প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবারও তোমাদের সামনে নিয়ে হাজির হয়েছি নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে।
এই প্রবন্ধে লেখিকা তাঁর হিমালয় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, বিশেষত কার্শিয়াং অঞ্চলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরেছেন। পাহাড়ের সৌন্দর্য, সেখানকার পরিবেশ এবং শ্রমজীবী মানুষের সহজ-সরল জীবন এই প্রবন্ধের মূল আকর্ষণ।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | হিমালয় দর্শন |
| লেখিকা | বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন |
| বিষয়বস্তু | হিমালয় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা |
এখানে তোমরা ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের পরীক্ষার উপযোগী সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যাবে। MCQ, বহুবিকল্প প্রশ্নোত্তর, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের প্রশ্নোত্তর—সবকিছুই এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে তোমরা সহজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।
এখানে আমরা সামারি বা লেখিকা পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, কারণ আমি জানি, তোমরা অনেকেই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর খুঁজছো।
তোমাদের সুবিধার জন্য এই অধ্যায়ের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা খুব সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে।
বর্তমানে PDF-টি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তবে কতদিন বিনামূল্যে থাকবে, তা নিশ্চিত নয়। তাই যাদের এই নোটটি প্রয়োজন, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাউনলোড করে নিজের কাছে রেখে দিতে পারো।
তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।
নবম শ্রেণির বাংলা ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Himalay Darshan MCQ Question Answer WBBSE
1. ‘হিমালয় দর্শন’ নামক বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনিমূলক পাঠ্যাংশটি কার লেখা?
(A) মহাদেবী বর্মা
(B) বেগম রোকেয়া
(C) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(D) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর: (B) বেগম রোকেয়া
2. বেগম রোকেয়া তাঁর লেখায় হিমালয়ান রেল রোডের সূচনা কোথা থেকে হয়েছে বলে জানিয়েছেন?
(A) কালিম্পং
(B) কারসিয়াং
(C) শিলিগুড়ি
(D) দার্জিলিং
উত্তর: (C) শিলিগুড়ি
3. পাহাড়ি পথে চলা হিমালয়ান রেলগাড়িগুলোকে লেখিকার চোখে ঠিক কেমন মনে হয়েছিল?
(A) খেলনা গাড়ির মতো
(B) দানবের মতো
(C) বিশাল বাসের মতো
(D) বাতাসের মতো গতিশীল
উত্তর: (A) খেলনা গাড়ির মতো
4. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কারসিয়াং স্টেশনের উচ্চতা প্রায় কত ফিট বলে লেখিকা উল্লেখ করেছেন?
(A) ৪৫৬৪ ফিট
(B) ৪৮৬৪ ফিট
(C) ৩০০০ ফিট
(D) ৫০০০ ফিট
উত্তর: (B) ৪৮৬৪ ফিট
5. ট্রেনটি মোটামুটি কত ফিট উচ্চতায় ওঠার পর লেখিকারা মেঘের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন?
(A) ১৫০০ ফিট
(B) ২০০০ ফিট
(C) ৩০০০ ফিট
(D) ৪০০০ ফিট
উত্তর: (C) ৩০০০ ফিট
6. দূর থেকে পাহাড়ের গায়ে সারি সারি চারাগাছগুলোকে দেখে লেখিকার কী মনে হয়েছিল?
(A) মানুষের ভিড়
(B) নিবিড় অরণ্য
(C) ছোট বন
(D) ধরণীর সীমন্তের সিঁথি
উত্তর: (D) ধরণীর সীমন্তের সিঁথি
7. পাহাড়ের পথে এমন কোন গাছের পাতা লেখিকা এর আগে কখনো দেখেননি?
(A) অতি বড় বড় ঘাস
(B) পাইন গাছ
(C) শাল গাছ
(D) চা গাছ
উত্তর: (A) অতি বড় বড় ঘাস
8. রেলগাড়ির ইঞ্জিন বদল বা জল পরিবর্তনের প্রয়োজনে ট্রেনটি কোথায় থামানো হয়েছিল?
(A) শিলিগুড়িতে
(B) পাহাড়ের কোনো স্টেশনে
(C) জলপ্রপাতের নিকট
(D) কারসিয়াং-এ
উত্তর: (C) জলপ্রপাতের নিকট
9. পাহাড়ে পানীয় জলের ক্ষেত্রে লেখিকারা জল কীভাবে ছেঁকে ব্যবহার করতেন?
(A) ফিল্টারে
(B) কাপড় দিয়ে
(C) বালু দিয়ে
(D) তুলা দিয়ে
উত্তর: (A) ফিল্টারে
10. লেখিকার বর্ণনায় কারসিয়াং-এর জল-হাওয়া কেমন প্রকৃতির?
(A) খুব গরম
(B) অপরিষ্কার
(C) স্বাস্থ্যকর
(D) অতিশয় শীতল
উত্তর: (C) স্বাস্থ্যকর
11. পাহাড়ের বুকে লেখিকা যে বিশালাকৃতির ঢেঁকীতরু দেখেছিলেন, তার উচ্চতা কত ছিল?
(A) ১০-১৫ ফিট
(B) ২০-২৫ ফিট
(C) ৫০ ফিট
(D) ১০০ ফিট
উত্তর: (B) ২০-২৫ ফিট
12. ‘মহিলা’ নামের পত্রিকায় লেখিকা পূর্বে কোন শাকের কথা পড়েছিলেন?
(A) কলমি শাক
(B) পালং শাক
(C) ঢেঁকী শাক
(D) সুষনি শাক
উত্তর: (C) ঢেঁকী শাক
13. ভূতত্ত্ব বইতে লেখিকা পড়েছিলেন যে কার্বনিফেরাস যুগে কোন জিনিসটি বিশাল আকৃতির হতো?
(A) মানুষ
(B) পাথর
(C) ঢেঁকীতরু
(D) জলপ্রপাত
উত্তর: (C) ঢেঁকীতরু
14. পাহাড়ের নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটার সময় লেখিকার সঙ্গে ভাগ্যক্রমে কার দেখা হয়নি?
(A) বাঘ
(B) মেঘ
(C) সর্প বা সাপ
(D) ভুটিয়ানি
উত্তর: (C) সর্প বা সাপ
15. পাহাড়ি ভুটিয়ানি নারীরা জোঁক দেখলে তাকে কী নামে ডাকে?
(A) পোকা
(B) ভালু
(C) লালু
(D) আলু
উত্তর: (B) ভালু
16. ভুটিয়ানি নারীরা ঘাগরার মতো করে যে কাপড় পরিধান করে, তা লম্বায় কত গজ?
(A) পাঁচ গজ
(B) দশ গজ
(C) সাত গজ
(D) বারো গজ
উত্তর: (C) সাত গজ
17. পিঠের ওপর কী চাপিয়ে ভুটিয়ানিরা অনায়াসে দুর্গম পাহাড়ের পথ পাড়ি দেয়?
(A) চালের বস্তা
(B) পাহাড়ি ফল
(C) নিজেদের বাচ্চা
(D) বড় পাথর ও বোঝা
উত্তর: (D) বড় পাথর ও বোঝা
18. সমতলের সাধারণ মানুষদের ভুটিয়ানিরা কী বলে উল্লেখ করে থাকে?
(A) নিচেকা আদমি
(B) বাবু
(C) বড় আদমি
(D) শহরের মানুষ
উত্তর: (A) নিচেকা আদমি
19. লেখিকার চোখে পাহাড়ি ভুটিয়ানি নারীদের স্বভাব ঠিক কেমন?
(A) কুটিল ও মিথ্যাবাদী
(B) অলস ও ভীতু
(C) কার্যপ্রিয়া ও সাহসী
(D) অস্থির ও চঞ্চল
উত্তর: (C) কার্যপ্রিয়া ও সাহসী
20. নিজেদের উপার্জনের ক্ষেত্রে ভুটিয়ানি নারীরা কাদের ওপর নির্ভরশীল নয়?
(A) সমতলের মানুষের
(B) পুরুষদের
(C) সরকারের
(D) প্রজাদের
উত্তর: (B) পুরুষদের
21. বেগম রোকেয়ার মতে, ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত উপাসনা বলতে কী বোঝায়?
(A) মূর্তিপূজা
(B) কেবল মন্ত্র পাঠ
(C) প্রাণের আবেগ থাকা
(D) টিয়াপাখির মতো শব্দ উচ্চারণ
উত্তর: (C) প্রাণের আবেগ থাকা
22. পাহাড়ের পথে মালপত্র বা ট্রাঙ্কগুলো ভুল করে কোন ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল?
(A) শিলিগুড়ির
(B) কারসিয়াং-এর
(C) দার্জিলিং-এর
(D) কলকাতার
উত্তর: (C) দার্জিলিং-এর
23. ভুটিয়ানি নারীদের কঠোর পরিশ্রম দেখে লেখিকা তাদের কোন জাতির অন্তর্গত বলতে নারাজ?
(A) অবলা জাতি
(B) পাহাড়ি জাতি
(C) বীর জাতি
(D) কর্মঠ জাতি
উত্তর: (A) অবলা জাতি
24. সন্ধ্যার সময় পাহাড়ের পশ্চিম আকাশে মেঘের রং কেমন হয়ে যায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
(A) রুপা
(B) সিঁদুর
(C) সুবর্ণ বা সোনা
(D) তামা
উত্তর: (C) সুবর্ণ বা সোনা
25. সমতলের মানুষদের সংস্পর্শে এসে সরল ভুটিয়ানিরা নতুন করে কী শিখছে বলে আক্ষেপ করা হয়েছে?
(A) পড়ালেখা
(B) চাষবাস
(C) গান বাজনা
(D) চুরি করা ও মিথ্যা বলা
উত্তর: (D) চুরি করা ও মিথ্যা বলা
26. পাহাড়ের কোন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে লেখিকা একেবারে মুগ্ধ বা আত্মহারা হয়েছিলেন?
(A) ভুটিয়ানিদের কাজ
(B) মেঘের ও বাতাসের তামাশা
(C) ট্রেনের গতি
(D) বাজারের ভিড়
উত্তর: (B) মেঘের ও বাতাসের তামাশা
27. কারসিয়াং পৌঁছে শুরুতে লেখিকা ঘরের সুখ বা আরাম অনুভব করতে পারেননি কেন?
(A) আবহাওয়া ভালো ছিল না
(B) প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাবে
(C) থাকবার ভালো ব্যবস্থা ছিল না
(D) জামা কাপড়ের অভাব ছিল বলে
উত্তর: (B) প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাবে
28. কারসিয়াং-এ পৌঁছানোর পর সেখানে টানা কত দিন ধরে বৃষ্টি হয়েছিল?
(A) একদিন
(B) দুইদিন
(C) তিনদিন
(D) পাঁচ দিন
উত্তর: (A) একদিন
29. পাহাড়ে কারসিয়াং-এর বাসায় পানীয় জলের প্রধান উৎস কী ছিল?
(A) পৌরসভার জল
(B) নদী
(C) নির্ঝরের জল
(D) কুপের জল
উত্তর: (C) নির্ঝরের জল
30. পাহাড়ের রাস্তায় লেখিকারা নির্দ্বিধায় ও নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতেন কেন?
(A) সাপ নেই
(B) বাঘ নেই
(C) অরণ্য ঘন নয়
(D) প্রশাসন কড়া
উত্তর: (B) বাঘ নেই
31. “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল”— এখানে লেখিকা তাঁর কোন সাধ পূর্ণ হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন?
(A) অরণ্য দেখার সাধ
(B) নির্ঝর দেখার সাধ
(C) সমুদ্র দেখার সাধ
(D) পাহাড় দেখার সাধ
উত্তর: (D) পাহাড় দেখার সাধ
32. খুব শীতও নয়, আবার গরমও নয়—পর্বতের এই আরামদায়ক সময়কালকে লেখিকা কোন ঋতুর সঙ্গে তুলনা করেছেন?
(A) বসন্তকাল
(B) শরৎকাল
(C) গ্রীষ্মকাল
(D) শীতকাল
উত্তর: (A) বসন্তকাল
33. “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।”— এখানে ঠিক কোন প্রাকৃতিক দৃশ্যের সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে?
(A) হিমালয় রেল রোড
(B) জলপ্রপাত
(C) পাহাড়চূড়া
(D) চায়ের ক্ষেত্র
উত্তর: (B) জলপ্রপাত
34. পাহাড়ের স্থানীয় স্ত্রীলোকেরা বনের মধ্যে কোন প্রাণীটি দেখলে মোটেও ভয় পায় না?
(A) সাপ
(B) বাঘ
(C) জোঁক
(D) ভালুক
উত্তর: (C) জোঁক
35. বিশাল হিমালয় পর্বতমালাকেও কার সামনে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বলে লেখিকার মনে হয়েছে?
(A) মানুষের সামনে
(B) সমুদ্রের সামনে
(C) আকাশের সামনে
(D) মহাশিল্পীর সৃষ্ট জগতের সামনে
উত্তর: (D) মহাশিল্পীর সৃষ্ট জগতের সামনে
নবম শ্রেণির বাংলা ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) | Class 9 Bengali Himalay Darshan 1 Mark Question Answer WBBSE
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
1. শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং যাওয়ার পথে লেখিকা কোন ট্রেনে সফর করেছিলেন?
উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং যাওয়ার জন্য লেখিকা বিখ্যাত হিমালয়ান রেলগাড়িতে (টয় ট্রেন) চেপেছিলেন।
2. হিমালয়ান রেল রোডের যাত্রা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছে?
উত্তর: লেখিকা বেগম রোকেয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, হিমালয়ান রেল রোডের যাত্রা শুরু হয়েছে শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে।
3. পাহাড়ি পথে ট্রেনের লাইনগুলো এত আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: খাড়া পাহাড়ের চরম উচ্চতা অতিক্রম করার জন্যই ট্রেনটিকে কখনো দক্ষিণে, আবার কখনো উত্তরে সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগোতে হয়।
4. “নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেত কুজ্ঝটিকা দেখিয়া…”—লেখিকার মনে হঠাৎ কী ভ্রম বা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: পাহাড়ের নিচের উপত্যকায় জমে থাকা সাদা ও নির্মল কুয়াশা দেখে লেখিকার মনে মুহূর্তের জন্য শান্ত নদীর জল বলে ভ্রম হয়েছিল।
5. হিমালয়ের পাহাড়ি অরণ্যের গাছপালা ও লতাপাতার কেমন বর্ণনা লেখিকা দিয়েছেন?
উত্তর: লেখিকা জানিয়েছেন, পাহাড়ের গায়ে জন্মানো গাছপালা, লতাগুল্ম, ঘাস এবং পাতা—সবকিছুই অত্যন্ত সুন্দর ও মনোহর। বিশেষ করে সেখানে থাকা বিশাল আকারের ঘাসগুলো তাঁর নজর কেড়েছিল।
6. পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মনে কোন আধ্যাত্মিক ভাব জেগে উঠেছিল?
উত্তর: জলপ্রপাতগুলোর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে লেখিকা সেগুলোকে পুণ্যতোয়া জাহ্নবী বা গঙ্গা নদীর উৎস বলে মনে করেছিলেন এবং স্রষ্টার প্রতি তাঁর মনে গভীর ভক্তিভাব জেগে উঠেছিল।
7. গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও লেখিকা কেন ‘গৃহসুখ’ বা ঘরের আরাম উপভোগ করতে পারছিলেন না?
উত্তর: মালপত্র বা ট্রাঙ্কগুলো ভুল করে দার্জিলিংয়ের ঠিকানায় চলে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে লেখিকা বাসায় পৌঁছেও কোনো গৃহসুখ অনুভব করতে পারছিলেন না।
8. কারসিয়াং-এর বাতাস ও মেঘের খেলা নিয়ে লেখিকা কী মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: কারসিয়াং-এর বাতাস অত্যন্ত পরিষ্কার এবং হালকা। সেখানে মেঘ ও বাতাসের মধ্যে যে অনাবিল লুকোচুরি খেলা চলে, তা দেখতে চমৎকার লাগে বলে লেখিকা জানিয়েছেন।
9. ভূতত্ত্বের বইয়ে পড়া কার্বনিফেরাস যুগ সম্পর্কে লেখিকা কোন তথ্যটি পাঠকদের জানিয়েছেন?
উত্তর: লেখিকা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে আমরা যে ঢেঁকিশাককে ছোটো গাছ বা গুল্ম হিসেবে দেখি, কার্বনিফেরাস যুগে সেই ঢেঁকীতরুগুলোই বিশালাকৃতির হতো।
10. পাহাড়ি ভুটিয়ানি নারীরা কীভাবে নিজেদের অসীম সাহসের পরিচয় দেয়?
উত্তর: খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথে পিঠে ভারী পাথরের বোঝা নিয়ে ভুটিয়ানি নারীরা যে অবলীলায় ওঠানামা করে, তার মাধ্যমেই তাদের অসীম সাহস ও কর্মক্ষমতার পরিচয় মেলে।
11. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁহাদের নাম অবলা”—এই প্রচলিত ধারণার বিপরীতে লেখিকা কাদের কথা তুলে ধরেছেন?
উত্তর: নারীদের দুর্বল ভাবার এই ভুল ধারণার বিপরীতে লেখিকা পাহাড়ের অত্যন্ত পরিশ্রমী, কর্মঠ এবং সাহসী ভুটিয়ানি নারীদের জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
12. ভুটিয়ানিরা সমতলের সাধারণ মানুষদের কেন ‘নিচেকা আদমি’ বলে সম্বোধন করে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা উঁচু পাহাড়ে বসবাস করে, আর সমতলের মানুষজন পাহাড়ের অনেক নিচে বাস করে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের জন্যই তারা সমতলের মানুষদের ‘নিচেকা আদমি’ বলে ডাকে।
13. সমতলের মানুষদের সাথে মিশে সরল ভুটিয়ানিরা নতুন করে কী কী খারাপ দোষ শিখছে?
উত্তর: সমতলের ধূর্ত মানুষদের সংস্পর্শে আসার ফলে সহজ-সরল ভুটিয়ানিরা এখন দুধে জল মেশানো, চুরি করা এবং মিথ্যে কথা বলার মতো খারাপ দোষগুলো শিখে ফেলছে।
14. লেখিকা বেগম রোকেয়ার মতে, ঈশ্বরের প্রতি অকৃত্রিম বা প্রকৃত উপাসনা আসলে কী?
উত্তর: লেখিকা মনে করেন, না বুঝে টিয়াপাখির মতো কেবল মন্ত্র উচ্চারণ করা উপাসনা নয়; বরং অন্তর থেকে প্রাণের আবেগ দিয়ে স্রষ্টার অসীম মহিমা অনুভব করাই হলো প্রকৃত উপাসনা।
15. “এই সৌন্দর্য বর্ণনাতীত”—এখানে লেখিকা ঠিক কোন অপার্থিব সৌন্দর্যের কথা বলতে চেয়েছেন?
উত্তর: হিমালয়ান রেলপথে যাওয়ার সময় পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা অসংখ্য ছোট-বড়ো জলপ্রপাত বা নির্ঝরের যে মনভোলানো রূপ, এখানে সেই সৌন্দর্যের কথাই বলা হয়েছে।
16. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কারসিয়াং স্টেশনটি ঠিক কতটা উঁচুতে অবস্থিত?
উত্তর: লেখিকার বিবরণ অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কারসিয়াং স্টেশনের উচ্চতা হলো ৪৮৬৪ ফিট।
17. পাহাড়ে থাকার সময় লেখিকারা পানের জল কীভাবে পরিশোধন করে খেতেন?
উত্তর: পাহাড়ে থাকার সময় পানীয় জল পরিষ্কার করার জন্য লেখিকারা তা ফিল্টারের মাধ্যমে ভালোভাবে ছেঁকে ব্যবহার করতেন।
18. কারসিয়াং-এ থাকার সময় লেখিকাদের জলের প্রধান উৎস কী ছিল?
উত্তর: সেখানে কোনো কুয়ো, পুকুর বা নদী না থাকায়, পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রাকৃতিক ঝরনা বা নির্ঝরই ছিল জলের একমাত্র উৎস।
19. পাহাড়ের কোন দৃশ্যটিকে লেখিকার কাছে ‘ধরণীর সীমন্তের সিঁথি’ বলে মনে হয়েছিল?
উত্তর: কারসিয়াং যাওয়ার পথে পাহাড়ের গায়ে দুই পাশে ঘন সবুজ চায়ের বাগান এবং তার মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া মানুষের হাঁটা সরু পথটিকেই লেখিকার পৃথিবীর সিঁথি বলে মনে হয়েছিল।
20. “বসুমতীর ঘন কেশপাশ”—এখানে ‘বসুমতী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে এবং তার কেশপাশই বা কী?
উত্তর: এখানে ‘বসুমতী’ বলতে স্বয়ং পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে। আর পাহাড়ের গায়ে জন্মানো নিবিড় ও ঘন শ্যামল অরণ্যকেই পৃথিবীর ঘন কেশপাশ বলে কল্পনা করা হয়েছে।
21. পাহাড়ে লেখিকা যে বিশাল ঢেঁকীতরুগুলো দেখেছিলেন, সেগুলোর উচ্চতা আনুমানিক কত ছিল?
উত্তর: কারসিয়াং-এ থাকার সময় লেখিকা যে বিশাল আকারের ঢেঁকীতরুগুলো দেখেছিলেন, সেগুলোর উচ্চতা ছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফিট।
22. পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে লেখিকারা কেন একদম নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতেন?
উত্তর: লেখিকারা শুনেছিলেন যে, কারসিয়াং-এর ওই পাহাড়ি অরণ্যে বাঘ বা ভল্লুকের মতো কোনো হিংস্র প্রাণী নেই। তাই তাঁরা সেখানে নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতেন।
23. ‘হিমালয় দর্শন’ পাঠ্যাংশে ‘পাহাড়নি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পাহাড়ে বসবাসকারী স্থানীয় ভুটিয়ানি নারীরাই নিজেদের পরিচয় দেওয়ার সময় গর্ব করে নিজেদের ‘পাহাড়নি’ বলে উল্লেখ করত।
24. “এখন সে সাধও পূর্ণ হইল”—দীর্ঘদিন ধরে লেখিকার মনের কোন সাধটি শেষমেশ পূর্ণ হয়েছিল?
উত্তর: জীবনে একবার কাছ থেকে বিশাল ও অপরূপ পাহাড় দেখার যে সুপ্ত বাসনা লেখিকার মনে ছিল, হিমালয় ভ্রমণের মাধ্যমে তাঁর সেই সাধই পূর্ণ হয়েছিল।
25. কারসিয়াং-এর জলবায়ু বা জল-হাওয়া লেখিকার কেমন লেগেছিল?
উত্তর: লেখিকার মতে কারসিয়াং-এর জলবায়ু অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং আরামদায়ক। সেখানকার বাতাস খুবই পরিষ্কার ও হালকা, যা শরীর ও মনকে সতেজ করে দেয়।
নবম শ্রেণির বাংলা ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের ২ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Himalay Darshan 2 Marks Question Answer WBBSE
1. ট্রেন যাত্রার দীর্ঘ পথে লেখিকার বিরক্তি না লাগার কারণ কী ছিল?
উত্তর: পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে ট্রেনের জানলা দিয়ে দু-পাশের মনভোলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য, বিশাল আকারের গাছপালা আর মেঘের আনাগোনা দেখতে দেখতে লেখিকা এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে দীর্ঘ ট্রেন যাত্রাতেও তাঁর একটুও বিরক্তি আসেনি।
2. কারসিয়াং-এর পানীয় জল পরিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও লেখিকা কেন তা ছেঁকে খেতেন?
উত্তর: কারসিয়াং-এর ঝরনার জল দেখতে খুব স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হলেও সেখানে সমতলের মতো কোনো কুয়ো বা পুকুর নেই। ঝরনার খোলা জল ব্যবহারের কারণে লেখিকা সাবধানতাবশত সেই জল ফিল্টারে ছেঁকে তবেই পান করতেন।
3. পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যার মেঘের অপরূপ শোভা লেখিকা কীভাবে তুলে ধরেছেন?
উত্তর: সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম আকাশের মেঘগুলো যেন নিজেদের নরম গায়ে সোনার রং মেখে বাতাসের সঙ্গে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়। মেঘের এই লুকোচুরি খেলা লেখিকার মনে এক মায়াবী সৌন্দর্যরাজ্যের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল।
4. পাহাড়ি নির্জন পথে লেখিকা কেন কোনো ভয় ছাড়াই ঘুরে বেড়াতেন?
উত্তর: কারসিয়াং-এর পাহাড়ি পথগুলো ছিল ভারী সুন্দর এবং সেখানে সাপের মতো কোনো বিষধর সরীসৃপের উপদ্রব ছিল না বললেই চলে। যেহেতু সেখানে সাপের ভয় ছিল না, তাই লেখিকারা নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে সেইসব পথে ঘুরে বেড়াতে পারতেন।
5. ভুটিয়ানি নারীদের পোশাক-পরিচ্ছদ কেমন ছিল?
উত্তর: ভুটিয়ানি নারীরা ঘাগরার মতো করে প্রায় সাত গজ লম্বা একটি কাপড় পরত এবং কোমরের কাছে এক টুকরো কাপড় জড়ানো থাকত। গায়ে থাকত জ্যাকেট এবং মাথা ঢাকা থাকত বিলাতি শাল দিয়ে।
6. ভুটিয়ানিদের পরিশ্রম ও কাজের ধরন সম্পর্কে লেখিকার কী ধারণা হয়েছিল?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা জীবিকার জন্য পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা নিজেরাই নিজেদের পিঠে বড়ো বড়ো পাথরের ভারী বোঝা চাপিয়ে প্রবল সাহসের সঙ্গে খাড়া পাহাড়ি পথে অবলীলায় ওঠানামা করে। তাদের এই অমানসিক পরিশ্রম লেখিকাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছিল।
7. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁহাদের নাম অবলা”—এই প্রচলিত ধারণাকে লেখিকা কীভাবে নস্যাৎ করেছেন?
উত্তর: লেখিকা পাহাড়ি ভুটিয়ানি নারীদের অসীম শারীরিক ক্ষমতা ও কঠোর পরিশ্রম করার শক্তি দেখে এই প্রশ্ন তুলেছেন যে, পুরুষদের মতো এত ভারী কাজ করা এই নারীদের কি আদৌ ‘অবলা’ বলা সাজে? তাদের প্রাণশক্তি কোনো অংশেই পুরুষদের থেকে কম নয়।
8. হিমালয়ের অজস্র জলপ্রপাত বা ঝরনা দেখে লেখিকার মনে কীরূপ ভাবের উদয় হয়েছিল?
উত্তর: হিমালয়ের অসংখ্য ছোট-বড়ো জলপ্রপাত দেখে লেখিকা বিস্ময়ে ও স্রষ্টার প্রতি ভক্তিতে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। ঝরনার অবিরাম কলকল শব্দ শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, যেন তিনি ঈশ্বরের চরণে নিজেকে লুটিয়ে দিচ্ছেন।
9. “টিয়াপাখির মতো কণ্ঠস্থ কতকগুলি শব্দ উচ্চারণ করিলে উপাসনা হয় না”—কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: লেখিকা মনে করেন, না বুঝে শুধু মুখস্থ করা কিছু মন্ত্র আউড়ে ধার্মিক সাজার নাম উপাসনা নয়। বরং প্রকৃতির বিশালতা ও অপরূপ সৌন্দর্য দেখে অন্তরের গভীর থেকে স্রষ্টার প্রতি যে ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা জন্মায়, সেটাই হলো প্রকৃত উপাসনা।
10. পাহাড়ের ধাপে সারি সারি চায়ের বাগান দেখে লেখিকার কেমন লেগেছিল?
উত্তর: পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে থাকা সবুজ চায়ের বাগানগুলো দেখে লেখিকা মুগ্ধ হয়েছিলেন। দূর থেকে সারি সারি চারাগাছগুলোকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল যেন কেউ পৃথিবীর মাথায় সুন্দর করে সিঁথি কেটে দিয়েছে।
11. ভুটিয়ানিদের স্বভাব ও পরিচয় সম্পর্কে লেখিকা কী জানিয়েছেন?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা নিজেদের বেশ গর্বের সঙ্গেই ‘পাহাড়নি’ বলে পরিচয় দেয়। তারা স্বভাবতই খুব সরল, সাহসী এবং সত্যবাদী। তবে সমতলের ধূর্ত মানুষদের (নিচেকা আদমি) সংস্পর্শে এসে তাদের এই সহজাত সরলতায় কিছুটা হলেও দাগ লাগছে বলে লেখিকা আক্ষেপ করেছেন।
12. লেখিকা নিজেকে ‘অত্যন্ত সুখী’ বলে মনে করেছেন কেন?
উত্তর: লেখিকা আগেই বঙ্গোপসাগর দেখার মাধ্যমে সমুদ্রের বিশালতা উপভোগ করেছিলেন, আর এখন হিমালয় ভ্রমণের মাধ্যমে তাঁর পর্বত দেখার দীর্ঘদিনের সুপ্ত সাধও পূর্ণ হয়েছে। প্রকৃতির এই দুই অপরূপ রূপ দেখার সুযোগ পেয়েই তিনি নিজেকে অত্যন্ত সুখী মনে করেছেন।
নবম শ্রেণির বাংলা ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের ৩ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Himalay Darshan 3 Marks Question Answer WBBSE
1. পাহাড়ের রেলপথে ছোট ট্রেনের যাতায়াত সম্পর্কে লেখিকা বেগম রোকেয়ার বর্ণনা দাও।
উত্তর: শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে চেপে পাহাড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা লেখিকার কাছে ছিল এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর ঘটনা। ট্রেনগুলোকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল ছোটোখাটো খেলনা গাড়ির মতো। পাহাড়ের বুক চিরে ট্রেনটি কখনো সাপের মতো এঁকেবেঁকে উত্তরে, আবার কখনো দক্ষিণে মোড় নিয়ে ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে ওপরে উঠছিল। গাড়িগুলো এতই নিচু ছিল যে, চলন্ত অবস্থায় যাত্রীরা অনায়াসেই ওঠানামা করতে পারছিলেন। ‘কটর কটর’ শব্দ করে পাহাড় ডিঙিয়ে এই ছোট্ট ট্রেনের ওপরে ওঠার দৃশ্যটি লেখিকার কাছে পরম বিস্ময়ের এবং আনন্দের ছিল।
2. “নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেত কুজঝটিকা দেখিয়া সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে” – কুয়াশা ও উপত্যকার এই সৌন্দর্য লেখিকার কলমে কীভাবে রূপ পেয়েছে?
উত্তর: পাহাড়ের অনেকটা ওপরে উঠে লেখিকা যখন নিচে উপত্যকার দিকে তাকান, তখন সেখানে জমে থাকা ঘন ও পরিষ্কার সাদা কুয়াশাকে দেখে তাঁর মুহূর্তের জন্য বিশাল এক শান্ত নদী বলে ভুল বা ভ্রম হয়েছিল। মেঘহীন আকাশের নিচে সাদা তুলোর মতো এই কুয়াশার আস্তরণ উপত্যকাকে যেন এক মায়াবী রূপ দিয়েছিল। এই কুয়াশার শীতল স্পর্শ যখন লেখিকার গায়ে এসে লাগে, তখন তাঁর শরীরে এক অপূর্ব স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন যে, হিমালয়ের প্রতিটি রূপই মনকে মুগ্ধ করার মতো সুন্দর।
3. “গৃহসুখ অনুভব করিতে পারি নাই” – লেখিকার এই আক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: দীর্ঘ পথ পেরিয়ে কারসিয়াং-এর নতুন বাসায় পৌঁছানোর পর লেখিকারা স্বভাবতই একটু আরাম ও প্রশান্তি খুঁজছিলেন। কিন্তু বাসায় পৌঁছে তাঁরা দেখেন যে তাঁদের মালপত্র ও ট্রাঙ্কগুলো ভুল করে দার্জিলিং-এর ঠিকানায় বুক করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় পোশাক ও আসবাবপত্রের অভাবে তাঁরা বাসায় থেকেও স্বচ্ছন্দভাবে থাকতে পারছিলেন না। এই ভোগান্তি থেকেই লেখিকা আক্ষেপ করে বলেছেন যে, কেবল একটা সুন্দর আশ্রয় পেলেই হয় না, সেই আশ্রয়ে শান্তিতে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম ও দৈনন্দিন জিনিসপত্র থাকাও সমান জরুরি।
4. কারসিয়াং-এ দেখা ঢেঁকীতরু সম্পর্কে লেখিকা কী ऐतिहासिक তথ্য দিয়েছেন?
উত্তর: কারসিয়াং-এ পৌঁছে লেখিকা প্রায় ২০-২৫ ফুট উচ্চতার পেল্লায় সব ঢেঁকীতরু দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। সমতলে আমরা সাধারণত ঢেঁকিশাককে ছোট ছোট গাছ বা গুল্ম হিসেবেই দেখে থাকি। কিন্তু লেখিকা ভূতত্ত্বের বই পড়ে জেনেছিলেন যে, প্রাচীন কার্বনিফেরাস যুগে পৃথিবীতে এই ঢেঁকীতরুগুলোর আকার অত্যন্ত বিশাল হতো। পাহাড়ের বুকে সেই প্রাচীন যুগের স্মৃতি বহনকারী এত বড়ো আকারের ঢেঁকীতরুগুলো স্বচক্ষে দেখতে পেয়ে লেখিকা একই সঙ্গে রোমাঞ্চিত ও আনন্দিত হয়েছিলেন।
5. “যে কারণেই ট্রেন থামুক- আমাদের মনোরথ পূর্ণ হইল।” কোথায়, কোন ট্রেন, কী কারণে থেমেছিল?
উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং যাওয়ার পথে লেখিকাদের বহনকারী হিমালয়ান রেলগাড়িটি একটি পাহাড়ি ঝরনা বা জলপ্রপাতের সামনে থেমেছিল।
ট্রেনটি থামার পর লেখিকারা ভেবেছিলেন যে যাত্রীদের ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই হয়তো ট্রেনটি থামানো হয়েছে। কিন্তু একটু পরেই তাঁরা বুঝতে পারেন যে আসলে রেলগাড়ির ইঞ্জিনের জল পরিবর্তনের জন্যই ট্রেনটি সেখানে থেমেছিল। তবে ট্রেন থামার আসল কারণ যাই হোক না কেন, সেই সুযোগে লেখিকারা যে প্রকৃতির এক বর্ণনাতীত সৌন্দর্য উপভোগ করে নিজেদের মনের সাধ মেটাতে পেরেছিলেন, এখানে সেই মনোরথ পূর্ণ হওয়ার কথাই বলা হয়েছে।
6. হিমালয়ের নারী সমাজের প্রতি লেখিকার মনোভাব পাঠ্যাংশে কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে সমাজসংস্কারক লেখিকা বেগম রোকেয়া পাহাড়ি ভুটিয়ানি নারীদের অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখেছেন।
পাহাড়ে এসে তিনি দেখেন যে এখানকার নারীরা উদরান্নের জন্য পুরুষদের ওপর একটুও নির্ভরশীল নয়। সমতলের পুরুষরা যে ভার বইতে হাঁপিয়ে ওঠে, এই পাহাড়ি নারীরা পিঠে তার চেয়েও ভারী পাথরের বোঝা নিয়ে অনায়াসেই দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দেয়। সমতলের সমাজ যেখানে নারীদের দুর্বল ভেবে ‘অবলা’ বলে তাচ্ছিল্য করে, সেখানে এই ভুটিয়ানি নারীরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রম, সাহস এবং সত্যবাদিতার মাধ্যমে নারীশক্তির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। লেখিকা মূলত এই কর্মঠ নারীদের প্রশংসা করেই সমাজে নারীদের প্রতি প্রচলিত হীন ধারণাকে কটাক্ষ করেছেন।
7. “সাধ তো মিটে নাই” — কোন সাধ, কী কারণে মেটেনি?
উত্তর: লেখিকা বেগম রোকেয়ার দীর্ঘদিনের সাধ ছিল খুব কাছ থেকে হিমালয় পাহাড় দেখার। কারসিয়াং এসে তাঁর সেই পাহাড় দেখার সাধ হয়তো পূরণ হয়েছিল, কিন্তু পাহাড়ের রূপ দেখে তাঁর মনের তৃষ্ণা মেটেনি।
হিমালয়ের বিশালতা, ঘন সবুজ অরণ্য, মেঘের লুকোচুরি আর অসংখ্য ঝরনার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ লেখিকাকে এতটাই মোহাচ্ছন্ন করেছিল যে, তাঁর মনে হচ্ছিল যতই তিনি দেখছেন, তাঁর দেখার সাধ ততই বেড়ে যাচ্ছে। তাঁর বারবার মনে হচ্ছিল, মানুষের মাত্র দুটো চোখের দৃষ্টি এত বিশাল সৌন্দর্য দেখার জন্য যথেষ্ট নয়; যদি তাঁর আরও অনেকগুলো চোখ থাকত, তবেই হয়তো তিনি এই রূপ সম্পূর্ণ উপভোগ করতে পারতেন। প্রকৃতির এই অসীম সৌন্দর্যের কাছে মানুষের দৃষ্টির সীমাবদ্ধতার জন্যই লেখিকার সাধ মেটেনি।
8. “সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম।” – কোন্ জুলুম থেকে লেখিকা রক্ষা পেয়েছেন?
উত্তর: এখানে ‘জুলুম’ বলতে লেখিকা সমতলভূমির ভ্যাপসা ও অসহ্য গরমের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।
লেখিকা মূলত সমতলভূমির বাসিন্দা ছিলেন, যেখানে গরমের সময় প্রবল দাবদাহ ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া সহ্য করতে হয়। কিন্তু শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ের পথে প্রায় চার হাজার ফিট উঁচুতে ওঠার পর তিনি দেখেন যে সেখানকার আবহাওয়া একদম অন্যরকম। কারসিয়াং-এ তখন খুব একটা শীত না পড়লেও, সমতলের সেই হাঁসফাঁস করা গরমের লেশমাত্র সেখানে ছিল না। বরং সেখানকার আবহাওয়া ছিল অনেকটা আরামদায়ক বসন্তকালের মতো। সমতলের এই তীব্র গরমের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়াকেই লেখিকা ‘জুলুম থেকে রক্ষা পাওয়া’ বলেছেন।
হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Himalay Darshan 5 Marks Important Question Answer WBBSE
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali
1. ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে লেখিকা হিমালয়ের যে অপরূপ প্রাকৃতিক রূপের বর্ণনা দিয়েছেন, তার পরিচয় দাও।
উত্তর: নারীজাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া তাঁর ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে হিমালয় পর্বতের অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও মনভোলানো প্রাকৃতিক রূপের এক জীবন্ত ছবি এঁকেছেন।
শিলিগুড়ি থেকে খেলনা গাড়ির মতো হিমালয়ান রেলে চেপে পাহাড়ে ওঠার সময় থেকেই তাঁর চোখের সামনে প্রকৃতির এক অপূর্ব দৃশ্য ফুটে ওঠে। ট্রেন যত ওপরে উঠছিল, চারপাশের রূপ ততই যেন মায়াবী হয়ে উঠছিল। পাহাড়ের নিচের উপত্যকায় জমে থাকা সাদা ও নির্মল কুয়াশাকে দেখে তাঁর মনে হচ্ছিল যেন কোনো স্বচ্ছ নদী বয়ে চলেছে।
পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে তৈরি সবুজ চায়ের বাগান এবং তার মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া মানুষের সরু পায়ে-হাঁটা পথগুলোকে দেখে লেখিকার মনে হয়েছিল, কেউ যেন পৃথিবীর মাথায় সিঁথি কেটে দিয়েছে। যাত্রাপথে তাঁর চোখে পড়ে অসংখ্য জলপ্রপাত, যেগুলোর তীব্র স্রোত পাহাড়ের বুক চিরে নিচে নেমে আসছিল। জলপ্রপাতের অবিরাম শব্দকে তিনি ‘কল্লোল গীতি’ বলেছেন। কারসিয়াং-এ পৌঁছানোর পর সেখানকার বাতাসে মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম আকাশে সোনা-মাখানো মেঘের শোভা তাঁকে একেবারে আত্মহারা করে দিয়েছিল। হিমালয়ের এই বিশালতা ও অপরূপ সৌন্দর্য দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে ঈশ্বরের বা মহাশিল্পীর সৃষ্টির অসীম মহিমা উপলব্ধি করেছিলেন।
2. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁদের নাম অবলা” – উক্তিটির প্রেক্ষিতে ভুটিয়ানি নারীদের জীবনসংগ্রাম ও চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো।
উত্তর: আমাদের সমতলের সমাজে শারীরিক শক্তির দিক থেকে নারীদের দুর্বল মনে করা হয় এবং সেই কারণেই তাঁদের ‘অবলা’ বলে তাচ্ছিল্য করা হয়। কিন্তু সমাজসংস্কারক বেগম রোকেয়া তাঁর ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে পাহাড়ি ভুটিয়ানি নারীদের উদাহরণ টেনে সমাজের এই ভ্রান্ত ধারণাকে সপাটে আঘাত করেছেন।
লেখিকা পাহাড়ে এসে দেখেছেন, ভুটিয়ানি নারীরা উদরান্নের বা বেঁচে থাকার জন্য পুরুষদের ওপর একটুও নির্ভরশীল নয়। তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও কর্মঠ। সমতলের সাধারণ পুরুষরা পাহাড়ের যে চড়াই পথে হাঁটতেই হাঁপিয়ে ওঠে, এই পাহাড়ি নারীরা নিজেদের পিঠে পাথরের বিশাল ও ভারী বোঝা নিয়ে সেই খাড়া পথ দিয়ে অবলীলায় ওঠানামা করে। তারা শুধু পরিশ্রমীই নয়, তারা অত্যন্ত সাহসী, সরল ও সত্যবাদী।
পাহাড়ের বুকে নারীদের এই অমানসিক পরিশ্রম এবং জীবনসংগ্রাম দেখার পর লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেছেন, যে নারীরা এতটা শক্তপোক্ত ও কঠোর পরিশ্রম করতে পারে, তাদের ‘অবলা’ বলাটা চরম বোকামি। ভুটিয়ানিদের এই স্বাধীন ও নির্ভীক জীবনযাত্রা আসলে নারীশক্তির এক অনন্য ও জীবন্ত উদাহরণ, যা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের গালে এক বিরাট চড়।
3. হিমালয়ের প্রাকৃতিক নির্ঝর বা জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মনে যে গভীর আধ্যাত্মিক ভাবান্তর ঘটেছিল, তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: হিমালয় রেলপথে কারসিয়াং যাওয়ার সময় লেখিকা বেগম রোকেয়ার চোখে পড়েছিল অসংখ্য পাহাড়ি জলপ্রপাত বা নির্ঝর। এই জলপ্রপাতগুলোর অপরূপ রূপ ও কল্লোল তাঁর মনে এক গভীর আধ্যাত্মিক চেতনার জন্ম দিয়েছিল।
পাহাড়ের পাথুরে বুক চিরে প্রবল বেগে নেমে আসা সাদা ও স্বচ্ছ জলের ধারা দেখে লেখিকার মনে হয়েছিল, এগুলো যেন পুণ্যতোয়া জাহ্নবী বা গঙ্গারই উৎস। যাত্রাপথে যখন ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য একটি জলপ্রপাতের কাছে ট্রেনটি থামানো হয়, তখন লেখিকা প্রাণভরে সেই অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ঝরনার অবিরাম বয়ে চলার শব্দ তাঁর কাছে ঈশ্বরের প্রতি অকৃত্রিম ভক্তির গানের মতো বা ‘কল্লোল গীতি’ বলে মনে হয়েছিল। প্রকৃতির এই সীমাহীন বিশালতা ও সৌন্দর্যের কাছে তিনি মানুষের চরম ক্ষুদ্রতাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। এই বিশাল সৃষ্টির কারিগর, সেই পরম ঈশ্বরের চরণপ্রান্তে তাঁর প্রাণ লুটিয়ে পড়তে চেয়েছিল। লেখিকা মনে করেন, না বুঝে মন্ত্র পাঠ করার চেয়ে ঈশ্বরের এই অপরূপ সৃষ্টিকে প্রাণের আবেগ দিয়ে অনুভব করাই হলো শ্রেষ্ঠ উপাসনা।
4. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনা অনুসরণে শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং পর্যন্ত যাত্রাপথের বর্ণনা দাও।
উত্তর: বেগম রোকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং পর্যন্ত রেলযাত্রার এক অপূর্ব ও রোমাঞ্চকর বিবরণ পাওয়া যায়।
লেখিকারা শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে বিখ্যাত হিমালয়ান রেলগাড়িতে চেপে কারসিয়াং-এর দিকে রওনা হয়েছিলেন। পাহাড়ের এই ট্রেনগুলো ছিল খেলনা গাড়ির মতো খুব ছোটো আর নিচু। সাপের মতো এঁকেবেঁকে ট্রেনটি যখন ‘কটর কটর’ শব্দ করে পাহাড়ের ধাপে ধাপে ওপরে উঠছিল, তখন দু-পাশের দৃশ্য ছিল দেখার মতো।
প্রায় তিন হাজার ফিট ওপরে ওঠার পর মনে হচ্ছিল যেন ট্রেনটি মেঘরাজ্যের ভেতর দিয়ে চলেছে। নিচের উপত্যকায় জমে থাকা সাদা কুয়াশাকে দেখে হঠাৎ নদীর জল বলে ভুল হচ্ছিল। পাহাড়ের গায়ে ঘন সবুজ চায়ের বাগান এবং তার মাঝে সরু রাস্তাগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শ্যামল কেশপাশে কেউ সিঁথি কেটে দিয়েছে। যাত্রাপথে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা অসংখ্য জলপ্রপাতের রূপ লেখিকাকে মুগ্ধ করেছিল। সৌভাগ্যক্রমে, ট্রেনের জল বদলানোর জন্য একটি জলপ্রপাতের কাছে ট্রেনটি থামলে লেখিকা মন ভরে সেই অপরূপ নৈসর্গিক শোভা পর্যবেক্ষণ করেন। এভাবেই মেঘ, পাহাড় আর ঝরনার মায়াবী রাজ্য পেরিয়ে তিনি তাঁর গন্তব্য কারসিয়াং-এ গিয়ে পৌঁছান।