নবম শ্রেণির আকাশে সাতটি তারা কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Akashe Sat Ti Tara Question Answer

আকাশে সাতটি তারা কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণির বাংলা | Class 9 Bengali Akashe Sat-ti Tara Question Answer

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবারও তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।

কবির ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত এই কবিতায় গ্রামবাংলার গোধূলিবেলার অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির ছোট ছোট উপাদানের মধ্য দিয়ে কবি বাংলার চিরচেনা রূপকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামআকাশে সাতটি তারা
কবিজীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থরূপসী বাংলা

এখানে আমরা কবিতার সামারি বা কবি পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব। এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। অর্থাৎ, পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে তোমরা সহজেই প্রস্তুতি নিতে পারো।

তোমরা যদি আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলোও একবার দেখে নিতে পারো। এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—

  • এলো বৃষ্টি ঝেঁপে
  • আমার গান
  • ইলিয়াস
  • দাম
  • নব নব সৃষ্টি
  • হিমালয় দর্শন
  • নোঙর
  • খেয়া

এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর আগের পোস্টগুলোতে পেয়ে যাবে।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।

নবম শ্রেণির আকাশে সাতটি তারা কবিতার MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Akashe Sat Ti Tara MCQ Question Answer

1. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশের কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(A) বনলতা সেন
(B) মহাপৃথিবী
(C) রূপসী বাংলা
(D) ঝরা পালক
উত্তর: (C) রূপসী বাংলা

2. আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠার সময় কবি কোথায় বসে ছিলেন?
(A) সমুদ্রতীরে
(B) ছাদে
(C) বারান্দায়
(D) নরম ঘাসের ওপর
উত্তর: (D) নরম ঘাসের ওপর

3. সূর্যাস্তের সময়ের কামরাঙা-লাল মেঘটিকে কবি কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
(A) রাঙা জাম
(B) মৃত মনিয়া পাখি
(C) বটের ফল
(D) হিজল ফল
উত্তর: (B) মৃত মনিয়া পাখি

4. লাল রঙের মেঘটি সন্ধ্যার দিকে কোথায় তলিয়ে বা ডুবে যাচ্ছে বলে কবির মনে হয়েছে?
(A) মেঘের তলে
(B) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে
(C) পুকুরে
(D) গঙ্গার ঢেউয়ে
উত্তর: (B) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে

5. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বাংলার সন্ধ্যাকে কেমন রূপ দেওয়া হয়েছে?
(A) শান্ত ও অনুগত
(B) ব্যস্ত ও ক্লান্ত
(C) চঞ্চল ও চপল
(D) রুক্ষ ও ধূসর
উত্তর: (A) শান্ত ও অনুগত

6. বাংলার নীল সন্ধ্যা আকাশ থেকে কার মতো নেমে আসে বলে কবি কল্পনা করেছেন?
(A) মেঘের মতো
(B) ধানের গন্ধের মতো
(C) মনিয়া পাখির মতো
(D) কেশবতী কন্যার মতো
উত্তর: (D) কেশবতী কন্যার মতো

7. কেশবতী কন্যার ঘন কালো চুল ঠিক কোথায় ভাসতে দেখা যায় বলে কবি জানিয়েছেন?
(A) জলের ওপর
(B) ঘাসের ওপর
(C) চোখের ও মুখের ওপর
(D) আকাশে
উত্তর: (C) চোখের ও মুখের ওপর

8. পৃথিবীর কোনো পথ আজ পর্যন্ত কোন্ কন্যার এমন অপরূপ রূপ দেখেনি?
(A) বনলতা সেন
(B) কেশবতী কন্যা
(C) কিশোরী
(D) মনিয়া পাখি
উত্তর: (B) কেশবতী কন্যা

9. হিজল, কাঁঠাল ও জামগাছের পাতায় কার চুলের চুম্বন ঝরে পড়ে?
(A) কেশবতী কন্যার
(B) আকাশের
(C) বনদেবীর
(D) শিউলি ফুলের
উত্তর: (A) কেশবতী কন্যার

10. রূপসী কেশবতী কন্যার চুলের বিন্যাস থেকে কবি কেমন অনুভূতি পেয়েছেন?
(A) শীতের আমেজ
(B) জলকণা
(C) স্নিগ্ধ গন্ধ
(D) ফুলের মালা
উত্তর: (C) স্নিগ্ধ গন্ধ

11. কবি বাংলার পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানোর সময় কীসের গন্ধ অনুভব করেন?
(A) চন্দনের
(B) নরম ধানের
(C) বকুল ফুলের
(D) মাটির
উত্তর: (B) নরম ধানের

12. কলমি শাকের ঘ্রাণের পাশাপাশি কবি আর কীসের ঘ্রাণ বা গন্ধ পেয়েছেন?
(A) নদীর বালু
(B) পুকুরের জলের
(C) শ্যাওলা
(D) ঝোপঝাড়
উত্তর: (B) পুকুরের জলের

13. কবিতায় কোন্ কোন্ মাছের আঁশটে বা মৃদু গন্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
(A) কই ও মাগুর
(B) চিংড়ি ও কাতলা
(C) চান্দা ও সরপুঁটি
(D) শোল ও বোয়াল
উত্তর: (C) চান্দা ও সরপুঁটি

14. হাঁসের পালকের গন্ধের সঙ্গে কবি আর কীসের গন্ধের কথা বলেছেন?
(A) খড়
(B) পাথর
(C) জল
(D) শর
উত্তর: (D) শর

15. গ্রাম্য কিশোরীর হাতটি কেমন ছিল বলে কবিতায় উল্লেখ আছে?
(A) চাল ধোয়া ভিজে
(B) মুথা ঘাস মাখা
(C) কলমিলতা ধরা
(D) বট ফল মাখা
উত্তর: (A) চাল ধোয়া ভিজে

16. গ্রামের কিশোরের পায়ের চাপে কী দলা পাকিয়ে পিষে গিয়েছিল?
(A) হিজল ফল
(B) কাদা
(C) মুথা ঘাস
(D) কচুরিপানা
উত্তর: (C) মুথা ঘাস

17. পাকা বট ফলের গন্ধকে কবি জীবনানন্দ দাশ কেমন বলে বর্ণনা করেছেন?
(A) মধুর
(B) ব্যথিত
(C) কটু
(D) বিচিত্র
উত্তর: (B) ব্যথিত

18. কবির মতে, আসল ‘বাংলার প্রাণ’ ঠিক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে?
(A) রাজপথে
(B) শহরের ভিড়ে
(C) প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুষঙ্গে
(D) মন্দিরে
উত্তর: (C) প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুষঙ্গে

19. আঙ্গিক বা রূপের দিক থেকে ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি আসলে কী ধরনের কবিতা?
(A) নাটক
(B) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা
(C) ছোটগল্প
(D) ভ্রমণকাহিনি
উত্তর: (B) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা

20. কবিতায় উল্লিখিত ‘মনিয়া’ শব্দটি মূলত কীসের নাম?
(A) পাখি
(B) মাছ
(C) ফল
(D) লতা
উত্তর: (A) পাখি

21. বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছের পাতায় পাতায় কী ঝরে পড়ে?
(A) বৃষ্টি
(B) শিশির
(C) পাতা
(D) কেশবতীর চুলের চুমো
উত্তর: (D) কেশবতীর চুলের চুমো

22. “অজস্র চুলের চুমা…”—এই চুলের চুম্বনে কবির কেমন অনুভূতি তৈরি হয়?
(A) রূঢ়
(B) উষ্ণ
(C) স্নিগ্ধ
(D) শীতল
উত্তর: (C) স্নিগ্ধ

23. পুকুরের চান্দা ও সরপুঁটি মাছের গায়ের গন্ধটি কেমন প্রকৃতির?
(A) প্রকট
(B) মিষ্টি
(C) মৃদু
(D) পচা
উত্তর: (C) মৃদু

24. সন্ধ্যার আকাশে মোট কয়টি তারা ফুটে ওঠার কথা কবিতায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে?
(A) পাঁচটি
(B) দশটি
(C) অসংখ্য
(D) সাতটি
উত্তর: (D) সাতটি

25. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়া…”—মেঘের সঙ্গে কামরাঙার এই তুলনা কী কারণে করা হয়েছে?
(A) স্বাদের ভয়ে
(B) রঙের সাদৃশ্যে
(C) আকারের জন্য
(D) কোনোটিই নয়
উত্তর: (B) রঙের সাদৃশ্যে

26. ‘মৃত মনিয়া’ কথাটির দ্বারা আসলে কী বোঝানো হয়েছে?
(A) জীবিত মনিয়া
(B) কাল্পনিক পক্ষী
(C) প্রাণহীন মনিয়া পাখি
(D) মেঘ
উত্তর: (C) প্রাণহীন মনিয়া পাখি

27. বাংলার এই অপরূপ শান্ত সন্ধ্যা দেখার সময় কবি কোথায় বসে ছিলেন?
(A) মাচায়
(B) পিঁড়িতে
(C) বিছানায়
(D) ঘাসের ওপর
উত্তর: (D) ঘাসের ওপর

28. কবিতায় পল্লিকিশোরীর হাতের কেমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
(A) রুক্ষ
(B) চালধোয়া ভিজে শীত হাত
(C) গরম
(D) কোমল
উত্তর: (B) চালধোয়া ভিজে শীত হাত

29. “ক্লান্ত নীরবতা”—এই অদ্ভুত বিষণ্ণতা কার মাঝে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়?
(A) শহরের
(B) আকাশে
(C) বটফলের ব্যথিত গন্ধের
(D) মেঘের
উত্তর: (C) বটফলের ব্যথিত গন্ধের

30. আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি তার ঘ্রাণে ও স্পর্শে কীসের অস্তিত্ব টের পান?
(A) বৃষ্টির
(B) বাংলার প্রাণের
(C) ঝড়ের
(D) ভয়ের
উত্তর: (B) বাংলার প্রাণের

1. আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি কোথায় বসে থাকেন?

উত্তর: সন্ধ্যার আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির নির্জন সান্নিধ্যে নরম ঘাসের ওপর শান্ত হয়ে বসে থাকেন।

2. সূর্যাস্তের সময়কার কামরাঙা-লাল মেঘকে কবি কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

উত্তর: গোধূলির আলোয় ভাসমান কামরাঙা-লাল মেঘটিকে কবি একটি ‘মৃত মনিয়া’ পাখির সঙ্গে চমৎকারভাবে তুলনা করেছেন।

3. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি সন্ধ্যাকে কেমন বলে বর্ণনা করেছেন?

উত্তর: আকাশে ধীরে ধীরে নেমে আসা বাংলার এই অপরূপ সন্ধ্যাকে কবি ‘শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

4. ঘনিয়ে আসা সন্ধ্যার অন্ধকারকে কবি কার সঙ্গে তুলনা করেছেন?

উত্তর: সন্ধ্যার এই ঘন নীল অন্ধকারকে কবি এক রহস্যময়ী ‘কেশবতী কন্যা’র একরাশ মেঘবরণ কালো চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

5. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” – এখানে কোন্ কন্যার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: এখানে রূপসী বাংলার মায়াবী রূপ এবং অন্ধকারের প্রতীক সেই অপরূপ ‘কেশবতী কন্যা’র কথা বলা হয়েছে, যার সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না।

6. রূপসী কন্যার চুলের চুমো কোথায় ঝরে পড়ে বলে কবির মনে হয়েছে?

উত্তর: কবির কল্পনায়, ওই কেশবতী কন্যার চুলের স্নিগ্ধ চুম্বন বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছের পাতায় পাতায় অবিরাম ঝরে পড়ে।

7. বাংলার পথেপ্রান্তরে ঘুরে বেড়ানোর সময় কবি কীসের গন্ধে মুগ্ধ হন?

উত্তর: বাংলার পথে ঘুরে বেড়ানোর সময় কবি নরম ধানের গন্ধ আর পুকুরের জলের সঙ্গে মিশে থাকা কলমি শাকের স্নিগ্ধ ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে যান।

8. কবিতায় উল্লিখিত ‘ব্যথিত গন্ধ’ বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: পাকা লাল বটফল যখন মাটিতে পড়ে থেঁতলে যায়, তখন তা থেকে যে একধরনের অদ্ভুত, তীব্র ও করুণ গন্ধ বের হয়, তাকেই কবি ‘ব্যথিত গন্ধ’ বলেছেন।

9. কবিতায় কার হাতকে ‘শীত হাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তর: যে গ্রামীণ কিশোরী চাল ধুয়েছে, শীতল জলে ভেজা তার সেই ঠান্ডা হাতটিকেই কবিতায় ‘শীত হাত’ বা শীতল হাত বলা হয়েছে।

10. কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রাণের আসল অস্তিত্ব ঠিক কোথায় খুঁজে পান?

উত্তর: নরম ধানের গন্ধে, কলমির ঘ্রাণে, হাঁসের পালকে, কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসে আর চাঁদা-সরপুঁটি মাছের মৃদু গন্ধের মাঝেই কবি বাংলার প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পান।

11. প্রকৃতির মাঝে কবি কখন ‘বাংলার প্রাণ’ স্পষ্টভাবে টের পান?

উত্তর: গোধূলির আলো নিভে গিয়ে যখন সন্ধ্যার আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে, ঠিক তখনই কবি বাংলার প্রাণকে নিজের অন্তরে গভীরভাবে অনুভব করেন।

12. ‘মৃত মনিয়া’ পাখির মতো মেঘটি কোথায় গিয়ে ডুবে যায়?

উত্তর: মৃত মনিয়া পাখির মতো দেখতে সেই কামরাঙা-লাল রঙের মেঘটি ধীরে ধীরে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ের মধ্যে ডুবে যায়।

আকাশে সাতটি তারা কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Akashe Sat Ti Tara 2 Marks Question Answer

1. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো”—এখানে উপমাটি কতটা সার্থক হয়েছে?
উত্তর: দিন শেষের সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম আকাশের মেঘ ঠিক পাকা কামরাঙা ফলের মতো গাঢ় লাল রং ধারণ করে। তারপর ধীরে ধীরে সেই লাল আভা যখন নিস্তেজ হয়ে শান্ত গোধূলিতে মিশে যায়, তখন কবি জীবনানন্দ দাশের মনে হয় যেন একটি লাল মনিয়া পাখি মরে পড়ে আছে। কামরাঙার লাল রঙের সঙ্গে মৃত মনিয়া পাখির এই নিথর ও শান্ত অবস্থার তুলনাটি সত্যিই অসাধারণ এবং সার্থক।

2. “আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা”—কবি কেন সন্ধ্যাকে ‘শান্ত অনুগত’ এবং ‘নীল’ বলে বর্ণনা করেছেন?
উত্তর: গ্রামবাংলার বুকে গোধূলির পর সন্ধ্যা খুব ধীর পায়ে, নিঃশব্দে নেমে আসে। তার মধ্যে কোনো নাগরিক কোলাহল বা ব্যস্ততা নেই, সে যেন প্রকৃতির নিয়মের কাছে বড়ো বাধ্য আর শান্ত; তাই তাকে ‘অনুগত’ বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দিনের শেষ আলোর সঙ্গে রাতের অন্ধকারের মিলনে আকাশে এক অদ্ভুত মায়াবী নীল আভা তৈরি হয়, আর সেই কারণেই কবি একে ‘নীল সন্ধ্যা’ বলেছেন।

3. কেশবতী কন্যার চুলের বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: রূপসী বাংলার অপরূপ রূপকার কবি জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যেবেলার ঘন অন্ধকারকে এক মায়াবী কেশবতী কন্যার একরাশ কালো চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সন্ধ্যের অন্ধকার যখন ধীরে ধীরে আকাশজুড়ে নেমে আসে, কবির মনে হয় যেন সেই কন্যার কালো চুল তাঁর চোখ-মুখে এক স্নিগ্ধ পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। মূলত গ্রামবাংলার সন্ধ্যার এক রহস্যময় ও মায়াময় রূপ বোঝাতেই এই বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে।

4. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”—এই কথাটির আসল তাৎপর্য কী?
উত্তর: গ্রামবাংলার বুকে নেমে আসা সন্ধ্যার যে অপরূপ স্নিগ্ধতা এবং রহস্যময় রূপ কবি অনুভব করেছেন, তা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। বাংলার এই অকৃত্রিম প্রকৃতির সৌন্দর্য সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং অতুলনীয়। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এই মায়াবী অন্ধকারের রূপ দেখা অসম্ভব বলেই কবি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে কথাটি বলেছেন।

5. “হিজলে কাঁঠালে জামে ঝরে অবিরত…”—এখানে কী ঝরে পড়ার কথা বলা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: সন্ধ্যার ঘন অন্ধকার রূপী সেই কেশবতী কন্যার চুলের নরম চুম্বন অবিরাম বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছের পাতায় পাতায় ঝরে পড়ছে। এর মধ্য দিয়ে কবি মূলত বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে সন্ধ্যার এক নিবিড় প্রেমের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। অন্ধকার যেন এক মায়াবী পরশে গাছপালাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেছে।

6. বাংলার পথে-প্রান্তরে ঘুরে কবি জীবনানন্দ দাশ কী কী ঘ্রাণ বা গন্ধ অনুভব করেছেন?
উত্তর: বাংলার ধুলোমাটি আর ঘাসের গন্ধের পাশাপাশি কবি নরম ধানের গন্ধ, কলমি শাকের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ, হাঁসের পালক, শর গাছ, পুকুরের জল এবং চাঁদা ও সরপুঁটি মাছের হালকা আঁশটে গন্ধ গভীরভাবে অনুভব করেছেন।

7. কবিতায় “চাঁদা-সরপুঁটিদের মৃদু ঘ্রাণ”—এই অনুষঙ্গটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: বাংলার প্রকৃতির রূপ শুধু চোখ দিয়ে নয়, তার নিজস্ব গন্ধ দিয়েও উপলব্ধি করা যায়। বাংলার খাল-বিল আর পুকুরের অন্যতম পরিচিত জিনিস হলো চাঁদা বা সরপুঁটির মতো ছোটো মাছ। এদের গায়ের মৃদু গন্ধের মধ্যে বাংলার জলাভূমির যে একটা একেবারে নিজস্ব আর চিরচেনা পরিচয় লুকিয়ে আছে, কবি সেই গ্রামীণ রূপটিকেই এখানে গুরুত্ব দিয়েছেন।

8. কবিতায় কিশোরীর ‘শীত হাত’ এবং কিশোরের পায়ে ‘মুথা ঘাস’ মাড়ানোর প্রসঙ্গটি কেন টেনে আনা হয়েছে?
উত্তর: গ্রামবাংলার একেবারে সাধারণ ও নিখাদ গৃহস্থালির রূপ ফুটিয়ে তুলতেই কবি চাল ধোয়া জলে ভেজা কিশোরীর ঠান্ডা বা ‘শীত হাত’-এর কথা বলেছেন। অন্যদিকে, গ্রামের মাঠে কিশোরের পায়ে পিষ্ট হওয়া মুথা ঘাসের গন্ধের কথা বলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এইসব অতি সাধারণ লৌকিক উপাদানের মাঝেই বাংলার আসল জীবনধারা লুকিয়ে আছে।

9. “লাল লাল বটের ফলের ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা”—এই কথাটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: গাছ থেকে লাল রঙের পাকা বটফল যখন মাটিতে ঝরে পড়ে পায়ে থেঁতলে যায়, তখন তা থেকে একধরনের কটু ও করুণ গন্ধ বের হয়। কবির সংবেদনশীল মনে সেই গন্ধটিকে অত্যন্ত ‘ব্যথিত’ বা বিষণ্ণ বলে মনে হয়েছে। এই গন্ধ যেন বাংলার সন্ধ্যার শান্ত ও নিস্তব্ধ পরিবেশকে আরও বেশি ক্লান্ত আর করুণ করে তোলে।

10. “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”—এখানে ‘বাংলার প্রাণ’ বলতে কবি জীবনানন্দ দাশ ঠিক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবির মতে, বাংলার আসল প্রাণ কোনো বড়ো শহরের ইট-পাথরের অট্টালিকায় নেই। নরম ধানের গন্ধ, কলমির ঘ্রাণ, পুকুরের জল, হাঁসের পালক, কিশোরীর চাল-ধোয়া ঠান্ডা হাত কিংবা মাটিতে পড়ে থাকা বটফলের মতো বাংলার অতি সাধারণ ও অবহেলিত উপাদানগুলোর মাঝেই বাংলার আসল ও শাশ্বত অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে।

11. “আসিয়াছে শান্ত অনুগত / বাংলার নীল সন্ধ্যা”—এই সন্ধ্যা পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার থেকে কতটা আলাদা?
উত্তর: পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সন্ধ্যা হয়তো অনেক বেশি ঝলমলে বা কোলাহলপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু বাংলার সন্ধ্যা একদম আলাদা। সে যেন এক বাধ্য ও অনুগত কন্যার মতো খুব শান্ত ও স্নিগ্ধ পায়ে নেমে আসে। বাংলার সন্ধ্যার এই অদ্ভুত মায়াবী নীল আভা আর প্রশান্তি পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।

12. “মুথাঘাস—লাল লাল বটের ফলের / ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা”—এখানে মুথা ঘাস এবং বটফলের গন্ধের মধ্যে বৈপরীত্য কোথায়?
উত্তর: কিশোরের পায়ের চাপে পিষ্ট হওয়া মুথা ঘাসের গন্ধের মধ্যে তারুণ্য, সতেজতা এবং একধরনের প্রাণচঞ্চলতার ছোঁয়া রয়েছে। এর ঠিক বিপরীতে, মাটিতে পড়ে থেঁতলে যাওয়া পাকা বটফলের গন্ধটি অত্যন্ত বিষণ্ণ, করুণ ও ক্লান্ত। কবি এই দুটি ভিন্ন গন্ধের বৈপরীত্যের মাধ্যমেই সন্ধ্যার বিচিত্র অনুভূতিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

13. রূপসী কন্যার কালো চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ কবি ঠিক কোথায় খুঁজে পান?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ রূপসী বাংলার প্রকৃতির আনাচেকানাচে সেই কেশবতী কন্যার চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ পান। বিশেষ করে সন্ধ্যার অন্ধকারে হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছের পাতার ভেতর দিয়ে যে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে, কবি তাকেই ওই রূপসী কন্যার চুলের বিন্যাসের গন্ধ বলে গভীরভাবে অনুভব করেছেন।

14. “গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে”—কোন্ জিনিসটি, ঠিক কখন ডুবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: দিন শেষে গোধূলির আলো যখন নিভে আসে, তখন পশ্চিম আকাশের কামরাঙার মতো লাল রঙের মেঘটি অন্ধকারে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। কবির মনে হয়েছে, যেন একটি মৃত লাল মনিয়া পাখি আস্তে আস্তে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ের মধ্যে ডুবে গেল।

15. “আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের।”—এখানে কবি জীবনানন্দ দাশ ঠিক কী টের পান বা অনুভব করেন?
উত্তর: সূর্যাস্তের পর গোধূলির আলো মিলিয়ে গিয়ে যখন সন্ধ্যার আকাশে সাতটি তারা (সপ্তর্ষিমণ্ডল) ফুটে ওঠে, ঠিক তখনই কবি বাংলার মাঠ-ঘাট, ধুলোমাটি আর লৌকিক গন্ধের মাঝে গ্রামবাংলার সেই শাশ্বত, চিরন্তন এবং অমর প্রাণের স্পন্দন নিজের হৃদয়ে টের পান।

আকাশে সাতটি তারা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ ৮টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali

1. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বাংলার সন্ধ্যার যে মায়াবী রূপ বর্ণনা করেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় গ্রামবাংলার সন্ধ্যার এক অনবদ্য ও মায়াবী চিত্র এঁকেছেন।
সূর্য ডোবার সময় আকাশের কামরাঙা-লাল মেঘ যখন গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে চিরতরে ডুবে যায়, ঠিক তখনই বাংলার বুকে শান্ত ও অনুগত এক নীল সন্ধ্যা নেমে আসে। কবি এই স্নিগ্ধ সন্ধ্যাকে এক রহস্যময়ী ‘কেশবতী কন্যা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই রূপসী কন্যার একরাশ লম্বা কালো চুল যেন আকাশের মেঘ হয়ে নেমে আসে এবং কবির চোখে-মুখে এক স্নিগ্ধ পরশ বুলিয়ে দেয়। কবি অনুভব করেন, সেই চুলের স্নেহভরা চুম্বন যেন অবিরত ঝরে পড়ছে বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছের পাতায় পাতায়।
সন্ধ্যার এই অপরূপ মায়াবী রূপ পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। বাংলার এই সান্ধ্য প্রকৃতি কেবল চোখ দিয়ে দেখার নয়, তা স্নিগ্ধ গন্ধেও ভরপুর। নরম ধান, কলমি শাক, পুকুরের জল আর চাঁদা-সরপুঁটির মৃদু গন্ধের মধ্যে বাংলার সন্ধ্যার যে অপূর্ব মোহময় রূপ ফুটে ওঠে, কবির কাছে তা এক শান্তিময় ও শাশ্বত সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক।

2. “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ” – কোন্ কোন্ অনুষঙ্গগুলির মাধ্যমে কবি বাংলার এই প্রাণের পরিচয় দিয়েছেন?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ রাজকীয় কোনো আড়ম্বর বা শহরের যান্ত্রিক কোলাহলে নয়, বরং গ্রামবাংলার অতি সাধারণ ও তুচ্ছ লৌকিক উপাদানগুলোর মাঝেই ‘বাংলার প্রাণ’ বা আসল সত্তাকে খুঁজে পেয়েছেন।

  • মাটি ও প্রকৃতির ঘ্রাণ: নরম ধানের গন্ধ, কলমি শাকের স্নিগ্ধ ঘ্রাণ আর কিশোরের পায়ে পিষ্ট হওয়া মুথা ঘাসের সোঁদা গন্ধের মধ্যে বাংলার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে।
  • জলজ জীবন: পুকুরের জল, হাঁসের পালক, শর গাছ এবং চাঁদা ও সরপুঁটি মাছের হালকা আঁশটে গন্ধ বাংলার জলাভূমির নিজস্ব ও চিরচেনা রূপকে তুলে ধরে।
  • লৌকিক জীবন ও বিষণ্ণতা: চাল ধোয়া ভিজে ঠান্ডা হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামীণ কিশোরী, কিংবা মাটিতে পড়ে থেঁতলে যাওয়া পাকা লাল বটফলের ‘ব্যথিত গন্ধ’—এসবের মাঝেই এক অদ্ভুত বিষাদময় অথচ জীবন্ত বাংলার স্পন্দন লুকিয়ে আছে।
    এই অকৃত্রিম, নিভৃত ও সহজ-সরল প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কেবল কিছু দৃশ্য বা গন্ধ নয়, এরাই হলো বাংলার আসল আত্মা বা প্রাণ।

3. ‘আকাশে সাতটি তারা’ সনেটের গঠনবৈশিষ্ট্য এবং বিষয়বস্তুর সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের লেখা ‘আকাশে সাতটি তারা’ একটি সার্থক সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। গঠনগত দিক থেকে এর ১৪টি লাইন দুটি স্তবকে বিভক্ত—প্রথম আট লাইনের স্তবক বা ‘অষ্টক’ এবং শেষের ছয় লাইনের স্তবক বা ‘ষটক’।

  • অষ্টকের দিক: প্রথম আট লাইনে কবি মূলত আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। সূর্যাস্তের পর কামরাঙা-লাল মেঘের বিলীন হওয়া, কেশবতী কন্যার মতো শান্ত নীল সন্ধ্যার আগমন এবং গাছপালার ওপর তার চুলের স্নিগ্ধ স্পর্শ—এই বিশাল আকাশব্যাপী সৌন্দর্যের চিত্রকল্প অষ্টকে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
  • ষটকের দিক: পরবর্তী ছয় লাইনে কবির দৃষ্টি আকাশ থেকে নেমে এসেছে বাংলার মাটিতে। এখানে নরম ধান, কলমির ঘ্রাণ, হাঁসের পালক, কিশোরীর শীত হাত বা বটফলের ব্যথিত গন্ধের মতো মাটির খুব কাছাকাছি থাকা সাধারণ উপাদানগুলোর নিখুঁত বর্ণনা রয়েছে।
    আকাশের অসীম বিশালতার সঙ্গে বাংলার মাটির তুচ্ছ ও লৌকিক উপাদানগুলোকে একই সুতোয় গেঁথে কবি এই সনেটটিকে ভাব ও গঠনের দিক থেকে অত্যন্ত শিল্পসার্থক করে তুলেছেন।

4. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” – কথাটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে প্রকৃতিপ্রেমী কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার পল্লিনৈসর্গের অনন্যতা এবং নিজস্বতাকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
সূর্যাস্তের পর বাংলার বুকে যখন ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে, তখন চারপাশের পরিবেশে এক অদ্ভুত মায়াবী স্নিগ্ধতা তৈরি হয়। কবি সেই সন্ধ্যাকালীন অন্ধকারকে এক রূপসী ‘কেশবতী কন্যা’র দীর্ঘ কালো চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সেই চুলের মেঘ যখন হিজল, কাঁঠাল বা জামগাছের পাতার ওপর দিয়ে রহস্যময়ভাবে বয়ে যায়, তখন পৃথিবী যে অপরূপ মায়াকাজল চাক্ষুষ করে, তা কেবল বাংলারই নিজস্ব সম্পদ।
পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের ভৌগোলিক পরিবেশে বা পথেঘাটে এমন অকৃত্রিম, মায়াময় ও স্নিগ্ধ সন্ধ্যার রূপ কখনোই দেখা যায় না। বাংলার প্রকৃতির প্রতি কবির অগাধ ভালোবাসা এবং এই মায়াবী রূপের অদ্বিতীয়তার জন্যই তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন।

5. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যে নামকরণ হলো রচনার মূল প্রবেশদ্বার। সেই দিক থেকে বিচার করলে জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটির নামকরণ অত্যন্ত সার্থক ও ইঙ্গিতবহ।
কবিতাটির পুরো ভাববস্তু আবর্তিত হয়েছে দিনের একটি বিশেষ সময় বা লগ্নকে কেন্দ্র করে—যখন গোধূলি পেরিয়ে আকাশের বুকে সপ্তর্ষিমণ্ডল বা সাতটি তারা ফুটে ওঠে। দিনের কোলাহল থেমে গিয়ে এই নক্ষত্রখচিত প্রহরেই বাংলার বুকে এক শান্ত, অনুগত ও মায়াবী নীল সন্ধ্যা নেমে আসে। আকাশের ওই সাতটি তারা ফুটে ওঠার লগ্নটিতেই কবি ঘাসের ওপর শান্ত হয়ে বসে থাকেন এবং বাংলার রূপ-রস-গন্ধকে নিজের সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে গভীরভাবে অনুভব করেন।
কবিতাটির শুরুতেই আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠার কথা বলা হয়েছে এবং শেষেও কবি জানিয়েছেন যে, এই নক্ষত্র উদয়ের ক্ষণটিতেই তিনি বাংলার আসল প্রাণ টের পান। অর্থাৎ, যে সান্ধ্য অনুভূতি এই কবিতার মূল বিষয়, তার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয় আকাশের ওই সাতটি তারা। তাই বিষয়বস্তুর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে কবিতাটির নামকরণ একেবারে যথাযথ হয়েছে।

6. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি জীবনানন্দের বঙ্গপ্রকৃতি–প্রীতির পরিচয় দাও।
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি পাতায় তাঁর গভীর বঙ্গপ্রকৃতি-প্রীতির পরিচয় মেলে, যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি।
কবি বাংলার সন্ধ্যাকে শুধু দূর থেকে চোখ দিয়ে দেখেননি, সম্পূর্ণ হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। তাঁর কল্পনায় ঘনায়মান অন্ধকার সন্ধ্যা কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং এক কেশবতী রূপসী কন্যা। সেই কন্যার কালো চুলের পরশ বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছকে ভালোবেসে ছুঁয়ে যায়। এই অপরূপ সৌন্দর্য পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।
শুধু বিশাল আকাশ বা মেঘ নয়, বাংলার ধুলোমাটি, কলমি শাক, হাঁসের পালক, চাঁদা-সরপুঁটি মাছের গন্ধ আর কিশোরীর চাল ধোয়া হাতের মতো অত্যন্ত তুচ্ছ লৌকিক জিনিসের প্রতিও তাঁর অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। এই অতি সাধারণ উপাদানগুলোর ঘ্রাণ ও স্পর্শের মাঝেই তিনি বাংলার আসল প্রাণস্পন্দন অনুভব করেন, যা তাঁর নিখাদ দেশপ্রেম ও প্রকৃতি-প্রীতির শ্রেষ্ঠ প্রমাণ বহন করে।

7. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো” – উপমাটির তাৎপর্য ও সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ সূর্যাস্তের এক অসাধারণ ও বিষাদময় চিত্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে এই উপমাটি ব্যবহার করেছেন।
বিকেলের দিকে পশ্চিম আকাশের মেঘগুলো সূর্যের আলোয় ঠিক পাকা কামরাঙা ফলের মতো গাঢ় লাল রং ধারণ করে। এরপর দিনের শেষে গোধূলির আলো যখন ধীরে ধীরে নিভে যায়, তখন মেঘের সেই লাল তেজ আর থাকে না; তা সম্পূর্ণ নিথর ও ম্লান হয়ে পড়ে। আকাশের দিগন্তে শান্ত হয়ে থাকা সেই লাল মেঘমালাকেই কবি একটি ‘মৃত মনিয়া’ পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন। মনিয়া পাখি মরে গেলে যেমন তা নিথর ও প্রাণহীন হয়ে যায়, তেমনি লাল মেঘগুলোও যেন নিঃশব্দে গঙ্গাসাগরের কালো জলে চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। দিনান্তের এই নিরুত্তাপ, শান্ত এবং এক অদ্ভুত বিষণ্ণ পরিসমাপ্তি বোঝাতেই কবি এই চমৎকার ও সার্থক উপমাটি ব্যবহার করেছেন।

8. “আমি এই ঘাসে বসে থাকি” – কে, কখন ঘাসে বসে থাকেন? ঘাসে বসে থাকার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: এখানে ‘আমি’ বলতে রূপসী বাংলার চারণকবি জীবনানন্দ দাশ স্বয়ং নিজেকে বুঝিয়েছেন। প্রকৃতিপ্রেমী কবি সূর্য ডোবার পর গোধূলি পেরিয়ে যখন আকাশের বুকে সাতটি তারা বা সপ্তর্ষিমণ্ডল ফুটে ওঠে, ঠিক সেই শান্ত সময়ে নরম ঘাসের ওপর বসে থাকেন।
তাৎপর্য: মাটির কাছাকাছি এই ঘাসে বসে থাকার অর্থ হলো পৃথিবীর সঙ্গে নৈকট্য স্থাপন করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে একেবারে একাত্ম হয়ে যাওয়া। ঘাসে বসে কবি চোখ মেলে দেখেন, আকাশের কামরাঙা-লাল মেঘ গঙ্গাসাগরে মিলিয়ে গিয়ে এক মায়াবী নীল আবেশ তৈরি করেছে। এক রূপসী কেশবতী কন্যা যেন তার কালো চুল ছড়িয়ে পৃথিবীর বুকে নেমে আসছে এবং সেই চুলের স্নিগ্ধ পরশ কবির চোখ-মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘাসে বসে তিনি নরম ধান, কলমি শাক, পুকুরের জল, হাঁসের পালক আর মুথা ঘাসের সোঁদা গন্ধ গভীরভাবে অনুভব করেন। প্রকৃতির কোলে এই স্থির হয়ে বসে থাকার মাধ্যমেই কবি বাংলার আসল প্রাণের স্পন্দন নিজের অন্তরে টের পান।

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment