মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা সিলেবাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুন্দর কবিতা হলো কবি জয় গোস্বামীর লেখা “অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান”। কবিতাটি কবির ‘পাতার পোশাক’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই কবিতার প্রতিটি লাইনের অর্থ, বিষয়বস্তু, নামকরণের সার্থকতা এবং পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার বিষয়বস্তু আলোচনা
কবিতাটির মূল উপজীব্য হলো— অস্ত্র বনাম গান বা যুদ্ধ বনাম শান্তির লড়াই। অস্ত্র সবসময় রক্তপাত ঘটায়, প্রাণ কেড়ে নেয় এবং হিংসার জন্ম দেয়। অন্যদিকে, গান মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, বাঁচতে শেখায় এবং হিংসাকে দূর করে। এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অস্ত্রের ক্ষমতার চেয়ে গানের ক্ষমতা অনেক বেশি। হিংসার বিরুদ্ধে গানকেই কবি প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
কবি পরিচিতি ও উৎস
“অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান” কবিতাটি আধুনিক বাংলা কবি জয় গোস্বামীর লেখা এবং তাঁর পাতার পোশাক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। মাধ্যমিক দশম শ্রেণির সিলেবাসে এটি কবিতা অংশের শেষ কবিতা। পাঠ্যবইয়ে কবির জীবন ও রচনা নিয়ে একটি আলাদা কবি পরিচিতি অংশ আছে। বেশি নম্বর পেতে চাইলে সেটি মন দিয়ে পড়ো, কারণ সেখান থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।
পরীক্ষায় কাব্যগ্রন্থের নাম সরাসরি জিজ্ঞেস করা হতে পারে। উত্তর: পাতার পোশাক।
শব্দার্থ ও প্রতীক
| শব্দ বা অংশ | অর্থ / তাৎপর্য |
|---|---|
| হাজার হাতে পায়ে | হাজার হাজার শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কথকের কথা বলা |
| বুলেট | বন্দুকের গুলি |
| বর্ম | দেহের আবরণ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো; এখানে গানের সঙ্গে একাত্মতাই বর্ম |
| তুচ্ছতাচ্ছিল্য | অবহেলা, গুরুত্ব না দেওয়া |
| খড়কুটো | শুকনো লতাপাতা বা খড়ের টুকরো; এখানে বাঁচার শেষ অবলম্বন, অর্থাৎ একটি-দুটি গান |
| রক্ত মোছা গানের গায়ে | গান রক্তপাত থামাতে পারে |
| শকুন-চিল | হিংস্রতা, যুদ্ধবাজ ও অস্ত্রধারীদের প্রতীক |
| কোকিল | মধুর কণ্ঠের পাখি; গান ও শান্তির প্রতীক |
| আদুর গা | খোলা গা, অনাবৃত দেহ |
| ঋষিবালক | দেবশিশু, গানের রূপক; শ্রীকৃষ্ণের ইঙ্গিত |
| ময়ূরপালক | শ্রীকৃষ্ণের মাথার অলংকার; সুরের প্রতীকের চিহ্ন |
| গানের দুটি পা | গানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান, যেখানে অস্ত্র অর্পণ করতে বলা হয়েছে |
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো
কবি জয় গোস্বামী যুদ্ধবাজ ও হিংস্র মানুষদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন অস্ত্র ত্যাগ করতে। তিনি নিজেকে হাজার হাজার শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কবির মতে, বুলেটের মতো মারণাস্ত্রকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং গানের বর্ম গায়ে পরলে অর্থাৎ গানের সঙ্গে একাত্ম হতে পারলে হাত নেড়েই বুলেট বা হিংসাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়।
কবি মনে করেন, মাথার ওপর যুদ্ধবাজ রূপী শকুন বা চিলের আনাগোনা থাকলেও, শান্তির প্রতীক একটি মাত্র কোকিলই তাদের প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট। তাই কবি আহ্বান জানিয়েছেন, হিংসার বর্ম খুলে খালি গায়ে দাঁড়াতে এবং গানের ঋষি বালকের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে। একমাত্র গানই পারে যুদ্ধ থামিয়ে মানুষকে দেশ, গ্রাম ও নদীর সাথে একাত্ম করতে। সবশেষে কবি অস্ত্রের অহংকার ত্যাগ করে তাকে গানের পায়ে অর্পণ করার কথা বলেছেন।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কবিতায় কবি শুরু থেকেই অস্ত্রের আস্ফালনের বিরুদ্ধে গানের জয়গান গেয়েছেন। অস্ত্র হলো মৃত্যু ও ধ্বংসের প্রতীক, আর গান হলো জীবন, শান্তি ও সৃষ্টির প্রতীক। কবি গানের বর্ম পরে হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়ানোর কথা বলেছেন এবং শেষে যুদ্ধবাজদের অস্ত্রকে গানের পায়ে সমর্পণ করতে বলেছেন। অর্থাৎ, কবিতায় অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানের চূড়ান্ত বিজয় ঘোষিত হয়েছে। তাই বলা যায়, “অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান” নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর ২০২৬
আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার (২০২৬) জন্য এই কবিতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছোট ও বড় প্রশ্ন নিচে দেওয়া হলো:
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থের নাম কী? উত্তর: কবিতাটি কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘পাতার পোশাক’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
২. “আমি এখন হাজার হাতে পায়ে”— এখানে ‘হাজার হাতে পায়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: এখানে কবি নিজেকে হাজার হাজার যুদ্ধবিরোধী এবং শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বুঝিয়েছেন।
৩. কবি হাত নাড়িয়ে কী তাড়ান? উত্তর: কবি হাত নাড়িয়ে বুলেট বা বন্দুকের গুলি তাড়ান। এর মাধ্যমে কবি অস্ত্রের প্রতি চরম তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেছেন।
৪. “আঁকড়ে ধরে সে খড়কুটো”— এখানে খড়কুটো বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: ডুবন্ত মানুষ বাঁচার জন্য যেমন খড়কুটো আঁকড়ে ধরে, তেমনি কবি নিজের জানা একটি-দুটি গানকে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন বা খড়কুটো হিসেবে আঁকড়ে ধরেছেন।
৫. কবিতায় শকুন বা চিল এবং কোকিল কিসের প্রতীক? উত্তর: শকুন বা চিল হলো হিংস্রতা, যুদ্ধবাজ এবং অস্ত্রধারীদের প্রতীক। অন্যদিকে, কোকিল হলো শান্তি, ভালোবাসা ও সুমধুর সৃষ্টির প্রতীক।
৬. গান কী রূপে আবির্ভূত হবে? তার মাথায় কী গোঁজা থাকবে? উত্তর: গান এক ঋষি বালক বা দেবশিশুর রূপে আবির্ভূত হবে। তার মাথায় ময়ূর পালক গোঁজা থাকবে (ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতো)।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার ছবি: গান বনাম অস্ত্র
কবিতার ছবিটি একটি দ্বন্দ্বের ছবি। নিচের সারণিতে দুই পক্ষ পাশাপাশি দেখানো হলো।
| দিক | অস্ত্র | গান |
|---|---|---|
| কী প্রতীক | হিংসা, যুদ্ধ, শকুন-চিল | ভালোবাসা, শান্তি, কোকিল |
| কী করে | রক্তপাত ঘটায়, প্রাণ কেড়ে নেয় | রক্তপাত থামায়, বাঁচতে শেখায় |
| মানুষের অবস্থা | ভয়ে লুকোনো, বর্মের আড়ালে | নির্ভয়, অনাবৃত গায়ে দাঁড়ানো |
| শেষ পরিণতি | পরাজিত, গানের পায়ে অর্পিত | বিজয়ী, ঋষিবালক ও ময়ূরপালকের রূপে |
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর (LAQ)
প্রশ্ন ১. “অস্ত্র ফেলো, অস্ত্র রাখো পায়ে” – কার পায়ে অস্ত্র রাখার কথা বলা হয়েছে? কবি কেন অস্ত্র ফেলতে বলেছেন? উত্তর (সংকেত): কবি গানের পায়ে অস্ত্র রাখার কথা বলেছেন। বিদ্যা বা আরাধনার জিনিসকে আমরা যেমন পায়ে রাখি না, কিন্তু দেবতার পায়ে অঞ্জলি দিই, ঠিক তেমনি কবি হিংসার অস্ত্রকে গানের (শান্তির) পায়ে সমর্পণ করতে বলেছেন। কারণ অস্ত্র কেবল ধ্বংস আনে, কিন্তু গান রক্তপাত বন্ধ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
প্রশ্ন ২. “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে” – এই পংক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। উত্তর (সংকেত): যুদ্ধবাজরা পৃথিবীতে যে রক্তপাত ও ধ্বংসলীলা চালায়, কবি বিশ্বাস করেন একমাত্র গান বা শিল্পই পারে সেই ক্ষতের উপশম করতে। গান রক্তপাত মোচন করতে পারে, হিংসার আগুন নিভিয়ে মানুষের মনে ভালোবাসার প্রলেপ দিতে পারে। গানের এই অসীম ক্ষমতার কথাই এখানে বলা হয়েছে।
Madhyamik 2027: Model Question Papers for Other Subjects
| বিষয় (Subjects) | মডেল প্রশ্নপত্র ও সাজেশন (PDF) |
|---|---|
| বাংলা (Bengali) | Click Here |
| ইংরেজি (English) | Click Here |
| গণিত (Mathematics) | Click Here |
| ভৌতবিজ্ঞান (Physical Science) | Click Here |
| জীবনবিজ্ঞান (Life Science) | Click Here |
| ইতিহাস (History) | Click Here |
| ভূগোল (Geography) | Click Here |