আমরা কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণির বাংলা | Class 9 Bengali Amra Question Answer

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবার তোমাদের সামনে হাজির হয়েছি নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘আমরা’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে।

এই পোস্টে তোমরা ‘আমরা’ কবিতার পরীক্ষায় আসতে পারে এমন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যাবে। MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের প্রশ্নোত্তর—সবকিছুই কভার করার চেষ্টা করেছি, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামআমরা
কবিসত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
কাব্যগ্রন্থকুহু ও কেকা
মূল সুরবাঙালির ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম

এখানে আমরা কবিতার সামারি বা কবি পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব, যাতে তোমরা অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে পারো।

আর তোমরা যারা আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও পড়োনি, তারা সেগুলোও একবার দেখে নাও। এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—

  • এলো বৃষ্টি ঝেঁপে
  • আমার গান
  • ইলিয়াস
  • দাম
  • নব নব সৃষ্টি
  • হিমালয় দর্শন
  • নোঙর
  • খেয়া
  • আকাশে সাতটি তারা
  • আবহমান
  • ভাঙার গান
  • চিঠি

এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তরও আগের পোস্টগুলোতে পেয়ে যাবে।

আর তোমাদের সুবিধার জন্য ‘আমরা’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে একটি PDF নোট তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link থেকে তোমরা খুব সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

তাহলে আর বেশি কথা না বাড়িয়ে, চলো শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘আমরা’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর।

আমরা পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Amra MCQ Question Answer

  1. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতাটি তাঁর কোন্ মূল কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
    (A) বেণু ও বীণা
    (B) কুহু ও কেকা
    (C) হোম শিখা
    (D) বিদায় আরতি
    উত্তর: (B) কুহু ও কেকা
  2. কবিতায় উল্লিখিত ‘মুক্তবেণীর গঙ্গা’ ঠিক কোথায় তার মুক্তির পুণ্যধারা বিতরণ করে থাকে?
    (A) হিমালয়ের চূড়ায়
    (B) শচীতীর্থে
    (C) বঙ্গভূমিতে বা বঙ্গে
    (D) সাগরের মোহনায়
    উত্তর: (C) বঙ্গভূমিতে বা বঙ্গে
  3. বঙ্গমাতার বাম হাতে কোন্ দেবীর ফুল শোভা পাচ্ছে বলে কবি কবিতায় জানিয়েছেন?
    (A) জবার ফুল
    (B) লক্ষ্মীর বা কমলার ফুল
    (C) অপরাজিতা ফুল
    (D) নীলপদ্ম
    উত্তর: (B) লক্ষ্মীর বা কমলার ফুল
  4. বাংলার কোন্ বীরদের প্রবল বিক্রমে একসময় দিল্লির দোর্দণ্ডপ্রতাপ সুলতানকেও পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়েছিল?
    (A) বিজয় সিংহের
    (B) প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের
    (C) সিরাজউদ্দৌলার
    (D) ঈশা খাঁ-র
    উত্তর: (B) প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের
  5. প্রবল পরাক্রমে লঙ্কা জয় করে কে সেই দেশের নাম ‘সিংহল’ রেখেছিলেন?
    (A) বাঙালি বীর বিজয় সিংহ
    (B) রঘুনাথ
    (C) দশানন রাবণ
    (D) চাণক্য
    উত্তর: (A) বাঙালি বীর বিজয় সিংহ
  6. দুর্গম তিব্বতে গিয়ে কোন্ মহান বাঙালি মহাপুরুষ জ্ঞানের আলো বা দীপ জ্বালিয়েছিলেন?
    (A) শ্রীচৈতন্যদেব
    (B) রাজা রামমোহন রায়
    (C) অতীশ দীপঙ্কর
    (D) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উত্তর: (C) অতীশ দীপঙ্কর
  7. ‘আদি বিদ্বান’ বলে পরিচিত কপিল মুনি কোন্ বিখ্যাত দর্শন শাস্ত্রের রচয়িতা ছিলেন?
    (A) বেদান্ত
    (B) সাংখ্যকার বা সাংখ্যদর্শন
    (C) ব্যাকরণ
    (D) অলঙ্কার
    উত্তর: (B) সাংখ্যকার বা সাংখ্যদর্শন
  8. সুদূর যবদ্বীপের ‘বরোভুদর’ বা বরোবুদুরের বিশাল স্তূপ কাদের নিপুণ হাতে তৈরি হয়েছিল?
    (A) সিংহলী স্থপতিদের
    (B) তিব্বতি স্থপতিদের
    (C) বাঙালি স্থপতিদের
    (D) চীন দেশের স্থপতিদের
    উত্তর: (C) বাঙালি স্থপতিদের
  9. পাল রাজত্বকালে বাংলার দুজন বিশ্ববিখ্যাত ভাস্কর ও শিল্পীর নাম কী ছিল?
    (A) অজয় ও বিজয়
    (B) ধীমান ও বিটপাল
    (C) জয়দেব ও চণ্ডীদাস
    (D) রাম ও যদু
    উত্তর: (B) ধীমান ও বিটপাল
  10. ‘বাঙালির হিয়া’ বা হৃদয় মন্থন করে কে অবতীর্ণ হয়েছিলেন বা অমর কায়া ধরেছিলেন?
    (A) স্বামী বিবেকানন্দ
    (B) নিমাই বা শ্রীচৈতন্যদেব
    (C) শ্রীরামকৃষ্ণ
    (D) কবি জয়দেব
    উত্তর: (B) নিমাই বা শ্রীচৈতন্যদেব
  11. বিশ্ববিখ্যাত অজন্তার গুহাচিত্রগুলোকে কারা নিজেদের তুলির টানে অমর করে রেখেছেন?
    (A) বাংলার পোটো বা পটুয়ারা
    (B) মুঘল সাম্রাজ্যের শিল্পীরা
    (C) ইউরোপীয় চিত্রশিল্পীরা
    (D) আধুনিক ভাস্কররা
    উত্তর: (A) বাংলার পোটো বা পটুয়ারা
  12. “বাঙালির ছেলে ব্যাঘ্রে বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়”— এখানে ‘ব্যাঘ্র-বৃষভ’ বলতে কবি মূলত কীসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন?
    (A) বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীর মিলন
    (B) হিংসা ও অহিংসার অপূর্ব মিলন
    (C) শিকারি ও পশুর যুদ্ধ
    (D) বাহুবলের শক্তি প্রদর্শন
    উত্তর: (B) হিংসা ও অহিংসার অপূর্ব মিলন
  13. ‘বাঙালির রবি’ বলে পরিচিত কবি জয়দেব কোন্ ভাষায় তাঁর অমর কাব্য রচনা করেছিলেন?
    (A) প্রাকৃত
    (B) সংস্কৃত
    (C) পালি
    (D) ফারসি
    উত্তর: (B) সংস্কৃত
  14. মহামারি বা মন্বন্তরের মতো চরম বিপদের হাত থেকে বাঙালিরা কার কৃপায় রক্ষা পেয়ে বেঁচে আছে?
    (A) রাজার আশ্রয়ে
    (B) বিধাতা বা ভগবানের কৃপায়
    (C) বীর যোদ্ধাদের আশ্রয়ে
    (D) প্রকৃতির দয়ায়
    উত্তর: (B) বিধাতা বা ভগবানের কৃপায়
  15. মৃত্যুর ভয় জয় করে শ্মশানের বুকেই বাঙালি কী রোপণ করেছে?
    (A) বরবটী
    (B) পঞ্চবটী
    (C) তুলসী গাছ
    (D) জবা গাছ
    উত্তর: (B) পঞ্চবটী
  16. আমাদের এই প্রিয় বঙ্গভূমির দেহ কোন্ কোন্ ফুলে সেজে উঠেছে বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
    (A) সোনা ও রুপায়
    (B) অতসী ও অপরাজিতায়
    (C) মুক্তার মালায়
    (D) হিরক হারে
    উত্তর: (B) অতসী ও অপরাজিতায়
  17. “মোদের নব্য রসায়ন শুধু গরমিল মিলাইয়া”— এই কথাটি কোন্ বিশেষ অর্থে কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে?
    (A) আধুনিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে
    (B) আধ্যাত্মিক সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে
    (C) রান্নার স্বাদ বৃদ্ধিতে
    (D) যুদ্ধের রণকৌশলে
    উত্তর: (B) আধ্যাত্মিক সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে
  18. ‘বরদ বঙ্গে’ কথাটির মাধ্যমে আমাদের এই জন্মভূমিকে কেমন আখ্যা দেওয়া হয়েছে?
    (A) অভিশপ্ত
    (B) বরদানকারিণী বা আশীর্বাদধন্যা
    (C) নির্দয়
    (D) শীতল
    উত্তর: (B) বরদানকারিণী বা আশীর্বাদধন্যা
  19. শম-দমের সাধনায় বিজয়ী হওয়ার আগে বাঙালির সেনাবাহিনী কার সাথে সরাসরি যুদ্ধ করেছিল?
    (A) রাবণের প্রপিতামহের সাথে
    (B) দশাননজয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহের সাথে
    (C) মুঘলদের সাথে
    (D) মগদের সাথে
    উত্তর: (B) দশাননজয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহের সাথে
  20. বাঙালির প্রাচীন কীর্তির অন্যতম নিদর্শন ‘ওঙ্কার-ধাম’ ঠিক কোথায় অবস্থিত?
    (A) তিব্বতে
    (B) শ্যাম-কম্বোজে
    (C) জাভা-সুমাত্রায়
    (D) লঙ্কায়
    উত্তর: (B) শ্যাম-কম্বোজে
  21. ‘আমরা’ কবিতায় ‘বাঙালির রবি’ বলে কোন্ কবিকে সম্মান জানানো হয়েছে?
    (A) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
    (B) কবি জয়দেবকে
    (C) কাজী নজরুল ইসলামকে
    (D) রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রকে
    উত্তর: (B) কবি জয়দেবকে
  22. “বিফল নহে এ বাঙালি জনম…”— কবির এমন দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের পেছনের মূল কারণ কী?
    (A) বাঙালির অঢেল ধনসম্পদ
    (B) বাঙালির প্রাচীন বীরত্ব ও তপোবল
    (C) বাঙালির বিশাল জনশক্তি
    (D) আরাম ও বিলাসিতা
    উত্তর: (B) বাঙালির প্রাচীন বীরত্ব ও তপোবল
  23. একহাতে মোগলদের প্রতিহত করে বাঙালি আর এক হাতে কাদের রুখে দিয়েছিল?
    (A) ইংরেজদের
    (B) মগদের বা জলদস্যুদের
    (C) পর্তুগিজদের
    (D) ফরাসিদের
    উত্তর: (B) মগদের বা জলদস্যুদের
  24. “সত্যে প্রণমি থেমেছে মনের অকারণ স্পন্দন”— এমনটা কার প্রভাবে সম্ভবপর হয়েছে?
    (A) ভয়ের প্রভাবে
    (B) তপস্যা বা তপের প্রভাবে
    (C) ধনের প্রভাবে
    (D) ক্ষমতার প্রভাবে
    উত্তর: (B) তপস্যা বা তপের প্রভাবে
  25. ভবিষ্যতে বাঙালি কার আশীর্বাদ বা বরমাল্য নিয়ে নিজের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করবে?
    (A) ব্রিটিশের
    (B) বিধাতা ও ধাতার
    (C) প্রতিবেশীর
    (D) নিজের আত্মবিশ্বাসের
    উত্তর: (B) বিধাতা ও ধাতার
  26. কবি জয়দেব তাঁর বিখ্যাত শ্লোকগুলো কেমন শৈলীতে বা পদে রচনা করেছিলেন?
    (A) কর্কশ পদে
    (B) কান্ত কোমল পদে
    (C) কঠিন পদে
    (D) গদ্য পদে
    উত্তর: (B) কান্ত কোমল পদে
  27. “মণি অতুলন ছিল যে গোপন সৃজনের শতদলে”— এই চরণে ‘শতদল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
    (A) একশোটি দল বা পাপড়ি
    (B) পদ্ম ফুল
    (C) গোলাপ ফুল
    (D) শিউলি ফুল
    উত্তর: (B) পদ্ম ফুল
  28. কঠিন প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা সত্ত্বেও বাঙালি কার মুখ থেকে তা কেড়ে নিয়েছিল?
    (A) যমের
    (B) বেতালের
    (C) রাজার
    (D) শত্রুর
    উত্তর: (B) বেতালের
  29. কবিতার শেষে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাঙালির ভবিষ্যৎকে ঠিক কেমন রূপে দেখতে চেয়েছেন?
    (A) হতাশাপূর্ণ
    (B) আশা-ভরা আহ্লাদে পূর্ণ
    (C) যুদ্ধবিগ্রহে পূর্ণ
    (D) অত্যন্ত সাধারণ
    উত্তর: (B) আশা-ভরা আহ্লাদে পূর্ণ
  30. বাংলার এই বদ্বীপ অঞ্চলে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা কোন্ হিংস্র প্রাণীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে আছি?
    (A) বাঘের সঙ্গে
    (B) সিংহের সঙ্গে
    (C) হাতির সঙ্গে
    (D) বিষধর সাপের সঙ্গে
    উত্তর: (A) বাঘের সঙ্গে
  31. মিথিলার প্রখ্যাত পণ্ডিতকে তর্কে হারিয়ে কে কিশোর বয়সেই তাঁর ‘পক্ষশাতন’ করেছিলেন?
    (A) গদাধর
    (B) গিরিধর
    (C) ধ্বজাধর
    (D) রঘুনাথ শিরোমণি (পক্ষধর মিশ্রকে)
    উত্তর: (D) রঘুনাথ শিরোমণি (পক্ষধর মিশ্রকে)
  32. কীর্তনের সুরের পাশাপাশি আর কোন্ গানের মধ্য দিয়ে বাঙালি নিজেদের হৃদয় মেলে ধরেছে?
    (A) ভাটিয়ালির গানে
    (B) টপ্পার গানে
    (C) বাউলের গানে
    (D) আউলের গানে
    উত্তর: (C) বাউলের গানে
  33. বাংলার সাধারণ ঘরের ছেলের চোখে আমরা কীসের প্রতিচ্ছবি বা ছায়া দেখতে পেয়েছি?
    (A) বিশ্বভূপের বা ঈশ্বরের
    (B) বিশ্বরূপের
    (C) বিশ্বজগতের
    (D) বিশ্বসংসারের
    উত্তর: (A) বিশ্বভূপের বা ঈশ্বরের
  34. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ‘আমরা’ কবিতাটি কোন্ বিখ্যাত কবির অনবদ্য সৃষ্টি?
    (A) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
    (B) ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
    (C) অজিত দত্ত
    (D) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    উত্তর: (B) ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  35. “ভালে _______ শৃঙ্গ-মুকুট”— হিমালয় পর্বতমালার রূপকে এখানে শূন্যস্থানে সঠিক শব্দটি কী হবে?
    (A) রৌপ্য
    (B) তাম্র
    (C) হীরক
    (D) কাঞ্চন
    উত্তর: (D) কাঞ্চন

নবম শ্রেণী বাংলা আমরা কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Amra Short Question Answer SAQ

  1. প্রশ্ন: ‘আমরা’ কবিতায় উল্লিখিত ‘মুক্তবেণীর গঙ্গা’ আসলে কোথায় মুক্তি বিতরণ করে?
    উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মতে, পুণ্যতোয়া গঙ্গা নদী আমাদের এই পবিত্র বঙ্গভূমিতেই তার মুক্তির সুধা বিতরণ করে।
  2. প্রশ্ন: বঙ্গমাতার দেহ ও চরণ কোন্ কোন্ ফুলে সেজে উঠেছে?
    উত্তর: আমাদের এই বঙ্গভূমিরূপী মায়ের দেহ অতসী ও অপরাজিতা ফুলে সেজে উঠেছে, আর তাঁর চরণে শোভা পাচ্ছে পবিত্র পদ্মফুল।
  3. প্রশ্ন: কবিতায় বাঙালির অসীম বীরত্ব বোঝাতে কোন প্রাণীর কথা বলা হয়েছে?
    উত্তর: ভয়ংকর প্রতিকূল পরিবেশেও বাঙালি যে কতটা লড়াকু, তা বোঝাতে গিয়ে কবি সুন্দরবনের হিংস্র বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার কথা বলেছেন।
  4. প্রশ্ন: প্রাচীন ভারতীয় সেনাদলের ‘চতুরঙ্গ’ বলতে ঠিক কী বোঝায়?
    উত্তর: সেকালের সেনাবাহিনীর প্রধান চারটি ভাগকে একত্রে চতুরঙ্গ বলা হতো। এগুলো হলো— হাতি, ঘোড়া, রথ এবং পদাতিক বা পায়ে হাঁটা সৈন্য।
  5. প্রশ্ন: বাঙালি একহাতে কাদের রুখে দিয়েছিল? এই ‘মগ’ আসলে কারা?
    উত্তর: মগ হলো বর্তমান মায়ানমার বা ব্রহ্মদেশের আরাকান অঞ্চল থেকে আসা একদল দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর জলদস্যু, যাদের বাঙালিরা সাহসের সঙ্গে প্রতিহত করেছিল।
  6. প্রশ্ন: ‘আদিবিদ্বান্’ বলে কবিতায় কাকে সম্মান জানানো হয়েছে?
    উত্তর: প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত ‘সাংখ্য দর্শন’-এর রচয়িতা মহামুনি কপিলকেই কবি ‘আদিবিদ্বান্’ বা প্রথম জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
  7. প্রশ্ন: বিশ্ববিখ্যাত ‘অজন্তার পট’ কারা নিজেদের তুলির ছোঁয়ায় অমর করে রেখেছে?
    উত্তর: বাংলার নিপুণ চিত্রশিল্পী বা সুপটু পটুয়ারাই তাদের অসাধারণ আঁকার দক্ষতায় অজন্তার গুহাচিত্রকে চিরকালের জন্য অক্ষয় করে রেখেছে।
  8. প্রশ্ন: দুর্গম তিব্বতে গিয়ে কোন্ বাঙালি মহাপুরুষ জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছিলেন?
    উত্তর: বরফে ঢাকা দুর্গম পথ পেরিয়ে বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বতে গিয়ে বৌদ্ধধর্ম ও জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন।
  9. প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই সম্পর্কে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী বলেছেন?
    উত্তর: কবির মতে, সমগ্র বাঙালি জাতির হৃদয় বা ভক্তি মন্থন করেই যেন শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর সেই অমৃতময় ও প্রেমময় শরীর ধারণ করেছিলেন।
  10. প্রশ্ন: “মন্বন্তরে মরিনি আমরা”— এখানে ‘মন্বন্তর’ শব্দটির অর্থ কী?
    উত্তর: মন্বন্তর বলতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বা আকালকে বোঝায় (যেমন বাংলার ছিয়াত্তরের মন্বন্তর), যে চরম বিপর্যয়েও বাঙালি জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি।
  11. প্রশ্ন: মৃত্যুর ভয় জয় করে শ্মশানের বুকে বাঙালি কী সাধন করেছে?
    উত্তর: বাঙালি সাধকরা ভয়ংকর শ্মশানের বুকেই পঞ্চবটী (বট, অশ্বত্থ, বিল্ব, আমলকী ও অশোক) রোপণ করে গভীর সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছেন।
  12. প্রশ্ন: কবিতায় উল্লিখিত ‘বেতাল’ আসলে কে?
    উত্তর: বেতাল হলো প্রাচীন লোককথার এক বিখ্যাত চরিত্র (বেতাল পঞ্চবিংশতি), যে রাজা বিক্রমাদিত্যকে বারবার অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রশ্ন করত।
  13. প্রশ্ন: ‘মোদের নব্য রসায়ন’ বলতে কবি এখানে কোন্ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন?
    উত্তর: বাঙালি বিজ্ঞানীদের রাসায়নিক আবিষ্কারের পাশাপাশি, ভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের মধ্যে যে অপূর্ব সমন্বয় বা মহামিলন ঘটেছে, তাকেই কবি নব্য রসায়ন বলেছেন।
  14. প্রশ্ন: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাঙালির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী আশা প্রকাশ করেছেন?
    উত্তর: কবির দৃঢ় বিশ্বাস, বিধাতার আশীর্বাদ এবং বাঙালির নিজস্ব প্রতিভা ও তপস্যার জোরে একদিন সমগ্র পৃথিবী বাঙালির গৌরবে ভরে উঠবে।
  15. প্রশ্ন: “অমর সে বীজ আমাদের করতলে”— এই বীজটি আসলে কীসের?
    উত্তর: এই বীজটি হলো বাঙালির ভবিষ্যৎ সৃজনশীলতা, শুভ চেতনা এবং নতুন কিছু সৃষ্টির এক অমর অঙ্কুর।
  16. প্রশ্ন: লঙ্কা জয় করে কোন্ বাঙালি বীর নিজের শৌর্যের প্রমাণ রেখেছিলেন?
    উত্তর: প্রাচীন বাংলার বীর সন্তান বিজয় সিংহ সমুদ্র পেরিয়ে লঙ্কা জয় করেন এবং নিজের বংশের নামানুসারে সেই দেশের নাম রাখেন ‘সিংহল’।
  17. প্রশ্ন: ‘পক্ষধরের পক্ষশাতন’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
    উত্তর: বাঙালি ন্যায়পণ্ডিত রঘুনাথ শিরোমণি মিথিলার বিখ্যাত পণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে এক বিরাট তর্কসভায় পরাজিত করেছিলেন। এটিকেই পক্ষশাতন বা ডানা কেটে নেওয়া বলা হয়েছে।
  18. প্রশ্ন: পাল যুগের বাংলার দুজন বিশ্ববিখ্যাত ভাস্করের নাম লেখো।
    উত্তর: প্রাচীন বাংলার শিল্পকলার অন্যতম দুই শ্রেষ্ঠ ভাস্কর ও রূপকার হলেন ধীমান এবং তাঁর পুত্র বিটপাল।
  19. প্রশ্ন: ‘মানুষের ঠাকুরালি’ বলতে কবি ঠিক কী বুঝিয়েছেন?
    উত্তর: সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ হয়েও কেবল নিজের কর্মগুণ, ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক সাধনার জোরে দেবতার স্তরে উন্নীত হওয়াকেই মানুষের ঠাকুরালি বলা হয়েছে।
  20. প্রশ্ন: আপাতদৃষ্টিতে জড় পদার্থের মধ্যেও কে প্রাণের সাড়া পেয়েছিলেন?
    উত্তর: বিশ্ববরেণ্য বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, নিশ্চল গাছের মধ্যেও প্রাণের স্পন্দন রয়েছে।
  21. প্রশ্ন: তান্ত্রিক সাধনায় ‘শব-সাধনা’ বলতে কী বোঝায়?
    উত্তর: ভয়ংকর শ্মশানে সদ্য মৃত কোনো মানুষের শবের (মৃতদেহ) বুকের ওপর বসে গভীর একনিষ্ঠ চিত্তে যে তান্ত্রিক সাধনা করা হয়, তাকেই শব-সাধনা বলে।
  22. প্রশ্ন: বিষম বা আলাদা ধাতুর মিলন কে ঘটিয়েছিলেন?
    উত্তর: প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় তাঁর গবেষণাগারে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট (বিষম) ধাতুর রাসায়নিক সংযোগ ঘটিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন।
  23. প্রশ্ন: গোটা বিশ্বজুড়ে মহামিলনের গান কে গেয়েছেন?
    উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অমর সাহিত্য ও কাব্যের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে শান্তি ও মহামিলনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
  24. প্রশ্ন: আমরা বাঙালিরা কীভাবে আমাদের ওপর থাকা ‘দেব-ঋণ’ শোধ করব?
    উত্তর: সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে হিংসা ভুলে এক হওয়ার মহামন্ত্রে দীক্ষিত করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের দেব-ঋণ থেকে চিরতরে মুক্ত হব বলে কবি জানিয়েছেন।
  25. প্রশ্ন: সমুদ্র বা সাগর কীভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের বঙ্গভূমির বন্দনা করে চলেছে?
    উত্তর: বঙ্গভূমির একদম দক্ষিণ প্রান্তে থাকা বঙ্গোপসাগর তার অজস্র ঢেউ দিয়ে প্রতিনিয়ত বাংলা মায়ের পা ধুইয়ে দিয়ে সগৌরবে তাঁর বন্দনা করে চলেছে।

আমরা কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Amra 2 Marks Question Answer

  1. প্রশ্ন: “বাম হাতে যার কমলার ফুল, ডাহিনে মধুক-মালা”— এই পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
    উত্তর: আমাদের মাতৃভূমি বাংলার ঐশ্বর্য এবং শিল্পের যে এক অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে, তা বোঝাতেই কবি এই কথাটি বলেছেন। ‘কমলার ফুল’ বা পদ্ম হলো দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক, যা বাংলার ধনসম্পদ ও প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ‘মধুক-মালা’ হলো বাংলার নিজস্ব শিল্প, সংস্কৃতি এবং লৌকিক মাধুর্যের প্রতীক। অর্থাৎ, বাংলা একদিকে যেমন সম্পদে ভরপুর, তেমনি শিল্পেও অনন্য।
  2. প্রশ্ন: “সিংহল নামে রেখে গেছে নিজ শৌর্যের পরিচয়”— এখানে কার কথা বলা হয়েছে এবং তিনি কীভাবে এই শৌর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন?
    উত্তর: এখানে প্রাচীন বাংলার বীর সন্তান বিজয় সিংহের কথা বলা হয়েছে। তিনি তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে সমুদ্র পেরিয়ে সুদূর লঙ্কা জয় করেছিলেন। তাঁর এই অসীম বীরত্ব এবং সাহসিকতার স্মৃতিকে চিরকাল অম্লান করে রাখতেই তাঁর নামানুসারে লঙ্কা দ্বীপের নতুন নামকরণ করা হয়েছিল ‘সিংহল’। এভাবেই তিনি বাঙালির শৌর্য ও পরাক্রমের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
  3. প্রশ্ন: “চাঁদ-প্রতাপের হুকুমে হঠিতে হয়েছে দিল্লিনাথে”— এই চরণটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বা অর্থ বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: বাংলার বিখ্যাত ‘বারো ভূঁইয়া’-দের অন্যতম দুই পরাক্রমশালী জমিদার ছিলেন প্রতাপাদিত্য এবং চাঁদরায়। এঁদের সামরিক শক্তি ও রণকৌশল এতটাই দুর্ধর্ষ ছিল যে, তৎকালীন ভারতবর্ষের অধীশ্বর বা মুঘল সম্রাটদেরও (দিল্লিনাথ) তাঁদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে বারবার পিছু হটতে হয়েছিল। বাঙালির সেই হার-না-মানা স্বাধীনচেতা মানসিকতা এবং অসীম বীরত্ব বোঝাতেই কবি চরণটি ব্যবহার করেছেন।
  4. প্রশ্ন: সুদূর যবদ্বীপের ‘বরোভুদরের ভিত্তি’ স্থাপন সম্পর্কে কবি কবিতায় কী তথ্য দিয়েছেন?
    উত্তর: যবদ্বীপের (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) বিশ্ববিখ্যাত বৌদ্ধ স্থাপত্য ‘বরোবুদুর’-এর বিশাল স্তূপটি যে কেবল স্থানীয়দের দ্বারাই তৈরি হয়নি, সেই সত্যটিই কবি এখানে তুলে ধরেছেন। কবির মতে, এই অনবদ্য স্থাপত্যের মূল নকশা এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বাংলারই গুণী স্থপতিরা। অর্থাৎ, প্রাচীনকালে বাঙালির স্থাপত্যকলা ও সংস্কৃতির প্রসার যে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল, এটি তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
  5. প্রশ্ন: ‘আমরা’ কবিতায় কবি ধীমান ও বিটপালকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করেছেন কেন?
    উত্তর: প্রাচীন পাল যুগে বাংলার শিল্পকলা যখন চরম উৎকর্ষ লাভ করেছিল, তখন ধীমান ও তাঁর পুত্র বিটপাল ছিলেন সেকালের সবচেয়ে প্রখ্যাত ও প্রতিভাবান ভাস্কর। নিছক পাথর খোদাই করে তাঁরা মূর্তিগুলোতে যেন জীবন্ত প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। বাঙালির ভাস্কর্য ও শিল্পপ্রতিভাকে তাঁরা সারা বিশ্বে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন বলেই কবি সগৌরবে তাঁদের স্মরণ করেছেন।
  6. প্রশ্ন: “বাঙালির হিয়া মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া”— কথাটির গভীর বা অন্তর্নিহিত অর্থটি পরিস্ফুট করো।
    উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই হঠাৎ করে কোথাও থেকে উড়ে আসা কোনো অবতার নন। কবি মনে করেন, যুগের পর যুগ ধরে বাংলার সাধারণ মানুষের মনে যে প্রেম, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবেগ সুপ্ত ছিল, তারই এক চূড়ান্ত ও ঘনীভূত রূপ হলেন নিমাই। যেন সমগ্র বাঙালি জাতির হৃদয় মন্থন করেই তিনি তাঁর এই প্রেমময় ও অমৃতময় শরীরটি লাভ করেছেন।
  7. প্রশ্ন: “মন্বন্তরে মরিনি আমরা মারী নিয়ে ঘর করি”— এই উক্তির মধ্য দিয়ে বাঙালির কোন্ অদম্য জীবনীশক্তির কথা ফুটে উঠেছে?
    উত্তর: বাঙালি জাতি যুগে যুগে বহু ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি (মারী) এবং দুর্ভিক্ষের (মন্বন্তর) সম্মুখীন হয়েছে। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের মতো ভয়াবহ আকালও বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলতে পারেনি। শত অভাব, মৃত্যুমিছিল আর প্রাকৃতিক দুর্যোগকে বুকে নিয়েও বাঙালি জাতি যে বিধাতার আশীর্বাদে আজও হার না মেনে লড়াই করে বেঁচে আছে— এখানে বাঙালির সেই অসীম জীবনীশক্তি ও টিকে থাকার কথাই বলা হয়েছে।
  8. প্রশ্ন: “বাঙালির ছেলে ব্যাঘ্রে বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়”— এই পংক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
    উত্তর: এখানে বাঘ বা ‘ব্যাঘ্র’ হলো ভয়ংকর হিংস্রতার প্রতীক, আর ষাঁড় বা ‘বৃষভ’ হলো শান্ত ও নিরীহ শক্তির প্রতীক। কবি বলতে চেয়েছেন যে, বাঙালি তার উন্নত শিক্ষা, মেধা ও মানসিকতার জোরে একদিন বিবাদমান দুই বিপরীত শক্তির মধ্যে এক অপূর্ব সম্প্রীতি স্থাপন করবে। হিংসা আর অহিংসার মধ্যে এই মহামিলন ঘটিয়ে বাঙালি বিশ্ববাসীকে শান্তির এক নতুন পথ দেখাবে।
  9. প্রশ্ন: “বিফল নহে এ বাঙালি জনম বিফল নহে এ প্রাণ”— বাঙালির জন্ম বৃথা নয় বলে কবি যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তার কারণ কী?
    উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত যখন বাঙালির ফেলে আসা অতীতের দিকে তাকান, তখন তিনি সেখানে অসীম শৌর্য, বীরত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা এবং শিল্পকলার এক সুবিশাল রত্নভাণ্ডার দেখতে পান। যে জাতির অতীত এত গৌরবময়, তাদের জন্ম কখনওই বৃথা হতে পারে না। এই মহান ঐতিহ্যের অধিকারী বাঙালিরা যে আগামী দিনেও বিশ্বদরবারে নতুন কোনো মহৎ কাজ করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে, সেই বিশ্বাস থেকেই কবির এই উক্তি।
  10. প্রশ্ন: “শ্মশানের বুকে আমরা রোপণ করেছি পঞ্চবটী”— শ্মশানে পঞ্চবটী রোপণ করার তাৎপর্যটি বুঝিয়ে দাও।
    উত্তর: শ্মশান বলতে আমরা বুঝি মৃত্যু, ভয় বা সবকিছুর শেষ। কিন্তু বাঙালি সাধকেরা মৃত্যুর সেই ভয়ংকর জায়গাকে ভয় না পেয়ে, সেখানেই পঞ্চবটী (বট, অশ্বত্থ, বেল, আমলকী ও অশোক গাছের সমাহার) রোপণ করে গভীর তপস্যায় মগ্ন হয়েছেন। এর তাৎপর্য হলো, ধ্বংস বা বিনাশের মধ্যেও জীবনের সঞ্চার করা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে জগতকে প্রকৃত মুক্তির পথ দেখানো।
  11. প্রশ্ন: “মোদের নব্য রসায়ন শুধু গরমিল মিলাইয়া”— কবিতায় উল্লিখিত এই ‘নব্য রসায়ন’-এর বিশেষ গুণটি কী?
    উত্তর: এখানে ‘নব্য রসায়ন’ বলতে কেবল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানকে নয়, বরং বাঙালির মানসিকতা ও আধ্যাত্মিক সমন্বয়ের শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। এর প্রধান গুণ হলো, এটি সম্পূর্ণ আলাদা বা বিপরীত ধর্মী (বিষম) মানুষ, জাতি বা মতাদর্শের মধ্যে থাকা সমস্ত ‘গরমিল’ বা বিভেদ দূর করে তাদেরকে এক সুতোয় গেঁথে দিতে পারে। বিবিধের মাঝে মহান ঐক্য তৈরি করাই এই নব্য রসায়নের কাজ।
  12. প্রশ্ন: “মুক্ত হব দেব-ঋণে মোরা মুক্তবেণীর তীরে”— বাঙালির এই দেব-ঋণ থেকে চিরতরে মুক্ত হওয়ার উপায়টি কী?
    উত্তর: দেব-ঋণ মানে হলো দেবতা বা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া আশীর্বাদের দায়। কবি মনে করেন, বাঙালি জাতি যখন তার জ্ঞান, প্রেম, বীরত্ব এবং নিজস্ব সাধনার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাবে এবং সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে মহামিলন ও শান্তির দীক্ষায় দীক্ষিত করবে, ঠিক তখনই তারা পুণ্যতোয়া গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে নিজেদের এই ঐশ্বরিক বা বংশগত ঋণ থেকে প্রকৃত অর্থে মুক্ত হতে পারবে।

নবম শ্রেণী বাংলা আমরা কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Amra 3 Marks Question Answer

  1. প্রশ্ন: “জ্ঞানের নিধান আদি বিদ্বান কপিল সাংখ্যকার”— কপিল মুনির পরিচয় ও তাঁর অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
    উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রাচীনতম শাখা হলো ‘সাংখ্য দর্শন’। এই দর্শনের স্রষ্টা মহামুনি কপিলকেই কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবিতায় ‘আদি বিদ্বান’ বা পৃথিবীর প্রথম জ্ঞানী পুরুষ হিসেবে সম্মান জানিয়েছেন। কবির মতে, এই বঙ্গভূমিতে বসেই কপিল মুনির মতো ঋষিরা দর্শনের অমূল্য রত্নভাণ্ডার বা হিরক-হার তৈরি করেছিলেন। অর্থাৎ, গোটা ভারতের দার্শনিক চিন্তাধারার আদি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে বাঙালির যে এক অসামান্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে, কবি কপিল মুনির প্রসঙ্গের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক সত্যটিকেই তুলে ধরেছেন।
  2. প্রশ্ন: ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালির সামরিক বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে গিয়ে কবি কোন্ কোন্ ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন?
    উত্তর: বাঙালি যে কখনোই দুর্বল বা ভীরু জাতি নয়, তা প্রমাণ করতে কবি একাধিক ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করেছেন:
  • লঙ্কা জয়: বাঙালি বীর বিজয় সিংহ সমুদ্র পেরিয়ে লঙ্কা জয় করে নিজের শৌর্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন এবং সেই দ্বীপটির নাম রেখেছিলেন ‘সিংহল’।
  • দিল্লিনাথকে প্রতিহত করা: বাংলার বিখ্যাত ‘বারো ভূঁইয়া’-দের অন্যতম প্রতাপাদিত্য এবং চাঁদরায়ের প্রবল পরাক্রমের কাছে তৎকালীন ভারতবর্ষের অধীশ্বর মুঘল সম্রাটকেও (দিল্লিনাথ) হার মানতে হয়েছিল।
  • মগ ও মুঘলদের দমন: বাংলার বীর সন্তানেরা একদিকে যেমন দুর্ধর্ষ জলদস্যু মগদের রুখে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি অন্যদিকে পরাক্রমশালী মুঘলদের আক্রমণও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল।
  1. প্রশ্ন: শিল্প ও স্থাপত্যকলায় বাঙালির শ্রেষ্ঠত্ব যে কেবল দেশের মাটিতে নয়, বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল— তা কীভাবে প্রমাণিত হয়?
    উত্তর: বাঙালির শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের খ্যাতি যে বিশ্বজোড়া ছিল, তা বোঝাতে কবি বেশ কিছু অনবদ্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন:
  • বিদেশের মাটিতে স্থাপত্য: সুদূর যবদ্বীপের (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দির ‘বরোবুদুর’ এবং হিন্দু-চীন বা শ্যাম-কম্বোজের ‘ওঙ্কার-ধাম’-এর মতো বিস্ময়কর স্থাপত্যগুলোর মূল নকশা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বাংলার গুণী স্থপতিরাই।
  • ভাস্কর্য ও চিত্রকলা: প্রাচীন পাল যুগের বিশ্ববিখ্যাত দুই বাঙালি ভাস্কর ধীমান এবং তাঁর পুত্র বিটপাল নিছক পাথরের মূর্তিতে যেন জীবন্ত প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অন্যদিকে, বাংলার পটুয়াদের নিপুণ তুলির টানেই মহারাষ্ট্রের অজন্তা গুহাচিত্র চিরকালের মতো অমর হয়ে আছে।
  1. প্রশ্ন: “বাঙালির হিয়া মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া”— উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থটি বিস্তারিতভাবে পরিস্ফুট করো।
    উত্তর: ‘মথন’ শব্দটির অর্থ হলো গভীরভাবে আলোড়িত করে বা নিংড়ে কোনো কিছুর নির্যাস বের করে আনা। শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই হঠাৎ করে কোথাও থেকে উদয় হওয়া কোনো অলৌকিক চরিত্র নন। যুগ যুগ ধরে বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মনের গভীরে যে অকৃত্রিম প্রেম, ভক্তি, আবেগ এবং দয়া লুকিয়ে ছিল, তারই এক ঘনীভূত ও শরীরী রূপ হলেন শ্রীচৈতন্যদেব। কবির মতে, সমগ্র বাঙালি জাতির হৃদয় বা ভক্তিকে মন্থন করেই যেন নিমাই তাঁর এই অমৃতময় সত্তা লাভ করেছেন এবং সেই ভক্তিরসের বন্যায় গোটা জগতকে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
  2. প্রশ্ন: ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালির সমন্বয়বাদী চিন্তাধারা ও মহামিলনের দর্শনটি কীভাবে ফুটে উঠেছে?
    উত্তর: বাঙালি জাতি চিরকালই বিভেদের বদলে সমন্বয় বা ঐক্যে বিশ্বাস করে। কবি এখানে ‘নব্য রসায়ন’-এর উদাহরণ টেনে বুঝিয়েছেন যে, বাঙালি সম্পূর্ণ বিপরীত বা বিষম ধাতুর মধ্যে যেমন রাসায়নিক মিলন ঘটাতে পারে, তেমনি সমাজেও মহামিলন আনতে পারে। ‘ব্যাঘ্র ও বৃষভের সমন্বয়’ অর্থাৎ বাঘের মতো হিংস্রতা এবং গরুর (বৃষভ) মতো নিরীহ শক্তির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাঙালি বিশ্বে এক অহিংস ও আদর্শ সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখে। শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেমের ধর্ম হোক বা বাউলদের গান— বাঙালি চিরকালই জগতবাসীকে এক হওয়ার মহামন্ত্রে দীক্ষিত করেছে।
  3. প্রশ্ন: “তাপের প্রভাবে বাঙালি সাধক জড়ের পেয়েছে সাড়া” — পংক্তিটির ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
    উত্তর: এই পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বিশ্ববরেণ্য বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। গভীর তপস্যা বা একনিষ্ঠ গবেষণার মাধ্যমে জগদীশচন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন যে, আপাতদৃষ্টিতে প্রাণহীন বা জড় পদার্থ বলে মনে হলেও, উদ্ভিদের মধ্যেও মানুষের মতোই প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। তাপ, আলো বা বাইরের আঘাতের ফলে গাছপালারাও যে সাড়া দেয় বা অনুভূতি প্রকাশ করে— একজন বাঙালি বিজ্ঞানসাধকের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার বিশ্বমঞ্চে বিজ্ঞান গবেষণায় বাঙালির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
  4. প্রশ্ন: “জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে বাঙালি দীপঙ্কর।” — পংক্তিটির মাধ্যমে কোন্ ঐতিহাসিক সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে?
    উত্তর: উদ্ধৃত পংক্তিটিতে প্রাচীন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের অসামান্য অবদানের কথা বলা হয়েছে। পাল যুগে বিক্রমশীলা মহাবিহারের অধ্যক্ষ অতীশ দীপঙ্কর বৃদ্ধ বয়সেও ধর্মপ্রচারের তাগিদে হিমালয়ের বরফে ঢাকা অত্যন্ত দুর্গম পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে তিব্বতে পৌঁছেছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি কেবল মহাযান বৌদ্ধধর্মই প্রচার করেননি, বরং জ্ঞানবিতরণ এবং বহু গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে তিব্বতি সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। বিদেশের মাটিতে বাঙালির এই মেধা ও জ্ঞান বিস্তারের গৌরবময় ইতিহাসকেই কবি এখানে সগর্বে স্মরণ করেছেন।
  5. প্রশ্ন: “মুক্তবেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে” / “আমরা বাঙালি বাস করি সেই তীর্থে—বরদ” — বঙ্গদেশকে কেন বাঞ্ছিত বা পুণ্য তীর্থভূমি বলা হয়েছে?
    উত্তর: আমাদের এই মাতৃভূমিকে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এক পরম পবিত্র ও আকাঙ্ক্ষিত স্থান বা ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর প্রধান কারণ হলো, এই দেশের বুকের ওপর দিয়েই বয়ে চলেছে পুণ্যতোয়া গঙ্গা নদী। গঙ্গা অন্য কোনো নদীতে হারিয়ে না গিয়ে বাধাহীনভাবে (মুক্তবেণী) সোজা বঙ্গোপসাগরে মিশেছে এবং হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষের পাপ মোচন করে আনন্দভরে মুক্তির সুধা বিতরণ করেছে। এছাড়া, অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শত শত সাধক ও মহাপুরুষের জন্মস্থান হওয়ায় এই বঙ্গভূমি সাধারণ কোনো দেশ নয়, বরং বরদানকারী পুণ্য তীর্থে পরিণত হয়েছে।

আমরা কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali Amra 5 Marks Important Question Answer

  1. প্রশ্ন: ‘আমরা’ কবিতা অবলম্বনে প্রাচীন ও মধ্যযুগে বাঙালির অসীম শৌর্য এবং সামরিক বীরত্বের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
    উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতাটি শুধু কোনো সাধারণ দেশপ্রেমের কবিতা নয়, এটি হলো বাঙালির হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের এক অমোঘ মন্ত্র। এই কবিতায় কবি ইতিহাসের পাতা থেকে বাঙালির সেই বীরত্বগাথা তুলে ধরেছেন, যা প্রমাণ করে যে বাঙালি শুধু কলম ধরতে জানে না, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতেও জানে।
    কবির বর্ণনা অনুযায়ী, বাঙালির বীরত্ব ছিল বহুমুখী। প্রাচীন মহাকাব্যিক যুগে দশাননজয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহের (রঘু) শক্তিশালী সেনার সঙ্গে বাঙালির সেনারা ‘চতুরঙ্গ’ (হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক) সাজে সমানতালে পাল্লা দিয়ে যুদ্ধ করেছিল। বাঙালির এই অসীম বিক্রম কেবল দেশের মাটিতে আটকে থাকেনি। বাংলার অকুতোভয় বীর সন্তান বিজয় সিংহ সমুদ্র পেরিয়ে সুদূর লঙ্কা জয় করেছিলেন এবং সেখানে নিজের শৌর্য ও বিজয়ের প্রতীক হিসেবে সেই দ্বীপের নাম রেখেছিলেন ‘সিংহল’।
    মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসও বীরত্বে ভরা। প্রবল পরাক্রমশালী মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপাদিত্য এবং চাঁদরায় এমনভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন যে, স্বয়ং দিল্লির সুলতানকেও পিছু হটতে হয়েছিল। এছাড়া একহাতে দুর্ধর্ষ মগ বা জলদস্যুদের রুখে দেওয়া এবং অন্যহাতে মুঘলদের আক্রমণ প্রতিহত করার ইতিহাস প্রমাণ করে যে, বাঙালি জাতি কখনোই ভীরু ছিল না। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মাঝে বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা এই বাঙালি জাতি চিরকালই লড়াইয়ের শক্তিতে বলীয়ান।
  2. প্রশ্ন: জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন এবং শিল্প-স্থাপত্যে বাঙালির শ্রেষ্ঠত্বের যে চিত্র ‘আমরা’ কবিতায় ফুটে উঠেছে, তা বিস্তারিতভাবে লেখো।
    উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতায় যুদ্ধজয়ের পাশাপাশি বাঙালির মেধা, মনন এবং সৃজনশীলতার এক বিশাল দিক উন্মোচিত হয়েছে। বাঙালির এই সৃজনশীলতা কেবল ভারতের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব মানচিত্রেও এক গৌরবের আসন দখল করে আছে।
  • জ্ঞান ও দর্শন: জ্ঞানের ক্ষেত্রে বাঙালি প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। কবি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আমরা সেই ‘আদি বিদ্বান’ কপিল মুনির বংশধর, যাঁর রচিত ‘সাংখ্য দর্শন’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক সম্পদ। এছাড়া বাংলার বীর সন্তান অতীশ দীপঙ্কর দুর্গম তুষারাবৃত গিরিপথ পেরিয়ে তিব্বতে গিয়ে জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন এবং বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
  • শিল্প ও স্থাপত্য: শিল্প ও স্থাপত্যকলায় বাঙালির জয়কেতন বিদেশের মাটিতেও সগর্বে উড়ছে। সুদূর যবদ্বীপের বিখ্যাত ‘বরোবুদুর’ মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন বা শ্যাম-কম্বোজের ‘ওঙ্কার-ধাম’-এর নকশায় বাঙালির সুনিপুণ হাতের ছোঁয়া রয়েছে। পাল যুগে ধীমান ও বিটপালের মতো মহান ভাস্কররা নিছক পাথরের মূর্তিতে যেন জীবন্ত প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অন্যদিকে বাংলার পটুয়াদের অমর তুলির ছোঁয়ায় আঁকা অজন্তার গুহাচিত্র আজ সারা বিশ্বের বিস্ময়।
  • বিজ্ঞান ও সাহিত্য: কবি জয়দেবের ‘কান্ত কোমল পদাবলী’ সংস্কৃত সাহিত্যকে এক নতুন মাধুর্য দান করেছে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু প্রমাণ করেছিলেন যে জড় পদার্থ বা গাছেরও প্রাণ আছে। আর আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ভিন্ন ধাতুর মিলন ঘটিয়ে রসায়ন শাস্ত্রে বাঙালির মেধার জয়গান গেয়েছেন।
  1. প্রশ্ন: “বাঙালি জাতির সমন্বয়বাদী চেতনা ও অধ্যাত্মবোধ”— বিষয়টি ‘আমরা’ কবিতায় কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তা বুঝিয়ে দাও।
    উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাঙালির যে পরিচয় এই কবিতায় দিয়েছেন, তার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে ‘সমন্বয়’ এবং ‘প্রেম’। বাঙালি জাতি চিরকালই সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জগতকে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব এবং মহামিলনের শিক্ষা দিতে চেয়েছে।
    বাঙালির এই গভীর অধ্যাত্মবোধের মূলে রয়েছেন শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই। যুগের পর যুগ ধরে বাঙালির মনে জমে থাকা প্রেমের আবেগ বা ভক্তিকে মন্থন করেই যেন তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি জাতি-ভেদ, ছুঁতমার্গ ভুলে সমাজের অবহেলিত মানুষ থেকে শুরু করে চণ্ডালকেও পরম স্নেহে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। আবার বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর শিকাগো বক্তৃতায় হিন্দুধর্মের শাশ্বত সত্য প্রচার করে জগতকে অবাক করে দিয়েছিলেন।
    বাঙালি কেবল ভক্তি বা ধর্মে আটকে থাকেনি, সে বিজ্ঞানের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার এক অভূতপূর্ব মিলন ঘটাতে চেয়েছে। কবির ভাষায়, বাঙালির এই ‘নব্য রসায়ন’ হলো সমাজের সমস্ত বিষম বা বিপরীত ধর্মী বিষয়কে এক সুতোয় গাঁথা। বাঙালি যেমন কীর্তন বা বাউল গানে ঈশ্বরের খোঁজ করে, তেমনি শ্মশানের বুকে পঞ্চবটী রোপণ করে সাধনাও করে। হিংস্রতা ও অহংকারকে সরিয়ে দিয়ে বাঘ (ব্যাঘ্র) ও গরুর (বৃষভ) মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে এক অহিংস ও সুন্দর পৃথিবী রচনাই হলো বাঙালির মূল লক্ষ্য।
  2. প্রশ্ন: “বিফল নহে এ বাঙালি জনম বিফল নহে এ প্রাণ”— কবির এই অবিচল আত্মবিশ্বাসের কারণ কী? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: আলোচ্য উক্তিটির মাধ্যমে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের গভীর আত্মবিশ্বাস, স্বাজাত্যবোধ এবং নিজের জাতির প্রতি অপরিসীম মমতার প্রকাশ ঘটেছে। কবির মতে, বাঙালির অতীত কোনো সাধারণ ইতিহাস নয়, বরং তা হলো এক অনন্ত গৌরবগাথা।
    কবির এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে বাঙালির ফেলে আসা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস। বাঙালির জন্ম বিফল হতে পারে না কারণ, এই জাতি তার মেধার জোরে কপিল মুনির মতো দার্শনিক এবং অতীশ দীপঙ্করের মতো জ্ঞান-প্রদীপ জ্বালানো মনীষী বিশ্বকে উপহার দিয়েছে। বাঙালির জীবন বৃথা নয় কারণ, তার রক্তে মিশে রয়েছে বিজয় সিংহের লঙ্কা জয় বা প্রতাপাদিত্যের মতো বীরের দিল্লির সুলতানকে প্রতিহত করার ইতিহাস। বাঙালির সৃজনশীলতা যে বিফল নয়, তা ধীমান-বিটপাল থেকে শুরু করে বরোবুদুরের স্থপতিরা প্রমাণ করে গেছেন। শ্রীচৈতন্যদেবের বিশ্বজনীন প্রেম থেকে বিবেকানন্দের বজ্রকণ্ঠ বা জগদীশচন্দ্রের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার— এই সবকিছুই প্রমাণ করে বাঙালির হৃদয়ের ও মেধার বিশালতা। কবি বিশ্বাস করেন, অতীত ও বর্তমানের এই বিশাল সঞ্চয় কখনও বৃথা যেতে পারে না। এই মহান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী বাঙালিরা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে সারা বিশ্বের মানুষের কল্যাণে আরও বড়ো কিছু করে দেখাবে।
  3. প্রশ্ন: ‘আমরা’ কবিতায় কবি বঙ্গভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে অপরূপ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
    উত্তর: ‘আমরা’ কবিতার একেবারে শুরুতেই কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের জন্মভূমি বাংলার এক মায়াবী, পবিত্র এবং মাতৃরূপী বর্ণনা দিয়েছেন। কবির চোখে বঙ্গভূমি কেবল একটি ভৌগোলিক সীমায় আবদ্ধ কোনো ভূখণ্ড নয়, এটি হলো এক ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ বা পুণ্য তীর্থস্থান।
    যে বাংলার বুকের ওপর দিয়ে পুণ্যতোয়া গঙ্গার স্রোত বাধাহীনভাবে বা ‘মুক্তবেণী’ হয়ে বয়ে গিয়ে মানুষের পাপ মোচন করে মুক্তি বিতরণ করে, সেই পবিত্র দেশেই আমাদের বাস। বাংলার প্রকৃতিকে কবি এক দেবীমূর্তি বা মায়ের মতো কল্পনা করেছেন। মায়ের বাম হাতে রয়েছে ধনসম্পদের প্রতীক কমলার বা লক্ষ্মীর ফুল এবং ডান হাতে রয়েছে শিল্পের প্রতীক মধুক-মালা। বাংলার উত্তরে থাকা বরফে ঢাকা হিমালয় পর্বতমালা যেন সূর্যের আলো পড়ে মায়ের মাথায় সোনার বা কাঞ্চনের মুকুটের মতো ঝলমল করে ওঠে। দিগন্ত বিস্তৃত সোনালি ধানের খেত হলো বাংলা মায়ের কোলভরা সোনার ফসল। মায়ের দেহ সেজে উঠেছে অতসী আর অপরাজিতা ফুলের অপরূপ বর্ণে। আর বাংলার দক্ষিণে থাকা বঙ্গোপসাগর তার অজস্র ঢেউয়ের কলতানে প্রতিনিয়ত মায়ের পা ধুইয়ে দিয়ে তাঁর বন্দনাগীতি গেয়ে চলেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সম্পদের এই অপূর্ব সমাহারের জন্যই বঙ্গভূমি সত্যই এক ‘বাঞ্ছিত ভূমি’।

নবম শ্রেণির বাংলা ‘আমরা’ কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর PDF Notes Free Download | Class 9 Bengali Amra Kobita Question Answer WBBSE

আমরা কবিতার PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Chapter আমরা কবিতা
Contents MCQ, SAQ, ২ ও ৩ নম্বর এবং বড়ো প্রশ্ন-উত্তর
PDF Notes Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment