নবম শ্রেণির ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Iliyas Question Answer | লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

নবম শ্রেণির ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Iliyas Question Answer | লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর
নবম শ্রেণির ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ ও বড়ো প্রশ্ন) | Class 9 Bengali Iliyas Question Answer | লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজকের এই পোস্টে আমরা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের অন্তর্গত, বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয় রচিত ‘ইলিয়াস’ গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

এই গল্পে ইলিয়াসের জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। একসময় তার প্রচুর ধনসম্পদ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে সে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। জীবনের শেষ পর্যায়ে অন্যের বাড়িতে মজুরের কাজ করতে গিয়ে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী প্রকৃত সুখ ও শান্তির সন্ধান পায়। এই গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক আমাদের জীবনের সুখ, শান্তি ও প্রকৃত আনন্দ সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন।

বিষয়বিবরণ
পাঠের নামইলিয়াস
লেখকলিও তলস্তয়
অনুবাদকমণীন্দ্র দত্ত
সাহিত্যধারাছোটগল্প

এখানে আমরা সামারি বা লেখক পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি প্রশ্ন ও উত্তরে চলে যাব, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।

এই পোস্টে তোমরা পাবে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। অর্থাৎ, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

এর আগেও আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের দুটি অধ্যায়, ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ ও ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’, নিয়ে আলোচনা করেছি। তোমরা যদি এখনও সেই অধ্যায় দুটির প্রশ্ন ও উত্তর না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলিও দেখে নিতে পারো।

তোমাদের সুবিধার জন্য ‘ইলিয়াস’ গল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নোটের আকারে সাজিয়ে PDF ফাইলও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে। বর্তমানে এটি বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রয়োজন হলে PDF-টি ডাউনলোড করে নিজের কাছে রেখে দাও।

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘ইলিয়াস’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।

নবম শ্রেণির ইলিয়াস গল্পের MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Iliyas MCQ Question Answer

ইলিয়াস গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

1. ইলিয়াস তার পরিবার নিয়ে কোথায় বসবাস করত?
(A) মস্কো শহরে
(B) উফা প্রদেশে
(C) সাইবেরিয়ায়
(D) সামারা প্রদেশে
উত্তর: (B) উফা প্রদেশে

2. জাতিগত দিক থেকে ইলিয়াস কী ছিল?
(A) তাতার
(B) কিরবিজ
(C) বাস্কির
(D) রুশ
উত্তর: (C) বাস্কির

3. ইলিয়াসের বিয়ের ঠিক কত বছর পরে তার বাবার মৃত্যু হয়েছিল?
(A) চার বছর
(B) তিন বছর
(C) দুই বছর
(D) এক বছর
উত্তর: (D) এক বছর

4. বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ইলিয়াস কয়টি গোরু পেয়েছিল?
(A) একটি
(B) দুটি
(C) তিনটি
(D) চারটি
উত্তর: (B) দুটি

5. দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইলিয়াসের কতগুলো ঘোড়া হয়েছিল?
(A) একশো
(B) দুশো
(C) তিনশো
(D) চারশো
উত্তর: (B) দুশো

6. পঁয়ত্রিশ বছর পর ইলিয়াসের ভেড়ার পাল বেড়ে কতগুলো হয়েছিল?
(A) বারোশো
(B) এক হাজার
(C) পনেরোশো
(D) দু-হাজার
উত্তর: (A) বারোশো

7. ইলিয়াসের বাড়িতে গোরু ও ঘোটকীর দুধ দোয়ানোর কাজ কারা করত?
(A) তার স্ত্রী
(B) ইলিয়াস নিজে
(C) তার ছেলেরা
(D) ভাড়াটে মজুরানিরা
উত্তর: (D) ভাড়াটে মজুরানিরা

8. ইলিয়াসের মোট কয়টি ছেলে ছিল?
(A) চারজন
(B) তিনজন
(C) দুজন
(D) একজন
উত্তর: (C) দুজন

9. গল্প অনুযায়ী, ইলিয়াসের কন্যাসন্তান কয়টি ছিল?
(A) একটি
(B) দুটি
(C) তিনটি
(D) মেয়ে ছিল না
উত্তর: (A) একটি

10. ইলিয়াসের বড়ো ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?
(A) সাপের কামড়ে
(B) এক মারামারিতে পড়ে
(C) অসুখে ভুগে
(D) দুর্ঘটনায়
উত্তর: (B) এক মারামারিতে পড়ে

11. ইলিয়াসের ছোটো ছেলে যে মেয়েটিকে বিয়ে করেছিল, তার স্বভাব কেমন ছিল?
(A) ঝগড়াটে
(B) বোকা
(C) লোভী
(D) শান্ত
উত্তর: (A) ঝগড়াটে

12. বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সময় ইলিয়াস ছোটো ছেলেকে কী দিয়েছিল?
(A) শুধু টাকা
(B) অর্ধেক সম্পত্তি
(C) একটা বাড়ি ও কিছু গোরু-ঘোড়া
(D) কিছুই দেয়নি
উত্তর: (C) একটা বাড়ি ও কিছু গোরু-ঘোড়া

13. ইলিয়াসের ভেড়ার পালে হঠাৎ করে কীসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল?
(A) বন্যা
(B) খরা
(C) আগুন
(D) মড়ক
উত্তর: (D) মড়ক

14. ইলিয়াসের সবচেয়ে ভালো জাতের ঘোড়াগুলো কারা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল?
(A) প্রতিবেশীরা
(B) ‘কিরবিজ’রা
(C) ডাকাতরা
(D) মজুররা
উত্তর: (B) ‘কিরবিজ’রা

15. ঠিক কত বছর বয়সে এসে ইলিয়াস তার সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে সর্বহারা হয়ে পড়ে?
(A) ষাট
(B) পয়ষট্টি
(C) সত্তর
(D) পঁচাত্তর
উত্তর: (C) সত্তর

16. গল্পে ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম কী বলা হয়েছে?
(A) ফাতেমা
(B) শাম-শেমাগি
(C) খাদিজা
(D) আমিনা
উত্তর: (B) শাম-শেমাগি

17. সহায়সম্বলহীন বৃদ্ধ ইলিয়াস দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল কোন প্রতিবেশী?
(A) করিম শা
(B) রহমত শা
(C) আহমেদ শা
(D) মহম্মদ শা
উত্তর: (D) মহম্মদ শা

18. গ্রীষ্মকালে মহম্মদ শা ইলিয়াসকে খেতের কোন কাজ করতে বলেছিল?
(A) আলুর খেতে কাজ
(B) গমের খেতে কাজ
(C) তরমুজের খেত পরিষ্কার করা
(D) তুলোর খেত সামলানো
উত্তর: (C) তরমুজের খেত পরিষ্কার করা

19. একদিন মহম্মদ শার বাড়িতে দূর থেকে কারা অতিথি হয়ে এসেছিল?
(A) একদল আত্মীয়
(B) বন্ধুরা
(C) সরকারি অফিসার
(D) বিদেশিরা
উত্তর: (A) একদল আত্মীয়

20. মহম্মদ শার বাড়িতে আসা অতিথিদের দলে কে উপস্থিত ছিলেন?
(A) একজন পীর
(B) একজন মোল্লা
(C) একজন বিচারক
(D) একজন কাজী
উত্তর: (B) একজন মোল্লা

21. অতিথিদের বসার জন্য মেঝের ওপর কী পাতা হয়েছিল?
(A) গালিচা
(B) মাদুর
(C) কুশন
(D) চাদর
উত্তর: (C) কুশন

22. ইলিয়াস যখন দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন কে তাকে লক্ষ করতে বলেছিল?
(A) মহম্মদ শা
(B) মোল্লা
(C) এক অতিথি
(D) শাম-শেমাগি
উত্তর: (A) মহম্মদ শা

23. গৃহস্বামীকে সম্মান জানিয়ে ইলিয়াস ঘরের কোথায় গিয়ে বসেছিল?
(A) মাঝখানে
(B) বাইরে
(C) দরজার পাশে এক কোণে
(D) সোফায়
উত্তর: (C) দরজার পাশে এক কোণে

24. ইলিয়াসের স্ত্রী পর্দার ওপাশে গিয়ে কার পাশে বসেছিল?
(A) অতিথির
(B) মোল্লার
(C) ইলিয়াসের
(D) কর্ত্রীর (মহম্মদ শার স্ত্রীর)
উত্তর: (D) কর্ত্রীর (মহম্মদ শার স্ত্রীর)

25. অতিথি আপ্যায়নের সময় ইলিয়াসকে কী খেতে দেওয়া হয়েছিল?
(A) মাংস
(B) চা
(C) এক বাটি কুমিস
(D) শরবত
উত্তর: (C) এক বাটি কুমিস

26. “এই সম্পন্ন মানুষ দুটির দূরবস্থা দেখে মহম্মদ শার দুঃখ হতো”— এখানে কাদের দূরবস্থার কথা বলা হয়েছে?
(A) ইলিয়াসের দুই ছেলের
(B) ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর
(C) মোল্লা ও তার স্ত্রীর
(D) মহম্মদ শা ও তার স্ত্রীর
উত্তর: (B) ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর

27. “আমাদের সঙ্গে একটু কুমিস পান করবে”— কথাটি কে কাকে বলেছিল?
(A) মহম্মদ শা অতিথিকে
(B) মহম্মদ শা মোল্লাকে
(C) মহম্মদ শা ইলিয়াসকে
(D) মহম্মদ শা শাম-শেমাগিকে
উত্তর: (C) মহম্মদ শা ইলিয়াসকে

28. অতিথিরা ইলিয়াসের কথা শুনে কেন বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল?
(A) তারা সর্বহারা হয়েও সুখে আছে শুনে
(B) অর্ধশতাব্দী ধরে সুখ খোঁজার কারণে
(C) আজ তারা সুখের সন্ধান পেয়েছে বলে
(D) অতিথিদের কল্যাণের জন্য কথা বলায়
উত্তর: (A) তারা সর্বহারা হয়েও সুখে আছে শুনে

29. “যখন তার বাবা মারা গেল সে না ধনী, না দরিদ্র”— কথাটি কার সম্পর্কে বলা হয়েছে?
(A) মোল্লা সম্পর্কে
(B) ইলিয়াসের সম্পর্কে
(C) অতিথিদের সম্পর্কে
(D) শাম-শেমাগি সম্পর্কে
উত্তর: (B) ইলিয়াসের সম্পর্কে

30. ইলিয়াসের কাঁধের বোঁচকায় শেষ সম্বল হিসেবে কী কী ছিল?
(A) কম্বল, ঘোড়ার জিন আর তাবু
(B) অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র
(C) চা, কুমিস, মাংস আর শরবত
(D) লোমের তৈরি কোট, জুতো আর বুট
উত্তর: (D) লোমের তৈরি কোট, জুতো আর বুট

31. ইলিয়াস কোন সময়টাতে এসে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়েছিল?
(A) শরীরের জোর কমে গেলে
(B) বড়ো ছেলে মারা যাওয়ার পর
(C) আসল অবস্থা বুঝে ওঠার আগেই
(D) মেয়েটি মারা যাওয়ার পর
উত্তর: (C) আসল অবস্থা বুঝে ওঠার আগেই

32. “এছাড়াও যদি কখনো কিছু লাগে, বলবে তাও দেব”— উক্তিটি কার?
(A) মোল্লার
(B) ইলিয়াসের
(C) অতিথির
(D) মহম্মদ শার
উত্তর: (D) মহম্মদ শার

33. “সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি”— ইলিয়াস দম্পতি কত বছর ধরে সুখের সন্ধান করেছিল?
(A) কুড়ি বছর ধরে
(B) পঞ্চাশ বছর ধরে (অর্ধশতাব্দী)
(C) সারাজীবন ধরে
(D) সত্তর বছর ধরে
উত্তর: (B) পঞ্চাশ বছর ধরে (অর্ধশতাব্দী)

34. “এ বিষয়ে তিনিই পুরো সত্য বলতে পারবেন”— সুখ-দুঃখের প্রকৃত সত্য কে বলতে পারবে বলে ইলিয়াস জানিয়েছিল?
(A) মহম্মদ শা
(B) অতিথি
(C) শাম-শেমাগি
(D) মোল্লা
উত্তর: (C) শাম-শেমাগি

35. “বন্ধুগণ হাসবেন না”— কথাটি বলে অতিথিদের হাসতে বারণ করেছিল কে?
(A) মহম্মদ শা
(B) ইলিয়াস
(C) শাম-শেমাগি
(D) একজন অতিথি
উত্তর: (B) ইলিয়াস

নবম শ্রেণির বাংলা ইলিয়াস গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Iliyas Short Question Answer (SAQ)

ইলিয়াস গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (VSAQ)

1. ইলিয়াস ও তার পরিবার কোন প্রদেশের বাসিন্দা ছিল?
উত্তর: ইলিয়াস ও তার পরিবার রাশিয়ার উফা প্রদেশের বাসিন্দা ছিল।

2. ইলিয়াসের জীবনে বিয়ের ঠিক এক বছর পর কোন শোকাবহ ঘটনা ঘটে?
উত্তর: বিয়ের ঠিক এক বছর পরেই ইলিয়াসের বাবা মারা যান।

3. বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ইলিয়াস কতটুকু সম্পত্তি পেয়েছিল?
উত্তর: বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে ইলিয়াস সাতটা ঘোটকী, দুটো গোরু আর কুড়িটা ভেড়া পেয়েছিল।

4. ইলিয়াসের এই বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির মূল রহস্য কী ছিল?
উত্তর: ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগির ভোর থেকে রাত অবধি হাড়ভাঙা খাটুনি এবং নিখুঁত সুব্যবস্থাই ছিল এই বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির আসল রহস্য।

5. টানা পঁয়ত্রিশ বছর পরিশ্রমের পর ইলিয়াসের গোরু-মোষের সংখ্যা কততে দাঁড়িয়েছিল?
উত্তর: দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর কঠোর পরিশ্রমের পর ইলিয়াসের গোরু-মোষের সংখ্যা বেড়ে দেড়শোতে দাঁড়িয়েছিল।

6. ইলিয়াসের বাড়িতে ভাড়াটে মজুরানিরা মূলত কী কী কাজ করত?
উত্তর: ইলিয়াসের বাড়িতে মজুরানিরা মূলত দুধ দোয়াতো এবং সেই দুধ থেকে কুমিস, মাখন ও পনির তৈরি করত।

7. বাড়িতে অতিথি এলে ইলিয়াস তাদের কীভাবে আপ্যায়ন করত?
উত্তর: বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে অতিথি এলে ইলিয়াস তাদের কুমিস, চা, শরবত আর মাংস খাইয়ে আপ্যায়ন করত।

8. ইলিয়াসের মোট কয়টি সন্তান ছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের মোট তিনটি সন্তান ছিল—দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে।

9. ইলিয়াসের বড়ো ছেলের কীভাবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল?
উত্তর: দুর্ভাগ্যবশত, এক মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে ইলিয়াসের বড়ো ছেলের মৃত্যু হয়েছিল।

10. ইলিয়াস তার ছোটো ছেলেকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল কেন?
উত্তর: ছোটো ছেলেটি একটি ঝগড়াটে মেয়েকে বিয়ে করে বাবার মুখের ওপর কথা বলতে শুরু করে এবং অবাধ্য হয়ে ওঠে, তাই ইলিয়াস বাধ্য হয়ে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

11. বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সময় ইলিয়াস ছোটো ছেলেকে কী দিয়েছিল?
উত্তর: বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেও ইলিয়াস তার ছোটো ছেলেকে একটি বাড়ি এবং কিছু গোরু-ঘোড়া দিয়েছিল, যার ফলে তার নিজের সম্পত্তিতে কিছুটা টান পড়ে।

12. ইলিয়াসের ভেড়ার পালে হঠাৎ কী বিপর্যয় নেমে এসেছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের ভেড়ার পালে হঠাৎ ভয়াবহ মড়ক লেগেছিল, যার ফলে তার অনেক ভেড়া মারা যায়।

13. ইলিয়াসের সবচেয়ে ভালো জাতের ঘোড়াগুলো কারা চুরি করে নিয়েছিল?
উত্তর: ‘কিরবিজ’ জাতের লোকেরা ইলিয়াসের সবচেয়ে ভালো জাতের ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল।

14. ঠিক কত বছর বয়সে এসে ইলিয়াসের জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়?
উত্তর: সত্তর বছর বয়সে এসে ইলিয়াসের জীবনের সমস্ত সম্পত্তি শেষ হয়ে যায় এবং সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ে।

15. চরম দুর্দশার মধ্যে পড়ে বৃদ্ধ ইলিয়াস কী কী জিনিস বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল?
উত্তর: দুর্দশার চরম সীমায় পৌঁছে ইলিয়াস তার পশমের কোট, কম্বল, ঘোড়ার জিন, তাবু এবং বেঁচে থাকা গৃহপালিত পশুগুলোও বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

16. গল্পে ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম কী ছিল?
উত্তর: গল্পে ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম ছিল শাম-শেমাগি।

17. সর্বহারা হওয়ার পর শেষ সম্বল হিসেবে ইলিয়াসের কাছে কী কী বেঁচে ছিল?
উত্তর: সর্বহারা হওয়ার পর ইলিয়াসের কাছে সম্বল বলতে ছিল শুধু লোমের তৈরি একটা কোট, টুপি, জুতো, বুট সমেত একটা বোঁচকা আর তার বৃদ্ধা স্ত্রী শাম-শেমাগি।

18. বৃদ্ধ বয়সে সহায়সম্বলহীন ইলিয়াস ও তার স্ত্রী কীভাবে খাবার জোগাড় করত?
উত্তর: বৃদ্ধ বয়সে তারা অপরিচিত লোকের বাড়িতে ভাড়াটে মজুরের মতো যাবতীয় কাজকর্ম করে খাবার জোগাড় করত।

19. সর্বহারা বৃদ্ধ দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল কোন প্রতিবেশী?
উত্তর: মহম্মদ শা নামের এক প্রতিবেশী এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির দুর্দশা দেখে তাদের প্রতি করুণাবশত নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিল।

20. মহম্মদ শা ইলিয়াসকে কোন কোন কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল?
উত্তর: মহম্মদ শা ইলিয়াসকে গ্রীষ্মকালে তরমুজের খেত দেখাশোনার কাজ এবং শীতকালে গোরু-ঘোড়াদের খাওয়ানোর দায়িত্ব দিয়েছিল।

21. ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগিকে মহম্মদ শা কী কাজ দিয়েছিল?
উত্তর: মহম্মদ শা শাম-শেমাগিকে ঘোটকীগুলোর দুধ দোয়ানো এবং সেই দুধ থেকে কুমিস তৈরি করার কাজ দিয়েছিল।

22. “ক্রমে ক্রমে সব সয়ে গেল”— এখানে কাদের কী সয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়িতে মজুরের মতো হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে ইলিয়াস দম্পতির প্রথমে খুব কষ্ট হলেও, ধীরে ধীরে এই কষ্টের জীবনই তাদের সয়ে গিয়েছিল।

23. “তা ছাড়া তারা অলস নয়”— উক্তিটিতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে বৃদ্ধ ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী শাম-শেমাগির কথা বোঝানো হয়েছে, যারা বৃদ্ধ বয়সেও অলসতা না করে অন্যের বাড়িতে পরিশ্রম করত।

24. একদিন মহম্মদ শার বাড়িতে কারা অতিথি হয়ে এসেছিল?
উত্তর: একদিন দূর থেকে মহম্মদ শার একদল আত্মীয় অতিথি হয়ে এসেছিল, যাদের মধ্যে একজন মোল্লা সাহেবও উপস্থিত ছিলেন।

25. ইলিয়াস যখন গরিব ছিল, তখন তার ছেলেরা তাকে কীভাবে সাহায্য করত?
উত্তর: ইলিয়াস যখন গরিব ছিল, তখন তার ছেলেরা মাঠে গোরু-ভেড়া চরিয়ে তাদের বাবার কাজে সাহায্য করত।

26. “তারা আয়েশি হয়ে উঠল” — কারা এবং কখন আয়েশি হয়ে উঠেছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের কঠোর পরিশ্রমে যখন সম্পত্তি বাড়তে শুরু করে এবং পরিবারে সচ্ছলতা আসে, তখন তার ছেলেরা কাজ ছেড়ে দিয়ে আয়েশি হয়ে উঠেছিল।

27. “ওর তো মরবারই দরকার নেই।”— প্রতিবেশীরা কার সম্পর্কে এমন কথা বলত?
উত্তর: বিপুল বিষয়-সম্পত্তি এবং সব ধরনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য থাকায় প্রতিবেশীরা ঈর্ষা করে ইলিয়াস সম্পর্কে এই কথাটি বলত।

28. অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য বৃদ্ধ ইলিয়াস কী কাজ করেছিল?
উত্তর: অতিথিদের খাওয়ানোর জন্য ইলিয়াস একটা ভেড়া মেরে, তার চামড়া ছাড়িয়ে এবং সেদ্ধ করে অতিথিদের সামনে পরিবেশন করেছিল।

29. গৃহস্বামী মহম্মদ শা হঠাৎ করে অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল কেন?
উত্তর: একসময়ের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলিয়াস যখন মজুরের মতো দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন মহম্মদ শা অতিথিদের তার পরিচয় জানানোর জন্যই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

30. অতিথিরা শাম-শেমাগির কাছে কী জানতে চেয়েছিল?
উত্তর: অতিথিরা শাম-শেমাগির কাছে তাদের আগের বিত্তবান জীবনের সুখ এবং বর্তমানের গরিব মজুর জীবনের দুঃখ সম্পর্কে মনের কথা জানতে চেয়েছিল।

31. শাম-শেমাগি কত বছর ধরে সুখের সন্ধান করেছিল বলে জানিয়েছিল?
উত্তর: শাম-শেমাগি জানিয়েছিল যে, সে এবং তার স্বামী দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে সুখের সন্ধান করেছিল, কিন্তু ধনী জীবনে তারা তা পায়নি।

32. “অন্যদিকে দুশ্চিন্তা”— ধনী জীবনে ইলিয়াসের কীসের দুশ্চিন্তা ছিল?
উত্তর: ধনী জীবনে ইলিয়াসের সারাক্ষণ চিন্তা থাকত যে নেকড়ে এসে গবাদি পশু খেয়ে গেল কি না, বা রাতে চোর এসে ভালো ঘোড়াগুলো চুরি করে নিল কি না।

33. বর্তমান জীবনে ইলিয়াস দম্পতির একমাত্র কাজ কী বলে শাম-শেমাগি জানিয়েছিল?
উত্তর: শাম-শেমাগি জানিয়েছিল, বর্তমানে তাদের একমাত্র কাজ হলো প্রভুর (মহম্মদ শার) সেবা করা এবং তাঁর দেওয়া খাবারটুকু খেয়ে শান্তিতে ঘুমোনো।

34. “অতিথিরা বিস্মিত”— অতিথিদের অবাক হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: একসময়ের সবচেয়ে ধনী মানুষ সর্বহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে মজুর খেটেও যে এখন আসল সুখ খুঁজে পেয়েছে, শাম-শেমাগির মুখে এই পরম সত্যটি শুনেই অতিথিরা অবাক হয়ে গিয়েছিল।

35. শাম-শেমাগির বলা কথাগুলোকে কে শেষ পর্যন্ত সমর্থন করেছিল?
উত্তর: অতিথিদের দলে থাকা মোল্লা সাহেব শাম-শেমাগির বলা কথাগুলোকে সমর্থন করে বলেছিলেন যে, এগুলি নিছক তামাশা নয়, বরং পবিত্র গ্রন্থে লেখা জীবনের ধ্রুব সত্য।

নবম শ্রেণির বাংলা ইলিয়াস গল্পের ২ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Iliyas 2 Marks Question Answer

1. বাবার মৃত্যুর পর ইলিয়াসের আর্থিক অবস্থা ও সম্পত্তির পরিমাণ কেমন ছিল?
উত্তর: বিয়ের ঠিক এক বছর পরেই ইলিয়াসের বাবা মারা যান। সেই সময় ইলিয়াসের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো বা খারাপ—কোনোটাই ছিল না, অর্থাৎ সে খুব ধনীও ছিল না আবার গরিবও ছিল না। পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে সে মাত্র সাতটা ঘোটকী, দুটো গোরু আর কুড়িটা ভেড়া পেয়েছিল।

2. ইলিয়াসের এই বিপুল ধনসম্পত্তি কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী শাম-শেমাগির কঠোর পরিশ্রমই ছিল এই বিপুল সম্পত্তির পেছনের আসল কারণ। তারা দুজনে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটত। তাদের এই নিরলস পরিশ্রম আর নিখুঁত সুব্যবস্থার ফলেই ধীরে ধীরে তাদের সম্পত্তির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

3. ইলিয়াস কেন তার ছোটো ছেলেকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের ছোটো ছেলে এক অত্যন্ত ঝগড়াটে মেয়েকে বিয়ে করে সংসারে অশান্তি ডেকে এনেছিল। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বাবার মুখের ওপর কথা বলতে শুরু করে এবং অবাধ্য হয়ে ওঠে। তাদের এই চরম অবাধ্যতার জন্যই বাধ্য হয়ে ইলিয়াস তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।

4. কী কী কারণে ইলিয়াসের সম্পত্তির এমন চরম অবনতি ঘটেছিল?
উত্তর: ইলিয়াসের দুর্দশার শুরু হয় ভেড়ার পালে ভয়ংকর মড়ক লাগার পর। এরপরের বছর মারাত্মক খরার কারণে খড়ের অভাবে শীতকালে তার অনেক গোরু-মোষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। আর কফিনে শেষ পেরেক পোঁতে ‘কিরবিজ’ জাতের লোকেরা, যখন তারা ইলিয়াসের সবচেয়ে দামি ও সেরা জাতের ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে পালায়।

5. একেবারে সর্বহারা হয়ে যাওয়ার পর বৃদ্ধ ইলিয়াসের শেষ সম্বল কী ছিল?
উত্তর: জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস যখন তার সব ধনসম্পত্তি হারিয়ে সর্বহারা হয়ে পড়ে, তখন তার সম্বল বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। কাঁধে একটা বোঁচকায় ছিল কেবল লোমের তৈরি কোট, টুপি, জুতো আর বুট। আর তার সাথে ছিল বৃদ্ধা স্ত্রী শাম-শেমাগি।

6. প্রতিবেশী মহম্মদ শার কেন ইলিয়াসের প্রতি করুণা জেগেছিল?
উত্তর: একসময়ের সবচেয়ে বিত্তবান মানুষ ইলিয়াসের এমন চরম দুর্দশা আর অসহায় অবস্থা দেখে প্রতিবেশী মহম্মদ শার মন কেঁদে উঠেছিল। অতীতে ইলিয়াসের বাড়িতে অতিথিদের যে সমাদর ও খাওয়ানো হতো, সেসব কথা মনে করেই মূলত তার প্রতি মহম্মদ শার করুণা জন্মায় এবং সে এই বৃদ্ধ দম্পতিকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়।

7. মহম্মদ শার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে কী কী কাজ করতে হতো?
উত্তর: মহম্মদ শার বাড়িতে ইলিয়াস গ্রীষ্মকালে তরমুজের খেত দেখাশোনা করত এবং শীতকালে গোরু-ঘোড়াদের খাওয়ানোর দায়িত্ব সামলাত। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম-শেমাগিকে ঘোটকী দুইতে হতো এবং সেই দুধ দিয়ে কুমিস তৈরি করতে হতো।

8. ইলিয়াসের পরিচয় পেয়ে এক অতিথি তার সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছিলেন?
উত্তর: একসময়ের ধনী ইলিয়াসের বর্তমান অবস্থার কথা জানতে পেরে এক অতিথি বেশ অবাক হয়ে বলেছিলেন যে, মানুষের ভাগ্য আসলে চাকার মতো ঘোরে। এই ভাগ্যের চক্করেই একজন ওপরে ওঠে তো অন্যজন একেবারে তলায় এসে পড়ে।

9. প্রচুর ধনসম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও ইলিয়াস দম্পতির মনে কীসের দুশ্চিন্তা ছিল?
উত্তর: প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েও ইলিয়াস দম্পতির মনে এক মুহূর্তের শান্তি ছিল না। দিনরাত তাদের চিন্তায় থাকতে হতো—নেকড়ে এসে গবাদি পশু খেল কি না, চোর ঘোড়াগুলো নিয়ে পালাল কি না, কিংবা শীতের জন্য পর্যাপ্ত খড় মজুত আছে কি না। এসব দুশ্চিন্তায় তাদের রাতের ঘুম উড়ে যেত।

10. ধনী অবস্থায় ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বা মতবিরোধ হতো কেন?
উত্তর: প্রচুর ধনসম্পত্তি দেখাশোনা করতে গিয়ে কাজের প্রচণ্ড চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তায় ইলিয়াস দম্পতি সর্বদাই তটস্থ থাকত। কাজের ব্যাপারে একজন একরকম বললে, অন্যজন হয়তো অন্যরকম মত দিত, আর এই মতের অমিল থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো।

11. মজুরের মতো জীবনযাপন করেও বর্তমানে ইলিয়াস দম্পতির আসল সুখের কারণ কী?
উত্তর: বর্তমানে তাদের কোনো বিষয়সম্পত্তি না থাকায় তা হারানোর ভয় বা দুশ্চিন্তাও নেই। তারা এখন শুধু প্রভুর দেওয়া কাজটুকু করে আর নিশ্চিন্তে দু-বেলা খেতে পায়। কোনো ঝগড়াঝাঁটি নেই, বরং নিজেদের আত্মার উন্নতির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার পর্যাপ্ত সময় পায়। আর এটাই হলো তাদের এই জীবনের আসল সুখ।

12. শাম-শেমাগি ও ইলিয়াসের কথা শোনার পর মোল্লা সাহেব কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন?
উত্তর: ইলিয়াস দম্পতির জীবনের এই পরম সত্য উপলব্ধি শুনে অতিথিদের দলে থাকা মোল্লা সাহেব বেশ প্রভাবিত হন। তিনি অতিথিদের হাসতে বারণ করে বলেন যে, ইলিয়াসের কথাগুলো মোটেও তামাশা নয়। এগুলি জীবনের চরম সত্য এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও ঠিক এ কথারই উল্লেখ আছে।

নবম শ্রেণির বাংলা ইলিয়াস গল্পের ৩ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Iliyas 3 Marks Question Answer

1. “ইলিয়াসের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ল।” – ইলিয়াসের অবস্থা কীভাবে খারাপ হয়েছিল?
উত্তর: লিও তলস্তয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পে একসময়ের প্রবল বিত্তবান ইলিয়াসের অবস্থা বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ও পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণে খারাপ হতে শুরু করে। প্রথমত, তার ছোটো ছেলে অবাধ্য হওয়ায় তাকে বেশ কিছু গোরু-ঘোড়া দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে হয়, যার ফলে সম্পত্তিতে টান পড়ে। এরপর ভেড়ার পালে ভয়াবহ মড়ক লেগে অনেক ভেড়া মারা যায়। তার পরের বছর তীব্র খরায় শীতের জন্য রাখা খড়ের অভাবে প্রচুর গোরু-মোষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। আর সবশেষে ‘কিরবিজ’ জাতের চোরেরা তার সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গেলে ইলিয়াসের অবস্থা একেবারেই শোচনীয় হয়ে পড়ে।

2. “এই সম্পন্ন মানুষ দুটির দুরবস্থা দেখে মহম্মদ শার দুঃখ হতো।” – মহম্মদ শা কে ছিলেন? তাঁর দুঃখ হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: মহম্মদ শা ছিলেন রাশিয়ার উফা প্রদেশের একজন বাসিন্দা এবং ইলিয়াসের প্রতিবেশী। তিনি খুব ধনীও ছিলেন না, আবার গরিবও ছিলেন না।
মহম্মদ শা জানতেন যে, ইলিয়াস একসময় ওই এলাকার সবচেয়ে ধনী ও সম্মানীয় ব্যক্তি ছিল। তার অতিথিপরায়ণতা এবং নামডাক ছিল চারদিকে। কিন্তু সত্তর বছর বয়সে এসে সেই ইলিয়াস তার সমস্ত ধনসম্পত্তি হারিয়ে একেবারে পথের ভিখারি হয়ে গেছে। এককালের এমন প্রতাপশালী ও বিত্তবান মানুষের জীবনের এই করুণ পরিণতি এবং তাদের অসহায় অবস্থা চোখের সামনে দেখেই ভালো মানুষ মহম্মদ শার মনে গভীর দুঃখ ও সমবেদনা জেগেছিল।

3. “তারা আয়েশি হয়ে উঠল।” – কারা আয়েশি হয়ে উঠেছিল? এর পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: ‘ইলিয়াস’ গল্পে ইলিয়াসের দুই ছেলের আয়েশি বা অলস হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে।
ইলিয়াস যখন গরিব ছিল, তখন তার ছেলেরা বাবার সাথে মাঠে কঠোর পরিশ্রম করত। কিন্তু ইলিয়াস যখন প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হয়ে ওই তল্লাটের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়, তখন প্রাচুর্যের মধ্যে থেকে ছেলেরা কাজ ছেড়ে দেয় এবং আয়েশি জীবন কাটাতে শুরু করে। এর পরিণতি হয়েছিল ভয়াবহ। বড়ো ছেলেটি এক মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে প্রাণ হারায় এবং ছোটো ছেলেটি এক ঝগড়াটে মেয়েকে বিয়ে করে চরম অবাধ্য হয়ে ওঠে, যার ফলে শেষপর্যন্ত তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে হয়।

4. “অতিথিরা বিস্মিত।” – অতিথিদের এমন অবাক হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: মহম্মদ শার বাড়িতে আসা অতিথিরা একসময়ের ধনী ইলিয়াস দম্পতিকে মজুরের কাজ করতে দেখে কৌতূহলবশত তাদের সুখ-দুঃখের কথা জানতে চেয়েছিল। এর উত্তরে ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি জানায় যে, তারা দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েও কোনোদিন শান্তি পায়নি। কিন্তু আজ সর্বহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে মজুর খেটে তারা জীবনের আসল সুখ খুঁজে পেয়েছে। একজন মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে কীভাবে সুখী হতে পারে, এই অভাবনীয় পরম সত্যটি শুনেই অতিথিরা চরম বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল।

5. “এ বিষয়ে তিনিই পুরো সত্য বলতে পারবেন।” – বক্তা কে? তিনি কার সম্পর্কে এবং কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলেন গল্পের প্রধান চরিত্র স্বয়ং ইলিয়াস। তিনি তাঁর স্ত্রী শাম-শেমাগি সম্পর্কে এ কথাটি বলেছিলেন।
মহম্মদ শার বাড়িতে আসা অতিথিরা ইলিয়াসকে তার অতীত জীবনের সুখ এবং বর্তমান জীবনের কষ্ট নিয়ে প্রশ্ন করেছিল। ইলিয়াস নিজে সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তার স্ত্রীকে বলতে বলেছিল। এর কারণ হিসেবে ইলিয়াস জানিয়েছিল যে, সে নিজে পুরুষ মানুষ, তাই তার কথায় কোনো লুকোছাপা থাকতে পারে। কিন্তু তার স্ত্রী হলো মেয়েমানুষ; তার মনে যা থাকে, মুখেও ঠিক তাই থাকে। তাই সুখ-দুঃখের আসল সত্যটি তার স্ত্রীই সবচেয়ে নিখুঁতভাবে বলতে পারবে।

6. “পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা সুখ খুঁজেছি…” – কারা সুখ খুঁজেছে? তাদের সুখ খোঁজার পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে স্বয়ং ইলিয়াস এবং তার স্ত্রী শাম-শেমাগি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে সুখ খুঁজেছিল।
টানা পঞ্চাশ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তারা বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের মনে বিন্দুমাত্র শান্তি ছিল না। দিনরাত কাজের চাপ, অতিথিদের আপ্যায়নের চিন্তা, এবং চোর-ডাকাতের ভয়ে তারা সর্বদাই তটস্থ থাকত। এমনকি কাজের চাপে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াও হতো। অর্থাৎ, ধনসম্পত্তির পাহাড় গড়েও তারা জীবনে কাঙ্ক্ষিত সুখের সন্ধান পায়নি; বরং তাদের জীবন দুশ্চিন্তায় ভরে উঠেছিল।

7. “সে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ল।” – ইলিয়াসের সর্বহারা হওয়ার পিছনে তার নিজের কোনো দোষ ছিল কি?
উত্তর: গল্পটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইলিয়াসের সর্বহারা হওয়ার পিছনে তার নিজের কোনো গাফিলতি বা দোষ ছিল না। সে এবং তার স্ত্রী সারাজীবন কঠোর পরিশ্রমই করে গেছে। তার এই পতনের জন্য মূলত দায়ী ছিল কিছু প্রাকৃতিক ও আকস্মিক বিপর্যয়। ভেড়ার পালে মড়ক লাগা, খরার কারণে গবাদি পশুর মৃত্যু বা কিরবিজদের ঘোড়া চুরি—এর কোনোটিতেই ইলিয়াসের নিজের হাত ছিল না। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসেই সে বয়সের শেষপ্রান্তে এসে একেবারে সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়েছিল।

8. “বন্ধুগণ, হাসবেন না।” – কে, কাদের হাসতে বারণ করেছে? কেন হাসতে বারণ করেছে?
উত্তর: ইলিয়াস তার বর্তমান আশ্রয়দাতা মহম্মদ শার বাড়িতে আসা অতিথিদের হাসতে বারণ করেছিল।
শাম-শেমাগি যখন অতিথিদের জানায় যে তারা বিত্তবান জীবনে কোনো সুখ পায়নি, বরং সর্বহারা হয়েই আসল সুখের সন্ধান পেয়েছে, তখন অতিথিরা কথাটাকে স্রেফ পাগলামি বা ঠাট্টা ভেবে হেসে উঠেছিল। অতিথিদের এই হাসির জবাবেই ইলিয়াস তাদের থামিয়ে দিয়ে বলে যে, এটা কোনো তামাশা নয়, এটাই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা। ধনসম্পদ মানুষকে শান্তি দিতে পারে না, আসল সুখ লুকিয়ে থাকে আত্মিক শান্তির মধ্যে—এই গভীর সত্যটি বোঝাতেই সে তাদের হাসতে বারণ করেছিল।

বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণির বাংলা | WB Class 9 Bengali Iliyas Question Answer | 5 Marks Important Question Answer

ইলিয়াস গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali

1. ইলিয়াসের জীবনের উত্থান ও পতনের কাহিনি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: লিও তলস্তয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পে দেখা যায়, উফা প্রদেশের এক সাধারণ বাস্কির যুবক ইলিয়াস বিয়ের ঠিক এক বছর পর বাবাকে হারায়। তখন পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে সে মাত্র সাতটা ঘোটকী, দুটো গোরু আর কুড়িটা ভেড়া পেয়েছিল। কিন্তু সে ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি নিজেদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যে বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠে। তখন তার গোয়ালে আড়াইশো গোরু-মোষ, দুশো ঘোড়া আর বারোশো ভেড়া ছিল। তার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে ওই তল্লাটের সবচেয়ে বিত্তবান ও সম্মানীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

কিন্তু ইলিয়াসের জীবনের এই সুখ বেশিদিন টেকেনি। তার বড়ো ছেলে মারামারিতে জড়িয়ে মারা যায় এবং অবাধ্য ছোটো ছেলেকে বাধ্য হয়ে সম্পত্তি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে হয়। এরপর শুরু হয় প্রাকৃতিক ও আকস্মিক বিপর্যয়। ভেড়ার পালে ভয়ংকর মড়ক লাগে, তীব্র খরায় খড়ের অভাবে বহু গোরু-মোষ মারা যায় এবং সবশেষে কিরবিজ জাতের লোকেরা তার সবচেয়ে ভালো ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এই উপর্যুপরি বিপর্যয়ের ফলে ইলিয়াস সত্তর বছর বয়সে এসে তার সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে একেবারে সর্বহারা হয়ে পড়ে। শেষমেশ সম্বলটুকু বেঁচে দিয়ে প্রতিবেশী মহম্মদ শার বাড়িতে গিয়ে তাকে মজুরের কাজ নিতে হয়। এভাবেই ইলিয়াসের জীবনের চরম উত্থান ও মর্মান্তিক পতন ঘটেছিল।

2. “পঞ্চাশ বছর ধরে সুখ খুঁজে খুঁজে এতদিনে পেয়েছি।”— কে বলেছে? তাদের এই সুখের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:

  • বক্তা: উদ্ধৃত কথাটি লিও তলস্তয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পের প্রধান চরিত্র ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি মহম্মদ শার বাড়িতে আসা অতিথিদের উদ্দেশে বলেছিল।
  • সুখের স্বরূপ: ইলিয়াস ও তার স্ত্রী দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই প্রাচুর্যের মধ্যে তারা কোনোদিন শান্তি পায়নি। তাদের মাথায় সবসময় কাজের দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খেত। মজুররা ফাঁকি দিচ্ছে কি না, অতিথিদের আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি হলো কি না, রাতে চোর ঘোড়াগুলো নিয়ে পালাল কি না বা নেকড়ে গবাদি পশু খেল কি না—এসব চিন্তায় তারা সবসময় তটস্থ থাকত। কাজের প্রবল চাপে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং ঈশ্বরকে ডাকার মতো একটুও সময় তাদের হাতে থাকত না।

কিন্তু আজ সত্তর বছর বয়সে সর্বহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে মজুর খেটে তারা জীবনের আসল সুখ খুঁজে পেয়েছে। কারণ, এখন তাদের কোনো নিজস্ব সম্পত্তি নেই, তাই তা হারানোর ভয় বা দুশ্চিন্তাও নেই। তারা শুধু তাদের প্রভুর দেওয়া কাজটুকু করে আর নিশ্চিন্তে ঘুমায়। কাজের চাপ না থাকায় এখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া হয় না, বরং তারা একে অপরের সাথে হাসিমুখে কথা বলার এবং নিজেদের আত্মার উন্নতির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার অফুরন্ত সময় পায়। জাগতিক সম্পদ হারানোর পরই যে এই পরম মানসিক শান্তি ও আত্মিক সুখ মিলেছে—এটাই হলো তাদের সুখের আসল স্বরূপ।

3. ‘ইলিয়াস’ গল্প অবলম্বনে ইলিয়াস চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: লিও তলস্তয়ের বিশ্ববিখ্যাত গল্প ‘ইলিয়াস’-এর প্রধান চরিত্র ইলিয়াস হলো এক সাদাসিধে, পরিশ্রমী ও অতিথিবৎসল মানুষ। গল্পে তার চরিত্রের মূলত চারটি দিক ফুটে উঠেছে:

  • কঠোর পরিশ্রমী: বিয়ের পর অত্যন্ত সামান্য সম্পত্তি পেয়েও সে হতাশ হয়নি। টানা পঁয়ত্রিশ বছর ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সে নিজেকে ওই এলাকার সবচেয়ে বিত্তবান মানুষে পরিণত করেছিল। এমনকি শেষজীবনে অন্যের বাড়িতে মজুরের কাজ করার সময়ও সে কোনো ফাঁকি দেয়নি।
  • অতিথিবৎসল: ধনী হওয়ার পর সে অত্যন্ত খোলা মনে অতিথিদের সেবা করত। তার বাড়িতে সবসময় অতিথিদের জন্য কুমিস, চা, শরবত এবং মাংসের এলাহি আয়োজন থাকত।
  • কর্তব্যপরায়ণ অথচ কঠোর: ইলিয়াস অত্যন্ত কর্তব্যপরায়ণ পিতা ছিল। সে যেমন ছেলেদের সাথে নিয়ে কাজ করত, তেমনি ছোটো ছেলে অবাধ্য হওয়ায় তাকে শাস্তি দিতেও পিছপা হয়নি। তবে তাকে তাড়িয়ে দিলেও তার বেঁচে থাকার জন্য একটা বাড়ি ও কিছু গবাদি পশু দিয়ে সে নিজের পিতৃকর্তব্যও পালন করেছিল।
  • সত্যদৃষ্টি ও জীবনবোধ: ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সত্তর বছর বয়সে সর্বহারা হয়েও সে ভেঙে পড়েনি। ধনসম্পদ মানুষকে শান্তি দিতে পারে না, আসল সুখ লুকিয়ে থাকে ঈশ্বরভক্তি ও আত্মিক শান্তির মধ্যে—জীবনের এই গভীর দার্শনিক সত্যটি সে হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল।

4. “ইলিয়াসের অতিথিবৎসলতার কথা স্মরণ করে তার খুব দুঃখ হলো।” — কার কথা বলা হয়েছে? সে কী করেছিল এবং ইলিয়াসের জীবনে তার কী প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর:

  • কার কথা: এখানে ইলিয়াসের প্রতিবেশী মহম্মদ শার কথা বলা হয়েছে।
  • সে কী করেছিল: মহম্মদ শা খুব ধনী না হলেও সে বেশ সুখে থাকত এবং মানুষ হিসেবে অত্যন্ত দয়ালু ছিল। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস যখন সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে একেবারে পথের ভিখারি হয়ে যায়, তখন মহম্মদ শার মন কেঁদে ওঠে। ইলিয়াস অতীতে কতটা অতিথিবৎসল ছিল, সেটা মনে করেই সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। কাজের বিনিময়ে সে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।
  • ইলিয়াসের জীবনে এর প্রভাব: মহম্মদ শার এই উদারতা ইলিয়াসের জীবনে এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। মহম্মদ শার বাড়িতে মজুরের কাজ করে তারা প্রথমে কষ্ট পেলেও পরে সেটা সয়ে যায়। এখানেই তারা উপলব্ধি করে যে অর্থ বা সম্পত্তিই মানুষের সুখের আসল ভিত্তি নয়। মহম্মদ শার বাড়িতে কাজ করার ফলেই তারা আগের সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পায় এবং ঈশ্বরের আরাধনা করার মতো অফুরন্ত সময় হাতে পায়। এককথায়, মহম্মদ শার আশ্রয়ে থেকেই ইলিয়াস দম্পতি জীবনের সেই আসল সুখ ও পরম শান্তির সন্ধান পেয়েছিল, যা তারা গত পঞ্চাশ বছরেও পায়নি।

5. ‘ইলিয়াস’ গল্পে লেখক যে জীবনদর্শন তুলে ধরেছেন, তা আলোচনা করো।
উত্তর: বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয় তাঁর ‘ইলিয়াস’ গল্পের মাধ্যমে এক অত্যন্ত গভীর ও চিরন্তন জীবনদর্শন পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন।

সাধারণ মানুষের ধারণা হলো, ধনসম্পদ, ক্ষমতা ও প্রাচুর্যই হলো জীবনে সুখ পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি। গল্পের প্রধান চরিত্র ইলিয়াসও দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল ধনসম্পদ অর্জন করেছিল। কিন্তু সেই সম্পদের পাহাড় তাকে একটুও শান্তি দেয়নি; বরং তা এনে দিয়েছিল সারাক্ষণের দুশ্চিন্তা, ভয়, স্বামী-স্ত্রীর কলহ এবং ঈশ্বরবিমুখতা।

গল্পের শেষে দেখা যায়, ভাগ্যের ফেরে সব হারিয়ে এক ভাড়াটে মজুরের জীবন কাটাতে শুরু করার পরই ইলিয়াস ও তার স্ত্রী পরম শান্তি পেয়েছে। কারণ এখন তাদের হারানোর মতো আর কিছুই নেই। তাদের মন থেকে লোভ, অহংকার ও সম্পত্তির দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে এবং তারা নিজেদের আত্মানুসন্ধান ও ঈশ্বরের প্রার্থনায় মগ্ন হওয়ার অফুরন্ত সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ, লেখক এই গল্পের মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়েছেন যে, জাগতিক সম্পদের মোহ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং জীবনে অশান্তি ডেকে আনে; মানুষের প্রকৃত সুখ নিহিত রয়েছে আত্মিক প্রশান্তি, নির্লোভ জীবনযাপন এবং ঈশ্বরভক্তির মধ্যে।

নবম শ্রেণির ইলিয়াস গল্পের PDF Notes Free Download | Class 9 Bengali Iliyas Question Answer

ইলিয়াস গল্পের PDF Notes
Class নবম শ্রেণি (Class 9)
Subject বাংলা (Bengali)
Story ইলিয়াস (লিও তলস্তয়)
Contents MCQ, SAQ, ২ ও ৩ নম্বর এবং বড় প্রশ্ন-উত্তর
PDF Free Download
⬇ Download PDF Notes

WB Class 9 Bengali | Free PDF Notes

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman

Aftab Rahaman is a Professional Content Writer having experince in this field for the last 7 years. He started his career as a content writer, and now he is working with many big news publications. His expertise is in West Bengal schemes, and interest in Education, GK, And Competitive Exams.

kalikolom.com

Leave a Comment