WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Subscribe
❤️ ধন্যবাদ সাবস্ক্রাইব করার জন্য!
আমাদের নতুন ভিডিও আপডেট পেতে বেল আইকনটি ক্লিক করতে ভুলবেন না!
চ্যানেল দেখুন

Class 7 History GK Questions and Answers in Bengali PDF | 125+ GK

Class 7 History GK Questions and Answers in Bengali | সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর

Class 7 History GK Questions and Answers in Bengali PDF
Class 7 History GK Questions and Answers in Bengali PDF

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস পাঠ্যবই ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ হলো প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাসের এক অনবদ্য ভাণ্ডার। স্কুল স্তরের পরীক্ষা হোক বা WBCS, WBP, PSC-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা— পাল-সেন যুগ, দিল্লি সুলতানি, মুঘল সাম্রাজ্য এবং ভক্তি আন্দোলন থেকে প্রচুর জিকে (GK) প্রশ্ন সরাসরি এই বই থেকেই আসে।

ছাত্রছাত্রী এবং চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে, সম্পূর্ণ পাঠ্যবইটির ৯টি অধ্যায় খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে আমরা সোর্স-ভিত্তিক ১২৬টি বাছাই করা জিকে (GK) প্রস্তুত করেছি। পড়ার সুবিধার জন্য প্রতিটি প্রশ্ন অধ্যায় অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। অফলাইনে পড়ার জন্য পোস্টের শেষে Class 7 History GK PDF ডাউনলোডের লিংক দেওয়া হয়েছে।

📌 একনজরে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস জিকে (Quick Facts):

  • পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা: গোপাল।
  • সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা: বিজয়সেন।
  • সুলতানি সাম্রাজ্যের প্রথম নারী শাসক: সুলতানা রাজিয়া।
  • মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা: জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর।

১ম অধ্যায়: ইতিহাসের ধারণা

১. ইতিহাসে সময় মাপার প্রধান এককগুলি কী কী?

উত্তর: ইতিহাসে সময় মাপার প্রধান এককগুলি হলো— দিন, মাস, সাল/বছর, দশক, শতক এবং সহস্রাব্দ।

২. ‘ইতিহাসের উপাদান’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পুরোনো দিনের ঘর-বাড়ি, মন্দির-মসজিদ, মূর্তি, টাকা-পয়সা, আঁকা ছবি, বইপত্র বা পুরনো চিঠিপত্র—যে জিনিসগুলি অতীত দিনের মানুষের বিষয়ে আমাদের জানতে সাহায্য করে, সেগুলিকেই ইতিহাসের উপাদান বলে।

৩. ইতিহাসের উপাদানগুলিকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?

উত্তর: ইতিহাসের উপাদানগুলিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়— লিখিত উপাদান (বই, চিঠি), প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান (পুরোনো মূর্তি, মুদ্রা, স্থাপত্য-ভাস্কর্য) এবং অলিখিত বা অন্যান্য উপাদান।

৪. ‘তাম্রলেখ’ এবং ‘শিলালেখ’ কী?

উত্তর: তামার পাতের ওপর খোদাই করে লেখা লিপিকে ‘তাম্রলেখ’ এবং পাথরের ওপর খোদাই করা লিপিকে ‘শিলালেখ’ বলা হয়।

৫. প্রাচীনকালে ‘বিদেশি’ বা ‘পরদেশি’ বলতে কী বোঝানো হতো?

উত্তর: মধ্যযুগে বা সুলতানি-মুঘল আমলে নিজের গ্রাম বা শহরের বাইরে থেকে আসা অচেনা যে-কোনো ব্যক্তিকেই ‘বিদেশি’, ‘পরদেশি’ বা ‘অজনবি’ বলা হতো।

৬. গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস প্রথম কোন শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন?

উত্তর: গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে প্রথম ‘ইন্ডিয়া’ নামটি ব্যবহার করেছিলেন।

৭. ‘সিন্ধু’ নদী থেকে কীভাবে ‘হিন্দুস্থান’ নামের উৎপত্তি হয়েছিল?

উত্তর: ইরানি লেখায় ‘স’ অক্ষরের উচ্চারণ ‘হ’ হওয়ায় সিন্ধু নদী সংলগ্ন অঞ্চল ‘হিন্দু’ নামে পরিচিত হয়। পরে আরবি-ফারসি ভাষায় ‘হিন্দ’ থেকে ‘হিন্দুস্থান’ শব্দের উৎপত্তি ঘটে।

৮. ‘হুদুদ অল আলম’ গ্রন্থে ‘হিন্দুস্থান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: দশম শতকে অজ্ঞাতনামা লেখক রচিত ‘হুদুদ অল আলম’ গ্রন্থে ‘হিন্দুস্থান’ শব্দ দ্বারা সমগ্র ভারতকে বোঝানো হয়েছিল।

৯. ‘আদি-মধ্যযুগ’ বলতে কোন সময়কালকে বোঝানো হয়?

উত্তর: প্রাচীন যুগ ধীরে ধীরে শেষ হয়ে মধ্যযুগ পুরোপুরি শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী অবস্থাকে ঐতিহাসিকরা ‘আদি-মধ্যযুগ’ বলেন।

১০. ভারতে আলু খাওয়ার প্রচলন কার হাত ধরে হয়েছিল?

উত্তর: পর্তুগিজদের হাত ধরে ভারতে আলু খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছিল।

১১. ঐতিহাসিককে কেন একজন ‘গোয়েন্দা’ বলা চলে?

উত্তর: গোয়েন্দা যেমন টুকরো প্রমাণের সূত্র (Clue) দিয়ে রহস্য উন্মোচন করেন, ঐতিহাসিকও তেমনই অতীতের টুকরো উপাদান বিচার-বিশ্লেষণ করে সত্য ঘটনা সাজিয়ে তোলেন।

২য় অধ্যায়: ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা (খ্রীষ্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক)

১২. ‘বঙ্গ’ নামটির প্রথম উল্লেখ কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: ঋগ্বেদের ‘ঐতেরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে প্রথম ‘বঙ্গ’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

১৩. আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে বাংলাকে কী বলা হয়েছে?

উত্তর: আবুল ফজলের লেখা ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে এই অঞ্চলকে ‘সুবা বাংলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৪. প্রাচীন বাংলার প্রধান ভৌগোলিক বিভাগগুলি কী কী ছিল?

উত্তর: পুণ্ড্রবর্ধন, বরেন্দ্র, বঙ্গ, বঙ্গাল, রাঢ়-সুহ্ম, গৌড়, সমতট এবং হরিকেল।

১৫. প্রাচীন বাংলার সর্ববৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চল কোনটি ছিল?

উত্তর: পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলটি ছিল প্রাচীন বাংলার বৃহত্তম অঞ্চল।

১৬. প্রাচীন রাঢ় অঞ্চলের দুটি ভাগ কী কী ছিল?

উত্তর: উত্তর রাঢ় (বজ্জভূমি) এবং দক্ষিণ রাঢ় (সুহ্মভূমি)। উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ের সীমানা ছিল অজয় নদ।

১৭. প্রাচীন ‘সমতট’ ও ‘হরিকেল’ বলতে বর্তমান কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

উত্তর: সমতট ছিল মেঘনা নদীর পূর্ব দিকের এলাকা (বর্তমান কুমিল্লা-নোয়াখালী) এবং হরিকেল ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল অঞ্চল।

১৮. গৌড় রাজ্যের প্রথম ঐতিহাসিক স্বাধীন শাসক কে ছিলেন এবং তাঁর রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর: শশাঙ্ক (শাসনকাল ৬০৬/৬০৭ খ্রিঃ থেকে ৬৩৭/৬৩৮ খ্রিঃ) ছিলেন গৌড়ের স্বাধীন শাসক। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।

১৯. কর্ণসুবর্ণ স্থানটি বর্তমানে কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার চিরুটি (রাজবাড়িডাঙা) স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চল।

২০. সুয়ান জাং (হিউয়েন সাঙ)-এর বিবরণ অনুযায়ী কর্ণসুবর্ণ শহরের প্রকৃতি কেমন ছিল?

উত্তর: কর্ণসুবর্ণ ছিল একটি ঘনবসতিপূর্ণ, সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র, যেখানে বৌদ্ধ ও শৈব উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করত।

২১. শশাঙ্ককে কেন ‘বৌদ্ধবিদ্বেষী’ বলা হতো এবং এটি কতখানি সত্য?

উত্তর: বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত’ ও সুয়ান জাঙের বিবরণীতে শশাঙ্ককে বৌদ্ধবিদ্বেষী বলা হয়েছে। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এটি আংশিক পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনা; কারণ তাঁর আমলে রক্তমৃত্তিকা বৌদ্ধবিহার সমৃদ্ধ অবস্থাতেই ছিল।

২২. ‘গৌড়তন্ত্র’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: শশাঙ্কের আমল থেকে রাজ্যে যে নির্দিষ্ট আমলাতান্ত্রিক ও কেন্দ্রীয় শাসনপ্রণালী গড়ে উঠেছিল, তাকেই ‘গৌড়তন্ত্র’ বলা হয়।

২৩. ‘মাৎসন্যায়’ কী?

উত্তর: পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে ফেলে, শশাঙ্কের মৃত্যুর পর শক্তিশালী লোকেরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করত এবং রাজ্যে কোনো স্থায়ী রাজা বা শাসন ছিল না; বাংলার ইতিহাসের এই ১০০ বছরের অরাজক অবস্থাকে ‘মাৎসন্যায়’ বলে।

২৪. পাল বংশের প্রতিষ্ঠা কে এবং কীভাবে করেন?

উত্তর: আনুমানিক ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার প্রভাবশালী মানুষেরা মিলে গোপাল-কে রাজা নির্বাচন করেন এবং পাল বংশের শাসন শুরু হয়।

২৫. পাল বংশের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন শাসকের নাম লেখ।

উত্তর: গোপাল, ধর্মপাল, দেবপাল, প্রথম মহীপাল এবং রামপাল।

২৬. কৈবর্ত বিদ্রোহ কবে ঘটেছিল এবং এর প্রধান নেতারা কারা ছিলেন?

উত্তর: একাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে কৈবর্ত বিদ্রোহ ঘটে। এর নেতারা ছিলেন— দিব্য (দিব্বোক), রুদোক এবং ভীম।

২৭. কৈবর্ত বিদ্রোহের ইতিহাস কোন গ্রন্থ থেকে জানা যায়?

উত্তর: সন্ধ্যাাাকর নন্দী রচিত ‘রামচরিত’ কাব্য থেকে কৈবর্ত বিদ্রোহের কথা জানা যায়।

২৮. সেন রাজাদের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল?

উত্তর: সেন রাজাদের আদি বাসস্থান ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক অঞ্চল।

২৯. সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ও শেষ শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন?

উত্তর: প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্তসেন ও হেমন্তসেন (প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বিজয়সেন) এবং শেষ শক্তিশালী রাজা ছিলেন লক্ষণসেন।

৩০. ‘ত্রি-শক্তি সংগ্রাম’ কোন্ শহর দখলকে কেন্দ্র করে কাদের মধ্যে হয়েছিল?

উত্তর: কনৌজ শহর দখলকে কেন্দ্র করে পাল, গুর্জর-প্রতিহার এবং রাষ্ট্রকূট—এই তিন শক্তির মধ্যে প্রায় ২০০ বছর ধরে সংগ্রাম ঘটেছিল।

৩১. দক্ষিণ ভারতের চোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: চোল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিজয়ালয়।

৩২. কোন্ চোল রাজা ‘গঙ্গাইকোণ্ডচোল’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তর: প্রথম রাজেন্দ্র চোল (১০১৬–১০৪৪ খ্রিঃ) গঙ্গানদীর তীরবর্তী অঞ্চল জয় করে এই উপাধি নেন।

৩৩. বাংলায় তুর্কি অভিযান কার নেতৃত্বে ঘটেছিল এবং তখন বাংলার রাজা কে ছিলেন?

উত্তর: আনুমানিক ১২০৪/১২০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বখতিয়ার খলজি-র নেতৃত্বে নদীয়া আক্রমণের সময় বাংলার রাজা ছিলেন লক্ষণসেন।

৩৪. বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে কোথায় তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন?

উত্তর: বখতিয়ার খলজি লখনৌতি (লক্ষণাবতী)-তে তাঁর নতুন রাজধানী স্থাপন করেন।

🔗 আরো পড়ুন:

Gk for class 7 in bengali | 100+ ক্লাস ৭-এর জন্য Gk প্রশ্ন বাংলায়

Class 6 History GK Questions and Answers in Bengali

৩য় অধ্যায়: ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা

৩৫. ‘সামন্ত ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: রাজা সরাসরি শাসন না করে অসম রাজাদের বা কর্মচারীদের রাজস্ব আদায়ের অধিকার সংবলিত জমি দিতেন। হায়ারার্কি অনুযায়ী নিচে কৃষক এবং ওপরে রাজা—ত্রিভুজের মতো এই শাসনকাঠামোকে ‘সামন্ত ব্যবস্থা’ বলে।

৩৬. ইউরোপের সামন্ততন্ত্রে ‘সার্ফ’ (Surf) কাদের বলা হতো?

উত্তর: ইউরোপের সামন্তপ্রথায় সামন্তপ্রভুর অধীনে জমিতে কাজ করা ভূমিদাস বা পরাধীন কৃষকদের ‘সার্ফ’ বলা হতো।

৩৭. চোল প্রশাসনে ‘নাডু’ ও ‘উর’ কী ছিল?

উত্তর: চোল আমলে একাধিক গ্রাম নিয়ে গঠিত স্থানীয় সভাকে ‘নাডু’ এবং কৃষকদের বসতি ঘিরে গড়ে ওঠা গ্রাম-পরিষদকে ‘উর’ বলা হতো।

৩৮. ‘ব্রহ্মদেয়’ জমি ব্যবস্থা কী?

উত্তর: ব্রাহ্মণদের করমুক্ত যে কৃষিজমি দান করা হতো এবং যার ওপর কোনো রাজস্ব ধার্য করা হতো না, তাকে ‘ব্রহ্মদেয়’ ব্যবস্থা বলা হতো।

৩৯. পাল-সেন যুগে রাজা কৃষকদের থেকে কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতেন?

উত্তর: উৎপন্ন ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬ ভাগ) রাজা কর হিসেবে গ্রহণ করতেন।

৪০. পাল ও সেন আমলের অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রধান মাধ্যম কী ছিল?

উত্তর: সোনা-রুপোর মুদ্রার অভাব থাকায় সাধারণ কেনাবেচার প্রধান মাধ্যম ছিল কড়ি।

৪১. প্রাচীন বাঙালিদের প্রধান খাদ্য তালিকা কেমন ছিল?

উত্তর: ভাত, গাওয়া ঘি, মৌরলা ও শাক, দুধ-পায়েস, আম-কাঁঠাল এবং নদীর মাছ (বিশেষ করে ইলিশ, রুই, শোল)।

৪২. চর্যাপদ কী এবং এটি কারা রচনা করেছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদ হলো খ্রীষ্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকে সিদ্ধাচার্যদের (লুইপাদ, সরহপাদ, ভুসুকুপাদ) রচিত প্রাচীন বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন বা কবিতা ও গানের সংকলন।

৪৩. চর্যাপদের পুঁথি কে কোথা থেকে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: আচার্য হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থগার থেকে চর্যাপদের পুঁথি উদ্ধার করেন।

৪৪. সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত ‘রামচরিত’ কাব্যের মূল বিষয়বস্তু কী?

উত্তর: একাধারে রামায়ণের রাম ও সীতার কাহিনি এবং অন্যদিকে পালরাজ রামপাল ও তাঁর জন্মভূমি বরেন্দ্র উদ্ধার—এই দুই অর্থ সংবলিত সংস্কৃত কাব্য।

৪৫. সেন যুগের বিখ্যাত কবি জয়দেবের রচিত গ্রন্থটির নাম কী?

উত্তর: রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাহিনি অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম’।

৪৬. লক্ষণসেনের রাজসভার ‘পঞ্চরত্ন’ কবি কারা ছিলেন?

উত্তর: জয়দেব, ধোয়ী (পবনদূত রচয়িতা), গোবর্ধন, উমাপতিধর এবং শরণ।

৪৭. রাজা বল্লাল সেনের রচিত দুটি বিখ্যাত স্মৃতিশাস্ত্র গ্রন্থের নাম লেখ।

উত্তর: ‘দানসাগর’ এবং ‘অদ্ভুতসাগর’।

৪৮. নালন্দা মহাবিহারের সূচনা কার আমলে ঘটেছিল?

উত্তর: গুপ্ত সম্রাটদের আমলে (পঞ্চম শতকে) বিহারে নালন্দা মহাবিহার গড়ে ওঠে।

৪৯. তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য বিখ্যাত বাঙালি পণ্ডিত কে ছিলেন?

উত্তর: বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামের সন্তান দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (অতীশ)।

৪থ অধ্যায়: দিল্লি সুলতানি : তুর্কো-আফগান শাসন

৫০. ‘সুলতান’ এবং ‘খলিফা’ শব্দ দুটির অর্থ কী?

উত্তর: ‘সুলতান’ শব্দের অর্থ হলো কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাশালী শাসক। আর ‘খলিফা’ আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো প্রতিনিধি বা উত্তরসূরি (ইসলাম জগতের প্রধান ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা)।

৫১. ‘খুতবা’ কী?

উত্তর: জুম্মার নমাজে সমকালীন খলিফা ও সুলতানের নামে পড়া প্রশংসাসূচক বক্তৃতা বা অনুশাসনকে ‘খুতবা’ বলে।

৫২. সুলতান ইলতুৎমিশ কবে খলিফার অনুমোদন (খিলআত) লাভ করেন?

উত্তর: ১২২৯ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদের খলিফার কাছ থেকে ইলতুৎমিশ অনুমোদনপত্র (দূরবাশ ও খিলআত) পান।

৫৩. ‘বন্দেগান-ই-চিহলগানি’ বা ‘চল্লিশচক্র’ কী?

উত্তর: সুলতান ইলতুৎমিশের বিশ্বস্ত ৪০ জন তুর্কি ক্রীতদাস ও অভিজাতদের নিয়ে গড়ে তোলা সংগঠন।

৫৪. দিল্লির মসনদে বসা প্রথম ও শেষ নারী মুসলিম শাসক কে ছিলেন?

উত্তর: সুলতান রাজিয়া ( শাসনকাল ১২৩৬–১২৪০ খ্রিঃ)।

৫৫. সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন প্রবর্তিত ‘সিজদা’ ও ‘পাইবসন’ প্রথার অর্থ কী?

উত্তর: ‘সিজদা’ মানে সুলতানকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করা এবং ‘পাইবসন’ মানে সুলতানের পদযুগল চুম্বন করা।

৫৬. ‘খলজি বিপ্লব’ কী?

উত্তর: ১২৯০ খ্রিষ্টাব্দে জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি বলবনের বংশধরদের সরিয়ে সুলতানি ক্ষমতা দখল করেন; ইলবারি তুর্কিদের একচেটিয়া ক্ষমতার এই অবসানকে ‘খলজি বিপ্লব’ বলা হয়।

৫৭. দিল্লি সুলতানির প্রথম কোন্ শাসক দাক্ষিণাত্য অভিযান করেন এবং তাঁর সেনাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: সুলতান আলাউদ্দিন খলজি; তাঁর সেনাপতি ছিলেন মালিক কাফুর।

৫৮. আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের নাম কী?

উত্তর: ‘শাহানা-ই-মান্ডি’ এবং ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসৎ’।

৫৯. বিখ্যাত পর্যটক ইবন বতুতা কার রাজত্বকালে ভারতে আসেন এবং তাঁর বইটির নাম কী?

উত্তর: মহম্মদ বিন তুঘলকের আমলে মরক্কো থেকে আসেন। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তের নাম ‘আল-রিহলা’ বা ‘কিতাবুল রিহলা’।

৬০. ইবন বতুতার মতে ‘উলাক’ ও ‘দাওয়া’ কী ছিল?

উত্তর: তুঘলক আমলের ঘোড়ার ডাকব্যবস্থাকে ‘উলাক’ এবং পায়ে হাঁটা দ্রুত ডাকব্যবস্থাকে ‘দাওয়া’ বলা হতো।

৬১. মহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে কোথায় রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন?

উত্তর: দাক্ষিণাত্যের দেবগিরিতে, যার নতুন নাম দেওয়া হয় দৌলতাবাদ।

৬২. মহম্মদ বিন তুঘলক কীসের তামার প্রতীকী মুদ্রা চালু করেছিলেন?

উত্তর: সোনা-রুপোর ঘাটতি মেটাতে তামার প্রতীকী মুদ্রা (টোকেন কারেন্সি) চালুর পরীক্ষা করেছিলেন।

৬৩. ‘ইকতা’ এবং ‘ইকতাদার’ কী?

উত্তর: সুলতানি আমলে নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভূমিরাজস্ব আদায় ও শাসনের জন্য সামরিক নায়কদের বিলি করা জমিকে ‘ইকতা’ এবং তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত শাসককে ‘ইকতাদার’ বা ‘মুকতি’ বলা হতো।

৬৪. অ-মুসলমানদের ওপর চাপানো ‘জিজিয়া’ কর কী?

উত্তর: অ-মুসলিম প্রজাদের নিরাপত্তা, জীবন ও ধর্মপালনের অধিকার দেওয়ার বিনিময়ে আদায় করা মাথাভিত্তিক কর। প্রথম মহম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু প্রদেশে এটি চালু করেন।

৬৫. বাংলায় স্বাধীন ইলিয়াসশাহি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর: শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২ খ্রিঃ)।

৬৬. বিজয়নগর সাম্রাজ্য কবে এবং কাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৩৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে হরিহর ও বুক্ক নামে দুই ভাই বিজয়নগর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

৬৭. বিজয়নগরের শ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন এবং তাঁর লেখা তেলুগু গ্রন্থ কোনটি?

উত্তর: তুলুভ বংশের কৃষ্ণদেব রায়; তাঁর রচিত বিখ্যাত তেলুগু গ্রন্থ হলো ‘আমুক্তমাল্যদ’।

৬৮. বাহমনি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: ১৩৪৭ খ্রিষ্টাব্দে আলাউদ্দিন হাসান বাহমন শাহ (হাসান গঙ্গু) বাহমনি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন; এর রাজধানী ছিল গুলবর্গা।

৬৯. প্রথম পানিপথের যুদ্ধ কবে এবং কাদের মধ্যে হয়েছিল?

উত্তর: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর এবং ইব্রাহিম লোদির মধ্যে।

🔗 আরো পড়ুন:

Class 7 Geography GK Questions and Answers

৫মে অধ্যায়: মুঘল সাম্রাজ্য

৭০. ‘বাবর’ শব্দের অর্থ কী এবং ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর: ‘বাবর’ শব্দের অর্থ সিংহ। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর (১৫২৬ খ্রিঃ)।

৭১. বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে কোন কৌশল ব্যবহার করে জয়ী হন?

উত্তর: কামান, বন্দুকধারী সৈন্য এবং দ্রুতগামী ঘোড়সওয়ারের যৌথ আক্রমণাত্মক কৌশল (রুমি কৌশল)।

৭২. খানুয়ার যুদ্ধ ও ঘর্ঘরার যুদ্ধ কবে এবং কাদের মধ্যে ঘটেছিল?

উত্তর: খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭ খ্রিঃ) বাবর ও মেওয়ারের রানা সংগ্রাম সিংহের মধ্যে এবং ঘর্ঘরার যুদ্ধ (১৫২৯ খ্রিঃ) বাবর ও আফগানদের মধ্যে ঘটেছিল।

৭৩. ‘সড়ক-ই-আজম’ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: আফগান শাসক শেরশাহ (পরবর্তীকালে এটি গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা জি.টি. রোড নামে পরিচিত হয়)।

৭৪. শেরশাহের প্রবর্তিত ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ কী?

উত্তর: প্রজাদের জমির অধিকার জানিয়ে দেওয়া সরকারি দলিল হলো ‘পাট্টা’ এবং প্রজা যে নির্দিষ্ট রাজস্ব দিতে অঙ্গীকার করত সেই সম্মতিপত্র হলো ‘কবুলিয়ত’।

৭৫. সেনাদলে দুর্নীতি রুখতে শেরশাহ কোন্ দুটি প্রথা চালু করেন?

উত্তর: ঘোড়ার পরিচয় চিহ্নিত করার জন্য ‘দাগ’ এবং সৈন্যদের চেহারার বিবরণ নথিভুক্ত করার জন্য ‘হুলিয়া’ প্রথা।

৭৬. দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ কবে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে আকবরের অভিভাবক বেরাম খান ও আফগান সেনাপতি হিমুর মধ্যে।

৭৭. হলদিঘাটের যুদ্ধ কবে এবং কাদের মধ্যে হয়েছিল?

উত্তর: ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিংহ ও মেওয়ারের রানা প্রতাপ সিংহের মধ্যে।

৭۸. রাজা বীরবলের আসল নাম কী ছিল?

উত্তর: মহেশ দাস।

৭৯. আকবরের সর্বধর্ম সমন্বয়ের নীতিকে কী বলা হতো?

উত্তর: ‘সুলহ-ই-কুল’ (পরম সহনশীলতা) এবং এর ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত মতাদর্শ ‘দীন-ই-ইলাহি’।

৮০. ‘মনসব’ এবং ‘মনসবদার’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘মনসব’ শব্দের অর্থ পদমর্যাদা। মুঘল প্রশাসনিক পদমর্যাদাপ্রাপ্ত অফিসারদের ‘মনসবদার’ বলা হতো।

৮১. ‘জাবতি’ ও ‘দহসালা’ ব্যবস্থা কী?

উত্তর: জমি জরিপ করে রাজস্ব নির্ধারণ প্রথাকে ‘জাবতি’ বলে। আকবরের অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমল ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে বিগত ১০ বছরের তথ্যের ভিত্তিতে যে রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন, তাকে ‘দহসালা’ বলে।

৮২. ‘ওয়াতন’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: নিজ ভিটে বা নিজস্ব এলাকা।

৮৩. ঔরঙ্গজেব কত সালে পুনরায় অ-মুসলিমদের ওপর ‘জিজিয়া’ কর চাপিয়েছিলেন?

উত্তর: ১৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দে।

৮৪. ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ (Deccan Ulcer) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ঔরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের বিজাপুর ও গোলকোণ্ডা জয় করতে গিয়ে জীবনের প্রায় ২৫ বছর টানা যুদ্ধ করেন; এই দীর্ঘ যুদ্ধ মুঘল অর্থ ও সামরিক শক্তি ধ্বংস করে, যা ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ নামে পরিচিত।

৮৫. ‘খালিসা’ জমি কী ছিল?

উত্তর: যে সমস্ত জমির রাজস্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় রাজকোষ বা সরকারি কোষাগারে জমা হতো, তাকে ‘খালিসা’ জমি বলা হতো।

৬ষ্ঠ অধ্যায়: নগর, বণিক ও বাণিজ্য

৮৬. মধ্যযুগের দিল্লির সাতটি প্রধান শহরের মধ্যে প্রথম তিনটি কী কী?

উত্তর: ১. কিলা রাই পিথোরা, ২. সিঁরি এবং ৩. তুঘলকাবাদ।

৮৭. শাহজাহানাবাদ শহরটি কে এবং কবে গড়ে তোলেন?

উত্তর: মুঘল সম্রাট শাহজাহান ১৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে যমুনা নদীর তীরে তৈরি করেন।

৮৮. দিল্লির ‘লালকেল্লা’ কোন্ পাথরে তৈরি ছিল?

উত্তর: লাল রঙের বেলেপাথরে নির্মিত, তাই এর নাম লালকেল্লা বা কিলা মুবারক।

৮৯. সুলতানি আমলে দিল্লিতে নির্মিত ‘হৌজ-ই-শামসি’ ও ‘হৌজ-ই-আলাই’ কী?

উত্তর: পানীয় জল সংকট মেটাতে সুলতান ইলতুৎমিশ খোদাই করেন ‘হৌজ-ই-শামসি’ এবং আলাউদ্দিন খলজি তৈরি করেন চারকোণা দিঘি ‘হৌজ-ই-আলাই’ (হৌজ-ই-খাস)।

৯০. মধ্যযুগে নিরাপত্তার সঙ্গে টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ‘হুন্ডি’ কী?

উত্তর: এক জায়গায় টাকা জমা দিয়ে সরাফদের থেকে প্রাপ্ত কাগজের রশিদ, যা অন্য জায়গায় ভাঙানো যেত।

৯১. ‘সরাফ’ ও ‘দালাল’ কাদের বলা হতো?

উত্তর: আজকের ব্যাংকের মতো টাকা বিনোদ ও মুদ্রার খাঁটিত্ব পরীক্ষা করত ‘সরাফ’ এবং ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দাম ঠিক করে দিত ‘দালাল’।

৯২. ইউরোপ থেকে ভারত মহাসাগরীয় জলপথে আসা প্রথম পর্তুগিজ নাবিক কে ছিলেন?

উত্তর: ভাস্কো দা গামা (১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে কালিকট বন্দরে পৌঁছান)।

৯৩. ইউরোপীয় বণিকদের ‘কুঠি’ কী ছিল?

উত্তর: দুর্গভিত্তিক সুরক্ষিত বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা মালপত্র রাখার গুদামঘর।

৯৪. মুঘল আমলে উৎপাদিত বিদেশের বাজারে বিখ্যাত ‘ছিট’ (Chintz) কাপড় কী ছিল?

উত্তর: রঙিন ছাপা সুতি সুতির সুক্ষ্ম বস্ত্র।

৭ম অধ্যায়: জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি : সুলতানি ও মুঘল যুগ

৯৫. মধ্যযুগের ভারতের দিন-রাতকে কয়টি ‘প্রহর’-এ ভাগ করা হতো?

উত্তর: দিন-রাত মিলিয়ে মোট ৮টি প্রহর-এ ভাগ করা হতো (প্রতি প্রহর = প্রায় ৩ ঘণ্টা)। ১ প্রহর আবার ২৪ মিনিট স্থায়ী ‘ঘড়ি’ বা ঘটিকায় বিভক্ত ছিল।

৯৬. ভক্তি আন্দোলনের মূল বক্তব্য কী ছিল?

উত্তর: ঈশ্বর লাভের একমাত্র পথ হলো ঈশ্বরের প্রতি আন্তরিক ভক্তি ও ভালোবাসা, কোনো বাহ্যিক আড়ম্বর বা জটিল আচার-অনুষ্ঠান নয়।

৯৭. দাক্ষিণাত্যের আলভার ও নায়নার সাধকরা কাদের উপাসক ছিলেন?

উত্তর: আলভার সাধকরা বিষ্ণুর এবং নায়নার সাধকরা শিবের উপাসক ছিলেন।

৯৮. ‘সুফি’ শব্দটি কোন্ শব্দ থেকে এসেছে এবং ‘পীর-মুরিদ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘সুফ’ (পশমের তৈরি কাপড়) শব্দ থেকে সুফি এসেছে। সুফি ধারায় ‘পীর’ মানে গুরু এবং ‘মুরিদ’ মানে শিষ্য।

৯৯. ভারতে চিশতি সুফি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: খাজা মইনউদ্দিন চিশতি (আজমীর)।

১০০. সুফি সাধকদের বাসস্থান বা আশ্রমকে কী বলা হতো?

উত্তর: ‘খানকা’।

১০১. বাংলায় বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলনের মূল কান্ডারী কে ছিলেন?

উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য)।

১০২. ‘নামকীর্তন’ ও ‘নগরকীর্তন’-এর তফাত কী?

উত্তর: ঘরে বসে যে কীর্তন গাওয়া হতো তা নামকীর্তন, আর দলবেঁধে শোভাযাত্রা করে শহর ঘুরে গান গাওয়াকে নগরকীর্তন বলে।

১০৩. অসমে ভক্তি আন্দোলন প্রচার করেছিলেন কোন সাধক?

উত্তর: শ্রীমন্ত শঙ্করদেব।

১০৪. দিল্লির কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ কে শুরু করেন এবং কে শেষ করেন?

উত্তর: নির্মাণ শুরু করেন কুতুবউদ্দিন আইবক এবং শেষ করেন সুলতান ইলতুৎমিশ।

১০৫. ‘আলাই দরওয়াজা’ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: সুলতান আলাউদ্দিন খলজি।

১০৬. মুঘল স্থাপত্যের ‘চাহার বাগ’ রীতি কী?

উত্তর: চারভাগে সমানভাবে ভাগ করা সাজানো বাগান তৈরির মুঘল শৈলী।

১০৭. ক্যালিগ্রাফি (Calligraphy) কী?

উত্তর: সুন্দর হাতে লেখার লিপি শিল্প বা হস্তলিপিশিল্প।

১০৮. আমির খসরু কে ছিলেন এবং তাঁকে কী উপাধি দেওয়া হয়েছিল?

উত্তর: সুলতানি আমলের প্রখ্যাত ফারসি কবি ও সংগীতজ্ঞ; তাঁকে ‘তুতাই-ই-হিন্দ’ (ভারতের তোতাপাখি) বলা হতো।

১০৯. খয়াল ও তরানা সংগীত রীতির প্রবর্তক কে?

উত্তর: কবি আমির খসরু।

১১০. সম্রাট আকবরের রাজসভার শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী কে ছিলেন?

উত্তর: মিয়াঁ তানসেন।

১১১. বাবর ও জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী দুটির নাম কী?

উত্তর: বাবরের লেখা ‘তুজুক-ই-বাবরি’ (বা বরনামা) এবং জাহাঙ্গীরের লেখা ‘তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরি’।

১১২. আবুল ফজলের লেখা দুটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: ‘আকবরনামা’ এবং ‘আইন-ই-আকবরী’।

১১৩. মহাভারতের বাংলা অনুবাদ কে করেছিলেন?

উত্তর: কাশীরাম দাস। (অনুরূপভাবে রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা)।

৮ই অধ্যায়: মুঘল সাম্রাজ্যের সংকট

১১৪. শিবাজির শিক্ষক ও অভিভাবক কে ছিলেন?

উত্তর: দাদাজী কোণ্ডদেব।

১১৫. শিবাজি বাঘের নখ (বাঘ নখ) দিয়ে বিজাপুরের কোন সেনাপতিকে হত্যা করেছিলেন?

উত্তর: আফজল খানকে।

১১৬. শিবাজি কত সালে এবং কোথায় ‘ছত্রপতি’ উপাধিতে অভিষিক্ত হন?

উত্তর: ১৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দে রায়গড় দুর্গে।

১১৭. নবম শিখ গুরু তেগ বাহাদুরকে কোন্ মুঘল সম্রাট মৃত্যুদণ্ড দেন?

উত্তর: মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব।

১১৮. ‘খালসা’ নামক সামরিক সংগঠন কে এবং কবে তৈরি করেছিলেন?

উত্তর: ১৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দে দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিংহ।

১১৯. শিখদের কাছে ‘পঞ্চ ক’ (5 Ks) কী কী?

উত্তর: কেশ (চুল), কঙ্ঘা (চিরুনি), কাছা (কড়া পোশাক), কড়া (লোহার বালা) এবং কৃপাণ (ছোরা)।

১২০. ঔরঙ্গজেবের আমলে সংঘটিত দুটি প্রধান কৃষক বিদ্রোহের নাম কী?

উত্তর: জাঠ বিদ্রোহ এবং সৎনামি বিদ্রোহ।

১২১. ‘জায়গিরদারি সংকট’ কী ছিল?

উত্তর: মনসবদারদের তুলনায় ভালো বা লাভজনক জায়গিরের অভাব ঘটলে অভিজাতদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ও টানাটানি দেখা দেয়, তাকে জায়গিরদারি সংকট বলে।

৯ই অধ্যায়: আজকের ভারত : সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন

১২২. ভারত সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ কী কী?

উত্তর: আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ।

১২৩. ‘ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: শাসন, আইন ও বিচার বিভাগকে একে অপরের থেকে স্বাধীন রাখা; ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু প্রথম এই নীতি প্রকাশ করেন।

১২৪. স্বায়ত্তশাসন (Self-Governance) কী?

উত্তর: এলাকার জনগণ দ্বারা সরাসরি নিজেদের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করার ক্ষমতা।

১২৫. পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর: দুটি ভাগে— শহরের জন্য পুরসভা (পৌরশাসন) এবং গ্রামের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত।

১২৬. ‘গণতন্ত্র’ (Democracy) শব্দের সাধারণ অর্থ কী?

উত্তর: জনগণের শাসন বা জনগণের দ্বারা চালিত সরকার ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন:

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ও সালের তালিকা PDF

Class 6 GK Study Hub 2026

Class 7 History GK Questions and Answers PDF ডাউনলোড

মোবাইল বা কম্পিউটারে সেভ করে অফলাইনে যেকোনো সময় পড়ার জন্য নিচের ‘Download PDF’ বাটনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ ১২৬টি প্রশ্নের পিডিএফ ফাইলটি বিনামূল্যে সংগ্রহ করে নিন।

  • File Name: Class 7 History GK Solution (অতীত ও ঐতিহ্য)
  • File Format: PDF
  • Language: Bengali
  • Target Exams: School Exams, WBCS, WBP, KP, TET

Kalikolom.com-এর তরফ থেকে প্রতিদিন নতুন জিকে (GK PDF), মক টেস্ট এবং চাকরির পরীক্ষার স্টাডি মেটেরিয়াল সবার আগে পেতে আমাদের টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটিতে এখনই যুক্ত হন।

Frequently Asked Questions (FAQs)

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস (অতীত ও ঐতিহ্য) বই থেকে চাকরির পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন আসে?

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস বই থেকে মূলত মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস, যেমন— পাল-সেন যুগ, দিল্লি সুলতানি, মুঘল সাম্রাজ্য, মারাঠা শক্তির উত্থান এবং ভক্তি আন্দোলন থেকে প্রচুর জিকে প্রশ্ন আসে যা WBCS, WBP এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘মাৎসন্যায়’ বলতে কী বোঝায়?

রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর শক্তিশালী লোকেরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। পুকুরের বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, ঠিক তেমনি বাংলার ইতিহাসে ১০০ বছরের এই চরম অরাজক অবস্থাকেই ‘মাৎসন্যায়’ বলা হয়।

মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।

‘খালসা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

১৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দে দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিংহ শিখদের সামরিক শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ‘খালসা’ নামক সামরিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

লেখক পরিচিতি

আফতাব রহমান — KaliKolom.com এর প্রতিষ্ঠাতা

আফতাব রহমান

Aftab Rahaman

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখক, KaliKolom.com

আফতাব রহমান KaliKolom.com-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, ইতিহাস ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর লেখার মূল দর্শন হলো — জটিল বিষয়কে সহজ, স্পষ্ট ও পরীক্ষামুখী ভাষায় উপস্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত শিখতে পারে এবং দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইতিহাস চাকরির প্রস্তুতি জেনারেল নলেজ
লেখকের সাথে যুক্ত থাকুন

Leave a Comment

Join Telegram