Orey Grihobashi Questions and Answer PDF
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, তোমাদের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “ওরে গৃহবাসী” গানটি আছে। এই গানের কোনো “হাতে কলমে” প্রশ্ন বইতে দেওয়া নেই, তাই এখানে গানের সহজ ব্যাখ্যা, শব্দার্থ, আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর দেওয়া হলো, যাতে তোমরা গানটা ভালোভাবে বুঝে নিতে পারো।
কবি পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার ও সুরকার। তাঁর রচিত অসংখ্য গান ‘গীতবিতান’ নামের বইতে কয়েকটি খণ্ডে সংকলিত আছে, আর সেই গানগুলোর স্বরলিপি পাওয়া যায় ‘স্বরবিতান’ নামের বইয়ে। “ওরে গৃহবাসী” গানটি তাঁর ‘গীতবিতান’ গ্রন্থের ‘প্রকৃতি’ পর্যায়ের অন্তর্গত একটি জনপ্রিয় গান।
গানের সারমর্ম
“ওরে গৃহবাসী” মূলত বসন্তকালকে কেন্দ্র করে লেখা একটি গান। বসন্ত এলে প্রকৃতি নতুন রঙে সেজে ওঠে, চারিদিকে ফুল ফোটে, রঙের উৎসব শুরু হয়ে যায়। এই আনন্দময় দৃশ্য দেখার জন্য কবি ঘরে বন্দি থাকা মানুষদের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। গোটা গানজুড়ে প্রকৃতির নানা রূপ — ফুল, বাতাস, পাখি, প্রজাপতি, মৌমাছি — সবকিছুর মধ্যে দিয়ে বসন্তের আনন্দকে তুলে ধরা হয়েছে।
গানের বিষয়বস্তু, স্তবক ধরে ধরে বোঝা যাক
প্রথম অংশ: গানের শুরুতে কবি ঘরে থাকা মানুষদের ডেকে বলছেন দরজা খুলতে, কারণ চারিদিকে — স্থলে, জলে, বনের মধ্যে — বসন্তের দোল বা রঙের খেলা শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃতি নিজেই যেন দোল খেলছে, তাই ঘরে বসে থাকার সময় নেই।
দ্বিতীয় অংশ: এই অংশে কবি প্রকৃতির রঙিন রূপ বর্ণনা করেছেন। অশোক আর পলাশ গাছে অনেক লাল ফুল ফুটে আছে, যেন গাছগুলো লাল হাসিতে ভরে গেছে। সকালের আকাশে মেঘেও যেন লাল আভা লেগেছে, আর গাছের নতুন কচি পাতাতেও সেই লাল রঙের ঢেউ খেলে যাচ্ছে।
তৃতীয় অংশ: শেষ অংশে বসন্তের দখিনা বাতাসে বাঁশবনের পাতায় খসখস শব্দ ওঠে, ঘাসের ওপর প্রজাপতিরা দোল খায়, মৌমাছিরা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় আর তাদের গুনগুন শব্দ শুনতে অনেকটা ভিখারির বীণা বাজানোর মতো লাগে। চারিদিকে মাধবীলতার ঝোপে ফুলের গন্ধে বাতাস যেন মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।
(এখানে বইয়ের পাতা নম্বর/সংস্করণ উল্লেখ করে দিন এবং পড়ুয়াদের বই খুলে গানটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য বলুন — সম্পূর্ণ গানটি এখানে পুনরুৎপাদন করা হয়নি)
শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| গৃহবাসী | যে ঘরে থাকে |
| দ্বার | দরজা |
| দোল | বসন্তের রঙের উৎসব |
| স্থল | ডাঙা |
| বনতল | বনের ভেতরের অংশ |
| রাঙা | লাল রঙের |
| অশোক, পলাশ | বসন্তে ফোটা লাল ফুল |
| প্রভাত | সকালবেলা |
| নবীন | নতুন, কচি |
| হিল্লোল | ঢেউ, দোলা |
| বেণুবন | বাঁশবাগান |
| মর্মর | শুকনো পাতার খসখস শব্দ |
| দখিন বাতাস | দক্ষিণ দিক থেকে আসা বসন্তের হাওয়া |
| মউমাছি | মৌমাছি |
| যাচি | চাই, প্রার্থনা করি |
| বীণা | তারের বাদ্যযন্ত্র |
| মাধবীবিতান | মাধবীলতার কুঞ্জ |
| বিভোল | মগ্ন, আত্মহারা |
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর
১. ‘ওরে গৃহবাসী’ গানটি কার লেখা, এবং কোন বই থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা, এবং এটি তাঁর ‘গীতবিতান’ বইয়ের ‘প্রকৃতি’ পর্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে।
২. কবি কাদের এবং কেন দরজা খুলতে বলেছেন?
উত্তর: কবি গৃহবাসীদের অর্থাৎ ঘরে বসে থাকা মানুষদের দরজা খুলতে বলেছেন, কারণ চারিদিকে বসন্তের রঙিন দোল উৎসব শুরু হয়ে গেছে, আর সেই আনন্দ উপভোগ করার জন্যই তিনি সবাইকে বাইরে বেরিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন।
৩. বসন্তকালে কোন কোন ফুলে চারদিক রাঙা হয়ে ওঠে?
উত্তর: বসন্তকালে অশোক আর পলাশ ফুলে চারদিক লাল বা রাঙা হয়ে ওঠে।
৪. মৌমাছিদের ডানার শব্দকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: মৌমাছিদের ডানার গুনগুন শব্দকে কবি একজন ভিখারির হাতে বাজানো বীণার সুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৫. গানটিতে বসন্তকালের বাতাসকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
৫. গানটিতে বসন্তকালের বাতাসকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
উত্তর: গানে বলা হয়েছে বসন্তের দখিনা বাতাসে বাঁশবনের পাতায় খসখস শব্দ ওঠে, আর মাধবীলতার ফুলের সুগন্ধে বাতাস যেন মাতোয়ারা হয়ে যায়।
⬇️ পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হয়েছে।
Filea Details:
- PDF Name: Pakhir Kache Fuler Kache Kobita Question Answer
- Language: Bengali
- Size: 90KB
- Total Pages: 02
Download Pakhir Kache Fuler Kache Kobita Question Answer PDF











