Karok in Bengali: কারক কী? প্রকারভেদ, গুরুত্ব, উদাহরণ, পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা

কারক কী?

বাংলা ভাষায় কারক একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণীয় ধারণা। ‘কারক’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ “কাজ করার বা ঘটানোর মাধ্যম”। এটি এমন একটি ব্যাকরণিক রূপ, যা বাক্যের প্রধান কাজ এবং কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।

কারক সম্পর্কিত তথ্য

কারক সম্পর্কিত তথ্য

Carac Information

বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল “কারক”। এটি বাক্যে কাজের সাথে সম্পর্কিত থাকে, যা ক্রিয়া বা কাজের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, উপকরণ বা উদ্দেশ্য নির্দেশ করে।

কারক প্রকার:

  • কর্তৃ কারক: যে ব্যক্তি বা বস্তু কাজটি করছে।
  • কর্ম কারক: যে বা যা কাজের ফল ভোগ করছে।
  • করন কারক: যার মাধ্যমে কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে।
  • সম্প্রদান কারক: যে বা যার জন্য কাজটি হচ্ছে।
  • অধিকরণ কারক: যেখানে কাজটি হচ্ছে।
  • সংযোগ কারক: যার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজটি হচ্ছে।

কারকের প্রকারভেদ

বাংলা ভাষায় কারক মোট ৬ প্রকারের হতে পারে। এগুলো হলো:

  1. কর্তৃ কারক: যে ব্যক্তি বা বস্তু কোনো কাজ সম্পাদন করে তাকে কর্তৃ কারক বলা হয়।
  • উদাহরণ: “রবি বই পড়ে।” এখানে ‘রবি’ কর্তৃ কারক, কারণ সে কাজটি করছে।

2. কর্ম কারক: যে বা যা কাজের ফল ভোগ করে বা যে কাজে যুক্ত থাকে, তাকে কর্ম কারক বলে।

    • উদাহরণ: “রবি বই পড়ে।” এখানে ‘বই’ কর্ম কারক।

    3. করন কারক: কাজ সম্পন্ন করার উপায় বা মাধ্যমকে করন কারক বলা হয়।

      • উদাহরণ: “রবি কলম দিয়ে লিখে।” এখানে ‘কলম’ করন কারক।

      4. সম্প্রদান কারক: যার জন্য বা যাকে উদ্দেশ্য করে কাজ করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলা হয়।

        • উদাহরণ: “আমি রবিকে বই দিলাম।” এখানে ‘রবি’ সম্প্রদান কারক।

        5. অধিকারন কারক: যে স্থানে কোনো কাজ ঘটে বা যে স্থানে কিছু থাকে, তাকে অধিকারন কারক বলা হয়।

          • উদাহরণ: “রবি বাড়িতে আছে।” এখানে ‘বাড়ি’ অধিকারন কারক।

          6. সম্প্রযোগ কারক: যা বা যার সঙ্গে কারোর যোগসূত্র ঘটে, তাকে সম্প্রযোগ কারক বলা হয়।

            • উদাহরণ: “রবি বন্ধুর সঙ্গে যাচ্ছে।” এখানে ‘বন্ধু’ সম্প্রযোগ কারক।

            কারকের গুরুত্ব

            Karok in Bengali
            Karok in Bengali

            কারকের সঠিক ব্যবহার বাক্যকে সুস্পষ্ট এবং অর্থবহ করে তোলে। কারকের ভুল ব্যবহার বাক্যের অর্থ পরিবর্তন করতে পারে বা ভুল ব্যাখ্যা দিতে পারে।

            কারক চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন

            প্রতিটি কারকের নিজস্ব একটি প্রশ্ন ধরণ থাকে যা দিয়ে সহজেই কারক চিহ্নিত করা যায়। যেমন:

            • কর্তৃ কারক: কে কাজটি করছে?
            • কর্ম কারক: কী নিয়ে কাজ হচ্ছে?
            • করন কারক: কিসের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে?
            • সম্প্রদান কারক: কাকে কাজটি উদ্দেশ্য করে করা হচ্ছে?
            • অধিকারন কারক: কোথায় কাজটি হচ্ছে?
            • সম্প্রযোগ কারক: কার সঙ্গে বা কীসঙ্গে যুক্ত?

            কারকের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা

            ‘কারক’ শব্দের অর্থ হলো সেই মাধ্যম বা সম্পর্ক যার সাহায্যে কোনো কাজ বা ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বাংলা ব্যাকরণে কারক হলো ক্রিয়া এবং বাক্যের অন্যান্য পদসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী উপাদান। এটি ক্রিয়া এবং অন্যান্য উপাদানের মাঝে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা বা সম্পর্ক নির্দেশ করে, যা বাক্যের অর্থকে স্পষ্ট করে তোলে।

            কারকের বিবিধ প্রকারভেদ ও বৈশিষ্ট্য

            বাংলা ভাষায় মোট ছয় ধরনের কারক আছে, যা প্রতিটি বাক্যের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ভাব প্রকাশে সাহায্য করে। প্রতিটি কারকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

            ১. কর্তৃ কারক (Kartṛ Karok)

            • সংজ্ঞা: যে ব্যক্তি বা বস্তুর দ্বারা কোনো কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে কর্তৃ কারক বলে।
            • চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন: “কে কাজটি করছে?”
            • নিয়ম ও উদাহরণ:
            • বাক্যে ‘যিনি কাজ করেন’, তিনিই কর্তৃ কারক। উদাহরণ: “রবি পড়ে।” এখানে ‘রবি’ কাজটি করছে, তাই ‘রবি’ কর্তৃ কারক।
            • বিপরীতে: বাক্যে কখনো কখনো কর্তৃ কারক গোপন থাকতে পারে। উদাহরণ: “গেলাম।” এখানে ‘আমি’ গোপনে কর্তৃ কারক।

            ২. কর্ম কারক (Karma Karok)

            • সংজ্ঞা: যে বা যা কাজের ফল ভোগ করে, তাকে কর্ম কারক বলা হয়।
            • চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন: “কী নিয়ে কাজ হচ্ছে?” বা “কাকে নিয়ে কাজ হচ্ছে?”
            • নিয়ম ও উদাহরণ:
            • যখন কোনো ক্রিয়া কোনো বস্তু বা ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, তাকে কর্ম কারক বলে। উদাহরণ: “রবি বই পড়ে।” এখানে ‘বই’ হলো কর্ম কারক কারণ কাজটি (পড়া) ‘বই’-এর ওপর প্রভাব ফেলে।

            ৩. করন কারক (Karan Karok)

            • সংজ্ঞা: যে উপাদানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে করন কারক বলে।
            • চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন: “কিসের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে?”
            • নিয়ম ও উদাহরণ:
            • কোন বস্তু বা মাধ্যমের সাহায্যে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, তাকে করন কারক বলে। উদাহরণ: “রবি কলম দিয়ে লিখে।” এখানে ‘কলম’ করন কারক।

            ৪. সম্প্রদান কারক (Sampradan Karok)

            • সংজ্ঞা: যাকে উদ্দেশ্য করে কাজ করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে।
            • চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন: “কাকে কাজটি উদ্দেশ্য করে করা হচ্ছে?”
            • নিয়ম ও উদাহরণ:
            • কোন ব্যক্তির জন্য বা উদ্দেশ্যে কিছু করা হয়, তখন তা সম্প্রদান কারক হিসেবে চিহ্নিত হয়। উদাহরণ: “আমি রবিকে উপহার দিলাম।” এখানে ‘রবি’ সম্প্রদান কারক।

            ৫. অধিকরণ কারক (Adhikarṇ Karok)

            • সংজ্ঞা: যে স্থানে কোনো কাজ সংঘটিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলা হয়।
            • চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন: “কোথায় কাজটি হচ্ছে?”
            • নিয়ম ও উদাহরণ:
            • কাজ সংঘটনের স্থান বা অবস্থান নির্দেশ করে অধিকরণ কারক। উদাহরণ: “রবি বাড়িতে আছে।” এখানে ‘বাড়ি’ অধিকরণ কারক।

            ৬. সংযোগ কারক (Sanyog Karok)

            • সংজ্ঞা: যাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে কিছু করা হয়, তাদের সংযোগ কারক বলা হয়।
            • চিনতে সাহায্যকারী প্রশ্ন: “কার সাথে যুক্ত?”
            • নিয়ম ও উদাহরণ:
            • যা কারো সঙ্গে যুক্ত হয় বা কোনো কাজে যোগ দেয়, তাই সংযোগ কারক। উদাহরণ: “রবি বন্ধুর সঙ্গে খেলছে।” এখানে ‘বন্ধু’ সংযোগ কারক।

            বাংলা ভাষায় কারকের ভূমিকা

            কারক ছাড়া বাক্য সঠিক অর্থে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। সঠিক কারকের ব্যবহার বাক্যের অর্থকে সঠিক ও সুনির্দিষ্ট করে তোলে।

            কারকের বিভাজন – ক্রিয়া অনুসারে প্রভাব

            কারক প্রায়ই ক্রিয়ার ধরন অনুসারে আলাদা আলাদা সম্পর্ক প্রকাশ করে, যেমনঃ

            1. সাধারণ কর্ম: যেমন “আমি লিখি।”
            2. প্রভাবিত কর্ম: যেমন “আমি বই পড়ি।” (বই কর্ম কারক)
            3. স্থানীয় নির্দেশ: যেমন “রবি বাড়িতে আসে।” (বাড়ি অধিকরণ কারক)

            কারক ও বিভক্তি নির্ণয় উদাহরণ

            কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারক হল কাজ বা ক্রিয়ার সাথে বাক্যের অন্য পদের সম্পর্ক, এবং বিভক্তি হল এই সম্পর্ককে প্রকাশ করার জন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ ধ্বনি বা প্রতিশব্দ। বাংলা ভাষায় কারক এবং বিভক্তি পরস্পর সম্পর্কিত। এখানে উদাহরণসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:


            কারক ও বিভক্তির উদাহরণসহ বিশ্লেষণ

            ১. কর্তৃ কারক ও তার বিভক্তি

            সংজ্ঞা: যে ব্যক্তি বা বস্তু কাজ সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃ কারক বলা হয়। এর বিভক্তি সাধারণত “এ” বা “তে” হয়।

            উদাহরণ:

            • রবি খেলছে।
            • কারক: কর্তৃ কারক (কাজটি করছে)
            • বিভক্তি: রবি + “এ” = রবি

            ২. কর্ম কারক ও তার বিভক্তি

            সংজ্ঞা: যে বা যা কাজের ফল ভোগ করে, তাকে কর্ম কারক বলে। এর বিভক্তি সাধারণত “কে” বা “টা” হয়।

            উদাহরণ:

            • আমি বইটি পড়লাম।
            • কারক: কর্ম কারক (কাজটি বইয়ের ওপর হচ্ছে)
            • বিভক্তি: বই + “টি” = বইটি

            ৩. করণ কারক ও তার বিভক্তি

            সংজ্ঞা: যে মাধ্যম বা উপকরণ দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হয়, তাকে করণ কারক বলা হয়। এর বিভক্তি “দিয়ে” বা “তে” হয়।

            উদাহরণ:

            • রবি কলম দিয়ে লিখে।
            • কারক: করণ কারক (কলমের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে)
            • বিভক্তি: কলম + “দিয়ে” = কলম দিয়ে

            ৪. সম্প্রদান কারক ও তার বিভক্তি

            সংজ্ঞা: যাকে উদ্দেশ্য করে বা যার জন্য কাজ করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলা হয়। এর বিভক্তি “কে” হয়।

            উদাহরণ:

            • আমি রবিকে উপহার দিলাম।
            • কারক: সম্প্রদান কারক (রবির জন্য কাজটি করা হচ্ছে)
            • বিভক্তি: রবি + “কে” = রবিকে

            ৫. অধিকরণ কারক ও তার বিভক্তি

            সংজ্ঞা: যে স্থান বা স্থানে কাজটি সংঘটিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলা হয়। এর বিভক্তি “তে” বা “এ” হয়।

            উদাহরণ:

            • রবি বাড়িতে থাকে।
            • কারক: অধিকরণ কারক (কাজটি বাড়ির স্থানে হচ্ছে)
            • বিভক্তি: বাড়ি + “তে” = বাড়িতে

            ৬. সংযোগ কারক ও তার বিভক্তি

            সংজ্ঞা: যার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজটি করা হয়, তাকে সংযোগ কারক বলে। এর বিভক্তি “সঙ্গে” বা “এ” হয়।

            উদাহরণ:

            • রবি বন্ধুর সঙ্গে খেলছে।
            • কারক: সংযোগ কারক (বন্ধুর সঙ্গে কাজটি হচ্ছে)
            • বিভক্তি: বন্ধু + “র সঙ্গে” = বন্ধুর সঙ্গে

            কারক ও বিভক্তির বিশ্লেষণ

            বিভিন্ন কারক বাক্যের অর্থকে স্পষ্ট করে তোলে এবং বিভক্তি শব্দকে সেই কারকের প্রয়োজনীয় রূপে নিয়ে আসে। উদাহরণগুলো দেখায় কীভাবে বিভক্তি যোগ করে কারক অনুযায়ী বাক্যের অর্থ প্রকাশ করা যায়।

            এইভাবে কারক ও বিভক্তি একসঙ্গে ব্যবহার করে বাংলা ভাষার বাক্যগুলিকে অর্থবহ ও সঠিকভাবে গঠন করা হয়।

            কারক ও বিভক্তি চেনার সহজ উপায়

            কারক ও বিভক্তি চেনার জন্য কিছু সহজ নিয়ম ও কৌশল রয়েছে। এগুলোর সাহায্যে আপনি দ্রুত কারক এবং বিভক্তি চিহ্নিত করতে পারবেন:


            ১. কারক চেনার সহজ উপায়

            প্রতিটি কারকের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকায় এগুলো ব্যবহার করে কারক সহজেই চেনা যায়। প্রশ্নের উত্তরে যে শব্দটি আসে, সেটিই কারক। নিচে প্রতিটি কারকের জন্য সহজ প্রশ্ন এবং উদাহরণ দেওয়া হলো:

            • কর্তৃ কারক: “কে কাজটি করছে?”
            • উদাহরণ: রবি পড়ছে। এখানে প্রশ্ন করলে “কে পড়ছে?” উত্তর: “রবি”। সুতরাং, ‘রবি’ হল কর্তৃ কারক।
            • কর্ম কারক: “কী নিয়ে কাজ হচ্ছে?” বা “কাকে নিয়ে কাজ হচ্ছে?”
            • উদাহরণ: রবি বই পড়ছে। এখানে প্রশ্ন করলে “কী পড়ছে?” উত্তর: “বই”। সুতরাং, ‘বই’ কর্ম কারক।
            • করন কারক: “কিসের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে?”
            • উদাহরণ: রবি কলম দিয়ে লিখছে। এখানে প্রশ্ন করলে “কিসের মাধ্যমে লিখছে?” উত্তর: “কলম”। সুতরাং, ‘কলম’ করন কারক।
            • সম্প্রদান কারক: “কার জন্য কাজ হচ্ছে?” বা “কাকে উদ্দেশ্য করে?”
            • উদাহরণ: আমি রবিকে বই দিলাম। এখানে প্রশ্ন করলে “কাকে দিলাম?” উত্তর: “রবি”। সুতরাং, ‘রবি’ সম্প্রদান কারক।
            • অধিকরণ কারক: “কোথায় কাজ হচ্ছে?”
            • উদাহরণ: রবি বাড়িতে আছে। এখানে প্রশ্ন করলে “কোথায় আছে?” উত্তর: “বাড়ি”। সুতরাং, ‘বাড়ি’ অধিকরণ কারক।
            • সংযোগ কারক: “কার সঙ্গে?”
            • উদাহরণ: রবি বন্ধুর সঙ্গে খেলছে। এখানে প্রশ্ন করলে “কার সঙ্গে খেলছে?” উত্তর: “বন্ধু”। সুতরাং, ‘বন্ধু’ সংযোগ কারক।

            ২. বিভক্তি চেনার সহজ উপায়

            বিভক্তি চেনার জন্য, বাক্যের শেষে বা নির্দিষ্ট শব্দে যুক্ত করা শব্দাংশ বা ধ্বনি লক্ষ্য করুন। বিভক্তির সাধারণ ধরনগুলো চেনার জন্য নিচের তালিকাটি অনুসরণ করুন:

            • কর্তৃ কারক: সাধারণত কোনো বিভক্তি থাকে না বা শেষে “এ” থাকে।
            • উদাহরণ: রবি (রবি+এ নেই)।
            • কর্ম কারক: সাধারণত “কে”, “টা”, “টি” বিভক্তি থাকে।
            • উদাহরণ: বইটি (বই + টি)।
            • করন কারক: সাধারণত “দিয়ে”, “তে” বিভক্তি থাকে।
            • উদাহরণ: কলম দিয়ে (কলম + দিয়ে)।
            • সম্প্রদান কারক: সাধারণত “কে” বিভক্তি থাকে।
            • উদাহরণ: রবিকে (রবি + কে)।
            • অধিকরণ কারক: সাধারণত “তে” বা “এ” বিভক্তি থাকে।
            • উদাহরণ: বাড়িতে (বাড়ি + তে)।
            • সংযোগ কারক: সাধারণত “সঙ্গে” বা “এ” বিভক্তি থাকে।
            • উদাহরণ: বন্ধুর সঙ্গে (বন্ধু + র সঙ্গে)।

            কারক চেনার জন্য প্রশ্ন ধরণ মনে রাখলে এবং বিভক্তির জন্য শব্দের শেষে ব্যবহৃত অংশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে খুব সহজেই কারক ও বিভক্তি চেনা যায়।


            কারক এর উদাহরণ

            বাংলা ভাষায় কারক ছয় প্রকারের হয়। নিচে প্রতিটি কারকের জন্য উদাহরণসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:


            ১. কর্তৃ কারক

            সংজ্ঞা: যে ব্যক্তি বা বস্তু কাজ সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃ কারক বলা হয়।
            উদাহরণ:

            • রবি গান গায়। এখানে ‘রবি’ কর্তৃ কারক, কারণ কাজটি সে করছে।
            • পাখি উড়ছে। এখানে ‘পাখি’ কর্তৃ কারক, কারণ পাখি কাজটি করছে।

            ২. কর্ম কারক

            সংজ্ঞা: যে বা যা কাজের ফল ভোগ করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
            উদাহরণ:

            • রবি বই পড়ে। এখানে ‘বই’ কর্ম কারক, কারণ কাজটি (পড়া) ‘বই’-এর ওপর প্রভাব ফেলে।
            • সে খাবার খায়। এখানে ‘খাবার’ কর্ম কারক, কারণ কাজটি (খাওয়া) ‘খাবার’-এর ওপর প্রভাব ফেলে।

            ৩. করণ কারক

            সংজ্ঞা: যে মাধ্যম বা উপকরণ দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হয়, তাকে করণ কারক বলা হয়।
            উদাহরণ:

            • রবি কলম দিয়ে লিখে। এখানে ‘কলম’ করণ কারক, কারণ কলমের সাহায্যে কাজটি (লেখা) হচ্ছে।
            • সে ছুরি দিয়ে ফল কাটে। এখানে ‘ছুরি’ করণ কারক, কারণ ছুরির সাহায্যে কাজটি (কাটা) হচ্ছে।

            ৪. সম্প্রদান কারক

            সংজ্ঞা: যাকে উদ্দেশ্য করে বা যার জন্য কাজ করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলা হয়।
            উদাহরণ:

            • আমি রবিকে বই দিলাম। এখানে ‘রবি’ সম্প্রদান কারক, কারণ বই দেওয়ার উদ্দেশ্য রবি।
            • সে মায়ের জন্য খাবার আনল। এখানে ‘মা’ সম্প্রদান কারক, কারণ খাবার আনার উদ্দেশ্য মা।

            ৫. অধিকরণ কারক

            সংজ্ঞা: যে স্থান বা স্থানে কাজটি সংঘটিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলা হয়।
            উদাহরণ:

            • রবি বাড়িতে আছে। এখানে ‘বাড়ি’ অধিকরণ কারক, কারণ অবস্থানের স্থান ‘বাড়ি’।
            • সে মাঠে খেলছে। এখানে ‘মাঠ’ অধিকরণ কারক, কারণ খেলাধুলার স্থান ‘মাঠ’।

            ৬. সংযোগ কারক

            সংজ্ঞা: যার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজটি করা হয়, তাকে সংযোগ কারক বলে।
            উদাহরণ:

            • রবি বন্ধুর সঙ্গে খেলছে। এখানে ‘বন্ধু’ সংযোগ কারক, কারণ কাজটি (খেলা) বন্ধুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে করা হচ্ছে।
            • সে ভাইয়ের সঙ্গে বেড়াতে গেল। এখানে ‘ভাই’ সংযোগ কারক, কারণ বেড়ানো কাজটি ভাইয়ের সঙ্গে যুক্ত।

            এই উদাহরণগুলো বাংলা ব্যাকরণের বিভিন্ন কারকের ব্যবহারের ধরন এবং তাদের সঠিক অর্থ বোঝার জন্য সহায়ক হবে।

            কারক এর উদাহরণ PDF Download

            PDF Nameকারক এর উদাহরণ PDF
            LanguageBengali
            File Size70 KB
            Number of Pages03
            Download LinkClick Here To Download

            উপসংহার

            কারক বাংলা ভাষার গঠনমূলক অংশ যা বাক্যগঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাক্যে কারক ছাড়া, ক্রিয়া ও ক্রিয়ার প্রভাব সঠিকভাবে বোঝানো সম্ভব নয়। তাই বাংলা ভাষায় কারকের ব্যবহার শুদ্ধ ও সুন্দর বাক্য রচনায় সহায়ক।


            এই নিবন্ধটি বাংলা ব্যাকরণের কারক সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান প্রদান করবে, যা ভাষার দক্ষতা উন্নত করতে সহায়ক হবে।

            Aftab Rahaman

            Aftab Rahaman

            Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

            kalikolom.com