী আসন দিয়েছে।


Leave a Comment