নবম শ্রেণী খেয়া প্রশ্ন উত্তর (MCQ ও বড় প্রশ্ন) Class 9 Bengali Kheya Question Answer

খেয়া কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণির বাংলা | Class 9 Bengali Kheya Question Answer

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজকের এই পোস্টে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘খেয়া’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এই কবিতায় গ্রামীণ বাংলার শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশের ছবি ফুটে উঠেছে। একদিকে নদীর দুই তীরের মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বাইরের জগতের যুদ্ধ, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ও নানা পরিবর্তন—এই দুইয়ের তুলনার মধ্য দিয়ে কবি জীবনের এক গভীর সত্য তুলে ধরেছেন।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামখেয়া
কবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্যগ্রন্থচৈতালি

এখানে আমরা কবিতার সামারি বা কবি পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব। এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। চেষ্টা করেছি, যাতে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় পাওয়া যায়।

তোমরা যদি আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলোও একবার দেখে নিতে পারো। এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—‘এলো বৃষ্টি ঝেঁপে’, ‘আমার গান’, ‘ইলিয়াস’, ‘দাম’, ‘নব নব সৃষ্টি’, ‘হিমালয় দর্শন’ এবং ‘নোঙর’। এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তরও আগের পোস্টগুলোতে পেয়ে যাবে।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘খেয়া’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। তোমরা চাইলে নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘খেয়া’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।

খেয়া (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kheya Question and Answer

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবারও তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘খেয়া’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।

‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এই কবিতায় গ্রামীণ বাংলার শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশের পাশাপাশি বৃহত্তর জগতের যুদ্ধ, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং মানুষের জীবনের পরিবর্তনের ছবি ফুটে উঠেছে। কবি সাধারণ গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন ধারার সঙ্গে বাইরের জগতের অস্থিরতার একটি সুন্দর তুলনা তুলে ধরেছেন।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামখেয়া
কবিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাব্যগ্রন্থচৈতালি

এখানে বেশি কিছু আলোচনা না করে সরাসরি প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব। এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। অর্থাৎ, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তবে তার আগে একটা কথা বলি। তোমরা যদি আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলোও একবার দেখে নিতে পারো। এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—

  • এলো বৃষ্টি ঝেঁপে
  • আমার গান
  • ইলিয়াস
  • দাম
  • নব নব সৃষ্টি
  • হিমালয় দর্শন
  • নোঙর

এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তরও তোমরা আগের পোস্টগুলো থেকে দেখে নিতে পারবে।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘খেয়া’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। তোমরা যদি PDF নোটটি ডাউনলোড করতে চাও, তাহলে নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

তাহলে আর বেশি কথা না বাড়িয়ে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘খেয়া’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।

খেয়া কবিতার MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kheya Kobita MCQ Question Answer WBBSE

1. ‘খেয়া’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের কোন বিখ্যাত কবির লেখা?
(A) কাজী নজরুল ইসলাম
(B) জীবনানন্দ দাশ
(C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(D) জসীমউদ্দীন
উত্তর: (C) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

2. পাঠ্য ‘খেয়া’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
(A) সোনার তরী
(B) বলাকা
(C) চিত্রা
(D) চৈতালি
উত্তর: (D) চৈতালি

3. ‘খেয়া’ শব্দটির সাধারণ অর্থ কী?
(A) পাল তোলা জাহাজ
(B) নদী পারাপারের সাধারণ নৌকা
(C) মাছ ধরার বড়ো নৌকা
(D) যন্ত্রচালিত স্টিমার
উত্তর: (B) নদী পারাপারের সাধারণ নৌকা

4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের নামকরণ কীসের ওপর ভিত্তি করে করেছিলেন?
(A) একটি সুন্দর গ্রামের নামে
(B) একটি নদীর নামে
(C) বছরের শেষে উৎপন্ন হওয়া শস্যের নামে
(D) তাঁর এক পরিচিত আত্মীয়ের নামে
উত্তর: (C) বছরের শেষে উৎপন্ন হওয়া শস্যের নামে

5. খেয়ানৌকাটি মূলত কোথায় মানুষ বা যাত্রী পারাপার করে?
(A) শান্ত বিলে
(B) গভীর সমুদ্রে
(C) বড়ো পুকুরে
(D) নদীর স্রোতে
উত্তর: (D) নদীর স্রোতে

6. নদীর দুই তীরে থাকা গ্রাম দুটির মধ্যে সম্পর্ক ঠিক কেমন?
(A) একে অপরের চরম শত্রু
(B) খুব ভালো জানাশোনা ও চেনা-পরিচিতি
(C) একে অপরের সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত
(D) একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থিত
উত্তর: (B) খুব ভালো জানাশোনা ও চেনা-পরিচিতি

7. গ্রাম দুটির মধ্যে খেয়ানৌকায় মানুষের এই পারাপার বা আনাগোনা কখন চলে?
(A) কেবল সকালবেলা
(B) কেবল বিকেলবেলা
(C) সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত
(D) মাঝরাতে
উত্তর: (C) সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত

8. কবির মতে, পৃথিবীতে মানুষের এই ক্রমাগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ফলে কী গড়ে ওঠে?
(A) নতুন নতুন ইতিহাস
(B) নতুন সভ্যতা
(C) নতুন নতুন নগর
(D) নতুন সাম্রাজ্য
উত্তর: (A) নতুন নতুন ইতিহাস

9. নতুন এই ইতিহাস কীসের মাঝে ফেঁপে বা ফেনিয়ে ওঠে বলে কবি জানিয়েছেন?
(A) জলপ্রবাহের মাঝে
(B) সমুদ্রের মাঝে
(C) রক্তপ্রবাহের মাঝে
(D) বিশ্ব রাজনীতির মাঝে
উত্তর: (C) রক্তপ্রবাহের মাঝে

10. “সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে”—এখানে ‘টুটে’ শব্দটির অর্থ কী?
(A) উজ্জ্বল হওয়া
(B) ভেঙে বা নষ্ট হয়ে যাওয়া
(C) নতুন করে গড়ে ওঠা
(D) চুরি হওয়া
উত্তর: (B) ভেঙে বা নষ্ট হয়ে যাওয়া

11. সোনার মুকুট ফুটে আর টুটে যাওয়ার মধ্য দিয়ে কবি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(A) রাজার ব্যক্তিগত অহংকার ও তার পতন
(B) সোনার অলংকার তৈরির কৌশল
(C) রাজতন্ত্রের উত্থান ও পতন
(D) রাজ্যাভিষেকের নিয়মকানুন
উত্তর: (C) রাজতন্ত্রের উত্থান ও পতন

12. সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে নতুন নতুন কী জেগে ওঠে?
(A) সুখ ও শান্তি
(B) অঢেল সম্পদ
(C) সৃষ্টির গান
(D) তৃষ্ণা ও ক্ষুধা
উত্তর: (D) তৃষ্ণা ও ক্ষুধা

13. “সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা-ক্ষুধা”—এখানে তৃষ্ণা ও ক্ষুধা বলতে কীসের কথা বলা হয়েছে?
(A) খাদ্যের তীব্র অভাব
(B) জলের সন্ধান
(C) সভ্যতার নতুন নতুন ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রবণতা
(D) মানুষের জ্ঞানার্জনের ইচ্ছা
উত্তর: (C) সভ্যতার নতুন নতুন ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রবণতা

14. “উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা”—এখানে ‘হলাহল’ শব্দটির অর্থ কী?
(A) মধু
(B) অমৃত
(C) সলিল বা জল
(D) গরল বা বিষ
উত্তর: (D) গরল বা বিষ

15. উক্ত পঙ্‌ক্তিটিতে ‘হলাহল’ ও ‘সুধা’ শব্দদুটি মূলত কীসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
(A) সভ্যতার কুফল ও সুফল
(B) মানুষের জীবনের উত্থান-পতন
(C) যুদ্ধ ও শান্তি
(D) ধ্বংস ও সৃষ্টির তাণ্ডব
উত্তর: (A) সভ্যতার কুফল ও সুফল

16. নদীর দুই তীরে থাকা গ্রামদুটি একে অপরের দিকে কীভাবে তাকিয়ে থাকে?
(A) রাগের সঙ্গে
(B) উদাসভাবে
(C) দোঁহা-পানে চেয়ে (একে অপরের দিকে তাকিয়ে)
(D) অত্যন্ত ঘৃণার চোখে
উত্তর: (C) দোঁহা-পানে চেয়ে (একে অপরের দিকে তাকিয়ে)

17. “কেবা জানে নাম”—এখানে ঠিক কাদের নাম না জানার কথা বলা হয়েছে?
(A) নদীর দুই তীরে থাকা দুটি গ্রামের
(B) বড়ো বড়ো রাজাদের
(C) পারাপার করা যাত্রীদের
(D) ইতিহাসবেত্তাদের
উত্তর: (A) নদীর দুই তীরে থাকা দুটি গ্রামের

18. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতাটির মূল সুর বা মূল ভাববস্তু কী?
(A) প্রকৃতির ধ্বংসলীলার বর্ণনা
(B) রাজাদের অসীম মহিমা কীর্তন
(C) গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা বা শাশ্বত রূপ এবং সভ্যতার অস্থিরতা
(D) ঐতিহাসিক যুদ্ধের বর্ণনা
উত্তর: (C) গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা বা শাশ্বত রূপ এবং সভ্যতার অস্থিরতা

19. পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত এত দ্বন্দ্ব, সর্বনাশ ও ক্ষমতার লড়াই ঘটে চলার মূল কারণ কী?
(A) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
(B) সভ্যতার ধ্বংস ও নতুন সৃষ্টি
(C) মানুষের অহংকার
(D) সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা
উত্তর: (B) সভ্যতার ধ্বংস ও নতুন সৃষ্টি

20. খেয়া পারাপারের সময় মানুষের প্রধান গন্তব্য কোথায় থাকে?
(A) ঘর হতে আসাও এবং ঘরে ফেরা
(B) ব্যবসা করার জন্য হাটে যাওয়া
(C) বিদেশে পাড়ি দেওয়া
(D) যুদ্ধে যোগ দেওয়া
উত্তর: (A) ঘর হতে আসাও এবং ঘরে ফেরা

21. “দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম”—এই গ্রাম দুটির ঠিক মাঝখান দিয়ে কী বয়ে গেছে?
(A) একটি সরু রাস্তা
(B) প্রকাণ্ড এক পাহাড়
(C) বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ
(D) বহমান নদীস্রোত
উত্তর: (D) বহমান নদীস্রোত

22. ‘সুধা’ শব্দটির সমার্থক বা প্রতিশব্দ কোনটি?
(A) হলাহল
(B) অমীয় বা অমৃত
(C) সলিল বা জল
(D) বিষ
উত্তর: (B) অমীয় বা অমৃত

23. কবিতায় বর্ণিত খেয়ানৌকাটির রূপ বা বৈশিষ্ট্য কেমন?
(A) অত্যন্ত আধুনিক
(B) সম্পূর্ণ যান্ত্রিক
(C) অতি সাধারণ বা তুচ্ছ একটি নৌকা
(D) রাজকীয়ভাবে সাজানো
উত্তর: (C) অতি সাধারণ বা তুচ্ছ একটি নৌকা

24. “সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা”—এখানে ‘আনাগোনা’ কথাটি কীসের ব্যঞ্জনা দেয়?
(A) মানুষের ব্যস্ততা
(B) নিরন্তর বহমান জীবনধারার
(C) চরম ক্লান্তির
(D) ব্যবসার ভিড়
উত্তর: (B) নিরন্তর বহমান জীবনধারার

25. ‘খেয়া’ কবিতায় বহমান নদীটিকে কবি কীসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন?
(A) অনিবার্য মৃত্যুর
(B) আনন্দের
(C) চিরন্তন জীবনের
(D) বন্ধুত্বের
উত্তর: (C) চিরন্তন জীবনের

26. “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে”—এই পঙ্‌ক্তিটির পুনরাবৃত্তির কারণ কী?
(A) কবিতার ছন্দ মেলানোর জন্য
(B) শব্দ সংখ্যা বাড়ানোর জন্য
(C) মানবজীবনের চিরন্তন ও শাশ্বত গতি বোঝানোর জন্য
(D) নিছক একটি অলংকার হিসেবে
উত্তর: (C) মানবজীবনের চিরন্তন ও শাশ্বত গতি বোঝানোর জন্য

27. “কেহ যায়… কেহ আসে… হতে।”—শূন্যস্থান দুটি পূরণ করো।
(A) গৃহে, গেহ
(B) ঘর, ঘরে
(C) বাড়ি, মাঠ
(D) ঘরে, ঘর
উত্তর: (D) ঘরে, ঘর

28. ‘এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে’—এখানে ‘খেয়া’ বলতে কবি বৃহত্তর অর্থে কী বুঝিয়েছেন?
(A) সাধারণ ছোটো নৌকা
(B) অবিরাম মানবজীবনপ্রবাহ
(C) মানুষের ছোটো ছোটো আকাঙ্ক্ষা
(D) অতিক্রান্ত কালস্রোত
উত্তর: (B) অবিরাম মানবজীবনপ্রবাহ

29. ‘এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে’—উক্ত লাইনে ‘নদীস্রোত’ বলতে কবি আসলে কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
(A) নদীর জলস্রোত
(B) মানবজীবন
(C) পৃথিবী
(D) চিরবহমান কালস্রোত
উত্তর: (D) চিরবহমান কালস্রোত

30. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালজয়ী ‘খেয়া’ কবিতাটি ঠিক কবে রচনা করেছিলেন?
(A) ১৮ চৈত্র, ১৩০০ বঙ্গাব্দে
(B) ১১ চৈত্র, ১৩০২ বঙ্গাব্দে
(C) ১৮ চৈত্র, ১৩০২ বঙ্গাব্দে
(D) ১৯ চৈত্র, ১৩০২ বঙ্গাব্দে
উত্তর: (C) ১৮ চৈত্র, ১৩০২ বঙ্গাব্দে

31. ‘খেয়ানৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে;’ – এখানে ‘পারাপার’ শব্দটির অর্থ কী?
(A) এক তীর থেকে অন্য তীরে যাতায়াত করা
(B) নদীর পাড়ে হাঁটাচলা করা
(C) লাফঝাঁপ দেওয়া
(D) আকাশে ওড়া
উত্তর: (A) এক তীর থেকে অন্য তীরে যাতায়াত করা

32. গ্রামে গ্রামান্তরে সাধারণ মানুষ মূলত কীসের সাহায্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে?
(A) বাঁশের সাঁকো
(B) বাস বা গাড়ি
(C) নদীর সেতু
(D) সাধারণ খেয়ানৌকা
উত্তর: (D) সাধারণ খেয়ানৌকা

33. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অনবদ্য কবিতাটি তাঁর কোন সময়কালীন অনুভূতির ফসল?
(A) বাল্যকালের স্মৃতির
(B) নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরের
(C) পদ্মাবক্ষে জমিদারি তদারকি করার সময়কার
(D) একেবারে শেষ বয়সের বা বার্ধক্যের
উত্তর: (C) পদ্মাবক্ষে জমিদারি তদারকি করার সময়কার

34. সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে কীসের পরিমাণ বাড়তে দেখা যায়?
(A) কোলাহল ও হলাহল (সংঘাত ও বিষ)
(B) কেবলই শান্তি
(C) বনের পরিমাণ
(D) নীরবতা
উত্তর: (A) কোলাহল ও হলাহল (সংঘাত ও বিষ)

35. ‘খেয়ানৌকা’-র প্রধান কাজ বা উদ্দেশ্য কী?
(A) মালপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বয়ে নিয়ে যাওয়া
(B) প্রাত্যহিক সাধারণ যাত্রী পারাপার করা
(C) সীমান্তে কড়া পাহারা দেওয়া
(D) গভীর জলে মাছ ধরা
উত্তর: (B) প্রাত্যহিক সাধারণ যাত্রী পারাপার করা

খেয়া কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) | Class 9 Bengali Kheya Kobita 1 Mark Question Answer WBBSE

1. ‘খেয়া’ কবিতাটি বিশ্বকবির কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা বিখ্যাত ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

2. খেয়ানৌকা মূলত কোথায় পারাপার করে?
উত্তর: নদীর স্রোতের ওপর দিয়ে দুই তীরের মানুষদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পারাপার করাই হলো খেয়ানৌকার প্রধান কাজ।

3. নদীর দুই তীরে অবস্থিত গ্রাম দুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: নদীর দুই তীরে থাকা গ্রাম দুটির মানুষদের মধ্যে বহুকাল ধরে অত্যন্ত গভীর ও আত্মিক জানাশোনা বা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

4. “সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা”—এখানে কাদের আনাগোনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে খেয়ানৌকায় চেপে নদীর দুই তীরের সাধারণ মানুষদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে যাতায়াত বা আনাগোনার কথা বলা হয়েছে।

5. পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত যে এত দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশ ঘটে, তার মূল কারণ কী?
উত্তর: মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা, ক্ষমতার মোহ এবং পারস্পরিক হিংসা ও হানাহানির কারণেই পৃথিবীতে এই ধরনের দ্বন্দ্ব বা সর্বনাশ ঘটে থাকে।

6. “রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া ওঠে”—কী ফেনিয়ে ওঠার কথা এখানে বলা হয়েছে?
উত্তর: মানুষের ক্ষমতার লোভে যে যুদ্ধ ও রক্তক্ষয় ঘটে, সেই রক্তের প্রবাহ বা স্রোতের মাঝেই সভ্যতার নতুন নতুন ইতিহাস ফেনিয়ে ওঠে।

7. “সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে”—কবিতায় এই পঙ্‌ক্তিটির আসল তাৎপর্য কী?
উত্তর: এই কথার মধ্য দিয়ে কবি মূলত রাজায় রাজায় ক্ষমতার পালাবদল, নতুন রাজবংশের উত্থান (ফুটে ওঠা) এবং পুরোনো সাম্রাজ্যের পতনকে (টুটে যাওয়া) বুঝিয়েছেন।

8. সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে নতুন করে কী কী জেগে ওঠে?
উত্তর: সভ্যতার বিবর্তনের হাত ধরে মানুষের মনে নতুন নতুন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা এবং একইসঙ্গে হলাহল (বিষ) ও সুধা (অমৃত) জেগে ওঠার কথা কবি জানিয়েছেন।

9. “কেবা জানে নাম”—ছোটো গ্রাম দুটির নাম কেউ জানে না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর বুকে ঘটে চলা বড়ো বড়ো সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন আর রাজকীয় কোলাহলের ডামাডোলে এই শান্ত ও সাধারণ গ্রাম দুটির খবর কারও কাছে পৌঁছায় না, তাই বাইরের কেউ এদের নামও জানে না।

10. নদীর দুই তীরে থাকা গ্রাম দুটি একে অপরের দিকে কীভাবে তাকিয়ে থাকে?
উত্তর: মাঝখানে নদীর স্রোত থাকলেও, দুই তীরের গ্রাম দুটি যেন পরম আপনজনের মতো গভীর মায়া নিয়ে একে অপরের দিকে (দোঁহা-পানে) তাকিয়ে থাকে।

11. কবিতায় ব্যবহৃত ‘হলাহল’ ও ‘সুধা’ শব্দ দুটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘হলাহল’ কথাটির অর্থ হলো মারাত্মক বিষ বা গরল, আর ‘সুধা’ শব্দের অর্থ হলো অমৃত।

12. কবি এই কবিতায় ক্ষুদ্র গ্রামীণ জীবনকে ঠিক কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: একদিকে সভ্যতার রক্তক্ষয়ী ও অস্থির ইতিহাস, আর অন্যদিকে তার ঠিক বিপরীতে থাকা এক শান্ত, স্থির এবং শাশ্বত আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে কবি গ্রামীণ জীবনকে তুলে ধরেছেন।

13. নদীর স্রোতে খেয়া পারাপারের দৃশ্যটি আসলে কী নির্দেশ করে?
উত্তর: নদীর বুকে অবিরাম এই খেয়া পারাপারের দৃশ্যটি আসলে মানবজীবনের এক চিরন্তন, নিরবচ্ছিন্ন ও শাশ্বত গতিশীলতাকে নির্দেশ করে।

14. ‘খেয়া’ কবিতায় “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে” পদটি মোট কতবার ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: সমগ্র কবিতাটির একেবারে প্রথম এবং শেষ লাইনে—অর্থাৎ মোট দুবার কবি এই পদটি ব্যবহার করেছেন।

15. “নূতন নূতন কত গড়ে ইতিহাস”—এখানে কেমন ইতিহাস গড়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে সামাজিক ও রাজনৈতিক পালাবদল, রাজতন্ত্রের পতন এবং ক্ষমতার হাতবদলের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া নতুন ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে।

16. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত কোথায় থাকার সময় ‘চৈতালি’ কাব্যের কবিতাগুলো রচনা করেছিলেন?
উত্তর: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন পতিসর এবং সাজাদপুরে জমিদারি দেখাশোনার কাজে অবস্থান করছিলেন, মূলত সেই সময়েই তিনি ‘চৈতালি’ কাব্যের কবিতাগুলো রচনা করেন।

17. ‘খেয়ানৌকা’ বলতে আসলে কী বোঝায়?
উত্তর: নদী বা কোনো বড়ো জলাশয় পার হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ যে ছোটো নৌকা ব্যবহার করে, তাকেই খেয়ানৌকা বলা হয়।

18. ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কবে বই বা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটি ১৩০৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়।

19. শিরোনাম বা সূচিপত্র অনুযায়ী ‘খেয়া’ কবিতাটি ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের কত নম্বর কবিতা?
উত্তর: সূচিপত্র অনুযায়ী দেখলে, ‘খেয়া’ কবিতাটি হলো ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের ঠিক উনিশ (১৯) সংখ্যক কবিতা।

20. রবীন্দ্রনাথের ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থে সর্বমোট কতগুলো কবিতা স্থান পেয়েছে?
উত্তর: এই কাব্যগ্রন্থটিতে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে মোট ৭৯টি (উনআশিটি) কবিতা রয়েছে।

21. ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের বেশিরভাগ কবিতাই বাংলা বছরের কোন্ মাসে লেখা হয়েছিল?
উত্তর: এই কাব্যগ্রন্থের বেশিরভাগ কবিতাই বাংলা চৈত্র মাসে লেখা হয়েছিল বলে কবি বছরের শেষে ওঠা শস্যের নামানুসারে এর নাম ‘চৈতালি’ রেখেছিলেন।

22. পাঠ্য ‘খেয়া’ কবিতাটিতে মোট কয়টি লাইন বা পঙ্‌ক্তি রয়েছে?
উত্তর: এই সুপরিচিত কবিতাটিতে মোট ১৪টি (চৌদ্দটি) পঙ্‌ক্তি বা লাইন রয়েছে, যা একে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার রূপ দিয়েছে।

23. “সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা”—এখানে ‘তৃষ্ণা’ ও ‘ক্ষুধা’ শব্দ দুটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে যে নতুন নতুন চাহিদা, লালসা এবং প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, কবি এখানে ‘তৃষ্ণা’ ও ‘ক্ষুধা’ শব্দ দুটি দিয়ে সেটাই বুঝিয়েছেন।

24. পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কী গড়ে ওঠার কথা কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: ক্ষমতার লোভ আর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ওপর ভর করে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সাম্রাজ্য ও ইতিহাস গড়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে।

25. ‘দোঁহা-পানে চেয়ে আছে’—এখানে ‘দোঁহা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘দোঁহা’ মানে হলো দুজনে। এখানে নদীর দুই তীরে থাকা একে অপরের খুব চেনা ও পরিচিত গ্রাম দুটিকে বোঝানো হয়েছে।

খেয়া কবিতার ২ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kheya Kobita 2 Marks Question Answer

1. “দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা”—এই জানাশোনার গভীরতা বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: নদীর এপার আর ওপারের গ্রাম দুটির মানুষ শুধুই প্রতিবেশী নয়, তাদের মধ্যে রয়েছে আত্মিক টান। প্রতিদিন খেয়ানৌকায় পারাপার করতে গিয়ে তাদের মধ্যে সুখ-দুঃখের যে আদানপ্রদান হয়, সেটাই এই দুই গ্রামের দীর্ঘদিনের নিবিড় ‘জানাশোনা’ বা সামাজিক বন্ধন।

2. “পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ”—কবি এই সর্বনাশ বলতে কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: আধুনিক দুনিয়ায় সাম্রাজ্য বিস্তার আর ক্ষমতার লোভে মানুষের মধ্যে যে লাগাতার যুদ্ধ, সংঘাত বা রক্তক্ষয়ী লড়াই চলে, কবি তাকেই ‘সর্বনাশ’ বলেছেন। এর ফলে অগণিত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং মানবিকতা ধ্বংস হয়ে যায়।

3. নতুন ইতিহাস কীভাবে রচিত হয় বলে কবি মনে করেন?

উত্তর: কবির মতে, পৃথিবীর ইতিহাস কখনোই শান্ত পথে লেখা হয় না। রাজায়-রাজায় যুদ্ধ, ক্ষমতার লড়াই আর সাধারণ মানুষের রক্তস্রোতের মধ্যে দিয়েই বারবার নতুন ইতিহাসের জন্ম হয়। মানুষের লোভ আর হানাহানিই হলো এই ইতিহাস গড়ার মূল চালিকাশক্তি।

4. “সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে” পঙক্তিটির অর্থ কী?

উত্তর: এই কথার অর্থ হলো রাজবংশের উত্থান এবং পতন। কোনো রাজা যুদ্ধে জিতলে তার ক্ষমতার অহংকারে মুকুট ‘ফুটে’ ওঠে, আবার অন্য শক্তির কাছে হেরে গেলে সেই মুকুট ধুলোয় ‘টুটে’ যায়। ক্ষমতার এই ক্ষণস্থায়ী রূপটিকেই কবি এখানে বুঝিয়েছেন।

5. সভ্যতার ‘নব নব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: বর্তমান যুগে মানুষের লোভ আর লালসার কোনো শেষ নেই। নতুন নতুন দেশ দখল করা, অন্যের সম্পদ লুঠ করা এবং ক্ষমতার চরম শিখরে পৌঁছানোর যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা আধুনিক মানুষের মনে তৈরি হয়েছে, তাকেই কবি সভ্যতার ‘নব নব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা’ বলেছেন।

6. সভ্যতার দ্বন্দ্বে ‘হলাহল’ ও ‘সুধা’ কীসের প্রতীক?

উত্তর: কবিতায় ‘হলাহল’ (বিষ) হলো মানুষের ক্ষমতার লড়াই, যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও অমানবিকতার প্রতীক। অন্যদিকে ‘সুধা’ (অমৃত) হলো সেই দ্বন্দ্বের শেষে ক্ষণিকের জন্য পাওয়া জয়, শান্তি বা সভ্যতার সুফলের প্রতীক।

7. কেন গ্রাম দুটির নাম বাইরের কেউ জানে না?

উত্তর: নদীর তীরের এই গ্রাম দুটি একেবারেই শান্ত, সাধারণ এবং অহংকারমুক্ত। সেখানে রাজাদের মতো ক্ষমতার লড়াই বা রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের কোনো কোলাহল নেই। তাই বৃহত্তর স্বার্থান্বেষী পৃথিবীর কাছে এই সাধারণ ও নিভৃত গ্রাম দুটির নাম অজানা থেকে যায়।

8. “দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম”—পঙক্তিটি কোন মানসিকতার পরিচয় দেয়?

উত্তর: এই পঙ্‌ক্তিটির মাধ্যমে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে থাকা পারস্পরিক ভালোবাসা, ভরসা ও সৌহার্দ্যের ছবি ফুটে উঠেছে। বাইরের দুনিয়ায় যতই হানাহানি থাক, এরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে পরম মমতায় একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে।

9. খেয়ানৌকার চিরদিন চলার তাৎপর্য কী?

উত্তর: পৃথিবীতে রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার কোনো প্রভাব পড়ে না। জীবিকার খোঁজে মানুষের বাইরে যাওয়া বা ঘরে ফেরার এই যে অনন্তকালীন স্বাভাবিক নিয়ম, খেয়ানৌকার চিরদিন চলা হলো সেই শাশ্বত গতিরই প্রতীক।

10. “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে”—এই দুই বিপরীতধর্মী কাজের সমন্বয় কীভাবে ঘটে?

উত্তর: মানুষের জীবন মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—জীবিকার তাগিদে বাইরে যাওয়া এবং দিনশেষে আপন ঠিকানায় বা ঘরে ফিরে আসা। খেয়ানৌকাটি এপার-ওপার করে নিরন্তর যাত্রী পারাপারের মাধ্যমে জীবনের এই দুই দিকের মধ্যে এক অপূর্ব ভারসাম্য বজায় রাখে।

11. কেন কবি ‘সোনার মুকুট’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন?

উত্তর: মুকুট হলো রাজার রাজকীয় ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও চরম অহংকারের প্রতীক। পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদীদের এই ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা এবং ঠুনকো আড়ম্বরকে বোঝাতেই কবি এখানে ‘সোনার মুকুট’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

12. কবিতার শেষে কবি কেন সেই একই চরণে ফিরে এলেন?

উত্তর: পৃথিবীতে সভ্যতার যতই ধ্বংস আর উত্থান হোক না কেন, সাধারণ মানুষের জীবন আপন ছন্দে চলতে থাকে। দিনশেষে মানুষের কাছে ঘরে ফেরাটাই হলো চরম সত্য। জীবনের এই শাশ্বত ও চিরন্তন রূপটি বোঝাতেই কবি কবিতার শেষে পুনরায় প্রথম লাইনের কাছেই ফিরে এসেছেন।

খেয়া কবিতার ৩ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kheya Kobita 3 Marks Question Answer WBBSE

1. “সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর মাধ্যমে প্রকাশিত গ্রামীণ জীবনের ছবিটি আঁকো।
উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘খেয়া’ কবিতায় আবহমান গ্রামবাংলার এক শান্ত ও শাশ্বত চিত্র তুলে ধরেছেন।
নদীর দুই তীরে থাকা দুটি গ্রামের মানুষ নিজেদের প্রতিদিনের নানা প্রয়োজনে বা পারস্পরিক টানে খেয়ানৌকায় যাতায়াত করে। এই ‘আনাগোনা’ শুধু এপার-ওপার করা নয়, এটি আসলে তাদের নিরবচ্ছিন্ন ও শান্ত জীবনপ্রবাহের এক চমৎকার প্রতীক। গ্রামের সাধারণ মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বের হয়, আবার দিনের শেষে একটু শান্তির খোঁজে আপন ঠিকানায় বা ঘরে ফিরে যায়। তাদের এই যাতায়াতের কোনো ক্লান্তি বা বিরাম নেই। বাইরের বৃহত্তর পৃথিবী যখন ক্ষমতার লোভে ও যুদ্ধের উন্মাদনায় মত্ত, তখন গ্রামীণ জীবনের এই ধীর, শান্ত ও সহজ চলাফেরাই কবির চোখে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও সার্থক রূপ হিসেবে ফুটে উঠেছে।

2. “রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া ওঠে/ নুতন নুতন কত গড়ে ইতিহাস”—উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘খেয়া’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে কবি পৃথিবীর ইতিহাসের এক চরম ও রূঢ় সত্যকে তুলে ধরেছেন।
কবির মতে, ইতিহাসে আমরা যে বড়ো বড়ো সাম্রাজ্যের বিস্তার বা ক্ষমতার পালাবদলের কথা পড়ি, তার পেছনে লুকিয়ে থাকে অগণিত মানুষের রক্তপাত। রাজায়-রাজায় এই ক্ষমতার লড়াইয়ে যে রক্তের বন্যা বা স্রোত বয়ে যায়, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বা ফেনিয়েই নতুন রাজাদের জয়ের ইতিহাস লেখা হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীর বৃহত্তর ইতিহাস আসলে সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা দ্বন্দ্ব ও ধ্বংসের ইতিহাস, যা পল্লিজীবনের শান্ত ও নিরুপদ্রব পরিবেশের সম্পূর্ণ বিপরীত।

3. ‘খেয়া’ কবিতায় ‘সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে’—এই কথাটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবিতায় ব্যবহৃত ‘সোনার মুকুট’ শব্দটি মূলত সম্রাট বা রাজাদের চরম অহংকার, দম্ভ ও ক্ষমতার প্রতীক।
এখানে ‘ফোটা’ বলতে কোনো নতুন রাজবংশের উত্থান বা ক্ষমতায় বসার আনন্দকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘টুটা’ বলতে সেই শক্তিশালী রাজবংশ বা সাম্রাজ্যের পরাজয় ও চূড়ান্ত পতনকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের ক্ষমতার অহংকার যে কখনোই চিরস্থায়ী নয় এবং সময়ের নিয়মে এক রাজার পতন হয়ে যে অন্য আরেক রাজার উত্থান ঘটে—ক্ষমতার এই শাশ্বত পরিবর্তনশীলতাকেই কবি ফোটা ও টুটার মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। গ্রাম্য জীবনের স্থিরতার বিপরীতে রাজকীয় জীবনের এই চরম অস্থিরতাকেই কবি এখানে তুলে ধরেছেন।

4. “সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা”—এই তৃষ্ণা ও ক্ষুধা বলতে কবি আসলে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় কবি আধুনিক সভ্যতার এক কুৎসিত ও আগ্রাসী রূপ ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে ‘তৃষ্ণা’ ও ‘ক্ষুধা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন।
ক্ষুধা-তৃষ্ণা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলেও, এখানে কবি সভ্যতার এক অন্ধ লালসার কথা বলেছেন। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতায় মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই। ক্ষমতার চরম শিখরে পৌঁছানোর নেশায় অন্যের এলাকা দখল করা, প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা এবং অপরকে পদানত করার যে তীব্র বাসনা মানুষের মনে কাজ করে, তাকেই কবি সভ্যতার নব নব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বলেছেন। মানুষের এই আগ্রাসী ও অতৃপ্ত লালসার জন্যই পৃথিবীতে এত অশান্তি ও হাহাকার দেখা দেয়।

5. “দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম”—পঙ্‌ক্তিটি কবি কেন ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: বৃহত্তর পৃথিবীর কোলাহল, সাম্রাজ্যের লোভ আর রাজতান্ত্রিক রক্তপাত থেকে বাংলার এই গ্রামীণ জনপদ অনেক দূরে অবস্থিত। নদীর দুই তীরের এই গ্রাম দুটি বাইরের দুনিয়ার যুদ্ধের উন্মাদনায় কখনোই অংশ নেয় না।
কবি দেখিয়েছেন, ধ্বংসের মাঝখানে দাঁড়িয়েও এই গ্রামে মানবিকতা অমর। মাঝখানে নদীর ব্যবধান থাকলেও, গ্রাম দুটির একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকা আসলে তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা এবং অবিচ্ছেদ্য গ্রামীণ আত্মীয়তার প্রতীক। বাইরের জগত তাদের নাম না জানলেও, তারা নিজেদের মধ্যে প্রাণের আদানপ্রদান ঘটিয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকে। মানবিক সম্পর্কের এক অপূর্ব জয়গান গাইতেই কবি এই পঙ্‌ক্তিটি ব্যবহার করেছেন।

6. “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।”— এই পঙ্‌ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীর দুই পাড়ে থাকা দুটি নাম না-জানা গ্রামের সাধারণ মানুষের শান্ত ও ধীর জীবনযাত্রার ছবি এঁকেছেন।
গ্রামের মানুষের জীবন শহরের থেকে অনেক বেশি সহজসরল এবং সেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেক নিবিড়। গ্রামের খেটে-খাওয়া মানুষ খেয়ানৌকায় চেপে কেউ কাজ সেরে আপন ঘরে ফেরে, আবার কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে কাজে যায়। বৃহত্তর পৃথিবীর ক্ষমতা দখলের রক্তাক্ত লড়াইয়ে তারা বিন্দুমাত্র শামিল নয়। কবির মতে, এই সাধারণ ও ছাপোষা মানুষরাই প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর আদি, অকৃত্রিম ও চিরন্তন জীবনধারার আসল বাহক।

7. “পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব, কত সর্বনাশ”—এ কথা বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিটির মাধ্যমে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাগরিক জীবন বা বৃহত্তর পৃথিবীর এক ভয়ঙ্কর রূপকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন।
নাগরিক জীবন সবসময় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে উত্তাল। গ্রামের তুলনায় নগরে সুযোগসুবিধা ও সুখস্বাচ্ছন্দ্য অনেক বেশি থাকলেও, সেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের অন্তরের কোনো যোগ নেই। আধুনিক মানুষের সুখের চাহিদা ও সাম্রাজ্য বিস্তারের বাসনা এত বেশি যে, তারা নিজেদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত হানাহানি ও রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। আর মানুষের এই অন্ধ হিংসা ও ক্ষমতার লড়াই-ই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে এক চরম সর্বনাশ বা ধ্বংস ডেকে আনে।

8. “এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে”—উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃতিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘খেয়া’ কবিতা থেকে নেওয়া। এই কবিতায় কবি একদিকে যেমন কৃত্রিম ও জটিল নাগরিক জীবনের কথা বলেছেন, তেমনি অন্যদিকে সাধারণ ও সাদাসিধে গ্রামীণ জীবনের ছবিও তুলে ধরেছেন।
সভ্যতার গর্বে আর ক্ষমতার অহংকারে পৃথিবীর বুকে রাজায়-রাজায় কত যুদ্ধ হয়, রক্ত ঝরে, নতুন ইতিহাস তৈরি হয়। কিন্তু নগরের এই কোলাহল আর ধ্বংসলীলা থেকে অনেক দূরে, প্রকৃতির কোলে বয়ে চলা গ্রামবাংলার শান্ত জীবনধারায় তার কোনো প্রভাব পড়ে না। সময়ের নদীর স্রোত বয়ে চললেও, মানবিক সম্পর্কের যোগসূত্র হিসেবে খেয়ানৌকাটি চিরকাল ধরে এক পারের মানুষের সঙ্গে অন্য পারের মানুষের মিলন ঘটিয়ে শান্তিতে পারাপার করে চলে।

খেয়া কবিতার ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Kheya Kobita 5 Marks Important Question Answer WBBSE

খেয়া কবিতার গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali

1. ‘খেয়া’ কবিতায় কবি একদিকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও অন্যদিকে গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা—এই দুইয়ের যে বৈপরীত্য দেখিয়েছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালজয়ী ‘খেয়া’ কবিতায় আধুনিক সভ্যতার চরম অস্থিরতা এবং গ্রামবাংলার চিরন্তন ও শাশ্বত শান্তির এক অপূর্ব তুলনামূলক চিত্র এঁকেছেন।

  • যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও অস্থিরতা: কবিতার একদিকে রয়েছে বৃহত্তর জগত ও আধুনিক সভ্যতার এক উগ্র রূপ। সেখানে ক্ষমতার লোভে প্রতিনিয়ত রাজায়-রাজায় যুদ্ধ লেগে আছে, যার ফলে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার অহংকারে সেখানে ‘সোনার মুকুট’ বা রাজতন্ত্র ধুলোয় মিশে যায়, আবার নতুন কোনো শক্তির উত্থান ঘটে। এই জগতটি হলো দ্বন্দ্ব, হলাহল (বিষ) ও বিনাশের। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমেই সেখানে ইতিহাস তৈরি হয় এবং সভ্যতার নতুন নতুন ‘তৃষ্ণা ও ক্ষুধা’ মানুষের মনে হাহাকার জাগিয়ে তোলে। এই জীবনধারাটি অত্যন্ত চঞ্চল, ধ্বংসাত্মক ও ক্ষণভঙ্গুর।
  • গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা: অন্যদিকে, কবি নদীর দুই তীরের এক চিরন্তন গ্রামীণ চিত্র তুলে ধরেছেন। সেখানে রক্তপাত, হানাহানি বা সাম্রাজ্য জয়ের কোনো নেশা নেই। দুই তীরের মানুষের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিবিড় জানাশোনা। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ খেয়ানৌকাই তাদের ঘর থেকে কর্মস্থলে যাওয়া এবং আবার ঘরে ফেরার প্রধান মাধ্যম। বৃহত্তর পৃথিবীর যুদ্ধের ঢেউ এই শান্ত ও নিভৃত জনপদে আছড়ে পড়ে না। পৃথিবীর ক্ষমতাশালী রাজাদের কাছে এই গ্রাম হয়তো খুবই তুচ্ছ, কিন্তু তাদের এই পারস্পরিক মিলন ও ভালোবাসার জীবনধারাই হলো প্রকৃত শাশ্বত সত্য।
  • উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, কবির দৃষ্টিতে ধ্বংসের চেয়ে সৃষ্টি এবং লড়াইয়ের চেয়ে সম্প্রীতিই অনেক বড়ো। বাহ্যিক ইতিহাসের রক্তপাতের চেয়ে মানুষের শান্ত গৃহকোণ ও সহজ-সরলভাবে বেঁচে থাকাই জীবনের পরম সার্থকতা। ‘খেয়া’ কবিতাটি স্থিরতা বনাম অস্থিরতার এই দ্বন্দ্বে গ্রামীণ শান্তিরই জয়গান গেয়ে ওঠে।

2. “খেয়ানৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে;/ কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে”—কবিতার এই শুরুর ও শেষের চরণের মিল ও অমিল আলোচনা করে কবিতার মূল ভাবটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘খেয়া’ কবিতার একেবারে শুরু এবং শেষে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে একই পঙ্‌ক্তির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন। এই গঠনশৈলী কবিতাটির অন্তর্নিহিত দর্শনকে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

  • মিল: কবিতার প্রথম এবং শেষ চরণ দুটিতেই নদীর স্রোতে খেয়া পারাপার এবং সাধারণ মানুষের নিজেদের প্রয়োজনে ঘর থেকে বেরিয়ে আবার ঘরে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই মিলটি মানবজীবনের চিরন্তন গতিকে নির্দেশ করে। জগত ও জীবন যে তার নিজস্ব নিয়মে চলছে এবং তা যে কোনো মতেই থামবার নয়—পঙ্‌ক্তি দুটি এই অমোঘ সত্যটিকেই তুলে ধরে।
  • মূল ভাব বিশ্লেষণ: কবিতার শুরুতে যখন কবি এই লাইনটি ব্যবহার করেছেন, তখন তা পাঠককে গ্রামবাংলার এক স্নিগ্ধ ও শান্ত পরিবেশে নিয়ে যায়। কিন্তু এরপরের পঙ্‌ক্তিগুলোতে কবি পৃথিবীর রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, সাম্রাজ্যের পতন এবং সভ্যতার আগ্রাসী ক্ষুধার বর্ণনা দিয়েছেন। এই ধ্বংসের বর্ণনা দেওয়ার পর পাঠক যখন কবিতার শেষে পুনরায় সেই একই চরণে ফিরে আসে, তখন তার গভীরতা বদলে যায়।
    এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে পৃথিবীতে কত সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে, কত রাজার অহংকার ধুলোয় মিশে গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের এই ঘর থেকে বের হওয়া আর দিনের শেষে ভালোবাসার টানে ঘরে ফেরার নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বৃহত্তর পৃথিবীর কোলাহলের চেয়ে সাধারণ মানুষের এই ঘর-ফেরার টান অনেক বেশি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী। সভ্যতা পরিবর্তনশীল, যুদ্ধ ধ্বংসাত্মক—কিন্তু মানুষের অন্তরের মিলন এবং সহজভাবে বেঁচে থাকার ধারাটিই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে টিকে থাকে। এই শাশ্বত ও নিরবচ্ছিন্ন ধারা বোঝানোর জন্যই কবি কবিতার প্রারম্ভে ও সমাপ্তিতে একই চরণের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

3. ‘খেয়া’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: নামকরণের মাধ্যমেই যেকোনো রচনার মূল ভাববস্তু বা দর্শন পাঠকের মনে ধরা দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতাটির নামকরণও কাব্যিক দিক থেকে যেমন সুন্দর, তেমনি ভাবব্যঞ্জনায় অত্যন্ত গভীর।

  • আক্ষরিক অর্থ: ‘খেয়া’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো নদী পারাপারের একটি ছোটো বা সাধারণ নৌকা। কবিতার উপরিস্তরে কবি নদীর দুই তীরের শান্ত গ্রামের জীবনচিত্র এঁকেছেন। সেখানে একটি খেয়ানৌকা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের মানুষের পারাপার নিশ্চিত করে। এটি গ্রামীণ সমাজের যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন, যার মাধ্যমে গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আবার আপন ঠিকানায় ফিরে যায়।
  • প্রতীকী রূপ ও ব্যঞ্জনা: এই সহজ ও সাধারণ নৌকাটিই কবিতার আধারে এক গভীর প্রতীকী রূপ পেয়েছে। কবি দেখিয়েছেন, পৃথিবীর রাজপথে যখন যুদ্ধের দামামা বাজে, ক্ষমতার দম্ভে সোনার মুকুট ভেঙে যায় এবং রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রচিত হয়, তখন এক তীরের মানুষের অন্য তীরে যাওয়ার মাধ্যম এই ‘খেয়া’ চিরকাল অটুট থাকে। খেয়া এখানে কেবল কাঠের তৈরি কোনো বস্তু নয়, এটি হলো ‘জীবনপ্রবাহ’ এবং মানুষের ‘মিলনের’ প্রতীক।
    আধুনিক সভ্যতা তার আগ্রাসী ক্ষুধা দিয়ে পৃথিবীকে বিষিয়ে তুললেও, সাধারণ মানুষের এই শান্ত প্রীতি ও প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসাটাই হলো জীবনের প্রকৃত সঞ্চয়। রাজারা ক্ষমতার জোরে বড়ো হতে চায়, কিন্তু সাধারণ গ্রামবাসী ভালোবাসায় টিকে থাকতে চায়। এই মানবিক ভালোবাসার সেতুবন্ধনই হলো ‘খেয়া’।
    কবিতাটিতে খেয়া শব্দটি যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে শুরু হয়ে শেষে মানবিকতার শাশ্বত নিদর্শনের প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্ষুদ্রের মাঝেই যে সুন্দরের বাস এবং দ্বন্দ্বের বদলে মৈত্রীর জয়গানই যে শ্রেষ্ঠ—তা এই নামকরণের মাধ্যমেই কবি প্রকাশ করেছেন। তাই কাব্যিক ব্যঞ্জনা এবং বিষয়ের গভীরতা বিচারে ‘খেয়া’ নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক হয়েছে।

4. “উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা!” – কোন প্রসঙ্গে কবি এই মন্তব্যটি করেছেন? উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ধৃত পদ্যাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত বিখ্যাত ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘খেয়া’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। সভ্যতার নব নব আবিষ্কার এবং তার চূড়ান্ত ফলাফলের কথা বলতে গিয়েই কবি এই উক্তিটি করেছেন।

  • তাৎপর্য: সভ্যতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদে মানবজাতি কৃষিক্ষেত্র, চিকিৎসাবিজ্ঞান, শিল্প ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত উন্নতি করার চেষ্টা করে চলেছে। যেমন—লাঙলের জায়গায় এসেছে ট্রাক্টর, গরুর গাড়ির জায়গায় ট্রেন বা উড়োজাহাজ। চিকিৎসাবিজ্ঞানও আজ অনেক উন্নত। সভ্যতার এই জয়যাত্রা আজও অব্যাহত।
    সভ্যতার এই নতুন নতুন আবিষ্কার ও সুফলগুলোকেই কবি ‘সুধা’ বা অমৃত বলতে চেয়েছেন। কিন্তু পুরাণ থেকে আমরা জানতে পারি যে সমুদ্রমন্থনের সময় সুধা বা অমৃতের সঙ্গে ‘হলাহল’ বা মারাত্মক বিষও উঠেছিল। ঠিক তেমনি সভ্যতার অগ্রগতি যদি অমৃত হয়, তবে তার সাথে আসা হলাহল বা কুফলগুলোও আমাদের গ্রহণ করতে হবে।
    সভ্যতার অগ্রগতি আমাদের জীবনে যেমন অনেক সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিয়েছে, তেমনি আবার মারাত্মক অভিশাপও বয়ে এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, পারমাণবিক বোমার আবিষ্কার মানবজাতির জন্য এক চরম হলাহল, যার অভিশাপ জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির মানুষকে আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। নিজেদের সুবিধার্থে মানুষ অবাধে গাছ কাটছে, যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো হলাহল আজ পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করছে। এগুলোই হলো সভ্যতার হলাহল, সভ্যতার সুধার সঙ্গে যার এক অচ্ছেদ্য ও অনিবার্য সম্পর্ক রয়েছে।

5. “এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে” – কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে? মন্তব্যটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘খেয়া’ কবিতায় নদীর তীরে অবস্থিত দুটি গ্রামের দীর্ঘদিনের জানাশোনা ও নিবিড় সম্পর্কের কথা বলেছেন। নাম-না-জানা সেই দুটি গ্রাম যেন গভীর আত্মীয়তায় একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর তাদের মধ্যে এই আত্মীয়তা ও যোগাযোগের সেতুবন্ধন রচনা করে নদীর বুকে পারাপার করা একটি খেয়ানৌকা। খেয়ানৌকার প্রতিদিনের এই নিরবচ্ছিন্ন ও বিরামহীন যাতায়াত প্রসঙ্গেই কবি আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

  • তাৎপর্য: নদীর বুকে খেয়ানৌকার এই চলাচল আসলে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের শান্ত ও সহজ জীবনযাত্রার দিকে ইঙ্গিত করে। খেয়ানৌকায় করে নদীর দুই তীরের মানুষ কাজের খোঁজে বাইরে যায় এবং দিনশেষে আবার আপন ঘরে ফেরে; এর মাধ্যমেই তৈরি হয় দুটি গ্রামের আত্মীয়তার সম্পর্ক।
    বৃহত্তর পৃথিবীর ইতিহাস যখন ক্ষমতা দখলের লড়াই আর যুদ্ধ-রক্তপাতের ঘটনায় বারবার আন্দোলিত হয়, ঠিক তখনই তার সম্পূর্ণ বিপরীতে খেয়ানৌকার এই শান্ত চলাচল অব্যাহত থাকে। খেয়ানৌকার এই চিরকালীন যাতায়াত যেন মানবজীবনের স্বচ্ছন্দ ও শাশ্বত প্রবাহকেই নির্দেশ করে। পৃথিবীতে কত রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে, কত সাম্রাজ্য ধুলোয় মিশে যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন তার আপন ছন্দে একইভাবে বয়ে চলে। সময়ের স্রোতে মানবিক সম্পর্কের এই অটুট ও চিরন্তন দিকটি বোঝাতেই কবি “এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে” পঙ্‌ক্তিটি ব্যবহার করেছেন।

খেয়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর pdf download

খেয়া কবিতার PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Chapter খেয়া কবিতা
Contents MCQ, SAQ, ২ ও ৩ নম্বর এবং বড়ো প্রশ্ন-উত্তর
PDF Notes Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment