ভাঙার গান কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণির বাংলা | Class 9 Bengali Bhangar Gaan Question Answer

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবারও তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ভাঙার গান’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।

পরাধীন ভারতবর্ষে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলতে এই কবিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কবিতায় কবি ব্রিটিশ শাসনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামভাঙার গান
কবিকাজী নজরুল ইসলাম
কাব্যগ্রন্থভাঙার গান
প্রকাশকাল১৯২৪
মূল সুরবিদ্রোহ ও স্বদেশিকতা

এখানে আমরা কবিতার সামারি বা কবি পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি পরীক্ষার উপযোগী প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।

এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। অর্থাৎ, পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তোমরা যদি আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলোও একবার দেখে নিতে পারো। এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—

  • এলো বৃষ্টি ঝেঁপে
  • আমার গান
  • ইলিয়াস
  • দাম
  • নব নব সৃষ্টি
  • হিমালয় দর্শন
  • নোঙর
  • খেয়া
  • আকাশে সাতটি তারা
  • আবহমান

এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তরও আগের পোস্টগুলোতে পেয়ে যাবে।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘ভাঙার গান’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘ভাঙার গান’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।

ভাঙার গান পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Bhangar Gan MCQ Question Answer

  1. ‘ভাঙার গান’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
    (ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    (খ) কাজী নজরুল ইসলাম
    (গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
    (ঘ) জীবনানন্দ দাশ
    উত্তর: (খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কবি কোন ধরনের কপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে বলেছেন?
    (ক) কাঠের কপাট
    (খ) স্বর্ণ কপাট
    (গ) লৌহ-কপাট
    (ঘ) কাচের কপাট
    উত্তর: (গ) লৌহ-কপাট
  3. শিকল-পুজোর পাষাণ বেদীটি মূলত কী দিয়ে জমাট বেঁধেছে?
    (ক) জলে
    (খ) কালিতে
    (গ) রক্ত-জমাট
    (ঘ) বরফে
    উত্তর: (গ) রক্ত-জমাট
  4. বাঁশি কিংবা বিষাণ বাজানোর জন্য কবি কাকে ডাক দিয়েছেন?
    (ক) পাগল ভোলাকে
    (খ) তরুণ ঈশানকে
    (গ) কাল-বোশেখিকে
    (ঘ) ভগবানকে
    উত্তর: (খ) তরুণ ঈশানকে
  5. তরুণ ঈশানকে কোন বিশেষ বিষাণ বাজাতে বলা হয়েছে?
    (ক) প্রেমের বিষাণ
    (খ) শান্তির বিষাণ
    (গ) প্রলয়-বিষাণ
    (ঘ) যুদ্ধের বিষাণ
    উত্তর: (গ) প্রলয়-বিষাণ
  6. “উড়ুক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদি”— এই চরণে ‘প্রাচী’ বলতে কোন দিকটিকে বোঝানো হয়েছে?
    (ক) পশ্চিম দিক
    (খ) উত্তর দিক
    (গ) পূর্ব দিক
    (ঘ) দক্ষিণ দিক
    উত্তর: (গ) পূর্ব দিক
  7. কবি কবিতায় কোন বাদ্য বাজানোর কথা উল্লেখ করেছেন?
    (ক) বিয়ের বাজনা
    (খ) গাজনের বাজনা
    (গ) ছুটির বাজনা
    (ঘ) উৎসবের বাজনা
    উত্তর: (খ) গাজনের বাজনা
  8. “কে দেয় সাজা?” – এখানে কাকে শাস্তি দেওয়ার দুঃসাহস দেখানো হয়েছে?
    (ক) অপরাধীকে
    (খ) ভক্তকে
    (গ) মুক্ত স্বাধীন সত্যকে
    (ঘ) রাজাকে
    উত্তর: (গ) মুক্ত স্বাধীন সত্যকে
  9. স্বয়ং ভগবান ফাঁসি পরবেন, এমন কথাকে কবি কী আখ্যা দিয়েছেন?
    (ক) মহান তথ্য
    (খ) হীন তথ্য
    (গ) শ্রেষ্ঠ তথ্য
    (ঘ) চিরন্তন তথ্য
    উত্তর: (খ) হীন তথ্য
  10. কবিতায় ‘পাগলা ভোলা’ বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
    (ক) রাজাকে
    (খ) বন্দিদের
    (গ) বিপ্লবীদের (শিবের রূপকে)
    (ঘ) নিজেকে
    উত্তর: (গ) বিপ্লবীদের
  11. পাগলা ভোলাকে গারদগুলো কীভাবে ধরে টানতে বলা হয়েছে?
    (ক) আলতো করে
    (খ) দড়ি দিয়ে
    (গ) জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে
    (ঘ) চাকা দিয়ে
    উত্তর: (গ) জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে
  12. “হৈদরী হাঁক” আসলে কিসের ইঙ্গিত বহন করে?
    (ক) কান্নার
    (খ) ভয়ের
    (গ) অদম্য বীরত্বের
    (ঘ) বিষাদের
    উত্তর: (গ) অদম্য বীরত্বের
  13. কবি কাঁধের উপর কী তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন?
    (ক) অস্ত্র
    (খ) দন্দুভি ঢাক
    (গ) তলোয়ার
    (ঘ) বর্শা
    উত্তর: (খ) দন্দুভি ঢাক
  14. মৃত্যুকে কোথায় আহ্বান করার কথা বলা হয়েছে?
    (ক) মরণ পানে
    (খ) জীবন পানে
    (গ) বন পানে
    (ঘ) আকাশ পানে
    উত্তর: (খ) জীবন পানে
  15. কারা নাচছে বলে কবি কবিতায় উল্লেখ করেছেন?
    (ক) প্রজারা
    (খ) সৈনিকরা
    (গ) কাল-বোশেখি
    (ঘ) তারকারা
    উত্তর: (গ) কাল-বোশেখি
  16. ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কোন ধরনের কারার ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
    (ক) জীর্ণ কারার
    (খ) ক্ষুদ্র কারার
    (গ) ভীম কারার
    (ঘ) মায়াবী কারার
    উত্তর: (গ) ভীম কারার
  17. লাথি মেরে কী ভেঙে ফেলার কথা কবি বলেছেন?
    (ক) দেয়াল
    (খ) কপাট
    (গ) তালা
    (ঘ) পিঞ্জর
    উত্তর: (গ) তালা
  18. বন্দিশালায় কী জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
    (ক) প্রদীপ
    (খ) ধূপ
    (গ) আগুন
    (ঘ) মশাল
    উত্তর: (গ) আগুন
  19. আগুন জ্বালিয়ে কোন জিনিসের ভিত উপড়ে ফেলতে বলা হয়েছে?
    (ক) বন্দিশালার
    (খ) মন্দিরের
    (গ) রাজপ্রাসাদের
    (ঘ) সিংহাসনের
    উত্তর: (ক) বন্দিশালার
  20. “গাজনের বাজনা বাজা!” – এই গাজন উৎসব কোন দেবতার সাথে যুক্ত?
    (ক) বিষ্ণু
    (খ) দুর্গা
    (গ) শিব
    (ঘ) কার্তিক
    উত্তর: (গ) শিব
  21. ব্রিটিশদের কবি কী বলে কটাক্ষ করেছেন?
    (ক) বন্ধু
    (খ) আত্মীয়
    (গ) তুচ্ছ মালিক ও রাজা
    (ঘ) দেবতা
    উত্তর: (গ) তুচ্ছ মালিক ও রাজা
  22. “হা হা হা পায় যে হাসি”— কবির এই হাসির কারণ কী?
    (ক) আনন্দ পেয়ে
    (খ) ভগবান ফাঁসি পরবে এই হীন তথ্যে
    (গ) গান গেয়ে
    (ঘ) খেলা দেখে
    উত্তর: (খ) ভগবান ফাঁসি পরবে এই হীন তথ্যে
  23. এই কবিতাটির ছন্দের মূল বৈশিষ্ট্য কেমন?
    (ক) ধীর লয়ের
    (খ) বিষাদগ্রস্ত
    (গ) উদ্দাম ও বীরত্বব্যঞ্জক
    (ঘ) করুণ
    উত্তর: (গ) উদ্দাম ও বীরত্বব্যঞ্জক
  24. “শিকল-পূজোর পাাষাণ-বেদী!”— কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
    (ক) শিকল দিয়ে দেবতা পুজো
    (খ) পরাধীনতাকে মান্যতা দেওয়া
    (গ) বিপ্লবীদের পায়ে শিকল পরানো
    (ঘ) শিকল পরিষ্কার করা
    উত্তর: (গ) বিপ্লবীদের পায়ে শিকল পরানো
  25. ‘ভাঙার গান’ কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু বা ভাবধারা কোনটি?
    (ক) আপস করা
    (খ) ব্রিটিশদের তোয়াজ করা
    (গ) দাসত্ব মোচন ও বিপ্লব
    (ঘ) প্রকৃতিপ্রেম
    উত্তর: (গ) দাসত্ব মোচন ও বিপ্লব
  26. নতুনের জয়গান গাওয়ার জন্য কবি কাদের আহ্বান করেছেন?
    (ক) শিশুদের
    (খ) বৃদ্ধদের
    (গ) ধ্বংসের দেবতা ও যুবশক্তিকে
    (ঘ) ইংরেজদের
    উত্তর: (গ) ধ্বংসের দেবতা ও যুবশক্তিকে
  27. “হৈদরী হাঁক” কথাটি কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত?
    (ক) শ্রীরামকৃষ্ণ
    (খ) চৈতন্যদেব
    (গ) হজরত আলি
    (ঘ) অশোক
    উত্তর: (গ) হজরত আলি
  28. কাজী নজরুল ইসলামকে কেন ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়ে থাকে?
    (ক) তিনি যুদ্ধ করতেন
    (খ) তাঁর লেখনী শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল
    (গ) তিনি ঘরে থাকতেন না
    (ঘ) তিনি রাজা ছিলেন
    উত্তর: (খ) তাঁর লেখনী শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল
  29. “দে রে দে প্রলয়-দোলা”— এই প্রলয় দোলা দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
    (ক) ঘুম পাড়ানো
    (খ) শান্তি প্রতিষ্ঠা
    (গ) পুরাতনকে ধ্বংস করে মুক্তি ঘটানো
    (ঘ) গান শোনানো
    উত্তর: (গ) পুরাতনকে ধ্বংস করে মুক্তি ঘটানো
  30. ধ্বংসের নিশান ওড়ানোর মধ্য দিয়ে কবি মূলত কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
    (ক) পরাজয়ের
    (খ) বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতার
    (গ) শোকের
    (ঘ) ভয়ের
    উত্তর: (খ) বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতার

নবম শ্রেণী বাংলা ভাঙার গান কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bhangar Gan Short Question Answer SAQ

  1. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কবি লোহার কপাটগুলোকে কী করার কথা বলেছেন?
    উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীনতার প্রতীক সেই জেলের লোহার কপাটগুলোকে ভেঙে একেবারে গুঁড়িয়ে বা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
  2. প্রশ্ন: শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদীটি আসলে কী দিয়ে জমাট বেঁধে আছে?
    উত্তর: দেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছেন, সেইসব বীর বিপ্লবীদের রক্তেই জমাট বেঁধে রয়েছে শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী।
  3. প্রশ্ন: কবিতায় ‘তরুণ ঈশান’কে কবি কী বাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন?
    উত্তর: কবি নবীন যুবশক্তি বা তরুণ ঈশানকে মহাদেবের মতো প্রলয়-বিষাণ এবং শিবের গাজনের বাজনা বাজাতে বলেছেন।
  4. প্রশ্ন: এখানে “পাষাণ-বেদী” বলতে কবি মূলত কী বোঝাতে চেয়েছেন?
    উত্তর: ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের জেলখানাগুলোতে স্বাধীনতাকামীদের ওপর যে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালানো হতো, সেই দাসত্ব ও শোষণের কঠিন ভিত্তিকেই কবি ‘পাষাণ-বেদী’ বলেছেন।
  5. প্রশ্ন: “মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে”— কে সাজা দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়?
    উত্তর: বিদেশি ব্রিটিশ সরকার, যারা নিজেদের তুচ্ছ রাজা মনে করে, তারাই মুক্ত ও শাশ্বত সত্যকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করে।
  6. প্রশ্ন: স্বয়ং ভগবান ফাঁসির দড়ি পরবেন— এমন কথাকে কবি কী আখ্যা দিয়েছেন?
    উত্তর: ঈশ্বরকে ফাঁসি দেওয়ার মতো এমন একটা জঘন্য ও মিথ্যা গুজবকে কবি ‘হীন তথ্য’ বা নীচ রটনা বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
  7. প্রশ্ন: কবিতায় “পাগলা ভোলা” বলে কাদের সম্বোধন করা হয়েছে?
    উত্তর: মহাদেব বা শিবের রুদ্ররূপের সাথে তুলনা করে দেশের সেই নির্ভীক, প্রলয়ংকরী ও তেজী যুবসমাজকে কবি “পাগলা ভোলা” বলেছেন।
  8. প্রশ্ন: জেলের গারদগুলোকে কীভাবে উপড়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে?
    উত্তর: পরাধীনতার প্রতীক ওই গারদগুলোকে প্রচণ্ড জোরে একটা হেঁচকা টান মেরে একেবারে সমূলে উপড়ে ফেলার কথা বলেছেন কবি।
  9. প্রশ্ন: “হৈদরী হাঁক”— কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?
    উত্তর: ইসলাম ধর্মের চতুর্থ খলিফা হজরত আলির অপর নাম ছিল হায়দর। তাঁর মতো অসীম সাহসে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরানো বীরত্বপূর্ণ সিংহগর্জনকেই “হৈদরী হাঁক” বলা হয়।
  10. প্রশ্ন: মৃত্যুকে কবি কোথায় আহ্বান করার পরামর্শ দিয়েছেন?
    উত্তর: কবি মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে, তাকে সরাসরি জীবনের মুখোমুখি অর্থাৎ ‘জীবন পানে’ ডাকার কথা বলেছেন।
  11. প্রশ্ন: বন্দিশালায় আগুন জ্বালানোর কথা বলার পেছনে কবির কী তাৎপর্য লুকিয়ে আছে?
    উত্তর: পরাধীনতার সমস্ত গ্লানি আর ব্রিটিশদের তৈরি জেলের অস্তিত্বকে চিরতরে মুছে ফেলতে কবি বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে বন্দিশালা পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।
  12. প্রশ্ন: কবি সজোরে লাথি মেরে কী ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন?
    উত্তর: জেলের মধ্যে থাকা পরাধীনতার শৃঙ্খল, বিশেষ করে কারাগারের তালাগুলোকে লাথি মেরে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে বলেছেন।

নবম শ্রেণী বাংলা ভাঙার গান কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bhangar Gan 2 Marks Question Answer

  1. প্রশ্ন: “কারার ওই লৌহ-কপাট / ভেঙে ফেল, কররে লোপাট” — এই কথাটির মধ্যে দিয়ে কবি আসলে কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
    উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের আটকে রাখতে ব্রিটিশ সরকার যে ভয়ংকর জেলখানা বা লৌহ-কপাট তৈরি করেছিল, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো পরাধীনতার সমস্ত বাধা বা শিকল চিরতরে উপড়ে ফেলা।
  2. প্রশ্ন: “শিকল-পূজোর পাষাণ-বেদী” বলতে কবি কবিতায় ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
    উত্তর: ব্রিটিশ শাসকরা ভারতীয়দের বন্দি করে শিকল পরিয়ে রাখাটাকেই যেন একটা অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছিল। দেশের বীর বিপ্লবীদের রক্তে ভেজা জেলের সেই নিষ্ঠুর ও কঠিন ভিত্তি বা পরিবেশটাকেই কবি তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে ‘পাষাণ-বেদী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
  3. প্রশ্ন: কবিতায় দেশের তরুণ সমাজকে কেন ‘ঈশান’ বা ‘পাগলা ভোলা’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে?
    উত্তর: মহাদেব শিব যেমন প্রলয় বা ধ্বংসের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত জঞ্জাল দূর করে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করেন, ঠিক তেমনই কবি চেয়েছেন বাংলার যুবসমাজ রুদ্র রূপ ধারণ করে ব্রিটিশদের তৈরি পরাধীনতার সমস্ত আবর্জনা মুছে ফেলুক। তাই তাদের শিবের রুদ্ররূপের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
  4. প্রশ্ন: “কে দেয় সাজা?” — এই উক্তির মাধ্যমে কবি কাদের স্পর্ধা বা ক্ষমতার দিকে আঙুল তুলেছেন?
    উত্তর: সত্য চিরকালই নিজের জায়গায় অটল এবং স্বাধীন। বিপ্লবীরা সেই শাশ্বত সত্যের পথেই লড়ছিলেন। তাই তাদের যখন বিদেশি ব্রিটিশ সরকার মিথ্যে মামলায় শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন কবি বিদ্রূপ করে সেই অত্যাচারী শাসকদের ক্ষমতার অসারতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
  5. প্রশ্ন: “ভগবান পরবে ফাঁসি?” — এমন কথার মধ্যে দিয়ে কবির কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
    উত্তর: দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়া বিপ্লবীদের মনের ভেতরেই সত্য বা ভগবানের বাস। তাই ব্রিটিশরা যখন তাদের ফাঁসি দেওয়ার স্পর্ধা দেখায়, তার মানে হলো স্বয়ং ঈশ্বরকে ফাঁসি দেওয়া, যা আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব। এই অমোঘ সত্যটি তুলে ধরেই কবি অহংকারী শাসকদের চরম উপহাস করেছেন।
  6. প্রশ্ন: “দে রে দে প্রলয়-দোলা” — সমাজ জীবনে এই প্রলয় দোলার এত প্রয়োজন কেন?
    উত্তর: দীর্ঘ পরাধীনতার ফলে দেশের মানুষের মনে যখন ভয় আর জড়তা জাঁকিয়ে বসেছিল, তখন সেই ঘুমন্ত সমাজকে এক ধাক্কায় জাগিয়ে তুলতে একটা প্রচণ্ড আঘাতের দরকার ছিল। পরাধীনতার খোলস ভেঙে নতুন কিছু গড়ার জন্যই এই প্রলয় বা ধ্বংসের দোলার খুব প্রয়োজন।
  7. প্রশ্ন: ‘হৈদরী হাঁক’ দেওয়ার কথা বলে কবি মূলত কী বোঝাতে বা অর্জন করতে চেয়েছেন?
    উত্তর: হজরত আলির মতো অসীম সাহসিকতা আর বীরত্বের চরম নিদর্শন দেখিয়ে কবি চেয়েছেন ব্রিটিশ শাসকদের মনে একটা গভীর আতঙ্ক তৈরি করতে। বিপ্লবীদের সেই দাপুটে রণহুংকারে যেন সারা ভারতের আকাশ-বাতাস জেগে ওঠে, সেটাই ছিল কবির মূল লক্ষ্য।
  8. প্রশ্ন: “মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!” — এমন আপাত বিরোধী কথা বলার পেছনে কবির যুক্তি কী?
    উত্তর: মাতৃভূমির মুক্তির জন্য হাসিমুখে প্রাণ দেওয়া মানে মৃত্যুকে ভয় পাওয়া নয়, বরং এক নতুন স্বাধীন জীবনের দরজা খুলে দেওয়া। মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করলেই সত্যিকারের জীবনের স্বাদ পাওয়া যায়— এটাই কবি এই চরনের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন।
  9. প্রশ্ন: কবি কেন জেলের বন্দিশালায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন?
    উত্তর: পরাধীনতার তীব্র অপমান আর গ্লানি মুছে ফেলার একমাত্র রাস্তা হলো প্রবল বিদ্রোহের আগুন জ্বালানো। সেই বিপ্লবের আগুনে ব্রিটিশদের তৈরি জেলের শিকল, তালা আর সমস্ত অন্যায়কে চিরতরে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার জন্যই কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন।
  10. প্রশ্ন: কবিতায় “হীন তথ্য” বলতে কবি ঠিক কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছেন?
    উত্তর: অত্যাচারী ইংরেজ সরকার ভেবেছিল, বিপ্লবীদের ফাঁসি দিলেই বুঝি ভারতের স্বাধীনতার দাবি বা সত্যকে চিরতরে মুছে ফেলা যাবে। সত্য যে ভগবানের মতোই অবিনশ্বর ও অপরাজেয়, সেই বোধ তাদের ছিল না। ব্রিটিশদের এই চরম ভুল ও নীচ ধারণাকেই কবি ‘হীন তথ্য’ বলেছেন।
  11. প্রশ্ন: “নাচে ওই কাল-বোশেখি” — এই কালবৈশাখীর রূপকটি কবিতার ক্ষেত্রে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
    উত্তর: কালবৈশাখী ঝড় যেমন মুহূর্তের মধ্যে প্রকৃতির সমস্ত জীর্ণ পাতা আর ধুলোবালি উড়িয়ে দিয়ে চারপাশ পরিষ্কার করে দেয়, তেমনি বিপ্লবীদের রুদ্ররোষ আর প্রচণ্ড আক্রমণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে দেশকে পরাধীনতা মুক্ত করবে— এই গভীর ভাবনাই এখানে ফুটে উঠেছে।
  12. প্রশ্ন: “লাথি মার, ভাঙরে তালা!” — এই কথাটির মধ্যে দিয়ে কবির মানসিকতার কোন দিকটি ধরা পড়ে?
    উত্তর: পরাধীনতার শিকল যেকোনো মূল্যে ছিঁড়ে ফেলার একটা তীব্র জেদ, অদম্য সাহস এবং চরম বিদ্রোহের সুর এই চরণে মূর্ত হয়ে উঠেছে। কবি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, ব্রিটিশদের কাছে অনুনয়-বিনয় করে নয়, বরং সজোরে আঘাত করেই দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে।

ভাঙার গান কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bhangar Gan 3 Marks Question Answer

  1. প্রশ্ন: “শিকল-পূজোর পাষাণ-বেদী! / ওরে ও তরুণ ঈশান!”— এই চরণে তরুণ প্রজন্মের প্রতি কবির প্রত্যাশা আলোচনা করো।
    উত্তর: ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের বন্দি করে রাখার যে নিষ্ঠুর প্রথা তৈরি করেছিল, কবি তাকেই ‘শিকল-পূজোর পাষাণ-বেদী’ বলেছেন। কবি নজরুল চেয়েছেন, দেশের নবীন যুবসমাজ মহাদেব বা শিবের রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এই শোষণের ভিত একেবারে গুঁড়িয়ে দিক। শিব যেমন প্রলয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর সব অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন, ঠিক সেভাবেই তরুণরা দেশের পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে এক নতুন স্বাধীন ভারতের জন্ম দেবে— এটাই ছিল তরুণ প্রজন্মের কাছে কবির মূল প্রত্যাশা।
  2. প্রশ্ন: “কে মালিক? কে সে রাজা? / কে দেয় সাজা?”— এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে কবির কোন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে?
    উত্তর: এই পংক্তিগুলোর সাহায্যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশদের শাসন করার অধিকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর মতে, ভারতবর্ষের প্রকৃত মালিক এদেশের মানুষ, কোনো ভিনদেশি দস্যু রাজা নয়। সত্যের পথে চলা বিপ্লবীদের শাস্তি দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার ইংরেজদের নেই। নিজেদের রাজা বলে দাবি করা ওই অহংকারী শাসকদের তুচ্ছ প্রমাণ করে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির জয়গান গাওয়াই কবির আসল উদ্দেশ্য ছিল।
  3. প্রশ্ন: “ভগবান পরবে ফাঁসি? / সর্বনাশী / শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?”— এই উক্তিটির গভীর অর্থ বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দিতে প্রস্তুত বিপ্লবীদের মধ্যে কবি স্বয়ং ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতেন। তাই ব্রিটিশ সরকার যখন সেই বীর বিপ্লবীদের ফাঁসির আদেশ দেয়, তখন কবির মনে হয় যেন তারা স্বয়ং ভগবানকেই ফাঁসিকাঠে ঝোলাতে চাইছে। সত্য ও ভগবান উভয়েই চিরন্তন, তাদের মৃত্যু নেই। ইংরেজ শাসকদের এই চরম ঔদ্ধত্য আর বোকামিকে কটাক্ষ করতেই কবি এই মিথ্যা আস্ফালনকে ‘হীন তথ্য’ বলে তীব্র উপহাস করেছেন।
  4. প্রশ্ন: “হৈদরী হাঁক, / কাঁধে নে দন্দুভি ঢাক”— এই রণধ্বনির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
    উত্তর: দেশের মুক্তিসংগ্রামে ভীরুতা বা আপসের কোনো জায়গা নেই বলে কবি মনে করতেন। তাই তিনি বিপ্লবীদের হজরত আলির মতো অসীম সাহসে ‘হৈদরী হাঁক’ বা বীরদর্পে গর্জন করতে বলেছেন। অন্যদিকে ‘দন্দুভি’ হলো এক ধরনের বিশাল ঢাক যা যুদ্ধের আগে বাজানো হয়। এই রণবাদ্য কাঁধে তুলে নেওয়ার অর্থ হলো সরাসরি সংগ্রামের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া। পরাধীনতার নীরবতা ভেঙে দেশের তরুণ সমাজকে এক চূড়ান্ত সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দেওয়াই এই চরণের মূল লক্ষ্য।
  5. প্রশ্ন: “লাথি মার ভাঙরে তালা! / যত সব বন্দি-শালায়— / আগুন জ্বালা”— কবির এই চরম বিদ্রোহী আহ্বানের কারণ কী?
    উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম খুব ভালো করেই জানতেন যে, ব্রিটিশদের কাছে হাত জোড় করে বা অহিংস পথে স্বাধীনতা আদায় করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন চূড়ান্ত শক্তিপ্রয়োগ। ব্রিটিশদের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল এই জেলখানাগুলো। তাই অন্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে জেলের তালায় লাথি মেরে বন্দিদশা ভেঙে ফেলার ডাক দিয়েছেন তিনি। পরাধীনতার সমস্ত চিহ্ন আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার মাধ্যমেই যে ভারতের প্রকৃত মুক্তি আসবে, সেই বিশ্বাস থেকেই কবির এই চরমপন্থী আহ্বান।
  6. প্রশ্ন: “ওরে ও তরুণ ঈশান”— তরুণ ঈশান কে? তাকে কবি কী করতে বলেছেন?
    উত্তর: ‘তরুণ ঈশান’ বলতে কবি দেশের নবীন যুবসমাজকে বুঝিয়েছেন, যাদের মধ্যে মহাদেব শিবের মতো ধ্বংস ও সৃষ্টির ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। কবি এই তরুণ সমাজকে প্রলয়ের বিষাণ বাজিয়ে ব্রিটিশদের তৈরি জেলের লৌহ-কপাট ভেঙে ফেলতে বলেছেন। শিবের রুদ্ররূপ ধারণ করে পরাধীনতার সমস্ত শৃঙ্খল মুক্ত করার গুরুদায়িত্ব কবি তরুণদের কাঁধেই তুলে দিয়েছেন।
  7. প্রশ্ন: “গাজনের বাজনা বাজা!”— গাজনের বাজনা কী? কবিতায় এই অনুষঙ্গ কেন এসেছে?
    উত্তর: ‘গাজন’ হলো শিবের উপাসনা কেন্দ্রিক এক প্রকার লোকজ উৎসব, যেখানে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উদ্দাম নৃত্য ও উল্লাস করা হয়। কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকামী যুবকদের সেই শিবের অনুচর বা ‘পাগলা ভোলা’ হিসেবে কল্পনা করেছেন। গাজনের বাজনার এই উদ্দামতা আসলে বিপ্লবীদের মনে সুপ্ত থাকা তেজ ও বিদ্রোহের আগুনকে উসকে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে।
  8. প্রশ্ন: “নাচে ওই কাল-বোশেখি, / কাটাবি কাল বসে কি?”— চরণের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
    উত্তর: কালবৈশাখী ঝড় যেমন ধুলোবালি ও জীর্ণতাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে, ঠিক তেমনই কবি দেশের বুকে এক প্রবল বিপ্লবের কালবৈশাখী দেখতে পাচ্ছিলেন। এমন একটা উপযুক্ত সময়ে যুবসমাজকে অলস হয়ে বসে থাকতে নিষেধ করেছেন তিনি। বরং এই সুযোগে কালবৈশাখীর মতো প্রচণ্ড শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পরাধীনতার সমস্ত আবর্জনা দূর করার ডাক দিয়েছেন কবি।
  9. প্রশ্ন: “মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে”— কথাটির অর্থ পরিস্ফুট করো।
    উত্তর: সাধারণ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। কিন্তু দেশের জন্য যারা লড়াই করেন, তাদের কাছে মৃত্যু কোনো ভয়ের বিষয় নয়। কবি এখানে বলতে চেয়েছেন, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার সাহস থাকলেই প্রকৃত জীবনের স্বাদ পাওয়া যায়। পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে, দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরের মতো মৃত্যুবরণ করা অনেক বেশি সম্মানের। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশ নতুন জীবন ফিরে পাবে।
  10. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কবির দেশপ্রেম ও বিদ্রোহী সত্তার যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা সংক্ষেপে লেখো।
    উত্তর: ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের চরম দেশপ্রেম এবং আপসহীন বিদ্রোহী মানসিকতার এক অনবদ্য দলিল। তিনি ব্রিটিশদের তৈরি ‘লৌহ-কপাট’ বা জেলখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। অহিংসার বদলে তিনি সরাসরি ‘হৈদরী হাঁক’ দিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহের পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেছেন। পরাধীনতার সমস্ত শৃঙ্খল আগুনে পুড়িয়ে নতুন ভারত গড়ার যে স্বপ্ন কবি দেখেছেন, তা তাঁর গভীর দেশপ্রেমেরই প্রমাণ দেয়।

ক্লাস ৯ বাংলা ভাঙার গান কবিতার ৫ নম্বরের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Bhangar Gan 5 Marks Important Question Answer

  1. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কীভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে চরম বিপ্লবের পথে আহ্বান করেছেন, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
    উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের ব্রিটিশ সরকার যখন জেলের অন্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রেখেছিল, তখন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম দেশমাতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য দেশের তরুণ বা যুবশক্তির ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রেখেছিলেন।
    কবি এই কবিতায় দেশের যুবসমাজকে শিবের ধ্বংসাত্মক রূপ অর্থাৎ ‘পাগলা ভোলা’ বা ‘তরুণ ঈশান’ হিসেবে কল্পনা করেছেন। তিনি তরুণদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রলয়ের বিষাণ বাজিয়ে ব্রিটিশদের তৈরি কারাগারের লৌহ-কপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে। ইংরেজরা বিপ্লবীদের বন্দি করে যে ‘শিকল-পুজোর’ উৎসব শুরু করেছিল, কবি তা লাথি মেরে উপড়ে ফেলার ডাক দিয়েছেন।
    অত্যাচারী ব্রিটিশরা যখন ফাঁসির ভয় দেখিয়ে বিপ্লবীদের দমাতে চেয়েছে, কবি তখন তরুণ সমাজকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তারা হলো শাশ্বত সত্যের প্রতীক; আর সত্যকে কখনো ফাঁসি দেওয়া যায় না। ভীরুতা ত্যাগ করে, মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের শক্তিতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার এক চূড়ান্ত ও আপসহীন বিপ্লবের মন্ত্রই কবি তরুণদের কানে দিয়েছেন।
  2. প্রশ্ন: “শিকল-পূজোর পাষাণ-বেদী!”— এই উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে কবিতায় কবির বিদ্রোহের স্বরূপটি বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: উক্তিটির তাৎপর্য: ‘শিকল-পূজোর পাষাণ-বেদী’ বলতে কবি পরাধীন ভারতবর্ষের কারাগারগুলোর নিষ্ঠুর ও অমানবিক পরিবেশকে বুঝিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকার এদেশের মুক্তিকামী মানুষদের বন্দি করে শেকল পরিয়ে রাখাটাকেই যেন একটা অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছিল। বিপ্লবীদের রক্তে জমাট বাঁধা সেই কারাগারের কঠোর ভিত্তিটিকেই কবি ব্যঙ্গের সুরে ‘শিকল-পূজোর পাষাণ-বেদী’ বলেছেন।
    কবির বিদ্রোহের স্বরূপ: কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহ শুধু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ছিল না, এই বিদ্রোহ ছিল সামগ্রিক পরাধীনতা, দাসত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি অনুভব করেছিলেন, কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, মানসিক দাসত্ব থেকেও দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে। তাই তিনি অহিংসার বদলে ধ্বংসের দেবতা শিবের আরাধনা করেছেন। তিনি মনে করতেন, ব্রিটিশদের তৈরি এই জীর্ণ ও কলুষিত শাসন কাঠামোটি সমূলে ধ্বংস না করলে স্বাধীনতার নতুন সূর্য উঠবে না। তাই জেলের তালায় লাথি মারা বা বন্দিশালায় আগুন জ্বালানোর মতো চরমপন্থী আহ্বানের মধ্যে দিয়েই কবির আপসহীন ও অগ্নিবর্ষী বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটেছে।
  3. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ব্যবহৃত পৌরাণিক ও বীরত্বব্যঞ্জক অনুষঙ্গগুলি কীভাবে কবিতার ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে? আলোচনা করো।
    উত্তর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ভারতীয় পুরাণ এবং ইতিহাস থেকে বিভিন্ন বীরত্বব্যঞ্জক অনুষঙ্গ তুলে এনে সাধারণ মানুষের মনে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন।
  • শিবের অনুষঙ্গ: কবি তরুণ সমাজকে ‘ঈশান’ বা ‘পাগলা ভোলা’ বলেছেন। পুরাণে শিব যেমন তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে পৃথিবীর সমস্ত অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন, তেমনি তরুণ সমাজও পরাধীনতার আবর্জনা দূর করবে।
  • গাজন ও দন্দুভি: শিবের উৎসব ‘গাজন’ এবং যুদ্ধের বাদ্য ‘দন্দুভি’-র উল্লেখ করে কবি স্বাধীনতা সংগ্রামকে এক পবিত্র ও প্রমত্ত মহোৎসবের রূপ দিয়েছেন।
  • হৈদরী হাঁক: ইসলাম ধর্মের অসীম সাহসী বীর হজরত আলির (হায়দর) সিংহগর্জন বা ‘হৈদরী হাঁক’-কে কবি এখানে ব্যবহার করেছেন, যা বিপ্লবীদের মনে সাহস জোগানোর পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়েছে।
  • কাল-বোশেখি: কালবৈশাখী ঝড় যেমন মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু তছনছ করে দেয়, এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবশ্যম্ভাবী পতনের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
    এই অনুষঙ্গগুলোর চমৎকার ব্যবহারের ফলেই কবিতাটি নিছক কোনো রাজনৈতিক কবিতা না থেকে এক মহাজাগতিক বিপ্লবের রূপ পেয়েছে।
  1. প্রশ্ন: “ভগবান পরবে ফাঁসি? / সর্বনাশী / শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?”— কবি নজরুলের এই বিদ্রূপাত্মক উক্তির প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
    উত্তর: প্রেক্ষাপট: ব্রিটিশ সরকার যখন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছিল এবং একের পর এক বিপ্লবীকে রাজদ্রোহের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিকাঠে ঝোলাচ্ছিল, ঠিক সেই মর্মান্তিক প্রেক্ষাপটেই কবির কলম থেকে এই তীব্র ব্যঙ্গাত্মক উক্তিটি বেরিয়ে আসে।
    গুরুত্ব: নজরুলের চোখে দেশপ্রেম হলো ঈশ্বরের আরাধনা, আর আত্মত্যাগী বিপ্লবীরা হলেন সেই ভগবানেরই প্রতিরূপ। অহংকারী ব্রিটিশ শাসকরা যখন মনে করেছিল যে বিপ্লবীদের ফাঁসি দিলেই দেশের স্বাধীনতার দাবি স্তব্ধ হয়ে যাবে, তখন কবি তাদের সেই মূর্খতাকে চরম বিদ্রূপ করেছেন। কবির মতে, সত্য ও ভগবান হলো চিরন্তন ও অবিনশ্বর; তাকে কি কখনও ফাঁসিতে ঝোলানো যায়? ইংরেজদের এই উদ্ধত চিন্তাভাবনাকে কবি একটি ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের ‘হীন তথ্য’ বা নীচ রটনা বলে উপহাস করেছেন। এই বিদ্রূপের মধ্য দিয়ে কবি আসলে স্বাধীনতাকামী মানুষের মন থেকে ফাঁসির ভয় দূর করে তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
  2. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কবির ধ্বংসাত্মক মানসিকতা যে আসলে এক উন্নত ও নতুন সৃষ্টির ইঙ্গিতবাহী— তা যুক্তিসহযোগে আলোচনা করো।
    উত্তর: আপাতদৃষ্টিতে ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি পড়লে মনে হতে পারে কবি কেবল ভাঙচুর, আগুন জ্বালানো বা তালা ভাঙার মতো ধ্বংসাত্মক কথা বলেছেন। কিন্তু একটু গভীরে গেলেই বোঝা যায়, নজরুলের এই ধ্বংসের ডাক কেবল বিনাশের জন্য নয়, বরং এটি এক নতুন ভারত গড়ার প্রথম ধাপ।
    কবি খুব ভালো করেই জানতেন যে, পরাধীনতার জীর্ণ ও পচা গলার ভিত্তির ওপর কখনও স্বাধীনতার মজবুত ইমারত তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই তিনি মহাপ্রলয়ের দেবতা শিবকে আহ্বান জানিয়েছেন। প্রলয়ের পরেই যেমন পৃথিবীতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়, ঠিক তেমনই ব্রিটিশদের তৈরি পরাধীনতার প্রাচীর ধূলিসাৎ হলেই স্বাধীন ভারতবর্ষের জন্ম হবে। কালবৈশাখী যেমন পুরনো শুকনো পাতা উড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে সতেজ করে, নজরুলের এই বিদ্রোহও ভারতের মাটি থেকে পরাধীনতার সমস্ত কলঙ্ক ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে। তাই জেলের শিকল বা লৌহ-কপাট ভাঙার এই আহ্বান আসলে পরাধীনতার অন্ধকার ঘুচিয়ে স্বাধীনতার নতুন আলো আনার এক সুনিশ্চিত ইঙ্গিত।
  3. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। একটি সাহিত্যকর্মে এই নামটি কতটা মানানসই?
    উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা রচনার মূল ভাব বা বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করে। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ভাঙার গান’ কবিতাটির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
    অসহযোগ আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ পটভূমিতে রচিত এই কবিতায় কবি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল ‘ভাঙার’ কথা বলেছেন। কবিতার শুরুতেই তিনি পরাধীনতার প্রতীক “কারার ওই লৌহ-কপাট” ভাঙার ডাক দিয়েছেন। এরপর তিনি জেলের গারদ ধরে হেঁচকা টান মারা, তালায় লাথি মারা এবং জেলের পাষাণ-বেদী ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে কবির এই ‘ভাঙা’ নিছক কোনো উশৃঙ্খলতা নয়, এর পেছনে রয়েছে ব্রিটিশদের তৈরি শোষণের শিকল ভেঙে দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার এক পবিত্র উদ্দেশ্য। অন্যদিকে ‘গান’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বিপ্লবীদের সেই সম্মিলিত ও ছন্দোবদ্ধ আন্দোলনের সুরকে বোঝাতে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এবং পরাধীনতার সমস্ত আগল ভেঙে ফেলার যে দুর্বার আকাঙ্ক্ষা কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে, তার নিরিখে বলা যায় ‘ভাঙার গান’ নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও শিল্পমণ্ডিত হয়েছে।
  4. প্রশ্ন: “মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!”— এই আপাত বিরোধী উক্তির আলোকে দেশের বিপ্লবীদের জীবনদর্শন আলোচনা করো।
    উত্তর: সাধারণ মানুষের কাছে মৃত্যু মানেই হলো সবকিছুর শেষ, এক গভীর অন্ধকার। কিন্তু ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলাম বিপ্লবীদের উদ্দেশে মৃত্যুকে জীবনের পানে বা অভিমুখে ডাকার যে অদ্ভুত নির্দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে লুকিয়ে আছে এক চরম আত্মত্যাগের জীবনদর্শন।
    কবির মতে, দেশের পরাধীনতা ও গ্লানি মাথায় নিয়ে যে বেঁচে থাকা, তা আসলে রোজ মৃত্যুর সমান। তাই তিনি চেয়েছেন দেশের তরুণরা মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে হাসিমুখে তাকে বরণ করে নিক। কারণ, দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসিকাঠে কোনো বিপ্লবীর মৃত্যু ঘটলে, তা বৃথা যায় না। সেই এক জনের আত্মবলিদান লক্ষ লক্ষ তরুণকে নতুন করে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। অর্থাৎ, একজন বিপ্লবীর মৃত্যু আসলে দেশমাতৃকার জন্য এক নতুন জীবনের সূচনা করে। আরাম-আয়েশে বেঁচে থাকার চেয়ে দেশের তরে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এই উচ্চতর মানসিকতাই হলো প্রকৃত বিপ্লবীদের আসল জীবনদর্শন, যা তাঁদের চির অমর করে রাখে।
  5. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ পাঠ্যাংশে কবির যে তীব্র দেশপ্রেম ও বিদ্রোহী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়, তা সংক্ষেপে লেখো।
    উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবেই অমর হয়ে আছেন। তাঁর সেই আপসহীন বিদ্রোহী মানসিকতা এবং গভীর দেশপ্রেমের এক জ্বলন্ত প্রমাণ হলো ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি।
    তৎকালীন বিদেশি ব্রিটিশ সরকার ভারতের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের ওপর যে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাচ্ছিল এবং তাঁদের কারাবন্দি করছিল, তা কবির মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে কবি সাধারণ কোনো আবেদন-নিবেদনের পথে হাঁটেননি, বরং তিনি সরাসরি সশস্ত্র বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তিনি তরুণ বিপ্লবীদের শিবের রুদ্ররূপ ধারণ করে কারার লৌহকপাট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্রিটিশদের তৈরি বন্দিশালায় আগুন জ্বালিয়ে সমস্ত শিকল পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে। শাসকের ফাঁসিকাঠকে ভয় না পেয়ে, মৃত্যুকে জয় করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার এই যে অদম্য আহ্বান— এটাই নজরুলের গভীর মানবতাবোধ, দেশপ্রেম এবং বিদ্রোহী সত্তার সবচেয়ে বড়ো পরিচয়।
  6. প্রশ্ন: ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত হয়েছিল এবং এর মূল মর্মার্থ কী?
    উত্তর: ঐতিহাসিক পটভূমি: কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উত্তাল সময়ে, বিশেষত মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছিল। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সম্পাদিত ‘বাঙ্গালার কথা’ পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। সেই সময় ব্রিটিশ সরকার শয়ে শয়ে তরুণ বিপ্লবীকে জেলে বন্দি করে রেখেছিল।
    মর্মার্থ: কবিতাটির মূল মর্মার্থ হলো সশস্ত্র বিপ্লব ও চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করা। ব্রিটিশ শাসকরা স্বাধীনতাসংগ্রামীদের ফাঁসির দড়ি পরিয়ে ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু কবি এই কবিতায় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যাঁরা সত্যের পূজারি তাঁদের মৃত্যু নেই। তরুণ দেশপ্রেমীরা মহাদেবের মতো প্রলয় নৃত্য নেচে, কালবৈশাখীর মতো প্রবল বেগে এসে ব্রিটিশদের তৈরি সেই ভীমকারার ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে। সমগ্র দেশবাসীর প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার এবং ভারতের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার এক অবিস্মরণীয় বার্তাই হলো এই কবিতার মূল বিষয়।
  7. প্রশ্ন: “কারার ওই লৌহকপাট / ভেঙে ফেল, কররে লোপাট” — কবিতাংশের এই শুরুর পংক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
    উত্তর: ‘ভাঙার গান’ কবিতার একদম শুরুতেই কাজী নজরুল ইসলাম কোনো ভণিতা ছাড়াই সরাসরি আঘাত হেনেছেন পরাধীনতার প্রতীকের ওপর। এখানে ‘কারার ওই লৌহকপাট’ বলতে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নির্মিত মজবুত জেলখানার ভারী লোহার দরজাকে বোঝানো হয়েছে, যার পেছনে আটকে রাখা হতো দেশের শ্রেষ্ঠ বীর সন্তানদের।
    কবি এই পংক্তিটির মাধ্যমে এক স্পষ্ট ও জোরালো বার্তা দিয়েছেন যে, অত্যাচারী শাসকের কাছে মাথা নত করে বা ভিক্ষা মেগে স্বাধীনতা পাওয়া যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন চরম বিদ্রোহ। তাই তিনি দেশের যুবশক্তিকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন ওই জেলের লোহার কপাট ভেঙে একেবারে নিশ্চিহ্ন বা ‘লোপাট’ করে দিতে। এই লৌহকপাট ভাঙা আসলে নিছক কোনো দরজা ভাঙা নয়, এটি হলো ভারতবাসীর মনের দীর্ঘদিনের পরাধীনতার ভয় এবং দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার এক তীব্র মানসিক ও শারীরিক বহিঃপ্রকাশ।

নবম শ্রেণির বাংলা ‘ভাঙার গান’ কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর PDF Notes Free Download | Class 9 Bengali Bhangar Gaan Question Answer WBBSE

ভাঙার গান কবিতার PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Chapter ভাঙার গান কবিতা
Contents MCQ, SAQ, ২ ও ৩ নম্বর এবং বড়ো প্রশ্ন-উত্তর
PDF Notes Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment