This is an archived article last updated on Jul 28, 2021. The information may be outdated.

মিশরের পিরামিড | পিরামিড কেন তৈরি করা হয়েছিল

 মিশরের পিরামিড

প্রাচীন বিশ্বের সভ্যতাগুলির মধ্যে একমাত্র মিশরেই পিরামিড তৈরি হয়। পিরামিডগুলির সুবিশাল আয়তন ও উচ্চতা, নির্মাণকার্য শিল্প সমালোচকদের বিস্ময়ের উদ্রেক করে। মিশরে পিরামিডের অস্তিত্বের জন্য এই দেশকে ‘পিরামিডের দেশ’ বলে অভিহিত করা হয়।

1. পিরামিড নির্মাণ:

গ্রিক ভাষায় ‘পিরামিড’ কথার অর্থ হল ‘সুউচ্চ’। মিশরের ফ্যারাও জোস-এর আমলে ইমহোটেপ নামে বিখ্যাত স্থপতি প্রথম পিরামিড তৈরির কৌশল আবিষ্কার করেন। তিনিই রাজধানী মেমফিস-এ জোস-এর সমাধির ওপর প্রথম পিরামিডটি নির্মাণ করেন। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম আশ্চর্য এই পিরামিড ছিল প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যশিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। পিরামিডের নিম্নভাগ চওড়া হত এবং ওপরের দিকে তা ক্রমশ সরু হতে হতে একটি বিন্দুতে গিয়ে সমাপ্ত হত। ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা এবং নিজেদের মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে মিশরের বিভিন্ন ফ্যারাও পিরামিড তৈরি করতেন।

মিশরের পিরামিড
মিশরের পিরামিড

2. উল্লেখযোগ্য পিরামিড

মিশরে ছোটো-বড়ো বহু পিরামিড কালের করাল গ্রাস উপেক্ষা করে আজও মাটির ওপর সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে। মিশরের অধিকাংশ উল্লেখযোগ্য পিরামিড নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ ১৭০০ অব্দের মধ্যে। এই noসময়কালকে মিশরে পিরামিডের কাল বলে উল্লেখ করা হয়। মেনেস, খুফু, টুটেনখামেন, দ্বিতীয় রামেসিস, নেফরা, মেনকাউরা, তৃতীয় থুটমোস প্রমুখ ফ্যারাও-এর পিরামিড বিশেষ উল্লেখযোগ্য। মিশরে অস্তিত্বশীল পিরামিডগুলি আজও দর্শকদের বিস্ময়ের উদ্রেক করে।

3. খুফুর পিরামিড

মিশরে নির্মিত অসংখ্য পিরামিডের মধ্যে আয়তনে প্রথম তিনটি বড়ো পিরামিড হল ফ্যারাও খুফু, নেফরা ও মেনকাউরা-র তৈরি পিরামিড। এগুলি রমধ্যে সবচেয়ে বড়ো হল খুফুর তৈরি পিরামিড। ফ্যারাও খুফু খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ অব্দে মিশরের কায়রোর নিকটে ১৩ একর জমির ওপর এই পিরামিডটি নির্মাণ করেন। এর উচ্চতা ৪৫০ ফুট এবং পরিধি ৭০০ ফুট। প্রায় ১ লক্ষ শ্রমিক ২০ বছর ধরে এই পিরামিডটি নির্মাণ করেছিল। প্রায় ২৩ লক্ষ পাথরের চাঁই দিয়ে এটি নির্মিত হয়েছে।

সভ্যতার অবসান:

সুদীর্ঘ অস্তিত্বের পর মিশরীয় সভ্যতায় এক সময় অবক্ষয় শুরু হয়। মিশরের শেষ শক্তিশালী ফ্যারাও ছিলেন তৃতীয় রামেসিস (খ্রি.পূ. ১১৯৮ থেকে খ্রি.পূ. ১১৬৭ অব্দ)। তার পরবর্তীকালে মিশরে কুসংস্কার ও পুরোহিত শ্রেণির ক্ষমতা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। এসময় বহিরাগত শত্রুরা বারংবার মিশরে হানা দেয়। লিবিয়ার বর্বর জাতি খ্রিস্টপূর্ব ৯৫০ অব্দের পরবর্তী প্রায় ২০০ বছর মিশরে আধিপত্য চালায়। এরপর কিছুকাল আসিরীয়রা (খ্রি.পূ. ৬৭০ থেকে খ্রি.পূ. ৬৬২ অব্দ) এবং কিছুকাল পারসিকরা (খ্রি.পূ. ৫২৫ অব্দ থেকে) মিশরকে পদানত করে রাখে। এরপর ম্যাসিডনিয়ার গ্রিক বীর আলেকজান্ডার মিশর জয় (খ্রি.পূ. ৩৩২ অব্দ) করেন। গ্রিকদের পর মিশর রোমান সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এভাবে মিশরের গৌরব ক্রমে ম্লান হয়ে যায়৷

3. খুফুর পিরামিড: মিশরে নির্মিত অসংখ্য পিরামিডের মধ্যে আয়তনে প্রথম তিনটি বড়ো পিরামিড হল ফ্যারাও খুফু, নেফরা ও মেনকাউরা-র তৈরি পিরামিড। এগুলির