শবে বরাতের বা শবে কদরের নামাজের নিয়ম কানুন | বাংলা নামাজের নিয়ত, ইবাদত, ফজীলত, গুরুত্বপূর্ন আমল।

শবে বরাতের বা শবে কদরের নামাজের নিয়ম কানুন | বাংলা নামাজের নিয়ত, ইবাদত, ফজীলত, গুরুত্বপূর্ন আমল।

প্রকৃত অর্থে শবে বরাতের নামাজ বলে আলাদা কিছু নেই, যেহেতু এই রাতটি ইবাদত বন্দেগী করে কাটাতে হবে তাই হাদিসেই এই সমাধান দেয়া হয়েছে। আর বিশ্ব মুসলিম এই বিশেষ কিছু ইবাদত পালন করে থাকেন। হাদিসের আলোকে আমী সেগুলোর কথাই নিম্নে উল্লেখ করছি:

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত:

বলা হয়ে থাকে- নিয়তেই বরকত। আপনি যে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়েছেন মনে মনে সেই সিদ্ধান্ত পাকা করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে। আরবি, বাংলা যে কোন ভাষাতেই নিয়ত করতে পারেন। বাংলায় নিয়ত করলে এভাবে করতে পারেন: ‘শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ/ সালাত কিবলামুখী হয়ে পড়ছি, আল্লাহু আকবর’।

শবে বরাতের সন্ধ্যায়:

এই রাতে মাগরিব নামাজের পর হায়াতের বরকত, ঈমানের হেফাযত এবং অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়ার জন্য দু রকাত করে মোট ৬ রকাত নফল নামায পড়া উত্তম।

 ৬ রাকাত নফল নামাজের নিয়ম:

প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহা এরপর যে কোন একটি সূরা পড়তে হবে। দু রকাত নামায শেষে করে সূরা ইয়াছিন বা সূরা ইফলাছ শরীফ ২১ বার তিলায়াত করতে হবে।

শবে বরাতের নফল নামাজ:

১। দুই রকাত তহিয়াতুল অযুর নামায।

নিয়মঃ প্রতি রকাতে আল হামদুলিল্লাহ ( সূরা ফাতিহা) পড়ার পর , ১ বার আয়াতুল কুরসী এবং তিন বার ক্বুলহু আল্লাহ শরীফ ( সূরা এখলাছ) ।

শবে বরাতের ফজিলত :

প্রতি ফোটা পানির বদলে সাতশত নেকী লিখা হবে।

২। দুই রকাত নফল নামায:

নিয়মঃ ১নং নামাযের মত, প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর, ১ বার আয়াতুল কুরসী এবং ১৫ বার করে সূরা এখলাছ শরীফ, অতপর সালাম ফিরানোর পর ১২ বার দুরূদ শরীফ।

শবে বরাতের দুই রকাত নফল নামায ফজিলত:

রুজিতে রবকত, দুঃখ-কষ্ট হতে মুক্তি লাভ করবে, গুনাহ হতে মাগফিরাতের বখসিস পাওয়া যাবে।

৩। ৮ রকাত নফল নামায , দু রকাত করে পড়তে হবে।

নিয়মঃ প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর , সূরা এখলাছ ৫ বার করে। একই নিয়মে বাকি সব।

শবে বরাতের ৮ রকাত নফল নামাযের ফজীলত:

গুনাহ থেকে পাক হবে , দু’আ কবুল হবে এবং বেশী বেশী নেকী পাওয়া যাবে।

৪। ১২ রকাত নফল নামায , দু রকাত করে।

শবে বরাতের ১২ রকাত নফল নিয়ম :

প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর, ১০ বার সূরা এখলাছ এবং এই নিয়মে বাকি নামায শেষ করে , ১০ বার কলমা তওহীদ, ১০ বার কলমা তামজীদ এবং ১০ বার দুরূদ শরীফ।

৫। ১৪ রকাত নফল নামায, দু রকাত করে।

শবে বরাতের ১৪ রকাত নফল নিয়ম :

প্রতি রকাত সূরা ফাতিহার পর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। ফযীলতঃ যে কোন দু’আ চাইলে তা কবুল হবে।

৬। চার রকাত নফল নামায, ১ সালামে পড়তে হবে।

শবে বরাতের চার রকাত নফল নামায নিয়ম:

প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহা পর ৫০ বার সূরা এখলাছ শরীফ। ফযীলতঃ গুনাহ থেকে এমনভাবে পাক হবে যে সদ্য মায়ের গর্ভ হতে ভুমিষ্ঠ হয়েছে।

৭। ৮ রকাত নফল নামায, ১ সালামে।

 শবে বরাতের ৮ রকাত নফল নামাযের নিয়ম:

প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর ১১ বার সূরা এখলাছ শরীফ।

শবে বরাতের গুরুত্ত্বপুর্ন আমল:

হযরত আলা ইবনে হারিস ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়িশা ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা ) বলেন, একবার রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হয় তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা বা ও হুমাইরা! তোমার কি এ আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, তা নয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা দেখে আমার আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যু বরণ করেছেন কিনা। নবীজী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) ভাল জানেন। রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বললেন, এটা হল অর্ধ শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানে তাঁর বান্দাদের প্রতি নজর দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। ( বায়হাকী, ৩য় খন্ড-৩৮২পৃ )

এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ পড়া উত্তম, যাতে সিজদাও দীর্ঘ হবে। এছাড়াও এ রাতে কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার ইত্যাদি আমল করা যায়।

শবে বরাতের অর্থ:

শব’ ফারসি শব্দ। অর্থ রাত বা রজনী। বরাত শব্দটিও মূলে ফারসি। অর্থ ভাগ্য। দু’শব্দের একত্রে অর্থ হবে, ভাগ্য-রজনী। বরাত শব্দটি আরবি ভেবে অনেকেই ভুল করে থাকেন। কারণ ‘বরাত’ বলতে আরবি ভাষায় কোন শব্দ নেই।

যদি বরাত শব্দটি আরবি বারা’আত শব্দের অপভ্রংশ ধরা হয় তবে তার অর্থ হবে— সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুক্তিকরণ। কিন্তু কয়েকটি কারণে এ অর্থটি এখানে অগ্রাহ্য, মেনে নেয়া যায় না- *.১. আগের শব্দটি ফারসি হওয়ায় ‘বরাত’ শব্দটিও ফারসি হবে, এটাই স্বাভাবিক

*.২. শা’বানের মধ্যরজনীকে আরবি ভাষার দীর্ঘ পরম্পরায় কেউই বারা’আতের রাত্রি হিসাবে আখ্যা দেননি।

*.৩. রমযান মাসের লাইলাতুল ক্বাদরকে কেউ-কেউ লাইলাতুল বারা’আত হিসাবে নামকরণ করেছেন, শা‘বানের মধ্য রাত্রিকে নয়।

 

বর্জ্য পদার্থ থেকে কী কী সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে? অথবা বর্জ্য পদার্থের প্রকারভেদগুলি কী কী?

দৈনন্দিন জীবনে আমরা বর্জ্য নামটা শুনে এসেছি তাই বর্জ্য কাকে বলে আমরা সবাই জানি যে দৈনন্দিন জীবনের অপ্রয়োজনীয় বা অব্যবহৃত জিনিসগুলিকে বর্জ্য বা বর্জ্য পদার্থ  বলে। যেমন– প্লাস্টিক প্যাকেট, দূষিত জিনিস, কাপড়দব্য,চুল, মল মূত্র, জীবজন্তুর মরার হাড় ইত্যাদি। আর বর্জ্য পদার্থ হল একই। বর্জ্য পদার্থ থেকে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে সেই বর্জ্য পদার্থের প্রকারভেদ … Read more

ভারতে কীভাবে অরণ্য সংরক্ষণ করা যায় ? অথবা ভারতের অরণ্য সংরক্ষণের উপায়গুলি কী কী?

ভারতে কিভাবে অরণ্য সংরক্ষণ করা হয়? ভারতের অরণ্য সংরক্ষণের উপায়গুলি কী কী?

  2013 সালে ভারতে বনাবৃত ভূমির পরিমাণ ছিল 21.23 শতাংশ। এ ছাড়া মোট উদ্ভিদ আচ্ছাদনের পরিমাণ ছিল 24.01 শতাংশ ( Indian State of Forest Report (13)। অথচ সমগ্র ভূমির আয়তনের 33 শতাংশ বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। ভারতের অরন্য সংরক্ষণ আইন চালু হয় ২১ শে মার্চ ১৯২৭ সালে এর সাথে জাতীয় অরণ্য সপ্তাহও পালিত হয় ৮–১৪ জুলাই। … Read more

ভারতে বনভূমি সংরক্ষণ প্রয়োজনীয় কেন? অথবা, ভারতে বনভূমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন?

ভারতে বনভূমি সংরক্ষণ প্রয়োজনীয় কেন? বা ভারতে বনভূমি সংরক্ষণ

ভারতে বনভূমি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অরণ্যের বা বনভূমির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে দেশের মোট ভৌগোলিক আয়তনের শতকরা মাত্র  ভারতের বনভূমির পরিমাণ 21.02 ভাগ (2021) স্থানে বনভূমি আছে তারমধ্যে ভারতের সবচেয়ে কম বনভূমি দেখা যায় হরিয়ানা রাজ্য এবং সবচেয়ে বেশি বনভূমি দেখা যায় মধ্যপ্রদেশ। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ … Read more

উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন – ভূমিরূপ প্রক্রিয়া (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | HS Geography suggestions 2022 Question and Answer : 

উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন – ভূমিরূপ প্রক্রিয়া (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | HS Geography suggestions 2022 Question and Answer :  Dear students, HS Geography Suggestion for 2022 important questions উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন ২০২২ : পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজি পরীক্ষার সাজেশন ২০২২ (West Bengal Higher Secondary education Class 12th English Suggestion for 2022) … Read more

হযরত বিলাল (রা) এর জীবনী

হযরত বিলাল (রা) এর জীবনী জন্ম ও প্রাথমিক জীবন বিলাল ইবনে রাবাহ ৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে হেজাজের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। বিলাল ইবনে রাবাহ ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সা.)এর একজন ঘনিষ্ঠ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবী। তার পিতা রাবাহ ছিলেন একজন আরব দাস এবং তার মাতা হামামাহ ছিলেন একজন প্রাক্তন আবিসিনিয় রাজকুমারী যাকে আমুল-ফিল এর ঘটনার সময় আটক করে দাসী করে … Read more

হযরত খাদিজা (রা:) এর জীবনী

হযরত খাদিজা (রা:) (খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ‎;আনু. (৫৫৫ – ৬২০) ভূমিকা: আমরা এমন এক নারী সম্পর্কে জানব, যিনি ইসলামের নারীদের মধ্যে একজন মহিয়সী নারী। যিনি শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন, যিনি প্রথম মুসলমান নারী, যিনি নবী করিম (সা.) এর ভাল স্ত্রী, তিনি ছিলেন সবদিক থেকে উচ্চপদস্থ,দয়াময়ী, খোদাপ্রিয়,দানশীল এবং বেহেস্তের ফুল হযরত ফাতেমা যাহরা (আ.) এর প্রিয় মাতা। যার … Read more

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও তার ফলাফল অথবা, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুফল ও কুফল।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লর্ড কর্নওয়ালিশ ভারতে স্বল্পমেয়াদি বন্দোবস্তের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের প্রস্তাব রাখেন। ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করলে, ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২২ মার্চ বাংলায় দশসালা বন্দোবস্তের পরিবর্তিত রূপ হিসেবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত অনুসারে স্থির হয়, সর্বোচ্চ নিলামদাতাকে বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। জমিদাররা নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে বংশানুক্রমে জমি ভোগদখল করবেন। … Read more

ফরাজি আন্দোলনের প্রকৃতি আলোচনা করো।

ফরাজি আন্দোলনের প্রকৃতি উত্তর:  > ভূমিকা : ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বাংলায় ফরাজি আন্দোলন নামে এক মুসলিম সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় । প্রথমদিকে ধর্মসংস্কার আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও ক্রমেই তা কৃষক আন্দালনে পরিণত হয় । প্রকৃতি : এই আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে । এগুলি হল— ১. ধর্মীয় আন্দোলন : এটি ছিল ইসলামের … Read more

Verb কাকে বলে ? verb কয় প্রকার ও কি কি? ক্রিয়া কাকে বলে ? এবং ক্রিয়া কত প্রকার ও কি কি?

 verb এর সংজ্ঞা (Definition of verb): যে শব্দ দ্বারা কোন প্রকার কাজ করা/হওয়া বুঝায় তাকেই Verb বলে। যেমন, go, eat, sleep, buy, sell, walk, run, see, play, write, give etc. Type of verb 1. Finite Verb 2. Principle verb 3.Transitive Verb 4. Intransitive verb 5. Auxiliary Verb 6. Infinitive 1. Finite Verb (সমাপিকা ক্রিয়া):- যে … Read more