This is an archived article last updated on Jul 06, 2021. The information may be outdated.

মোগল সাম্রাজ্য ও অটোমান সাম্রাজ্যের তুলনা (Comparison between The Mughal Empire and the Ottoman Empire)

 মোগল সাম্রাজ্য ও অটোমান সাম্রাজ্যের তুলনা

মদ্যযুশে পৃথিবীতে যেসব সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটেছিল সেগুলির মধ্যে উল্লেল্লখযোগ্য ছিল ভারতের মোগল সাম্রাজ্য এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের অটোমান সাম্রাজ্য। ভারতে যেমন বহিরাগত মুসলিম শাসকরা সুবিশাল মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন ।তমনি অটোমান তুর্কি মুসলিমরাও নিজেদের মাতৃভূমির সীমানা ছাড়িয়ে দূরদেশে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রসার ঘটাতে সক্ষম হন। তবে মোগল সাম্রাজ্যের তুলনায় অটোমান তুর্কি মুসলিম সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব ছিল অনেক বেশি।

সাম্রাজ্যের উত্থান

মোগল সাম্রাজ্য : ‘মোঙ্গল’ শব্দ থেকে ‘মোগল’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা : ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জহিরুদ্দিন মহম্মদ বাবর। বাবর একদা আর্টিয়ানের যুদ্ধে (১৫০৩ খ্রি.) পরাজিত হয়ে তাঁর পৈত্রিক রাজ্য ফারগানার সিংহাসন হারান। এরপর থেকে তিনি ভাগ্যাম্বেষণে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা পরবর্তীকালে ভারতে t লোদি বংশের শাসনকালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বাবর ভারত আক্রমণ করেন। তিনি ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত ও নিহত করেন। তিনি দিল্লি ও আগ্রা দখল করে ‘বাদশাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন। এভাবে বাবরের নেতৃত্বে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়। 3 সাম্রাজ্যের প্রসার : বাবর ও হুমায়ুনের আমল পর্যন্ত মোগল সাম্রাজ্যের সীমা উত্তর ভারতের একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে আবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সম্রাট আকবর তা উত্তর-পশ্চিমে বালুচিস্তান, উত্তরে কাশ্মীর, পূর্বে বাংলা এবং দক্ষিণে গণ্ডোয়ানা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুকালে (১৭০৭ খ্রি.) দক্ষিণ ভারতের বৃহদংশ মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

অটোমান সাম্রাজ্য

সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা : ‘ওসমান’ শব্দটি থেকে ‘অটোমান’ শব্দটি এসেছে।

ওসমান ছিলেন একজন তুর্কি বীর। সেলজুক তুর্কিদের পতনের পরবর্তীকালে ওসমান পশ্চিম এশিয়ার উত্তর-পশ্চিমে আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে ওসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।

সাম্রাজ্যেরযের প্রসার : পরবর্তীকালে অটোমান তুর্কি সুলতানরা তুরস্ক ও তুরস্কের বাইরে এক সুবৃহৎ সাম্রাজ্য

গড়ে তুলতে সক্ষম হন। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, গ্রিস, বলকান অঞ্চল-সহ দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সুবিস্তৃত অঞ্চলে অর্থাৎ তিনটি মহাদেশে অটোমান তুর্কিদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। চূড়ান্ত বিকাশের সময় অটোমান সাম্রাজের সীমানা ছিল উত্তরে হাঙ্গেরি থেকে দক্ষিণে এডেন পর্যন্ত এবং পশ্চিমে আলজেরিয়া থেকে পূর্বে ইরানের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। গবেষক পল উইটেক (Paul Wittek) মনে করেন যে, ইসলামীয় যোদ্ধাদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধের আবেগ জাগিয়ে অটোমান সম্রাটরা এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। অটোমান সুলতানরা জাতিতে মুসলিম ছিলেন এবং তাঁরা ‘খলিফা’ উপাধি ব্যবহার করতেন।