রাধারাণী গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণির বাংলা | Class 9 Bengali Radharani Question Answer

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবার তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ গল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।

এই পাঠ্যাংশটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে পিতৃহীনা বালিকা রাধারাণী ও তার বিধবা মায়ের অসহায় অবস্থার পাশাপাশি এক অচেনা সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্যের মধ্য দিয়ে মানবিকতার সুন্দর পরিচয় ফুটে উঠেছে।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামরাধারাণী
লেখকবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উৎসরাধারাণী উপন্যাস

এখানে আমরা গল্পের সামারি বা লেখক পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।

এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আর তোমরা যারা আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও পড়োনি, তারা সেগুলোও একবার দেখে নাও। এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—

  • এলো বৃষ্টি ঝেঁপে
  • আমার গান
  • ইলিয়াস
  • দাম
  • নব নব সৃষ্টি
  • হিমালয় দর্শন
  • নোঙর
  • খেয়া
  • আকাশে সাতটি তারা
  • আবহমান
  • ভাঙার গান
  • চিঠি
  • আমরা

এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তরও আগের পোস্টগুলোতে পেয়ে যাবে।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘রাধারাণী’ গল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link থেকে তোমরা খুব সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

তাহলে আর বেশি কথা না বাড়িয়ে, চলো শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘রাধারাণী’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর।

রাধারাণী পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Radharani MCQ Question Answer

  1. ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন্ বিখ্যাত উপন্যাসের অংশবিশেষ?
    (A) বিষবৃক্ষ
    (B) দুর্গেশনন্দিনী
    (C) রাধারাণী
    (D) আনন্দমঠ
    উত্তর: (C) রাধারাণী
  2. ছোট্ট রাধারাণী মাহেশের রথের মেলায় ঠিক কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিল?
    (A) রথের মেলা দেখতে
    (B) নিজের হাতে গাঁথা মালা বিক্রি করতে
    (C) জগন্নাথ ঠাকুর দেখতে
    (D) সমবয়সিদের সাথে খেলা করতে
    উত্তর: (B) নিজের হাতে গাঁথা মালা বিক্রি করতে
  3. গল্পে বর্ণিত ছোট্ট মেয়ে রাধারাণীর বয়স আনুমানিক কত ছিল?
    (A) দশ বছর
    (B) এগারো বছরের কিছুটা কম
    (C) বারো বছর
    (D) নয় বছর
    উত্তর: (B) এগারো বছরের কিছুটা কম
  4. রাধারাণীর মায়ের সাথে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে কার মামলা বা মোকদ্দমা চলছিল?
    (A) গ্রামের জমিদারের
    (B) পাড়াপ্রতিবেশীর
    (C) তাদেরই এক জ্ঞাতির
    (D) ব্রিটিশ সরকারের
    উত্তর: (C) তাদেরই এক জ্ঞাতির
  5. রথের দিন মেলায় গিয়েও কেন রাধারাণীর অতি যত্নে গাঁথা মালাটি বিক্রি হলো না?
    (A) কেউ মালা পরতে চায়নি বলে
    (B) প্রবল বৃষ্টির কারণে রথের মেলা ভেঙে যাওয়ায়
    (C) মালার দাম অনেক বেশি ছিল বলে
    (D) মালাটি কারোর পছন্দ হয়নি বলে
    উত্তর: (B) প্রবল বৃষ্টির কারণে রথের মেলা ভেঙে যাওয়ায়
  6. রাধারাণী মেলা থেকে কী ধরনের ফুল কুড়িয়ে এনে মালা গেঁথেছিল?
    (A) রজনীগন্ধা
    (B) জুঁই ও টগর
    (C) অচেনা বনফুল
    (D) গাঁদা
    উত্তর: (C) বনফুল
  7. রাধারাণী এবং তার মায়ের বাড়ি আসলে কোথায় ছিল?
    (A) কলকাতায়
    (B) মাহেশে
    (C) শ্রীরামপুরে
    (D) চুঁচুড়ায়
    উত্তর: (C) শ্রীরামপুরে
  8. অন্ধকারের মধ্যে রাধারাণীর সাথে থাকা সেই অপরিচিত ব্যক্তিটি মালার দাম হিসেবে কত টাকা দিয়েছিলেন?
    (A) দশ টাকা
    (B) চার পয়সা
    (C) এক টাকা
    (D) চার আনা
    উত্তর: (C) এক টাকা (যেটিকে অন্ধকারে রাধারাণী পয়সা ভেবেছিল)
  9. রাধারাণী সেই অপরিচিত দয়ালু ব্যক্তিটিকে ঠিক কীভাবে চিনতে পেরেছিল?
    (A) তাঁর রাজকীয় পোশাকে
    (B) তাঁর কণ্ঠস্বর বা গলার আওয়াজে
    (C) তাঁর শারীরিক উচ্চতায়
    (D) তাঁর নাম শুনে
    উত্তর: (B) তাঁর কণ্ঠস্বর বা গলার আওয়াজে
  10. ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর মতো সামান্য তেল কেনার টাকাও রাধারাণীর মায়ের কাছে ছিল না কেন?
    (A) চোর টাকা চুরি করে নিয়েছিল বলে
    (B) মায়ের কাছে কোনো জমানো টাকা ছিল না বলে
    (C) তেলের দাম খুব বেশি ছিল বলে
    (D) চরম অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে
    উত্তর: (D) চরম অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে
  11. রাধারাণীকে অন্ধকারে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া সেই অপরিচিত ব্যক্তিটি তার উপকারের জন্য কী পাঠিয়েছিলেন?
    (A) মিষ্টান্ন ও খাবার
    (B) কিছু ফলমূল
    (C) একজোড়া আনকোরা নতুন কাপড়
    (D) দামি অলংকার
    উত্তর: (C) একজোড়া আনকোরা নতুন কাপড়
  12. কাপড়ের দোকানদার পদ্মলোচন সাহা রাধারাণীদের কাছে কত টাকা বেশি মুনাফা নিতেন বলে গল্পে জানা যায়?
    (A) এক আনা
    (B) দু-আনা
    (C) চার আনা
    (D) পাঁচ আনা
    উত্তর: (B) দু-আনা
  13. রাধারাণীর উপকার করা সেই মহান ও দয়ালু ব্যক্তিটির আসল নাম কী ছিল?
    (A) রামানন্দ রায়
    (B) রুক্মিণীকুমার রায়
    (C) পদ্মলোচন সাহা
    (D) বঙ্কিমচন্দ্র
    উত্তর: (B) রুক্মিণীকুমার রায়
  14. ঘর ঝাঁট দেওয়ার সময় রাধারাণী কুড়িয়ে পাওয়া কাগজ বা নোটটিতে কী লেখা দেখেছিল?
    (A) অজানা কোনো ঠিকানা
    (B) রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম
    (C) বাজার করার তালিকা
    (D) কোনো নীতিকথা বা উপদেশ
    উত্তর: (B) রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম
  15. রাধারাণী ও তার মা কুড়িয়ে পাওয়া সেই নোটটির কী ব্যবস্থা করেছিলেন?
    (A) বাজারে গিয়ে খরচ করেছিলেন
    (B) শ্রীরামপুরের বাজারে গিয়ে ভাঙিয়েছিলেন
    (C) খরচ না করে সযত্নে তুলে রেখেছিলেন
    (D) তারা নোটটি হারিয়ে ফেলেছিল
    উত্তর: (C) খরচ না করে সযত্নে তুলে রেখেছিলেন
  16. “ডবল পয়সা—দেখতেছ না দুইটা বই নাই?”— অন্ধকারে পয়সা দেওয়ার সময় কথাটি কে বলেছিল?
    (A) রাধারাণী
    (B) পদ্মলোচন সাহা
    (C) রুক্মিণীকুমার রায়
    (D) জানুক
    উত্তর: (C) রুক্মিণীকুমার রায়
  17. অপরিচিত বাবুটি নতুন কাপড় জোড়াটি ঠিক কার হাত দিয়ে রাধারাণীর বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন?
    (A) নিজের চাকরের হাতে
    (B) কাপড়ের দোকানদার পদ্মলোচন সাহার মাধ্যমে
    (C) তিনি নিজেই এসে দিয়ে গিয়েছিলেন
    (D) ডাকযোগে পাঠিয়েছিলেন
    উত্তর: (B) কাপড়ের দোকানদার পদ্মলোচন সাহার মাধ্যমে
  18. রাধারাণীর মায়ের দায়ের করা মামলাটি কোন্ আদালতে হেরে গিয়েছিল?
    (A) জেলা কোর্টে
    (B) হাইকোর্টে
    (C) সুপ্রিম কোর্টে
    (D) মেদিনীপুর আদালতে
    উত্তর: (B) হাইকোর্টে
  19. চরম শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাধারাণীর মা বাধ্য হয়ে নিজের কোন্ কাজটি বন্ধ করেছিলেন?
    (A) রান্না করা
    (B) কায়িক পরিশ্রম বা শারীরিক খাটুনি
    (C) ঠাকুর পূজা করা
    (D) বাইরে ঘুরে বেড়ানো
    উত্তর: (B) কায়িক পরিশ্রম বা শারীরিক খাটুনি
  20. প্রবল বৃষ্টির মধ্যে অন্ধকার পথ দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাধারাণী কী করছিল?
    (A) আপনমনে হাসছিল
    (B) ভয়ে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছিল
    (C) গুনগুন করে গান গাইছিল
    (D) প্রাণপণে দৌড়াচ্ছিল
    উত্তর: (B) ভয়ে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছিল
  21. “কে গা তুমি কাঁদো?”— অন্ধকার পথে আচমকা এই প্রশ্নটি কে করেছিলেন?
    (A) গ্রামের কোনো পরিচিত লোক
    (B) পাহারারত প্রথম রক্ষী
    (C) অপরিচিত পথিক (রুক্মিণীকুমার রায়)
    (D) পদ্মলোচন
    উত্তর: (C) অপরিচিত পথিক (রুক্মিণীকুমার রায়)
  22. অপরিচিত পথিক নিজেকে শ্রীরামপুরের বাসিন্দা বলে পরিচয় না দিলেও রাধারাণীকে তিনি কী আশ্বাস দিয়েছিলেন?
    (A) নিজের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার
    (B) অনেক খাবার কিনে দেওয়ার
    (C) নিরাপদে তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার
    (D) প্রচুর টাকা দেওয়ার
    উত্তর: (C) নিরাপদে তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার
  23. রুক্মিণীকুমার রাধারাণীর কাছ থেকে মালাটি নেওয়ার সময় কী ছল করে মালার দাম দিয়েছিলেন?
    (A) গরিব মেয়েটিকে ভিক্ষা হিসেবে
    (B) ঠাকুরের জন্য মালার খুব প্রয়োজন— এই কথা বলে
    (C) দয়াপরবশ হয়ে
    (D) মালার আসল দাম ভেবে
    উত্তর: (B) ঠাকুরের জন্য মালার খুব প্রয়োজন— এই কথা বলে
  24. গল্পে উল্লিখিত পদ্মলোচন সাহার কাপড়ের দোকানটি কোথায় অবস্থিত ছিল?
    (A) রথের মেলায়
    (B) বাজারের ঠিক অনতিদূরে
    (C) মাহেশে
    (D) চুঁচুড়ায়
    উত্তর: (B) বাজারের ঠিক অনতিদূরে
  25. রাধারাণীর মায়ের মতে, দোকানদার পদ্মলোচন সাহা ঠিক কেমন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন?
    (A) অত্যন্ত সৎ একজন ব্যবসায়ী
    (B) পোড়ারমুখো বা খুব হিসেবী মানুষ
    (C) অত্যন্ত দয়ালু ব্যক্তি
    (D) বোকা স্বভাবের
    উত্তর: (B) পোড়ারমুখো বা খুব হিসেবী মানুষ
  26. রথের দিন কেন হঠাৎ করে মেলার ভিড় একেবারে কমে গিয়েছিল?
    (A) খুব তাড়াতাড়ি অন্ধকার হয়ে যাওয়ায়
    (B) মেলার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায়
    (C) হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে
    (D) বাঘের ভয়ে মানুষ পালিয়ে যাওয়ায়
    উত্তর: (C) হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে
  27. “এ যে বড়ো বড়ো ঠেকছে”— রাধারাণী এখানে কীসের কথা বুঝিয়েছে?
    (A) বড়ো পাথরের
    (B) পদ্মলোচনের বড়ো কথার
    (C) অপরিচিতের দেওয়া নোট বা টাকার কথা
    (D) বড়ো গাছের কথা
    উত্তর: (C) অপরিচিতের দেওয়া নোট বা টাকার কথা
  28. অন্যের টাকা পেয়েও তা খরচ না করে তুলে রাখা— এর মাধ্যমে রাধারাণী ও তাঁর মায়ের চরিত্রের কোন্ মহৎ গুণটি ফুটে উঠেছে?
    (A) চরম লোভী মানসিকতা
    (B) প্রচণ্ড জেদ ও অভিমান
    (C) চরম সততা ও নির্লোভ চিত্ত
    (D) অলসতা
    উত্তর: (C) চরম সততা ও নির্লোভ চিত্ত
  29. রাধারাণীদের যখন আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল, তখন পদ্মলোচন চার টাকার কাপড়ের দাম ঠিক কত টাকা নিতেন?
    (A) আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনা
    (B) আট টাকা সাড়ে বারো আনা
    (C) আট টাকা সাড়ে দশ আনা
    (D) সাত টাকা সাড়ে চোদ্দো আনা
    উত্তর: (A) আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনা
  30. ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে রাধারাণী অন্ধকারে পড়ে থাকা ঠিক কোন্ জিনিসটি খুঁজে পেয়েছিল?
    (A) একটি মূল্যবান স্বর্ণমুদ্রা
    (B) একটি সুন্দর ছবি
    (C) একটি টাকার নোট
    (D) মায়ের দরকারি ওষুধ
    উত্তর: (C) একটি টাকার নোট
  31. রুক্মিণীকুমার নোটটিতে নিজের নাম লিখে রেখেছিলেন কেন?
    (A) যাতে বুঝতে কোনো অসুবিধা না হয়
    (B) যাতে অন্য কেউ টাকাটা নিতে না পারে
    (C) কেউ যেন রাধারাণীদের চোর অপবাদ দিয়ে নোটটি কেড়ে নিতে না পারে
    (D) যাতে অসুবিধায় পড়তে না হয়
    উত্তর: (C) কেউ যেন রাধারাণীদের চোর অপবাদ দিয়ে নোটটি কেড়ে নিতে না পারে
  32. রাধারাণী রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে যাওয়ার ঠিক কতদিন আগে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন?
    (A) রথের দিন সকালে
    (B) রথের মেলা শুরু হওয়ার আগে
    (C) রথের মেলার পরে
    (D) রথের ঠিক পনেরো দিন আগে
    উত্তর: (B) রথের মেলা শুরু হওয়ার আগে
  33. জ্ঞাতির সাথে মামলা হওয়ার আগে রাধারাণীদের সম্পত্তির অর্থমূল্য প্রায় কত টাকা ছিল?
    (A) কুড়ি লক্ষ টাকা
    (B) তিরিশ লক্ষ টাকা
    (C) আট লক্ষ টাকা
    (D) দশ লক্ষ টাকা
    উত্তর: (D) দশ লক্ষ টাকা
  34. হাইকোর্টে মামলা হেরে যাওয়ার পর রাধারাণীর মা সুবিচারের আশায় কোথায় আপিল করেছিলেন?
    (A) সুপ্রিম কোর্টে
    (B) প্রিভি কাউন্সিলে
    (C) লোয়ার কোর্টে
    (D) জজ কোর্টে
    উত্তর: (B) প্রিভি কাউন্সিলে
  35. “সমভিব্যাহারী এই বলিয়া মূল্য দিল।” – এখানে ব্যবহৃত ‘সমভিব্যাহারী’ শব্দটির আসল অর্থ কী?
    (A) পথচলতি সঙ্গী
    (B) সমান বা সমকক্ষ
    (C) মূল্যযুক্ত কোনো জিনিস
    (D) আহার করা
    উত্তর: (A) পথচলতি সঙ্গী

নবম শ্রেণী বাংলা রাধারাণী গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ) | Class 9 Radharani SAQ Question Answer

  1. প্রশ্ন: গল্পে বর্ণিত বালিকা রাধারাণীর বয়স ঠিক কত ছিল?
    উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিবরণ অনুযায়ী রাধারাণীর বয়স তখনো এগারো বছর পূর্ণ হয়নি, অর্থাৎ সে প্রায় দশ-এগারো বছরের একটি ছোট মেয়ে ছিল।
  2. প্রশ্ন: ছোট্ট রাধারাণী একা একা মাহেশের রথের মেলায় কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিল?
    উত্তর: তার বিধবা মা হঠাৎ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় মায়ের পথ্য ও ওষুধের অর্থ জোগাড়ের উদ্দেশ্যে বনফুল দিয়ে মালা গেঁথে তা বিক্রি করতে সে মেলায় গিয়েছিল।
  3. প্রশ্ন: রাধারাণীর মাকে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছিল কেন?
    উত্তর: জ্ঞাতির সঙ্গে মামলায় সর্বস্ব হারিয়ে তিনি শারীরিক পরিশ্রমে সংসার চালাতেন; কিন্তু রথের কিছুদিন আগে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ায় সমস্ত উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা অনাহারে পড়েন।
  4. প্রশ্ন: মেলায় মালা বিক্রি না হওয়ায় বাড়ি ফেরার পথে চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন ছিল?
    উত্তর: শ্রাবণের দুর্যোগপূর্ণ আকাশ ভেঙে প্রবল বৃষ্টি নামছিল, চতুর্দিক ছিল ঘন অন্ধকারে ঢাকা এবং কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে পথচলা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
  5. প্রশ্ন: “কে গা তুমি কাঁদো?”— অন্ধকারের মাঝে এই মমতাভরা প্রশ্নটি কে করেছিলেন?
    উত্তর: বৃষ্টিভেজা অন্ধকার রাস্তায় রাধারাণীর সঙ্গে ধাক্কা লাগা এক দয়ালু অপরিচিত পথিক, যিনি আসলে ছিলেন রুক্মিণীকুমার রায়।
  6. প্রশ্ন: ঘুটঘুটে অন্ধকারেও রাধারাণী কেন অচেনা পথিকের ওপর আস্থা রেখেছিল?
    উত্তর: সেই পথিকের কণ্ঠস্বরে কোনো কপটতা ছিল না; তাঁর কথার আন্তরিকতা, আভিজাত্য ও স্নেহপূর্ণ টান শুনে বালিকা রাধারাণীর মনে কোনো ভয়ের উদ্রেক হয়নি।
  7. প্রশ্ন: রাধারাণীর তৈরি করা সেই বনফুলের মালাটির নির্ধারিত দাম কত ছিল?
    উত্তর: রাধারাণীর গাঁথা সেই মালাটির দাম ছিল মাত্র চার পয়সা।
  8. প্রশ্ন: অপরিচিত সেই সহৃদয় ব্যক্তিটি রাধারাণীর কাছ থেকে মালাটি কেন কিনে নিতে চেয়েছিলেন?
    উত্তর: বালিকাটিকে সরাসরি দান না করে তার আত্মসম্মান বজায় রাখতে তিনি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বাড়ির গৃহদেবতাকে পরানোর জন্যই তিনি একটি মালা খুঁজছিলেন।
  9. প্রশ্ন: পথিকের দেওয়া ধাতব মুদ্রাটি নেওয়ার সময় রাধারাণীর মনে কী দ্বিধা জেগেছিল?
    উত্তর: অন্ধকারের মধ্যে মুদ্রাটির আকার ও ওজন বড়ো ঠেকায় রাধারাণীর সন্দেহ হয়েছিল যে পথিকটি ভুলবশত পয়সার বদলে দামি কোনো টাকার মুদ্রা দিয়ে ফেলেছেন।
  10. প্রশ্ন: পদ্মলোচন সাহাকে দেখে রাধারাণীর মা কোন বিশেষ বিশেষণে সম্বোধন করেছিলেন?
    উত্তর: পূর্বের চড়া দাম নেওয়ার স্বভাবের কথা মনে করে রাধারাণীর মা পদ্মলোচন সাহাকে ‘পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিনসে’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
  11. প্রশ্ন: কাপড় বিক্রেতা পদ্মলোচন সাহা রাধারাণীদের কুটিরে এসে কী বার্তা দিয়েছিল?
    উত্তর: সে জানিয়েছিল যে এক অপরিচিত বাবু সম্পূর্ণ নগদ মূল্য চুকিয়ে দিয়ে রাধারাণীর জন্য একজোড়া নতুন শান্তিপুরী কাপড় কিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
  12. প্রশ্ন: কুটিরের অন্ধকার মেঝেতে হাতড়ে রাধারাণী কী বস্তু খুঁজে পেয়েছিল?
    উত্তর: রাধারাণী প্রদীপ জ্বালানোর জন্য পোড়া দেশলাই খুঁজতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে একটি কাগজের টুকরো পায়, যা আসলে ছিল একটি টাকার নোট।
  13. প্রশ্ন: কুড়িয়ে পাওয়া সেই নোটটিতে কী লেখা ছিল?
    উত্তর: সেই নোটটির ওপর স্পষ্ট অক্ষরে দাতা রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম এবং রাধারাণীর নাম লেখা ছিল।
  14. প্রশ্ন: নোটে নিজের নাম স্পষ্টভাবে লিখে রেখে যাওয়ার পেছনে রুক্মিণীকুমারের উদ্দেশ্য কী ছিল?
    উত্তর: যাতে এক দরিদ্র বালিকার হাতে বড়ো নোট দেখে সমাজের কেউ তাকে চোর বলে অপবাদ না দিতে পারে বা নোটটি ভাঙাতে গিয়ে সে কোনো বিপদে না পড়ে।
  15. প্রশ্ন: চরম অনটন সত্ত্বেও রাধারাণী ও তার মা কেন সেই নোটটি ভাঙাননি?
    উত্তর: তাঁরা ভীষণ অভাবী হলেও লোভী বা পরধনপ্রত্যাশী ছিলেন না; অযাচিত দান গ্রহণ করা তাঁদের আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত করেছিল বলেই তাঁরা নোটটি খরচ না করে তুলে রেখেছিলেন।
  16. প্রশ্ন: রথের মেলায় প্রচুর মানুষ থাকা সত্ত্বেও রাধারাণীর একটি মালাও বিক্রি হলো না কেন?
    উত্তর: রথ টানা অর্ধেক হতে না হতেই আচমকা আকাশ ভেঙে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়, ফলে মেলা তৎক্ষণাৎ ভেঙে যায় এবং লোকজন যে যার মতো বাড়ি ফিরে যায়।
  17. প্রশ্ন: পথচলতি পথিক কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চরিত্রটি বয়সে অত্যন্ত ছোট?
    উত্তর: প্রথমত বালিকার কোমল কণ্ঠস্বর শুনে এবং পরবর্তীতে অন্ধকারের মধ্যে তার ছোট হাতের কোমল স্পর্শ পেয়ে পথিক বুঝতে পেরেছিলেন যে সে এক বালিকা।
  18. প্রশ্ন: “আমার ব্যামো হয় না”— রাধারাণী কোন্ প্রসঙ্গে এই সরল উত্তরটি দিয়েছিল?
    উত্তর: ঘরে অতিরিক্ত কাপড় না থাকায় ভিজে কাপড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পথিক যখন তাকে অসুস্থ হওয়ার ভয় দেখিয়েছিলেন, তখন রাধারাণী তার অভ্যস্ততার কথা জানিয়ে একথা বলে।
  19. প্রশ্ন: কাপড় বিক্রি করে পদ্মলোচন সাহা কেন অত্যন্ত সন্তুষ্ট চিত্তে নিজের দোকানে ফিরে গিয়েছিলেন?
    উত্তর: সাধারণ কাপড়ের জন্য চার টাকার জায়গায় চতুরতার সঙ্গে আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনা দাম আদায় করতে পেরে পদ্মলোচন অত্যন্ত লাভবান ও প্রফুল্ল হয়েছিল।
  20. প্রশ্ন: রাধারাণী গভীর রাতে ঘর ঝাঁট দিতে উদ্যত হয়েছিল কেন?
    উত্তর: দীর্ঘ অনাহারের পর পথিকের দয়ায় চাল এনে মা ভাত রাঁধায়, সেই অন্ন পরিবেশন করার জন্য কুটিরের মেঝের জায়গা পরিষ্কার করতেই রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়েছিল।
  21. প্রশ্ন: জ্ঞাতির সঙ্গে মামলা হওয়ার পূর্বে রাধারাণীদের পারিবারিক সম্পত্তির আর্থিক মূল্য কত ছিল?
    উত্তর: তাঁদের পারিবারিক সহায়-সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় দশ লক্ষ টাকা।
  22. প্রশ্ন: হাইকোর্টে মামলায় হেরে যাওয়ার পরিণতিতে রাধারাণীদের কী চরম দুরবস্থা হয়েছিল?
    উত্তর: আদালতের রায় অনুযায়ী ডিক্রি জারি করে তাঁদের নিজস্ব পৈতৃক বসতবাড়ি ও ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা হয়, যার ফলে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
  23. প্রশ্ন: ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের এই বিশেষ ঘটনাটি বাংলা কোন্ ঋতু বা মাসের প্রেক্ষাপটে রচিত?
    উত্তর: গল্পটি আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের বর্ষাকালের প্রেক্ষাপটে রচিত, যেখানে মূলত শ্রাবণের প্রবল বর্ষণমুখর রথযাত্রার দিনের কথা বলা হয়েছে।
  24. প্রশ্ন: রাধারাণীর মা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কোথায় আবেদন বা আপিল জানিয়েছিলেন?
    উত্তর: হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পর সর্বস্বান্ত বিধবা সুবিচারের আশায় সুদূর লন্ডনের ‘প্রিভি কাউন্সিলে’ আপিল করেছিলেন।
  25. প্রশ্ন: ‘রাধারাণী’ কাহিনিতে মা ও মেয়ের আচরণের মাধ্যমে কোন্ চিরন্তন মানবিক গুণের প্রকাশ ঘটেছে?
    উত্তর: সীমাহীন দারিদ্র্য ও চরম দুর্ভাগ্যের মধ্যেও নীতিবোধ, সততা এবং আত্মমর্যাদা বিসর্জন না দেওয়ার অনুপম মানবিক মহত্ত্ব তাঁদের চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

নবম শ্রেণী বাংলা রাধারাণী গল্পের ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Radharani 2 Marks Question Answer

  1. প্রশ্ন: রাধারাণীদের সাজানো সংসার হঠাৎ করে কীভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল?
    উত্তর: রাধারাণীর বাবার মৃত্যুর পর তাদের এক দূরসম্পর্কের জ্ঞাতির সঙ্গে প্রায় দশ লক্ষ টাকার বিপুল সম্পত্তি নিয়ে মামলা শুরু হয়। দুর্ভাগ্যবশত, হাইকোর্টে রাধারাণীর বিধবা মা সেই মামলায় হেরে যান। ডিক্রি জারি করে তাদের পৈতৃক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলে, তারা একেবারে নিঃস্ব ও সহায় সম্বলহীন হয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
  2. প্রশ্ন: মাহেশের রথের মেলা হঠাৎ করে কেন ভেঙে গিয়েছিল?
    উত্তর: রথ টানার কাজ অর্ধেক হতে না হতেই আকাশ কালো করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। তুমুল বর্ষণ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মেলায় আসা লোকজন যে যার মতো বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়, আর এভাবেই রথের হাট বা মেলা অকালেই ভেঙে যায়।
  3. প্রশ্ন: “তা আমি ভিজি না হয় ভিজলাম”— বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছোট্ট রাধারাণী এমন কথা কেন ভেবেছিল?
    উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে গেলেও রাধারাণী বাড়ি ফেরেনি। তার মনে একটা ক্ষীণ আশা ছিল যে, বৃষ্টি কমলে হয়তো আবার লোক জমবে এবং তার বনফুলের মালাটা বিক্রি হবে। নিজের কষ্ট বা বৃষ্টিতে ভেজার চেয়েও তার অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধের টাকা জোগাড় করাটা তার কাছে অনেক বেশি জরুরি ছিল।
  4. প্রশ্ন: অন্ধকারে অচেনা পথিক রুক্মিণীকুমার কীভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে রাধারাণী নিতান্তই এক বালিকা বা ছেলেমানুষ?
    উত্তর: চারিদিকে ঘন অন্ধকার থাকায় কাউকে চোখে দেখার উপায় ছিল না। কিন্তু রাধারাণীর কান্নার আওয়াজ, তার গলার মিষ্টি স্বর এবং দুর্যোগের রাতে একা মেলায় আসার কথা শুনে অচেনা বাবুটির বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি যে সে বয়সে নেহাতই একটি ছোট মেয়ে বা বালিকা।
  5. প্রশ্ন: অচেনা পথিকের কাছ থেকে নিজের মালার দাম নিতে গিয়ে রাধারাণীর মনে কেন দ্বিধা বা কুণ্ঠা জেগেছিল?
    উত্তর: দুর্যোগের অন্ধকার রাতে এক সম্পূর্ণ অচেনা মানুষ পরম মমতায় তাকে বিপদসংকুল পথ দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছিলেন। সেই দয়ালু ও পরোপকারী মানুষটির কাছ থেকে মালার দাম হিসেবে টাকা নেওয়াটা রাধারাণীর কাছে খুব লজ্জার এবং অসম্মানের বলে মনে হয়েছিল।
  6. প্রশ্ন: কাপড়ের দোকানদার পদ্মলোচন সাহার চরিত্রের কোন্ বিশেষ দিকটি এই গল্পে ফুটে উঠেছে?
    উত্তর: পদ্মলোচন সাহা ছিলেন আদ্যোপান্ত একজন হিসেবি ও চতুর ব্যবসায়ী। অন্যের বিপদে বা দরকারে সুযোগ বুঝে সে যে কাপড়ের আসল দামের চেয়ে আরও দু-আনা বেশি মুনাফা বা লাভ করে নিত, তা থেকেই তার বৈষয়িক ও কিছুটা স্বার্থপর চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়।
  7. প্রশ্ন: রাধারাণীর এত উপকার করা সত্ত্বেও সেই অপরিচিত ব্যক্তিটি নতুন কাপড় পাঠানোর সময় নিজের নাম কেন গোপন রেখেছিলেন?
    উত্তর: দয়ালু রুক্মিণীকুমার রায় লোকদেখানো দানে একেবারেই বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি প্রচারের আড়ালে থেকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে একটি গরিব পরিবারের উপকার করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই আত্মগোপন আসলে তাঁর চরম আভিজাত্য এবং মানবিকতারই এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।
  8. প্রশ্ন: চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও রাধারাণী ও তার মা কুড়িয়ে পাওয়া নোটটি কেন খরচ না করে তুলে রেখেছিলেন?
    উত্তর: রাধারাণী ও তার মা ভীষণ গরিব হলেও তাদের মনে কোনো লোভ ছিল না। তাছাড়া নোটটি ছিল সেই দয়ালু রুক্মিণীকুমারের স্মারক। বিনা পরিশ্রমে অযাচিত এই দান গ্রহণ করা তাদের আত্মসম্মানে বেধেছিল বলেই সততার নিদর্শনস্বরূপ তারা নোটটি খরচ না করে সযত্নে তুলে রেখেছিল।
  9. প্রশ্ন: রাধারাণী যখন ভিজে কাপড়ে বাড়ি ফিরল, তখন তাদের কুটিরে কোনো আলো জ্বলছিল না কেন?
    উত্তর: মামলা মোকদ্দমায় সর্বস্ব হারিয়ে রাধারাণীরা তখন চরম দারিদ্র্যের শিকার। ঘরে একটা প্রদীপ জ্বালানোর জন্য যে সামান্য একটু তেলের প্রয়োজন, সেই তেলটুকু কেনার মতো সামর্থ্য বা পয়সাও তাদের কাছে অবশিষ্ট ছিল না। এই নিদারুণ অভাবের জন্যই তাদের ঘর ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন।
  10. প্রশ্ন: রাধারাণীদের কুটিরে কাপুড়ে পদ্মলোচন সাহাকে দেখে তারা কেন অবাক বা বিস্মিত হয়েছিল?
    উত্তর: পদ্মলোচন সাহা একজন কড়া হিসেবি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কখনও বিনা পয়সায় বা লাভে ছাড় দিয়ে কাউকে একটুকরো কাপড়ও দিতেন না। সেই মানুষটি যখন গভীর রাতে নিজে থেকে একজোড়া নতুন কাপড় নিয়ে তাদের কুটিরে হাজির হলেন, তখন বিষয়টা রাধারাণীদের কাছে রীতিমতো অবিশ্বাস্য ও অবাক করার মতো মনে হয়েছিল।
  11. প্রশ্ন: ঘোর অন্ধকারের মধ্যে রাধারাণীর কান্না কেন সেই অপরিচিত পথিকের মনকে ছুঁয়ে গিয়েছিল?
    উত্তর: শ্রাবণের দুর্যোগপূর্ণ রাতে, পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত পথে এক অসহায় বালিকার বুকফাটা আর্তনাদ শুনে পথিক রুক্মিণীকুমারের হৃদয় কেঁদে উঠেছিল। মেয়েটির কান্নার মধ্যে যে একটা চরম অসহায়তা লুকিয়ে ছিল, সেটাই তাঁর মতো একজন সহৃদয় মানুষের মনে গভীর দয়া ও মমতার উদ্রেক করেছিল।
  12. প্রশ্ন: “নূতন কলের পয়সা, তাই চকচক করছে”— মালার দাম দেওয়ার সময় বক্তা কেন এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন?
    উত্তর: সহৃদয় রুক্মিণীকুমার রায় রাধারাণীর চরম দারিদ্র্য বুঝতে পেরে তাকে সাহায্য করার জন্যই এক টাকার একটি বড়ো মুদ্রা বা নোট দিয়েছিলেন। কিন্তু আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন বালিকাটি যাতে সেটিকে দান বা ভিক্ষা ভেবে ফিরিয়ে না দেয়, তাই তিনি এটি নতুন পয়সা বলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
  13. প্রশ্ন: বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাধারাণী’ গল্পে রুক্মিণীকুমার রায়ের চরিত্রের সবচেয়ে মহৎ গুণটি কী বলে তোমার মনে হয়?
    উত্তর: রুক্মিণীকুমার রায়ের চরিত্রের সবচেয়ে বড়ো গুণ হলো তাঁর নিঃস্বার্থ পরোপকার এবং মহানুভবতা। বিপদে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে তাদের সাহায্য করা এবং সেই সাহায্যের কথা বিন্দুমাত্র প্রচার না করা— এটাই তাঁর চরিত্রের শ্রেষ্ঠ ও মহত্তম দিক।

নবম শ্রেণী বাংলা রাধারাণী গল্পের ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Radharani 3 Marks Question Answer

  1. প্রশ্ন: “রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে কতগুলি বনফুল তুলিয়া তাহার মালা গাঁথিল।”— রাধারাণী কেন মালা গেঁথেছিল? এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের কোন্ দিকটি ফুটে ওঠে?
    উত্তর: রাধারাণীর বাবা মারা যাওয়ার পর এক জ্ঞাতির সঙ্গে মামলায় হেরে তারা চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়। তার মা অন্যের বাড়িতে শারীরিক পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। কিন্তু রথের ঠিক আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়লে, ঘরে খাবার বা ওষুধ কেনার কোনো পয়সা ছিল না। মায়ের এই অসহায় অবস্থা দেখে, ওষুধ ও পথ্যের টাকা জোগাড় করার জন্যই ছোট্ট রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথের মেলায় বিক্রি করতে গিয়েছিল। এই ঘটনার মাধ্যমে রাধারাণীর গভীর মাতৃভক্তি, ধৈর্য এবং এতো অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার পরিণত মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
  2. প্রশ্ন: “অগত্যা রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।” — রথের মেলায় রাধারাণীর কান্নার কারণ কী ছিল তা ব্যাখ্যা করো।
    উত্তর: অসুস্থ মায়ের ওষুধ ও পথ্যের টাকা জোগাড় করার প্রবল আশা নিয়ে রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিল না। রথ অর্ধেক টানা হতে না হতেই মুষলধারে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। মেলার লোকজন যে যার মতো বাড়ি ফিরে যায় এবং চারদিক ফাঁকা হয়ে যায়। তবুও রাধারাণী আশা করেছিল বৃষ্টি থামলে হয়তো তার মালাটি বিক্রি হবে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও বৃষ্টি না থামায় এবং মালাটি অবিক্রীত থেকে যাওয়ায়, চরম হতাশা ও মায়ের কষ্টের কথা ভেবে রাধারাণী কাঁদতে কাঁদতে কর্দমাক্ত অন্ধকার পথে বাড়ির দিকে ফিরেছিল।
  3. প্রশ্ন: “উপকারকের নাম নোটে লেখা আছে”— রাধারাণীর মা এ কথা কেন বলেছিলেন? এর মাধ্যমে তাঁর চরিত্রের কোন্ দিকটি প্রকাশ পায়?
    উত্তর: অন্ধকার দুর্যোগের রাতে যে অচেনা দয়ালু ব্যক্তিটি রাধারাণীকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং গোপনে নতুন কাপড় পাঠিয়েছিলেন, তিনি যাওয়ার সময় রাধারাণীদের কুটিরে একটি টাকার নোট ফেলে যান। সেই নোটটিতে তাঁর নাম ‘রুক্মিণীকুমার রায়’ খোদাই করা ছিল। রাধারাণীর মা ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কোনো মহান ব্যক্তি যখন নিঃস্বার্থ উপকার করে নিজের নাম গোপন রাখতে চান, তখন তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানার একমাত্র উপায় হলো তাঁর ফেলে যাওয়া এই স্মারক বা নোটখানি। এই উক্তির মাধ্যমে রাধারাণীর মায়ের পরিণত বুদ্ধি ও দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়।
  4. প্রশ্ন: অচেনা পথিক বা রুক্মিণীকুমার রায়ের চরিত্রে মানবিকতার যে সুন্দর ছবিটি অঙ্কিত হয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
    উত্তর: অচেনা পথিক রুক্মিণীকুমার রায় কেবল রাধারাণীকে অন্ধকার পথে বিপদ থেকে বাঁচিয়ে বাড়ি পৌঁছেই দেননি, বরং তার চরম দারিদ্র্যের কথা শুনে তাকে সাহায্য করার জন্য তৎপর হয়েছিলেন। তিনি বালিকাটির আত্মসম্মানে যাতে আঘাত না লাগে, তাই কৌশলে নিজের ঠাকুরের জন্য মালার প্রয়োজন বলে তার কাছ থেকে মালাটি এক টাকা দিয়ে কিনে নেন। পরে দোকানদারের মাধ্যমে রাধারাণীর জন্য নতুন কাপড় পাঠান এবং কেউ যাতে তাদের চোর অপবাদ না দেয়, তাই নিজের নাম লেখা একটি নোট তাদের ঘরে গোপনে ফেলে যান। তাঁর এই নিঃস্বার্থ পরোপকার ও দয়া উচ্চ মানবিকতারই শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
  5. প্রশ্ন: “নোটখানি তাহারা ভাঙাইল না— তুলিয়া রাখিল।”— চরম অভাব থাকা সত্ত্বেও রাধারাণী ও তার মায়ের এই আচরণের কারণ কী?
    উত্তর: মামলা-মোকদ্দমায় সব কিছু হারিয়ে রাধারাণী ও তার মা চরম দারিদ্র্য এবং অনাহারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। রুক্মিণীকুমার নামের সেই মহান ব্যক্তি তাদের অজান্তেই একটি নোট ফেলে গিয়েছিলেন। যদিও সেই টাকাটা দিয়ে তাদের অনেক দিনের অভাব মিটে যেত, কিন্তু তারা গরিব হলেও লোভী ছিলেন না। বিনা পরিশ্রমে অযাচিতভাবে কারও দান গ্রহণ করাটা তাদের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করেছিল। তাই কৃতজ্ঞতাবোধ এবং সেই দয়ালু ব্যক্তির প্রতি সম্মান জানাতেই তারা নোটটি খরচ না করে সযত্নে তুলে রেখেছিলেন।
  6. প্রশ্ন: ‘…তাহাতেই মার পথ্য হইবে।’ – রাধারাণী কীভাবে তার মায়ের পথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করেছিল?
    উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ গল্পের প্রধান চরিত্র ছোট্ট রাধারাণী। তার মা হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের সংসারের একমাত্র আয়ের পথটিও বন্ধ হয়ে যায়। মায়ের চিকিৎসার জন্য ওষুধ ও পথ্য কেনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। তখন এই ছোট্ট বালিকাটি নিজে থেকে একটি উপায় বের করে। সে কিছু বনফুল কুড়িয়ে এনে যত্ন করে একটি মালা গাঁথে। সে ভেবেছিল, মাহেশের রথের মেলায় আসা মানুষদের কাছে মালাটি বিক্রি করে যে পয়সা পাবে, তা দিয়েই সে তার অসুস্থ মায়ের পথ্য ও ওষুধ জোগাড় করবে।
  7. প্রশ্ন: ‘সকাতরে বলিল মা! এখন কী হবে?’ – কোন্ পরিস্থিতিতে রাধারাণী একথা বলেছিল? উত্তরে তার মা কী বলেছিলেন?
    উত্তর: অন্ধকার রাতে অচেনা বাবুটি যখন রাধারাণীকে তাদের কুটিরে পৌঁছে দিয়ে চলে যান, তখন প্রদীপের আলোয় রাধারাণী দেখতে পায় যে, বাবুটি মালার দাম হিসেবে চার পয়সার বদলে একটি চকচকে এক টাকার বড়ো মুদ্রা দিয়েছেন। রাধারাণী তৎক্ষণাৎ বাবুটিকে খোঁজার জন্য কুটিরের বাইরে ছুটে যায়, কিন্তু তাঁকে আর দেখতে পায় না। তখন সে বিভ্রান্ত হয়ে মাকে উক্ত কথাটি বলে।
    এর উত্তরে তার মা সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “কী হবে বাছা! সে কি আর না জেনে টাকা দিয়েছে? সে দাতা, আমাদের দুঃখ শুনেই দান করেছে— আমরা এখন ভিখারি হয়েছি, তাই এই দান গ্রহণ করে খরচ করি।”
  8. প্রশ্ন: “কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল না।” — রাধারাণীদের এই সংস্থান না থাকার মূল কারণগুলো আলোচনা করো।
    উত্তর: রাধারাণীদের পারিবারিক অবস্থা একসময় বেশ সচ্ছল ছিল। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর এক দূর সম্পর্কের জ্ঞাতির সঙ্গে প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি নিয়ে মামলা শুরু হয়। দুর্ভাগ্যবশত, হাইকোর্টে রাধারাণীর মা সেই মামলায় হেরে যান। এরপর জ্ঞাতিরা আদালতের ডিক্রি জারি করে তাদের পিতৃপুরুষের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে। পাওনাদারদের দেনা মেটাতে তাদের নগদ টাকা ও গয়নাগাটি সব বিক্রি হয়ে যায়। প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করার পর তারা আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আর এই চরম বিপর্যয়ের ফলেই তাদের আহারের সংস্থান বন্ধ হয়ে যায়।
  9. প্রশ্ন: “রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না!” — তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় রাধারাণীর বিবাহ দিতে না পারার কারণ কী ছিল?
    উত্তর: রাধারাণীর বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মামলায় হেরে গিয়ে তাদের পরিবার সম্পূর্ণ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি, নগদ টাকা এবং গয়নাগাটি সবই তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু হারিয়ে রাধারাণীর মা অন্যের বাড়িতে কায়িক পরিশ্রম করে কোনোমতে মা-মেয়ের পেট চালাতেন। এই নিদারুণ দারিদ্র্য এবং চরম অর্থকষ্টের কারণেই রাধারাণীর মায়ের পক্ষে মেয়ের বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দেওয়া বা ভালো পাত্রস্থ করা সম্ভব হয়নি।
  10. প্রশ্ন: “তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।” — ‘রাধারাণী’ গল্প অবলম্বনে এই মন্তব্যের যথার্থতা ব্যাখ্যা করো।
    উত্তর: রথের মেলা থেকে ফেরার পথে রাধারাণীর সঙ্গে রুক্মিণীকুমার রায়ের পরিচয় হয়। তিনি রাধারাণীকে সাহায্য করার জন্য কৌশলে তার কাছ থেকে এক টাকা দিয়ে মালা কেনেন, পদ্মলোচন সাহার মাধ্যমে নতুন কাপড় পাঠান এবং নিজের নাম লেখা একটি নোটও তাদের ঘরে রেখে যান। কিন্তু রাধারাণী ও তার মা অভাবের তাড়নায় না খেতে পেলেও তাদের মনে বিন্দুমাত্র লোভ ছিল না। তাদের কাছে ওই এক টাকার সাহায্যই যথেষ্ট ছিল। তাই সেই উপকারীর স্মারক বা চিহ্নস্বরূপ তারা ওই কুড়িয়ে পাওয়া নোটটি কখনও ভাঙায়নি, বরং সযত্নে তুলে রেখেছিল। তাদের এই আচরণই প্রমাণ করে তারা দরিদ্র হলেও লোভী ছিল না।
  11. প্রশ্ন: ‘তাহাদিগের অবস্থা পূর্বে ভালো ছিল’ – পরবর্তীকালে তাদের দুর্দশার কারণ কী?
    উত্তর: লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে জানিয়েছেন যে, পিতৃহারা রাধারাণী আসলে এক ধনী পরিবারের মেয়ে ছিল। কিন্তু তাদের এই সচ্ছল অবস্থার পতন ঘটে একটি পারিবারিক মামলার কারণে। এক জ্ঞাতির সঙ্গে প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলে। সেই মামলায় রাধারাণীর মা হেরে যান। জয়ী জ্ঞাতিরা আদালতের নির্দেশ বা ডিক্রি জারি করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি কেড়ে নেয় এবং পৈতৃক ভদ্রাসন থেকে তাদের নির্মমভাবে গৃহচ্যুত করে। এই অপ্রত্যাশিত আইনি পরাজয় ও সম্পত্তিচ্যুতিই ছিল তাদের দুর্দশার মূল কারণ।
  12. প্রশ্ন: ‘সুতরাং আর আহার চলে না।’ – কাদের প্রসঙ্গে এই উক্তি? তাদের আহার বন্ধের উপক্রম হলো কেন?
    উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে এই উক্তিটি ছোট্ট রাধারাণী এবং তার হতভাগ্য বিধবা মা সম্পর্কে করা হয়েছে।
    মামলায় হেরে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর, রাধারাণীর মা শারীরিক পরিশ্রম করে কোনো রকমে তাদের গ্রাসাচ্ছাদন চালাতেন। কিন্তু রথের মেলার কিছুদিন আগে তিনি হঠাৎ ‘ঘোরতর’ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ফলে তাঁর কায়িক পরিশ্রম করার একমাত্র উপায়টিও বন্ধ হয়ে যায়। আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই তাদের আহারাদি বা খাবার জোগাড়ের ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়ে।
  13. প্রশ্ন: “আমার ব্যামো হয় না।” — কোন্ প্রসঙ্গে রাধারাণী এই কথাটি বলেছিল এবং এর মধ্য দিয়ে তার কোন্ মানসিকতার প্রকাশ পেয়েছে?
    উত্তর: শ্রাবণের অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভিজে রাধারাণী যখন অচেনা পথিকের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল, তখন পথিক তাকে বারবার ভেজা কাপড়ে থাকার জন্য অসুস্থ হওয়ার ভয় দেখাচ্ছিলেন। তখন রাধারাণী অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বলেছিল যে তার ব্যামো বা অসুখ হয় না।
    এর মধ্য দিয়ে রাধারাণীর জীবনের এক চরম রূঢ় বাস্তবতার প্রকাশ পেয়েছে। অভাবের তাড়নায় তাদের কাছে পরার মতো অতিরিক্ত কোনো শুকনো কাপড় ছিল না। তাই ভিজে কাপড়েই থাকাটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে এই যে অসহায় আপস, রাধারাণীর সরল কথার মধ্য দিয়ে সেটাই ফুটে উঠেছে।
  14. প্রশ্ন: পদ্মলোচন সাহাকে দেখে রাধারাণীর মা কেন তাকে “পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিনসে” বলেছিলেন?
    উত্তর: পদ্মলোচন সাহা ছিলেন স্থানীয় বাজারের একজন অত্যন্ত হিসেবি ও চতুর কাপড় ব্যবসায়ী। রাধারাণীদের অবস্থা যখন ভালো ছিল, তখন তিনি চার টাকার কাপড় সুযোগ বুঝে আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনায় তাদের কাছে বিক্রি করতেন। অর্থাৎ, সব সময় নিজের লাভের অঙ্কটা বেশি রাখতেন। যখন গভীর রাতে সেই পদ্মলোচন সাহাকে নতুন কাপড় নিয়ে তাদের কুটিরের দরজায় দাঁড়াতে দেখেন, তখন রাধারাণীর মা পূর্বের সেই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার রাগ ও বিরক্তি থেকেই তাকে “পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিনসে” বলে তিরস্কার করেছিলেন।
  15. প্রশ্ন: রাধারাণী যখন অন্ধকারে অচেনা পথিকের সঙ্গে আসছিল, তখন তার মনে ভয় বা সন্দেহের বদলে আস্থা তৈরি হয়েছিল কীভাবে?
    উত্তর: এক দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে, সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষের সঙ্গে নির্জন পথ দিয়ে বাড়ি ফেরা যে কোনো মানুষের পক্ষেই ভয়ের ব্যাপার। কিন্তু রাধারাণীর ক্ষেত্রে তা হয়নি। যখন পথিকটি অন্ধকারে রাধারাণীর কান্না শুনে তাকে সহানুভূতির সঙ্গে প্রশ্ন করেন এবং তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন, তখন তাঁর গলার স্বরে এক ধরনের অকৃত্রিম দয়া, মমতা এবং আভিজাত্য ছিল। পথিকের সেই আন্তরিক ও স্নেহপূর্ণ কণ্ঠস্বর শুনেই ছোট্ট রাধারাণী বুঝতে পেরেছিল যে এই মানুষটি ক্ষতিকর নন, বরং ভরসাযোগ্য।

ক্লাস ৯ বাংলা রাধারাণী গল্পের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Radharani 5 Marks Broad Question Answer

  1. প্রশ্ন: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ অবলম্বনে রাধারাণীর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের নামচরিত্র রাধারাণী এগারো বছরেরও কম বয়সি এক কিশোরী হলেও, তার চরিত্রে বেশ কিছু অসাধারণ ও পরিণত গুণের প্রকাশ ঘটেছে:
  • গভীর মাতৃভক্তি: রাধারাণী তার মমতাময়ী মায়ের জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিল। অসুস্থ ও অভুক্ত মায়ের পথ্যের খরচ জোগাড় করতে দুর্যোগের রাতে বনফুলের মালা বিক্রি করতে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া তার গভীর মাতৃভক্তিরই চরম নিদর্শন।
  • ধৈর্য ও সাহস: রথের মেলার সেই দুর্যোগময় রাতে প্রবল বৃষ্টি ও ঘন অন্ধকারে ভিজে একা একা বাড়ি ফিরে আসা তার অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেয়। বিপদে ভেঙে না পড়ে সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মালা বিক্রির আশা ছাড়েনি।
  • সততা ও নির্লোভ চিত্ত: অপরিচিত বাবুটির দেওয়া টাকা যখন সে অন্ধকারে ভুল করে নেওয়া একটি নোট বলে চিনতে পারে, তখন সে তৎক্ষণাৎ তা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। চরম দারিদ্র্য থাকা সত্ত্বেও কুড়িয়ে পাওয়া রুক্মিণীকুমারের দেওয়া নোট সে ভাঙায়নি। এর মাধ্যমে তার চরম সততা ও আত্মমর্যাদাবোধ স্পষ্ট হয়।
  • সরলতা: বালসুলভ সরলতার কারণেই সে অপরিচিত বাবুর সাহায্যকে দয়া বা ভিক্ষা হিসেবে নয়, বরং ঠাকুরের জন্য মালার ন্যায্য দাম হিসেবেই গ্রহণ করেছিল।
    পরিশেষে বলা যায়, রাধারাণী হলো দারিদ্র্যপীড়িত জীবনের এক আদর্শ প্রতিচ্ছবি, যে কেবল অভাব নয়, স্বভাবের গুণে এবং সততার জোরেও অনন্য।
  1. প্রশ্ন: “রাধারাণী রথের মেলায় গিয়ে কেন বিপদে পড়েছিল? সেই বিপদ কাটিয়ে উঠতে তাকে কে সাহায্য করেছিলেন এবং কীভাবে?” — পাঠ্যাংশ অবলম্বনে বিস্তারিত লেখো।
    উত্তর: বিপদে পড়ার কারণ: ছোট্ট রাধারাণী মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল বনফুলের মালা বিক্রি করে তার অসুস্থ মায়ের ওষুধের টাকা জোগাড় করতে। কিন্তু রথ টানা অর্ধেক হওয়ার পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। মানুষজন মেলা ছেড়ে দ্রুত প্রস্থান করায় বাজার ভেঙে যায়। একটি মালাও বিক্রি না হওয়ায় এবং প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে রাধারাণী যখন বাড়ির দিকে রওনা দেয়, তখন অন্ধকার, কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল পথে সে চরম বিপদের মুখে পড়ে।
    সাহায্যকারী ও সাহায্যের ধরন: এই ঘোর সংকটে তার দেবদূতের মতো সহায় হয়েছিলেন এক দয়ালু অপরিচিত পথিক, যাঁর নাম রুক্মিণীকুমার রায়। তিনি অন্ধকারে একাকী বালিকার আর্তনাদ শুনে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং হাত ধরে সাবধানে বাড়ি পৌঁছে দেন। রাধারাণীকে আর্থিক সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের ঠাকুরের জন্য মালার প্রয়োজন— এই ছল করে এক টাকার বড়ো নোট দিয়ে মালাটি কেনেন। এরপর তিনি পদ্মলোচন সাহার দোকানে গিয়ে নগদ অর্থে একজোড়া নতুন কাপড় কেনেন এবং তা রাধারাণীর কুটিরে পাঠিয়ে দেন। এভাবেই সেই মহান ও দয়ালু ব্যক্তি রাধারাণীকে ওই চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিলেন।
  2. প্রশ্ন: “তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।”— প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: প্রসঙ্গ: আলোচ্য অংশটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘রাধারাণী’ গল্প থেকে সংকলিত হয়েছে। অপরিচিত পথিক রুক্মিণীকুমার রায় যখন রাধারাণীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে অন্ধকারে আড়ালে চলে যান, তার কিছুক্ষণ পর রাধারাণী ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে মেঝেতে একটি কাগজ বা নোট খুঁজে পায়। দয়ালু রুক্মিণীকুমার সম্ভবত জেনেশুনেই নোটটি সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন, যাতে অভাবী পরিবারটির কিছুটা সুরাহা হয়। কিন্তু চরম অর্থকষ্টে থাকা সত্ত্বেও রাধারাণী ও তার মা সেই নোটটি ভাঙায়নি বা খরচ করেনি, বরং তা সযত্নে তুলে রেখেছিল।
    তাৎপর্য: বঙ্কিমচন্দ্র এখানে অভাবী মানুষের উন্নত মূল্যবোধ ও আত্মসম্মানবোধের এক অপূর্ব ছবি এঁকেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত আভিজাত্য বা মনুষ্যত্ব টাকার হিসেবে নয়, বরং চারিত্রিক দৃঢ়তার ওপর নির্ভর করে। রাধারাণীরা একসময় বিত্তবান ছিল, আজ ভাগ্যের ফেরে তারা নিঃস্ব। কিন্তু এই চরম অভাবের তাড়নাও তাদের বিবেক বা সততাকে বিসর্জন দিতে বাধ্য করতে পারেনি। বিনা পরিশ্রমে বা দয়া হিসেবে অন্যের টাকা গ্রহণ করা তাদের আত্মসম্মানে আঘাত করেছিল। তাই সেই নোটটিকে তাঁরা দান হিসেবে গ্রহণ করার বদলে, একজন মহান মানুষের মহানুভবতার প্রতীক হিসেবেই তুলে রেখেছিলেন। উক্তিটি সত্যিই দরিদ্র মানুষের আত্মসম্মান ও সততার জয়গান গায়।
  3. প্রশ্ন: ‘রাধারাণী’ রচনাংশ অবলম্বনে সেকালের সমাজজীবন এবং পদ্মলোচন সাহার চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো।
    উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ রচনাংশটি কোনো সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে রচিত না হলেও, এর কাহিনির প্রেক্ষাপটে সেকালের সমাজজীবনের বেশ কয়েকটি বাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে:
  • সমাজজীবন: গল্পে রাধারাণীর মায়ের নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, সেকালেও জ্ঞাতিদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ এবং মামলা-মোকদ্দমার প্রবল চল ছিল। রথের মেলা উপলক্ষ্যে গ্রামীণ মানুষের ভিড় গ্রামবাংলারই এক জীবন্ত ছবি তুলে ধরে। অন্যদিকে, চরম দারিদ্র্য মানুষকে কীভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, রাধারাণীদের অনাহারে থাকার দৃশ্য তারই প্রমাণ দেয়। এছাড়া, রাধারাণী বড়ো ঘরের মেয়ে হওয়ায় তার “একটু অক্ষরপরিচয় ছিল”— এর মাধ্যমে সেকালের মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার সীমিত প্রসারের দিকটিও ফুটে ওঠে।
  • পদ্মলোচন সাহার চরিত্র: পদ্মলোচন সাহা হলেন মাহেশ ও শ্রীরামপুর অঞ্চলের এক পরিচিত কাপড়ের ব্যবসায়ী। রাধারাণীর মায়ের মতে তিনি একজন ‘পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিনসে’। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তিনি অত্যন্ত বৈষয়িক, মুনাফাখোর এবং স্বার্থপর। রাধারাণীর বাবা যখন বিত্তবান ছিলেন, তখন পদ্মলোচন অনেকবার তাঁদের কাছে এসেছেন, কিন্তু তাঁদের এই দুঃসময়ে তিনি একবারও খোঁজ নেননি। এমনকি রুক্মিণীকুমারের পাঠানো কাপড় দিতে আসার সময়ও তিনি নিজের ভাগের দু-আনা মুনাফা ছাড়েননি। তাঁর চরিত্রের মধ্য দিয়ে তৎকালীন মধ্যবিত্ত ও অসৎ ব্যবসায়ী শ্রেণির মানসিকতাই প্রকাশ পেয়েছে।
  1. প্রশ্ন: “আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।” — বক্তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট গল্পাংশ অবলম্বনে আলোচনা করো।
    উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পাংশে রাধারাণীর অসহায় মা এই মর্মান্তিক উক্তিটি করেছেন।
    প্রেক্ষাপট: রাধারাণীর পরিবার একসময় অত্যন্ত সম্পন্ন ছিল। কিন্তু রাধারাণীর বাবার মৃত্যুর পরে এক জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে গিয়ে, হাইকোর্টে হেরে তারা সম্পূর্ণ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করতে গিয়ে তাদের গয়নাগাটি ও নগদ টাকা সবই শেষ হয়ে যায়। এরপর রাধারাণীর মা অন্যের বাড়িতে শারীরিক পরিশ্রম করে দিন কাটাতে থাকেন। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের সেই সামান্য আয়ের পথটিও বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হয়।
    এই পরিস্থিতিতে অসুস্থ মায়ের পথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করতে গেলেও প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় তা বিক্রি হয় না। ফেরার পথে এক অচেনা পথিক সব শুনে দয়াপরবশ হয়ে চার পয়সার বদলে এক টাকার নোট দিয়ে মালাটি কিনে নেন। বাড়ি ফিরে রাধারাণী যখন বুঝতে পারে যে পথিক তাকে পয়সার বদলে টাকা দিয়েছেন, তখন সে বিভ্রান্ত হয়ে মায়ের কাছে এর সমাধান জানতে চায়। তখনই বাস্তবতার নির্মম কশাঘাতে জর্জরিত মা তাঁর আত্মসম্মানকে সরিয়ে রেখে বলেন যে, দাতা তাদের অসহায় অবস্থা বুঝেই অর্থ দিয়েছেন এবং আজ তারা দরিদ্র ভিখারি বলেই সেই দান গ্রহণ করে তাদের জীবন বাঁচাতে হবে।

নবম শ্রেণির বাংলা ‘রাধারাণী’ গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর PDF Notes Free Download | Class 9 Bengali Radharani Question Answer WBBSE

রাধারাণী গল্পের PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Chapter রাধারাণী গল্প
Contents MCQ, SAQ, ২ ও ৩ নম্বর এবং বড়ো প্রশ্ন-উত্তর
PDF Notes Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment