নবম শ্রেণির ধীবর-বৃত্তান্ত প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta Question Answer

মহাকবি কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটকের ষষ্ঠ অঙ্কের শুরুর অংশটি আমাদের নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নামে রয়েছে। এই নাটকটি বাংলায় তর্জমা করেছেন সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী। এই নাট্যাংশে একজন গরিব কিন্তু সৎ জেলের (ধীবরের) ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাচক্রে রাজার হারিয়ে যাওয়া আংটিটি তার হাতে আসে। কিন্তু আংটিটি পাওয়ার কারণে তাকে চোর সন্দেহে বন্দি করা হয়। পরে তার সততা প্রমাণিত হয় এবং সে রাজার কাছ থেকে সম্মান ও পুরস্কার পায়।

তোমাদের পরীক্ষার জন্য এই নাট্যাংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ২ নম্বর, ৩ নম্বর এবং বড় প্রশ্ন-উত্তর এক জায়গাতেই সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে তোমাদের বারবার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে না হয়। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে পড়ে নাও।

তোমরা যদি এর আগের চ্যাপ্টার ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’-র প্রশ্ন-উত্তর এখনও না পড়ে থাকো, তাহলে সেটাও পড়ে নাও। ওই চ্যাপ্টারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরও কভার করে নেওয়া হয়েছে।

তো চলো, আর সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক!

তোমাদের সুবিধার জন্য সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর একসঙ্গে নিয়ে একটি PDF Notes বানিয়ে রাখা হয়েছে। PDF ডাউনলোড করার লিঙ্ক তোমরা নিচে পেয়ে যাবে। আপাতত এই নোটসগুলো সম্পূর্ণ ফ্রিতে দেওয়া হচ্ছে। তাই আর দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব PDF-টি ডাউনলোড করে নাও।

নবম শ্রেণির ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta MCQ Question Answer

ধীবর-বৃত্তান্ত – ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)

১. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ পাঠ্যাংশটি মূলত কোন সংস্কৃত নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে?
(A) মালবিকাগ্নিমিত্রম
(B) মেঘদূতম
(C) অভিজ্ঞানশকুন্তলম
(D) উত্তররামচরিতম
উত্তর: (C) অভিজ্ঞানশকুন্তলম

২. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন?
(A) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(B) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী
(C) রাজশেখর বসু
(D) শঙ্খ ঘোষ
উত্তর: (B) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী

৩. শকুন্তলাকে কোন ঋষি অভিশাপ দিয়েছিলেন?
(A) মহর্ষি বিশ্বামিত্র
(B) মহর্ষি কণ্ব
(C) ঋষি বশিষ্ঠ
(D) ঋষি দুর্বাসা
উত্তর: (D) ঋষি দুর্বাসা

৪. শকুন্তলার হাত থেকে আংটিটি কোথায় পড়ে হারিয়ে গিয়েছিল?
(A) শক্রাবতারে
(B) তপোবনে
(C) শচীতীর্থে
(D) রাজসভায়
উত্তর: (C) শচীতীর্থে

৫. নাট্যাংশে উল্লিখিত ধীবরের বাসস্থান কোথায় ছিল?
(A) হস্তিনাপুরে
(B) শক্রাবতারে
(C) শচীতীর্থে
(D) তপোবনে
উত্তর: (B) শক্রাবতারে

৬. রাজশ্যালক কোন দায়িত্ব পালনে নিযুক্ত ছিলেন?
(A) নগর-রক্ষায়
(B) রাজকোষ রক্ষায়
(C) সীমানা রক্ষায়
(D) অশ্বশালা রক্ষায়
উত্তর: (A) নগর-রক্ষায়

৭. ধীবর রাজার সেই মহামূল্যবান আংটিটি কোন মাছের পেট থেকে পেয়েছিল?
(A) বোয়াল মাছ
(B) ইলিশ মাছ
(C) কাতলা মাছ
(D) রুই মাছ
উত্তর: (D) রুই মাছ

৮. ধীবর যে আংটিটি পেয়েছিল, তাতে কী খোদাই করা ছিল?
(A) শকুন্তলার ছবি
(B) রাজার নাম
(C) রাজ্যের নাম
(D) দেবতার নাম
উত্তর: (B) রাজার নাম

৯. “ওরে ব্যাটা চোর…” – এখানে কাকে চোর বলে সম্বোধন করা হয়েছে?
(A) জানুককে
(B) সূচককে
(C) ধীবরকে
(D) রাজশ্যালককে
উত্তর: (C) ধীবরকে

১০. রাজার হারিয়ে যাওয়া আংটিটি কেমন ছিল?
(A) মণিখচিত
(B) স্বর্ণখচিত
(C) রৌপ্যখচিত
(D) তাম্রখচিত
উত্তর: (A) মণিখচিত

১১. ধীবরের পেশা কী ছিল?
(A) কাঠুরে
(B) জেলে
(C) কৃষক
(D) ব্যবসায়ী
উত্তর: (B) জেলে

১২. প্রথম রক্ষী ধীবরকে ব্যঙ্গ করে কী বিবেচনা করে রাজা আংটিটি দান করেছেন বলে মন্তব্য করেছিল?
(A) সৎ বণিক
(B) সৎ ব্রাহ্মণ
(C) সৎ নাগরিক
(D) সৎ ধীবর
উত্তর: (B) সৎ ব্রাহ্মণ

১৩. “ব্যাটা বাটপাড়…” – নাট্যাংশে কথাটি কে বলেছে?
(A) প্রথম রক্ষী
(B) দ্বিতীয় রক্ষী
(C) রাজশ্যালক
(D) স্বয়ং রাজা
উত্তর: (B) দ্বিতীয় রক্ষী

১৪. ধীবর কী দিয়ে মাছ ধরে নিজের সংসার চালাত?
(A) নৌকো ও জাল দিয়ে
(B) শুধু বড়শি দিয়ে
(C) জাল ও বড়শি দিয়ে
(D) বর্শা দিয়ে
উত্তর: (C) জাল ও বড়শি দিয়ে

১৫. ধীবরের জীবিকাকে রাজশ্যালক ব্যঙ্গ করে কী বলেছিলেন?
(A) পবিত্র
(B) অপবিত্র
(C) ঘৃণ্য
(D) মহৎ
উত্তর: (A) পবিত্র

১৬. “বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়াপরায়ণ হলেও…” – তাঁরা কখন নির্দয় হয়ে থাকেন?
(A) যুদ্ধ করার সময়
(B) যজ্ঞীয় পশুবধের সময়
(C) বিচার করার সময়
(D) শাস্তি দেওয়ার সময়
উত্তর: (B) যজ্ঞীয় পশুবধের সময়

১৭. জানুকের মতে ধীবরের গা থেকে কীরকম গন্ধ আসছিল?
(A) পচা মাছের
(B) শুকনো জালের
(C) কাঁচা মাংসের
(D) কাদার
উত্তর: (C) কাঁচা মাংসের

১৮. জানুক ধীবরকে কী-খাওয়া জেলে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল?
(A) শুয়োর-খাওয়া
(B) গোসাপ-খাওয়া
(C) ব্যাঙ-খাওয়া
(D) কচ্ছপ-খাওয়া
উত্তর: (B) গোসাপ-খাওয়া

১৯. আংটি পাওয়ার বিষয়ে ধীবরের কথার সত্যতা যাচাই করতে শ্যালক কোথায় গিয়েছিলেন?
(A) কারাগারে
(B) শক্রাবতারে
(C) রাজবাড়িতে
(D) শচীতীর্থে
উত্তর: (C) রাজবাড়িতে

২০. প্রথম রক্ষীর হাত দুটো কেন নিশপিশ করছিল?
(A) ধীবরকে মারার জন্য
(B) জাল বোনার জন্য
(C) আংটিটি ধরার জন্য
(D) ফুলের মালা গাঁথার জন্য
উত্তর: (D) ফুলের মালা গাঁথার জন্য

২১. দ্বিতীয় রক্ষীর মতে ধীবরকে মেরে কাদের খাওয়ানো হতে পারে?
(A) বাঘ বা সিংহ দিয়ে
(B) শকুনি বা কুকুর দিয়ে
(C) কুমির দিয়ে
(D) শেয়াল দিয়ে
উত্তর: (B) শকুনি বা কুকুর দিয়ে

২২. ধীবর যমের বাড়ি গিয়ে ফিরে এল – কথাটি কে বলেছে?
(A) শ্যালক
(B) প্রথম রক্ষী
(C) দ্বিতীয় রক্ষী
(D) ধীবর নিজে
উত্তর: (C) দ্বিতীয় রক্ষী

২৩. রাজা খুশি হয়ে ধীবরকে কী পরিমাণ অর্থ পুরস্কার দিয়েছিলেন?
(A) আংটির মূল্যের অর্ধেক
(B) আংটির মূল্যের দ্বিগুণ
(C) একশো স্বর্ণমুদ্রা
(D) আংটির মূল্যের সমান
উত্তর: (D) আংটির মূল্যের সমান

২৪. “এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে…” – ধীবরকে কোথায় চড়িয়ে দেওয়া হলো?
(A) হাতির পিঠে
(B) ঘোড়ার পিঠে
(C) সিংহাসনে
(D) রথে
উত্তর: (A) হাতির পিঠে

২৫. হারানো আংটি দেখে রাজার মনে কেমন ভাবান্তর ঘটেছিল?
(A) তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন
(B) মুহূর্তে বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন
(C) তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন
(D) তিনি আনন্দে চিৎকার করেছিলেন
উত্তর: (B) মুহূর্তে বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন

২৬. রাজার স্বভাব কেমন ছিল বলে রাজশ্যালক জানিয়েছেন?
(A) চঞ্চল
(B) গম্ভীর
(C) স্নেহশীল
(D) ক্রূর
উত্তর: (B) গম্ভীর

২৭. ধীবর তার পাওয়া পুরস্কারের কত অংশ রক্ষীদের ফুলের দাম হিসেবে দিয়ে দিয়েছিল?
(A) সিকি ভাগ
(B) এক-তৃতীয়াংশ
(C) সম্পূর্ণ অংশ
(D) অর্ধেক
উত্তর: (D) অর্ধেক

২৮. “এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।” – কে কাকে বলেছে?
(A) রাজা ধীবরকে
(B) ধীবর শ্যালককে
(C) শ্যালক ধীবরকে
(D) সূচক জানুককে
উত্তর: (C) শ্যালক ধীবরকে

২৯. শকুন্তলা কার পালিতা কন্যা ছিলেন?
(A) মহর্ষি বিশ্বামিত্রের
(B) মহর্ষি দুর্বাসার
(C) মহর্ষি গৌতমের
(D) মহর্ষি কণ্বের
উত্তর: (D) মহর্ষি কণ্বের

৩০. “আপনারা শান্ত হন” – বক্তা কে?
(A) সূচক
(B) জানুক
(C) ধীবর
(D) রাজশ্যালক
উত্তর: (C) ধীবর

নবম শ্রেণির ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta SAQ Question Answer

ধীবর-বৃত্তান্ত – ২৫টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ)

1. তীর্থভ্রমণ সেরে ফিরে এসে মহর্ষি কণ্ব কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
উত্তর: তীর্থ থেকে তপোবনে ফিরে মহর্ষি কণ্ব তাঁর পালিতা কন্যা শকুন্তলাকে স্বামী রাজা দুষ্মন্তের প্রাসাদে (পতিগৃহে) পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

2. রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া মহামূল্যবান আংটিটি শকুন্তলা কীভাবে হারিয়ে ফেলেছিলেন?
উত্তর: স্বামীর রাজপ্রাসাদে যাওয়ার পথে শচীতীর্থে স্নান সেরে অঞ্জলি দেওয়ার সময় শকুন্তলার আঙুল থেকে আংটিটি খসে জলে পড়ে হারিয়ে যায়।

3. রাজপ্রাসাদে পৌঁছানোর পর শকুন্তলাকে দেখে রাজা দুষ্মন্তের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: ঋষি দুর্বাসার অভিশাপের কারণে রাজা দুষ্মন্ত স্মৃতি হারিয়েছিলেন, তাই রাজপ্রাসাদে শকুন্তলাকে দেখে তিনি একেবারেই চিনতে পারেননি।

4. ধৃত পুরুষটির হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল কেন?
উত্তর: ধীবর বা জেলেটির কাছে রাজা দুষ্মন্তের নাম লেখা রাজকীয় আংটি পাওয়া গিয়েছিল, তাই চোর সন্দেহে রক্ষীরা তার হাত বেঁধে তাকে ধরে এনেছিল।

5. ধীবরকে কারা বন্দি করে নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালক এবং তাঁর অধীনস্থ দুই রক্ষী—সূচক ও জানুক ধীবরকে চোর সন্দেহে বন্দি করে নিয়ে এসেছিল।

6. “আপনারা শান্ত হন”— ধীবর এখানে কাদের শান্ত হতে বলেছিল?
উত্তর: চোর সন্দেহে ধরে আনা ধীবর তাকে কটূক্তি করা দুই নগররক্ষী (সূচক ও জানুক)-কে শান্ত হওয়ার জন্য বিনীতভাবে এই অনুরোধ করেছিল।

7. রাজার হারানো আংটিটি ধীবর কোথা থেকে পেয়েছিল?
উত্তর: একটি বড়সড় রুই মাছ টুকরো করে কাটার সময় মাছের পেটের ভেতর থেকে ধীবর ওই রাজকীয় আংটিটি পেয়েছিল।

8. ধীবর কীভাবে নিজের ও পরিবারের দিন গুজরান করত?
উত্তর: ধীবর জাল ফেলে এবং বঁড়শি দিয়ে সৎপথে মাছ ধরে নিজের পরিবারের পেট চালাত।

9. রাজা দুষ্মন্তের শ্যালক রাজ্যে কোন কাজের দায়িত্বে ছিলেন?
উত্তর: রাজা দুষ্মন্তের শ্যালক রাজ্যের নগররক্ষক বা নগর রক্ষার প্রধান দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন।

10. ধীবরের ব্যাপারে রাজা দুষ্মন্ত শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
উত্তর: ধীবরের সততায় মুগ্ধ হয়ে রাজা তাকে শুধু সসম্মানে মুক্তিই দেননি, বরং আংটির সমান মূল্যের অর্থ তাকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

11. হারানো আংটিটি হাতে পেয়ে রাজা দুষ্মন্তের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: হারানো আংটিটি দেখামাত্রই রাজার পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে যায় এবং তিনি মুহূর্তের জন্য হতবাক বা বিহ্বল হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলেন।

12. রাজার কাছ থেকে পুরস্কার ও মুক্তি পেয়ে ধীবর কী করেছিল?
উত্তর: মুক্তি পাওয়ার আনন্দে ধীবর তার পাওয়া আর্থিক পুরস্কারের ঠিক অর্ধেক অংশ দুই রক্ষীকে ফুলের দাম বা বকশিশ হিসেবে উপহার দিয়েছিল।

13. সখী প্রিয়ংবদার কাতর অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা কী বলেছিলেন?
উত্তর: প্রিয়ংবদার অনুরোধে শান্ত হয়ে ঋষি দুর্বাসা জানিয়েছিলেন যে, রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে গেলেও কোনো বিশেষ স্মৃতিচিহ্ন (আংটি) দেখাতে পারলে তাঁর এই অভিশাপ কেটে যাবে।

14. রক্ষীরা ধীবরকে ‘গোসাপ-খাওয়া জেলে’ বলে সন্দেহ করেছিল কেন?
উত্তর: ধীবরের শরীর থেকে সারাক্ষণ কাঁচা মাছ-মাংসের আঁশটে গন্ধ বেরোচ্ছিল, আর সেই কারণেই রাজশ্যালক ও রক্ষীরা তাকে গোসাপ-খাওয়া নিচু জাতের জেলে বলে তাচ্ছিল্য করেছিল।

15. “মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন”— এখানে কোন সংবাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: রাজার অত্যন্ত প্রিয় এবং মহামূল্যবান হারানো আংটিটি যে শেষমেশ খুঁজে পাওয়া গেছে, এখানে সেই আনন্দের সংবাদটির কথাই বোঝানো হয়েছে।

16. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটির মূল রচয়িতা কে?
উত্তর: পাঠ্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের লেখা বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’-এর একটি অংশ।

17. এই নাট্যাংশটি বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন?
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ অংশটি মূল সংস্কৃত থেকে অত্যন্ত সাবলীল বাংলায় অনুবাদ করেছেন পণ্ডিত সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী।

18. রাজার আংটি পাওয়া ধীবরের বাসস্থান কোথায় ছিল?
উত্তর: ধীবর বা জেলেটি শক্রাবতার নামক স্থানে বসবাস করত।

19. ধীবরের পাওয়া আংটিটিতে কার নাম খোদাই করা ছিল?
উত্তর: মাছের পেট থেকে পাওয়া মণিখচিত ওই মূল্যবান আংটিটিতে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা ছিল।

20. শকুন্তলাকে কে এবং কেন অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বামী দুষ্মন্তের চিন্তায় মগ্ন শকুন্তলা ঋষি দুর্বাসার ডাকে সাড়া না দেওয়ায়, ঋষি অপমানিত বোধ করে তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।

21. রাজশ্যালক ধীবরের মাছ ধরার পেশাকে ব্যঙ্গ করে কী বলেছিলেন?
উত্তর: রাজশ্যালক ধীবরের পেশাকে অত্যন্ত নিচু চোখে দেখেছিলেন এবং ব্যঙ্গাত্মক সুরে তাকে ‘পবিত্র’ জীবিকা বলে কটাক্ষ করেছিলেন।

22. ধীবরের কথা সত্যি কিনা তা যাচাই করতে রাজশ্যালক কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তর: ধীবর সত্যিই মাছের পেট থেকে আংটি পেয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য রাজশ্যালক আংটিটি নিয়ে সোজাসুজি রাজবাড়িতে গিয়েছিলেন।

23. প্রথম রক্ষী ব্যঙ্গ করে ধীবরকে মারার বিষয়ে কী বলেছিল?
উত্তর: প্রথম রক্ষী ব্যঙ্গ করে বলেছিল যে ধীবরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বা মারার জন্য তার হাত দুটো ‘ফুলের মালা’ গাঁথার মতো নিশপিশ করছে।

24. দ্বিতীয় রক্ষীর মতে ধীবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে কী করা উচিত?
উত্তর: দ্বিতীয় রক্ষী বলেছিল যে, চোর ধীবরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে তার মৃতদেহ শকুনি বা কুকুর দিয়ে খাওয়ানো উচিত।

25. রাজশ্যালক শেষমেশ ধীবরকে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?
উত্তর: ধীবরের সততা প্রমাণিত হওয়ার পর এবং রাজার আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার পর, রাজশ্যালক নিজের ভুল বুঝতে পেরে ধীবরকে নিজের ‘বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

নবম শ্রেণির বাংলা ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের ২ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta 2 Marks Question Answer

1. ঋষি দুর্বাসা কী কারণে শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন এবং তাঁর সেই অভিশাপটি কী ছিল?
উত্তর: স্বামী রাজা দুষ্মন্তের ভাবনায় শকুন্তলা এতটাই বিভোর ছিলেন যে, তপোবনে বদমেজাজি ঋষি দুর্বাসার আগমন তিনি টেরই পাননি। এতে নিজেকে অপমানিত মনে করে ঋষি দুর্বাসা অভিশাপ দেন যে, যাঁর ধ্যানে শকুন্তলা এভাবে মগ্ন, সেই ব্যক্তিই তাঁকে পুরোপুরি ভুলে যাবে।

2. রাজসভায় গিয়ে শকুন্তলাকে কেন অপমানের শিকার হতে হয়েছিল?
উত্তর: ঋষি দুর্বাসার দেওয়া অভিশাপের জেরে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে সম্পূর্ণ ভুলে যান। এই অভিশাপ কাটানোর একমাত্র উপায় ছিল রাজাকে তাঁর দেওয়া কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখানো। কিন্তু শচীতীর্থে স্নান সেরে অঞ্জলি দেওয়ার সময় শকুন্তলার আঙুল থেকে রাজার সেই দেওয়া আংটিটি জলে পড়ে হারিয়ে যায়। ফলে রাজসভায় গিয়ে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং রাজাও তাঁকে চিনতে অস্বীকার করায় তিনি চরম অপমানিতা হন।

3. ধীবর বা জেলেটিকে কারা এবং কী অপরাধে বন্দি করেছিল?
উত্তর: নগররক্ষার প্রধান রাজশ্যালক এবং তাঁর দুই সহকারী রক্ষী (সূচক ও জানুক) ধীবরকে বন্দি করে আনে। কারণ, ধীবর হাটে রাজার নাম লেখা একটি দামি রত্নখচিত আংটি বিক্রি করতে গিয়েছিল, আর সেটা দেখেই রক্ষীদের সন্দেহ হয় যে সে নিশ্চয়ই আংটিটা চুরি করেছে।

4. ধীবরের পেশার কথা শুনে রাজশ্যালক কী ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন এবং কেন?
উত্তর: ধীবর যখন জানায় যে জাল আর বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরাই তার পেশা, তখন রাজশ্যালক তাচ্ছিল্য করে হেসে বলেন, “তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি”। রাজশ্যালক সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ ছিলেন, তাই জেলেদের এই মাছ ধরার কাজকে তিনি অত্যন্ত নিচু ও ঘৃণ্য কাজ বলে মনে করতেন। সেই অহংকার থেকেই তিনি এমন কথা বলেছিলেন।

5. “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে…” – নিজের পেশা বা বৃত্তি সম্পর্কে ধীবর কী যুক্তি দিয়েছিল?
উত্তর: নিজের জন্মগত পেশার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ধীবর বলে যে, কোনো মানুষের পেশা যদি সমাজের চোখে নিন্দনীয়ও হয়, তবু তা কখনোই ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। উদাহরণ হিসেবে সে জানায়, একজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বভাবগতভাবে দয়ালু হলেও, যজ্ঞের সময় পশুবলি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিও চরম নির্দয় হয়ে ওঠেন।

6. রাজার আংটিটি সে কীভাবে পেয়েছে, সেই ব্যাপারে ধীবর রাজশ্যালককে কী জানিয়েছিল?
উত্তর: ধীবর স্পষ্ট জানায় যে, সে একদিন একটি বড় রুই মাছ ধরেছিল। এরপর মাছটিকে যখন সে টুকরো টুকরো করে কাটছিল, ঠিক তখনই মাছের পেটের ভেতর থেকে রাজার নাম খোদাই করা এই মহামূল্যবান রত্নখচিত আংটিটি সে দেখতে পায়।

7. মাছের পেট থেকে আংটি পাওয়ার গল্প শুনে রাজশ্যালক এবং জানুকের কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: ধীবরের মুখে আংটি পাওয়ার এই অদ্ভুত কথা শুনে রক্ষী জানুক একদমই বিশ্বাস করেনি, উলটে সে ধীবরকে ‘গোসাপ-খাওয়া জেলে’ বলে প্রবল অপমান করে। তবে রাজশ্যালক বিষয়টি ঠান্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে বিচার করেন এবং ধীবর সত্যি বলছে কি না, তা যাচাই করার জন্য আংটিটি নিয়ে সরাসরি রাজবাড়িতে মহারাজের কাছে চলে যান।

8. “আমাদের প্রভুর দেখি খুব বিলম্ব হচ্ছে।” – এখানে ‘প্রভু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে এবং তাঁর দেরি হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: এখানে ‘প্রভু’ বলতে রাজ্যের নগররক্ষক বা রাজশ্যালককে বোঝানো হয়েছে। তিনি ধীবরের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আংটিটি নিয়ে রাজবাড়িতে মহারাজের কাছে গিয়েছিলেন। রাজার কাজের অবসর বুঝে তবেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার নিয়ম ছিল, আর সেই কারণেই মহারাজের আদেশ নিয়ে ফিরতে শ্যালকের দেরি হচ্ছিল।

9. “একে মারার আগে… আমার হাত দুটো (এখনই) নিশপিশ করছে।” – কার হাত এবং কেন এমন নিশপিশ করছিল?
উত্তর: এখানে প্রথম রক্ষী সূচকের হাত দুটো নিশপিশ করার কথা বলা হয়েছে। ধীবরকে নির্ঘাত চোর সাব্যস্ত করে মহারাজ মৃত্যুদণ্ড দেবেন—এই ভেবে সূচক মনে মনে খুব আনন্দ পাচ্ছিল। বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়ার আগে আসামির গলায় যে মরণ-মালা পরাতে হয়, সেই ফুলের মালা গাঁথার জন্যই তার হাত আনন্দে নিশপিশ করছিল।

10. “হয় তোকে শকুনি দিয়ে খাওয়ানো হবে, না হয় কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হবে।” – কে, কী কারণে এই মারাত্মক কথাটি বলেছিল?
উত্তর: দ্বিতীয় রক্ষী জানুক ধীবরকে ভয় দেখাতে এই কথাটি বলেছিল। রাজশ্যালককে রাজবাড়ি থেকে মহারাজের নির্দেশনামা হাতে নিয়ে ফিরতে দেখে জানুক নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল যে, ধীবরের চুরির অপরাধ প্রমাণিত। তাই রাজার আদেশে তাকে হয়তো অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পশুপাখি দিয়ে খাইয়েই মারা হবে—এই ভেবেই সে মন্তব্যটি করে।

11. “এই জেলে যমের বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে এল।” – ‘যমের বাড়ি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং রক্ষীরা কেন এমন মন্তব্য করেছিল?
উত্তর: এখানে ‘যমের বাড়ি’ বলতে নিশ্চিত মৃত্যুকে বোঝানো হয়েছে। রক্ষীরা ভেবেছিল রাজার আংটি চুরির অপরাধে ধীবরের মৃত্যুদণ্ড একদম পাকা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাজার আদেশে ধীবর শুধু সসম্মানে মুক্তিই পায় না, বরং প্রচুর অর্থ পুরস্কারও পায়। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের জন্যই রক্ষীরা এমন মন্তব্য করেছিল।

12. “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?” – ধীবরের এই উদ্বেগের জবাবে রাজশ্যালক কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?
উত্তর: চোর সন্দেহে আটকে রাখায় ধীবরের সেদিনের মাছ ধরা ও বিক্রি দুটোই বন্ধ ছিল। তাই ছাড়া পেয়ে সে তার পরিবারের পেট চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। এর জবাবে রাজশ্যালক মহারাজ দুষ্মন্তের দেওয়া আংটির সমমূল্যের বিপুল অর্থ খুশি মনে ধীবরের হাতে তুলে দেন।

13. “এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হলো।” – কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: রক্ষীরা ভেবেছিল চুরির দায়ে ধীবরকে শূলে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজার বিচারে সে মুক্তি পায় এবং তার সততার জন্য আংটির সমান দামের প্রচুর অর্থ পুরস্কার হিসেবে লাভ করে। চরম ও নিষ্ঠুর শাস্তির বদলে হঠাৎ করে এই বিপুল পরিমাণ রাজকীয় সম্মান ও অর্থপ্রাপ্তিকেই ব্যঙ্গ বা বিস্ময় প্রকাশ করে ‘হাতির পিঠে চড়ানো’ বলা হয়েছে।

14. হারানো আংটিটি ফিরে পেয়ে মহারাজের কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল বলে রাজশ্যালক জানিয়েছিলেন?
উত্তর: রাজশ্যালক রক্ষীদের জানান যে, আংটিটি কেবল দামি রত্ন দিয়ে তৈরি বলেই মহারাজের কাছে মূল্যবান ছিল তা নয়। আসলে ওই আংটিটা দেখামাত্রই রাজার তাঁর কোনো অত্যন্ত প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে যায়। রাজা স্বভাবগতভাবে খুব রাশভারী ও গম্ভীর প্রকৃতির হলেও, সেই মুহূর্তে আংটিটা দেখে তিনি আবেগে একেবারে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।

15. নাটকের শেষে ধীবরের প্রতি রাজশ্যালকের আচরণের কী বিস্ময়কর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়?
উত্তর: নাটকের শুরুতে দেখা যায় রাজশ্যালক ধীবরকে চোর ভেবে তাকে চরম অপমান করছেন এবং তার মাছ ধরার পেশা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করছেন। কিন্তু শেষে ধীবরের সততা রাজার কাছে প্রমাণিত হলে এবং ধীবর তার পাওয়া পুরস্কারের অর্ধেক রক্ষীদের বিলিয়ে দেওয়ায় তার উদারতায় রাজশ্যালক মুগ্ধ হন। অহংকার ভুলে তিনি ধীবরকে পরম আদরে নিজের ‘বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে গ্রহণ করেন।

নবম শ্রেণির বাংলা ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের ৩ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta 3 Marks Question Answer

ধীবর-বৃত্তান্ত – ৫টি গুরুত্বপূর্ণ (১+২) নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

1. “যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন”— বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী? (১+২)

বক্তা: এই অভিশাপমূলক কথাটির বক্তা হলেন রোষপ্রবণ ঋষি দুর্বাসা।
কারণ: মহাকবি কালিদাসের লেখা ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের পূর্বসূত্র থেকে আমরা জানতে পারি, তপোবনে রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে শকুন্তলার গান্ধর্ব মতে বিয়ে হয়। এরপর রাজা রাজধানীতে ফিরে গেলে শকুন্তলা সারাক্ষণ তাঁরই চিন্তায় বিভোর থাকতেন। একদিন শকুন্তলা যখন এভাবেই স্বামীর ভাবনায় মগ্ন ছিলেন, তখন ঋষি দুর্বাসা আশ্রমে অতিথি হিসেবে আসেন। কিন্তু অন্যমনস্ক থাকার কারণে শকুন্তলা তাঁর আগমন টেরই পাননি এবং তাঁকে কোনো অভ্যর্থনাও জানাননি। এতে ঋষি দুর্বাসা নিজেকে চরম অপমানিত মনে করেন। রাগের বশেই তিনি শকুন্তলাকে এই ভয়ংকর অভিশাপটি দিয়েছিলেন।

2. “তবে কি তোকে সৎ ব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা এটা দান করেছেন?”— বক্তা কে? মন্তব্যটির কারণ ব্যাখ্যা করো। (১+২)

বক্তা: আলোচ্য ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যটির বক্তা হলেন নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রথম রক্ষী (সূচক)।
কারণ: নাট্যাংশে দেখা যায়, এক সাধারণ জেলের কাছে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা একটি দামি রত্নখচিত আংটি পাওয়া যায়। রক্ষীরা তাকে চোর সন্দেহে ধরে আনলে জেলেটি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এবং জানায় যে, রুই মাছ কাটার সময় সে এটি পেয়েছে। একজন সামান্য জেলের কাছে এমন মহামূল্যবান আংটি থাকতে পারে, এটা রক্ষীদের কাছে একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তাই জেলের কথাকে সর্বৈব মিথ্যে ভেবে এবং তাকে চরম উপহাস করার জন্যই প্রথম রক্ষী এমন তির্যক মন্তব্যটি করেছিল।

3. “… তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি”— বক্তা কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন? ওই ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া কী ছিল? (১+২)

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: রাজ্যের নগররক্ষক বা রাজশ্যালক ধীবর (জেলে)-কে উদ্দেশ্য করে এই তাচ্ছিল্যভরা কথাটি বলেছিলেন।
প্রতিক্রিয়া: রাজশ্যালকের এই কটাক্ষ শুনে আত্মমর্যাদাবান ধীবর একটুও দমে যায়নি। সে অত্যন্ত শান্ত অথচ দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, মানুষ যে বৃত্তি বা পেশা নিয়ে জন্মায়, তা যতই নিন্দনীয় হোক না কেন, কখনোই তা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে সে বলে যে, একজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ এমনিতে খুবই দয়ালু প্রকৃতির হন, কিন্তু যজ্ঞের সময় পশুবলি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিও চরম নির্দয় আচরণ করেন। অর্থাৎ, নিচু পেশা দিয়ে কোনো মানুষকে বিচার করাটা যে বোকামি, ধীবর সেটাই স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছিল।

4. “সূচক, এই জেলেকে ছেড়ে দাও।”— কে কথাটি বলেছেন? জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন? (১+২)

বক্তা: কথাটি বলেছেন নগররক্ষার প্রধান আধিকারিক বা রাজশ্যালক স্বয়ং।
কারণ: ধীবরের কাছে রাজার নাম লেখা আংটি পাওয়ার পর, সে সত্যি কথা বলছে কি না তা যাচাই করতে রাজশ্যালক আংটিটি নিয়ে সোজাসুজি মহারাজের কাছে গিয়েছিলেন। ঋষি দুর্বাসার অভিশাপ মোচনের শর্ত মতো সেই আংটি (স্মৃতিচিহ্ন) দেখামাত্রই রাজা দুষ্মন্তের পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে এবং তিনি আংটি পাওয়ার ব্যাপারে জেলের দেওয়া সমস্ত কথা সত্য বলে মেনে নেন। এরপর রাজার নির্দেশমতো রাজশ্যালক ফিরে এসে রক্ষীদের জানান যে, ধীবর নির্দোষ এবং আংটিটি সে চুরি করেনি। রাজার তরফ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার কারণেই জেলেটিকে সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

5. “স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির হলেও মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” — রাজা তাঁর গম্ভীর প্রকৃতি ছেড়ে কখন, কেন মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়েছিলেন? (১+২)

কখন বিহ্বল হয়েছিলেন: রাজশ্যালক যখন ধীবরের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নামাঙ্কিত আংটিটি মহারাজ দুষ্মন্তকে গিয়ে দেখান, ঠিক তখনই রাজা মুহূর্তের জন্য বিহ্বল বা হতবাক হয়ে পড়েছিলেন।
কারণ: ঋষি দুর্বাসার দেওয়া অভিশাপের কারণে রাজা দুষ্মন্ত তাঁর বিবাহিত স্ত্রী শকুন্তলার কথা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলেন। দুর্বাসার শর্ত ছিল, কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখালে তবেই এই শাপ কাটবে। সেই হারিয়ে যাওয়া আংটিটি যখন হঠাৎ করে রাজশ্যালক রাজার সামনে নিয়ে আসেন, তখন আংটিটি দেখামাত্রই রাজার মনের অবচেতনে থাকা পুরোনো স্মৃতিগুলো নাড়া দিয়ে ওঠে। আংটিটি তাঁর কোনো এক ভীষণ প্রিয়জনের স্মৃতি উসকে দেওয়ায়, স্বভাবগতভাবে রাশভারী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও রাজা ওই মুহূর্তের জন্য আবেগাপ্লুত ও বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন।

নবম শ্রেণির বাংলা ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta 5 Marks Important Question Answer

ধীবর-বৃত্তান্ত – ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali

1. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটক থেকে নেওয়া ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরই হলো আসল নায়ক। একজন গরিব জেলে হলেও তার মানবিক গুণগুলো সত্যিই নজর কাড়ার মতো। তার চরিত্রের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • সততা ও নির্ভীকতা: রুই মাছের পেটে রাজার আংটি পেয়ে সে লুকিয়ে রাখেনি বা গালগল্প ফাঁদেনি, সোজা বাজারে বিক্রি করতে গেছে। রক্ষীরা তাকে চোর বলে মারধর করতে চাইলেও সে ভয় পায়নি, অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে সত্যি কথাটা বলেছে।
  • আত্মসম্মানবোধ: রাজশ্যালক যখন তার পেশা নিয়ে খোঁটা দিয়ে বলেন তার কাজটা খুব ‘পবিত্র’, তখন সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জন্মগত পেশা কখনও নিচু বা ঘৃণ্য হতে পারে না।
  • নির্লোভ ও দয়ালু মন: রাজার কাছ থেকে আংটির সমান দামের প্রচুর টাকা পেয়েও তার একটুও অহংকার হয়নি। উলটে যে রক্ষীরা তাকে কিছুক্ষণ আগে ফাঁসি দিতে চাইছিল, তাদেরই সে হাসিমুখে অর্ধেক টাকা বকশিশ দিয়ে দেয়।
    এই গুণগুলোর জন্যই ধীবর দরিদ্র হয়েও মনুষ্যত্বের বিচারে অনেক উঁচুতলার মানুষের চেয়েও বড়ো হয়ে উঠেছে।

2. “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় (ঘৃণ্য) হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।” – উক্তিটির বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে সে এই উক্তি করেছে? উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দাও। (১+১+৩)
উত্তর:

  • বক্তা: কথাটি বলেছে নাট্যাংশের প্রধান চরিত্র আত্মমর্যাদাবান ধীবর।
  • প্রসঙ্গ: ধীবর যখন জানায় যে সে জাল ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরে পেট চালায়, তখন নগররক্ষক রাজশ্যালক তাকে চূড়ান্ত অপমান করে ব্যঙ্গ করে বলেন তার পেশা নাকি খুব ‘পবিত্র’। শ্যালকের এই কটাক্ষ শুনেই নিজের পেশার সম্মান রক্ষার্থে ধীবর এই মোক্ষম জবাবটি দিয়েছিল।
  • অন্তর্নিহিত অর্থ: আমাদের সমাজে অনেক সময়ই তথাকথিত উঁচুশ্রেণির মানুষ গরিব খেটে-খাওয়া মানুষদের পেশাকে ছোটো করে দেখে। রাজশ্যালকও ধীবরের কাজকে অত্যন্ত নিচু আর নিষ্ঠুর ভেবেছিলেন। কিন্তু ধীবর বুঝিয়ে দেয়, মানুষ যে পেশাতেই জন্মাক না কেন, সততার সঙ্গে কাজ করলে কোনো কাজই ছোটো নয়। সে উদাহরণ টেনে বলে, একজন বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ এমনিতে খুবই দয়ালু হন, কিন্তু যজ্ঞের সময় পশুবলি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিও নির্দয় হয়ে ওঠেন। তাই পেশা দিয়ে মানুষের বিচার করা চরম বোকামি। ধীবরের এই কথার মধ্যে দিয়ে মূলত ‘শ্রমের মর্যাদা’ বা Dignity of Labor-এর বিষয়টিই অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

3. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কালিদাসের লেখা ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটকের ষষ্ঠ অঙ্কটির বাংলা তরজমা করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’। ‘ধীবর’ মানে জেলে, আর ‘বৃত্তান্ত’ মানে কাহিনি বা ঘটনা। অর্থাৎ, এক জেলের জীবনের আকস্মিক একটি ঘটনাই এই নাটকের মূল বিষয়।
পাঠ্যাংশে আমরা দেখি, রাজার হারিয়ে যাওয়া আংটি ঘটনাচক্রে এক জেলের হাতে পড়ে। এরপর তাকে চোর সাজিয়ে শুরু হয় বিচার পর্ব। কিন্তু নিজের সততা, সাহস আর যুক্তির জোরে ধীবর শুধু নিজেকে নির্দোষ প্রমাণই করে না, রাজার কাছ থেকে বিপুল পুরস্কারও আদায় করে নেয়। এমনকি তার উদারতায় মুগ্ধ হয়ে খোদ রাজশ্যালক তাকে পরম বন্ধু বানিয়ে নেন। নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই ধীবর চরিত্রটিই মঞ্চ কাঁপিয়েছে। রাজা বা শকুন্তলার কথা এখানে এসেছে ঠিকই, তবে তা শুধুই ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে। তাই মূল চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে এই ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নামকরণটি একশো শতাংশ সার্থক ও মানানসই হয়েছে।

4. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর কথাবার্তায় তৎকালীন সমাজের কোন ছবি ফুটে উঠেছে তা লেখো।
উত্তর: মহাকবি কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই নগররক্ষী সূচক ও জানুকের কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে সেই আমলের সমাজের একটা অন্ধকার দিক খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
রাজার নাম লেখা আংটিসহ ধীবরকে ধরার পর, রক্ষীরা কোনো বিচার ছাড়াই তাকে চোর, গাঁটকাটা, বাটপাড় বলে গালিগালাজ শুরু করে। ধীবরের গা থেকে মাছের গন্ধ বেরোচ্ছে বলে তাকে ‘গোসাপ খাওয়া জেলে’ বলে চূড়ান্ত অপমান করে। এখান থেকে তৎকালীন সমাজের উঁচু-নিচু ভেদাভেদের একটা নিখুঁত ছবি পাওয়া যায়। সমাজে যারা গরিব বা নিচু জাতের খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের ওপর ক্ষমতাবানরা কীভাবে কথায় কথায় অত্যাচার করত আর তাদের পেশাকে কীভাবে ঘেন্নার চোখে দেখত, রক্ষীদের আচরণ তারই প্রমাণ। তবে রাজশ্যালক কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ ছিলেন, কারণ তিনি রাজার আদেশের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন এবং পরে ধীবরের সততা দেখে সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে তাকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।

5. “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর” — কার আংটি সে পেয়েছিল? আংটি হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ইতিহাসটি আছে তা নিজের ভাষায় লেখো। (১+৪)
উত্তর:

  • কার আংটি: ধীবর যে আংটিটি রুই মাছের পেট থেকে পেয়েছিল, সেটি ছিল রাজা দুষ্মন্তের।
  • আংটি হারানোর ইতিহাস: মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে শকুন্তলাকে বিয়ে করার পর রাজা দুষ্মন্ত রাজধানীতে ফিরে যান। দীর্ঘদিন রাজার কোনো খবর না পাওয়ায় শকুন্তলা সারাক্ষণ তাঁরই চিন্তায় আনমনা থাকতেন। এমন সময় আশ্রমে বদমেজাজি ঋষি দুর্বাসা এলে, শকুন্তলা তাঁর আগমন টেরই পাননি। এতে অপমানিত ঋষি শাপ দেন যে, যাঁর চিন্তায় শকুন্তলা মগ্ন, সে তাঁকে বেমালুম ভুলে যাবে। পরে সখীদের কাতর অনুরোধে দুর্বাসা জানান, কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখাতে পারলে তবেই এই শাপ কেটে যাবে। সখীরা রাজার দেওয়া ওই আংটিটিকেই একমাত্র সম্বল ভেবেছিলেন। কিন্তু শকুন্তলা যখন স্বামীর খোঁজে রাজবাড়িতে যাচ্ছিলেন, তখন পথে শচীতীর্থে স্নান করে অঞ্জলি দেওয়ার সময় আঙুল থেকে আংটিটি খুলে জলে পড়ে যায়। পরে একটি রুই মাছ সেটি গিলে ফেলে এবং সেই রুই মাছটিই ঘটনাক্রমে এক গরিব জেলের জালে ধরা পড়ে।

6. “এই তো আমাদের প্রভু, মহারাজের হুকুমনামা হাতে নিয়ে এদিকে আসছেন।” — ‘আমাদের প্রভু’ বলতে এখানে কার কথা বলা হয়েছে? মহারাজের হুকুম শেষপর্যন্ত কীভাবে রক্ষীদের হতাশ করে তা লেখো। (১+৪)
উত্তর:

  • প্রভুর পরিচয়: এখানে ‘আমাদের প্রভু’ বলতে নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালককে বোঝানো হয়েছে।
  • রক্ষীদের হতাশ হওয়ার কারণ: ধীবরকে চোর সাব্যস্ত করে রাজশ্যালক যখন আংটি নিয়ে সোজা রাজার কাছে যান, তখন দুই রক্ষী বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। তারা মনে মনে ছক কষে ফেলেছিল যে, চুরির দায়ে ধীবরকে নির্ঘাত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তাকে শকুনি দিয়ে না কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হবে, তা নিয়ে তারা রীতিমতো রসিকতাও করছিল। কিন্তু রাজশ্যালক যখন রাজার হুকুম নিয়ে ফিরলেন, তখন তাদের সব আশায় জল পড়ে যায়। কারণ রাজা শুধু ধীবরকে নির্দোষ বলেই ছেড়ে দেননি, উলটে আংটির সমান দামের প্রচুর টাকা তাকে পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলেন। ধীবরের চরম শাস্তির বদলে এই বিপুল সম্মান ও অর্থপ্রাপ্তি দেখে স্বভাবতই রক্ষীরা চরম হতাশ হয়েছিল।

7. নাট্যকাহিনিতে উপস্থিত না থেকেও রাজা দুষ্মন্ত কীভাবে কাহিনিকে প্রভাবিত করেছেন তা আলোচনা করো।
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজা দুষ্মন্ত সরাসরি মঞ্চে একবারও উপস্থিত হননি, কিন্তু পুরো গল্পের রাশ তাঁর হাতেই ছিল।
ধীবর আংটি চুরির দায়ে ধরা পড়ার পর, তার ভাগ্য নির্ধারণের ভার ছিল একমাত্র রাজার ওপর। রাজশ্যালক আংটি নিয়ে মহারাজের কাছে গেলে, রাজার নির্দেশেই ধীবর মুক্তি পায় এবং পুরস্কৃত হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাজা যখন আংটিটি দেখেন, তখন তাঁর মনের ভেতরের তোলপাড় শ্যালকের বর্ণনার মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি। আংটি দেখামাত্রই তাঁর হারানো স্মৃতির কথা মনে পড়ে যায় এবং তিনি মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে যান। ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটকের আসল টার্নিং পয়েন্টই হলো এই আংটি ফিরে পাওয়া। রাজা মঞ্চে না থাকলেও, তাঁর সুবিচার, উদারতা এবং শকুন্তলার প্রতি তাঁর চাপা ভালোবাসার আবেগ পুরো নাট্যাংশ জুড়ে একটা অদৃশ্য প্রলেপের মতো ছড়িয়ে আছে। এভাবেই নেপথ্যে থেকেও রাজা কাহিনিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

8. রাজার কাছে ধীবরের পাওয়া আংটিটির গুরুত্ব যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তর: ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আংটিটি শুধু একটা দামি গয়না ছিল না, রাজার কাছে এর মানসিক দাম ছিল অনেক বেশি।
তপোবনে শকুন্তলাকে বিয়ে করার সময় রাজা দুষ্মন্ত ভালোবেসে এই আংটিটি পরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ঋষি দুর্বাসার ভয়াবহ অভিশাপে রাজা শকুন্তলার কথা পুরোপুরি ভুলে যান। দুর্বাসার শর্ত ছিল, কোনো নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন দেখলে তবেই তাঁর এই স্মৃতিলোপের অভিশাপ কাটবে। রাজশ্যালক যখন ধীবরের কাছ থেকে পাওয়া সেই হারানো আংটি রাজার সামনে নিয়ে যান, তখন রাজা সেটি দেখামাত্রই তাঁর মনের গভীরের সুপ্ত স্মৃতি জেগে ওঠে। আংটির দামি রত্ন দেখে তিনি খুশি হননি, বরং আংটিটা তাঁর প্রিয়জনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল বলেই তিনি আবেগে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। স্মৃতির দরজা খুলে যাওয়ার এই তীব্র আনন্দ থেকেই তিনি এক সামান্য জেলেকে আংটির সমান দামের অর্থ অবলীলায় দান করে দেন। রাজার কাছে আংটিটি যে তাঁর প্রাণের চেয়েও দামি ছিল, তা তাঁর এই আচরণ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

নবম শ্রেণির ধীবর-বৃত্তান্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF Notes Download | Class 9 Bengali Dhibar Brittanta

ধীবর-বৃত্তান্ত PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Chapter ধীবর-বৃত্তান্ত
Contents MCQ, VSAQ, ২ ও ৩ নম্বর এবং বড় প্রশ্ন-উত্তর
PDF Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free PDF Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment