মায়াতরু কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF| Class 5 Mayatoru Question Answer PDF| Wbbse
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, তোমাদের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে অশোকবিজয় রাহার লেখা “মায়াতরু” কবিতাটি আছে। এই কবিতার শেষে থাকা প্রশ্নগুলোর সহজ ভাষায় উত্তর নিচে দেওয়া হলো। নিচে থেকে PDF-ও ডাউনলোড করে নিতে পারবে।
কবি পরিচিতি
অশোকবিজয় রাহা (১৯১০–১৯৯০) জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের শ্রীহট্টে। তিনি একাধারে কবি এবং প্রাবন্ধিক ছিলেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে ‘ভানুমতীর মাঠ’, ‘রুদ্রবসন্ত’, ‘ডিহংনদীর বাঁকে’, ‘জলডুম্বুর পাহাড়’, ‘রক্তসন্ধ্যা’, ‘উড়ো চিঠির ঝাঁক’। নদী, পাহাড় ও অরণ্যের প্রকৃতি ছিল তাঁর কবিতার মূল উপজীব্য বিষয়। এই “মায়াতরু” কবিতাটি তাঁর ‘ভানুমতীর মাঠ’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবিতার সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু
কবিতায় একটা গাছের কথা বলা হয়েছে, যে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করত বলে কবির মনে হয়েছে। সন্ধেবেলা অন্ধকারে গাছটাকে দেখলে মনে হত সে যেন দুহাত তুলে ভূতের মতো নাচছে। রাতে যখন বনের মাথায় চাঁদ উঠত, তখন গাছটাকে দেখে মনে হত সে যেন এক ভালুক, ঘাড় ফুলিয়ে গরগর করছে। বৃষ্টির পর যখন আবার চাঁদ হাসত, তখন গাছের পাতায় জমে থাকা জলের ফোঁটায় চাঁদের আলো পড়ে সেটাকে দেখাত যেন মুকুট পরা লক্ষ হীরার মাছের ঝাঁক। কিন্তু সকাল হতেই সব মায়া কেটে যেত, শুধু পড়ে থাকত ঝিকিমিকির আলোর একটা রুপালি ঝালর। এভাবেই গাছটার এই মায়াবী রূপ বদলের কারণে কবি তাকে “মায়াতরু” নাম দিয়েছেন।
মায়াতরু কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Class 5 Mayatoru Question Answer
হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১.১ তোমার চেনা এমন দুটি গাছের নাম লেখো অন্ধকারে যাদের দেখলে মনে হয় যেন মানুষের মতো হাত নেড়ে ডাকছে।
উত্তর: আমার চেনা এমন দুটি গাছ হলো তালগাছ ও কলাগাছ, যাদের লম্বা পাতাগুলো অন্ধকারে বাতাসে দুলতে থাকলে মনে হয় যেন কেউ হাত নেড়ে ডাকছে।
১.২ দুই বন্ধু আর ভাল্লুককে নিয়ে যে গল্পটি আছে তা তোমরা শুনেছ? যদি না শুনে থাকো, তাহলে শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে গল্পটি নিজের খাতায় লেখো।
উত্তর:
দুই বন্ধু ও ভালুক
দুই বন্ধু একসঙ্গে জঙ্গলের পথ দিয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ সামনে একটা ভালুক দেখা গেল। ভয় পেয়ে একজন বন্ধু কোনোমতে পাশের একটা গাছে চড়ে বসল, কিন্তু অন্যজন গাছে উঠতে না পেরে মাটিতে শুয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে মরার ভান করল, কারণ সে শুনেছিল ভালুক মরা মানুষকে ছোঁয় না। ভালুকটা কাছে এসে তাকে শুঁকে দেখে সত্যিই মরা ভেবে চলে গেল। ভালুক চলে যাওয়ার পর গাছ থেকে নেমে প্রথম বন্ধু জিজ্ঞেস করল, “ভালুক তোর কানে কানে কী বলে গেল?” দ্বিতীয় বন্ধু জবাব দিল, “ভালুক বলে গেল, বিপদের সময় যে বন্ধু ফেলে পালিয়ে যায়, তার সঙ্গে আর কখনো বন্ধুত্ব রাখতে নেই।”
১.৩ নানারকম রঙিন মাছ তুমি কোথায় দেখেছ?
উত্তর: আমি অ্যাকোয়ারিয়ামে এবং মেলায় বিক্রি হওয়া কাচের পাত্রে নানারকম রঙিন মাছ দেখেছি।
১.৪ ভোরের আলো তোমার কেমন লাগে? তখন তোমার কোথায় যেতে ইচ্ছে করে?
উত্তর: ভোরের আলো আমার কাছে খুব শান্ত ও স্নিগ্ধ লাগে। তখন আমার বাড়ির ছাদে বা কাছের মাঠে গিয়ে ঠান্ডা বাতাসে হাঁটতে ইচ্ছে করে।
১.৫ আলোয় এবং অন্ধকারে একই গাছের দুরকম চেহারা তোমার চোখে কীভাবে ধরা পড়ে?
উত্তর: দিনের আলোয় গাছটাকে সাধারণ ডালপালাওয়ালা একটা গাছ বলেই মনে হয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই একই গাছের ছায়া দেখলে মনে হয় যেন কোনো বিশাল হাত-পাওয়ালা প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে।
২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো
উত্তর:
| ক | খ |
|---|---|
| গাছ | বৃক্ষ |
| বন | অরণ্য |
| ভূত | অশরীরী |
| ঝালর | পর্দা |
| কম্প | কাঁপুনি |
৩. কবিতা অবলম্বনে শূন্যস্থান পূরণ করো
৩.১ এক যে ছিল __।
উত্তর: এক যে ছিল গাছ।
৩.২ বিষ্টি হলেই আসত _ কম্প দিয়ে _।
উত্তর: বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
৩.৩ _ হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ _ মাছ।
উত্তর: মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
৩.৪ _ পশলার _।
উত্তর: এক পশলার শেষে।
৩.৫ বনের মাথায় ঝিলিক মেরে _ উঠত যখন, ভালুক হয়ে ঘাড় করত সে _।
উত্তর: বনের মাথায় ঝিলিক মেরে চাঁদ উঠত যখন, ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গর্গর্।
৪. কবিতাটি অবলম্বনে একটি গল্প তৈরি করো
উত্তর: আমাদের পাড়ার মোড়ে একটা পুরোনো গাছ ছিল। সন্ধে নামলেই অন্ধকারে সেই গাছটাকে দেখলে মনে হত যেন কেউ দুহাত তুলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচছে। আবার রাতে যখন বনের মাথায় গোল চাঁদ উঠত, তখন সেই একই গাছটাকে দেখে মনে হত যেন এক ভালুক ঘাড় ফুলিয়ে গরগর করছে। যখন বৃষ্টি শেষ হয়ে যেত আর আকাশে আবার চাঁদ হাসত, তখন গাছের পাতায় জমে থাকা জলবিন্দুতে চাঁদের আলো পড়ে মনে হত যেন মুকুট পরা লক্ষ হীরার মাছ ঝাঁক বেঁধে বসে আছে। ভোরবেলায় গাছটা আরও কত অদ্ভুত রূপ ধরত তা বলে শেষ করা যায় না। আর যখন সকাল হয়ে যেত, তখন সব মায়া কেটে যেত, শুধু দেখা যেত ঝিকিমিকির আলোর একটা রুপালি ঝালর পড়ে আছে।
৫. শব্দগুলির অর্থ লিখে তা দিয়ে বাক্য রচনা করো — ঝাঁক, ঝিলিক, ঘাড়, মুকুট, ঝিকিমিকির
উত্তর:
- ঝাঁক (দল) — আকাশে একঝাঁক শালিক পাখি উড়ে গেল।
- ঝিলিক (ক্ষণিকের তীব্র আলো) — মেঘের ফাঁকে বিদ্যুতের ঝিলিক দেখা গেল।
- ঘাড় (কণ্ঠের পিছনের অংশ) — সারাদিন বই পড়ে তার ঘাড় ব্যথা হয়ে গেছে।
- মুকুট (মাথার অলংকার) — রাজার মাথায় সোনার মুকুট শোভা পাচ্ছিল।
- ঝিকিমিকির (ঝিকিমিকি) — সন্ধেবেলা আকাশে তারাদের ঝিকিমিকির দেখতে ভারী সুন্দর লাগে।
৬. কোনটি কী জাতীয় শব্দ, শব্দঝুড়ি থেকে বেছে নিয়ে আলাদা করে লেখো
(শব্দগুলি: গাছ, যে, বা, রূপালি, জুড়ত, তুলে, হয়ে, ঝিকিমিকির, লক্ষ, সে, কম্প, জ্বর)
উত্তর:
| বিশেষ্য | বিশেষণ | সর্বনাম | অব্যয় | ক্রিয়া |
|---|---|---|---|---|
| গাছ, জ্বর, কম্প | রূপালি, ঝিকিমিকির, লক্ষ | যে, সে | বা | জুড়ত, তুলে, হয়ে |
৭. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো — সন্ধে, হঠাৎ, শেষে, হেসে, আলো
উত্তর:
- সন্ধে — সকাল
- হঠাৎ — ধীরে ধীরে
- শেষে — শুরুতে
- হেসে — কেঁদে
- আলো — অন্ধকার
৮. সমার্থক শব্দ লেখো — গাছ, ভূত, বন, বিষ্টি, মাছ, চাঁদ
উত্তর:
- গাছ — বৃক্ষ, তরু
- ভূত — অশরীরী, প্রেতাত্মা
- বন — অরণ্য, কানন
- বিষ্টি — বৃষ্টি, বর্ষণ
- মাছ — মৎস্য, মীন
- চাঁদ — চন্দ্র, শশী
৯. প্রতিটি বাক্য ভেঙে আলাদা দুটি বাক্যে লেখো
৯.১ এক যে ছিল গাছ, সন্ধে হলেই দুহাত তুলে জুড়ত ভূতের নাচ।
উত্তর: একটা গাছ ছিল। সন্ধে হলেই সে দুহাত তুলে ভূতের মতো নাচতে শুরু করত।
৯.২ বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
উত্তর: বৃষ্টি হত। বৃষ্টির পর কম্প দিয়ে জ্বর আসত।
৯.৩ সকাল হল যেই, একটিও মাছ নেই।
উত্তর: সকাল হয়ে গেল। তখন আর একটাও মাছ দেখা যেত না।
৯.৪ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
উত্তর: লক্ষ হীরার মাছ ছিল। তারা ঝাঁক বেঁধে মুকুটের মতো দেখাত।
৯.৫ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গর্গর্।
উত্তর: গাছটা ভালুক হয়ে যেত। তখন সে ঘাড় ফুলিয়ে গর্গর্ শব্দ করত।
১০. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো
র্ গ র্ গ; ট কু মু; ব আ য়া ছা; র কি মি ঝি র কি; র বে ভো লা
উত্তর:
- র্ গ র্ গ → গর্গর্
- ট কু মু → মুকুট
- ব আ য়া ছা → আবছায়া
- র কি মি ঝি র কি → ঝিকিমিকির
- র বে ভো লা → ভোরবেলা
১১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন
১১.১ কবি অশোকবিজয় রাহার দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: কবি অশোকবিজয় রাহার দুটি বই — ‘ভানুমতীর মাঠ’ ও ‘রুদ্রবসন্ত’।
১১.২ তাঁর কবিতা রচনার প্রধান বিষয়টি কী ছিল?
উত্তর: তাঁর কবিতা রচনার প্রধান বিষয় ছিল নদী, পাহাড় ও অরণ্যপ্রকৃতি।
১১.৩ ‘মায়াতরু’ কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘মায়াতরু’ কবিতাটি তাঁর ‘ভানুমতীর মাঠ’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
১২. দিনের কোন সময়ে কোন ঘটনাটি ঘটছে পাশে পাশে লেখো। খাতায় ছবি আঁকো
১২.১ দুহাত তুলে জুড়ত ভূতের নাচ __।
উত্তর: দুহাত তুলে জুড়ত ভূতের নাচ সন্ধেবেলা।
১২.২ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত যে গর্গর্ __।
উত্তর: ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত যে গর্গর্ রাতেরবেলা।
১২.৩ কেবল দেখি পড়ে আছে ঝিকিমিকির আলোর রূপালি এক ঝালর __।
উত্তর: কেবল দেখি পড়ে আছে ঝিকিমিকির আলোর রূপালি এক ঝালর সকালবেলা।
(ছবি আঁকার অংশটা তোমার নিজের কল্পনায় সন্ধে, রাত ও সকালের তিনটে আলাদা দৃশ্য এঁকে দেখাও।)
১৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৩.১ ‘মায়াতরু’ শব্দটির অর্থ কী? কবিতায় গাছকে ‘মায়াতরু’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: ‘মায়াতরু’ শব্দের অর্থ মায়াবী গাছ। কবিতায় গাছটাকে ‘মায়াতরু’ বলা হয়েছে, কারণ সে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অলৌকিক রূপ ধারণ করত — কখনো ভূতের মতো নাচত, কখনো ভালুকের মতো গর্গর্ করত, আবার কখনো হীরার মাছের ঝাঁকের মতো ঝলমল করত। এই মায়াবী রূপ বদলের জন্যই তাকে “মায়াতরু” নাম দেওয়া হয়েছে।
১৩.২ শব্দের শুরুতে ‘মায়া’ যোগ করে পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করো। একটি করে দেওয়া হল — মায়াজাল।
উত্তর: মায়াবী, মায়াময়, মায়াকান্না, মায়াবতী, মায়াডোর।
১৩.৩ ভূতের আর গাছের প্রসঙ্গ রয়েছে এমন কোন গল্প তুমি পড়েছ? পাঁচটি বাক্যে সেই গল্পটি লেখো।
(এটা তোমার নিজের পড়া কোনো গল্প থেকে লেখার প্রশ্ন। তুমি যদি এমন কোনো গল্প পড়ে থাকো বা শুনে থাকো, তা পাঁচটি বাক্যে নিজের ভাষায় লিখে ফেলো।)
১৩.৪ দিনের বিভিন্ন সময়ে কবি গাছকে কোন কোন রূপে দেখেছেন?
উত্তর: সন্ধেবেলায় কবি গাছটাকে দেখেছেন যেন দুহাত তুলে ভূতের নাচ নাচছে। রাতে চাঁদ উঠলে গাছটাকে মনে হয়েছে যেন এক ভালুক, ঘাড় ফুলিয়ে গর্গর্ করছে। বৃষ্টির এক পশলার পর যখন আবার চাঁদ হাসত, তখন গাছটাকে মনে হয়েছে যেন মুকুট পরা লক্ষ হীরার মাছের ঝাঁক। আর সকাল হলে সব মায়া মিলিয়ে গিয়ে শুধু একটা ঝিকিমিকির রুপালি আলোর ঝালর পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
১৪. যে গাছটিকে দেখে তোমার মনেও অনেক কল্পনা ভিড় জমায়, তার একটি ছবি আঁকো, সেই গাছটি সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখো
(এটা তোমার নিজের কল্পনায় ছবি আঁকা ও লেখার প্রশ্ন। তোমার চেনা কোনো গাছের কথা মনে করো, যেটা দেখলে তোমার মনেও নানারকম কল্পনা আসে, আর সেই অনুভূতিটা পাঁচটি বাক্যে নিজের ভাষায় লিখে ফেলো।)
শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| পশলা | একবারের বৃষ্টি |
| কম্প | কাঁপুনি |
| ঝিকিমিকির | ঝিকিমিকি |
| ঝিলিক | তীব্র কিন্তু অল্পক্ষণ স্থায়ী আলোর ছটা, চমক |
| আবছায়া | আবছা/অস্পষ্ট ছায়ার মতো |
| ঝালর | যা ঝলমল করে ঝুলতে থাকে |
মায়াতরু কবিতার প্রশ্ন উত্তর প্রশ্ন উত্তর PDF ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হয়েছে।
Filea Details:
- PDF Name: Mayatoru Question Answer
- Language: Bengali
- Size: 690KB
- Total Pages: 04











