মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় শাখা মঙ্গলকাব্য ধারার চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী (আনুমানিক ১৫৪৭ খ্রিস্টাব্দ)। তাঁর রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘অভয়ামঙ্গল’-এর আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত আমাদের পাঠ্য ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাংশটি।
তোমাদের পরীক্ষার জন্য এই কবিতাংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও বড় প্রশ্ন-উত্তর এক জায়গাতেই সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে তোমাদের বারবার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে না হয়। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে পড়ে নাও।
তোমাদের সুবিধার জন্য সমস্ত প্রশ্ন উত্তর গুলি একটি PDF নোটস বানিয়ে রাখা হয়েছে। PDF ডাউনলোড করার লিঙ্ক তোমরা নিচে পেয়ে যাবে। আপাতত এই নোটসগুলো সম্পূর্ণ ফ্রিতে দেওয়া হচ্ছে। তাই আর দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব PDF-টি ডাউনলোড করে নাও।
নবম শ্রেণি বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi MCQ Question Answer
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
1. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ পদ্যাংশটির রচয়িতা কে?
A) সৈয়দ আলাওল
B) মুকুন্দ চক্রবর্তী
C) কালিদাস
D) ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর: B) মুকুন্দ চক্রবর্তী
2. এই কবিতাটি কবির কোন মূল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
A) অন্নদামঙ্গল
B) ধর্মমঙ্গল
C) মনসামঙ্গল
D) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর: D) চণ্ডীমঙ্গল
3. “সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কা বাজ” – এখানে ‘চিকুর’ শব্দের অর্থ কী?
A) মেঘ
B) বিদ্যুৎ
C) চুল
D) বৃষ্টি
উত্তর: B) বিদ্যুৎ
4. কলিঙ্গবাসী প্রবল দুর্যোগের সময় প্রাণভয়ে কাকে স্মরণ করেছিল?
A) দেবরাজ ইন্দ্র
B) দেবী চণ্ডী
C) মহর্ষি জৈমিনি
D) দেবাদিদেব মহাদেব
উত্তর: C) মহর্ষি জৈমিনি
5. কলিঙ্গদেশে একটানা কত দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল?
A) তিন দিন
B) পাঁচ দিন
C) সাত দিন
D) নয় দিন
উত্তর: C) সাত দিন
6. “মঠ অট্টালিকা ভাঙ্গি করে খান খান” – কলিঙ্গদেশে মঠ ও অট্টালিকা কে ভেঙেছিল?
A) প্রবল ঝড়
B) বীর হনুমান
C) গজরাজ
D) দেবী চণ্ডী
উত্তর: B) বীর হনুমান
7. বীর হনুমান কার আদেশে কলিঙ্গদেশে এমন ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল?
A) দেবী চণ্ডীর
B) শিবের
C) ইন্দ্রের
D) জৈমিনির
উত্তর: A) দেবী চণ্ডীর
8. “___ গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – শূন্যস্থানে সঠিক শব্দটি কী হবে?
A) প্রলয়
B) শঙ্কা
C) বিপদ
D) ঝটিকা
উত্তর: A) প্রলয়
9. “___ উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।” – শূন্যস্থান পূরণ করো।
A) নৈঋতে
B) উত্তরে
C) ঈশানে
D) পশ্চিমে
উত্তর: C) ঈশানে
10. কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি কী ছিল?
A) রায়গুণাকর
B) কবিকঙ্কণ
C) পদরত্ন
D) বিদ্যাপতি
উত্তর: B) কবিকঙ্কণ
11. “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট ___।” – সঠিক শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
A) মেঘবালিকা
B) দিকপাল
C) গজরাজ
D) দেবতা
উত্তর: C) গজরাজ
12. কবিতায় উল্লিখিত ‘ঈশান’ বলতে কোন দিককে বোঝানো হয়েছে?
A) উত্তর-পূর্ব কোণ
B) দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ
C) উত্তর-পশ্চিম কোণ
D) দক্ষিণ-পূর্ব কোণ
উত্তর: A) উত্তর-পূর্ব কোণ
13. বর্তমান ভারতের কোন রাজ্য প্রাচীনকালে কলিঙ্গদেশ নামে পরিচিত ছিল?
A) পশ্চিমবঙ্গ
B) ত্রিপুরা
C) কর্ণাটক
D) ওড়িশা
উত্তর: D) ওড়িশা
14. “জলে ___ একাকার পথ হইল হারা।” – শূন্যস্থানে কোন শব্দটি বসবে?
A) বিশ্ব
B) মহী
C) পৃথ্বী
D) দেশ
উত্তর: B) মহী
15. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন খণ্ড থেকে নেওয়া হয়েছে?
A) দেবখণ্ড
B) বণিকখণ্ড
C) আখেটিকখণ্ড
D) বন্দনাখণ্ড
উত্তর: C) আখেটিকখণ্ড
16. চারিদিকে ঘোর অন্ধকারের কারণে কলিঙ্গবাসী কী দেখতে পাচ্ছিল না?
A) নিজেদের অঙ্গ
B) বাড়িঘর
C) পথঘাট
D) লোকজন
উত্তর: A) নিজেদের অঙ্গ
17. ‘নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন মণ্ডল।’ – এখানে ‘নিমিষেকে’ কথাটির অর্থ কী?
A) এক দিনে
B) অবশেষে
C) মুহূর্তের মধ্যে
D) সন্ধ্যেবেলা
উত্তর: C) মুহূর্তের মধ্যে
18. “করি-কর সমান বরিষে জলধারা।” – এখানে ‘করি-কর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
A) মানুষের হাত
B) হাতির শুঁড়
C) বাঘের থাবা
D) ঘোড়ার ডাক
উত্তর: B) হাতির শুঁড়
19. প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের ফলে কলিঙ্গদেশে নদীর ঢেউগুলো কেমন আকার ধারণ করেছিল?
A) আকাশসমান
B) মেঘের মতো
C) সাগরের মতো
D) পর্বততুল্য
উত্তর: D) পর্বততুল্য
20. মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যে পদের শেষে কবির নাম উল্লেখ করার রীতিকে কী বলা হয়?
A) উপাধি
B) ভণিতা
C) পদবি
D) নামাঙ্কন
উত্তর: B) ভণিতা
21. “অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ।” – এখানে ‘অম্বিকা’ হলেন-
A) দেবী সরস্বতী
B) দেবী মনসা
C) দেবী শীতলা
D) দেবী চণ্ডী
উত্তর: D) দেবী চণ্ডী
22. কবিতায় কোন মাসে অসময়ে তাল পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
A) আষাঢ়
B) শ্রাবণ
C) ভাদ্র
D) আশ্বিন
উত্তর: C) ভাদ্র
23. প্রবল ঝড়ের দাপটে কলিঙ্গদেশে কী উল্টে পড়েছিল?
A) বড় গাছপালা
B) শস্য
C) ঘরবাড়ি
D) পাথরের মূর্তি
উত্তর: B) শস্য
24. মেঘের ডাকে আতঙ্কিত হয়ে প্রজারা ঘরের ভেতর থাকার সময় চাল ভেদ করে কী পড়ছিল?
A) তাল
B) ডাব
C) শিলা
D) বরফ
উত্তর: C) শিলা
25. কলিঙ্গদেশের মানুষ রবির কিরণ বা সূর্যের আলো দেখতে পাচ্ছিল না কেন?
A) সূর্য ডুবে যাওয়ার ফলে
B) সূর্যগ্রহণ হওয়ার ফলে
C) ঘন মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়ার ফলে
D) প্রবল ধুলোঝড়ের কারণে
উত্তর: C) ঘন মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়ার ফলে
নবম শ্রেণি বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি এককথায় প্রশ্নোত্তর | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi One Word Question Answer
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – ২৫টি এককথার প্রশ্নোত্তর (SAQ)
1. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতাটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা বিখ্যাত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের ‘আখেটিক খণ্ড’ থেকে এই কবিতাটি সংগৃহীত।
2. কবিতায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় মানুষ কী দেখতে পাচ্ছিল না?
উত্তর: প্রবল দুর্যোগে চারদিক এতটাই অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল যে, কলিঙ্গবাসী নিজেদের শরীর বা ‘অঙ্গ আপনার’ দেখতে পাচ্ছিল না।
3. ঘন বিদ্যুৎসহ মেঘ আকাশের কোন দিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল?
উত্তর: আকাশের ঈশান কোণে।
4. দিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ‘ঈশান কোণ’ বলতে ঠিক কোন দিকটি বোঝায়?
উত্তর: উত্তর ও পূর্ব দিকের মাঝখানের কোণ বা উত্তর-পূর্ব দিককে বোঝায়।
5. “___ পবনে মেঘ ডাকে দূর দূর” – কবিতার এই শূন্যস্থানে কোন শব্দ বসবে?
উত্তর: উত্তর (উত্তরে পবনে মেঘ ডাকে দূর দূর)।
6. পাঠ্যাংশে থাকা ‘নিমিষেকে’ কথাটির আসল অর্থ কী?
উত্তর: ‘নিমিষেকে’ বলতে এখানে এক মুহূর্তের মধ্যে বা চোখের পলকে বোঝানো হয়েছে।
7. আকাশজুড়ে মেঘ কোথায় উড়ে গিয়ে প্রবল গর্জনে ডাকতে শুরু করেছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশের আকাশে।
8. “___ গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – সঠিক শব্দ দিয়ে লাইনটি সম্পূর্ণ করো।
উত্তর: প্রলয়।
9. কলিঙ্গদেশে ভয়ংকর ঝড়ের তাণ্ডব বোঝাতে কবি কাব্যে কোন ধ্বন্যাত্মক শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: ‘হুড় হুড় দুড় দুড়’ শব্দগুচ্ছ।
10. বিপদে পড়ে প্রজাদের ‘রড়’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এই ‘রড়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘রড়’ শব্দের অর্থ হলো দ্রুত দৌড় দেওয়া বা পালিয়ে যাওয়া।
11. হঠাৎ কলিঙ্গের প্রজারা কেন চমকে উঠেছিল?
উত্তর: ঝড়ের দাপটে খেতের সবুজ শস্য যখন উলটে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল, সেই ধ্বংসলীলা দেখে প্রজারা চমকে ওঠে।
12. “জলে ___ একাকার পথ হইল হারা।” – ফাঁকা জায়গায় উপযুক্ত শব্দ বসাও।
উত্তর: মহী (পৃথিবী)।
13. বৃষ্টির সময় চারপাশে ঘন ঘন কীসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল?
উত্তর: ভয়ংকর মেঘের গর্জনের শব্দ।
14. একটানা বৃষ্টিপাত বোঝাতে গিয়ে কবি কোন তিনটি সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: সন্ধ্যা, দিবস ও রজনী (অর্থাৎ দিনরাত্রি জুড়ে)।
15. কবিতায় ব্যবহৃত ‘সোঙরে’ শব্দটির মানে কী?
উত্তর: স্মরণ করা বা মনে করা।
16. ভয়ংকর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে কলিঙ্গবাসী কাকে স্মরণ করেছিল?
উত্তর: মহর্ষি জৈমিনিকে।
17. টানা দুর্যোগের কারণে কলিঙ্গের মানুষ টানা কয়েকদিন কী দেখতে পায়নি?
উত্তর: রবির কিরণ বা সূর্যের আলো।
18. চারদিক জলে ডুবে যাওয়ায় জলের ওপর কী ভেসে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল?
উত্তর: গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা সাপ বা ভুজঙ্গ।
19. কলিঙ্গদেশে একটানা কত দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত চলেছিল?
উত্তর: টানা সাতদিন।
20. “আছুক শস্যের কার্য” – পঙ্ক্তিটিতে ‘আছুক’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘আছুক’ মানে হলো পড়ে থাক বা স্থগিত থাক।
21. এই কাব্যাংশে বাংলা বছরের কোন মাসের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে?
উত্তর: ভাদ্র মাস।
22. কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালানোর জন্য কে দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়েছিলেন?
উত্তর: বীর হনুমান।
23. কবিতায় উল্লিখিত ‘অম্বিকামঙ্গল’ মূলত কোন কাব্য?
উত্তর: এটি মূলত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য। দেবী চণ্ডীর আরেক নাম অম্বিকা।
24. এই ‘অম্বিকামঙ্গল’ কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
উত্তর: মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী।
25. কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যে কী উপাধিতে পরিচিত?
উত্তর: ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে।
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি ১৫টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ) | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi Very Short Question Answer
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – ১৫টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ)
1. কলিঙ্গদেশে আকাশ কালো করে মেঘ ডেকে ওঠার পর সেখানকার মানুষদের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: চারদিক এতটাই ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল যে, কলিঙ্গবাসীরা নিজেদের শরীরের কোনো অঙ্গই আর চোখে দেখতে পাচ্ছিল না।
2. দুর্যোগের শুরুতে আকাশের কোন দিকে প্রথম মেঘ জমতে দেখা যায়?
উত্তর: শুরুতেই আকাশের উত্তর-পূর্ব দিক, অর্থাৎ ঈশান কোণে ঘন মেঘ জমতে দেখা যায়।
3. সমগ্র আকাশ বা গগনমণ্ডল কীভাবে মেঘে ঢেকে গিয়েছিল?
উত্তর: একদম চোখের পলকে বা মুহূর্তের মধ্যেই (নিমিষেকে) পুরো আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়।
4. কলিঙ্গের প্রজারা কেন হঠাৎ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল?
উত্তর: মেঘের একটানা বুক-কাঁপানো গর্জন আর ঝড়ের তাণ্ডব দেখে প্রজারা ভেবেছিল যে এবার বুঝি প্রলয় বা মহাধ্বংস ঘনিয়ে আসছে। এই ভয়েই তারা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
5. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়”— কবিতায় এই ‘রড়’ কথাটির মানে কী?
উত্তর: ‘রড়’ কথাটির মানে হলো প্রাণভয়ে দ্রুতবেগে ছুটে পালানো বা দৌড় দেওয়া।
6. ভয়ংকর ওই ঝড়ের দাপটে মাঠের সবুজ ফসলের কী হাল হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে খেতের সবুজ ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এবং শস্যের গাছগুলো মাটি থেকে উপড়ে পড়ে।
7. “চারি মেঘে জল দেয়…”— এখানে কারা জল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: পুরাণে বর্ণিত আটটি দিকের আট রক্ষক হাতি বা ‘অষ্ট গজরাজ’ যেন তাদের শুঁড়ে করে চারপাশের মেঘে জল ঢালছিল।
8. কবিতায় আকাশ থেকে বাজ পড়াকে কবি কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: আকাশ থেকে ঘনঘন বাজ পড়াকে কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী ব্যাঙের লাফানোর সাথে (বেঙ্গ-তড়কা) তুলনা করেছেন।
9. “করি-কর সমান বরিষে জলধারা”— পঙ্ক্তিটিতে ‘করি-কর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘করি-কর’ বলতে এখানে হাতির শুঁড়কে বোঝানো হয়েছে।
10. টানা বৃষ্টিতে চারদিক জলে একাকার হয়ে যাওয়ায় কী সমস্যা দেখা দিয়েছিল?
উত্তর: বৃষ্টির জলে চারদিক এমনভাবে ডুবে গিয়েছিল যে, রাস্তাঘাট আর মাঠ-ঘাটের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না; জলের তোড়ে সব পথই হারিয়ে গিয়েছিল।
11. কলিঙ্গবাসীরা কেন একে অপরের কথা একেবারেই শুনতে পাচ্ছিল না?
উত্তর: আকাশে মেঘের অবিরাম আর কান-ফাটানো গর্জনের কারণে কলিঙ্গের মানুষ একে অন্যের কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছিল না।
12. দুর্যোগের দিনগুলোতে কোন কোন সময়ের মধ্যে আর কোনো তফাত ছিল না?
উত্তর: দিন, রাত আর সন্ধ্যার মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না। কারণ সূর্য না ওঠায় সবসময়ই ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করছিল।
13. ভয়াবহ বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রজারা কাকে স্মরণ করতে শুরু করে?
উত্তর: মেঘের ডাক আর ভয়ংকর বাজ পড়া থেকে বাঁচতে কলিঙ্গবাসীরা বজ্রনিবারক মুনি মহর্ষি জৈমিনিকে আকুল হয়ে স্মরণ করছিল।
14. ঘন মেঘের কারণে টানা কয়েকদিন ধরে মানুষ কী দেখতে পায়নি?
উত্তর: আকাশ কালো করা ঘন মেঘের আস্তরণের জন্য কলিঙ্গবাসীরা টানা কয়েকদিন রবির কিরণ বা সূর্যের আলো দেখতে পায়নি।
15. জলমগ্ন অবস্থায় গর্তের সাপগুলোর কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে সাপেদের গর্তগুলো জলে পুরোপুরি ভরে যাওয়ায়, তারা গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে বৃষ্টির জলেই এদিক-ওদিক ভেসে বেড়াচ্ছিল।
নবম শ্রেণি বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi 2 Marks Question Answer
1. “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – প্রজাদের এমন প্রলয় বা মহাধ্বংসের আশঙ্কা হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তীর কাব্যে আমরা দেখতে পাই, কলিঙ্গদেশের আকাশ আচমকা ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। এরপর শুরু হয় মেঘের বুক-কাঁপানো গর্জন আর চারদিক থেকে মুষলধারে প্রবল বৃষ্টি। প্রকৃতির এই ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি ও তাণ্ডব দেখেই সাধারণ প্রজারা ভয় পেয়ে যায়। তাদের মনে হতে থাকে, এবার বুঝি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, আর এই প্রলয়ের কথা ভেবেই তারা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
2. প্রবল বিপদের মুখে প্রজারা কেন নিজেদের ‘ভবন ছাড়ি’ বা ঘরবাড়ি ছেড়ে রড় দিয়েছিল?
উত্তর: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় কলিঙ্গদেশে ‘হুড় হুড় দুড় দুড়’ শব্দে ভয়ংকর বেগে ঝড় বইতে শুরু করেছিল। এই প্রলয়ংকরী ঝড়ের দাপটে কাঁচা ঘরবাড়িগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। তাই নিজেদের জীবন বাঁচাতে এবং কোনো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আতঙ্কিত প্রজারা বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে ‘রড়’ দিয়েছিল বা দ্রুতবেগে ছুটে পালিয়েছিল।
3. “উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত।।” – মাঠের শস্য উলটে পড়তে দেখে প্রজারা কেন চমকে গিয়েছিল?
উত্তর: কৃষকরা অনেক হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু কলিঙ্গে আছড়ে পড়া প্রবল ঝড়ে মাঠের সেই সবুজ শস্যখেত ধুলোয় মিশে যায়। চোখের সামনে নিজেদের এত কষ্টের ফসল ঝড়ের দাপটে গাছ থেকে উপড়ে মাটিতে উলটে পড়ে থাকতে দেখে কলিঙ্গের প্রজারা রীতিমতো চমকে উঠেছিল এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
4. “সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কা বাজ।।” – এই পঙ্ক্তিতে ‘বেঙ্গ-তড়কা বাজ’ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘বেঙ্গ-তড়কা’ বলতে এখানে ব্যাঙের লাফানোকে বোঝানো হয়েছে। কলিঙ্গদেশে মেঘের গর্জনের পাশাপাশি এত ঘনঘন এবং দ্রুতগতিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাজ পড়ছিল যে, কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর কাছে তা ব্যাঙের লাফানোর মতো মনে হয়েছিল। বাজের এই অস্থির গতিপ্রকৃতি বোঝাতেই তিনি এই অভিনব উপমাটি ব্যবহার করেছেন।
5. “জলে মহী একাকার পথ হইল হারা।।” – চারদিকের পথঘাট কীভাবে হারিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে আকাশভাঙা একটানা মুষলধারে বৃষ্টির ফলে চারদিকে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই প্রবল বন্যার জলে সমগ্র স্থলভাগ বা ‘মহী’ সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে যায়। মাঠ, ঘাট ও রাস্তাঘাট সব জলের তলায় ডুবে একাকার হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতের কোনো নির্দিষ্ট পথ আর চেনা যাচ্ছিল না।
6. “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।” – কলিঙ্গদেশে দিন-রাতের পার্থক্য কেন বোঝা যাচ্ছিল না?
উত্তর: টানা সাতদিন ধরে কলিঙ্গের আকাশ ঘন কালো মেঘে এমন নিশ্ছিদ্রভাবে ঢেকে ছিল যে, সূর্যের একরত্তি আলোও মাটিতে এসে পৌঁছাতে পারেনি। চারদিক সবসময় নিকষ অন্ধকারে ডুবে থাকার কারণে কখন দিন, কখন রজনী (রাত) আর কখন সন্ধ্যা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ একেবারেই আলাদা করতে পারছিল না।
7. জলমগ্ন কলিঙ্গদেশে সাপেরা কেন নিজেদের গর্ত ছেড়ে জলে ভেসে বেড়াচ্ছিল?
উত্তর: একটানা সাতদিনের অতিবৃষ্টিতে কলিঙ্গদেশে প্রবল বন্যা দেখা দেয়। স্থলভাগের পাশাপাশি মাটির নিচে থাকা সাপেদের গর্তগুলোও কানায় কানায় জলে ভরে যায়। ফলে জলের তলায় নিশ্বাস নেওয়ার উপায় না পেয়ে, বাধ্য হয়েই সাপেরা বাঁচার তাগিদে গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে বন্যার জলেই এদিক-ওদিক ভেসে বেড়াচ্ছিল।
8. “আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।।” – এই লাইনটির মধ্যে দিয়ে কলিঙ্গবাসীর কোন অসহায়তার কথা ফুটে উঠেছে?
উত্তর: একটানা সাতদিনের প্রবল দুর্যোগে কলিঙ্গবাসীর জীবন একদম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষিকাজ তো আগেই লাটে উঠেছিল, তার ওপরে টানা বৃষ্টির জলে ভিজে প্রজাদের থাকার কাঁচা ঘরবাড়িগুলোও পচে (হেজ্যা) বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে প্রজাদের এই চরম থাকা-খাওয়ার সংকটের কথাই বোঝানো হয়েছে।
9. দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে কী ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছিলেন?
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর বর্ণনা অনুসারে, কলিঙ্গরাজকে শায়েস্তা করতে দেবী চণ্ডী বীর হনুমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেবীর সেই আদেশ মাথা পেতে নিয়ে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালান এবং সেখানকার বড় বড় মঠ ও সুরম্য অট্টালিকাগুলো ভেঙে একেবারে গুঁড়িয়ে (খান খান করে) দেন।
10. পর্বতের মতো বিশাল বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে কলিঙ্গবাসীর ঘরবাড়িগুলোর কী দশা হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে কলিঙ্গদেশের বন্যার জল ফুলে-ফেঁপে উঠে পর্বতের মতো বিশাল আকারের ঢেউয়ের সৃষ্টি করেছিল। সেই ভয়ংকর ঢেউয়ের একটানা ধাক্কায় সাধারণ কলিঙ্গবাসীদের ঘরবাড়িগুলো জলের ওপর ভাসমান অবস্থায় টলমল বা ‘দলমল’ করতে শুরু করেছিল।
11. সমস্ত নদ-নদীগণ কেন প্রবল জলোচ্ছ্বাস নিয়ে কলিঙ্গদেশের দিকে ধেয়ে এসেছিল?
উত্তর: কাব্যের মূল পটভূমি ঘাঁটলে দেখা যায়, দেবী চণ্ডী ইচ্ছে করেই কলিঙ্গরাজকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এই দুর্যোগের ছক কষেছিলেন। আর খোদ দেবী চণ্ডীর নির্দেশেই কলিঙ্গদেশকে বন্যায় ভাসিয়ে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সমস্ত নদনদী ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস নিয়ে সেদিকে ধেয়ে এসেছিল।
নবম শ্রেণি বাংলা কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi 3 Marks Question Answer
1. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।।” – কলিঙ্গদেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেখা যায়, হঠাৎ করেই কলিঙ্গে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘনিয়ে আসে। ঈশান কোণে মেঘ জমার পাশাপাশি প্রবল বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। উত্তরের দমকা হাওয়ার সঙ্গে মেঘের কান ফাটানো গর্জনে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। মেঘের স্তর এতই ঘন ছিল যে সূর্যের আলো একটুও মাটিতে পৌঁছাতে পারেনি। আর এই ঘুটঘুটে অন্ধকারের কারণেই কলিঙ্গবাসীরা নিজেদের শরীরের কোনো অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
2. “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।” – এখানে ‘অষ্ট গজরাজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: ‘অষ্ট গজরাজ’ বলতে হিন্দু পুরাণে উল্লেখিত আটটি দিকের পাহারাদার আটটি শ্রেষ্ঠ হাতিকে বোঝানো হয়েছে (যেমন- ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন ইত্যাদি)।
উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য হলো, কলিঙ্গদেশে যখন প্রলয়ংকরী দুর্যোগ শুরু হয়, তখন আকাশ থেকে সাধারণ বৃষ্টির বদলে একেবারে মুষলধারে জল নামতে থাকে। হাতির শুঁড় থেকে যেমন বিশাল পরিমাণ জল ছিটকে বের হয়, ঠিক তেমনি আকাশ থেকে একটানা মোটা ধারায় জল পড়ছিল। বৃষ্টির এই ভয়াবহ তীব্রতা বোঝাতেই কবি কল্পনা করেছেন যেন পুরাণের আটটি গজরাজ একসঙ্গে মিলে চারপাশের মেঘ থেকে জল ঢালছে।
3. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।।” – জৈমিনি কে ছিলেন এবং কলিঙ্গবাসীরা তাঁকে কেন স্মরণ করছিল?
উত্তর: জৈমিনি হলেন প্রাচীন ভারতবর্ষের একজন বিখ্যাত ঋষি এবং ‘মীমাংসা দর্শন’-এর শ্রষ্টা।
পৌরাণিক লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করলে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কলিঙ্গদেশে যখন প্রলয়ংকারী ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে অনবরত ভয়ংকর শব্দে বাজ পড়ছিল, তখন সাধারণ মানুষের মনে মৃত্যুর আতঙ্ক গ্রাস করে। এই চরম বিপদের মুহূর্তে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর আর কোনো উপায় না পেয়ে, আতঙ্কিত কলিঙ্গবাসীরা বজ্রনিবারক মুনি জৈমিনিকে আকুল হয়ে স্মরণ করতে শুরু করেছিল।
4. “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।।” – এখানে কবি কোন বিষয়টিকে তালের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং কেন?
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় দুর্যোগের সময় আকাশ থেকে খসে পড়া বড় বড় শিলা বা শিলকে ভাদ্র মাসের পাকা তালের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ভাদ্র মাসে তাল পেকে গেলে তা যেমন বেশ ভারী হয়ে সশব্দে গাছ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ে, কলিঙ্গদেশেও ঠিক তেমনি বিশাল আকারের শিল ঘরের চাল ফুঁড়ে মেঝেতে পড়ছিল। শিলগুলোর আকার সাধারণ শিলের মতো ছোট ছিল না, বরং সেগুলো পাকা তালের মতোই বড়ো আর ভারী ছিল। শিলাবৃষ্টির এই চরম ধ্বংসাত্মক রূপটিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতেই কবি এই চমৎকার উপমাটি ব্যবহার করেছেন।
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি বড় প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi Long Question and Answer
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (LAQ)
1. “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।” – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গদেশে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, এখানে তারই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
পুরাণ মতে, আটটি দিকের পাহারাদার হিসেবে আটটি শ্রেষ্ঠ হাতি বা ‘অষ্ট গজরাজ’ রয়েছে (ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম এবং সুপ্রতীক)। কলিঙ্গদেশে যখন প্রবল দুর্যোগ শুরু হয়, তখন চারদিক মেঘে ঢেকে গিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কবির মনে হয়েছিল, ওই আটটি গজরাজ যেন নিজেদের শুঁড় দিয়ে চারপাশের মেঘ থেকে অবিরাম জল ঢালছে। এই প্রবল বর্ষণের ফলেই কলিঙ্গদেশের চারদিক জলে তলিয়ে গিয়েছিল।
2. “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।” – জৈমিনি কে? কলিঙ্গবাসীর তাঁকে স্মরণ করার কারণ কী?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে উল্লিখিত জৈমিনি হলেন প্রাচীন ভারতের এক বিখ্যাত ঋষি। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি হলেন বজ্রনিবারক। অর্থাৎ, তাঁর নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়।
কলিঙ্গদেশে হঠাৎ যখন ঘন কালো মেঘ জমতে শুরু করে, তার সাথে শুরু হয় আকাশ-ফাটানো মেঘের গর্জন এবং মুহুর্মুহু ভয়ংকর বজ্রপাত। ঝড়ের দাপট এবং এই অবিরাম বাজের শব্দে সাধারণ মানুষ মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর আর কোনো উপায় না দেখে, নিরুপায় কলিঙ্গবাসীরা বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতেই ঋষি জৈমিনিকে আকুলভাবে স্মরণ করতে শুরু করেছিল।
3. “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।” – চারপাশের এমন পরিস্থিতির কারণ কী ছিল?
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গদেশে নেমে আসা এক আকস্মিক ও ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
দুর্যোগের শুরুতে হঠাৎ করেই আকাশের ঈশান কোণে মেঘ জমতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই মেঘ পুরো কলিঙ্গদেশের আকাশটাকে ঢেকে ফেলে। কালো মেঘের স্তর এতটাই পুরু ছিল যে, দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারছিল না। আকাশজুড়ে শুধু মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল। এই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের কারণেই কলিঙ্গবাসীরা নিজেদের শরীরের কোনো অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
4. “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।” – ‘রড়’ শব্দের অর্থ কী? প্রজারা কেন বিপাকে পড়ে ঘর ছেড়েছিল?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ব্যবহৃত ‘রড়’ শব্দের অর্থ হলো দ্রুতবেগে দৌড় দেওয়া বা ছুটে পালানো।
দেবী চণ্ডীর রোষে কলিঙ্গদেশে প্রলয়ংকরী দুর্যোগ নেমে আসে। আকাশ কালো করে চারদিক অন্ধকারে ডুবে যায় এবং প্রবল মেঘগর্জনের সাথে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বইতে থাকে ‘হুড় হুড় দুড় দুড়’ শব্দে ভয়ংকর ঝড়। এই প্রবল ঝড়ের দাপটে কাঁচা ঘরবাড়িগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে, নিজেদের জীবন বাঁচাতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আতঙ্কিত প্রজারা বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড় দিয়েছিল।
5. “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।” – ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দের অর্থ কী? কবি এমন কথা বলেছেন কেন?
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দটির অর্থ হলো ‘পার্থক্য’ বা ‘আলাদা করা’।
দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গদেশে যে ভয়াবহ দুর্যোগ শুরু হয়েছিল, তাতে সমগ্র আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল। টানা সাতদিন ধরে চলা এই দুর্যোগে সূর্যের আলো একটুও দেখা যায়নি। মেঘগর্জনের সাথে সাথে একটানা বৃষ্টি আর ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। চারদিক সবসময় নিকষ অন্ধকারে ডুবে থাকার কারণে কখন দিন, কখন রাত আর কখন সন্ধ্যা হচ্ছে, তার মধ্যে কোনো পার্থক্যই কলিঙ্গবাসীরা বুঝতে পারছিল না। এই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের পরিস্থিতি বোঝাতেই কবি উদ্ধৃত কথাটি বলেছেন।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী | কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি (কবিতা) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী – নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kalinga Deshe Jhar Bristi Analytical and Essay Type Question and Answer
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি – ২টি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (LAQ)
1. কলিঙ্গদেশে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছিল তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর:
কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের ‘আখেটিক খণ্ড’ থেকে নেওয়া আমাদের পাঠ্য ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিখুঁত ছবি ফুটে উঠেছে। দেবী চণ্ডী তাঁর ভক্ত কালকেতুর প্রতিষ্ঠিত গুজরাট নগরে লোকবসতি গড়ে তোলার জন্য পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গদেশে এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের অবতারণা করেছিলেন।
শুরুতেই দেখা যায়, কলিঙ্গের আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে এমনভাবে ঢেকে যায় যে, দিনের বেলাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে; মানুষ একে অপরকে পর্যন্ত দেখতে পারছিল না। আকাশের ঈশান কোণে (উত্তর-পূর্ব দিকে) মেঘ জমার পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি শুরু হয়। এর সাথে উত্তরের প্রবল বাতাস আর বুক-কাঁপানো মেঘের গর্জন সাধারণ মানুষের মনে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক তৈরি করে। এরপর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। চার প্রকার মেঘ যেন আটটি পৌরাণিক হাতির (অষ্ট গজরাজ) শুঁড়ের সাহায্যে সমগ্র কলিঙ্গদেশকে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য অবিরাম জল ঢালতে থাকে।
এই ভয়ংকর ঝড়ে চারদিকের সবুজ শস্যখেত ধুলোয় মিশে যায় এবং মাঠের ফসল উপড়ে পড়ে। একটানা সাত দিনের প্রবল বৃষ্টিতে গোটা কলিঙ্গদেশ জলের তলায় তলিয়ে যায়, যাতায়াতের পথ বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। চারদিক জলে ডুবে যাওয়ায় গর্তের সাপ বেরিয়ে এসে বৃষ্টির জলেই ভাসতে থাকে। মেঘের টানা গর্জন আর ব্যাঙের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে পড়া বাজের শব্দে কেউ কারও কথা শুনতে পারছিল না। টানা অন্ধকারের কারণে দিন ও রাতের কোনো পার্থক্যই আর বোঝা যাচ্ছিল না। অসহায় কলিঙ্গবাসী প্রাণ বাঁচাতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
এর ওপর ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বড় বড় শিল ঘরের চাল ফুটো করে মাটিতে পড়তে শুরু করে। শেষমেশ দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান এসে সেখানকার মঠ, মন্দির, অট্টালিকা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং নদনদীগুলো পর্বতপ্রমাণ ঢেউ নিয়ে কলিঙ্গদেশকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য ধেয়ে আসে। এভাবেই এক অভাবনীয় প্রাকৃতিক তাণ্ডবে কলিঙ্গদেশ একেবারে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল।
2. ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল তা কীভাবে কলিঙ্গবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে আমরা দেখতে পাই, দেবী চণ্ডীর রোষানলে পড়ে কলিঙ্গদেশে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে, যা সেখানকার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বিপন্ন ও দুর্বিষহ করে তুলেছিল।
আকাশ কালো করা মেঘ আর গগনভেদী মেঘগর্জনের সাথে যখন মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রবল ঝড় শুরু হয়, তখন কলিঙ্গবাসীদের মনে চরম আতঙ্ক গ্রাস করে। ঝড়ের দাপটে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে, প্রাণের দায়ে প্রজারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড় দেয় (রড় দেয়)। কৃষকদের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল ধুলোয় মিশে উলটে পড়ে যায়, যা দেখে তারা একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়ে।
বিপদের এখানেই শেষ ছিল না। একটানা সাত দিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির ফলে গোটা কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাস্তাঘাট, মাঠ-প্রান্তর সব জলের তলায় ডুবে যায়। স্থলভাগ আর জলভাগের কোনো পার্থক্য না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। জলমগ্ন অবস্থায় সাপের গর্তগুলো জলে ভরে যাওয়ায়, বিষধর সাপগুলো জলের ওপর ভেসে বেড়াতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মনে মৃত্যুভয় আরও বাড়িয়ে দেয়। আকাশে নিশ্ছিদ্র মেঘের চাদর থাকায় টানা সাত দিন এক ফোঁটা সূর্যের আলোও দেখা যায়নি, ফলে দিন আর রাতের কোনো তফাতই তারা করতে পারছিল না। প্রবল মেঘগর্জন আর মুহুর্মুহু বজ্রপাতে ভীতসন্ত্রস্ত কলিঙ্গবাসী বাঁচার কোনো উপায় না দেখে শেষমেশ বজ্রনিবারক ঋষি জৈমিনিকে আকুল হয়ে স্মরণ করতে শুরু করে।
কৃষিকাজ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি টানা বৃষ্টির জলে ভিজে প্রজাদের থাকার কাঁচা ঘরবাড়িগুলোও পচে বাসযোগ্যতা হারায়। তার ওপর ঘরের চাল ফুঁড়ে ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় বড় শিল পড়তে থাকায় তাদের দুর্দশা চরমে পৌঁছায়। পরিশেষে, দেবী চণ্ডীর নির্দেশে বীর হনুমানের ধ্বংসলীলা এবং নদনদীগুলোর ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসে কলিঙ্গবাসীর জীবন এতটাই বিপন্ন হয়ে উঠেছিল যে, তারা বাধ্য হয়ে চিরকালের মতো নিজেদের মাতৃভূমি কলিঙ্গদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল।