সমাস কাকে বলে Pdf
বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষায় বারবার আসা অধ্যায় হলো সমাস। WB Gram Panchayat, WBCS, Primary TET, WBP Constable, WBSSC-সহ প্রায় প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বাংলা ব্যাকরণ অংশে সমাস থেকে অন্তত একটি-দুটি প্রশ্ন থাকেই। কিন্তু অনেকেই দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি — এই সমাসগুলোর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন।
এই আর্টিকেলে সহজ ভাষায়, উদাহরণসহ সমাস কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী তা ব্যাখ্যা করা হলো — সাথে চেনার সহজ কৌশল এবং পরীক্ষা-উপযোগী MCQ প্র্যাকটিস প্রশ্ন। শেষে দেওয়া আছে সম্পূর্ণ নোটের PDF ডাউনলোড লিংক।
Table of Contents
১. সমাস কাকে বলে? (সংজ্ঞা)
সমাস শব্দের অর্থ হলো সংক্ষেপণ। যখন দুই বা ততোধিক পদ (শব্দ) পরস্পরের অর্থগত সম্বন্ধ বজায় রেখে একটি নতুন ও অর্থবহ শব্দে পরিণত হয়, এবং মাঝের বিভক্তি বা অব্যয় লোপ পায়, তখন তাকে সমাস বলে।
যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র — এখানে “রাজার” শব্দের ষষ্ঠী বিভক্তি (“র”) লোপ পেয়ে দুটি পদ মিলে একটি নতুন শব্দ “রাজপুত্র” তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটিই সমাস।
সমাসবদ্ধ পদটিকে বলা হয় সমস্তপদ, আর যে বাক্য দিয়ে সমস্তপদের অর্থ বোঝানো হয় তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য (যেমন উপরের উদাহরণে “রাজার পুত্র” হলো ব্যাসবাক্য)।
২. সমাসের প্রকারভেদ (৬ প্রকার, উদাহরণসহ)
বাংলা ব্যাকরণে সমাস প্রধানত ৬ প্রকার (নতুন সিলেবাস অনুযায়ী ৪ প্রকার — দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি — মূল হিসেবে ধরা হয়, তবে পরীক্ষায় ৬ প্রকারই গুরুত্বপূর্ণ)।
ক) দ্বন্দ্ব সমাস
যে সমাসে উভয় পদের অর্থই সমান গুরুত্ব পায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। ব্যাসবাক্যে “ও/এবং/আর” ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণঃ মা ও বাবা = মা-বাবা, দিন ও রাত = দিনরাত, হাত ও পা = হাতপা
খ) কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে বিশেষণ পদের সাথে বিশেষ্য পদের মিলনে পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- উদাহরণঃ নীল যে আকাশ = নীলাকাশ, মহৎ যে জীবন = মহাজীবন
গ) তৎপুরুষ সমাস
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয় এবং পূর্বপদের বিভক্তি (কে, দ্বারা, জন্য, হতে, র/এর, এ/য়ে) লোপ পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- উদাহরণঃ গৃহে প্রবেশ = গৃহপ্রবেশ, বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত
ঘ) বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে সমস্তপদটি অন্য একটি পদের (তৃতীয় কোনো বস্তু বা ব্যক্তির) বিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- উদাহরণঃ দশ আনন যার = দশানন (রাবণ), বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি (সরস্বতী)
ঙ) দ্বিগু সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্তপদটি সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- উদাহরণঃ তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল, সাত সমুদ্রের সমাহার = সপ্তসিন্ধু
চ) অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয় এবং পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- উদাহরণঃ আকণ্ঠ (কণ্ঠ পর্যন্ত), প্রতিদিন (প্রতি দিনে)
৩. সমাস চেনার সহজ কৌশল
| সমাসের নাম | চেনার সহজ উপায় |
|---|---|
| দ্বন্দ্ব | ব্যাসবাক্যে “ও/এবং/আর” থাকে, উভয় পদ সমান গুরুত্বপূর্ণ |
| কর্মধারয় | বিশেষণ + বিশেষ্য, পরপদের অর্থ প্রধান |
| তৎপুরুষ | পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়, পরপদের অর্থ প্রধান |
| বহুব্রীহি | সমস্তপদটি তৃতীয় পদের বিশেষণ হয় |
| দ্বিগু | পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, সমাহার বোঝায় |
| অব্যয়ীভাব | পূর্বপদ অব্যয়, পূর্বপদের অর্থ প্রধান |
৪. সমাস নিয়ে MCQ প্র্যাকটিস প্রশ্ন
১. “মা-বাবা” কোন সমাস? উত্তরঃ দ্বন্দ্ব সমাস।
২. “নীলাকাশ” কোন সমাসের উদাহরণ? উত্তরঃ কর্মধারয় সমাস।
৩. “দশানন” কোন সমাসের উদাহরণ? উত্তরঃ বহুব্রীহি সমাস।
৪. “রাজপুত্র” কোন সমাস? উত্তরঃ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
৫. “ত্রিফলা” কোন সমাসের উদাহরণ? উত্তরঃ দ্বিগু সমাস।
৬. “আজীবন” কোন সমাসের উদাহরণ? উত্তরঃ অব্যয়ীভাব সমাস।
৭. “বিলাতফেরত” কোন সমাস? উত্তরঃ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
৮. “হাতপা” কোন সমাস? উত্তরঃ দ্বন্দ্ব সমাস।
৯. “বীণাপাণি” কোন সমাসের উদাহরণ? উত্তরঃ বহুব্রীহি সমাস।
১০. নতুন সিলেবাস অনুযায়ী সমাস প্রধানত কত প্রকার? উত্তরঃ ৪ প্রকার (দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি)।
৫. সমাস নোট PDF Download
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ফাইলের ধরন | |
| ভাষা | বাংলা (Bengali) |
| বিষয়বস্তু | সমাসের সংজ্ঞা, ৬ প্রকার সমাস, উদাহরণ, MCQ প্র্যাকটিস |
| উপযোগী | WB Gram Panchayat, WBCS, Primary TET, WBP Constable, WBSSC |
| ডাউনলোড লিংক | [এখানে PDF ডাউনলোড লিংক বসবে] |
(এই টেবিলের ডাউনলোড লিংক সেলে আপনার নিজের বানানো PDF-এর লিংকটি বসিয়ে দিন।)
FAQ
প্রশ্নঃ সমাস কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তরঃ ঐতিহ্যগতভাবে ৬ প্রকার — দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব। নবম-দশম শ্রেণির নতুন সিলেবাস অনুযায়ী মূল ৪ প্রকার — দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি।
প্রশ্নঃ সমাস ও সন্ধির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ সন্ধিতে দুটি ধ্বনির মিলন ঘটে এবং উচ্চারণে পরিবর্তন হয়; সমাসে দুই বা ততোধিক পদ অর্থগত সম্বন্ধে মিলে একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, বিভক্তি লোপ পায়।
প্রশ্নঃ পরীক্ষায় সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় কী?
উত্তরঃ ব্যাসবাক্যটি ভালো করে পড়ে বোঝা — কোন পদের অর্থ প্রধান, নাকি সমস্তপদটি তৃতীয় কোনো বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করছে কিনা।
প্রশ্নঃ PDF ফাইলটি কীভাবে ডাউনলোড করব?
উত্তরঃ উপরের টেবিলে দেওয়া ডাউনলোড লিংকে ক্লিক করলেই PDF ফাইলটি ডাউনলোড হয়ে যাবে।



![[PDF] WB Police Constable Previous Year Question Papers | Preliminary & Main (2013-Present) WB Police Constable Previous Year Question Papers](https://kalikolom.com/wp-content/uploads/2025/05/wbp_banner.webp)







