প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির শেষ অধ্যায় ‘চন্দ্রনাথ’ নিয়ে হাজির হয়েছি। এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | চন্দ্রনাথ |
| লেখক | তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় |
| উৎস | আগুন (উপন্যাস) |
এখানে আমরা গল্পের সামারি বা লেখক পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব। এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। চেষ্টা করেছি, যাতে পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় পাওয়া যায়।
এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বাকি অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তরও কভার করেছি। তাই তোমরা যদি আগের পোস্টগুলো এখনও না দেখে থাকো, তাহলে নিচে দেওয়া লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করে সেগুলোও পড়ে নিতে পারো।
তোমাদের সুবিধার জন্য ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।
তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।
চন্দ্রনাথ গল্পের বহুবিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Chandranath MCQ Question Answer
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পটি তাঁর কোন্ মূল উপন্যাস থেকে সংকলিত হয়েছে?
(A) গণদেবতা
(B) আগুন
(C) পঞ্চগ্রাম
(D) আরোগ্য নিকেতন
উত্তর: (B) আগুন - গল্পের প্রধান চরিত্র চন্দ্রনাথ নিজেকে আকাশের কোন্ বিশেষ নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করতে ভালোবাসত?
(A) কালপুরুষ
(B) ধ্রুবতারা
(C) শুকতারা
(D) সপ্তর্ষি
উত্তর: (A) কালপুরুষ - চন্দ্রনাথের কপালে জন্ম থেকেই একটি বিশেষ কাটা দাগ ছিল, সেটি দেখতে কেমন ছিল?
(A) চক্রের মতো
(B) তিলকের মতো
(C) ত্রিশূলের মতো
(D) অর্ধচন্দ্রের মতো
উত্তর: (C) ত্রিশূলের মতো - চন্দ্রনাথের বড়ো দাদার নাম কী ছিল?
(A) নরেশ বাবু
(B) নিশান নাথ (বা নিশানাথ) বাবু
(C) হিরু বাবু
(D) হরিশ চন্দ্র
উত্তর: (B) নিশান নাথ (বা নিশানাথ) বাবু - স্কুলের প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন বা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ কেন সেকেন্ড প্রাইজ নিতে অস্বীকার করেছিল?
(A) প্রচণ্ড রাগের চোটে
(B) হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ায়
(C) দ্বিতীয় হওয়াটা তার আত্মসম্মানে বা ডিগনিটিতে বাধে বলে
(D) হিরুর প্রতি ভয়ে
উত্তর: (C) দ্বিতীয় হওয়াটা তার আত্মসম্মানে বা ডিগনিটিতে বাধে বলে - সেই বছর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় কে ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছিল?
(A) নরেশ
(B) হিরু
(C) শ্যামা
(D) অমিয়
উত্তর: (B) হিরু - ফার্স্ট হওয়া হিরু আসলে কে ছিল?
(A) হেডমাস্টার মশাইয়ের ছেলে
(B) স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো
(C) ডি.এস.পি-র আত্মীয়
(D) নরেশের ছোট ভাই
উত্তর: (B) স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো - পরীক্ষার হলে বসে চন্দ্রনাথ হিরুকে নিজের খাতা থেকে ক’টি অঙ্ক টুকে নিতে সাহায্য করেছিল?
(A) দুটি
(B) তিনটি
(C) চারটি
(D) সবকটি অঙ্ক
উত্তর: (B) তিনটি - প্রাইজ প্রত্যাখান করার ঘটনায় চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথ বাবু তাকে কার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে আদেশ করেছিলেন?
(A) হিরুর কাছে
(B) হেডমাস্টার মশাইয়ের কাছে
(C) স্কুলের সেক্রেটারির কাছে
(D) নরেশের কাছে
উত্তর: (B) হেডমাস্টার মশাইয়ের কাছে - নরেশ যখন চন্দ্রনাথের ঘরে গিয়েছিল, তখন সে চন্দ্রনাথকে কী করতে দেখেছিল?
(A) অঘোরে ঘুমাতে
(B) একটা কাগজে স্কুলের সকলের রেজাল্ট তৈরি করতে
(C) মন দিয়ে খেতে
(D) ফুঁপিয়ে কাঁদতে
উত্তর: (B) একটা কাগজে স্কুলের সকলের রেজাল্ট তৈরি করতে - চন্দ্রনাথের কোন্ বিশেষ বিষয়ে গোল্ড মেডেল বা স্বর্ণপদক পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল?
(A) বাংলা
(B) ইতিহাস
(C) অঙ্ক
(D) ভূগোল
উত্তর: (C) অঙ্ক - “মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত”— এই হিন্দি প্রবাদটির মধ্য দিয়ে চন্দ্রনাথের চরিত্রের কোন্ দিকটি সবথেকে বেশি ফুটে উঠেছে?
(A) অস্থিরতা
(B) একগুঁয়েমি
(C) নিজের কথার প্রতি চরম দৃঢ়তা বা অটলতা
(D) ভীরুতা
উত্তর: (C) নিজের কথার প্রতি চরম দৃঢ়তা বা অটলতা - চন্দ্রনাথের হিসেব অনুযায়ী, সে নিজে কত নম্বর পেলে তবেই ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করবে?
(A) ৫০০ নম্বর
(B) ৫২৫ নম্বর
(C) ৫৫০ নম্বর
(D) ৬০০ নম্বর
উত্তর: (B) ৫২৫ নম্বর - হিরুর বাড়িতে কী উপলক্ষে বিশাল ভোজ বা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল?
(A) হিরুর জন্মদিন উপলক্ষে
(B) হিরুর বিবাহ উপলক্ষে
(C) হিরুর স্কলারশিপ প্রাপ্তি উপলক্ষে
(D) বিশেষ পূজা উপলক্ষে
উত্তর: (C) হিরুর স্কলারশিপ প্রাপ্তি উপলক্ষে - চন্দ্রনাথ হিরুকে লেখা চিঠিতে ‘প্রিয়বরেষু’ শব্দটি কেটে দিয়ে তার বদলে কী লিখেছিল?
(A) সুহৃদেষু
(B) প্রীতিভাজনেষু
(C) শ্রদ্ধাস্পদেষু
(D) স্নেহাস্পদেষু
উত্তর: (B) প্রীতিভাজনেষু - চন্দ্রনাথ সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখান করলে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কে তাকে একটি ‘স্পেশাল প্রাইজ’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
(A) হেডমাস্টার মশাই
(B) স্কুলের সেক্রেটারি (হিরুর কাকা)
(C) নিশান নাথ বাবু
(D) স্বয়ং হিরু
উত্তর: (B) স্কুলের সেক্রেটারি (হিরুর কাকা) - গল্পের কথক নরেশ মামার বাড়ি থেকে ঠিক ক’টার ট্রেনে ফিরে এসেছিল?
(A) বিকেল চারটের ট্রেনে
(B) বিকেল পাঁচটের ট্রেনে
(C) সন্ধ্যা ছ’টার ট্রেনে
(D) রাত সাতটার ট্রেনে
উত্তর: (B) বিকেল পাঁচটের ট্রেনে - পরীক্ষার পর পড়াশোনার জন্য হিরুকে কোন্ শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল?
(A) বর্ধমান
(B) কলকাতা
(C) সিউড়ি
(D) আসানসোল
উত্তর: (B) কলকাতা - গল্পে চন্দ্রনাথের বাড়ি বা ঘরটির পরিবেশ কেমন বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
(A) অত্যন্ত রাজকীয়
(B) চরম দারিদ্র্য-জীর্ণ ও শ্রীহীন
(C) সুন্দর দোতলা বাড়ি
(D) খুব সুন্দর করে সাজানো
উত্তর: (B) চরম দারিদ্র্য-জীর্ণ ও শ্রীহীন - স্কুলের হেডমাস্টার মহাশয়ের একটি বিশেষ বদভ্যাস বা অভ্যাস কী ছিল?
(A) সারাক্ষণ বই পড়া
(B) তামাক বা নস্যি নেওয়া
(C) ক্লাসে বসে ঘুমানো
(D) ঘুরে বেড়ানো
উত্তর: (B) তামাক বা নস্যি নেওয়া - হিরুর কাকার দেওয়া স্পেশাল প্রাইজের প্রস্তাবটিকে চন্দ্রনাথ কেমন প্রস্তাব বলে আখ্যা দিয়েছিল?
(A) খুব শ্রেষ্ঠ
(B) অত্যন্ত অপমানজনক
(C) মহৎ
(D) অদ্ভুত
উত্তর: (B) অত্যন্ত অপমানজনক - “Shame in crowd but solitary pride”— এই বিখ্যাত ইংরেজি উক্তিটি কে করেছিলেন?
(A) চন্দ্রনাথ নিজে
(B) স্কুলের হেডমাস্টার মশাই
(C) কথক নরেশ
(D) হিরু
উত্তর: (B) স্কুলের হেডমাস্টার মশাই - হিরুর বাবার একান্ত ইচ্ছা ছিল হিরুকে বিলেতে পাঠিয়ে কী পড়ার সুযোগ করে দেবেন?
(A) ডাক্তারি
(B) আই. সি. এস (I.C.S)
(C) ইঞ্জিনিয়ারিং
(D) ব্যারিস্টারি
উত্তর: (B) আই. সি. এস (I.C.S) - নরেশ যখন শেষবারের মতো চন্দ্রনাথের বাড়িতে যায়, তখন সে সেখানে গিয়ে কী দেখেছিল?
(A) বাড়িতে উৎসব চলছে
(B) পুরো নির্জন বাড়িটা খাঁ খাঁ করছে
(C) চন্দ্রনাথ মন দিয়ে পড়ছে
(D) চন্দ্রনাথের বিয়ে হচ্ছে
উত্তর: (B) পুরো নির্জন বাড়িটা খাঁ খাঁ করছে - চন্দ্রনাথের চিঠিতে কোন্ বিশেষ রক্তের তেজ বা অহংকারের কথা উল্লেখ ছিল?
(A) বাঙালি রক্তের
(B) ব্রাহ্মণ রক্তের
(C) আর্য রক্তের
(D) জমিদার বংশের রক্তের
উত্তর: (B) ব্রাহ্মণ রক্তের - রাতের আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্র ঠিক কীসের মতো দীপ্তিতে জ্বলজ্বল করে জ্বলত?
(A) জ্বলজ্বলে হীরের মতো
(B) প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোর মতো
(C) প্রখর সূর্যের মতো
(D) পূর্ণিমার চাঁদের মতো
উত্তর: (B) প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোর মতো - চন্দ্রনাথের তৈরি করা সম্ভাব্য রেজাল্টে কথক নরেশ কোন্ ডিভিশন পেয়েছিল?
(A) ফার্স্ট ডিভিশন
(B) সে ফেল করেছিল
(C) থার্ড ডিভিশন
(D) সে স্কলারশিপ পেয়েছিল
উত্তর: (C) থার্ড ডিভিশন - হিরু তার প্রাপ্ত চিঠিতে চন্দ্রনাথের কোন্ জিনিসটি খুঁজে পেয়েছিল?
(A) কিছু জমানো অর্থ
(B) একটি অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন
(C) প্রচণ্ড ঘৃণা
(D) নানা ধরনের উপদেশ
উত্তর: (B) একটি অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন - চন্দ্রনাথের মতে, তার সাথে স্কুলের যাবতীয় পাওনাগণ্ডা কত দিনের মাইনে দিয়ে পুরোপুরি মিটে গেছে?
(A) এক মাসের
(B) দু-তিন মাসের
(C) ছয় মাসের
(D) এক বছরের
উত্তর: (B) দু-তিন মাসের - গল্পের একেবারে শেষে কথক চন্দ্রনাথকে কোন্ দিকে চলে যেতে দেখেছেন বলে কল্পনা করেছেন?
(A) পশ্চিম দিকে
(B) দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের শেষ প্রান্তে
(C) উত্তর দিকে
(D) দক্ষিণ দিকে
উত্তর: (B) দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের শেষ প্রান্তে - “এই দাম্ভিকটা যেন ফেল হয়”— এখানে নরেশ কোন্ ‘দাম্ভিক’ ছেলেটির ফেল করার কামনা করেছিল?
(A) নরু
(B) হীরু
(C) অবিনাশ
(D) চন্দ্রনাথ
উত্তর: (D) চন্দ্রনাথ - “… আমার অন্যায় হলো।” – বক্তা অর্থাৎ হেডমাস্টার মশাই নিজের কোন্ কাজটিকে সবচেয়ে বড়ো অন্যায় বলে মনে করেছিলেন?
(A) চন্দ্রনাথের চিঠিটা হাত পেতে গ্রহণ করা
(B) নিশানাথ বাবুকে ডেকে এনে বিদ্যালয়ের ঘটনাটি জানানো
(C) চন্দ্রনাথের পারিবারিক ব্যাপারে কথা বলা
(D) অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা
উত্তর: (B) নিশানাথ বাবুকে ডেকে এনে বিদ্যালয়ের ঘটনাটি জানানো - “দিস ইজ ম্যাথম্যাটিকস।” – হেডমাস্টার মশাইয়ের বলা এই ‘ম্যাথম্যাটিকস’ কথাটির আসল অর্থ কী?
(A) অনুপাতের সাধারণ গাণিতিক নিয়ম
(B) হীরুর কাকার কোনো গোপন কৌশল
(C) পরীক্ষার কঠিন একটি প্রশ্নপত্র
(D) শিক্ষকদের আদর্শহীনতা বা নীতিহীনতা
উত্তর: (A) অনুপাতের সাধারণ গাণিতিক নিয়ম - প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন বা পুরস্কার বিতরণের দিন চন্দ্রনাথ কী দুঃসাহসিক কাজ করেছিল?
(A) সে পরীক্ষার সব অনিয়মের কথা সবার সামনে ফাঁস করে দিয়েছিল
(B) সে দ্বিতীয় প্রাইজ প্রত্যাখান করে হেডমাস্টারকে চিঠি ধরিয়ে দিয়েছিল
(C) সে বাড়ি থেকে চিরতরে পালিয়ে গিয়েছিল
(D) সে দ্বিতীয় পুরস্কারকেই হাসিমুখে গ্রহণ করেছিল
উত্তর: (B) সে দ্বিতীয় প্রাইজ প্রত্যাখান করে হেডমাস্টারকে চিঠি ধরিয়ে দিয়েছিল - “আজ থেকে আমরা পৃথক” — চরম রাগের মাথায় এ কথাটি কে কাকে বলেছিল?
(A) নিশানাথ বাবু চন্দ্রনাথকে
(B) চন্দ্রনাথের বৌদি নিশানাথকে
(C) হেডমাস্টার মশাই চন্দ্রনাথকে
(D) হিরু নরেশকে
উত্তর: (A) নিশানাথ বাবু চন্দ্রনাথকে
চন্দ্রনাথ গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ – ১ নম্বর) | Class 9 Chandranath SAQ Question Answer
- প্রশ্ন: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পে চন্দ্রনাথের সাথে আকাশের কোন্ নক্ষত্রের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়?
উত্তর: রাতের আকাশে থাকা খড়্গধারী ও বিশাল আকৃতির ‘কালপুরুষ’ নক্ষত্রের সাথে চন্দ্রনাথের বলিষ্ঠ চেহারা এবং তার একাকী চলার ধরনের অপূর্ব সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। - প্রশ্ন: গল্পে চন্দ্রনাথের শারীরিক গঠন বা চেহারার বর্ণনা কীভাবে দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: চন্দ্রনাথ ছিল দীর্ঘদেহী, সবল ও সুস্থ স্বাস্থ্যের অধিকারী। তার নাকটা সামান্য স্ফীত ছিল এবং তার চোখগুলো ছিল বেশ বড়ো বড়ো ও উজ্জ্বল। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের কপালে থাকা সেই বিশেষ ত্রিশূল-চিহ্নটি কখন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত?
উত্তর: যখনই চন্দ্রনাথ সামান্য উত্তেজিত হতো বা রাগে তার রক্তের চাপ বেড়ে যেত, তখনই তার কপালের মাঝখানের শিরাগুলো ফুলে গিয়ে একটি ত্রিশূল-চিহ্নের মতো আকার ধারণ করত। - প্রশ্ন: প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশনের দিন হেডমাস্টার মশাই নরেশকে চন্দ্রনাথের কাছে কী খবর আনতে পাঠিয়েছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ হঠাৎ করে কেন স্কুলের সেকেন্ড প্রাইজ (দ্বিতীয় পুরস্কার) নিতে অস্বীকার করেছে এবং হেডমাস্টারকে চিঠি দিয়েছে, সেই আসল কারণটি জানতেই তিনি নরেশকে পাঠিয়েছিলেন। - প্রশ্ন: নরেশ যখন চন্দ্রনাথের জীর্ণ বাড়িতে যায়, তখন চন্দ্রনাথ ঘরের ভেতর কী করছিল?
উত্তর: নরেশ যখন চন্দ্রনাথের ঘরে ঢোকে, তখন সে দেখে চন্দ্রনাথ অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে একটা কাগজে ইউনিভার্সিটি পরীক্ষার একটা সম্ভাব্য রেজাল্ট তৈরি করছে। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের মতে হিরুর ফার্স্ট হওয়ার বা প্রথম স্থান অধিকার করার পেছনের আসল কারণ কী ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ বিশ্বাস করত যে, হিরু নিজের যোগ্যতায় ফার্স্ট হয়নি; স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো হওয়ার সুবাদে এবং তাদের প্রাইভেট টিউটর (যিনি স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার) আগে থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেওয়ায় সে ফার্স্ট হতে পেরেছিল। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথ কেন স্কুল থেকে দেওয়া সেকেন্ড প্রাইজ বা দ্বিতীয় পুরস্কার সরাসরি রিফিউজ করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ বরাবর প্রথম হয়ে এসেছে। তাই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করাটা তার আত্মসম্মান বা ‘ডিগনিটি’-তে চরম আঘাত করেছিল বলেই সে তা রিফিউজ করেছিল। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথ বাবু চন্দ্রনাথকে কী নির্দেশ বা হুকুম দিয়েছিলেন?
উত্তর: সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যানের কথা জানতে পেরে নিশানাথ বাবু চন্দ্রনাথকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সে যেন অবিলম্বে হেডমাস্টারের কাছে গিয়ে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চায় এবং পুরস্কারটি গ্রহণ করে। - প্রশ্ন: দাদার দেওয়া সেই নির্দেশের উত্তরে চন্দ্রনাথ কী বলেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট গলায় ‘না’ বলে তার দাদার সেই আপসমূলক নির্দেশটি মুখের ওপর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল। - প্রশ্ন: নিশানাথ বাবুর সাথে চন্দ্রনাথের এই বিবাদের চূড়ান্ত পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল?
উত্তর: নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে চন্দ্রনাথ দাদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং নিজের ভাগের সমস্ত পারিবারিক সম্পত্তি ত্যাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। - প্রশ্ন: গল্পে উল্লিখিত হিরু ছেলেটি আসলে কে ছিল?
উত্তর: হিরু ছিল চন্দ্রনাথ এবং নরেশের এক সহপাঠী, যে সম্পর্কে স্কুলের ক্ষমতাশালী সেক্রেটারি মশাইয়ের নিজের ভাইপো ছিল। - প্রশ্ন: হিরুর কাকা (সেক্রেটারি) চন্দ্রনাথকে যে ‘স্পেশাল প্রাইজ’-এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার প্রতি চন্দ্রনাথের মনোভাব কেমন ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ সেই স্পেশাল প্রাইজের প্রস্তাবটিকে নিজের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক আখ্যা দিয়ে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের লেখা চিঠিটি দেখে কথক নরেশ কেন অবাক হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ চিঠিতে স্নেহের কোনো সম্বোধনের বদলে কেটে কেটে ‘প্রীতিভাজনেষু’ লিখেছিল। চিঠির ভাষার মধ্যে বন্ধুত্বের চেয়ে এক ধরনের কাঠিন্য ও গাম্ভীর্য বেশি ছিল বলেই নরেশ অবাক হয়েছিল। - প্রশ্ন: নটেগাছ মুড়িয়ে যাওয়ার বিখ্যাত রূপকথার প্রসঙ্গটি এই গল্পে কেন ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: রূপকথার গল্প সাধারণত নটেগাছ মুড়ানোর সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু চন্দ্রনাথের জীবনের সেই অদম্য ও একাকী যাত্রা যে সেখানে শেষ হয়নি, বরং নতুন করে শুরু হয়েছিল— সেটি বোঝাতেই এই প্রসঙ্গটি এসেছে। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের বাড়ি ছেড়ে বিদায় নেওয়ার লগ্নে আকাশের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের বিদায়লগ্নে রাতের আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্র তার স্নিগ্ধ আভা ছড়িয়ে জ্বলজ্বল করছিল এবং তার সামনে ছিল এক দিগন্ত বিস্তৃত নির্জন প্রান্তর। - প্রশ্ন: “বোধ হয় সেদিন সে সময়ে ভাবিয়াছিলাম…” — কথক নরেশ সেদিন ঠিক কী ভেবেছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ যখন দাদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়াটাকে ‘ভালোই হলো’ বলে দাবি করেছিল, তখন তার সেই চরম অহংকারী আচরণ দেখে নরেশ ভেবেছিলেন যে চন্দ্রনাথের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথ পরীক্ষার হলে বসে হিরুকে ঠিক কীভাবে সাহায্য করেছিল?
উত্তর: অঙ্কের পরীক্ষার দিন চন্দ্রনাথ তার নিজের খাতা থেকে হিরুকে তিনটে অঙ্ক টুকে নিতে সাহায্য করেছিল। - প্রশ্ন: “দিস ইজ ম্যাথম্যাটিকস”— হেডমাস্টার মশাইয়ের বলা এই ‘ম্যাথম্যাটিকস’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: হেডমাস্টার মশাই এখানে ‘ম্যাথম্যাটিকস’ বলতে অনুপাতের সেই অমোঘ গাণিতিক নিয়মের কথা বুঝিয়েছেন, যেখানে একদিক কমলে অন্যদিকও কমে যায়। অর্থাৎ, নৈতিক অবক্ষয়ের অনুপাত। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের দাদাকে নতশিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথক নরেশের মনে কী ভাবনা এসেছিল?
উত্তর: নরেশ বুঝতে পেরেছিলেন যে, ভাইয়ের এমন চরম উদ্ধত আচরণে অত্যন্ত ব্যথিত ও অপমানিত বোধ করে ভদ্রলোক নিজের আবেগ ও কষ্টকে কোনোমতে চেপে রাখার চেষ্টা করছেন। - প্রশ্ন: “… তোমার বৌদি বলতো…” — চন্দ্রনাথের বৌদি নিশানাথ বাবুকে কী বলতেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের বৌদি নিশানাথ বাবুকে প্রায়ই বলতেন যে, চন্দ্রনাথ বয়সের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনচেতা এবং একগুঁয়ে হয়ে উঠেছে। - প্রশ্ন: “এইটেই আমার কাছে তার স্মৃতিচিহ্ন।”— হিরু কোন্ জিনিসটিকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে হিরুকে উদ্দেশ্য করে যে চিঠিটি লিখে রেখে গিয়েছিল, হিরু সেই চিঠিটিকেই চন্দ্রনাথের অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছিল। - প্রশ্ন: স্কুলের সাথে চন্দ্রনাথ কীভাবে নিজের সব সম্পর্ক ও পাওনাগণ্ডা মিটিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে স্কুলের দুই-তিন মাসের বাড়তি বেতন একসঙ্গে মিটিয়ে দিয়ে স্কুলের সাথে তার সমস্ত সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করেছিল। - প্রশ্ন: “Shame in crowd but solitary pride”— হেডমাস্টার মশাইয়ের বলা এই কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, শখের সাহিত্যচর্চা বা নিজের কোনো বিশেষ প্রতিভা দশজনের সামনে প্রকাশ করতে হয়তো সংকোচ বোধ হতে পারে, কিন্তু নিজের কাছে নিভৃতে তা সব সময়ই এক পরম গর্বের বিষয়। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার দৃশ্যটি কথক নরেশ কীভাবে কল্পনা করেছিলেন?
উত্তর: নরেশ কল্পনা করেছিলেন যে, কিশোর চন্দ্রনাথ তার কাঁধে একটি লাঠির প্রান্তে পোঁটলা বেঁধে রাতের অন্ধকারে একাকী নির্জন পথ ধরে অজানার উদ্দেশ্যে হেঁটে চলেছে। - প্রশ্ন: কথক নরেশ হেডমাস্টার মশাইকে চন্দ্রনাথের কাছে যেতে কেন নিষেধ করেছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ তার সিদ্ধান্তে এতটাই অটল এবং একগুঁয়ে ছিল যে, সে হেডমাস্টার মশাইয়ের অনুরোধও হয়তো শুনবে না— এই ভেবেই নরেশ হেডমাস্টারকে তার কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে তাঁকে অপমানিত হতে না হয়। - প্রশ্ন: “বোর্ডিং-এ আসিয়া মাস্টারমহাশয়কে সংবাদটা দিতে গিয়া দেখিলাম…”— নরেশ বোর্ডিংয়ে এসে কী দেখেছিলেন?
উত্তর: বোর্ডিংয়ে ফিরে এসে নরেশ দেখেছিলেন যে, স্কুলের হেডমাস্টার মশাই অত্যন্ত চিন্তান্বিত এবং বিমর্ষ অবস্থায় একা চুপ করে বসে আছেন। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের সাথে কথক নরেশ এবং হিরুর সম্পর্ক কী ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ, নরেশ এবং হিরু— এরা তিনজনই ছিল একই স্কুলের একই ক্লাসের ছাত্র বা সহপাঠী। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথ তার চিঠিতে হিরুকে প্রথমে কী বলে সম্বোধন করেছিল এবং পরে তা কেটে কী লিখেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ তার চিঠিতে প্রথমে বন্ধুত্বের খাতিরে ‘প্রিয়বরেষু’ লিখেছিল, কিন্তু পরে তার মনে পড়ে যাওয়া দূরত্বের কথা ভেবে সেটি কেটে অত্যন্ত কাঠিন্যের সাথে ‘প্রীতিভাজনেষু’ লিখেছিল। - প্রশ্ন: হেডমাস্টার মশাইয়ের শারীরিক গঠনের যে বর্ণনা গল্পে দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করো।
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে হেডমাস্টার মশাইকে একজন শীর্ণ, দীর্ঘকায় এবং অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। - প্রশ্ন: কোথা থেকে ফেরার পথে কথক নরেশ চন্দ্রনাথের কথা ভাবছিলেন?
উত্তর: গল্পকথক নরেশ কলকাতার সার্কুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে চন্দ্রনাথের কথা ভাবছিলেন।
চন্দ্রনাথ গল্পের ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chandranath 2 Marks Question Answer
- প্রশ্ন: তারাশঙ্করের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পে কালপুরুষ নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রনাথের কোন্ কোন্ দিক থেকে সাদৃশ্য বা মিল রয়েছে?
উত্তর: রাতের আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্র যেমন একাকী, স্বমহিমায় উজ্জ্বল এবং খড়্গ হাতে দীপ্তিমান, চন্দ্রনাথের চরিত্রটিও ঠিক তেমনই। চন্দ্রনাথের স্বাধীনচেতা মানসিকতা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং নিজের পথে একলা ও অদম্য সাহসে এগিয়ে চলার ভঙ্গি দেখেই কথকের মনে এই অপূর্ব সাদৃশ্যের কথা মনে হয়েছিল। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের কপালে বা ললাটে ফুটে ওঠা বিশেষ ত্রিশূল-চিহ্নটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: চন্দ্রনাথের চওড়া কপালের ঠিক মাঝখানে তিনটি শিরা এমনভাবে মিলেছিল যা দেখতে অবিকল একটি ত্রিশূলের মতো মনে হতো। সাধারণত এটি বোঝা না গেলেও, যখনই সে সামান্য উত্তেজিত হতো বা রাগে তার রক্তচাপ বেড়ে যেত, তখন শিরাগুলো ফুলে উঠে ওই ত্রিশূল-চিহ্নটি কপালে দপদপ করে ফুটে উঠত। - প্রশ্ন: স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ কেন সেকেন্ড প্রাইজ বা দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ নিজের মেধার প্রতি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরীক্ষার হলে সে নিজেই হিরুকে তিনটি কঠিন অঙ্ক টুকে নিতে সাহায্য করেছিল। তাই নিজের থেকে কম মেধার ছেলের কাছে প্রথম স্থান হারিয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করাটা তার আত্মসম্মানে বা ‘ডিগনিটি’-তে চরম আঘাত করেছিল বলেই সে তা প্রত্যাখ্যান করে। - প্রশ্ন: দাদা নিশানাথ বাবু হঠাৎ করে ভাই চন্দ্রনাথের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বা ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ স্কুলের সেকেন্ড প্রাইজ নিতে অস্বীকার করেছিল, যা নিশানাথ বাবুর কাছে এক বিরাট স্পর্ধা বলে মনে হয়েছিল। এরপর তিনি যখন চন্দ্রনাথকে হেডমাস্টার মশাইয়ের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে এবং পুরস্কারটি গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন, তখন চন্দ্রনাথ তাঁর মুখের ওপর সোজা ‘না’ বলে সেই নির্দেশ অবমাননা করে। ভাইয়ের এই চরম ঔদ্ধত্য দেখেই তিনি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। - প্রশ্ন: ইউনিভার্সিটি পরীক্ষার রেজাল্ট সম্পর্কে চন্দ্রনাথের নিজস্ব অনুমান ঠিক কেমন ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে নিখুঁত গাণিতিক হিসেব কষে নরেশকে জানিয়েছিল যে, ৫২৫ নম্বরের কম পেলে সে কিছুতেই ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করতে পারবে না। শুধু নিজের রেজাল্ট নয়, স্কুলের অন্যান্য ছাত্রদের রেজাল্ট নিয়েও তার অনুমান এতটাই নিখুঁত ছিল যে, বাস্তবে ঠিক তেমনই ফলাফল হয়েছিল। - প্রশ্ন: হিরুর কাকার (সেক্রেটারি) দেওয়া ‘স্পেশাল প্রাইজ’-এর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চন্দ্রনাথ কী জবাব দিয়েছিল?
উত্তর: হিরুর কাকা পরিস্থিতি সামাল দিতে চন্দ্রনাথকে একটি স্পেশাল প্রাইজ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে চন্দ্রনাথ তা নিজের জন্য চরম অপমানজনক বলে মনে করে। সে তীব্র শ্লেষের সাথে জানায় যে, তার গুরুদক্ষিণা দেওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে এবং দুই-তিন মাসের বাড়তি বেতন দিয়ে স্কুলের সাথে তার সমস্ত পাওনাগণ্ডা ইতিমধ্যেই সে মিটিয়ে দিয়েছে। - প্রশ্ন: “Shame in crowd but solitary pride”— হেডমাস্টার মশাইয়ের করা এই উক্তিটির প্রেক্ষাপট বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: চন্দ্রনাথ যখন সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখান করে, তখন হেডমাস্টার মশাই তার মানসিকতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উক্তিটি করেছিলেন। এর অর্থ হলো, সবার সামনে বা জনসমক্ষে নিজের কোনো শখ বা জেদ প্রকাশ করতে মানুষ হয়তো কিছুটা লজ্জিত বোধ করতে পারে, কিন্তু নিজের কাছে বা নিভৃতে তা চিরকালই এক পরম আত্মতৃপ্তি ও অহংকারের বিষয় হয়েই থাকে। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথ হিরুকে লেখা চিঠির শুরুতে ‘প্রিয়বরেষু’ শব্দটি লিখেও পরে তা কেটে দিয়েছিল কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ মনে করত যে হিরুর সাথে তার সম্পর্ক আর আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নেই, বরং সেখানে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। হিরু যে নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং প্রাইভেট মাস্টারের চাতুরিতে ফার্স্ট হয়েছে, সেটা চন্দ্রনাথ জানত। তাই মিথ্যে বন্ধুত্বের খাতিরে লেখা ‘প্রিয়বরেষু’ শব্দটি কেটে দিয়ে সে অত্যন্ত কাঠিন্যের সাথে ‘প্রীতিভাজনেষু’ লিখেছিল। - প্রশ্ন: হিরুর স্কলারশিপ পাওয়ার খুশিতে যেদিন উৎসব হচ্ছিল, সেদিন চন্দ্রনাথের বাড়ির পরিবেশ কেমন ছিল?
উত্তর: হিরুর বাড়িতে যেদিন আলো ও বাজনা দিয়ে বিশাল উৎসবের আয়োজন চলছিল, ঠিক সেই রাতেই নরেশ দেখেছিল চন্দ্রনাথের জীর্ণ বাড়িটি অন্ধকারে খাঁ খাঁ করছে। বাড়ির সামনের উঠোনটা জনশূন্য এবং চন্দ্রনাথের শয়নকক্ষের দরজায় একটা সস্তা দামের তালা ঝুলছে, যা তার একাকী প্রস্থান ও চরম দারিদ্র্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। - প্রশ্ন: হেডমাস্টার মহাশয় কেন হঠাৎ করে তাঁর প্রিয় ছাত্র চন্দ্রনাথকে ‘তুই’ থেকে ‘তুমি’ সম্বোধন করতে শুরু করেছিলেন?
উত্তর: হেডমাস্টার মশাইয়ের মতে, কোনো ছাত্র যখন তার নিজস্ব অধিকারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায় বা নিজের আত্মমর্যাদাবোধ দিয়ে শিক্ষকেরও উর্ধ্বে এক স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করে নেয়, তখন সেখানে স্নেহের ‘তুই’ সম্বোধনের চেয়ে সম্মানের ‘তুমি’ সম্বোধনটাই বেশি মানানসই। চন্দ্রনাথের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখেই তিনি এই পরিবর্তন করেছিলেন। - প্রশ্ন: কথক নরেশ কেন চন্দ্রনাথের লেখা চিঠিটি নিজের কাছে না রেখে হিরুকে ফেরত দিয়ে এসেছিল?
উত্তর: নরেশ বুঝতে পেরেছিল যে, ওই চিঠির প্রতিটি শব্দে চন্দ্রনাথের হৃদয়ের বলিষ্ঠতা এবং চরম আত্মমর্যাদাবোধ লুকিয়ে আছে। হিরু যেহেতু চন্দ্রনাথের প্রধান প্রতিযোগী ছিল, তাই হিরু যেন চিরকাল ওই চিঠিটিকে চন্দ্রনাথের একটি অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক হিসেবে সযত্নে রেখে দেয়— এই ভেবেই নরেশ চিঠিটি তাকে ফেরত দিয়েছিল। - প্রশ্ন: ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের একেবারে শেষে চন্দ্রনাথের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার যে দৃশ্যটি রয়েছে, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: গল্পের শেষ অংশে নরেশ কল্পনা করেছে যে, কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো একাকী ও দীপ্তিময় কিশোর চন্দ্রনাথ নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে বাড়ি ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে তার কাঁধের ওপর রয়েছে লাঠিতে বাঁধা একটি ছোট পোঁটলা, আর সে একাই দিগন্ত বিস্তৃত নির্জন প্রান্তরের দিকে বুক চিতিয়ে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলেছে।
চন্দ্রনাথ গল্পের ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chandranath 3 Marks Question Answer
- প্রশ্ন: “এই ত্রিশূল-চিহ্ন মোটা হইয়া ফুলিয়া ওঠে”— কখন এবং কেন এমনটা হতো?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের প্রধান চরিত্র চন্দ্রনাথের চওড়া কপালের ঠিক মাঝখানে শিরাগুলো মিলে একটি ত্রিশূলের মতো আকার তৈরি করেছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি তেমন বোঝা যেত না। কিন্তু চন্দ্রনাথ যখন কোনো কারণে সামান্য উত্তেজিত হতো, রাগে তার রক্তের চাপ বেড়ে যেত বা চরম আত্মমর্যাদাবোধে সে কারও আদেশ অমান্য করার জেদ ধরত, ঠিক তখনই সেই শিরাগুলো ফুলে উঠে ত্রিশূল-চিহ্নটি স্পষ্ট হয়ে উঠত। এটি আসলে তার ভেতরের তেজ এবং চরম বিদ্রোহী মানসিকতারই একটি দৈহিক বহিঃপ্রকাশ। - প্রশ্ন: “সেকেন্ড প্রাইজ নেওয়া আমি বিনিথ মাই ডিগনিটি বলে মনে করি”— উক্তিটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: চন্দ্রনাথ নিজের মেধা ও পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল। সে জানত যে অঙ্কের পরীক্ষায় সে নিজেই হিরুকে তিনটে কঠিন অঙ্ক টুকে নিতে সাহায্য করেছিল। তাই হিরু যখন অসাধু উপায়ে ফার্স্ট হয়, তখন তার পেছনে সেকেন্ড প্রাইজ বা দ্বিতীয় পুরস্কার নেওয়াটা চন্দ্রনাথের কাছে নিজের মেধার চরম অপমান বলে মনে হয়েছিল। সে কোনো পুরস্কারের মোহে নিজের আত্মসম্মান বা ‘ডিগনিটি’ বিসর্জন দিতে রাজি ছিল না। এই উক্তিটির মাধ্যমে তার সেই প্রবল আত্মমর্যাদাবোধই ফুটে উঠেছে। - প্রশ্ন: দাদা নিশানাথ বাবুর সাথে চন্দ্রনাথের বিবাদের আসল কারণ কী ছিল?
উত্তর: স্কুলের প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ সেকেন্ড প্রাইজ নিতে অস্বীকার করে হেডমাস্টারকে চিঠি দেওয়ায় হেডমাস্টার মশাই অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন। বড়ো ভাই হিসেবে নিশানাথ বাবু চেয়েছিলেন চন্দ্রনাথ নিজের জেদ ছেড়ে হেডমাস্টারের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রাইজটি গ্রহণ করুক। কিন্তু চন্দ্রনাথ নিজের আত্মসম্মানের প্রশ্নে অটল থাকায় সে সরাসরি দাদার আদেশ অমান্য করে। ভাইয়ের এই চরম ঔদ্ধত্যের কারণেই তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত চন্দ্রনাথ নিজের সম্পত্তির ভাগ ছেড়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। - প্রশ্ন: ইউনিভার্সিটি পরীক্ষার রেজাল্ট সম্পর্কে চন্দ্রনাথের অনুমানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: চন্দ্রনাথ শুধু অঙ্কেই কাঁচা ছিল না, বাস্তব জীবনেও সে গাণিতিক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ ছিল। সে আগে থেকেই নিখুঁত অনুমান করে নরেশকে বলেছিল যে, সে যদি ৫২৫ নম্বরের নিচে পায়, তবে সে থার্ড ডিভিশনে পাশ করবে এবং স্কুলের সার্বিক ফলাফলও অত্যন্ত খারাপ হবে। বাস্তবে যখন রেজাল্ট বেরোয়, তখন দেখা যায় চন্দ্রনাথের সেই অনুমান আক্ষরিক অর্থেই বর্ণে বর্ণে মিলে গেছে। এটি চন্দ্রনাথের অসামান্য আত্মবিশ্বাস এবং প্রখর মেধারই একটি বড়ো প্রমাণ। - প্রশ্ন: ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প অবলম্বনে হিরুর চরিত্রের সাথে চন্দ্রনাথের চরিত্রের মূল পার্থক্যটি কোথায় তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: হিরু এবং চন্দ্রনাথ দুজনেই সহপাঠী হলেও তাদের মানসিকতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। হিরু ছিল এক বিত্তবান পরিবারের সন্তান, যে কাকার প্রভাবে ও অসদুপায়ে (প্রশ্নপত্র ফাঁস করে) ফার্স্ট হতেও দ্বিধাবোধ করেনি। অন্যদিকে, চন্দ্রনাথ ছিল চরম দারিদ্র্য-জীর্ণ ঘরের ছেলে, কিন্তু তার আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রখর। সে পুরস্কার বা সামাজিক প্রতিষ্ঠার মোহে নিজের আদর্শ থেকে কখনও সরে আসেনি। হিরু যখন মিথ্যা সফলতার আনন্দে উৎসবের আলোয় মেতে থাকে, চন্দ্রনাথ তখন কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো একাকী ও নিঃসঙ্গ দীপ্তিতে নিজের জেদে অটল থাকে। - প্রশ্ন: “Shame in crowd but solitary pride”— হেডমাস্টার মশাইয়ের এই উক্তিটির প্রেক্ষাপট কী ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ যখন জেদের বশে সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখান করে, তখন হেডমাস্টার মশাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই বিখ্যাত ইংরেজি প্রবাদটি ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর মতে, চন্দ্রনাথ জনসমক্ষে বা সবার সামনে হয়তো কিছুটা লজ্জিত বা সংকুচিত বোধ করে, কিন্তু নিজের মনে বা নিভৃতে সে অত্যন্ত জেদি এবং চরম অহংকারী। চন্দ্রনাথের চরিত্রের এই নিঃসঙ্গ আভিজাত্য এবং একগুঁয়ে স্বভাবের বর্ণনা দিতেই তিনি উক্তিটি করেছিলেন। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথ হিরুকে লেখা চিঠির শুরুতে ‘প্রিয়বরেষু’ কেটে দিয়ে কেন ‘প্রীতিভাজনেষু’ লিখেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ খুব ভালো করেই জানত যে হিরু নিজের মেধার জোরে নয়, বরং চাতুরির আশ্রয় নিয়ে ফার্স্ট হয়েছে। তাই হিরুর প্রতি তার মনে বন্ধুত্বের চেয়ে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা ও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে, হিরুর এই কৃত্রিম সফলতার পর তাদের মধ্যে আর আগের মতো বন্ধুত্ব থাকা সম্ভব নয়। তাই বন্ধুত্বের খাতিরে লেখা ‘প্রিয়বরেষু’ শব্দটি কেটে দিয়ে সে অত্যন্ত কাঠিন্য ও দূরত্বের সাথে ‘প্রীতিভাজনেষু’ লিখেছিল। - প্রশ্ন: গল্পের শেষে চন্দ্রনাথের বিদায় নেওয়ার বা চলে যাওয়ার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: গল্পের একেবারে শেষে আমরা দেখতে পাই, চন্দ্রনাথ নিজের আত্মসম্মান রক্ষার্থে দাদার সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে চিরকালের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কথক নরেশ কল্পনা করেছেন যে, ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে আকাশের কালপুরুষ নক্ষত্রকে সাক্ষী রেখে কিশোর চন্দ্রনাথ একা দিগন্তের পথে এগিয়ে চলেছে। তার কাঁধে রয়েছে লাঠির প্রান্তে বাঁধা একটি ছোট পুঁটলি। এটি কোনো সাধারণ মানুষের পলায়ন নয়, এটি হলো এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, জেদি এবং আদর্শবান মানবের নতুন এক কঠিন যাত্রার সূচনা।
চন্দ্রনাথ গল্পের ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Chandranath 5 Marks Broad Question Answer
- প্রশ্ন: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প অবলম্বনে প্রধান চরিত্র চন্দ্রনাথের বৈশিষ্ট্যগুলি নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্যসাধারণ কিশোর চরিত্র। তার চরিত্রের যে বিশেষ দিকগুলি পাঠককে মুগ্ধ করে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
- অদম্য আত্মমর্যাদাবোধ: চন্দ্রনাথের চরিত্রের সবচেয়ে বড়ো গুণ হলো তার প্রবল আত্মসম্মানবোধ। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে স্কুলের সেকেন্ড প্রাইজ গ্রহণ করাটা তার কাছে ‘বিনিথ মাই ডিগনিটি’ বা আত্মমর্যাদার পরিপন্থী মনে হয়েছিল, তাই সে অবলীলায় তা প্রত্যাখ্যান করে।
- প্রখর মেধা ও আত্মবিশ্বাস: পড়াশোনায়, বিশেষত অঙ্কে চন্দ্রনাথের মেধা ছিল প্রবাদপ্রতিম। সে নিজেই নিজের রেজাল্টের নিখুঁত গাণিতিক হিসেব করতে পারত। স্কুলের পরীক্ষায় হিরুকে সে নিজেই খাতা দেখিয়ে সাহায্য করেছিল, যা তার অসামান্য আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দেয়।
- আপসহীন ও দৃঢ়চেতা: নিজের আদর্শের প্রশ্নে চন্দ্রনাথ কারও সাথে আপস করতে রাজি ছিল না। হেডমাস্টার মশাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সে বড়ো দাদা নিশানাথ বাবুর মুখের ওপর সরাসরি ‘না’ বলে দেয়। নিজের জেদ বজায় রাখতে সে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ ছেড়ে দিয়ে এক বস্ত্রে গৃহত্যাগ করতেও পিছপা হয়নি।
- নিঃসঙ্গ আভিজাত্য: চন্দ্রনাথ কারোর দয়া বা ‘স্পেশাল প্রাইজ’ চায়নি। কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো একাকী নিজের কক্ষপথে চলাই ছিল তার স্বভাব। তার এই আভিজাত্য ও জেদ তাকে সাধারণ ছাত্রদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছিল।
- প্রশ্ন: “চন্দ্রনাথ যেন গভীর রাত্রির মধ্যগগনচারী কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো”— এই অসামান্য উপমাটির সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পে কথক নরেশ তার সহপাঠী চন্দ্রনাথকে রাতের আকাশের উজ্জ্বল কালপুরুষ নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই তুলনার পেছনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
- স্বকীয় দীপ্তি ও নিঃসঙ্গতা: রাতের আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্র যেমন একাকী এবং নিজের দীপ্তিতে স্বমহিমায় উজ্জ্বল, চন্দ্রনাথও ঠিক তেমনি। সাধারণ ছাত্রদের ভিড়ে মিশে না গিয়ে সে নিজের মেধা, গাম্ভীর্য ও আদর্শের আলোয় একাই পথ চলতে ভালোবাসত।
- ভীমকায় ও খড়্গধারী রূপ: কালপুরুষ নক্ষত্রের আকার একজন খড়্গধারী বিশাল যোদ্ধার মতো। চন্দ্রনাথের দীর্ঘ বলিষ্ঠ চেহারা এবং উত্তেজিত হলে তার কপালে ফুটে ওঠা ত্রিশূল-চিহ্ন তাকে কালপুরুষের মতোই এক তেজোদীপ্ত ও লড়াকু রূপ দান করেছিল।
- অবিচল পথচলা: কালপুরুষ নক্ষত্র যেমন আকাশের বুকে কারও দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের কক্ষপথে চিরকাল আবর্তিত হয়ে চলেছে, চন্দ্রনাথও তেমনি। সমাজের ভ্রুকুটি বা দাদার রক্তচক্ষুকে পরোয়া না করে, নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে সে একাই ঘর ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। একবারের জন্যও সে পিছন ফিরে তাকায়নি।
তাই চন্দ্রনাথের চরিত্রের এই নিঃসঙ্গ আভিজাত্য ও জেদ বোঝাতে কালপুরুষের উপমাটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক হয়েছে।
- প্রশ্ন: “মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত”— প্রবাদটি গল্পের প্রেক্ষাপটে কীভাবে চন্দ্রনাথের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে?
উত্তর: “মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত” প্রবাদটির আক্ষরিক অর্থ হলো— হাতির দাঁত যেমন একবার বাইরে বেরিয়ে এলে আর কখনও ভেতরে ঢোকে না, ঠিক তেমনি সত্যিকারের খাঁটি বা দৃঢ়চেতা মানুষের মুখের কথারও কোনো নড়চড় হয় না। ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পে এই প্রবাদটি চন্দ্রনাথের চরিত্রের অটল জেদ ও পুরুষকার বোঝাতে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
চন্দ্রনাথ যখন একবার সিদ্ধান্ত নেয় যে সে সেকেন্ড প্রাইজ কিছুতেই নেবে না, তখন শত চাপেও সে নিজের সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। দাদা নিশানাথ বাবু তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করে হেডমাস্টারের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে চাইলে, চন্দ্রনাথ বারবার ‘না’ বলে নিজের কথার মর্যাদা রক্ষা করে। নিজের এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে যে বাড়ি থেকে চিরতরে বিতাড়িত হতে হবে, তা জেনেও সে একটুও বিচলিত হয়নি। সম্পত্তির মোহ বা দাদার শাসন— কিছুই তাকে তার সংকল্প থেকে টলাতে পারেনি। এটি কেবল তার একগুঁয়েমি নয়, বরং তার ইস্পাতকঠিন চারিত্রিক দৃঢ়তারই চূড়ান্ত প্রকাশ। - প্রশ্ন: ‘চন্দ্রনাথের আঘাতে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল, বিক্ষুদ্ধ হইয়া উঠিয়াছে’ — চন্দ্রনাথের পরিচয় দাও। কেন তার আঘাতে সমস্ত স্কুল চঞ্চল হয়ে উঠেছিল?
উত্তর: পরিচয়: চন্দ্রনাথ হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের প্রধান চরিত্র। সে অত্যন্ত মেধাবী, বলিষ্ঠ চেহারার অধিকারী এবং প্রখর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক কিশোর, যে কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানে না।
স্কুল চঞ্চল হওয়ার কারণ: চন্দ্রনাথের স্কুল জীবনে সে কোনোদিন দ্বিতীয় হয়নি। কিন্তু সেই বছর স্কুলের পরীক্ষায় সেক্রেটারির ভাইপো হিরু অসাধু উপায়ে (প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুবিধে পেয়ে) প্রথম স্থান অধিকার করে। চন্দ্রনাথ নিজেই অঙ্কের পরীক্ষায় হিরুকে তিনটি অঙ্ক বলে দিয়েছিল। তাই নিজের থেকে কম মেধার এক ছাত্রের কাছে প্রথম স্থান হারিয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করাটা চন্দ্রনাথ নিজের আত্মসম্মানের পরিপন্থী বলে মনে করে। সে তীব্র প্রতিবাদ স্বরূপ সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করে সোজা হেডমাস্টারকে চিঠি ধরিয়ে দেয়। স্কুলের ইতিহাসে এমন দুঃসাহসিক ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। চন্দ্রনাথের মতো একজন ছাত্রের এই অভাবনীয় ও আপসহীন প্রতিবাদী পদক্ষেপের কারণেই গোটা স্কুলে প্রবল চাঞ্চল্য ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। - প্রশ্ন: চন্দ্রনাথের গৃহত্যাগ এবং তার সেই একাকী নিরুদ্দেশ যাত্রার দৃশ্যটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: গল্পের একেবারে শেষ পর্যায়ে চন্দ্রনাথের গৃহত্যাগের এক বিষণ্ণ অথচ মহিমান্বিত চিত্র ফুটে উঠেছে। আদর্শ এবং আত্মসম্মানের সংঘাতে বড়ো দাদার সঙ্গে বিবাদের জেরে চন্দ্রনাথ নিজের সমস্ত সম্পত্তির দাবি ছেড়ে দিয়ে চিরকালের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
হিরুর বাড়িতে যেদিন স্কলারশিপ পাওয়ার আনন্দে উৎসবের রোশনাই, কথক নরেশ সেদিন চন্দ্রনাথের বাড়িতে গিয়ে দেখেন পুরো বাড়িটা অন্ধকারে খাঁ খাঁ করছে। চন্দ্রনাথের ঘরের দরজায় ঝুলছে একটা সস্তা দামের তালা, যা তার একাকী প্রস্থান ও চরম দারিদ্র্যের নীরব সাক্ষী। নরেশ কল্পনা করেন, সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে আকাশের উজ্জ্বল কালপুরুষ নক্ষত্রকে সাক্ষী রেখে কিশোর চন্দ্রনাথ একা দিগন্তের পথে এগিয়ে চলেছে। তার কাঁধে রয়েছে লাঠির প্রান্তে বাঁধা একটি ছোট পুঁটলি। এই যাত্রা কোনো সাধারণ গৃহহীনের পলায়ন নয়। এটি হলো এক জেদি, আদর্শবান ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানবের নতুন এক জীবনযুদ্ধের অদম্য যাত্রা। তার এই নিরুদ্দেশ যাত্রা পাঠকের মনে এক গভীর মহাজাগতিক বিষণ্ণতার রেশ রেখে যায়।