ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইয়ের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলন, এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সশস্ত্র বিপ্লব আন্দোলন — এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
চেম্পাকারমান পিল্লাইয়ের বিখ্যাত স্লোগান “জয় হিন্দ” থেকে ভগৎ সিংয়ের “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” পর্যন্ত — এই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা সবসময় সাহস দেখিয়েছেন এবং ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
ক্লাস ৫-এর ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস বুঝতে এবং জাতীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে গর্ববোধ তৈরি করতে সাহায্য করে। নিচে ভগৎ সিং, নেতাজি ও গান্ধীজিসহ অন্যান্য বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো।
আরও পড়ুন:
ক্লাস ৫-এর জন্য ১০টি স্বাধীনতা সংগ্রামী বিষয়ক জিকে প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১। “জয় হিন্দ” বিখ্যাত স্লোগানটি কে দিয়েছিলেন?
ক) মহাত্মা গান্ধী
খ) চেম্পাকারমান পিল্লাই
গ) সুভাষচন্দ্র বসু
ঘ) মঙ্গল পাণ্ডে
সঠিক উত্তর: খ) চেম্পাকারমান পিল্লাই
প্রশ্ন ২। মহাত্মা গান্ধীকে “জাতির জনক” উপাধি কে দিয়েছিলেন?
ক) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
খ) জওহরলাল নেহরু
গ) সুভাষচন্দ্র বসু
ঘ) ক্ষুদিরাম বসু
সঠিক উত্তর: গ) সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা: ১৯৪৪ সালে একটি বেতার ভাষণে সুভাষচন্দ্র বসুই প্রথম মহাত্মা গান্ধীকে “জাতির জনক” (Father of the Nation) নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৩। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির কোন রেজিমেন্টের সঙ্গে মঙ্গল পাণ্ডে যুক্ত ছিলেন?
ক) বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির ২২তম রেজিমেন্ট
খ) বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির ৩৪তম রেজিমেন্ট
গ) বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির ৩৭তম রেজিমেন্ট
ঘ) বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির ১৭তম রেজিমেন্ট
সঠিক উত্তর: খ) বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির ৩৪তম রেজিমেন্ট
প্রশ্ন ৪। কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রথম “ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি” (আজাদ হিন্দ ফৌজ) গঠন করেছিলেন?
ক) মোহন সিং
খ) সুভাষচন্দ্র বসু
গ) রাসবিহারী বসু
ঘ) ভগৎ সিং
সঠিক উত্তর: ক) মোহন সিং
ব্যাখ্যা: ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আজাদ হিন্দ ফৌজ) প্রথমে মোহন সিং গঠন করেন, পরে সুভাষচন্দ্র বসু এর নেতৃত্ব গ্রহণ করে একে নতুনভাবে সংগঠিত করেন।
প্রশ্ন ৫। মঙ্গল পাণ্ডে কোন ঐতিহাসিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
ক) সল্ট মার্চ (লবণ সত্যাগ্রহ)
খ) ডান্ডি মার্চ
গ) জালিয়ানওয়ালাবাগ প্রতিবাদ
ঘ) ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: ঘ) ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ
প্রশ্ন ৬। “ভারতের নাইটিঙ্গেল” নামে কে পরিচিত?
ক) সুচেতা কৃপালনী
খ) অ্যানি বেসান্ত
গ) সরোজিনী নাইডু
ঘ) অরুণা আসফ আলি
সঠিক উত্তর: গ) সরোজিনী নাইডু
প্রশ্ন ৭। “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” — এই বিখ্যাত স্লোগানটি কে দিয়েছিলেন?
ক) মহাত্মা গান্ধী
খ) সুভাষচন্দ্র বসু
গ) বাল গঙ্গাধর তিলক
ঘ) ভগৎ সিং
সঠিক উত্তর: খ) সুভাষচন্দ্র বসু
প্রশ্ন ৮। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাইয়ের শৈশবের নাম কী ছিল?
ক) অন্নু
খ) মনু
গ) সিব্বু
ঘ) কান্নু
সঠিক উত্তর: খ) মনু
প্রশ্ন ৯। “ভারতের লৌহ মানব” (Iron Man of India) নামে কে পরিচিত?
ক) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
খ) গোপালকৃষ্ণ গোখলে
গ) জওহরলাল নেহরু
ঘ) দাদাভাই নওরোজি
সঠিক উত্তর: ক) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
প্রশ্ন ১০। কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী জনপ্রিয়ভাবে “শহীদ-এ-আজম” নামে পরিচিত?
ক) মঙ্গল পাণ্ডে
খ) সুখদেব
গ) চন্দ্রশেখর আজাদ
ঘ) ভগৎ সিং
সঠিক উত্তর: ঘ) ভগৎ সিং
ব্যাখ্যা: মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফাঁসিতে শহীদ হওয়া ভগৎ সিংকে “শহীদ-এ-আজম” (সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ) নামে সম্মান জানানো হয়।
উপসংহার
এই ১০টি প্রশ্নের মাধ্যমে ক্লাস ৫-এর ছাত্রছাত্রীরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে সহজেই ধারণা পেতে পারে। স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্নোত্তরের জন্য দেখে নিন আমাদের ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২) সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য যাচাই করে সংশোধন করা হয়েছে যাতে ছাত্রছাত্রীরা সঠিক তথ্য পায়।











