ভূমিকা:
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে বিপুল জয়লাভ করে রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে ইতি টেনে রাজ্যে ফুটল পদ্ম। কিন্তু নতুন সরকার গড়ার উচ্ছ্বাসের মাঝেই বাংলার কোটি কোটি মহিলাদের মনে এখন একটাই দুশ্চিন্তা— “এবার কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে?”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি সত্যিই বন্ধ হচ্ছে?
বিদায়ী তৃণমূল সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, যেখানে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা 1500 টাকা এবং তফসিলি জাতি/উপজাতির মহিলারা 1700 টাকা করে পেতেন। সরকার বদল হতেই এই টাকা বন্ধ হওয়ার যে গুজব ছড়িয়েছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত অন্যরকম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নতুন সরকার হুট করে বন্ধ করে দেয় না। উল্টে, নতুন সরকার সেই প্রকল্পটিকে আরও বড় আকারে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে আসে। আর ঠিক এই জায়গাতেই আশার আলো দেখাচ্ছে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার!
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে আসছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (মাসে ৩০০০ টাকা!)
রাজ্যের মা-বোনেদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ নির্বাচনের আগেই বিজেপির ইস্তাহারে মহিলাদের জন্য বিরাট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আদলেই নতুন সরকার রাজ্যে চালু করতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সবথেকে বড় চমক হলো, এই প্রকল্পের আওতায় বাংলার মহিলাদের প্রতি মাসে ১০০০ বা ১২০০ টাকার বদলে সরাসরি ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে! অর্থাৎ, টাকা বন্ধ হওয়া তো দূর, উল্টে ভাতার পরিমাণ তিনগুণ বাড়তে চলেছে।
যুবসমাজ ও বেকারদের জন্য ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প:
শুধু মহিলারাই নন, নতুন সরকারের নজরে রয়েছে বাংলার বেকার যুবসমাজও। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার অনুযায়ী, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব মেটাতে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে ‘যুবশক্তি’ নামে একটি নতুন প্রকল্প আনা হতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় বেকারদের মাসিক ৩ হাজার টাকা বেকারভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন সরকারের কাছে আর কী কী প্রত্যাশা?
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং নারী সুরক্ষাকে পাখির চোখ করার পাশাপাশি, পরিকাঠামো ও অর্থনীতি নিয়েও বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে রাজ্যে:
- পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা: রাজ্যের প্রায় ৫০ লক্ষ ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিককে ফিরিয়ে এনে রাজ্যেই কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার কাজ অগ্রাধিকার পাবে।
- পরিকাঠামো উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত একটি গতিশীল হাইওয়ে নির্মাণ, কলকাতার বেহালা থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত বিমান পরিষেবা চালু এবং একটি গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ার মতো মেগা প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
উপসংহার:
রাজ্যের ঘাড়ে থাকা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা সামলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা ‘যুবশক্তি’র মতো প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে রূপায়ণ করেন, সেটাই এখন দেখার। তবে আপাতত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হওয়া নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সরকারের পরবর্তী যেকোনো নতুন স্কিম এবং আপডেটের খবর সবার আগে পেতে Kalikolom.com-এর সাথে যুক্ত থাকুন। দ্রুত আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে এখনই জয়েন করুন!










