নবম শ্রেণির দাম গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ, সংক্ষিপ্ত ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Dam Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

নবম শ্রেণির দাম গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ, সংক্ষিপ্ত ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Dam Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
নবম শ্রেণির দাম গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ, সংক্ষিপ্ত ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Dam Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজকের এই পোস্টে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘দাম’ গল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

এই গল্পে স্কুলজীবনের এক কঠোর অথচ আদর্শবান অঙ্কের মাস্টারমশাই এবং তাঁর প্রাক্তন ছাত্র সুকুমারের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শিক্ষাদানের প্রকৃত মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শিক্ষার মূল্য কীভাবে উপলব্ধি করা যায়, তা এই গল্পে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামদাম
লেখকনারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
কেন্দ্রীয় চরিত্রসুকুমার ও অঙ্কের মাস্টারমশাই
সাহিত্যধারাছোটগল্প

এখানে আমরা গল্পের সামারি বা লেখক পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যেসব প্রশ্ন ও উত্তর প্রয়োজন, সরাসরি সেগুলোই তুলে ধরব।

এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। অর্থাৎ, পরীক্ষায় আসতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তোমরা যদি আগের অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলোও একবার দেখে নিতে পারো।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘দাম’ গল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নোটের আকারে সাজিয়ে একটি PDF ফাইলও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে। বর্তমানে PDF-টি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রয়োজন হলে দেরি না করে ডাউনলোড করে নিজের কাছে রেখে দাও।

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘দাম’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।

নবম শ্রেণির বাংলা দাম গল্পের MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dam MCQ Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

দাম গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

1. ‘দাম’ গল্পটি কার লেখা?
(A) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
(B) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
(C) প্রেমেন্দ্র মিত্র
(D) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (B) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

2. সুকুমারদের স্কুলে ছাত্রদের কাছে সাক্ষাৎ বিভীষিকা স্বরূপ কে ছিলেন?
(A) হেডমাস্টারমশাই
(B) পণ্ডিতমশাই
(C) অঙ্কের মাস্টারমশাই
(D) ভূগোলের শিক্ষক
উত্তর: (C) অঙ্কের মাস্টারমশাই

3. “পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক পারিস নে…”—মাস্টারমশাই এরপর ছাত্রদের কী বলতেন?
(A) তোকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেব
(B) তোর বেঁচে থাকাই বৃথা
(C) তোর গলায় দড়ি দেওয়া উচিত
(D) তার ওপরে কাঁদতে লজ্জা করে না!
উত্তর: (D) তার ওপরে কাঁদতে লজ্জা করে না!

4. কথক সুকুমার পরবর্তী জীবনে কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে কোন বিষয়ে এম.এ. পাস করেছিলেন?
(A) ইতিহাস
(B) দর্শন
(C) বাংলা
(D) ইংরেজি
উত্তর: (C) বাংলা

5. ছেলেবেলার স্মৃতিকথা নিয়ে গল্প লেখার জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুকুমার কত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন?
(A) পাঁচ টাকা
(B) দশ টাকা
(C) পনেরো টাকা
(D) কুড়ি টাকা
উত্তর: (B) দশ টাকা

6. কার অনুরোধে বা ফরমায়েশে কথক তাঁর ছেলেবেলার মাস্টারমশাইকে নিয়ে স্মৃতিকথাটি লিখেছিলেন?
(A) একটি পত্রিকার সম্পাদকের
(B) প্রকাশকের
(C) বাবার
(D) স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের
উত্তর: (A) একটি পত্রিকার সম্পাদকের

7. ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্ক কষার সময় চক ভেঙে গেলে মাস্টারমশাই কী করতেন?
(A) ছাত্রদের বকতেন
(B) রেগে আগুন হয়ে যেতেন
(C) বিরক্ত হয়ে ভাঙা টুকরোটা ছুড়ে ফেলে দিতেন
(D) নতুন চক আনাতেন
উত্তর: (C) বিরক্ত হয়ে ভাঙা টুকরোটা ছুড়ে ফেলে দিতেন

8. একটি কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য সুকুমারকে কোথায় যেতে হয়েছিল?
(A) বাংলাদেশের এক প্রান্তে
(B) দিল্লিতে
(C) কলকাতায়
(D) শান্তিনিকেতনে
উত্তর: (A) বাংলাদেশের এক প্রান্তে

9. অনুষ্ঠান শেষে সুকুমারকে ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁর নিজের নাম ধরে কে ডাক দিয়েছিলেন?
(A) কলেজের প্রিন্সিপাল
(B) এক পুরোনো বন্ধু
(C) সেই বৃদ্ধ অঙ্কের মাস্টারমশাই
(D) স্থানীয় এক ছাত্র
উত্তর: (C) সেই বৃদ্ধ অঙ্কের মাস্টারমশাই

10. সুকুমারের লেখা গল্পটি পড়ে মাস্টারমশাই কী বলে গর্ববোধ করেছিলেন?
(A) আমার ছাত্র মস্ত লেখক হয়েছে
(B) আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে
(C) তুমি জীবনে অনেক বড়ো হও
(D) আমার ছাত্র অঙ্কে ফেল করেও আজ সফল
উত্তর: (B) আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে

11. কলেজে সুকুমারের লম্বা ও ভারী বক্তৃতা শুনে কে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছিলেন?
(A) কলেজের ছাত্রছাত্রীরা
(B) স্থানীয় দর্শকরা
(C) বৃদ্ধ প্রিন্সিপাল
(D) মাস্টারমশাই
উত্তর: (C) বৃদ্ধ প্রিন্সিপাল

12. “ছবিটা যা ফুটল, তা খুব উজ্জ্বল নয়।”—এখানে কার শাসনপ্রণালীর ছবির কথা বলা হয়েছে?
(A) হেডমাস্টারের
(B) বাবার
(C) অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের
(D) কথকের নিজের
উত্তর: (C) অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের

13. বহু বছর পর অচেনা জায়গায় মাস্টারমশাইয়ের গলা শুনে সুকুমারের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
(A) আনন্দে আত্মহারা
(B) রাগে ক্ষিপ্ত
(C) ভয়ের মৃদু শিহরণ জেগেছিল
(D) চরম অবাক হয়েছিল
উত্তর: (C) ভয়ের মৃদু শিহরণ জেগেছিল

14. মাস্টারমশাই সুকুমারের লেখা সেই গল্পটা কোথা থেকে সযত্নে বের করেছিলেন?
(A) বুকপকেট থেকে
(B) একটি জীর্ণ পত্রিকা থেকে
(C) চাদরের তলা থেকে
(D) চামড়ার ব্যাগ থেকে
উত্তর: (B) একটি জীর্ণ পত্রিকা থেকে

15. ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে মাস্টারমশাই রেগে গিয়ে তাদের কোথায় ছুড়ে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখাতেন?
(A) জানলার বাইরে
(B) স্কুলের পুকুরে
(C) ছাদের ওপর থেকে
(D) কাঁটাঝোপে
উত্তর: (B) স্কুলের পুকুরে

16. ব্ল্যাকবোর্ডে কার হাতের খড়ির টানে মিহিন রেখার মতো অঙ্কের ছবি ফুটে উঠত?
(A) প্রধান শিক্ষকের
(B) সুকুমারের
(C) অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের
(D) বিজ্ঞানের শিক্ষকের
উত্তর: (C) অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের

17. গল্পের শেষে মাস্টারমশাইকে চিনতে পেরে সুকুমার অবাক হয়ে কী বলে উঠেছিলেন?
(A) স্যার, আপনি এখানে!
(B) মাস্টারমশাই, আপনি!
(C) গুরুজি, প্রণাম!
(D) কে আপনি?
উত্তর: (B) মাস্টারমশাই, আপনি!

18. মাস্টারমশাইয়ের মতে, ভালো করে অঙ্ক জানাটা আসলে কোথায় প্রবেশের ছাড়পত্র?
(A) স্বর্গের দরজায়
(B) বিশ্ববিদ্যালয়ে
(C) রাজপ্রাসাদে
(D) বৈকুণ্ঠে
উত্তর: (A) স্বর্গের দরজায়

19. কলেজের সেই সভায় সুকুমারের বক্তৃতায় কার উদ্ধৃতি ছিল না?
(A) রবীন্দ্রনাথের
(B) জর্জ বার্নার্ড শ-এর
(C) শেক্সপিয়রের
(D) মাস্টারমশাইয়ের
উত্তর: (D) মাস্টারমশাইয়ের

20. বহু বছর পর দেখা হওয়া সেই অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের বর্তমান অবস্থা কেমন ছিল?
(A) তিনি প্রধান শিক্ষক হয়েছেন
(B) তিনি অসুস্থ
(C) তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন
(D) তিনি ব্যবসা করছেন
উত্তর: (C) তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন

21. ক্লাসে অঙ্কের মাস্টারমশাই যখন অঙ্ক কষাতেন, তখন পরিবেশ কেমন থাকত?
(A) প্রচণ্ড কোলাহলপূর্ণ
(B) একদম তটস্থ ও শান্ত
(C) হাসিখুশি
(D) ঘুমন্ত
উত্তর: (B) একদম তটস্থ ও শান্ত

22. ছেলেবেলার সেই অভিজ্ঞতায় সুকুমারের মনে হয়েছিল, মাস্টারমশাইয়ের শাসনের ধরনটা আসলে কেমন?
(A) ভীষণ বিজ্ঞানসম্মত
(B) একেবারেই অহেতু তাড়না করা
(C) খুব আধুনিক
(D) অত্যন্ত বন্ধুসুলভ
উত্তর: (B) একেবারেই অহেতু তাড়না করা

23. সুকুমারের মাথায় হাত রেখে মাস্টারমশাই প্রাণভরে কী আশীর্বাদ করেছিলেন?
(A) অনেক টাকা রোজগার করো
(B) বেঁচে থাকো বাবা, যশস্বী হও
(C) তুমি অনেক বড়ো লেখক হও
(D) সুখে শান্তিতে সংসার করো
উত্তর: (B) বেঁচে থাকো বাবা, যশস্বী হও

24. মাস্টারমশাইয়ের সেই উদারতার সামনে দাঁড়িয়ে সুকুমারের নিজেকে কেমন মনে হচ্ছিল?
(A) খুব গর্বিত
(B) একদম উদাসীন
(C) অপরাধীর মতো
(D) অত্যন্ত রাগান্বিত
উত্তর: (C) অপরাধীর মতো

25. মাস্টারমশাইয়ের মতে, সুকুমারের লেখা সেই গল্পটা পড়ে তাঁর চোখে কী এসেছিল?
(A) ঘুম
(B) রাগ
(C) জল
(D) অহংকার
উত্তর: (C) জল

26. “এ অপরাধ আমি বইব কী করে”—গল্পের শেষে এই তীব্র অনুশোচনা কার মনে জেগেছিল?
(A) প্রিন্সিপালের
(B) পত্রিকার সম্পাদকের
(C) সুকুমারের
(D) মাস্টারমশাইয়ের
উত্তর: (C) সুকুমারের

27. গল্পের একেবারে শেষে মাস্টারমশাইয়ের বিশাল হৃদয়কে কার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
(A) বিশাল নীল আকাশের সঙ্গে
(B) অভেদ্য হিমালয়ের সঙ্গে
(C) স্নেহ-মমতা-ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের সঙ্গে
(D) শান্ত নদীর সঙ্গে
উত্তর: (C) স্নেহ-মমতা-ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের সঙ্গে

28. সুকুমার বক্তৃতার সময় একটা ইংরেজি কোটেশন কার নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন?
(A) উইলিয়াম শেকসপিয়র
(B) জন মিলটন
(C) জর্জ বার্নার্ড শ
(D) চার্লস ডিকেন্স
উত্তর: (C) জর্জ বার্নার্ড শ

29. “পৃথিবীতে যত _____ ছিল, সব যেন ওঁর মুখস্থ।”—শূন্যস্থানে কী বসবে?
(A) কবিতা
(B) ব্যাকরণ
(C) অঙ্ক
(D) গল্পের বই
উত্তর: (C) অঙ্ক

30. প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল বলে গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে?
(A) স্মৃতির দিকে তাকাবার অবসর নেই
(B) যে অঙ্ক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ
(C) বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ
(D) জ্ঞানই শক্তি
উত্তর: (B) যে অঙ্ক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ

নবম শ্রেণির বাংলা দাম গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) | Class 9 Bengali Dam Short Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

1. বোর্ডে অঙ্ক কষার সময় খড়ি ভেঙে গেলে অঙ্কের মাস্টারমশাই কী করতেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই যখন ঝড়ের গতিতে বোর্ডে অঙ্ক কষতেন, তখন হঠাৎ খড়ি বা চক ভেঙে গেলে তাঁর কাজের ছন্দে বাধা পড়ত। এতে তিনি প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে ভাঙা টুকরোটা ছাত্রদের দিকে ছুড়ে মারতেন।

2. “পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক পারিস নে…”—মাস্টারমশাই ছাত্রদের এমন কথা বলতেন কেন?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, অঙ্ক পারার মধ্যেই ছেলেদের আসল বুদ্ধিমত্তা আর পৌরুষ লুকিয়ে আছে। তাই ক্লাসে কেউ অঙ্ক না পারলে তিনি এই বলে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করতেন।

3. গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল বলে অঙ্কের মাস্টারমশাই ছাত্রদের জানাতেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই ছাত্রদের ভয় দেখানোর জন্য বলতেন যে, প্লেটোর দরজায় স্পষ্ট করে লেখা আছে—যে ব্যক্তি অঙ্ক জানে না, এই বাড়িতে তার প্রবেশ করা চিরতরে নিষেধ।

4. মাস্টারমশাইয়ের মতে স্বর্গের দরজাতে কী লেখা আছে?
উত্তর: ছাত্রদের অঙ্কের প্রতি ভয় ও গুরুত্ব বোঝাতে মাস্টারমশাই বলতেন যে, স্বর্গের দরজাতেও নাকি প্লেটোর বাড়ির মতোই লেখা আছে—যাঁরা অঙ্ক জানেন না, স্বর্গে তাঁদের প্রবেশ নিষেধ।

5. একটি পত্রিকার তরফ থেকে ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ এলে সুকুমার কী নিয়ে গল্প লিখেছিলেন?
উত্তর: পত্রিকার ফরমাশ পেয়ে সুকুমার তাঁর স্কুলজীবনের সেই ভয়ংকর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন আর ছাত্রদের মনে তাঁর প্রতি থাকা ভীতির কথা নিয়েই একটি স্মৃতিচারণমূলক গল্প লিখেছিলেন।

6. “মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ।”—এখানে ‘নগদ লাভ’ বলতে সুকুমার কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন নিয়ে পত্রিকায় একটি গল্প লিখে সুকুমার পারিশ্রমিক হিসেবে দশ টাকা পেয়েছিলেন। এই দশ টাকা পাওয়াকেই তিনি ব্যঙ্গ করে ‘নগদ লাভ’ বলেছেন।

7. “এম.এ. পাশ করবার পরেও স্বপ্ন দেখেছি…”—কথক সুকুমার কী স্বপ্ন দেখতেন?
উত্তর: এম.এ. পাশ করে কলেজে পড়ানোর চাকরি পেলেও সুকুমার মাঝে মাঝেই স্বপ্নে দেখতেন যে, পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা বাজতে চললেও তাঁর অঙ্ক মিলছে না, আর মাস্টারমশাই কড়া চোখে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন।

8. ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর সুকুমার কোন বড়ো বিপদের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন?
উত্তর: ম্যাট্রিকুলেশন বা ম্যাট্রিক গণ্ডি পার হওয়ার পর সুকুমার বাংলা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ফলে তাঁকে আর অঙ্ক কষতে হয়নি এবং তিনি অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকেও চিরকালের মতো রেহাই পেয়েছিলেন।

9. “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।”—এখানে ‘পঞ্চত্ব পাওয়া’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘পঞ্চত্ব পাওয়া’ মানে হলো মারা যাওয়া বা মৃত্যু হওয়া। এখানে মাস্টারমশাইয়ের অতিরিক্ত কড়া শাসন আর মারধরের ফলে দুর্বল ছাত্রদের সামান্য সম্ভাবনাটুকুও যে নষ্ট হয়ে যায়, সেটাই বোঝানো হয়েছে।

10. “তার প্রমাণ আমি নিজেই।”—কথক সুকুমার নিজেকে কীসের প্রমাণ বলেছেন?
উত্তর: অতিরিক্ত মারধর বা ভয় দেখিয়ে যে কাউকে জোর করে কিছু শেখানো যায় না, সুকুমার নিজেকে সেই কথারই সবচেয়ে বড়ো জীবন্ত প্রমাণ বলে দাবি করেছেন।

11. স্কুলে ছাত্রদের কাছে মস্ত বড়ো ‘বিভীষিকা’ বা আতঙ্কের কারণ কে ছিলেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে দেখা যায়, স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন ও বদমেজাজই ছিল ছাত্রদের কাছে সবচেয়ে বড়ো বিভীষিকার কারণ।

12. “কিন্তু কাঁদবার জো ছিল না”—মাস্টারমশাইয়ের হাতে মার খাওয়ার পরেও ছাত্রদের কাঁদার উপায় ছিল না কেন?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের মার খেয়ে কোনো ছাত্রের চোখে এক ফোঁটা জল দেখলেই তিনি আরও রেগে যেতেন এবং পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তাই ভয়ে কেউ কাঁদতেও পারত না।

13. ছাত্ররা কীভাবে আন্দাজ করেছিল যে মাস্টারমশাই সত্যিই তাদের পুকুরে ছুড়ে ফেলতে পারেন?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাতের চড়ের জোর এতটাই সাংঘাতিক ছিল যে, সেই চড় খেয়েই ছাত্ররা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে মাস্টারমশাই চাইলে অনায়াসেই তাদের পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দিতে পারেন।

14. “ছবিটা যা ফুটল, তা খুব উজ্জ্বল নয়।”—এখানে কোন ছবির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সুকুমার তাঁর পত্রিকায় লেখা গল্পটিতে ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের যে কঠোর, নিষ্ঠুর ও ভীতিকর রূপের বর্ণনা দিয়েছিলেন, এখানে সেই শাসনপ্রণালীর ছবির কথাই বলা হয়েছে।

15. বহু বছর পর একটা ডাক শুনে সুকুমারের বুকের ভেতর দিয়ে ভয়ের মৃদু শিহরণ বয়ে গেল কেন?
উত্তর: বাংলাদেশের এক প্রান্তের কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার পর হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে মাস্টারমশাইয়ের সেই চেনা গম্ভীর গলার ডাক শুনে সুকুমারের মনে স্কুলজীবনের সেই পুরোনো ভীতি আর আতঙ্ক ফিরে এসেছিল।

16. অন্ধকার মাঠে সুকুমার তাঁর মাস্টারমশাইকে কেমন রূপে দেখেছিলেন?
উত্তর: সুকুমার দেখেছিলেন যে, বয়সের ভারে মাস্টারমশাইয়ের শরীরটা কুঁজো হয়ে গেছে, তিনি বেশ লম্বা এবং মাঠের হালকা অন্ধকারেও তাঁর মাথার সাদা চুলগুলো চিকমিক করছে।

17. সুকুমারের লেখা সেই গল্পটা মাস্টারমশাই কোথা থেকে বের করেছিলেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই তাঁর গায়ের চাদরের তলা থেকে একটি পুরোনো ও জীর্ণ পত্রিকা বের করেছিলেন, যার মধ্যেই সুকুমারের লেখা সেই ছোটগল্পটি ছাপা হয়েছিল।

18. সুকুমারের লেখা সমালোচনাটি পড়েও মাস্টারমশাই কেন খুশি হয়েছিলেন?
উত্তর: সুকুমার গল্পে তাঁর কড়া সমালোচনা করলেও, মাস্টারমশাই ভেবেছিলেন যে তাঁর ছাত্র এতদিন পরেও তাঁকে মনে রেখেছে এবং নিজের লেখার মাধ্যমে তাঁকে অমর করে দিয়েছে। এই ভেবেই তিনি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন।

19. সুকুমারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের চোখে জল এসে পড়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: সুকুমারের মতো এত বড়ো একজন প্রতিষ্ঠিত ছাত্র যে তাঁকে নিয়ে গর্ব করে পত্রিকায় গল্প লিখেছে, বৃদ্ধ বয়সে এই অপ্রত্যাশিত সম্মান আর ভালোবাসার আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়েই মাস্টারমশাইয়ের চোখে জল এসে গিয়েছিল।

20. “এ অপরাধ আমি বইব কী করে?”—সুকুমার কোন অপরাধের কথা বলেছেন?
উত্তর: যে মাস্টারমশাই তাঁকে এত স্নেহ করেন, সুকুমার সামান্য দশ টাকার লোভে সেই গুরুর কড়া শাসনের সমালোচনা করে গল্প লিখেছিলেন। গুরুর এই অকৃত্রিম ভালোবাসার সামনে দাঁড়িয়ে সুকুমারের নিজের সেই কাজটাকেই এক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে মনে হয়েছিল।

21. কথক সুকুমার কলেজে কোন বিষয় পড়াতেন?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেয়ে পরবর্তী জীবনে কথক সুকুমার কলেজে বাংলার অধ্যাপক হয়েছিলেন।

22. “সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ”—এই কথাটি দিয়ে লেখক কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর: এই কথাটি দিয়ে লেখক মূলত সাহিত্যজগতের সেইসব বড়ো বড়ো রথী-মহারথী বা স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বুঝিয়েছেন।

23. সুকুমারের মতে জ্যামিতির এক্সট্রা কষার চেয়েও কোনটা বেশি নিরাপদ ছিল?
উত্তর: সুকুমার মনে করতেন, স্বর্গে গিয়ে জ্যামিতির এক্সট্রা কষার মতো কঠিন কাজের চেয়ে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে অন্তত লক্ষ যোজন দূরে থাকাটা অনেক বেশি নিরাপদ।

24. “তাহলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।”—ছেলেবেলার গল্প লেখার ক্ষেত্রে কথকের এমন নির্ভয়তার কারণ কী ছিল?
উত্তর: যে পত্রিকা থেকে গল্প লেখার ডাক এসেছিল, সেই পত্রিকার পাঠকসংখ্যা ছিল খুবই সামান্য। তাই সুকুমার ভেবেছিলেন তাঁর লেখা গল্প তেমন কেউ পড়বে না এবং কারও কাছে সেটা স্পর্ধার মনে হবে না। এই ভেবেই তিনি নির্ভয়ে লিখেছিলেন।

25. গল্প থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মাস্টারমশাইয়ের বর্তমান অবস্থা কেমন?
উত্তর: গল্পের শেষে আমরা জানতে পারি যে, মাস্টারমশাই এখন স্কুল থেকে অবসর নিয়েছেন এবং বাংলাদেশের ওই প্রান্তিক এলাকাতেই কোনো এক বাড়িতে মাথা গুঁজে নিজের শেষজীবন কাটাচ্ছেন।

নবম শ্রেণির বাংলা দাম গল্পের ২ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dam 2 Marks Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

1. “বিস্ময়ের ঘোর আর কাটে না”—কার, কেন এমন অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাই যখন ব্ল্যাকবোর্ডে কোনো কঠিন অঙ্ক কষতেন, তখন তাঁর হাতের খড়ি ঝড়ের বেগে চলত। চোখের পলকে তিনি কঠিন অঙ্ককেও ছবির মতো সহজে বোর্ডে সাজিয়ে দিতেন। মাস্টারমশাইয়ের এই জাদুকরী ক্ষমতা দেখেই ছাত্রদের বিস্ময়ের ঘোর কাটত না।

2. “পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক না-পারা”—এ বিষয়ে মাস্টারমশাইয়ের ধারণা কীরূপ ছিল?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের মতে, অঙ্ক হলো একটা কঠিন সাধনার বিষয়। আর কঠিনকে জয় করার মধ্যেই আসল পুরুষত্ব লুকিয়ে আছে। তাই কোনো ছেলে যদি অঙ্ক না পারে, তবে সেটা তার পৌরুষের অভাব বা ঘাটতি বলেই তিনি মনে করতেন। তাঁর চোখে এটা ছিল চরম লজ্জার বিষয়।

3. কথক সুকুমার এম.এ. পাশ করার পরেও স্বপ্নে কী দেখতেন?
উত্তর: এম.এ. পাশ করে যাওয়ার পরেও সুকুমার প্রায়ই একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখতেন। তিনি দেখতেন, পরীক্ষার হলে বসে আছেন, লাস্ট বেল বাজার সময় হয়ে গেছে, অথচ তাঁর অঙ্ক কিছুতেই মিলছে না। আর ঠিক তখনই যমদূতের মতো মাস্টারমশাই সামনে এসে কড়া ধমক দিচ্ছেন।

4. পত্রিকায় গল্প প্রকাশের পর সুকুমার মনে মনে কী আত্মতৃপ্তি লাভ করেছিলেন?
উত্তর: সুকুমারের ধারণা ছিল, তাঁর লেখা ওই গল্প মাস্টারমশাইয়ের হাতে কোনোদিনই পৌঁছাবে না। তাই তিনি অত্যন্ত নির্ভয়ে, নিজের ছোটবেলার সমস্ত রাগ আর ক্ষোভ মিশিয়ে মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসনের সমালোচনা করেছিলেন এবং তার বিনিময়ে পত্রিকা থেকে দশ টাকা রোজগার করেছিলেন। এটাই ছিল তাঁর আত্মতৃপ্তি।

5. রাজকীয় সম্বর্ধনা পেয়ে কথক সুকুমারের মনের মধ্যে কেমন পরিবর্তন এসেছিল?
উত্তর: কলকাতা শহরের বাইরে বাংলাদেশের এক প্রান্তিক কলেজে গিয়ে সুকুমার যখন দেখলেন তাঁকে রীতিমতো রাজকীয় সম্মান দেওয়া হচ্ছে, তখন তাঁর ভেতরের অহংকারটা বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, সাধারণ পাখিও অচেনা জায়গায় গেলে হয়তো রাজহাঁসের সম্মান পেয়ে থাকে।

6. “আমার মনটাকে অদ্ভুতভাবে দুলিয়ে দিল”—কীসের প্রভাবে কথকের এমন অনুভূতি হয়েছিল?
উত্তর: সুকুমারের বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর ভিড়ের মধ্যে থেকে হঠাৎ কেউ একজন খুব চেনা এবং নিখুঁত উচ্চারণে ‘সুকুমার!’ বলে ডাক দিয়ে ওঠে। বহু বছর পর শোনা সেই পরিচিত গলার স্বর মুহূর্তের মধ্যে সুকুমারের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা শৈশবের স্মৃতি আর মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সেই পুরোনো ভীতি জাগিয়ে তুলেছিল।

7. মাস্টারমশাই ছাত্র সুকুমারের কাছে কেন ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছিলেন?
উত্তর: বয়সের ভারে মাস্টারমশাই উপলব্ধি করেছিলেন যে, ছোটবেলায় ছাত্রদের অঙ্ক শেখানোর নামে তিনি হয়তো বড্ড বেশি কড়া শাসন করে ফেলেছিলেন, যা ছিল অন্যায়। তাঁর মনে হয়েছিল, সুকুমার গল্প লিখে তাঁর সেই অন্যায়েরই জবাব দিয়েছে এবং তাঁকে অমর করেছে। তাই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে ছাত্রের কাছে ক্ষমার কথা বলেছিলেন।

8. সুকুমার শেষপর্যন্ত কেন মাস্টারমশাইয়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন?
উত্তর: সুকুমার ভেবেছিলেন মাস্টারমশাই গল্প পড়ে রেগে যাবেন। কিন্তু তার বদলে তিনি দেখলেন মাস্টারমশাইয়ের বিশাল উদারতা এবং ছাত্রের প্রতি তাঁর বুকভরা গর্ব। গুরুর এই অসীম স্নেহ আর ক্ষমার মহাসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে সুকুমার নিজের কাজের জন্য চরম লজ্জিত হন এবং গভীর শ্রদ্ধায় তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন।

9. “এই লেখা আমি সকলকে দেখাই”—মাস্টারমশাই এখানে কোন লেখার কথা বুঝিয়েছেন?
উত্তর: সুকুমার তাঁর ছোটবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন নিয়ে একটি পত্রিকায় যে স্মৃতিকথামূলক গল্পটি লিখেছিলেন, মাস্টারমশাই নিজের চাদরের তলায় সযত্নে লুকিয়ে রাখা সেই জীর্ণ পত্রিকার গল্পটির কথাই এখানে বুঝিয়েছেন।

10. মাস্টারমশাই কেন তাঁর ছাত্র সুকুমারকে চিঠি লিখতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: সুকুমারের লেখা গল্পটি পড়ে মাস্টারমশাইয়ের বুক গর্বে ভরে উঠেছিল। আনন্দে তিনি তাঁর এই প্রিয় ছাত্রকে একটা চিঠি লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছাত্র এখন অনেক বড়ো মাপের মানুষ হয়ে গেছে, এই ভেবে শেষমেশ আর চিঠি লেখার সাহস করে উঠতে পারেননি।

11. বৃদ্ধ প্রিন্সিপাল কেন সুকুমারের বক্তৃতাকে ‘সারগর্ভ’ বলে প্রশংসা করেছিলেন?
উত্তর: সুকুমার তাঁর বক্তৃতার সময় বেশ কায়দা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জর্জ বার্নার্ড শ-এর কিছু বিখ্যাত উক্তি বা কোটেশন ব্যবহার করে নিজের বক্তব্যকে খুব সুন্দরভাবে সাজিয়েছিলেন। তাঁর এই গুছিয়ে কথা বলার ভঙ্গি দেখেই বৃদ্ধ প্রিন্সিপাল মুগ্ধ হয়ে বক্তৃতাকে ‘সারগর্ভ’ বলেছিলেন।

12. সুকুমার কেন এমন আক্ষেপ করেছিলেন যে, তিনি মাস্টারমশাইকে মাত্র দশ টাকায় বিক্রি করেছেন?
উত্তর: সুকুমার বুঝতে পেরেছিলেন যে, মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন আসলে তাঁর অন্তরের গভীর স্নেহ আর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। অথচ সুকুমার সেই অমূল্য ভালোবাসার মর্ম না বুঝে, পত্রিকায় তার কড়া সমালোচনা করে মাত্র দশ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। এই তীব্র অপরাধবোধ থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি তাঁর মাস্টারমশাইকে সস্তায় বিক্রি করে দিয়েছেন।

নবম শ্রেণির বাংলা দাম গল্পের ৩ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dam 3 Marks Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

1. “স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলোক!” — বক্তার কেন এমন মনে হয়েছে?
উত্তর: ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার তাঁর ছোটবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে এই কথাটি বলেছেন। মাস্টারমশাই অঙ্কে যেমন তুখোড় ছিলেন, তেমনি তাঁর মেজাজও ছিল প্রচণ্ড কড়া। কোনো ছাত্র অঙ্ক না পারলে তিনি ভয়ানক রেগে যেতেন, কড়া ভাষায় বকাঝকা করতেন এবং তাঁর প্রকাণ্ড হাতের বিশাল চড় ছাত্রদের পিঠে এসে পড়ত। তাঁর এই রাগী মূর্তি আর কড়া শাস্তির ভয়েই ছাত্ররা সবসময় তটস্থ থাকত, আর সেই কারণেই সুকুমারের কাছে তিনি ছিলেন এক মূর্তমান বিভীষিকা বা আতঙ্কের নাম।

2. “পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক পারিসনে—তার উপরে কাঁদতে লজ্জা করে না?” — এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মাস্টারমশাইয়ের কোন মানসিকতা ফুটে উঠেছে?
উত্তর: এই উক্তিটির মধ্যে দিয়ে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের একটু প্রাচীনপন্থী অথচ অত্যন্ত কড়া শিক্ষাদর্শনের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি মনে করতেন, পুরুষ মানুষ মাত্রই কঠিনকে জয় করতে পারবে, আর অঙ্ক শেখাটাও সেই কঠিন পৌরুষেরই একটা অঙ্গ। তাই অঙ্ক না পারাটা তাঁর কাছে পুরুষত্বের অভাব বলে মনে হতো। এর পাশাপাশি, তাঁর মার খেয়ে কোনো ছাত্র কাঁদলে সেটাকে তিনি আরও লজ্জার ব্যাপার বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, কঠোর শাসন আর ভয় দেখিয়েই ছাত্রদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

3. “খুব খুশি হয়ে আমাকে দশ টাকা দক্ষিণা দিয়ে গেছেন।” — উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: কথক সুকুমার পরিণত বয়সে তাঁর ছোটবেলার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসন ও নির্দয় আচরণের তীব্র সমালোচনা করে একটি পত্রিকায় গল্প লিখেছিলেন। সেই লেখাটি পেয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে তাঁকে পারিশ্রমিক হিসেবে দশ টাকা দেয়। এখানে সুকুমার একটু ব্যঙ্গের সুরেই কথাটি বলেছেন। একদিকে এটি তাঁর লেখক হিসেবে প্রাথমিক উপার্জনকে বোঝাচ্ছে, আর অন্যদিকে, নিজের গুরুর প্রতি সম্মান না দেখিয়ে, তাঁর সমালোচনা করে দশ টাকা রোজগার করার যে সূক্ষ্ম অপরাধবোধ, সেটাও এই উক্তির মধ্যে লুকিয়ে আছে।

4. “আমাদের মতো নগণ্যের পক্ষে ততই সুখাবহ” — ‘আমাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের কাছে কোন্ বিষয় সুখাবহ?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে ‘আমাদের’ বলতে কথক সুকুমার নিজের মতো সাধারণ বা মাঝারি মাপের লেখকদের কথা বুঝিয়েছেন।
সুকুমারের মতে, কলকাতার মতো বড়ো শহরে তাঁদের মতো লেখকদের খুব একটা কেউ চেনে না বা বিশেষ পাত্তা দেয় না। কিন্তু মফস্বল বা বাংলাদেশের কোনো প্রত্যন্ত গ্রামে ডাক পেলে সেখানে তাঁরা রীতিমতো ভিআইপি বা রথী-মহারথীর সম্মান পান। এই যে অচেনা জায়গায় গিয়ে অপ্রত্যাশিত রাজকীয় সম্মান আর কদর পাওয়া যায়, মাঝারি লেখকদের কাছে এই বিষয়টিকেই সুকুমার ‘সুখাবহ’ বা আনন্দের বলেছেন।

5. “আমার মনটাকে অদ্ভুতভাবে দুলিয়ে দিল।” — কোন্ স্বর, কেন সুকুমারের মনকে দুলিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: বাংলাদেশের এক অজ পাড়াগাঁয়ের কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার পর, অন্ধকার মাঠের মধ্যে ভিড়ের ভেতর থেকে কেউ একজন নিখুঁত উচ্চারণে ‘সুকুমার!’ বলে কথককে ডাক দেয়।
এই গলার স্বর সুকুমারের অত্যন্ত চেনা ছিল। ডাকটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মনে পড়ে যায় সেই ছোটবেলার বিভীষিকাময় অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা। বহু বছর পর গুরুর সেই পরিচিত, রাশভারী অথচ স্নেহমাখা ডাক শুনে সুকুমারের বুকের ভেতর ছোটবেলার সেই পুরোনো ভীতি আর পুরোনো স্মৃতি একসঙ্গে জেগে ওঠে। আর এই কারণেই তাঁর মনটা অদ্ভুতভাবে দুলে উঠেছিল।

6. “ওঁর ভয়ে তারাই তটস্থ হয়ে থাকত”—কার ভয়ে কারা, কেন তটস্থ হয়ে থাকত?
উত্তর: ‘দাম’ গল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের ভয়ে স্কুলের সেরা ছাত্ররা—যারা অঙ্কে একশোতে একশো পেত, তারাও সবসময় তটস্থ হয়ে বা ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত।
মাস্টারমশাইয়ের অঙ্কের জ্ঞান ছিল অসাধারণ, তিনি জটিল অঙ্ক চোখের পলকে সমাধান করে দিতেন। কিন্তু তাঁর শাসন ছিল মারাত্মক কড়া। অঙ্ক ভুল হলে বা না পারলে তিনি ছাত্রদের পিঠে নির্দয়ভাবে চড় মারতেন এবং পুকুরে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখাতেন। তাঁর এই প্রচণ্ড রাগ আর কঠোর শাস্তির কারণেই ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্ররাও তাঁকে যমের মতো ভয় পেত।

7. “এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেব” — বক্তা কেন পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন ‘দাম’ গল্পের সেই ভয়ংকর রাগী অঙ্কের মাস্টারমশাই।
তিনি মনে করতেন অঙ্ক না পারাটা ছাত্রদের চরম অক্ষমতা। তাই ক্লাসে কেউ অঙ্ক না পারলে তিনি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তার পিঠে সজোরে চড় বসিয়ে দিতেন। সেই বিশাল চড়ের চোটে কোনো ছাত্র যদি কেঁদে ফেলত, তখন মাস্টারমশাই আরও বিরক্ত হতেন। তাঁর মতে, পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক না পারা এবং তার ওপর মার খেয়ে কাঁদা—দুটোই ঘোরতর লজ্জার। এই রাগ থেকেই তিনি ছাত্রদের পা ধরে পুকুরে ছুড়ে ফেলার হুমকি দিতেন।

8. মাস্টারমশাই সুকুমারের সমালোচনাকেই কেন পরম সম্পদ মনে করেছেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই ছিলেন একজন খাঁটি এবং আদর্শ শিক্ষক। সুকুমার পত্রিকায় তাঁর কড়া শাসনের তীব্র সমালোচনা করে গল্প লিখলেও, মাস্টারমশাইয়ের কাছে সেই রাগ বা অভিমানের চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছিল ছাত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আর গর্ব। তিনি ভেবেছিলেন, এত বছর পরেও তাঁর ছাত্র তাঁকে মনে রেখেছে এবং নিজের লেখার মাধ্যমে তাঁকে চিরকালের জন্য অমর করে দিয়েছে। একজন শিক্ষকের কাছে তাঁর ছাত্রের এই সাফল্য এবং স্মরণে রাখাই ছিল সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি, তাই তিনি ওই সমালোচনাকেই পরম সম্পদ মনে করেছেন

নবম শ্রেণির বাংলা দাম গল্পের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Dam 5 Marks Important Question Answer – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

দাম গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali

1. ‘দাম’ গল্পে সুকুমারের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রখ্যাত সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তথা কথক হলেন সুকুমার। পুরো গল্পটি জুড়ে তাঁর চরিত্রের বেশ কয়েকটি দিক এবং বিবর্তন খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে:

  • ভীতু ও আত্মসমালোচক: ছোটবেলায় অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসনে তিনি সবসময় তটস্থ থাকতেন। তিনি যে অঙ্কে কাঁচা ছিলেন এবং তাঁর বক্তৃতা যে অন্তঃসারশূন্য ও আবেগসর্বস্ব—এসব কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, যা তাঁর আত্মবিশ্লেষণের ক্ষমতাকে প্রমাণ করে।
  • অভিমানী ও বিদ্রূপী: মাস্টারমশাইয়ের শাসনের পেছনের স্নেহটুকু ছোটবেলায় তিনি বুঝতে পারেননি। সেই পুরোনো ভয় আর অভিমান থেকেই তিনি বড়ো হয়ে মাস্টারমশাইকে বিদ্রূপ করে পত্রিকায় গল্প লিখেছিলেন এবং তার বিনিময়ে পারিশ্রমিকও নিয়েছিলেন।
  • প্রতিষ্ঠিত ও আত্মগর্বী: পরবর্তী জীবনে সুকুমার একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক ও অধ্যাপক হন। বাংলাদেশের এক প্রান্তিক কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাজকীয় সম্মান পেয়ে তাঁর মনে কিছুটা অহংকারও জেগেছিল।
  • শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল: গল্পের শেষে মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সুকুমারের চরিত্রের শ্রেষ্ঠ দিকটি প্রকাশ পায়। মাস্টারমশাইয়ের অসীম স্নেহ ও ক্ষমার রূপ দেখে তাঁর অহংকার ভেঙে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, গুরুর পবিত্র স্নেহকে তিনি দশ টাকায় বিক্রি করে কত বড়ো অপরাধ করেছেন। এই অনুশোচনা ও আত্মগ্লানির মধ্য দিয়েই সুকুমার একজন আদর্শ ও শ্রদ্ধাশীল ছাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

2. গল্পের শেষে সুকুমারের মধ্যে যে আত্মগ্লানি ও অনুশোচনা দেখা দিয়েছে, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তর: ‘দাম’ গল্পের একেবারে শেষ অংশটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এবং আবেগপূর্ণ। বাংলাদেশের এক প্রান্তিক কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সুকুমারের দেখা হয় তাঁর ছোটবেলার বিভীষিকাময় অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে।
সুকুমার ভেবেছিলেন, পত্রিকায় মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসনের সমালোচনা করে তিনি যে গল্প লিখেছেন, সেটা পড়ে মাস্টারমশাই হয়তো খুব রেগে আছেন। কিন্তু মাস্টারমশাই যখন পরম মমতায় পকেট থেকে সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে গর্বের সঙ্গে বললেন, “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে”—তখন সুকুমারের যেন বাকরোধ হয়ে যায়। সুকুমার বুঝতে পারেন, ছোটবেলায় যে কড়া শাসনকে তিনি নিষ্ঠুরতা ভেবেছিলেন, মাস্টারমশাইয়ের কাছে তা ছিল ছাত্রদের মানুষ করার আপ্রাণ চেষ্টা।
সুকুমার তীব্র আত্মগ্লানিতে ভুগতে শুরু করেন এই ভেবে যে, তিনি তাঁর দেবতুল্য গুরুর স্নেহ ও ভালোবাসাকে বাজারে দশ টাকায় বিক্রি করেছেন। মাস্টারমশাইয়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ছাত্রের প্রতি বুকভরা গর্বের সামনে দাঁড়িয়ে সুকুমারের নাম, যশ, টাকা—সবকিছুই তুচ্ছ মনে হয়। তাঁর মনে হয়, তিনি যেন স্নেহ-মমতা-ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে তাঁর এই দশ টাকার অপরাধ লুকিয়ে রাখার কোনো জায়গা নেই। এই মহানুভবতার স্পর্শেই সুকুমারের হৃদয়ে চূড়ান্ত অনুশোচনা ও আত্মশুদ্ধি ঘটে।

3. ‘দাম’ ছোটগল্পটি অবলম্বনে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের চরিত্র বর্ণনা করো।
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাই হলেন এক অসামান্য এবং কিংবদন্তিপ্রতিম চরিত্র। গল্পে তাঁর চরিত্রের মূলত তিনটি দিক প্রকাশ পেয়েছে:

  • অসাধারণ পাণ্ডিত্য: মাস্টারমশাই অঙ্কে অসাধারণ তুখোড় ছিলেন। পৃথিবীর যেকোনো জটিল অঙ্ক তিনি চোখের পলকে ব্ল্যাকবোর্ডে ছবির মতো সাজিয়ে দিতেন। ঝড়ের গতিতে অঙ্ক কষাই ছিল তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
  • কঠোর শাসন ও প্রাচীনপন্থী আদর্শ: তাঁর মতে, অঙ্ক না জানাটা ঘোরতর অপরাধ এবং পৌরুষের অভাব। তাই কোনো ছাত্র অঙ্ক না পারলে তিনি তাকে নির্মমভাবে চড় মারতেন এবং পুকুরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কঠোর শাসন ছাড়া ছাত্রদের সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
  • উদার ও স্নেহশীল হৃদয়: গল্পের ক্লাইম্যাক্সে এসে মাস্টারমশাইয়ের এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেখা যায়, যা পাঠকদের অবাক করে। তিনি অত্যন্ত কোমল ও উদার মনের মানুষ। ছাত্র সুকুমার পত্রিকায় তাঁর কড়া শাসনের তীব্র সমালোচনা করলেও তিনি একটুও রাগ করেননি। উলটে তিনি খুশি হয়েছেন যে তাঁর ছাত্র এতদিন পরেও তাঁকে মনে রেখেছে। তাঁর এই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি আর ছাত্রের প্রতি বুকভরা গর্ব প্রমাণ করে যে, তিনি সত্যিই একজন আদর্শনিষ্ঠ ও স্নেহশীল শিক্ষক ছিলেন।

4. “এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!” — অপরাধবোধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল, তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমার ছোটবেলায় তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কড়া শাসনকে খুব ভয় পেতেন। বড়ো হয়ে সেই ভয়ের ওপর একপ্রকার প্রতিশোধ নিতেই তিনি একটি পত্রিকায় মাস্টারমশাইয়ের তীব্র সমালোচনা করে গল্প লেখেন এবং তার বিনিময়ে দশ টাকা পারিশ্রমিক নেন।
কিন্তু বহু বছর পর বাংলাদেশের এক প্রান্তিক কলেজে মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে তাঁর ভুল ভেঙে যায়। তিনি দেখেন, মাস্টারমশাই তাঁর সেই সমালোচনামূলক জীর্ণ পত্রিকাটিকে বুকপকেটে সযত্নে আগলে রেখেছেন এবং সবাইকে গর্ব করে বলছেন, “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।” গুরুর এই বিশাল উদারতা দেখে সুকুমার লজ্জায় ও অনুশোচনায় মাটিতে মিশে যান। তিনি বুঝতে পারেন, যে স্নেহ-মমতা আর আশীর্বাদকে তিনি নিষ্ঠুরতা ভেবে দশ টাকায় বিক্রি করেছেন, মাস্টারমশাই তাকেই ছাত্রের উপহার হিসেবে মাথায় তুলে নিয়েছেন। নিজের এই ভুল বুঝতে পেরে এবং মাস্টারমশাইয়ের সেই ক্ষমার মহাসমুদ্রের সামনে মাথা নত করার মধ্য দিয়েই সুকুমারের চূড়ান্ত আত্মশুদ্ধি ঘটে।

5. “প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল জানিস?” — প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষার আদর্শ আলোচনা করো।
উত্তর: গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর মহাবিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় লেখা ছিল— ‘যে ব্যক্তি অঙ্ক জানে না, এই বাড়িতে তার প্রবেশ নিষেধ’। অঙ্কের মাস্টারমশাই ক্লাসে ছাত্রদের এই উদাহরণ দিয়ে অঙ্কের গুরুত্ব বোঝাতে চাইতেন।
মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষার আদর্শ ছিল একটু প্রাচীনপন্থী। তিনি মনে করতেন, অঙ্ক হলো যুক্তি ও শৃঙ্খলার প্রধান ভিত্তি এবং কঠিন সাধনার বিষয়। স্বর্গের দরজায় প্রবেশ করতে গেলেও যে অঙ্ক জানা প্রয়োজন—এ কথা তিনি ছাত্রদের ভয় দেখাতে বা রসিকতা করে বলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, শিক্ষায় কোনো আবেগ বা আদরের জায়গা নেই; কঠোর শাসন, নিরলস পরিশ্রম ও কাঠিন্যের মাধ্যমেই একজন ছাত্রকে শক্তপোক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর এই কড়া শাসন ছাত্রদের মনে ভয়ের সঞ্চার করলেও, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রদের মেধা ও পৌরুষের বিকাশ ঘটানো।

6. “মনে হল, স্নেহ-মমতা-ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়িয়েছি” — তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: গল্পের একেবারে শেষে কথক সুকুমার তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের বুকভরা স্নেহ ও বিশাল উদারতা উপলব্ধি করে এই কথাটি বলেছেন।
ছোটবেলায় যে মাস্টারমশাইকে সুকুমারের যমদূতের মতো ভয়ংকর মনে হতো, আজ বৃদ্ধ বয়সে তিনি যেন কেবলই এক স্নেহের পাহাড় হয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। সুকুমার পত্রিকায় তাঁকে ব্যঙ্গ করে গল্প লিখলেও, মাস্টারমশাইয়ের মনে তাঁর প্রতি কোনো রাগ বা অভিযোগ নেই। উলটে তিনি ছাত্রের এই লেখাকে নিজের জীবনের চরম প্রাপ্তি বলে মনে করেছেন এবং সুকুমারকে ‘যশস্বী হওয়ার’ আশীর্বাদ করেছেন।
সমুদ্র যেমন সমস্ত ময়লা ও আবর্জনাকে নিজের ভেতরে ধারণ করেও শান্ত থাকে, মাস্টারমশাইও তেমনি তাঁর বিশাল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি দিয়ে ছাত্রের সমস্ত ব্যঙ্গবিদ্রূপকে অম্লানবদনে গ্রহণ করেছেন। শিক্ষকের এই অসীম উদারতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বিশালত্বকে বোঝাতেই সুকুমার তাঁকে ‘স্নেহ-মমতা-ক্ষমার মহাসমুদ্র’ বলেছেন।

7. মাস্টারমশাইয়ের জীর্ণ পত্রিকাটি কেন সুকুমারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠল?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের পকেটে সযত্নে লুকিয়ে রাখা সেই জীর্ণ পত্রিকাটি ছিল আসলে ওই পত্রিকাটি, যেটিতে সুকুমার তাঁর মাস্টারমশাইয়ের শাসনের কড়া সমালোচনা করে গল্প লিখেছিলেন।
এই পত্রিকাটি সুকুমারের কাছে তাঁর চরম অপরাধবোধ ও গ্লানির প্রতীক। কারণ, তিনি ওই লেখায় মাস্টারমশাইকে উপহাস করে দশ টাকা রোজগার করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাস্টারমশাই সেই সমালোচনাভরা পত্রিকাটিকে রত্নের মতো আগলে রেখেছিলেন। কারণ সেখানে তাঁর প্রিয় ছাত্রের নাম ছাপা হয়েছিল। পত্রিকাটিকে দেখে সুকুমার বুঝতে পারেন যে, তাঁর মাস্টারমশাইয়ের দৃষ্টি কতটা স্বচ্ছ এবং মমতাপূর্ণ। যে লেখাকে সুকুমার দশ টাকায় বিক্রি হওয়া সস্তা জিনিস ভেবেছিলেন, মাস্টারমশাইয়ের অকৃত্রিম স্নেহের স্পর্শে সেই জীর্ণ পত্রিকাটিই সুকুমারের কাছে জীবনের এক অমূল্য শিক্ষা ও সম্পদে পরিণত হয়েছিল।

8. ‘দাম’ গল্পটি ছোটগল্প হিসেবে কতটা সার্থক, তা আলোচনা করো।
উত্তর: একটি আদর্শ ছোটগল্পের যেসব মূল বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার, তার প্রায় সবকটিই নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

  • চরিত্রের স্বল্পতা: এই গল্পে মূলত দুটি প্রধান চরিত্র রয়েছে—কথক সুকুমার এবং অঙ্কের মাস্টারমশাই। এছাড়া প্রিন্সিপাল বা দু-একজন ছাত্রের উল্লেখ থাকলেও তাদের ভূমিকা খুবই সামান্য।
  • একমুখী কাহিনি ও ঘটনার ঘনঘটা বর্জিত: গল্পে কোনো অপ্রয়োজনীয় উপকাহিনি বা ঘটনার বাহুল্য নেই। সুকুমারের ছেলেবেলার স্মৃতি এবং মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েনকে ঘিরেই গল্পটি খুব সহজ গতিতে এগিয়েছে।
  • চমকপ্রদ সমাপ্তি: গল্পের শেষে যখন জানা যায় যে মাস্টারমশাই সুকুমারের সমালোচনামূলক লেখাটি পড়ে বিন্দুমাত্র রাগ না করে উলটে ছাত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন, তখন এই আকস্মিক পরিণতি পাঠকদের রীতিমতো চমকে দেয়।
  • অতৃপ্তি: গল্পের শেষে সুকুমারের তীব্র আত্মগ্লানি ও অনুশোচনার মধ্য দিয়ে কাহিনিটি এমন এক জায়গায় এসে শেষ হয়, যেখানে পাঠকের মনে একটা রেশ থেকেই যায় যে—এরপর সুকুমার মাস্টারমশাইকে কী বললেন!
    তাই আকার, আয়তন, চরিত্রচিত্রণ এবং সমাপ্তির দিক থেকে বিচার করলে ‘দাম’ একটি অত্যন্ত সার্থক ছোটগল্প।

নবম শ্রেণির দাম গল্পের PDF Notes Free Download | Class 9 Bengali Dam Question Answer

দাম গল্পের PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Story দাম — নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
Contents MCQ, সংক্ষিপ্ত ও বড় প্রশ্ন-উত্তর
PDF Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free PDF Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment