সুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের ৯ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হলো ঐতিহাসিক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। পাঁচজন জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতাও প্রাথমিক মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন, যা দশকের পর দশক ধরে চলে আসা আঞ্চলিক দলের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
সুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের ৯ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যপাল আর. এন. রাভি এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জে. পি. নাড্ডা এবং এনডিএ-র একাধিক শীর্ষ নেতা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পাঁচজন জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতাও প্রাথমিক মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যেখানে আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জন্য ঐতিহাসিক দিন
২০২৬ সালের ৯ই মে, শনিবার, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী (রবীন্দ্র জয়ন্তী)-র পুণ্য তিথিতে সুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন — যা বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দলের গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে রাজ্যজুড়ে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের জোয়ার বইয়ে যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। দলীয় কর্মীরা এই মুহূর্তকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক “নতুন যুগের” শুভ সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ও এনডিএ-র শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে. পি. নাড্ডা একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও এনডিএ নেতাদের সঙ্গে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিজেপির ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করতে বিপুল সংখ্যক সমর্থক সেখানে জমায়েত হন এবং দলীয় পতাকা হাতে আনন্দে মেতে ওঠেন। একাধিক হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতির কারণে কলকাতা জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মন্ত্রিসভায় শপথ নিলেন একাধিক বিজেপি নেতা
মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়কও মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা পর্যায়ক্রমে বিস্তৃত হবে বলে জানা গেলেও, নতুন প্রশাসনের মূল কাঠামো গড়ে তুলতে আজ পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে শপথ নেওয়ানো হয়েছে। সুষম আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল — এই তিনটি অঞ্চল থেকে নেতাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক মন্ত্রিসভার তালিকা
| নাম | পরিচয় ও পটভূমি |
|---|---|
| সুভেন্দু অধিকারী | পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী |
| দিলীপ ঘোষ | প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি; মেদিনীপুরের সাংগঠনিক কৌশলবিদ |
| অগ্নিমিত্রা পল | হাই-প্রোফাইল নেত্রী এবং ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতিবিদ |
| অশোক কীর্তনিয়া | উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি |
| নিশীথ প্রামাণিক | প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী; কেন্দ্রীয় শাসন পরিচালনায় অভিজ্ঞ |
| ক্ষুদিরাম টুডু | জঙ্গলমহল অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধি |
সুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম অঞ্চল থেকে উঠে আসা সুভেন্দু অধিকারী পরবর্তী সময়ে বাংলায় বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গত কয়েক বছরে তিনি রাজ্যজুড়ে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়োগ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে পূর্ব ভারতে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী দিনে কী প্রত্যাশা?
নবগঠিত বিজেপি সরকার শীঘ্রই তার প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক আহ্বান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে শাসন সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কল্যাণমুখী প্রকল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম মেয়াদে বিজেপি প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে — এমনটাই প্রত্যাশা রাজ্যবাসীর।











