বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Bristi Pore Tapur Tupur Question Answer PDF | Wbbse
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, তোমাদের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর” কবিতাটি আছে। এই কবিতার শেষে থাকা প্রশ্নগুলোর সহজ ভাষায় উত্তর নিচে দেওয়া হলো। নিচে থেকে PDF-ও ডাউনলোড করে নিতে পারবে।
কবি পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন। ‘কথাকাহিনী’, ‘সহজপাঠ’, ‘রাজর্ষি’, ‘ছেলেবেলা’, ‘শিশু’, ‘শিশু ভোলানাথ’, ‘হাস্যকৌতুক’, ‘ডাকঘর’-এর মতো অসংখ্য রচনা শিশু-কিশোরদের মন জয় করেছে। দীর্ঘ জীবনে তিনি অজস্র কবিতা, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন, ছবিও এঁকেছেন। ১৯১৩ সালে ‘Song Offerings’-এর জন্য এশিয়ার মধ্যে তিনিই প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা।
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতাটি প্রথমে ‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শিরোনামে ১৩১০ বঙ্গাব্দে মোহিতচন্দ্র সেন সম্পাদিত কবির ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কবি নিজেই ‘ছুটির পড়া’ নামে একটি সংকলনগ্রন্থে এই কবিতাটিকে সামান্য পরিমার্জন করে অন্তর্ভুক্ত করেন। পাঠ্যবইতে কবির সেই পরিমার্জিত ‘ছুটির পড়া’-র পাঠটিই নেওয়া হয়েছে।
কবিতার সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু
একটা মেঘলা বর্ষার দিনে কবির মনে ছেলেবেলার নানা স্মৃতি ভিড় করে আসে। আকাশে মেঘ জমতে দেখে, বৃষ্টির শব্দ শুনে তাঁর মনে পড়ে মায়ের মুখে শোনা ছোটবেলার একটা গান — “বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান!” নদীর একপারে মেঘের মাথায় বিদ্যুতের ঝলক যেন মানিকের মতো জ্বলছে, আর অন্যপারে বৃষ্টিভেজা গাছপালা ঝাপসা হয়ে গেছে। কবির মনে পড়ে মায়ের কোলে বসে শোনা রূপকথার গল্প, অভিমানী কঙ্কাবতীর দুঃখের কথা, ঘরের কোণে টিমটিমে আলো, দেয়ালে পড়া কালো ছায়া, বাইরে বৃষ্টির ঝুপ ঝুপ শব্দ। এমন মেঘলা দিনেই শিবঠাকুরের বিয়ের গল্প শোনার স্মৃতিও ভেসে ওঠে কবির মনে। এইভাবে সারা কবিতা জুড়ে বৃষ্টি আর মেঘের খেলার সাথে জড়িয়ে থাকা শৈশবের নানা মধুর স্মৃতি ফুটে উঠেছে।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর কবিতার প্রশ্ন উত্তর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | Bristi Pore Tapur Tupur Question Answer
হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১.১ কোন কোন বাংলা মাসে সাধারণত বৃষ্টি হয়?
উত্তর: সাধারণত আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি বেশি হয়, তবে জ্যৈষ্ঠ ও ভাদ্র মাসেও মাঝেমধ্যে ভালো বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়।
১.২ মেঘলা দিনে আকাশ ও তোমার চারপাশের প্রকৃতি কেমন রূপ ধারণ করে?
উত্তর: মেঘলা দিনে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়, সূর্যের আলো একেবারে কমে গিয়ে চারদিকে একটা আবছা অন্ধকার নেমে আসে। গাছপালা বাতাসে দোলে, পাখিরা বাসার দিকে ছুটে যায়, আর পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে ও নিস্তব্ধ হয়ে থাকে।
১.৩ বৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে — তোমার জীবনে মনে রাখার মতো এমন কোনো ঘটনার কথা লেখো।
(এটা তোমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখার প্রশ্ন। তোমার জীবনে বৃষ্টির সাথে জড়িয়ে থাকা কোনো স্মরণীয় ঘটনা মনে করে নিজের ভাষায় লিখে ফেলো — যেমন বৃষ্টিতে ভেজা, স্কুল থেকে ফেরার পথে হঠাৎ বৃষ্টি নামা, বা বাড়িতে বসে বৃষ্টি দেখা।)
১.৪ পুকুরে, টিনের চালে, গাছের পাতায় — বৃষ্টি পড়ার শব্দগুলো কেমন হয় লেখো।
উত্তর: পুকুরে বৃষ্টি পড়লে ঝুপ ঝুপ বা ছপ ছপ শব্দ হয়। টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে ঝমঝম বা টুংটাং শব্দ শোনা যায়। আর গাছের পাতায় বৃষ্টি পড়লে টুপটাপ বা টাপুর-টুপুর শব্দ হয়।
২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও
উত্তর:
| ক | খ |
|---|---|
| ঝাপসা | অস্পষ্ট |
| ছেলেবেলা | শৈশব |
| বিছানা | শয্যা |
| দুরন্ত | দামাল |
| বান | বন্যা |
৩. বেমানান শব্দের তলায় দাগ দাও
৩.১ সূর্য, মেঘ, বৃষ্টি, আকাশ, বাড়ি
উত্তর: বাড়ি
৩.২ ডোবে ডোবে, লোভে লোভে, পলে পলে, দেশে দেশে, টাপুর টুপুর
উত্তর: টাপুর টুপুর
৩.৩ গাছপালা, মেঘ, হাওয়া, বাদল, মানিক
উত্তর: মানিক
৩.৪ মা, খোকা, দৌরাত্ম্য, হাসিমুখ, শিবঠাকুর
উত্তর: দৌরাত্ম্য
৩.৫ মেঘের খেলা, লুকোচুরি, টাপুর টুপুর, নদী, সুয়োরানি
উত্তর: সুয়োরানি
৪. বিপরীতার্থক শব্দ কবিতা থেকে বেছে নিয়ে লেখো — রাত, বার্ধক্য, খরা, পুরোনো, শান্ত
উত্তর:
- রাত — দিন
- বার্ধক্য — শৈশব
- খরা — বান
- পুরোনো — নতুন
- শান্ত — দুরন্ত
৫. বিশেষ্য ও বিশেষণ খুঁজে নিয়ে লেখো
(শব্দগুচ্ছ: একশো মানিক, দুরন্ত ছেলে, বাদলা হাওয়া, গুরুগুরু বুক, ঝাপসা গাছপালা)
উত্তর:
| বিশেষ্য | বিশেষণ |
|---|---|
| মানিক | একশো |
| ছেলে | দুরন্ত |
| হাওয়া | বাদলা |
| বুক | গুরুগুরু |
| গাছপালা | ঝাপসা |
৬. ক্রিয়ার তলায় দাগ দাও
৬.১ কাঁসর ঘণ্টা বাজল ঠঙ ঠঙ।
উত্তর: বাজল
৬.২ কত খেলা পড়ে মনে।
উত্তর: পড়ে
৬.৩ শুনেছিলেম গান।
উত্তর: শুনেছিলেম
৬.৪ বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
উত্তর: পড়ে
৬.৫ বাইরেতে মেঘ ডেকে ওঠে।
উত্তর: ডেকে ওঠে
৭. ‘সৃষ্টি’ — এমন ‘ষ্ট’ রয়েছে, এরকম পাঁচটি শব্দ লেখো
উত্তর: বৃষ্টি, দৃষ্টি, স্পষ্ট, মিষ্টি, কষ্ট
৮. নীচের শব্দগুলোয় দুটো করে শব্দ লুকিয়ে আছে, আলাদা করে লেখো
(শব্দগুলি: গাছপালা, ছেলেবেলা, হাসিমুখ, লেখাজোকা)
উত্তর:
- গাছপালা = গাছ + পালা
- ছেলেবেলা = ছেলে + বেলা
- হাসিমুখ = হাসি + মুখ
- লেখাজোকা = লেখা + জোকা
৯. সাজিয়ে লেখো — লে ছে বে লা, রি কো চু লু
উত্তর:
- লে ছে বে লা → ছেলেবেলা
- রি কো চু লু → লুকোচুরি
১০. শূন্যস্থান পূরণ করো
১০.১ আকাশ ঘিরে __ জুটেছে।
উত্তর: আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে।
১০.২ বাদলা __ মনে পড়ে।
উত্তর: বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে।
১০.৩ মনে পড়ে __ আলো।
উত্তর: মনে পড়ে মিটি মিটি আলো।
১০.৪ ঘরেতে __ ছেলে।
উত্তর: ঘরেতে দুরন্ত ছেলে।
১০.৫ বাইরে কেবল __ শব্দ।
উত্তর: বাইরে কেবল জলের শব্দ।
১১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন
১১.১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
১১.২ কোন বইয়ের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান?
উত্তর: ‘Song Offerings’ বইয়ের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান।
১১.৩ ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতাটি তাঁর কোন কবিতার বই থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি প্রথমে তাঁর ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছিল, পরে কবি নিজেই তা পরিমার্জন করে ‘ছুটির পড়া’ সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করেন। পাঠ্যবইতে সেই ‘ছুটির পড়া’-র পাঠটিই নেওয়া হয়েছে।
১২. মাঠে বা নদীতে বৃষ্টি পড়ছে এমন একটি ছবি আঁকো ও রং করো
(এটা তোমার নিজের কল্পনায় ছবি আঁকার প্রশ্ন। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির ফোঁটা, নদীতে ঢেউ — এসব দৃশ্য কল্পনা করে নিজের মতো ছবি এঁকে ফেলো।)
১৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৩.১ বৃষ্টির দিনে কবির মনে কোন গান ভেসে আসে?
উত্তর: বৃষ্টির দিনে কবির মনে ছোটবেলায় মায়ের মুখে শোনা একটা পুরোনো গান ভেসে আসে — “বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান!”
১৩.২ বৃষ্টিতে নদীর এপার এবং ওপারের যে বর্ণনা কবি দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: কবির বর্ণনায় নদীর একপারে বৃষ্টি নেমেছে আর গাছপালা বৃষ্টির জলে ঝাপসা হয়ে গেছে, অন্যপারে মেঘের মাথায় বিদ্যুতের ঝলকানি যেন একশোটা মানিকের মতো জ্বলে উঠছে। এইভাবে নদীর দুই পারের দৃশ্যকে একে অপরের বিপরীতে সাজিয়ে কবি বৃষ্টির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৩.৩ ‘সেদিনও কি এমনিতরে, মেঘের ঘটাখানা’ — কোন দিনের কথা বলা হয়েছে? সেদিনের প্রকৃতির বর্ণনা দাও।
উত্তর: এখানে শিবঠাকুরের বিয়ের দিনের কথা বলা হয়েছে। কবির কল্পনায় সেদিনও আকাশে ছিল ঘন মেঘের ঘনঘটা, আর মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ চমকে উঠছিল।
১৩.৪ মেঘের খেলা কবির মনে কোন কোন স্মৃতি বয়ে আনে?
উত্তর: মেঘের খেলা দেখে কবির মনে পড়ে যায় ঘরের কোণে টিমটিমে আলোর কথা, দেয়ালে পড়া কালো কালো ছায়ার কথা, লুকোচুরি খেলার কথা, মায়ের হাসিমুখের কথা, আর অভিমানী কঙ্কাবতীর দুঃখের কথাও। সেইসাথে ছেলেবেলায় মায়ের মুখে শোনা “বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর” গানের স্মৃতিও কবির মনে ভেসে ওঠে।
শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| ঝাপসা | অস্পষ্ট |
| মানিক | চুনি, মূল্যবান রত্ন |
| বাদলা | মেঘলা |
| পল | মুহূর্ত |
| দৌরাত্ম্য | দুরন্তপনা |
আরও একটি গান পড়ো
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা নিয়ে “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর” ছাড়াও আরও অনেক গান লিখেছেন। তার মধ্যে “বাদল-বাউল” নামের গানটিও তোমাদের পাঠ্যবইতে দেওয়া আছে। এটাও একটা বর্ষার গান, যেখানে বাদল-বাউলের একতারার সুরে বৃষ্টির ঝরোঝরো ধারা আর প্রকৃতির নাচের ছন্দ ফুটে উঠেছে। এই গানটিও বই থেকে সুরে গাইবার চেষ্টা করো।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর প্রশ্ন উত্তর প্রশ্ন উত্তর PDF ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হয়েছে।
Filea Details:
- PDF Name: Bristi Pore Tapur Tupur Question Answer
- Language: Bengali
- Size: 705KB
- Total Pages: 05
Download Bristi Pore Tapur Tupur Kobita Question Answer PDF











