Poribesh Dushon Class 10
— প্রচলিত পরিবেশ প্রবাদ
ভূমিকা
প্রকৃতির কোলে লালিত মানবসভ্যতা আজ সেই প্রকৃতিকেই ধ্বংস করছে। বায়ু, জল, মাটি, শব্দ ও তাপ — পরিবেশের প্রতিটি উপাদান আজ দূষণের কবলে। শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী যুগ থেকে শুরু হওয়া এই দূষণ একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ পরিবেশ দূষণকে জাতীয় সংকটে পরিণত করেছে।
পরিবেশ দূষণ বলতে বোঝায় মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশের স্বাভাবিক উপাদানের ক্ষতিকর পরিবর্তন, যা জীবজগতের ক্ষতি করে। এই সমস্যা আজ শুধু কোনো একটি দেশের নয়, সমগ্র মানবজাতির।
পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদ
পরিবেশ দূষণকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
বায়ু দূষণ
কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহন ও জীবাশ্ম জ্বালানি দহনে বায়ু বিষাক্ত হচ্ছে।
জল দূষণ
শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক ও নর্দমার পানিতে নদী ও জলাশয় দূষিত হচ্ছে।
মাটি দূষণ
কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও অপচনযোগ্য আবর্জনায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
শব্দ দূষণ
হর্ন, মাইক, কলকারখানার শব্দ মানুষের স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি নষ্ট করছে।
পরিবেশ দূষণের কারণ
পরিবেশ দূষণের পেছনে রয়েছে বহু কারণ। কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও কালো ধোঁয়া বায়ু ও জলকে দূষিত করছে। কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলকে বিষাক্ত করছে। যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলকে ক্রমশ অসহনীয় করে তুলছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বনজঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য নদী ও সমুদ্রে জমা হচ্ছে। পারমাণবিক বর্জ্য, ই-বর্জ্য এবং চিকিৎসা বর্জ্যও পরিবেশ দূষণে বিরাট ভূমিকা রাখছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অসচেতনতা এই দূষণকে আরও গভীর করছে।
ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে দূষণ
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি
কলকাতা ভারতের অন্যতম বায়ুদূষিত শহর। হুগলি নদী শিল্প বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত। দুর্গাপুর, আসানসোল, হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে বায়ু ও জল দূষণ ভয়াবহ। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে। ইটভাটার ধোঁয়া ও যানজট শহরের বায়ু দূষণ আরও বাড়াচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান চালু থাকলেও গঙ্গার দূষণ এখনও উদ্বেগজনক। শিলিগুড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন পরিবেশ ধ্বংস করছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লি বিশ্বের সর্বাধিক বায়ুদূষিত শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। যমুনা নদী প্রায় মৃত। মুম্বই, চেন্নাই, কানপুরসহ বড় শহরগুলোতে বায়ু ও জল দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের প্রায় ৭০% নদী কোনো না কোনোভাবে দূষিত।
পরিবেশ দূষণের কুফল
পরিবেশ দূষণের কুফল অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর। বায়ু দূষণের ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার ও হৃদরোগ দেখা দিচ্ছে। দূষিত জল পান করে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ও হেপাটাইটিসের মতো রোগ ছড়াচ্ছে। মাটি দূষণের ফলে ফসল উৎপাদন কমছে এবং খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশছে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। সুন্দরবন ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত — এই জলবায়ু বিপর্যয়গুলো মানুষের জীবন ও কৃষিকে ধ্বংস করছে। শব্দ দূষণ শিশুদের শেখার ক্ষমতা কমায়, উচ্চ রক্তচাপ ও ঘুমের সমস্যা তৈরি করে।
প্রতিকারের উপায়
পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ ও সরকার — সকলকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে:
-
✓নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কয়লা ও পেট্রোলের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। ভারতের National Solar Mission এই পথেই এগোচ্ছে।
-
✓বৃক্ষরোপণ: ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ ও বিদ্যমান অরণ্য সংরক্ষণ করতে হবে। “প্রতিটি উৎসবে একটি গাছ” — এই মনোভাব গড়ে তোলা দরকার।
-
✓প্লাস্টিক নিষেধ: একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ ২০১৯ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করেছে, তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
-
✓শিল্প বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ: ETP (Effluent Treatment Plant) বাধ্যতামূলক করে কারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে নদীতে ফেলতে হবে।
-
✓গণপরিবহন উন্নয়ন: মেট্রো, বাস ও বৈদ্যুতিক যান সম্প্রসারণ করে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে হবে।
-
✓পরিবেশ শিক্ষা: বিদ্যালয় থেকেই পরিবেশ সচেতনতার শিক্ষা দিতে হবে। পরিবেশ-বান্ধব জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
-
✓আইন ও নীতি: পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৮৬ ও জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (NGT)-এর নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে হবে।
📌 পরীক্ষায় মনে রাখার মূল বিষয়গুলি
- পরিবেশ দূষণের চারটি প্রকার: বায়ু, জল, মাটি ও শব্দ
- ভারতের NGT (National Green Tribunal) পরিবেশ রক্ষার সর্বোচ্চ আদালত
- পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন — UNESCO স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, যা দূষণের শিকার
- গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান (Namami Gange) — ভারতের নদী পরিশোধন প্রকল্প
- COP সম্মেলন ও প্যারিস চুক্তি — আন্তর্জাতিক পরিবেশ উদ্যোগ
উপসংহার
পরিবেশ দূষণ আজ মানবজাতির অস্তিত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা আমাদের নিজেদের তৈরি, তাই সমাধানের দায়ও আমাদেরই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা বলেছেন, সেই সম্পর্ককে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি মানুষ যদি একটু সচেতন হয়, একটু দায়িত্বশীল হয় — তাহলেই একটি সুস্থ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।
ভূমিকা:
পরিবেশ মানবসভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সভ্যতার ক্রমবিকাশ থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে তার পরিবেশ, মানুষের রচিত পরিবেশ তারই সভ্যতার বিবর্তনের ফসল, পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উদ্ভিদ ও প্রাণী জীবনের বিকাশ ঘটে। তাই পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে রয়ছে এক নিবিড় যোগসূত্র। কিন্তু দিন দিন বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসছে পরিবেশ-সংক মানুষের সৃষ্ঠ যন্ত্রসভ্যতার গোড়াপত্তন থেকেই চলছে পরিবেশের ওপর মানুষের কুঠারাঘাত। ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। পরিবেশে দূষণের মাত্রা প্রকট হওয়ার কারণে মানবসভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখীন, আজ আমাদের জননী বসুন্ধরা ভালো নেই ধুষণের ভারে ক্রমশ জর্জরিত ক্রমশ এগোচ্ছে কঠিন অসুস্থতার দিকে। তাই রব উঠেছে “বসুন্ধরা বাঁচাও” এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করে সতর্ক ব্যবস্থাদি গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিবছর ৫ই জুন “কিন্তু পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষনা করেছে।
পরিবেশ দূষণ কি? :
প্রাকৃতিক কারণে অথবা মানুষের কার্যকলাপে সৃষ্ঠ উদ্ভুত দূষিত পদার্থ যখন পরিবেশকে বিষময় করে আমরা দূষণ শব্দটা ব্যবহার করি। পরিবেশের প্রাকৃতিক বিভিন্ন তোলে তখনই উপাদান যেমন- মাটি, বায়, জল ইত্যাদির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব পরিবর্তন ঘটলে তা জীবজগতের উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। এটিকে পরিবেশ দূষণ বলে। ক্ষতিকর পদার্থের বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হয়, তখনই পরিবেশ দূষিত হয়।
পরিবেশ দূষণের কারণ:
বিভিন্ন কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে যেমন-
জনসংখ্যা বৃদ্ধি : ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। বর্ধিত জন – সংখ্যার প্রয়োজনে বনজঙ্গল, গাছপালা কেটে চাষের জমি তৈরী করা হয় বা বসতবাড়ি নির্মান করা হয়, গাছপালা কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়, খরার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। অধিক জনসংখ্যা পরিবেশের ওপর অধিক চাপ সৃষ্টি করে। স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে কলুষিত করে এবং পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য, বাসস্থান, যানবাহন, শিল্পকারখানা সবকিছুর চাহিদাই বৃদ্ধি পায়। অধিক খাদ্য উৎপাদন করতে অধিক কীটনাশক ও সার ব্যবহৃত, ভূ-গর্ভের জল উত্তোলনের ফলে মাটি দুষিত হচ্ছে। অধিক শিল্প কারখানা, যানবাহন বায়ুদূষণ ও জলদূষণ ঘটাচ্ছে।
নগরায়ন :

নগরায়নের ফলে পরিবেশে ক্রমাগত দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কলকারখানা ও গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বায়দূষণের সৃষ্টি করছে। বাস , ট্রাক ও অন্যান্য গাড়ির হর্ন থেকে শব্দ দূষণ হচ্ছে। আবার নদীর জলে কলকারখানার আবর্জনা মিশে নদীর জল দূষিত হচ্ছে। নগরায়নের ফলে মানুষ কাজের আশায় গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস করছে। শহরে অধিক জনসংখ্যার ফলে আবাসন সমস্যা দেখা দিচ্ছে বস্তি গড়ে উঠছে। বস্তিতে বিক্ষুদ্ধ জন্ম, স্যানিটেশন সমস্যা ও ময়লা আবর্জনা ফেলার অব্যবস্থা ও সচেতনতার অভাব পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা:
সমগ্র বিশ্বে আজ জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই জলবায়ু পরিবর্তনে অনতম কারণ অপরিলক্ষিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কাবন-ডাই-অক্সাইডর পরিমান বৃদ্ধি পাছে, এতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে এভাবে যদি চলতে থাকে আগামী ৩০ বছরে অধিকাংশ ভূমি সমুদ্র তলে হারিয়ে যাবে । এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা, নদীর প্রবাহ হ্রাস, ঘূনিঝড়, বনা, জলোছাস, পানীয় জলের অভাব, মৎসসম্পদ ধ্বংস, মসল উৎপাদন হ্রাম, ভূমিকদ ইত্যাদি ভয়াবহ দুর্যোগে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বনজ সম্পদ ধ্বংস :
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন বনসম্পদ ধ্বংসের কারণ নগরায়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি সংগ্রহ ও কৃষিজমি সম্প্রসারণ। এছাড়া জ্বালানি সংগ্রহ, বাড়িঘর, আত্মবাণ পত্র নির্মাণ ইত্যাদির প্রয়োজনে ব্যাপকহারে বনজ সম্পদ উজাড় হচ্ছে ফলে ভূমিক্ষয় হয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
অপরিকল্পিত শিল্পায়ন :
বিভিন্ন ধরনের কারখানার পাশাপাশি সার ও কীটনাশক তৈরীর কারখানা, বর্জ্য নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনা এর পরিশোধনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাশয়ে গিয়ে বর্জ্য পতিত হচ্ছে সালে জল বায়ুদূষণ ঘটছে। ওজোন স্তর হ্রাস পাচ্ছে, গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া ও উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জলদূষিত থেকে পরিবেশ দূষণ:
শিল্পকারখানা, আবাসিক এলাকা, হাসপাতালের বর্জ্য নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পার্শ্ববর্তী জলাধারে গিয়ে পড়ছে ফলে জলদূষিত হচ্ছে, নদী নালা খালবিল ভরাট হয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
বায়ুদূষণ:
ইটভাটায় ইট পোড়ানোর ফল, অচল ও অঠিক যানবাহনের ব্যবহারের ফলে অধিক জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে, বাতাসে ব্যবহৃত হচ্ছে বায়ুতে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দূষণ প্রতিরোধের উপায় ও প্রতিকার:
পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ কল্পে নানাভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থাও গৃহীত হচ্ছে, যেমন-
- যেখানে সেখানে শিল্প নগরী স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
- নদী ও সমুদ্রের জলকে দূষণমুক্ত করার প্রক্রিয়া হচ্ছে।
- জনস্বার্থে শক্তির অপচয় রোধের চেষ্টা হচ্ছে,
- জনঙ্কিতা রোধের চেষ্টা হচ্ছে।
- ধুম্রহীন চুল্লি বসানো হচ্ছে, সৌরশক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে
- প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার সীমিত করা হচ্ছে।
- সামাজিক বনায়ন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪. ৫ ই জুন রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস রুপে পালিত হচ্ছে যার প্রধান উদ্দেশ্য জনসাধারণকে পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।
উপসংহার :
পরিবেশকে যদি মুক্ত রাখতে না পারা যায় তবে মানবসভ্যতার ধ্বংস অনিবার্য। পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে হলে প্রয়োজন মানুষের শুভ বুদ্ধির উদয় ও সৌন্দর্য চেতনার উন্মেষ। সেজন্য চাই সার্বজনীন শিক্ষার প্রসার, রাষ্ট্রেব্যবস্থার কল্যানকর” ভূমিকা ও দাখিত্ববোধ। সামুতিককালে বিভিন্ন সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান, সরকার, পৌরসভা, গনমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে পরিবেশ সচেতনাতাকে গণ আন্দোলনের রূপ দিতে তৎপর হয়েছে। এই পৃথিবীতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাঁচার উপযুক্ত পরিবেশ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রত্যেককেই শপথ নিতে হবে।
সুকান্ত ভট্টাচার্য তার বিখ্যাত কবিতা ছাড়পত্রে লিখেছেন –
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যার আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার”











