ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা। তাঁকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্ন প্রায়ই WBCS, WBP, SSC, রেলওয়ে, প্রাইমারি টেট সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় জিজ্ঞাসা করা হয়। এই প্রতিবেদনে তাঁর জীবন, নেতৃত্ব, বিখ্যাত রচনা এবং চাচা নেহরু হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর আলোচনা করা হলো।
আরও পড়ুন: ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): গুরুত্বপূর্ণ জিকে প্রশ্ন ও উত্তর
জওহরলাল নেহরু কে ছিলেন
জওহরলাল নেহরুর জন্ম হয় ১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর এলাহাবাদে, একটি অত্যন্ত সম্পন্ন কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারে। তাঁর পিতা মতিলাল নেহরু ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামেও সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। ছোটবেলায় জওহরলালকে হ্যারো ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অভিজাত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়েছিল, যাতে তিনি বাবার মতোই আইনজীবী হয়ে উঠতে পারেন।
কিন্তু ১৯১২ সালে দেশে ফিরে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে সাধারণ ভারতীয়দের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেন। এরপর তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন ত্যাগ করে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। প্রতিবাদের কারণে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ৯ বার কারাবন্দি করেছিল, এবং তিনি মোট ৩,০০০ দিনেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়েছেন।
প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অবদান
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর নেহরু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেই সময় ভারত অত্যন্ত দরিদ্র ছিল এবং রাস্তা, স্কুল, শিল্পকারখানার প্রবল প্রয়োজন ছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানগুলি হলো:
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার: দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে বিজ্ঞানে গভীর বিশ্বাস রাখতেন নেহরু। ভারতের প্রথম আইআইটি (IIT) প্রতিষ্ঠা ও মহাকাশ কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ: ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধের মতো আধুনিক বাঁধগুলিকে তিনি সবসময় “আধুনিক ভারতের মন্দির” বলে অভিহিত করতেন, কারণ এগুলি কৃষিকাজের জন্য জল ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।
- লেখক সত্তা: ব্রিটিশ কারাগারে বন্দি থাকাকালীন তিনি কলম ও কাগজে লিখেছিলেন বিখ্যাত বই ‘দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি’।
- জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM): স্নায়ুযুদ্ধের সময় বিশ্ব শান্তির স্বার্থে তিনি নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।
জওহরলাল নেহরু সম্পর্কিত জিকে প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১। জওহরলাল নেহরুর জন্মবার্ষিকী স্মরণে প্রতি বছর ভারতে কোন তারিখে শিশু দিবস পালিত হয়?
ক) ২ অক্টোবর
খ) ১৪ নভেম্বর
গ) ২৫ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর: খ) ১৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা: পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কারণে তিনি “চাচা নেহরু” নামে পরিচিত ছিলেন, তাই তাঁর জন্মদিনটি ভারতে শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।
প্রশ্ন ২। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে আহমেদনগর দুর্গের কারাগারে বন্দি থাকাকালীন নেহরু কোন বিখ্যাত বইটি রচনা করেছিলেন?
ক) দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া
খ) মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ
গ) আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর: ক) দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া
ব্যাখ্যা: ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ব্রিটিশদের হাতে বন্দি থাকাকালীন নেহরু এই বইটি রচনা করেন। বইটিতে প্রাচীনকাল থেকে ব্রিটিশ শাসনকাল পর্যন্ত ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দর্শন নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রশ্ন ৩। জওহরলাল নেহরুর পিতা, যিনি নিজেও একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন, তাঁর নাম কী?
ক) চিত্তরঞ্জন দাশ
খ) মতিলাল নেহরু
গ) লালা লাজপত রায়
সঠিক উত্তর: খ) মতিলাল নেহরু
ব্যাখ্যা: তিনি ছিলেন এলাহাবাদের সফল আইনজীবী মতিলাল নেহরুর পুত্র, যিনি বিলাসিতা ত্যাগ করে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। মতিলাল নেহরু দু’বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতিও হয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৪। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্টের মধ্যরাতে, ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় জওহরলাল নেহরু একটি বিশ্ববিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ভাষণটির নাম কী?
ক) ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি
খ) গিভ মি লিবার্টি
গ) কুইট ইন্ডিয়া স্পিচ
সঠিক উত্তর: ক) ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি (Tryst with Destiny)
ব্যাখ্যা: মধ্যরাতে ভারত স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই নেহরু এই বিখ্যাত ভাষণটি দেন, যা “Tryst with Destiny” নামে পরিচিত এবং একে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ৫। ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর পর নয়াদিল্লিতে যে স্মারক স্থলে (সমাধি) জওহরলাল নেহরুর সৎকার করা হয়েছিল, তার নাম কী?
ক) রাজঘাট
খ) শান্তিবন
গ) বিজয়ঘাট
সঠিক উত্তর: খ) শান্তিবন
ব্যাখ্যা: জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুদিবস ১৯৬৪ সালের ২৭ মে। নয়াদিল্লিতে তাঁর স্মৃতিসৌধটির নাম “শান্তিবন”, যার অর্থ ‘শান্তির বন’। জায়গাটির চারপাশে অসংখ্য সবুজ গাছপালা রয়েছে।
প্রশ্ন ৬। ১৯২৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোন ঐতিহাসিক অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে “পূর্ণ স্বরাজ” (সম্পূর্ণ স্বাধীনতা)-কে মূল লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
ক) লাহোর অধিবেশন
খ) সুরাট অধিবেশন
গ) বেলগাঁও অধিবেশন
সঠিক উত্তর: ক) লাহোর অধিবেশন
ব্যাখ্যা: ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে লাহোরে কংগ্রেস দলের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তৎকালীন তরুণ নেতা জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে পূর্ণ স্বরাজ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
প্রশ্ন ৭। জওহরলাল নেহরুর একমাত্র কন্যা, যিনি পরবর্তীতে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তাঁর নাম কী?
ক) সরোজিনী নাইডু
খ) ইন্দিরা গান্ধী
গ) বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত
সঠিক উত্তর: খ) ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা: ১৯১৬ সালে জওহরলাল নেহরু কমলা কৌলকে বিবাহ করেন এবং তাঁদের একমাত্র সন্তানের নাম রাখা হয় ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী, যিনি পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী নামে পরিচিত হন। শৈশব থেকেই বাবার রাজনীতির প্রভাবে বেড়ে ওঠা ইন্দিরা গান্ধী শেষপর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।
উপসংহার
জওহরলাল নেহরু শুধু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, বরং আধুনিক ভারত গড়ে তোলার এক অন্যতম স্থপতিও ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরের জন্য দেখে নিন আমাদের ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২) সংক্রান্ত জিকে প্রশ্নোত্তর প্রতিবেদনটি।











![[PDF] WB Police Constable Previous Year Question Papers | Preliminary & Main (2013-Present) WB Police Constable Previous Year Question Papers](https://kalikolom.com/wp-content/uploads/2025/05/wbp_banner.webp)