ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল ও ভাইসরয়গণ (British Governors-General and Viceroys In India)

টেলিগ্রাম এ জয়েন করুন

Table Of Contents

ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল ও ভাইসরয়গণ (British Governors-General and Viceroys In India)

১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৭২ পর্যন্ত ছজন কলকাতার গভর্নর ছিলেন। এদেরকে বলা হত ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর।

রবার্ট ক্লাইভ (১৭৫৮-১৭৬০)

কলকাতার কাউন্সিলর তাঁকে গভর্নর নিয়ােগ করেন। ১৭৬০ এ তিনি ইংল্যাণ্ড ফিরে যান।

ভ্যাক্সিটার্ট (১৭৬০-১৭৬৫)

তিনি মিরজাফরকে সরিয়ে মীরকাশিমকে নবাব করেন ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে। মিরজাফরকে পুনরায় সিংহাসনে বসান ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে, বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪), মিরজাফরের মৃত্যু ও নজমউদ্দৌলার মসনদ লাভ ও কোম্পানির সঙ্গে সন্ধি (১৭৬৫) তাঁর সময়ে ঘটে।

রবার্ট ক্লাইভ (১৭৬৫-১৭৬৭)

১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ক্লাইভের সময় নজউদ্দৌলা, শাহসুজা ও দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে তার সন্ধি হয়। কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে দ্বিতীয় শাহ আলমের থেকে এবং তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের প্রতিষ্ঠা করেন। লর্ড ক্রাইভ শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেন।

ভেরেলেস্ট (১৭৬৭-১৭৬৯)

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সূচনা তাঁর সময়ে হয়।

কার্টিয়ার (১৭৬৯-১৭৭২)

তার সময় বাংলায় চরম অরাজকতা দেখা দেয়। সিতাব রায় ও রেজা খাঁ নিজ নিজ স্বার্থ সিদ্ধিতে ব্যস্ত হন। কোম্পানি কর্তৃক নিযুক্ত আমলারা ব্যাপক হারে রাজস্ব আদায় করতে থাকেন। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে কার্টিয়ারের সময় বাংলায় দূর্ভিক্ষ বা মন্বন্তর ঘটে।

ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২-১৭৭৩)

তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান। ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে অযােধ্যার নবাবের সঙ্গে তিনি বেনারসের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তিনি অযােধ্যার নবাবকে কারা ও এলাহাবাদ প্রদেশ ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন। ইনি বাংলার শেষ গভর্নর। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ১৩জন গভর্নর জেনারেল ছিল ১৭৭৩ থেকে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।

বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭৩-১৭৮৫)

১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন পাশ হয়। এই আইন বলে বাংলার গভর্নরকে বাংলার গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারের মধ্যে সীমারেখা টানা হয়। ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয়। স্যার এলিজা ইম্পে ছিলেন তার প্রথম প্রধান বিচারপতি। ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে রােহিলা যুদ্ধ সংগঠিত হয় ও রােহিলখন্ড অযােধ্যার অন্তর্ভুক্ত হয় ব্রিটিশের সাহায্যে। ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ নন্দকুমার এর মামলা সুপ্রিম কোর্টে ওঠে এবং তাঁর ফাসি হয়। ১৭৭৫-৮২ এর মধ্যে প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ হয় ও সবাই-এর সন্ধি হয়। ১৭৮০-৮৪ এর মধ্যে দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ হয়। তাঁর সময়ে ৫টি কাস্টমস হাউস গঠন করা হয় কলকাতা, হুগলি, ঢাকা, পাটনা ও মুর্শিদাবাদে। হেস্টিংস ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গঠন করেন বাের্ড অফ রেভিনিউ। রাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি Trial and Error আইন চালু করেন। ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে জেন্টু আইন রচিত হয়। ট্রেজারি মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। তার নির্দেশে রবার্ট বার্কার রােহিলা নেতা হাফিজ রহমত খান এবং অযােধ্যার নবাবের মধ্যে সন্ধি হয়। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে উইলকিন্স সীতা ও হিতােপদেশের ইংরাজী অনুবাদ করেন এবং হ্যালহেড সাহেব সংস্কৃত ব্যাকরণ বই প্রকাশ করেন। ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে জেমস অগাষ্টাস হিকি ‘বেঙ্গল গেজেট’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এটাই ভারতবর্ষের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ গুলাম হাসান সিয়ার-উল-মুতাক্ষরিণ’ গ্রন্থটি লেখেন। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম জোনস কলকাতায় এশিয়াটিক সােসাইটি স্থাপন করেন এবং এই বছরেই ‘ক্যালকাটা গেজেট প্রকাশিত হয়। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে ক্যালকাটা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি চৈত সিং এর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে অযােধ্যার নবাবের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে ‘মাদ্রাজ কুরিয়ার’ নামক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। এডমান্ড বার্ক, চার্লস জেমস ফক্স, শেরিডন এবং গিলবার্ট এলিয়াট তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযােগ আনেন। হাউস অফ লর্ডসে তাকে ইমপিচ করা হয়। হেস্টিংস এর হয়ে সওয়াল করেন এডওয়ার্ড ল, পুমার ও ডালাস। সাতবছর বিচারের পর তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে পিটের ভারত শাসন আইন প্রণয়ন হয়।

লর্ড কর্নওয়ালিশ (১৭৮৬-১৭৯৩)

১৭৯০-৯২ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় মহীশূর যুদ্ধ হয় ও শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি হয়। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ‘বম্বে হেরাল্ড’ ও ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বম্বে কুরিয়ার’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে জোনাথন ডানকান বারানসী সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ও বিহারে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়। তিনি ভারতবর্ষে পুলিশি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিশ কোড’ নামক আইনবিধি রচিত হয়। তিনি ভারতে সিভিল সার্ভিসের সূচনা করেন। কালেক্টরের সংখ্যা কমিয়ে ৩৬ থেকে ২৩ করা হয়। বাণিজ্য বাের্ডের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ১১ থেকে ৫ করা হয়।

স্যার জন শাের (১৭৯৩-১৭৯৮)

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সময় তিনি ছিলেন বাের্ড অফ রেভিনিউর প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার গভর্নর জেনারেল কার্যকালে কোন উল্লেখযােগ্য ঘটনা নেই।

লর্ড ওয়েলেসলি (১৭৯৮-১৮০৫)

১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি অধীনতামূক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন এবং হায়দরাবাদের নিজাম প্রথম এই নীতি নেন। ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধ হয় এবং মহীশূর রাজ্য অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করে। তাঞ্জোর (১৭৯৯), অযােধ্যার নবাব (১৮০১), সিন্ধিয়া (১৮০৪), ভোঁসলে (১৮০৩), পেশােয়া (১৮০২) এই নীতি গ্রহণ করে। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বাজিরাও এর সঙ্গে বেসিনের চুক্তি এবং দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ হয়। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে রামরাম বসু ‘প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ রচনা করেন। ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমােহন রায় ‘তুহুত-উল-মুহাহিদিন’ রচনা করেন।

জর্জ বার্লো (১৮০৫-১৮০৭)

১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাস ব্যাবসা নিষিদ্ধ করেন। ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে ভেলােরে সিপাহী বিদ্রোহ হয় দেওয়ান ভেলু থেম্পুর নেতৃত্বে। ভেলু থেম্পুকে গুলি করে মারার পর তাকে আবার প্রকাশ্যে ফাসি দেওয়া হয়।

লর্ড প্রথম মিন্টো (১৮০৭-১৮১৩)

১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে তিনি অমৃতসরের সন্ধি করেন। ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি বাংলায় ইতিহাস মালা’ রচনা করেন। ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে তার সময় চার্টার আইন পাশ হয়।

লর্ড হেস্টিংস বা আর্ল অফ ময়রা (১৮১৩-১৮২৩)

১৮২২ খ্রিস্টাব্দে তার সময় বেঙ্গল টেনান্সি অ্যাক্ট পাশ হয়। ১৮১৪-১৬ খ্রিস্টাব্দে তার সময় প্রথম গােখা যুদ্ধ হয়। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে সগৌলির সন্ধি হয়। ১৮১৭-১৮ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় মারাঠা যুদ্ধ হয় ও পেশােয়া পদের অবলুপ্তি ঘটে। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বম্বে প্রেসিডেন্সি সৃষ্টি করেন। ১৮১৭-১৮ খ্রিস্টাব্দে তার সময় পিন্ডারী যুদ্ধ হয়। মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে রায়তওয়ারি ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে। ১৮১৫ জেনারেল গিলেসপি এবং মার্টিন ডেল কুমায়ুন অধিকারে ব্যর্থ হলেও নিকোলাস এবং গার্ডেনার কুমায়ুন দখল করেন।

লর্ড আর্মহাস্ট (১৮২৩-১৮২৮)

তাঁর সময় ১৮২৪-২৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্ৰহ্ম যুদ্ধ হয়। ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভরতপুর দখল করেন। ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যারাকপুরে একবার সিপাহীরা বিদ্রোহ করে।

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮২৮-১৮৩৫)

১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন। ১৮২৯-৩৫ কর্ণেল স্লিম্যানের নেতৃত্বে তিনি ঠগী দস্যুদের দমন করেন। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে খাসীরা বিদ্রোহ করে। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কাছাড় জেলা দখল করে নেন। তার সময়ে তিতুমীর বিদ্রোহ করেন। তিনি আদালতে দেশীয় ভাষা প্রচলন করেন। মেকলের মিনিট অনুসারে তিনি ইংরাজীকে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ঘােষণা করেন ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে জয়ন্তিয়া ও ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে কুর্গ দখল করেন। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি আগ্রা প্রদেশ সৃষ্টি করেন। তিনি রঞ্জিৎ সিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেন। রাজা রামমােহন রায় ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে যান। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে চার্টার আইন অনুসারে বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেল বলে ঘােষণা করা হলে বেন্টিঙ্ক হন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। বেন্টিঙ্ক কন্যা ভ্রণ হত্যা নিষিদ্ধ ঘােষণা করেন এবং ইনাম ভূমি উপাধির তদন্ত করেন। তিনি আঞ্চলিক সার্কিট কোর্টগুলি বিলুপ্ত করেন ও তার পরিবর্তে সদর দেওয়ানি আদালত প্রতিষ্ঠা করেন এলাহাবাদে ও সদর নিজামত আদালত প্রতিষ্ঠা করেন দিল্লীতে।তিনি মেকলেকে পাবলিক ইনসট্রাকশান কমিটির সভাপতি নিয়ােগ করেন।

লর্ড প্রথম হার্ডিঞ্জ (১৮৪৪-১৮৪৮)

১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে কোলাপুরে বিদ্রোহ হয়। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঘােষণা করেন যে পাবলিক সার্ভিসের জন্য প্রয়ােজনীয় যােগ্যতা ইংরাজি। ১৮৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শিখ যুদ্ধ ও ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে লাহাের সন্ধি হয়। ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে ডেনিশ বা দিনেমারেরা ভারতে সব বাণিজ্যকেন্দ্র ইংরেজদের বিক্রি করেন। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে খােন্দরা বিদ্রোহ করে।

লর্ড ডালহৌসি (১৮৪৮-১৮৫৬)

১৮৪৮-৪৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় শিখ যুদ্ধ হয় এবং তিনি পাঞ্জাব অধিগ্রহণ করেন। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ইঙ্গ-ব্রহ্ম যুদ্ধ হয় ও তিনি নিম্ন ব্রহ্ম উপত্যকা অধিকার করেন। ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে সিকিম অধিগ্রহণ, ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে হায়দরাবাদের নিজামের সঙ্গে সন্ধির ফলে নিজাম বেরার প্রদেশ কোম্পানীকে দেয়। ‘স্বত্ববিলােপ নীতি’ অনুসারে সাতারা (১৮৪৮), জয়পুর (১৮৪৯), সম্বলপুর (১৮৪৯), বাঘাট (১৮৫০), উদয়পুর (১৮৫২), ঝাঁসি (১৮৫৩), নাগপুর (১৮৫৪) অধিগ্রহণ হয়। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে কুশাসনের অজুহাতে অযােধ্যা দখল করা হয়। তিনি বাংলার শাসনকার্যের ভার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে দেন। বাের্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড় তাঁর বিখ্যাত ‘উডের ডেসপ্যাচ’ তার সময়ে ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেন। গােলন্দাজ বাহিনীর সদর দপ্তর কোলকাতা থেকে মীরাটে নিয়ে যান। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বম্বে থেকে থানে রেলপথ, কলকাতা থেকে আগ্রা টেলিগ্রাফ লাইন, ডাক ব্যবস্থা এবং সর্বভারতীয় প্রতিযােগিতা মূলক পরীক্ষা হয় তার সময়ে। তিনি সিমলাকে ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানীতে পরিণত করেন। তার সময় বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে পােষ্ট অফিস আইন পাশ করে ২পয়সার পােষ্টকার্ড চালু করেন। তিনি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (PWD) নামে দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন ও গঙ্গার খাল খনন করেন। ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাশ করার উদ্যোগ নেন। তিনি কটকের নবাবের উপাধি বিলােপ করেন। তার সময়ে দোস্ত মহম্মদের সঙ্গে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

লর্ড ক্যানিং (১৮৫৬-১৮৫৭)

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, বােম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে হয় সিপাহী বিদ্রোহ। বিধবা বিবাহ আইন তার সময়ে পাশ হয়। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়। ইনি ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।ডালহৌসি ১৮৫৬ এর ফেব্রুয়ারী মাসে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয় ১৮৫৬ এর ২৬শে জুলাই। সে সময়ে ক্যানিং গভর্নর জেনারেল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতে যায়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বেটার গভর্নমেন্ট ফর ইন্ডিয়া অ্যাক্ট অনুসারে ভাইসরয় পদের সৃষ্টি হয়। ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং।

লর্ড মাউন্টব্যাটেন (১৯৪৭-১৯৪৮)

২৪ মার্চ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভাইসরয় নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। ওই বছর ৩ জুন ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ ঘােষণা করা হয়। এই পরিকল্পনায় বলা হয় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ১৫ আগস্ট ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ৪ জুলাই ভারতের স্বাধীনতা বিলটি হাউস অফ কমনসে পেশ হয় ও ১৮ জুলাই বিলটি পাশ হয়। তিনি ভারতের শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয়।

চক্রবর্তী রাজাগােপালাচারী (১৯৪৮-১৯৫০)

ইনি প্রথম ও শেষ ভারতীয় ভাইসরয়। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারী ভারতবর্ষকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে ঘােষণা করলে এবং ভারতের সংবিধান কার্যকর হলে ভাইসরয় পদের অবসান ঘটে। ভারতের প্রথম সেক্রেটারী অফ স্টেটস ছিলেন চার্লস উড এবং সর্বশেষ সেক্রেটারী অফ স্টেটস ছিলেন প্যাট্রিক লরেন্স।

লর্ড কার্জন (১৮৯৯-১৯০৫)

লর্ড কার্জন উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সৃষ্টি করেন ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু হয়। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা কর্পোরেশান আইন পাশ হয় তার সময়। ওই বছর ভারতীয় মুদ্রা ও কারেন্সি নােট আইন পাশ হয়। ১৯০২খ্রিস্টাব্দে তিনি র্যালে কমিশন নিয়ােগ করেন। ১৯০২-০৩ খ্রিস্টাব্দে স্যার এন্ডু ফ্রেজারের নেতৃত্বে তিনি পুলিশ কমিশন নিয়ােগ করেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং প্রাচীন মনুমেন্ট সংরক্ষণ আইন পাশ হয়। তিনি দিল্লীর পুসাতে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলেন। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে তার সময় বাংলা বিভাজন বা বঙ্গভঙ্গ হয়। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান করার জন্য ম্যাকডােনাল্ড কমিশন গঠন করেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইয়ং হাজবেন্ড মিশনকে তিব্বতে পাঠান।

আরও পড়ুন: বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলনের উদ্ভব ও বিকাশ ব্যাখ্যা

টেলিগ্রাম এ জয়েন করুন
Share on:

Leave a Comment