CJI সূর্যকান্তের “তেলাপোকা” মন্তব্য থেকে জন্ম নেওয়া Cockroach Janta Party মাত্র ৭২ ঘণ্টায় পেয়েছে 2.5 লাখ+ সদস্য। কে বানিয়েছে, ম্যানিফেস্টো কী, কীভাবে যোগ দেবেন — সব বাংলায়।
ভূমিকা — একটি মন্তব্য, একটি বিস্ফোরণ
২০২৬ সালে ভারতের ইন্টারনেটে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত — Cockroach Janta Party (CJP)। কোনো র্যালি নেই, বিজ্ঞাপন নেই, নেতার মিছিল নেই — তবুও মাত্র ৭২ ঘণ্টায় ১ লাখেরও বেশি মানুষ এই স্যাটায়ার রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। এটি শুধু একটি মিম নয় — এর পেছনে আছে কোটি তরুণের চাপা কষ্ট ও ক্ষোভ।
কীভাবে শুরু হলো? — উৎপত্তির গল্প
সবকিছু শুরু হয় ১৫ মে, ২০২৬-এ। সুপ্রিম কোর্টে ভুয়া আইনি ডিগ্রি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন: “There are youngsters like cockroaches, who don’t get any employment or have any place in profession. Some of them become media, some of them become social media, RTI activists and other activists and they start attacking everyone.” Wikipedia
মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাৎক্ষণিক আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে CJI স্পষ্ট করেন যে তাঁর মন্তব্য ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল, সাধারণ বেকার তরুণদের নিয়ে নয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে।
Abhijeet Dipke — যে মানুষটি পার্টি বানালেন
Abhijeet Dipke মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদের ৩০ বছর বয়সী একজন ডিজিটাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট। বর্তমানে তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করেছিলেন এবং দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় মিম-চালিত প্রচারণা উপকরণ তৈরিতে অবদান রেখেছিলেন।
১৬ মে তিনি X-এ পোস্ট করেন: “Launching a new platform for all the ‘cockroaches’ out there.” সেই পোস্টের সাথে একটি Google Form যুক্ত করেন যোগদানের জন্য।
একই দিনে CJP আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজ চালু করে, স্লোগান দেয়: “Voice of the Lazy & Unemployed।” ওয়েবসাইটটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্ধুদের সাহায্যে ও AI ডিজাইন টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
CJP কী নিজেকে বলে?
পার্টির হেডকোয়ার্টার — “wherever the wifi works।” নিজেকে বর্ণনা করে: “A political party for the people the system forgot to count. Five demands. Zero sponsors. One large, stubborn swarm.”
পার্টি নিজেকে “a political front of the youth, by the youth, for the youth — Secular, Socialist, Democratic, and Lazy” হিসেবে পরিচয় দেয়।
যোগদানের যোগ্যতা
পার্টিতে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা: বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সবসময় অনলাইনে থাকতে হবে, এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকতে হবে। সদস্যপদ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
পার্টির ৫-দফা ম্যানিফেস্টো
CJP-এর আনুষ্ঠানিক ৫-দফা ম্যানিফেস্টো:
১. CJP ক্ষমতায় এলে কোনো প্রধান বিচারপতিকে অবসরের পুরস্কার হিসেবে রাজ্যসভার আসন দেওয়া হবে না।
২. যদি কোনো বৈধ ভোট বাতিল করা হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে UAPA-তে গ্রেফতার করা হবে — কারণ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কম নয়।
৩. সংসদের আকার না বাড়িয়ে নারীদের ৩৩%-এর বদলে ৫০% সংরক্ষণ দিতে হবে এবং মন্ত্রিসভার ৫০% পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে।
৪. আদানি গ্রুপ ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (আম্বানি)-মালিকানাধীন সব মিডিয়া হাউসের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাধীন মিডিয়ার পথ তৈরি করতে হবে। “গোদি মিডিয়া” অ্যাঙ্করদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করতে হবে।
৫. কোনো MLA বা MP দলবদল করলে তাকে ২০ বছরের জন্য নির্বাচন থেকে এবং যেকোনো সরকারি পদ থেকে নিষিদ্ধ করা হবে।
অতিরিক্ত দাবি — RTI অ্যাক্টিভিস্ট অঞ্জলি ভারদ্বাজের প্রস্তাব
RTI অ্যাক্টিভিস্ট অঞ্জলি ভারদ্বাজ তিনটি অতিরিক্ত প্রস্তাব দেন, যা CJP সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করে: পার্টি সম্পূর্ণভাবে RTI আইনের আওতায় থাকবে; বেনামি দান বা ইলেকটোরাল বন্ড গ্রহণ করা হবে না; এবং কোনো গোপন “Cockroach CARES Fund” তৈরি করা হবে না।
রাজনীতিবিদরা কী বললেন?
দুই TMC সাংসদ — মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ — পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং CJP-এর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল তাদের স্বাগত জানায়। মহুয়া মৈত্র বলেন তিনি “Anti-National Party”-র সদস্য হওয়ার পাশাপাশি CJP-তেও যোগ দিতে চান।
কীর্তি আজাদ জিজ্ঞেস করেন যোগদানের যোগ্যতা কী, এবং CJP হ্যান্ডেল জবাব দেয় যে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জেতাই যথেষ্ট।
সংখ্যায় CJP — ভাইরাল পরিসংখ্যান (মে ২০২৬)
| তথ্য | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট রেজিস্ট্রেশন | 2.5+ (৭২ ঘণ্টায়) |
| Instagram ফলোয়ার | 5.5M |
| X (Twitter) ফলোয়ার | 116k+ |
| নির্বাচনী প্রতীক | ![]() |
| হেডকোয়ার্টার | Wherever the wifi works |
| আদর্শিক অনুপ্রেরণা | গান্ধী, আম্বেদকর, নেহরু |
শুধু ডিজিটাল নয়, রাস্তায়ও নেমেছে CJP
আন্দোলন এখন স্ক্রিন পেরিয়ে রাস্তায়। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা “I am a cockroach” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ময়লার ভাগাড় ও জলাশয়ের পাশে পরিষ্কার অভিযান চালাচ্ছেন — প্রতিষ্ঠানের সমালোচনার বিপরীতে একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
X, Instagram, Reddit ও WhatsApp-এ AI-জেনারেটেড এডিট, ভুয়া ক্যাম্পেইন পোস্টার ও তেলাপোকা-থিমড মিম ছড়িয়ে পড়ছে।
এটা কি শুধু মিম, নাকি আসল প্রতিবাদ?
CJP প্রতিষ্ঠাতা Dipke বলেছেন: “আমি মনে করি এই সাড়ার সবচেয়ে বড় বার্তা হলো — ভারতের তরুণরা হতাশ। গত কয়েক বছরে কোনো রাজনৈতিক দল তাদের জন্য কিছু করেনি। এজন্যই সবাই ‘তেলাপোকা’ হিসেবে সাইন আপ করেছে।”
তবে Dipke স্বীকার করেছেন: “I am not delusional; I know this can die out in a few days।” তবুও যা ঘটেছে তা ইতিমধ্যে ইতিহাস।
উপসংহার
Cockroach Janta Party হয়তো কোনো নির্বাচন লড়বে না, সরকার গঠন করবে না। কিন্তু এটি প্রমাণ করেছে যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতের তরুণরা নিজেদের কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারে। হাসতে হাসতেও প্রতিবাদ করা যায় — এটাই CJP-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা।












