ঝড় কবিতার প্রশ্ন উত্তর | মৈত্রেয়ী দেবী| Class 5 Bengali (WBBSE)

ঝড় কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Jhor Question Answer PDF | Class 5 | Wbbse

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরা যারা পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা ‘ঝড়’ কবিতাটি পড়ছ, তাদের জন্য আজকের এই লেখায় আমরা কবিতার শেষে থাকা হাতে কলমে অংশের সব প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় সাজিয়ে দিলাম। উত্তরগুলো এমনভাবে লেখা হয়েছে যাতে তোমরা নিজেরাও বুঝে খাতায় লিখতে পারো, শুধু মুখস্থ না করে।

লেখাটির একদম শেষে PDF ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া থাকবে, যাতে চাইলে পুরো উত্তরমালা সেভ করে রাখতে পারো।


কবি পরিচিতি: মৈত্রেয়ী দেবী (১৯১৪–১৯৯০)

মৈত্রেয়ী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রজীবন নিয়ে লেখা স্মৃতিকথার জন্য বিখ্যাত এক লেখিকা, একইসঙ্গে তিনি একজন সমাজসেবিকাও ছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘উদিতা’। এ ছাড়া ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’, ‘স্বর্গের কাছাকাছি’, ‘ন হন্যতে’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। ১৯৭৭ সালে তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মান পান।

ঝড় কবিতার প্রশ্ন উত্তর | মৈত্রেয়ী দেবী | Jhor Class 5 Question Answer


হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো

১.১ পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয় — উত্তর: গ্রীষ্মকালে।

১.২ দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে — উত্তর: দুপুরবেলা (কবিতাতেও দুপুরবেলাতেই ঝড় আসার কথা বলা হয়েছে)।

১.৩ যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে — উত্তর: কালো।

১.৪ গ্রীষ্মের একটি ফুল হল — উত্তর: চাঁপা।


২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো

কখ
মাঝিনাইয়া
ঝড়প্রবল হাওয়া
সাগরসমুদ্র
চাঁপাচম্পক
এলোমেলোঅগোছালো

৩. ‘চেয়ে’ ও ‘ভারী’ শব্দ দুটিকে দুটি আলাদা অর্থে বাক্যে ব্যবহার করো

চেয়ে (তুলনায়): আমের চেয়ে কাঁঠাল আকারে অনেক বড়। চেয়ে (চাওয়া): ছোট্ট মেয়েটি মায়ের কাছে একটা পুতুল চেয়ে বসল।

ভারী (ওজনে বেশি): বইয়ের ব্যাগটা এত ভারী যে বইতে কষ্ট হচ্ছে। ভারী (খুব বেশি/গভীর): কথাটা শুনে আমার মনটা ভারী খারাপ হয়ে গেল।


৪. বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো

এলোমেলো বাতাস, চাঁপার বন, কালো জল, কালির দোয়াত, কোমল ঠোঁট

বিশেষ্যবিশেষণ
বাতাসএলোমেলো
বনচাঁপার
জলকালো
দোয়াতকালির
ঠোঁটকোমল

৫. ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো

বাক্যক্রিয়াপদ
কোথা থেকে বাতাস এল।এল
আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি।আসলো
আমি তোমার মেঝের উপর ঢালি।ঢালি
পালিয়ে গেল অনেক দূরে।পালিয়ে গেল
চেয়ে দেখি আকাশখানা এক্কেবারে কালো।চেয়ে দেখি

৬. কোনটি বেমানান, খুঁজে বার করো

৬.১ হাটবার, মাঠের ধার, দুপুরবেলা, ঝড়, কালি (প্রথম চারটি কবিতার শুরুর দৃশ্য — অর্থাৎ ঝড় আসার সময়-স্থান বোঝায়; ‘কালি’ শব্দটি কবিতার পরের অংশে ভিন্ন প্রসঙ্গে এসেছে, তাই এটি বেমানান।)

৬.২ কালো আকাশ, বকুলতলা, চাঁপার বন, কালো জল, হাটবার (প্রথম চারটি ঝড়ে কালো হয়ে যাওয়া জিনিসের বর্ণনা; ‘হাটবার’ একটি সময়সূচক শব্দ, তাই বেমানান।)

৬.৩ ছেলে, কালির দোয়াত, মেঝে, ফেলে দেওয়া কালি, মাঠের ধার (প্রথম চারটি কালির দোয়াত-ফেলে-দেওয়া উপমার সঙ্গে যুক্ত; ‘মাঠের ধার’ কবিতার প্রথম দৃশ্যের জায়গা, তাই বেমানান।)

৬.৪ আকাশ, বিদ্যুৎ, ঝড়, সাত সমুদ্র, কালির দোয়াত (প্রথম চারটি আকাশ-ঝড়-সমুদ্রের প্রসঙ্গে আসা শব্দ; ‘কালির দোয়াত’ একটি ঘরোয়া বস্তু, তাই বেমানান।)

৬.৫ বাতাস, মাঝি, ঝড়, জল, ঘর (বাতাস, মাঝি, ঝড়, জল — সবই ঝড়ের দৃশ্যের বাইরের জগতের অংশ; ‘ঘর’ হল আশ্রয়ের জায়গা, ঝড়ের ঠিক বিপরীত, তাই বেমানান।)


৭. ‘অন্ধকার’ শব্দের মতো ‘ন্ধ’-এর প্রয়োগ আছে এমন পাঁচটি শব্দ

বন্ধ, গন্ধ, সন্ধান, অন্ধ, সম্বন্ধ


৮. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো

এলোমেলো বর্ণসাজানো শব্দ
লো লো এ মেএলোমেলো
না কা আশ খাআকাশখানা
ড়া ড়ি তা তাতাড়াতাড়ি
কে কে বা এএক্কেবারে
লা কু ত ব লবকুলতলা

৯. শূন্যস্থান পূরণ করো

৯.১ আকাশখানা এক্কেবারে কালো। ৯.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি। ৯.৩ আমার যেন লাগল ভারী ভালো। ৯.৪ হাসল কোমল ঠোঁট মেলে। ৯.৫ কালির দোয়াত কেমন করে হঠাৎ দিল ফেলে।


১০. বাক্য রচনা করো

হাট: প্রতি রবিবার আমাদের গ্রামে বড় হাট বসে। ভালো: পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা দরকার। সময়: সঠিক সময়ে কাজ শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পাড়ি: জেলেরা রোজ ভোরে নৌকা নিয়ে নদীতে পাড়ি দেয়। ভীষণ: হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে যাওয়ায় আমার ভীষণ ভয় লেগেছিল।


১১. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো

শব্দবিপরীত শব্দ
এলোমেলোগোছানো
তাড়াতাড়িধীরে
কোমলকঠিন
জ্বেলেনিভিয়ে
দূরেকাছে

১২. প্রদত্ত সূত্র অনুসারে গল্প তৈরি করো

সূত্র: তুমি একা — বিরাট মাঠ — আকাশে ঘন মেঘ — গাছের পাতা নড়ছে না — ঝড় এল — প্রবল বৃষ্টি — কোথাও আশ্রয় নিলে — ঝড় থামলে রাতে বাড়ি ফিরলে।

নমুনা গল্প:

সেদিন স্কুল ছুটির পর মাঠ দিয়ে একা একাই বাড়ি ফিরছিলাম। চারদিকে বিরাট ফাঁকা মাঠ, কোথাও কেউ নেই। হঠাৎ লক্ষ করলাম আকাশে ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, গাছের একটা পাতাও নড়ছে না, চারদিক কেমন থমথমে। একটু পরেই ঝড় শুরু হয়ে গেল, সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি। বই-খাতা বুকে জড়িয়ে ছুটতে ছুটতে মাঠের ধারে একটা পোড়ো বাড়ির চালার নিচে আশ্রয় নিলাম। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ঝড়-বৃষ্টি থামল। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। ভয়ে ভয়ে অন্ধকার পথ পেরিয়ে অবশেষে রাতে বাড়ি ফিরলাম, আর মা-বাবাকে সেদিনের ঝড়ের অভিজ্ঞতার কথা খুলে বললাম।


১৩. ‘কোমল’ ও ‘কমল’ শব্দ দুটির অর্থপার্থক্য বাক্যে বুঝিয়ে দাও

কোমল (নরম): নবজাতক শিশুর হাত-পা খুবই কোমল হয়। কমল (পদ্মফুল): পুকুরের জলে ফুটে থাকা কমল ফুলগুলো দেখতে খুব সুন্দর।


১৪. কোনটি কোন শ্রেণির বাক্য

বাক্যবাক্যের শ্রেণি
ওই এসেছে ঝড়!বিস্ময়সূচক বাক্য
ঝড় কারে মা কয়?প্রশ্নবাচক বাক্য
কেমন জানি করল আমার মন!বিস্ময়সূচক বাক্য
চেয়ে দেখি আকাশখানা একেবারে কালো।নির্দেশক (বিবৃতিমূলক) বাক্য
পালিয়ে গেল অনেক দূরে — সাত সাগরের পার।নির্দেশক (বিবৃতিমূলক) বাক্য

১৫.১ মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বইয়ের নাম — ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’ ও ‘স্বর্গের কাছাকাছি’।

১৫.২ ১৯৭৭ সালে তিনি পদ্মশ্রী উপাধি পান।


১৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো

১৬.১ কবিতায় শিশুর দল ছুটে চলে যেতে চেয়েছিল কেন?

হাটবারের দুপুরবেলা মাঠের ধারে খেলতে খেলতে হঠাৎই এলোমেলো বাতাস উঠতে শুরু করে এবং মুহূর্তে চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যায়। সঙ্গীরা বুঝতে পারে যে ঝড় আসছে, আর ঝড়ের ভয়েই তারা খেলা ফেলে দৌড়ে ঘরে ফিরতে চেয়েছিল।

১৬.২ দুপুরবেলা চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল কেন?

হঠাৎ আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ ছেয়ে যাওয়ায় সূর্যের আলো ঢাকা পড়ে যায়। বকুলতলা, চাঁপার বন, এমনকি নদীর জলও কালো হয়ে ওঠে — চারপাশের সবকিছু যেন মেঘের অন্ধকারে ডুবে যায়, তাই দুপুরবেলাতেও চারদিক অন্ধকার হয়ে পড়ে।

১৬.৩ ‘পালিয়ে গেল অনেক দূরে’ — কে পালিয়ে গেল? পালিয়ে সে কোথায় গেল?

এখানে কবি ঝড়ের কথাই বলেছেন। কালো মেঘে ভরা আকাশে বিদ্যুৎ চমকে ওঠার (হাসল কোমল ঠোঁটটি মেলে) পর ঝড়টি ধীরে ধীরে দূরে সরে যায় এবং শেষে সাত সাগরের পারে অর্থাৎ অনেক দূরে অদৃশ্য হয়ে যায়।

১৬.৪ ঝড়ের সঙ্গে শিশুর মনে কীসের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে?

কবিতায় ঝড়কে একটি দুরন্ত ছেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ছোট্ট দুষ্টু ছেলে যেমন হঠাৎ কালির দোয়াত ঘরের মেঝের উপর ফেলে সব কালো করে দেয়, ঠিক তেমনি ঝড়ও হঠাৎ এসে আকাশ ও চারপাশ কালো মেঘে ঢেকে দেয়।

১৬.৫ ‘ঝড়’-এর বর্ণনায় ‘মেঘ করে আসা’ আর ‘বিদ্যুৎ চমকানো’-র কথা কবিতার কোন কোন পঙ্‌ক্তিতে ফুটে উঠেছে?

মেঘ করে আসার বর্ণনা মেলে — “অন্ধকারে সমস্ত দিক কেমনে দিল ঢেকে!” এবং “চেয়ে দেখি আকাশখানা এক্কেবারে কালো” পঙ্‌ক্তি দুটিতে।

বিদ্যুৎ চমকানোর বর্ণনা মেলে — “হাসল কোমল ঠোঁটটি মেলে, ভীষণ কেমন আগুন জ্বেলে” পঙ্‌ক্তি দুটিতে।

১৬.৬ ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে কী ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে তোমার মনে হয়?

ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকা উলটে যাওয়া বা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া প্রবল হাওয়ায় দিক হারিয়ে ফেলা, বজ্রপাতে ক্ষতি হওয়া এবং জলে ডুবে যাওয়ার মতো প্রাণহানিকর বিপদও ঘটতে পারে।

১৬.৭ সাতটি সাগরের নাম তোমার শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে খাতায় লেখো।

কবিতায় ব্যবহৃত “সাত সাগরের পার” কথাটি বাংলা সাহিত্যে আসলে খুব দূরের একটি জায়গাকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি চিরাচরিত অভিব্যক্তি। পুরাণ অনুযায়ী সপ্তসাগর হল — লবণ সাগর, ইক্ষুরস সাগর, সুরা সাগর, ঘৃত সাগর, দধি সাগর, দুগ্ধ সাগর ও স্বাদু জলের সাগর। তবে প্রশ্নে বলা আছে বলে এই তালিকাটি একবার নিজের শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকেও যাচাই করে খাতায় লিখে নিয়ো।

১৬.৮ কোনো একদিনের ঝড় দেখার অভিজ্ঞতা বন্ধুকে চিঠি লিখে জানাও।

মেমারি, পূর্ব বর্ধমান ৩০/০৮/২০২৬

প্রিয় রাতুল,

কেমন আছিস তুই? আশা করি ভালোই আছিস। গতকাল বিকেলে যে ভয়ংকর কালবৈশাখী ঝড়টা আমাদের এখানে হয়ে গেল, সেই গল্পই আজ তোকে লিখতে বসলাম।

বিকেল অবধি আকাশ বেশ পরিষ্কার ছিল রে। হঠাৎ চারদিক থেকে কালো মেঘ জমতে শুরু করল, আর দেখতে দেখতেই গোটা আকাশটা কালো হয়ে গেল। তারপর শুরু হল প্রবল দমকা হাওয়া, উঠোনের গাছের ডালপালাগুলো যেন ভেঙে পড়ার জোগাড়। মা তাড়াতাড়ি ঘরের সব জানলা বন্ধ করে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি, সঙ্গে বিদ্যুতের চমক আর মেঘের গর্জন। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলল এই তাণ্ডব। ঝড় থামার পর বাইরে বেরিয়ে দেখি পাশের বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে, রাস্তায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আছে।

সেদিন প্রথমবার প্রকৃতির এত রুদ্র রূপ চোখের সামনে দেখলাম রে। তোদের ওদিকে কি ঝড় হয়েছিল? জানাস। ভালো থাকিস।

ইতি, তোর বন্ধু, অর্ণব

১৬.৯ ঝড়ের প্রকৃতির একটি ছবি আঁকো।

এই অংশটি হাতে-কলমে আঁকার জন্য — কবিতায় বর্ণিত কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়ায় হেলে পড়া গাছ আর তারই মধ্যে তাড়াতাড়ি পাড়ে ফেরা মাঝির নৌকার দৃশ্যটি নিজের মতো করে খাতায় এঁকে ফেলো।


⬇️ ঝড় প্রশ্ন উত্তর PDF ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হয়েছে।

Filea Details:

  • PDF Name: Jhor Question Answer
  • Language: Bengali
  • Size: 854KB
  • Total Pages: 05

Download Jhor Kobita Question Answer PDF


Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com