আজকে তোমাদের জন্য আবারও একটা অধ্যায় নিয়ে হাজির হয়েছি, যার নাম ‘চিঠি’, লেখক স্বামী বিবেকানন্দ। স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই তাঁর পরিচিতি বা প্রবন্ধের সারাংশ নিয়ে আলোচনা না করে আমরা সরাসরি প্রশ্ন-উত্তরে চলে যাচ্ছি।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | চিঠি |
| লেখক | স্বামী বিবেকানন্দ |
| পত্রপ্রাপক | কুমারী মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল (ভগিনী নিবেদিতা) |
| রচনার স্থান ও তারিখ | আলমোড়া, ২৯ জুলাই, ১৮৯৭ |
এখানে তোমরা ‘চিঠি’ প্রবন্ধের পরীক্ষায় আসতে পারে এমন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যাবে। MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের প্রশ্নোত্তর—সবকিছুই কভার করার চেষ্টা করেছি, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।
আর তোমরা যারা আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও দেখোনি, তারা সেগুলোও একবার দেখে নাও। আগের অধ্যায়গুলোর লিঙ্ক নিচে দেওয়া আছে।
- এলো বৃষ্টি ঝেঁপে
- আমার গান
- ইলিয়াস
- দাম
- নব নব সৃষ্টি
- হিমালয় দর্শন
- নোঙর
- খেয়া
- আকাশে সাতটি তারা
- আবহমান
- ভাঙার গান
আর তোমাদের সুবিধার জন্য ‘চিঠি’ প্রবন্ধের সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে একটি PDF নোট তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link থেকে তোমরা খুব সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।
তাহলে আর বেশি কথা না বাড়িয়ে, চলো শুরু করা যাক ‘চিঠি’ প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর।
চিঠি পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Chithi MCQ Question Answer
- স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বিখ্যাত ‘চিঠি’ প্রবন্ধের পত্রটি কোথা থেকে লিখেছিলেন?
(A) কলকাতা থেকে
(B) শিকাগো শহর থেকে
(C) আলমোড়া থেকে
(D) দার্জিলিং পাহাড় থেকে
উত্তর: (C) আলমোড়া থেকে - ঐতিহাসিক এই পত্রটি স্বামীজি ঠিক কবে লিখেছিলেন?
(A) ২৯শে জুলাই, ১৮৯৭
(B) ১লা মে, ১৮৯৯
(C) ১৫ই আগস্ট, ১৮৯৭
(D) ৩০শে জুন, ১৮৯৭
উত্তর: (A) ২৯শে জুলাই, ১৮৯৭ - চিঠির শুরুতে উল্লিখিত ‘কল্যাণীয়া মিস নোবল’-এর আসল বা সম্পূর্ণ নাম কী ছিল?
(A) মিস হেনরিয়েটা মুলার
(B) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল
(C) জোসেফাইন ম্যাকলাউড
(D) সারা বুল
উত্তর: (B) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল - ভারতের পিছিয়ে পড়া নারীসমাজের উন্নতির জন্য স্বামীজি কার মধ্যে একজন ‘সিংহী’-র রূপ দেখেছিলেন?
(A) মহারানি ভিক্টোরিয়ার মধ্যে
(B) মিস নোবলের মধ্যে
(C) মিস মুলারের মধ্যে
(D) মিসেস বুলের মধ্যে
উত্তর: (B) মিস নোবলের মধ্যে - ভারতে কাজ করতে এলে মিস নোবলকে মূলত কাদের মাঝে বা কেমন পরিবেশে থাকতে হবে বলে স্বামীজি জানিয়েছেন?
(A) বন্য পশু-পাখির মাঝে
(B) দেব-দেবীদের উপাসনালয়ে
(C) অর্ধ-উলঙ্গ অসংখ্য গরিব নরনারীর মাঝে
(D) রাজপরিবারের বিলাসবহুল পরিবেশে
উত্তর: (C) অর্ধ-উলঙ্গ অসংখ্য গরিব নরনারীর মাঝে - স্বামী বিবেকানন্দের মতে, ভারতবর্ষের আবহাওয়া বা জলবায়ুর প্রকৃতি কেমন?
(A) নাতিশীতোষ্ণ
(B) অত্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ
(C) অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান (প্রচণ্ড গরম)
(D) অতিশয় শীতল
উত্তর: (C) অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান - ভারতের ঠিক কোন অঞ্চলে সারা বছরই যেন আগুনের হলকা বা লু বইতে থাকে?
(A) পূর্ব ভারতে
(B) উত্তর ভারতে
(C) দক্ষিণাঞ্চলে
(D) পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর: (C) দক্ষিণাঞ্চলে - ‘মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত’— এই প্রবাদটির সাহায্যে স্বামীজি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(A) হাতির দাঁত খুব দামি বস্তু
(B) সত্যিকারের পুরুষ বীর হয়
(C) খাঁটি লোকের কথার কোনো নড়চড় হয় না
(D) হাতির দাঁত বাইরে থেকে দেখা যায় না
উত্তর: (C) খাঁটি লোকের কথার কোনো নড়চড় হয় না - ভারতবর্ষে এসে কার ছত্রচ্ছায়ায় বা পক্ষপুটে আশ্রয় নিতে স্বামীজি মিস নোবলকে কঠোরভাবে বারণ করেছিলেন?
(A) মিঃ স্টার্ডির
(B) মিস মুলারের
(C) সেভিয়ার দম্পতির
(D) মিসেস বুলের
উত্তর: (B) মিস মুলারের - শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয়দের মধ্যে কারা এদেশের সাধারণ মানুষদের একটুও ঘৃণা করতেন না?
(A) মিঃ স্টার্ডি
(B) মিস মুলার
(C) সেভিয়ার দম্পতি
(D) মিস ম্যাকলাউড
উত্তর: (C) সেভিয়ার দম্পতি - স্বামীজি ভালোবেসে মিসেস সেভিয়ারকে চিঠিতে কী উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
(A) বীর কন্যা
(B) মহানুভব নারী
(C) নারীকুলের রত্নবিশেষ
(D) দয়ার সাগর
উত্তর: (C) নারীকুলের রত্নবিশেষ - ‘চিঠি’ পাঠ্যাংশে উল্লিখিত মিঃ স্টার্ডি আসলে কে ছিলেন?
(A) পেশায় একজন ডাক্তার
(B) একজন নামকরা কবি
(C) স্বামীজির একান্ত অনুগত ইংরেজ ভক্ত
(D) ব্রিটিশ ব্যবসায়ী
উত্তর: (C) স্বামীজির একান্ত অনুগত ইংরেজ ভক্ত - মিস ম্যাকলাউড এবং মিসেস বুল ঠিক কোন্ ঋতুতে ভারতবর্ষে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন?
(A) গ্রীষ্মকালে
(B) শীতকালে
(C) শরৎকালে
(D) বর্ষাকালে
উত্তর: (C) শরৎকালে - লেখায় মিসেস বুলের বয়স আনুমানিক কত বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
(A) চল্লিশ বছর
(B) প্রায় পঞ্চাশ বছর
(C) ষাট বছর
(D) পঁচাত্তর বছর
উত্তর: (B) প্রায় পঞ্চাশ বছর - কার পাঠানো চিঠি পড়ে স্বামী বিবেকানন্দের কাছে তা একেবারে ‘শুষ্ক ও প্রাণহীন’ বলে মনে হয়েছিল?
(A) মিস নোবলের চিঠি
(B) মিঃ স্টার্ডির চিঠি
(C) মিস মুলারের চিঠি
(D) ক্যাপ্টেন সেভিয়ারের চিঠি
উত্তর: (B) মিঃ স্টার্ডির চিঠি - স্বামীজির অন্যতম অন্তরঙ্গ বা প্রিয় বন্ধু কে ছিলেন?
(A) মিঃ স্টার্ডি
(B) জোসেফাইন ম্যাকলাউড
(C) ক্যাপ্টেন সেভিয়ার
(D) মিস মুলার
উত্তর: (B) জোসেফাইন ম্যাকলাউড - লন্ডনে বেদান্ত প্রচারের কাজ কিছুটা থমকে যাওয়ায় মিঃ স্টার্ডির মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিল?
(A) তিনি খুব আনন্দিত ছিলেন
(B) তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন
(C) তিনি চরম হতাশ হয়ে পড়েছিলেন
(D) তিনি বেশ বিচলিত ছিলেন
উত্তর: (C) তিনি চরম হতাশ হয়ে পড়েছিলেন - ভগিনী নিবেদিতা (মার্গারেট নোবল) ভারতবর্ষে নারীশিক্ষার প্রসারে কোন আদর্শটি বেছে নিয়েছিলেন?
(A) গ্রিক ভাবধারা
(B) ভারতীয় আদর্শে স্ত্রীশিক্ষা
(C) পাশ্চাত্য বিলাসিতা ও আদবকায়দা
(D) শিল্প বিপ্লবের চিন্তাধারা
উত্তর: (B) ভারতীয় আদর্শে স্ত্রীশিক্ষা - নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে নিবেদিতা যে বালিকা বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন, সেটি কলকাতার কোথায় অবস্থিত?
(A) বেলুড়ে
(B) হাওড়ায়
(C) বাগবাজারে
(D) শ্রীরামপুরে
উত্তর: (C) বাগবাজারে - মিঃ স্টার্ডি স্বামী বিবেকানন্দকে মূলত কোন্ দেশে বেদান্ত প্রচারে সবথেকে বেশি সাহায্য করেছিলেন?
(A) আমেরিকায়
(B) জার্মানিতে
(C) ইংল্যান্ডে
(D) ফ্রান্সে
উত্তর: (C) ইংল্যান্ডে - স্বামীজির মতে, মিস নোবলের শিরায় বা ধমনিতে কোন রক্তের প্রবাহ রয়েছে?
(A) পবিত্র ভারতীয় রক্ত
(B) বিশুদ্ধ জার্মান রক্ত
(C) কেল্টিক রক্ত
(D) আর্য রক্ত
উত্তর: (C) কেল্টিক রক্ত - মিস নোবল যদি তাঁর কাজে সফল না-ও হন, তবুও তাঁর পাশে আজীবন কে দাঁড়িয়ে থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?
(A) মিঃ স্টার্ডি
(B) ভারতীয় সমাজ
(C) স্বামী বিবেকানন্দ নিজে
(D) ব্রিটিশ সরকার
উত্তর: (C) স্বামী বিবেকানন্দ নিজে - স্বামীজির বর্ণনা অনুযায়ী, মিস মুলারের মনের মধ্যে ছেলেবেলা থেকেই কোন অদ্ভুত ধারণা গেঁথে ছিল?
(A) তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী নারী
(B) তিনি একজন দরিদ্র সহায়সম্বলহীন মানুষ
(C) তিনি একজন আজন্ম নেত্রী
(D) তিনি আজীবন সন্ন্যাসিনী থাকবেন
উত্তর: (C) তিনি একজন আজন্ম নেত্রী - হিমালয়ের কোলে ‘মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম’ কে বা কারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
(A) রামেশ্বরমে মিস মুলার
(B) মায়াবতীতে সেভিয়ার দম্পতি
(C) হৃষীকেশে মিঃ স্টার্ডি
(D) বারাণসীতে মিস ম্যাকলাউড
উত্তর: (B) মায়াবতীতে সেভিয়ার দম্পতি - স্বামীজি স্নেহ করে মিস ম্যাকলাউডকে চিঠিতে কী নামে ডাকতেন?
(A) মেরি
(B) মা
(C) জো (Joe)
(D) দিদি
উত্তর: (C) জো (Joe) - স্বামীজির বন্ধু মিসেস বুল আদতে কোথাকার বাসিন্দা ছিলেন?
(A) লন্ডনের
(B) প্যারিসের
(C) বস্টনের (আমেরিকা)
(D) নরওয়ের
উত্তর: (C) বস্টনের (আমেরিকা) - “তোমাকে সরাসরি লেখা ভালো”— স্বামীজির হঠাৎ এমনটা মনে হওয়ার মূল কারণ কী ছিল?
(A) মিঃ স্টার্ডির আচরণে বিরক্ত হয়ে
(B) মিস মুলারের চিঠি পড়ে
(C) মিস ম্যাকলাউডের চিঠি থেকে নিবেদিতার কর্মপ্রণালী জানতে পেরে
(D) উপরের কোনোটিই নয়
উত্তর: (C) মিস ম্যাকলাউডের চিঠি থেকে নিবেদিতার কর্মপ্রণালী জানতে পেরে - মার্গারেট নোবল বা ভগিনী নিবেদিতার লেখা একটি বিখ্যাত ইংরেজি বইয়ের নাম কী?
(A) জাগো ভারত
(B) Web of Indian Life
(C) ধর্মতত্ত্ব
(D) গীতা রহস্য
উত্তর: (B) Web of Indian Life - “ভয়েই হোক বা ঘৃণাতেই হোক”— ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষেরা কাদের সবথেকে বেশি এড়িয়ে চলত?
(A) রাজপরিবারের লোকেদের
(B) দেশীয় জমিদারদের
(C) শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয়দের
(D) ধনী ব্যবসায়ীদের
উত্তর: (C) শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয়দের - রামকৃষ্ণ সংঘের সকলের কাছে কে ‘মাদার’ (Mother) নামে পরিচিত ছিলেন?
(A) মিস ম্যাকলাউড
(B) ভগিনী নিবেদিতা
(C) মাদার টেরেসা
(D) মিসেস সেভিয়ার
উত্তর: (D) মিসেস সেভিয়ার - “সেই পারি ফ্যাশনের পোশাক পরিহিতা মহিলাটি”— বলতে চিঠিতে কার কথা বোঝানো হয়েছে?
(A) মিসেস সেভিয়ার
(B) মিসেস বুল
(C) মার্গারেট নোবল
(D) মিস ম্যাকলাউড
উত্তর: (D) মিস ম্যাকলাউড - স্বামীজি চিঠিতে যে উল্লেখ করেছেন ‘একখানা চিঠি কাল পেয়েছি’— সেই চিঠিটি কার লেখা ছিল?
(A) ভগিনী নিবেদিতার
(B) মিঃ স্টার্ডির
(C) মিস ম্যাকলাউডের
(D) রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের
উত্তর: (B) মিঃ স্টার্ডির - স্বামীজি মিস নোবলকে ভারতবর্ষে শতবার স্বাগত জানিয়েছেন মূলত কী কারণে?
(A) এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য
(B) নিজের মহান কর্মে বা সেবাকার্যে প্রবৃত্ত হওয়ার জন্য
(C) ইউরোপে গিয়ে শিক্ষকতা করার জন্য
(D) শুধুমাত্র ভ্রমণের উদ্দেশ্যে
উত্তর: (B) নিজের মহান কর্মে বা সেবাকার্যে প্রবৃত্ত হওয়ার জন্য - ‘The Master as I saw him’ — স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা এই অমূল্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
(A) স্বামী বিবেকানন্দ নিজে
(B) জোসেফাইন ম্যাকলাউড
(C) সারা বুল
(D) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল (ভগিনী নিবেদিতা)
উত্তর: (D) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল - নারীশিক্ষার প্রসারে নিবেদিতা কলকাতায় যে স্কুলটি গড়ে তোলেন তার নাম কী রাখা হয়েছিল?
(A) নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়
(B) বাগবাজার গার্লস হাই স্কুল
(C) ভগিনী নিবেদিতা মেমোরিয়াল স্কুল
(D) বাগবাজার মাল্টিপারপাস স্কুল
উত্তর: (A) নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
- প্রশ্ন: স্বামী বিবেকানন্দ কেন হঠাৎ মিস নোবলকে সরাসরি চিঠি লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি তাঁর প্রিয় বন্ধু মিস ম্যাকলাউডের চিঠি থেকে মিস নোবলের ভবিষ্যৎ কর্মপ্রণালী সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপরই তিনি নিজে থেকে মিস নোবলকে সরাসরি চিঠি লেখাটা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের নারীসমাজের সার্বিক উন্নতির জন্য স্বামীজির কেন মিস নোবলের মতো কাউকেই প্রয়োজন বলে মনে হয়েছিল?
উত্তর: এদেশের অশিক্ষিত ও পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে জাগিয়ে তুলতে মিস নোবলের মতো সুশিক্ষিতা, অসীম পবিত্রতাসম্পন্ন এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন একজন প্রকৃত সিংহীর একান্ত প্রয়োজন ছিল বলেই স্বামীজি এমনটা ভেবেছিলেন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষে এসে কাজ শুরু করতে গেলে মিস নোবলকে মূলত কোন ধরনের সামাজিক অসুবিধার মুখোমুখি হতে হবে?
উত্তর: স্বামীজির মতে, এদেশে এসে কাজ করতে গেলে অসংখ্য গরিব, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং জাতিভেদ ও ছুঁতমার্গ নিয়ে অন্ধ বিশ্বাসে থাকা মানুষদের নিয়ে কাজ করাই হবে মিস নোবলের প্রধান সামাজিক বাধা। - প্রশ্ন: শ্বেতাঙ্গ বা ইউরোপীয়দের প্রতি সাধারণ ভারতীয়দের মনোভাব ঠিক কেমন ছিল?
উত্তর: সাধারণ ভারতীয়রা শ্বেতাঙ্গদের চরম ঘৃণা করত এবং একইসঙ্গে ভীষণ ভয়ও পেত। ফলে তারা সর্বদা ইউরোপীয়দের এড়িয়ে চলত এবং সন্দেহের চোখে দেখত। - প্রশ্ন: “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”— এই হিন্দি প্রবাদটি স্বামীজি চিঠিতে ঠিক কোন প্রসঙ্গে ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: মিস নোবল যদি ভারতের নারীকল্যাণের কাজে এসে কখনো ব্যর্থ হন বা বিরক্তি বোধ করেন, তবুও স্বামীজি তাঁর দেওয়া কথা অনুযায়ী আমরণ মিস নোবলের পাশে থাকবেন— নিজের এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বোঝাতেই তিনি প্রবাদটি ব্যবহার করেছেন। - প্রশ্ন: মিস মুলারের চরিত্রের কোন দিকগুলো স্বামী বিবেকানন্দের একদমই অপছন্দ ছিল?
উত্তর: মিস মুলারের ভীষণ রুক্ষ মেজাজ, দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলানো বা অস্থিরচিত্ততা এবং নিজেকে ছোটবেলা থেকেই জন্মগত নেত্রী ভাবার অহংকারী মানসিকতা স্বামীজির একেবারেই পছন্দ ছিল না। - প্রশ্ন: স্বামীজির মতে, মিস মুলার এবং মিস নোবলের একসাথে বসবাস করা বা কাজ করা কেন অসম্ভব?
উত্তর: মিস মুলার স্বভাবগতভাবেই খুব অস্থির প্রকৃতির ছিলেন এবং তিনি টাকার জোরে অন্যের ওপর কর্তৃত্ব বা আধিপত্য ফলাতে ভালোবাসতেন। এমন মানসিকতার মানুষের সঙ্গে মিস নোবলের মতো ব্যক্তিত্বের মানিয়ে চলা অসম্ভব বলে স্বামীজি মনে করেছিলেন। - প্রশ্ন: সেভিয়ার দম্পতির মধ্যে স্বামীজি কখনো ‘মুরুব্বিয়ানা’ বা অহংকারী ভাব দেখেননি কেন?
উত্তর: সেভিয়ার দম্পতি অন্যান্য শ্বেতাঙ্গদের মতো ভারতীয় বা হিন্দুদের একটুও ঘৃণা করতেন না। তাঁদের স্বভাব ছিল অত্যন্ত নম্র ও অমায়িক। তাঁরা এদেশে কারোর ওপর প্রভুত্ব ফলাতে আসেননি বলেই তাঁদের মধ্যে কোনো মুরুব্বিয়ানা ভাব ছিল না। - প্রশ্ন: চিঠিতে মিস ম্যাকলাউডের সাজপোশাকের কেমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: চিঠিতে মিস ম্যাকলাউডকে অত্যন্ত স্টাইলিশ বা ফ্যাশনেবল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সর্বদা আধুনিক ‘পারি-ফ্যাশনের’ (প্যারিসের ফ্যাশন) পোশাক পরে থাকতেন। - প্রশ্ন: ইংল্যান্ডে থাকা মিঃ স্টার্ডির চিঠিটিকে স্বামীজি কেন ‘শুষ্ক ও প্রাণহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: লন্ডনে বেদান্ত প্রচারের কাজ মনের মতো না হওয়ায় মিঃ স্টার্ডি সম্ভবত ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর সেই গভীর হতাশা ও নিরাশার সুরই চিঠির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছিল বলে স্বামীজি সেটিকে প্রাণহীন বলেছেন। - প্রশ্ন: চিঠিতে মিসেস বুল সম্পর্কে স্বামীজি কী কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন?
উত্তর: স্বামীজি জানিয়েছেন যে মিসেস বুলের বয়স প্রায় পঞ্চাশ বছর এবং তিনি আমেরিকায় অবস্থানকালে স্বামীজির অন্যতম বড়ো শুভাকাঙ্ক্ষী ও উপকারী বন্ধু ছিলেন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার জন্য স্বামীজি মিস নোবলকে কার ওপর ভরসা করতে বলেছেন?
উত্তর: স্বামীজি মিস নোবলকে অন্য কারোর মুখাপেক্ষী না হয়ে সম্পূর্ণ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং নিজের বুদ্ধিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। - প্রশ্ন: মিস নোবলের ধমনিতে ‘কেল্টিক রক্ত’ প্রবাহিত হওয়ার কথা বলে স্বামীজি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কেল্টিক জাতির মানুষেরা স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত তেজস্বী, সাহসী এবং কখনো হার না মানা মানসিকতার অধিকারী হন। মিস নোবলের শরীরেও সেই রক্ত থাকায় তিনিও সব বাধা পেরিয়ে সফল হবেন— এটাই স্বামীজির বিশ্বাস ছিল। - প্রশ্ন: আলমোড়া থেকে লেখা এই চিঠিতে স্বামীজি মিস নোবলকে সবচেয়ে বড়ো কী আশ্বাস দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তিনি ভারতের কাজে সফল হোন বা ব্যর্থ হোন, স্বামীজি একজন প্রকৃত বন্ধুর মতো আমরণ তাঁর পাশে ছায়ার মতো থাকবেন। - প্রশ্ন: ‘চিঠি’ পাঠ্যাংশে উল্লিখিত ‘মিঃ স্টার্ডি’ আসলে কে ছিলেন?
উত্তর: মিঃ স্টার্ডি (E.T. Sturdy) ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের একজন অত্যন্ত একনিষ্ঠ ইংরেজ ভক্ত ও শিষ্য, যিনি ইংল্যান্ডে স্বামীজির বেদান্ত প্রচারের কাজে প্রভূত সাহায্য করেছিলেন। - প্রশ্ন: মিসেস বুল আসলে কোথাকার বাসিন্দা ছিলেন?
উত্তর: মিসেস বুল মূলত আমেরিকার বস্টন শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। - প্রশ্ন: “আমার পরামর্শ এই যে” — স্বামীজি মিস নোবলকে ঠিক কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, মিস নোবল যেন একা না এসে মিস ম্যাকলাউড এবং মিসেস বুলের সাথে একসাথে ভারতবর্ষে আসেন। - প্রশ্ন: মিস নোবল স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্যে প্রথম কোথায় এসেছিলেন?
উত্তর: মিস নোবল প্রথম ইংল্যান্ডে স্বামী বিবেকানন্দের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। - প্রশ্ন: মিস নোবল বা ভগিনী নিবেদিতার লেখা একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ইংরেজি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: ভগিনী নিবেদিতার লেখা একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই হলো ‘The Master as I saw him’ (স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়াছি)। - প্রশ্ন: মিস ম্যাকলাউডের পুরো নাম কী ছিল এবং স্বামীজি তাঁকে কী নামে ডাকতেন?
উত্তর: মিস ম্যাকলাউডের সম্পূর্ণ নাম ছিল মিস জোসেফাইন ম্যাকলাউড। স্বামীজি তাঁকে ভালোবেসে ‘জো’ (Joe) বলে ডাকতেন। - প্রশ্ন: মিসেস সেভিয়ারের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বা অবদান কী ছিল?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে বেদান্ত প্রচারের মহান উদ্দেশ্যে হিমালয়ের কোলে ‘মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মিসেস সেভিয়ারের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। - প্রশ্ন: চিঠিতে উল্লিখিত মিস মুলারের সম্পূর্ণ নাম কী ছিল?
উত্তর: চিঠিতে উল্লিখিত মিস মুলারের সম্পূর্ণ নাম ছিল মিস হেনরিয়েটা মুলার (Miss Henrietta Muller)। - প্রশ্ন: ‘একখানা চিঠি কাল পেয়েছি’— স্বামী বিবেকানন্দ এখানে কার চিঠি পাওয়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ এখানে ইংল্যান্ড থেকে তাঁর ইংরেজ শিষ্য মিঃ ই. টি. স্টার্ডির (E.T. Sturdy) পাঠানো একটি হতাশা ব্যঞ্জক চিঠি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। - প্রশ্ন: ‘কল্যাণীয়া মিস নোবল’ বলে সম্বোধন করে স্বামীজি যাঁকে চিঠিটি লিখেছিলেন, তাঁর সম্পূর্ণ নাম কী?
উত্তর: স্বামীজি যাঁকে কল্যাণীয়া বলে সম্বোধন করেছিলেন, তাঁর সম্পূর্ণ নাম হলো মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল (Margaret Elizabeth Noble), যিনি পরে ভগিনী নিবেদিতা নামে পরিচিত হন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের কোন্ প্রান্ত থেকে স্বামীজি এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি লিখেছিলেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের আলমোড়া নামক পাহাড়ি অঞ্চল থেকে মিস নোবলকে এই চিঠিটি লিখেছিলেন। - প্রশ্ন: “… তা তুমি ধারণা করতে পারবে না।“— মিস নোবলের পক্ষে কোন্ বিষয়টা ধারণা করা অসম্ভব ছিল?
উত্তর: ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের অপরিসীম দুঃখ-কষ্ট, দাসত্বের মানসিকতা, কুসংস্কার এবং জাতিভেদের মতো সামাজিক ব্যাধির তীব্রতা সম্পর্কে মিস নোবল আগে থেকে কোনো ধারণাই করতে পারবেন না বলে স্বামীজি জানিয়েছিলেন। - প্রশ্ন: ‘কর্মে ঝাঁপ দেবার পূর্বে বিশেষ ভাবে চিন্তা কর’– স্বামীজি মিস নোবলকে কী বিষয়ে চিন্তা করতে বলেছিলেন?
উত্তর: ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া সমাজব্যবস্থায় কাজ করার যে ভয়াবহ প্রতিকূল দিকগুলো রয়েছে, বড়ো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বামীজি মিস নোবলকে সেগুলো গভীরভাবে ভেবে দেখতে বলেছিলেন। - প্রশ্ন: “… এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে …”— স্বামীজির মনে কোন্ দৃঢ় বিশ্বাসের জন্ম হয়েছিল?
উত্তর: স্বামীজির মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, ভারতবর্ষের কল্যাণে এবং নারীসমাজের উন্নতিতে মিস নোবলের এক বিশাল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে আছে। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের নারীসমাজের উন্নতির জন্য ঠিক কেমন ধরনের মানুষের প্রয়োজন বলে স্বামীজি মনে করেছিলেন?
উত্তর: স্বামীজির মতে, এদেশের নারীসমাজকে জাগিয়ে তুলতে একজন অসীম তেজস্বিনী, সাহসী এবং পবিত্রতাসম্পন্ন প্রকৃত ‘সিংহী’-র মতো নারীর প্রয়োজন ছিল। - প্রশ্ন: “… তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাঁকে আজ প্রয়োজন।”— মিস নোবলের চরিত্রের কোন্ গুণগুলো দেখে স্বামীজি এমন কথা বলেছিলেন?
উত্তর: মিস নোবলের উচ্চশিক্ষা, কাজের প্রতি অকৃত্রিম ঐকান্তিকতা, হৃদয়ের পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার মতো বিরল গুণাবলি দেখেই স্বামীজি এমন মন্তব্য করেছিলেন। - প্রশ্ন: “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।”— ভারতবর্ষে কাজ করতে গেলে প্রধান বিঘ্ন বা বাধাগুলো কী কী?
উত্তর: ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের সীমাহীন দারিদ্র্য, কুসংস্কার, পরাধীনতার দাসত্ব, কঠোর জাতিভেদ প্রথা এবং অস্পৃশ্যতাই হলো দেশের উন্নতির পথে সবচেয়ে বড়ো বিঘ্ন বা বাধা। - প্রশ্ন: “তিনি আজন্ম নেত্রী!” — কার সম্পর্কে এবং কেন স্বামী বিবেকানন্দ এ কথা বলেছেন?
উত্তর: মিস মুলার সম্পর্কে স্বামীজি এ কথা বলেছিলেন। কারণ, মিস মুলার সবসময় নিজেকে সমাজের একজন জন্মগত নেত্রী বলে মনে করতেন এবং অর্থের জোরে অন্যের ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে চাইতেন। - প্রশ্ন: “তার বর্তমান সংকল্প এই যে” — চিঠিতে মিস মুলারের কোন্ নতুন সংকল্পের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মিস মুলার সংকল্প করেছিলেন যে তিনি কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন, যেখানে তিনি নিজে থাকবেন এবং তাঁর ইউরোপ থেকে আসা বন্ধুরাও সেখানে থাকতে পারবেন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের জলবায়ু বা আবহাওয়া সম্পর্কে স্বামীজি মিস নোবলকে কী সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি জানিয়েছিলেন যে ভারতবর্ষ অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। ইউরোপের গ্রীষ্মকাল হলো ভারতের শীতকাল। আর দক্ষিণ ভারতে তো সবসময় আগুনের হলকা বা লু প্রবাহিত হয়। - প্রশ্ন: স্বামী বিবেকানন্দ মিসেস সেভিয়ারকে কোন্ অভিধায় বা সম্মানে ভূষিত করেছিলেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ মিসেস সেভিয়ারের অমায়িক ও উদার স্বভাবের জন্য তাঁকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ (Jewel of ladies) বলে সম্মান জানিয়েছিলেন। - প্রশ্ন: ‘…তার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।“— স্বামীজির মতে কার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়?
উত্তর: যে মানুষ কারোর ওপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, জীবনে তাঁর সব কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। - প্রশ্ন: “আমেরিকার সংবাদে জানলাম যে…” – আমেরিকার খবর থেকে স্বামীজি কী জানতে পেরেছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি আমেরিকার খবরে জানতে পেরেছিলেন যে তাঁর দুই অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু মিস ম্যাকলাউড এবং মিসেস বুল আসন্ন শরৎকালেই ভারত ভ্রমণে আসছেন। - প্রশ্ন: “.. তবু আমার যেটুকু প্রভাব আছে …”— সেই সামান্য প্রভাবটুকু দিয়ে স্বামীজি কী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
উত্তর: ভারতবর্ষে স্বামীজির যেটুকু প্রভাব বা পরিচিতি রয়েছে, তার সম্পূর্ণটা প্রয়োগ করে তিনি মিস নোবলকে ভারতের নারীসমাজের উন্নতির কাজে সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। - প্রশ্ন: ‘ধীরামাতা’ বলতে স্বামীজি কাকে বোঝাতেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্যা ও অত্যন্ত উপকারী বন্ধু মিসেস সারা বুলকে চিঠিপত্রে সম্মান ও স্নেহের সাথে ‘ধীরামাতা’ বলে সম্বোধন করতেন। - প্রশ্ন: ‘নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়’ ঠিক কী মহান উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের মধ্যে খাঁটি ভারতীয় আদর্শ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে আধুনিক স্ত্রীশিক্ষা প্রচলনের মহান উদ্দেশ্যেই মিস নোবল (ভগিনী নিবেদিতা) এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করেছিলেন।
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের ৩ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Chithi 3 Marks Question Answer
- প্রশ্ন: “ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে”— স্বামী বিবেকানন্দ কেন মিস নোবল সম্পর্কে এমন উজ্জ্বল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি খুব ভালোভাবে জানতেন যে, ভারতবর্ষের পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে জাগিয়ে তুলতে গেলে একজন অসীম সাহসী, পবিত্র এবং প্রকৃত ‘সিংহী’-র মতো নারীর প্রয়োজন। মিস নোবলের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং ইস্পাতের মতো কঠিন চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল। স্বামীজি বুঝেছিলেন, তাঁর এই বিরল গুণাবলিই এদেশের নারীকল্যাণের কাজে তাঁকে এক অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তাই তিনি মিস নোবলের বিরাট ভবিষ্যতের কথা ভেবেছিলেন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষে কাজ করতে এলে মিস নোবলকে প্রাকৃতিক বা জলবায়ুগত দিক থেকে কীরূপ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে বলে স্বামীজি জানিয়েছিলেন?
উত্তর: ইউরোপের মতো ঠান্ডা দেশের বাসিন্দা মিস নোবলকে ভারতের চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার বিষয়ে স্বামীজি আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের জলবায়ু অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান। ইউরোপে যে আবহাওয়াকে গ্রীষ্মকাল বলা হয়, ভারতের শীতকাল ঠিক সেইরকম। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে সারা বছরই যেন আগুনের হলকা বা লু প্রবাহিত হয়। এই অসহ্য গরম মিস নোবলের কাছে একটা বড়ো শারীরিক বাধা হতে পারে বলে স্বামীজি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। - প্রশ্ন: “শ্বেতাঙ্গেরা তোমাকে খামখেয়ালি মনে করবে”— স্বামীজি চিঠিতে মিস নোবলকে উদ্দেশ্য করে কেন এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন?
উত্তর: তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষে শ্বেতাঙ্গ বা ব্রিটিশরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ জাতি এবং শাসক বলে মনে করত। তারা ভারতীয়দের অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখত। এই পরিস্থিতিতে মিস নোবল নিজে একজন শ্বেতাঙ্গী হয়েও যদি ভারতীয়দের ভালোবেসে তাদের উন্নতির কাজে নিজেকে সঁপে দেন, তবে তা ব্রিটিশ সমাজের কাছে অত্যন্ত বেমানান ঠেকবে। সজাতীয়রা তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবাকে পাগলামি বা ‘খামখেয়ালি’ আচরণ বলে মনে করবে— এই ভেবেই স্বামীজি তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। - প্রশ্ন: মিস মুলারের সাথে বসবাস করার বিষয়ে স্বামী বিবেকানন্দ কেন মিস নোবলকে কঠোরভাবে সাবধান করেছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি চিঠিতে মিস মুলারের চরিত্রের কিছু নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছিলেন। মিস মুলারের মেজাজ ছিল অত্যন্ত রুক্ষ এবং তিনি খুব দ্রুত নিজের মত বদলাতেন (অস্থিরচিত্ত)। সবচেয়ে বড়ো কথা, অর্থের অহংকারে তিনি নিজেকে ছোটবেলা থেকেই সমাজের একজন ‘নেত্রী’ বলে মনে করতেন। স্বামীজি জানতেন, এমন আধিপত্যকামী এবং খামখেয়ালি মানুষের সঙ্গে মিস নোবলের মতো আদর্শবাদী নারীর পক্ষে মানিয়ে চলা অসম্ভব। এতে তাঁর কাজের পরিবেশ নষ্ট হবে, তাই তিনি সাবধান করেছিলেন। - প্রশ্ন: “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”— স্বামীজি তাঁর চিঠিতে এই বিখ্যাত হিন্দি প্রবাদটি ঠিক কী বোঝাতে ব্যবহার করেছিলেন?
উত্তর: এই হিন্দি প্রবাদটির আক্ষরিক অর্থ হলো, হাতির দাঁত একবার বাইরে বেরিয়ে এলে তা যেমন আর ভেতরে ঢোকে না, তেমনি খাঁটি পুরুষ মানুষের কথারও কখনো নড়চড় হয় না। ভারতবর্ষের কঠিন পরিবেশে কাজ করতে এসে মিস নোবল যদি কখনো ব্যর্থ হন বা কাজের প্রতি বিরক্তি বোধ করেন, তবুও স্বামীজি তাঁকে একা ছেড়ে দেবেন না। নিজের এই আমরণ পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এবং পুরুষকার বোঝাতেই স্বামীজি এই প্রবাদটি ব্যবহার করেছিলেন। - প্রশ্ন: “সরাসরি তোমাকে লেখা ভালো”— স্বামীজির হঠাৎ এমন মনোভাব তৈরি হওয়ার কারণ কী ছিল তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ শুরুতে তাঁর বন্ধু মিস ম্যাকলাউডের চিঠির মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে মিস নোবল ভারতবর্ষে এসে নারীশিক্ষার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। অন্যের মাধ্যমে শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাটা স্বামীজির কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। তাই মিস নোবলের কাজের পরিধি, ভারতের প্রতিকূল পরিবেশ এবং বাস্তব পরিস্থিতির কথা সরাসরি তাঁকে জানানোই স্বামীজি বেশি শ্রেয় ও কার্যকরী বলে মনে করেছিলেন। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের কাজে ‘জাতি বা স্পর্শ’ সংক্রান্ত সমস্যাটি মিস নোবলের কাছে ঠিক কতটা ভয়াবহ হতে পারে বলে স্বামীজি মনে করেছিলেন?
উত্তর: সেকালের ভারতবর্ষ ছিল কুসংস্কার, অস্পৃশ্যতা এবং চরম জাতিভেদ প্রথায় আচ্ছন্ন। এদেশের সাধারণ মানুষ শ্বেতাঙ্গদের যেমন ভয় পেত, তেমনি তাদের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলত। স্বামীজি বুঝতে পেরেছিলেন যে, মিস নোবল যখন এই অগণিত অর্ধ-উলঙ্গ, জাতিভেদে বিশ্বাসী গরিব মানুষদের কাছাকাছি গিয়ে কাজ করতে চাইবেন, তখন এই ছোঁয়াছুঁয়ি বা জাতপাতের কুসংস্কার তাঁর সেবামূলক কাজের পথে একটা বিশাল সামাজিক প্রাচীর বা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। - প্রশ্ন: স্বামী বিবেকানন্দ কেন মিসেস সেভিয়ারকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছেন?
উত্তর: মিসেস সেভিয়ার ছিলেন স্বামীজির একজন একনিষ্ঠ অনুগামী। অন্যান্য দাম্ভিক ইউরোপীয়দের মতো তিনি ভারতীয়দের প্রতি বিন্দুমাত্র ঘৃণা বা অবজ্ঞা পোষণ করতেন না। এদেশে এসে কারোর ওপর প্রভুত্ব বা ‘মুরুব্বিয়ানা’ ফলানোর কোনো মানসিকতা তাঁর ছিল না। বরং তাঁর স্বভাব ছিল অত্যন্ত অমায়িক, স্নেহশীল এবং উদার। একজন বিদেশিনী হয়েও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম দরদ ও ভালোবাসাই তাঁকে স্বামীজির চোখে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ করে তুলেছিল। - প্রশ্ন: “নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে”— এই সহজ কথাটির মধ্য দিয়ে স্বামীজি ভগিনী নিবেদিতাকে কী গুরুমন্ত্র দিতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: যেকোনো মহৎ কাজে সফল হতে গেলে আত্মনির্ভরশীলতা সবার আগে প্রয়োজন। ভারতবর্ষে এসে কাজ করার সময় মিস নোবল যদি মিস মুলার বা অন্য কোনো শ্বেতাঙ্গের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন, তবে তাঁর কাজের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং মানসিক অশান্তি ডেকে আনে। তাই স্বামীজি তাঁকে কারোর ওপর ভরসা না করে সম্পূর্ণ নিজের ক্ষমতায় ও বুদ্ধিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। - প্রশ্ন: চিঠিতে উল্লিখিত মিঃ স্টার্ডি কে ছিলেন? তাঁর পাঠানো চিঠিটিকে স্বামীজি কেন ‘শুষ্ক ও প্রাণহীন’ বলেছেন?
উত্তর: মিঃ স্টার্ডি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের একজন অনুগত ইংরেজ শিষ্য, যিনি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারের কাজে স্বামীজিকে সাহায্য করেছিলেন। লন্ডনে স্বামীজির বেদান্ত প্রচারের কাজ মাঝপথে কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত বা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় মিঃ স্টার্ডি মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। কাজের এই ব্যর্থতায় তিনি এতটাই হতোদ্যম ও নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর সেই হতাশা চিঠির প্রতিটি ছত্রে ফুটে উঠেছিল। তাই স্বামীজির কাছে চিঠিটি শুষ্ক ও প্রাণহীন মনে হয়েছিল। - প্রশ্ন: “সর্বোপরি তোমার ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্ত”— মিস নোবলের কাজে এই কেল্টিক রক্ত কীভাবে সাহায্য করবে বলে স্বামীজি মনে করেছেন?
উত্তর: কেল্টিক জাতির মানুষেরা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত তেজস্বী, লড়াকু এবং হার না মানা মানসিকতার জন্য পরিচিত। মিস নোবলের জন্ম আয়ারল্যান্ডে হওয়ায় তাঁর শরীরেও সেই কেল্টিক রক্ত প্রবহমান ছিল। স্বামীজির স্থির বিশ্বাস ছিল যে, ভারতবর্ষের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গেলে যে অদম্য মানসিক শক্তি এবং বাধা বিপত্তিকে জয় করার জেদ প্রয়োজন, মিস নোবলের ধমনিতে থাকা সেই কেল্টিক রক্ত তাঁকে সেই শক্তি জোগাবে। - প্রশ্ন: ভারতবর্ষের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বা ইউরোপীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে স্বামীজি চিঠিতে কী বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন?
উত্তর: স্বামীজি মিস নোবলকে অন্ধকারের মধ্যে না রেখে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, ভারতবর্ষের মতো গরিব দেশে ইউরোপের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আশা করাটা বোকামি। ভারতের হাতেগোনা কয়েকটি বড়ো শহর বাদ দিলে, দেশের বেশিরভাগ গ্রাম বা প্রান্তিক অঞ্চলে ইউরোপীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আভিজাত্য বা নাগরিক পরিষেবা পাওয়া একেবারেই অসম্ভব। তাই এদেশে কাজ করতে আসার আগে এই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে মিস নোবলকে মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত হতে বলেছিলেন স্বামীজি।
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Chithi 5 Marks Broad Question Answer
- প্রশ্ন: ‘চিঠি’ প্রবন্ধে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবলকে ভারতবর্ষে কাজ করার ক্ষেত্রে কী কী বাধা বা প্রতিকূলতার কথা জানিয়েছিলেন, তা বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ আলমোড়া থেকে লেখা চিঠিতে তাঁর শিষ্যা মিস নোবলকে (ভগিনী নিবেদিতা) ভারতবর্ষে আসার আগে এদেশের বাস্তব ও কঠোর প্রতিকূলতাগুলো সম্পর্কে খুব স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিলেন। স্বামীজির মতে মিস নোবলকে মূলত যে বাধাগুলোর সম্মুখীন হতে হবে, সেগুলি হলো:
- ভয়ংকর জলবায়ু: ভারতবর্ষ অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে সারা বছরই আগুনের হলকা বা লু প্রবাহিত হয়। শীতপ্রধান ইউরোপের পরিবেশ থেকে এসে ভারতের এই অসহ্য গরম সহ্য করা মিস নোবলের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হবে।
- সামাজিক কুসংস্কার ও জাতপাত: তৎকালীন ভারতের সাধারণ মানুষ চরম দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং জাতপাতের বেড়াজালে বন্দি ছিল। তারা শ্বেতাঙ্গ বা বিদেশিদের অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখত এবং ছোঁয়াছুঁয়ি বাঁচিয়ে চলত। এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের কাছে গিয়ে তাদের আপন করে নেওয়াটা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল।
- নাগরিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব: ভারতের মুষ্টিমেয় কয়েকটি বড়ো শহর ছাড়া বাকি সমস্ত গ্রামগঞ্জে ইউরোপীয়দের মতো কোনো সাধারণ সুযোগ-সুবিধা বা নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। এই চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে মিস নোবলকে মানিয়ে নিতে হবে।
- শ্বেতাঙ্গদের বাঁকা নজর: মিস নোবল নিজে একজন শ্বেতাঙ্গী হয়েও যখন গরিব ভারতীয়দের জন্য কাজ করবেন, তখন তাঁর সজাতীয় ইংরেজরাই তাঁকে পাগলামি বা ‘খামখেয়ালি’ বলে উপহাস করবে এবং পদে পদে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে।
এই সমস্ত ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরে স্বামীজি আসলে মিস নোবলকে ভারতের কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে চেয়েছিলেন।
- প্রশ্ন: “ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে”— স্বামীজি কেন মিস নোবল সম্পর্কে এমন কথা বলেছিলেন? তাঁর এই ভবিষ্যৎবাণী কতটা সফল হয়েছিল তা প্রবন্ধ অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: উক্তির কারণ: স্বামী বিবেকানন্দ দূরদর্শী চিন্তার মানুষ ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, পরাধীন ভারতবর্ষের উন্নতি করতে গেলে সবার আগে এদেশের পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে শিক্ষিত ও জাগ্রত করতে হবে। আর এই কঠিন কাজের জন্য এমন একজন নেত্রীর প্রয়োজন ছিল যাঁর মধ্যে অসীম তেজ, পবিত্রতা, স্বার্থহীন ভালোবাসা এবং সিংহীর মতো সাহস রয়েছে। মিস নোবলের মধ্যে স্বামীজি এই সমস্ত বিরল গুণাবলি দেখতে পেয়েছিলেন। তাছাড়া মিস নোবলের ধমনিতে থাকা লড়াকু কেল্টিক রক্ত তাঁকে যে মানসিক জেদ দিয়েছিল, তা ভারতের প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করার জন্য একদম উপযুক্ত ছিল। এই কারণেই স্বামীজি তাঁর সম্পর্কে এত বড়ো আশাব্যঞ্জক উক্তিটি করেছিলেন।
ভবিষ্যৎবাণীর সফলতা: স্বামীজির এই কথা যে একটুও ভুল ছিল না, তা ভগিনী নিবেদিতা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন। ভারতে এসে তিনি হিন্দু ধর্মের আদর্শ ও সংস্কৃতিকে আপন করে নেন। কলকাতার বাগবাজারে মেয়েদের শিক্ষার জন্য তিনি ‘নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়’ স্থাপন করেন। প্লেগ মহামারির সময় নিজের জীবনের পরোয়া না করে তিনি কলকাতার রাস্তায় নেমে রোগীদের সেবা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ভারতীয়দের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে স্বামীজির সেই ভবিষ্যৎবাণীকে ইতিহাসে অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ করেছিলেন। - প্রশ্ন: ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুসরণে স্বামী বিবেকানন্দের বিভিন্ন বিদেশি বন্ধু ও অনুগামীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধে আমরা তাঁর বেশ কয়েকজন বিদেশি বন্ধু এবং অনুগামীর স্বভাব ও চরিত্রের সুন্দর একটি পরিচয় পাই:
- মিস মুলার: স্বামীজির মতে মিস মুলার স্বভাবগতভাবে খুব একটা খারাপ মানুষ না হলেও, তাঁর চরিত্রে বেশ কিছু নেতিবাচক দিক ছিল। তাঁর মেজাজ ছিল ভীষণ রুক্ষ এবং তিনি খুব অস্থিরচিত্ত ছিলেন। টাকার জোরে তিনি নিজেকে আজন্ম নেত্রী মনে করতেন এবং অন্যের ওপর আধিপত্য ফলাতে চাইতেন।
- সেভিয়ার দম্পতি: সেভিয়ার দম্পতিকে স্বামীজি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। অন্যান্য ইউরোপীয়দের মতো তাঁদের মধ্যে কোনো অহংকার বা প্রভুত্ব ফলানোর স্বভাব ছিল না। তাঁরা ভারতীয়দের মন থেকে ভালোবাসতেন এবং বেদান্ত প্রচারের কাজে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মিসেস সেভিয়ারকে স্বামীজি ভালোবেসে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলেছিলেন।
- মিসেস বুল ও মিস ম্যাকলাউড: এঁরা দুজনেই স্বামীজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং উপকারী বন্ধু ছিলেন। বিশেষ করে মিসেস বুলের পরিণত মন এবং মিস ম্যাকলাউডের পরোপকারী মনোভাব স্বামীজিকে মুগ্ধ করেছিল।
- মিঃ স্টার্ডি: তিনি স্বামীজির একজন একনিষ্ঠ বেদান্ত অনুরাগী ছিলেন। তবে লন্ডনের কাজে সাময়িক ব্যর্থতার কারণে তিনি যে মানসিকভাবে চরম হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, তা চিঠিতে স্বামীজি উল্লেখ করেছেন।
- প্রশ্ন: “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”— এই প্রবাদটি কোন্ প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে? এর মাধ্যমে স্বামীজির চরিত্রের কোন্ বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: প্রসঙ্গ: স্বামী বিবেকানন্দ আলমোড়া থেকে লেখা চিঠিতে মিস নোবলকে ভারতবর্ষের ভয়ংকর গরম, দারিদ্র্য এবং সামাজিক কুসংস্কারের কথা জানিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই তাঁকে এক বিশাল মানসিক আশ্রয়ও দিয়েছিলেন। তিনি মিস নোবলকে কথা দিয়েছিলেন যে, ভারতের কাজে এসে যদি তিনি কখনও হতাশ হন বা সম্পূর্ণ ব্যর্থও হন, তবু স্বামীজি তাঁকে একা ছেড়ে যাবেন না। ফলাফল যাই হোক না কেন, আমৃত্যু স্বামীজি তাঁর পাশে থাকবেন। নিজের এই অটল প্রতিশ্রুতি বোঝাতেই স্বামীজি “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত” প্রবাদটি ব্যবহার করেছিলেন।
চরিত্রের দিক: এই প্রবাদটির অর্থ হলো, হাতির দাঁত একবার বাইরে বেরিয়ে এলে তা যেমন আর ভেতরে ঢোকানো যায় না, তেমনি সত্যিকারের খাঁটি মানুষের মুখের কথারও কখনও পরিবর্তন হয় না। এর মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দের চরিত্রের অসীম ধৈর্য, পুরুষকার, নির্ভীকতা এবং সত্যনিষ্ঠার দিকটি ফুটে উঠেছে। একজন গুরু হিসেবে শিষ্যার প্রতি তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং নিজের দেওয়া কথার প্রতি এই যে অটল বিশ্বাস— তা স্বামীজির বিশালত্ব ও মহামানব সত্তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ। - প্রশ্ন: ‘চিঠি’ রচনার মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের যে গভীর দেশপ্রেম ও নারীকল্যাণ ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘চিঠি’ প্রবন্ধটি কেবল একটি পত্র নয়, এটি তাঁর অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম এবং ভারতবাসীর প্রতি গভীর মমতার এক জীবন্ত দলিল।
দেশপ্রেম মানে কেবল দেশের ভালো দিকগুলো নিয়ে গর্ব করা নয়, বরং দেশের খারাপ দিকগুলোকে স্বীকার করে তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করা। স্বামীজি চিঠিতে পরাধীন ভারতবর্ষের দারিদ্র্য, অশিক্ষা, জাতপাতের চরম কুসংস্কার এবং অবহেলিত সমাজের যে নগ্ন রূপ তুলে ধরেছেন, তা তাঁর বাস্তবমুখী দেশপ্রেমেরই প্রমাণ। তিনি বিদেশিনি মিস নোবলের কাছে দেশের এই দুর্দশাগুলো একটুও লুকিয়ে রাখেননি।
অন্যদিকে, ভারতের নারীসমাজ সম্পর্কে তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও সুদূরপ্রসারী। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন যে, কোনো দেশের নারীরা পিছিয়ে থাকলে সেই দেশের উন্নতি কখনও সম্ভব নয়। তাই এদেশের মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা ও পবিত্রতার প্রসার ঘটানোর জন্য তিনি মিস নোবলের মতো একজন উচ্চশিক্ষিতা ও তেজস্বিনী নারীকে ভারতে আহ্বান করেছিলেন। দেশের মানুষের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা এবং নারীমুক্তির প্রতি তাঁর এই তীব্র আকাঙ্ক্ষাই চিঠির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে।