নবম শ্রেণির ‘নোঙর’ কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ ও বড়ো প্রশ্ন)
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবারও তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির অন্তর্গত অজিত দত্ত রচিত ‘নোঙর’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে হাজির হয়েছি।
এই কবিতাটি কবির ‘সাদা মেঘ কালো পাহাড়’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কবিতায় মানুষের এগিয়ে চলার ইচ্ছা, নতুন কিছু পাওয়ার স্বপ্ন এবং বাস্তব জীবনের বাধাবিপত্তির মধ্যে এক গভীর দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। নোঙরের মাধ্যমে কবি এমন এক বাধার কথা তুলে ধরেছেন, যা মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগিয়ে যেতে আটকে রাখে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | নোঙর |
| কবি | অজিত দত্ত |
| কাব্যগ্রন্থ | সাদা মেঘ কালো পাহাড় |
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আবারও তোমাদের জন্য নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা ‘নৌকা’ নিয়ে হাজির হয়েছি। আগের অধ্যায়গুলোর মতো এই কবিতারও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
এই পোস্টে তোমরা পাবে ‘নৌকা’ কবিতার MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। অর্থাৎ, পরীক্ষায় যেসব ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে, সেগুলো এক জায়গায় পেয়ে যাবে। এখানে আমরা কবিতার সামারি বা কবি পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব না। সরাসরি প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব, যাতে তোমরা অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো।
এর আগে আমরা নবম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যসূচির বেশ কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেমন—‘এলো বৃষ্টি ঝেঁপে’, ‘আমার গান’, ‘ইলিয়াস’, ‘দাম’, ‘নব নব সৃষ্টি’, ‘হিমালয় দর্শন’ এবং ‘নোঙর’। তোমরা যদি এই অধ্যায়গুলোর প্রশ্ন ও উত্তর এখনও না দেখে থাকো, তাহলে সেগুলোও দেখে নিতে পারো।
তোমাদের সুবিধার জন্য ‘নৌকা’ কবিতার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একত্রিত করে একটি PDF নোটও তৈরি করে রেখেছি। নিচে দেওয়া Download Link-এ ক্লিক করে তোমরা সহজেই PDF-টি ডাউনলোড করে নিতে পারবে। বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রয়োজন হলে ডাউনলোড করে নিজের কাছে রেখে দাও।
তাহলে আর সময় নষ্ট না করে, এবার শুরু করা যাক নবম শ্রেণির বাংলা ‘নৌকা’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে।
নোঙর’ কবিতার MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Kobita MCQ Question Answer WBBSE
1. ‘নোঙর’ নামক বিখ্যাত কবিতাটির রচয়িতা কে?
(A) জীবনানন্দ দাশ
(B) অজিত দত্ত
(C) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
(D) শঙ্খ ঘোষ
উত্তর: (B) অজিত দত্ত
2. কবি অজিত দত্তের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘নোঙর’ কবিতাটি নেওয়া হয়েছে?
(A) নষ্ট চাঁদ
(B) পাতাল কন্যা
(C) সাদা মেঘ কালো পাহাড়
(D) কুসুমের মাস
উত্তর: (C) সাদা মেঘ কালো পাহাড়
3. কবি তাঁর নৌকা নিয়ে কোথায় পাড়ি দিতে চাইছেন?
(A) নিজের গ্রামে
(B) দূর সিন্ধুপারে
(C) গঙ্গার তীরে
(D) অজানা দ্বীপে
উত্তর: (B) দূর সিন্ধুপারে
4. নৌকার নোঙরটি আসলে কোথায় পড়ে আটকে গিয়েছে?
(A) মাঝ সমুদ্রে
(B) বালির চড়ায়
(C) মাস্তুলের ডগায়
(D) তটের কিনারে
উত্তর: (D) তটের কিনারে
5. কবিতায় উল্লিখিত ‘নোঙর’ শব্দটি মানবজীবনের কোন বিষয়ের প্রতীক?
(A) নৌকার একটি বিশেষ অংশ
(B) লোহার তৈরি ভারী যন্ত্র
(C) মানবজীবনের অলঙ্ঘ্য বা অটুট বন্ধন
(D) কবির প্রিয় স্বপ্ন
উত্তর: (C) মানবজীবনের অলঙ্ঘ্য বা অটুট বন্ধন
6. “সারারাত তবু দাঁড় টানি”—এখানে ‘সারারাত’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
(A) সন্ধে থেকে ভোর পর্যন্ত সময়
(B) কবির সমগ্র জীবন
(C) মধ্যরাত
(D) দিনরাত
উত্তর: (B) কবির সমগ্র জীবন
7. কবি সারা রাত ধরে বৃথাই কী করে চলেছেন?
(A) গান গাইছেন
(B) ঘুমিয়ে আছেন
(C) অবিরাম দাঁড় টানছেন
(D) নদীর স্রোত দেখছেন
উত্তর: (C) অবিরাম দাঁড় টানছেন
8. ‘মিছে দাঁড় টানি’—কবির এই দাঁড় টানাকে ‘মিছে’ বা নিষ্ফল বলা হয়েছে কেন?
(A) নৌকার নোঙর তটের কিনারে আটকে আছে বলে
(B) নদীতে কোনো স্রোত নেই বলে
(C) কবি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে
(D) নৌকাটি পণ্যে বড্ড ভারী বলে
উত্তর: (A) নৌকার নোঙর তটের কিনারে আটকে আছে বলে
9. জোয়ারের উদ্দাম ঢেউগুলো এসে কোথায় নিজেদের মাথা ঠুকছে?
(A) বালুচরে
(B) নৌকার পালে
(C) তরীতে বা নৌকায়
(D) মাস্তুলে
উত্তর: (C) তরীতে বা নৌকায়
10. ভাটার শোষণ নদী থেকে কী কেড়ে নেয় বা আহরণ করে?
(A) প্রচুর জল
(B) স্রোতের প্রবল প্রাণ
(C) নদীর বালি
(D) নৌকার পণ্য
উত্তর: (B) স্রোতের প্রবল প্রাণ
11. কবির সাধের ‘বাণিজ্য-তরী’ কোথায় বাঁধা পড়ে আছে?
(A) মাঝসমুদ্রে
(B) অচেনা কোনো দেশে
(C) দূর সিন্ধুপারে
(D) জোয়ার-ভাটায় বাঁধা তটে
উত্তর: (D) জোয়ার-ভাটায় বাঁধা তটে
12. কবিতায় ব্যবহৃত ‘বাণিজ্য-তরণী’ মূলত কীসের প্রতীক?
(A) ব্যবসার
(B) জীবন সাধনার
(C) অর্থ উপার্জনের
(D) বিশ্বভ্রমণের
উত্তর: (B) জীবন সাধনার
13. “জোয়ার-ভাটায় বাঁধা এ-তটের কাছে”—এখানে ‘জোয়ার-ভাটা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(A) সমুদ্রের জলের হ্রাস-বৃদ্ধি
(B) নদীর ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস
(C) মানুষের জীবনের উত্থান ও পতন
(D) প্রাকৃতিক নিয়ম
উত্তর: (C) মানুষের জীবনের উত্থান ও পতন
14. কবি তাঁর নৌকার মাস্তুলে যতই কী বাঁধেন না কেন, নৌকা এগোয় না?
(A) দড়ি
(B) পাল
(C) কাছি
(D) পতাকা
উত্তর: (B) পাল
15. কীসের বাঁধনে কবির নৌকাটি চিরকালের জন্য ঘাটে বাঁধা পড়ে আছে?
(A) লোহার শিকলে
(B) মোটা তারে
(C) কাছির বাঁধনে
(D) মাছ ধরার জালে
উত্তর: (C) কাছির বাঁধনে
16. ‘কাছি’ শব্দের প্রকৃত অর্থ কী?
(A) কাছাকাছি থাকা
(B) কচ্ছপ
(C) মোটা দড়ির গুচ্ছ বা রশি
(D) ধুতির কাছা
উত্তর: (C) মোটা দড়ির গুচ্ছ বা রশি
17. “নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলি কেঁপে ওঠে…”—কীসের গর্জনে এমনটা ঘটে?
(A) সাগরের গর্জনে
(B) মেঘের গর্জনে
(C) ভয়ংকর ঝড়ে
(D) বন্য পশুর ডাকে
উত্তর: (A) সাগরের গর্জনে
18. প্রতিবার দাঁড় ফেলার সঙ্গে সঙ্গে কবি কী শুনতে পান?
(A) স্রোতের বিদ্রূপ
(B) সমুদ্রের জয়গান
(C) করুণ সুর
(D) নদীর প্রতিধ্বনি
উত্তর: (A) স্রোতের বিদ্রূপ
19. কবি আকাশের দিকে তাকিয়ে কী দেখে নিজের গন্তব্যের নিশানা ঠিক করেন?
(A) চাঁদের আলো
(B) ধ্রুবতারা
(C) তারার দিকে চেয়ে
(D) লাইটহাউস দেখে
উত্তর: (C) তারার দিকে চেয়ে
20. “ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা”—কবির এই অবিরাম দাঁড় টানার পেছনের কারণ কী?
(A) মাঝিদের কোনো ছুটি থাকে না বলে
(B) নৌকার দাঁড় বন্ধ করার উপায় নেই বলে
(C) পাল ঠিকমতো টাঙানো যায়নি বলে
(D) সাংসারিক বন্ধন থেকে মুক্তির অনিঃশেষ আকুতি
উত্তর: (D) সাংসারিক বন্ধন থেকে মুক্তির অনিঃশেষ আকুতি
21. কবির নৌকাটি আসলে কীসে পরিপূর্ণ হয়ে আছে?
(A) যাত্রীতে
(B) পণ্যে
(C) সোনায়
(D) জলে
উত্তর: (B) পণ্যে
22. কবি তাঁর তরী নিয়ে ঠিক কোথায় পাড়ি জমাতে চেয়েছেন?
(A) সপ্তসিন্ধুপারে
(B) কৈলাসে
(C) পাতালপুরে
(D) মর্ত্যলোকে
উত্তর: (A) সপ্তসিন্ধুপারে
23. ‘সপ্তসিন্ধু’ কথাটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
(A) সাতটি বড়ো নদী
(B) পৃথিবীর সাতটি সমুদ্র
(C) সমুদ্রের সাতটি বড়ো ঢেউ
(D) একটি বিরাট মহাসাগর
উত্তর: (B) পৃথিবীর সাতটি সমুদ্র
24. ‘সিন্ধু’ শব্দটির সাধারণ অর্থ কী?
(A) নদী
(B) সমুদ্র বা সাগর
(C) মরুভূমি
(D) গভীর হ্রদ
উত্তর: (B) সমুদ্র বা সাগর
25. জোয়ারের উদ্দাম ঢেউগুলো মূলত কখন ফুলে ফেঁপে ওঠে?
(A) সকালবেলায়
(B) জোয়ারের সময়
(C) পূর্ণিমার রাতে
(D) সন্ধ্যার সময়
উত্তর: (B) জোয়ারের সময়
26. ভাটার শোষণ প্রক্রিয়ার ঠিক বিপরীত অবস্থা কোনটি?
(A) জোয়ার
(B) বৃষ্টি
(C) সমুদ্রের ঢেউ
(D) ঝোড়ো বাতাস
উত্তর: (A) জোয়ার
27. কবির কল্পনা অনুযায়ী, মানুষের স্বপ্নগুলো কোথায় নোঙর করে থাকে?
(A) দূর দেশে
(B) স্মৃতির ভেতরে
(C) গভীর সমুদ্রে
(D) তটের কিনারে
উত্তর: (D) তটের কিনারে
28. ‘নোঙর’ কবিতাটিতে মানুষের মনের কোন চিরন্তন প্রবৃত্তি ফুটে উঠেছে?
(A) অজেয় গতিশীলতা বা এগিয়ে চলার অদম্য বাসনা
(B) চরম অলসতা
(C) ভীরুতা বা ভয়
(D) নিষ্ঠুরতা
উত্তর: (A) অজেয় গতিশীলতা বা এগিয়ে চলার অদম্য বাসনা
29. ‘নোঙর’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কী?
(A) নৌকার পাল
(B) বড়শি আকৃতির একটি লোহার ভারী যন্ত্র
(C) নৌকার দাঁড়
(D) কাছি বা দড়ি
উত্তর: (B) বড়শি আকৃতির একটি লোহার ভারী যন্ত্র
30. পাঠ্য ‘নোঙর’ কবিতাটিতে মূলত কেমন সুর ধ্বনিত হয়েছে?
(A) তীব্র ক্রোধের
(B) ভয়ের বা আতঙ্কের
(C) বিষাদমাখা অথচ সংকল্পদীপ্ত
(D) নিছক হাসির
উত্তর: (C) বিষাদমাখা অথচ সংকল্পদীপ্ত
31. “নোঙর কখন জানি পড়ে গেছে…”—নোঙরটি কীভাবে পড়ে গিয়েছিল?
(A) কবির সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে
(B) কবির চোখের সামনে
(C) মাঝরাতে ঘুমের ঘোরে
(D) ঝড়ের তাণ্ডবে
উত্তর: (A) কবির সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে
32. কবি অবিরাম দাঁড় টেনে চলেন কেন?
(A) নৌকাকে স্থির রাখার জন্য
(B) স্রোতের সঙ্গে লড়াই করার জন্য
(C) নৌকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য
(D) দিক পরিবর্তন করার জন্য
উত্তর: (C) নৌকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য
33. স্রোতের বিদ্রূপ কবি ঠিক কখন শুনতে পান?
(A) রাতে ঘুমানোর সময়
(B) জোয়ার এলে
(C) নৌকায় বসে গান গাওয়ার সময়
(D) প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে
উত্তর: (D) প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে
34. মাস্তুলে কবির কী বাঁধার কথা কবিতায় উল্লেখ রয়েছে?
(A) কাছি
(B) পাল
(C) নোঙর
(D) দাঁড়
উত্তর: (B) পাল
35. ‘নোঙর’ কবিতাটিতে ‘নোঙর’ শব্দটি মোট কতবার ব্যবহার করা হয়েছে?
(A) একবার
(B) দুবার
(C) তিনবার
(D) চারবার
উত্তর: (C) তিনবার
নবম শ্রেণির বাংলা ‘নোঙর’ কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) | Class 9 Bengali Nongor Kobita Short Question Answer 1 Mark WBBSE
1. ‘নোঙর’ কবিতাটি কার লেখা এবং এটি কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: প্রখ্যাত কবি অজিত দত্তের লেখা এই চমৎকার কবিতাটি তাঁর ‘সাদা মেঘ কালো পাহাড়’ নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
2. কবি তাঁর নৌকা নিয়ে ঠিক কোথায় পাড়ি জমাতে চান?
উত্তর: কবি তাঁর পণ্যবোঝাই নৌকা নিয়ে সুদূর সিন্ধুপারে অর্থাৎ অজানা সপ্তসিন্ধুর ওপারে পাড়ি দিতে চান।
3. সারা রাত ধরে কবির এই দাঁড় টানাকে কেন ‘মিছে’ বা নিষ্ফল বলা হয়েছে?
উত্তর: নৌকার নোঙরটি কবির অজান্তেই তটের কিনারায় শক্ত মাটিতে আটকে গেছে। তাই যতই তিনি অবিরাম দাঁড় টানুন না কেন, নৌকা একটুও সামনের দিকে এগোয় না। এই কারণেই তাঁর পরিশ্রমকে মিছে মনে হয়েছে।
4. সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা জোয়ারের ঢেউগুলো নৌকার কাছে এসে কী করে?
উত্তর: জোয়ারের সময় ফুলে ওঠা উদ্দাম ঢেউগুলো কবির বাণিজ্য-তরীর গায়ে এসে বারবার মাথা ঠোকে এবং তারপর আবার সমুদ্রের দিকেই ফিরে যায়।
5. নদীর বুকে ভাটার টান বা শোষণ শুরু হলে কী ঘটে?
উত্তর: নদীতে যখন ভাটার টান শুরু হয়, তখন জোয়ারের ফুলে ওঠা স্রোতের সেই প্রবল প্রাণশক্তি বা প্রাণমত্ততা একেবারেই নিস্তেজ ও শান্ত হয়ে পড়ে।
6. কবির সাধের ‘বাণিজ্য-তরী’টি আসলে কোথায় আটকা পড়ে আছে?
উত্তর: কবির এই বাণিজ্য-তরীটি চিরকালের জন্য জোয়ার-ভাটায় বাঁধা তটের কাছে, অর্থাৎ নদীর ঘাটের কিনারে নোঙরের মোটা কাছি দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা পড়ে আছে।
7. নৌকার মাস্তুলে পাল বাঁধার প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: নৌকার মাস্তুলে পাল বাঁধার মূল কারণ হলো, যাতে বাতাসের অনুকূল গতিকে কাজে লাগিয়ে নৌকাটিকে খুব দ্রুত সমুদ্রের দিকে ছুটিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
8. রাতের নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলো হঠাৎ করে কেঁপে ওঠে কেন?
উত্তর: দিগন্তবিস্তৃত মাঝসমুদ্র থেকে ভেসে আসা প্রবল সাগরের গর্জনে রাতের নির্জন ও নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলো হঠাৎ করেই যেন ভয়ে কেঁপে ওঠে।
9. প্রতিবার জলে দাঁড় ফেলার সঙ্গে সঙ্গে কবি কার বিদ্রূপ শুনতে পান?
উত্তর: নৌকা যেহেতু এক জায়গাতেই আটকে আছে, তাই প্রতিবার জলে দাঁড় ফেলার সময় কবি অনুভব করেন যেন নদীর স্রোত তাঁকে উপহাস বা বিদ্রূপ করছে।
10. রাতের অন্ধকারে কবি কীভাবে নিজের গন্তব্যের নিশানা ঠিক করেন?
উত্তর: রাতের অন্ধকারে কবি আকাশের দিকে তাকিয়ে উজ্জ্বল তারাদের অবস্থান দেখে নিজের গন্তব্য বা দিকের নিশানা ঠিক করেন।
11. দূর দেশে পাড়ি দেওয়ার জন্য কবির তরীটিতে কী বোঝাই করা আছে?
উত্তর: অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়ার জন্য কবির তরীটি বা বাণিজ্য-তরণীটি নানা রকম বিচিত্র পণ্যসম্ভারে কানায় কানায় পূর্ণ আছে।
12. তটে নোঙর আটকে থাকা সত্ত্বেও কবির দাঁড় টানা বিরামহীন কেন?
উত্তর: নোঙর আটকে থাকলেও, গণ্ডিবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষায় কবি নৌকাটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশায় বিরামহীনভাবে দাঁড় টেনে চলেন।
13. পাঠ্য কবিতায় ‘নোঙর’ শব্দটি আসলে কীসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় ‘নোঙর’ হলো আমাদের দৈনন্দিন গণ্ডিবদ্ধ জীবন, সংসারের দৃঢ় মায়াবন্ধন এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আসা নানা প্রতিবন্ধকতার প্রতীক।
14. কবিতায় উল্লিখিত ‘বাণিজ্য-তরী’ বলতে কবি কীসের রূপক বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবিতায় এই ‘বাণিজ্য-তরী’ হলো কবির গতিশীল জীবন, স্বপ্ন এবং সারা জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও জীবনসাধনার চমৎকার এক রূপক।
15. কবি তাঁর বাণিজ্য-তরী নিয়ে সিন্ধুতীরে পাড়ি দিতে চান কেন?
উত্তর: প্রাত্যহিক সাংসারিক জীবনের একঘেয়ে সংকীর্ণতা ও আবদ্ধতা ভেঙে, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়ে বৃহত্তর এক জগতে মুক্তি পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাতেই কবি সিন্ধুতীরে পাড়ি জমাতে চান।
নবম শ্রেণির বাংলা ‘নোঙর’ কবিতার ২ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Kobita 2 Marks Question Answer WBBSE
1. “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে”—উক্তিটির গভীর তাৎপর্যটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবির প্রবল ইচ্ছা ছিল অসীম সমুদ্রের বুকে পাড়ি দেওয়ার। কিন্তু বাস্তবে তাঁর জীবনের ‘নোঙর’ অর্থাৎ দৈনন্দিন সংসারের মায়াজাল ও দায়িত্ববোধ তাঁকে এক জায়গায় আটকে রেখেছে। মানসিকভাবে তিনি সুদূরের পিয়াসী হলেও, বাস্তবের মাটিতে তাঁর জীবন যে স্থবির হয়ে আছে—উক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবির সেই আক্ষেপই ফুটে উঠেছে।
2. “সারা রাত মিছে দাঁড় টানি”—এখানে কবির দাঁড় টানাকে ‘মিছে’ বা ব্যর্থ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: নৌকা ঘাটে নোঙর করা থাকলে যতই দাঁড় টানা হোক না কেন, তা একচুলও এগোতে পারে না। কবির ক্ষেত্রেও জীবনের নানান পিছুটান আর সীমাবদ্ধতা তাঁকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে। এই আবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাঁর সমস্ত আপ্রাণ চেষ্টা বা পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত বৃথা হচ্ছে বলেই দাঁড় টানাকে ‘মিছে’ বলা হয়েছে।
3. “স্রোতের বিদ্রূপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে”—নদীর স্রোত কবিকে কেন বিদ্রূপ বা উপহাস করে?
উত্তর: নৌকার নোঙর মাটিতে শক্তভাবে আটকে থাকা সত্ত্বেও, কবি যখন অবিরাম দাঁড় টেনে নৌকাটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, তখন নদীর বহমান স্রোত তাঁর এই বৃথা চেষ্টাকে উপহাস করে। কারণ স্রোত খুব ভালো করেই জানে, নোঙর না তুললে এই গতিহীন নৌকার জন্য করা সমস্ত পরিশ্রমই একেবারে অর্থহীন।
4. “মাস্তুলে বাঁধি পাল”—নৌকার মাস্তুলে পাল বাঁধলে মূলত কী সুবিধা পাওয়া যায়?
উত্তর: নৌকার মাস্তুলে পাল খাটানো থাকলে তা বাতাসের প্রবল শক্তিকে খুব সহজেই কাজে লাগাতে পারে এবং নৌকাটিকে দ্রুতগতিতে সমুদ্রের বুকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। কবি তাঁর স্থবির জীবন-তরীটিকে নতুন গতি দেওয়ার তীব্র বাসনা থেকেই মাস্তুলে পাল বাঁধার কথা বলেছেন।
5. রাতের নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলো হঠাৎ করে সাগরগর্জনে কেঁপে ওঠে কেন?
উত্তর: তীরের নির্জনতায় যখন কবি একা বসে থাকেন, তখন দূর থেকে ভেসে আসা বিশাল সমুদ্রের গর্জন তাঁকে ভেতর থেকে চঞ্চল করে তোলে। সেই সুদূর সাগরের প্রবল ডাক আর গর্জনের দাপটেই তাঁর বর্তমানের স্থবির ও নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলো অজানা এক আকুলতায় কেঁপে ওঠে।
6. ‘নোঙর’ কবিতায় “দিগনিশানা” বলতে কবি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: পুরোনো দিনের নাবিকরা রাতের আকাশে ধ্রুবতারা দেখে নিজেদের যাত্রাপথ ঠিক করতেন। কবিও তাঁর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে সঠিক দিক বা পথ বুঝতে চেয়েছেন। এখানে ‘দিগনিশানা’ বলতে মূলত জীবনের সঠিক লক্ষ্য স্থির করার কথাই বোঝানো হয়েছে।
7. কবির বাণিজ্য-তরীটি ঠিক কীসে পরিপূর্ণ ছিল?
উত্তর: কবিতায় কবির তরীটি নানা বিচিত্র পণ্যে ভরা ছিল। এই ‘পণ্য’ বলতে এখানে আক্ষরিক কোনো জিনিসকে বোঝানো হয়নি, বরং এটি হলো কবির সৃজনশীল প্রতিভা, সারা জীবনের সঞ্চিত অমূল্য অভিজ্ঞতা এবং তাঁর কাব্যের বৈচিত্র্যময় ভাবনার একটি চমৎকার রূপক।
8. “নোঙর কখন জানি পড়ে গেছে তটের কিনারে”—কবির মনে এমন অদ্ভুত অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: মানুষ জীবনের পথে চলতে চলতে কখন যে অজান্তেই সংসারের মায়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ে, তা সে নিজেও টের পায় না। কৈশোরের স্বপ্ন পেরিয়ে কখন যে সাংসারিক দায়িত্বের নোঙর কবির জীবনকে এক জায়গায় গেঁথে ফেলেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। জীবনের এই অমোঘ বাস্তবতাই এখানে চরম অনিশ্চয়তা হয়ে ফুটে উঠেছে।
9. তটে নোঙর পড়ে থাকা সত্ত্বেও কবির এই বিরামহীন দাঁড় টানা আসলে কীসের পরিচয় দেয়?
উত্তর: নোঙর তীরে আটকে আছে জেনেও কবির এই বিরামহীন দাঁড় টেনে চলা তাঁর অপরাজেয় জীবনসংগ্রামের জ্বলন্ত পরিচয় দেয়। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও মানুষ যে হাল ছাড়ে না এবং নিরন্তর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, এটি তারই মানসিক দৃঢ়তার এক চরম প্রতীক।
10. “তরীতে মাথা ঠুকে সমুদ্রের দিকে তারা ছোটে”—এখানে ঠিক কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা জোয়ারের উদ্দাম ঢেউগুলোর কথা বলা হয়েছে। এই ঢেউগুলো তীরের দিকে ছুটে এসে কবির নৌকায় বারবার আঘাত করে বা মাথা ঠোকে এবং তারপর আবার একরাশ আকুলতা নিয়ে বিশাল সমুদ্রের দিকেই ফিরে যায়।
11. কবির ‘সপ্তসিন্ধু’ পাড়ি দেওয়ার অদম্য স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কেন সফল হয় না?
উত্তর: দূর সিন্ধুপারে যাওয়ার জন্য কবির মনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তা শেষমেশ সফল হয় না। কারণ, তিনি চাইলেও তাঁর এই পার্থিব জীবনের মায়া-মমতা, সাংসারিক পিছুটান এবং দায়বদ্ধতারূপী অদৃশ্য ‘নোঙর’ থেকে নিজেকে কোনোভাবেই মুক্ত করতে পারেন না।
12. কবিতায় “মিছে দাঁড় টানি”—এই কথাটি দু-বার ব্যবহার করার পেছনের গুরুত্বটি কী?
উত্তর: “মিছে দাঁড় টানি” কথাটির এই দ্বিরুক্তি আসলে কবির চরম ব্যর্থতা ও গভীর ক্লান্তিকেই নির্দেশ করে। সংসারের মায়াজাল ছিন্ন করে শত চেষ্টা সত্ত্বেও স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার যে বুকফাটা যন্ত্রণা, তা এই লাইনটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই পাঠকের কাছে আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নবম শ্রেণির বাংলা ‘নোঙর’ কবিতার ৩ নম্বর প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Nongor Kobita 3 Marks Question Answer WBBSE
1. “নোঙর গিয়েছে পড়ে তটের কিনারে”—এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতায় এই লাইনটি মানুষের জীবনের এক চরম বাস্তবকে তুলে ধরেছে। নৌকার নোঙর যেমন তাকে এক জায়গায় আটকে রাখে, ঠিক তেমনি আমাদের বাস্তব জীবনের নানা মায়া-মমতা, সংসারের দায়িত্ব এবং পিছুটান আমাদের আটকে রাখে।
কবির মন সুদূরের পিয়াসী, তিনি তাঁর স্বপ্ন-তরণী নিয়ে অসীম সমুদ্রে পাড়ি দিতে চান। কিন্তু তাঁর অজান্তেই সংসারের দায়িত্ববোধ রূপী ‘নোঙর’ তাঁকে বাস্তবের মাটিতে শক্ত করে বেঁধে ফেলেছে। মন চাইলেও এই গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর পক্ষে আর অনন্তের পথে পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। মানুষের মনের এই অসীম উড়ান এবং বাস্তব জীবনের সীমাবদ্ধতার দ্বন্দ্বকেই কবি এখানে বুঝিয়েছেন।
2. “সারা রাত মিছে দাঁড় টানি”—কবির দাঁড় টানাকে এখানে ‘মিছে’ বা ব্যর্থ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: সুদূর সমুদ্রপারে পাড়ি দেওয়ার এক অদম্য আকাঙ্ক্ষায় কবি সারা রাত ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে নৌকার দাঁড় টেনে চলেন। কিন্তু তিনি ভুলে যান যে, তাঁর নৌকার নোঙরটি তটের কিনারায় শক্ত মাটিতে আটকে রয়েছে।
নোঙর না তুলে যেমন হাজার দাঁড় টানলেও নৌকা একচুলও এগোয় না, ঠিক তেমনি সাংসারিক জীবনের মায়া-বন্ধন ও পিছুটান ছিন্ন না করে কল্পনার জগতে বা মুক্তির পথে পাড়ি দেওয়া একেবারে অসম্ভব। নিজের এই বৃথা পরিশ্রম, চরম অসহায়তা এবং গভীর হতাশা বোঝাতেই কবি দাঁড় টানাকে ‘মিছে’ বা ব্যর্থ বলেছেন।
3. “স্রোতের বিদ্রূপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে”—স্রোত কেন এবং কীভাবে কবিকে বিদ্রূপ করে?
উত্তর: কবির নৌকাটি ঘাটে নোঙর করা রয়েছে, অর্থাৎ তিনি সাংসারিক জীবনের গণ্ডিতে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ। এই অবস্থায় তিনি যখন মুক্তির আশায় জোরালোভাবে নৌকার দাঁড় টেনে চলেন, তখন নদীর ঢেউ বা স্রোত যেন তাঁর এই বৃথা চেষ্টাকে উপহাস করে।
কারণ বহমান স্রোত খুব ভালো করেই জানে, নোঙরের মতো শক্ত বাঁধন না ছিঁড়ে এই গতিহীন নৌকার জন্য করা সমস্ত পরিশ্রমই একেবারে অর্থহীন। দাঁড়ের প্রতিটি আওয়াজ যেন কবিকে মনে করিয়ে দেয় যে তাঁর সব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। প্রকৃতির এই অমোঘ শক্তির কাছে মানুষের এই অসহায়তাকেই কবি স্রোতের বিদ্রূপ বলে মনে করেছেন।
4. “আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে।”— কথাটির গভীর তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবিতায় ‘বাণিজ্য-তরী’ হলো কবির সৃষ্টিশীল জীবন, স্বপ্ন এবং সারা জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার এক চমৎকার রূপক। কবি চান তাঁর এই সাহিত্যকীর্তি ও স্বপ্নগুলো নিয়ে সাতসমুদ্রের পাড়ে, বহু দূরের কোনো এক অজানা জগতে পাড়ি দিতে।
কিন্তু পরমুহূর্তেই তিনি চরম বাস্তবের মুখোমুখি হন। তিনি বুঝতে পারেন, প্রাত্যহিক জীবনের দায়িত্ব, কর্তব্য আর সংসারের মায়াজাল তাঁর জীবন-তরীটিকে ঘাটের কাছে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে। মন তীব্রভাবে চাইলেও তিনি এই জাগতিক বন্ধন ছিন্ন করে তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না—কবির এই গভীর হতাশা ও আক্ষেপই উক্ত পঙ্ক্তিটিতে ফুটে উঠেছে।
5. “জোয়ারের ঢেউগুলি ফুলে ফুলে ওঠে”—কবিতায় জোয়ারের ঢেউয়ের প্রভাব বা গুরুত্ব কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: সমুদ্রে জোয়ার এলে যেমন জল ফুলে-ফেঁপে ওঠে, তেমনি কবির মনেও মাঝে মাঝে মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে।
জোয়ারের সময় ফুলে ওঠা ঢেউগুলো কবির নৌকায় এসে বারবার ধাক্কা দেয় বা মাথা ঠোকে, যা দেখে কবির মনে ক্ষণিকের জন্য আশার আলো জাগে। তাঁর মনে হয়, হয়তো এবার এই জোয়ারের ধাক্কাতেই তিনি সমুদ্রের অনন্ত পথে ভেসে পড়তে পারবেন। জোয়ারের এই ঢেউগুলো আসলে কবির মনের ভেতরের প্রাণচাঞ্চল্য আর অসীমের ডাকেরই প্রতীক। কিন্তু জোয়ারের পরেই যেমন ভাটার টান সব উদ্দীপনা শুষে নেয়, তেমনি কবির স্বপ্নও বাস্তবতার কাছে এসে বারবার থমকে যায়।
নবম শ্রেণির বাংলা ‘নোঙর’ কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali Nongor Kobita 5 Marks Important Question Answer WBBSE
নোঙর কবিতার গুরুত্বপূর্ণ ৮টি বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali
1. ‘নোঙর’ কবিতা অবলম্বনে কবির মানসিক দ্বন্দ্ব এবং অসম্পূর্ণ কামনার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: কবি অজিত দত্তের ‘নোঙর’ হলো একটি চমৎকার রূপকধর্মী কবিতা। এই কবিতায় একজন নাবিকের সমুদ্রযাত্রার রূপকের আড়ালে মানুষের অনন্ত অজানাকে জানার ইচ্ছে এবং তাকে বাস্তবায়নের পথে আসা প্রতিবন্ধকতার এক নিবিড় দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- মানসিক দ্বন্দ্ব: কবি চান তাঁর বিচিত্র পণ্যবাহী বাণিজ্য-তরী নিয়ে সপ্তসিন্ধুর ওপারে ভেসে যেতে। এটি মূলত অজানার প্রতি মানুষের চিরন্তন আকর্ষণের প্রতীক। কিন্তু কবির তরীটি তটের কিনারে নোঙরে শক্ত করে বাঁধা। এই নোঙর হলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের দায়িত্ব ও সাংসারিক পরাধীনতার রূপক। কবির মন যখন অসীমের টানে চঞ্চল হয়ে ওঠে, তাঁর শরীর তখন বাস্তব পৃথিবীর কঠিন বন্ধনে বন্দি থাকে। এই আবদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কবির আপ্রাণ দাঁড় টানা এবং বহমান স্রোতের বিদ্রূপ—কবির ভেতরের এই রক্তাক্ত মানসিক দ্বন্দ্বকেই স্পষ্ট করে তোলে।
- অসম্পূর্ণ কামনা: কবি সারা রাত ধরে অক্লান্তভাবে দাঁড় টানেন, মাস্তুলে পাল বাঁধেন, কিন্তু নৌকা একই জায়গায় স্থির থাকে। জোয়ারের ঢেউগুলো ডাক দিয়ে গেলেও ভাটার টান সমস্ত গতি হরণ করে নেয়। স্বপ্ন ও বাস্তবের এই অসম লড়াইয়ে কবির কামনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কবি হাল ছাড়েন না। নোঙর না ওঠা সত্ত্বেও তিনি অবিরাম দাঁড টেনে চলেন। এই বিরামহীন প্রয়াস প্রমাণ করে যে, মানুষের জয় তার গন্তব্যে পৌঁছানোর মধ্যে নয়, বরং পৌঁছানোর সেই নিরন্তর সংগ্রামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
2. ‘নোঙর’ শব্দের আভিধানিক এবং রূপক অর্থ বিচার করে কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণের মাধ্যমেই কোনো রচনার মূল ভাববস্তু স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অজিত দত্তের ‘নোঙর’ কবিতাটির নামকরণও এর বিষয়বস্তুর বিচারে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।
- আভিধানিক অর্থ: আভিধানিকভাবে ‘নোঙর’ (ফারসি ‘লঙ্গর’ শব্দ থেকে আগত) হলো লোহা দিয়ে তৈরি বড়শি আকৃতির এক প্রকার ভারী যন্ত্র, যা জলের মধ্যে ফেলে নৌকা বা জাহাজকে তীরে স্থিরভাবে আটকে রাখতে ব্যবহৃত হয়। কবিতায় আমরা দেখি, একটি তরী তটের কিনারে নোঙর করা অবস্থায় আটকে আছে, যে কারণে সারা রাত দাঁড় টেনেও তাকে সমুদ্রের দিকে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
- রূপক অর্থ: এই কবিতাটির গূঢ় ভাব অত্যন্ত গভীর। কবি এখানে নোঙরকে মানুষের সামাজিক ও সাংসারিক পিছুটানের বা মায়া-বন্ধনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মানুষ যখনই গণ্ডি পেরিয়ে সুদূরের অজানাকে চিনতে চায়, তখনই নোঙররূপী দায়-দায়িত্ব তাকে শেকলের মতো আটকে ধরে। জোয়ার-ভাটার মতো জীবনে চড়াই-উতরাই এলেও নোঙরের জন্যই মানুষ এক জায়গায় স্থবির হয়ে থাকে।
- সার্থকতা: সমগ্র কবিতায় কবি তাঁর স্বপ্নের বাণিজ্য-তরণী নিয়ে পাড়ি দেওয়ার যে ব্যাকুলতা দেখিয়েছেন, তার প্রধান অন্তরায় হলো এই নোঙর। কবির দাঁড টানা, স্রোতের বিদ্রূপ বা দিগনিশানা স্থির করা—সবকিছুই এই নোঙরের উপস্থিতির কারণে এক আবর্তনশীল চক্রে ঘুরতে থাকে। যেহেতু নোঙরই কবিতার কেন্দ্রীয় সংকট এবং এই রূপকটি ঘিরেই কবিতার মূল ভাব আবর্তিত হয়েছে, তাই ‘নোঙর’ নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী।
3. “তরণী ভরা পণ্য নিয়ে পাড়ি দিতে সপ্তসিন্ধুপারে / নোঙর কখন জানি পড়ে গেছে তটের কিনারে” – পঙক্তি দুটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য পঙ্ক্তি দুটি কবি অজিত দত্তের বিখ্যাত ‘নোঙর’ কবিতা থেকে সংগৃহীত। কবি তাঁর স্বপ্নের তরণী সাজিয়ে সুদূরের সমুদ্রযাত্রায় যাওয়ার জন্য উন্মুখ ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে নোঙরের শক্ত বাঁধন যে তাঁর যাত্রাকে থামিয়ে দিয়েছে, সেই গভীর আক্ষেপই এখানে ফুটে উঠেছে।
এই চরণ দুটিতে ‘বাণিজ্য-তরী’ ও ‘পণ্য’ এক নিবিড় দার্শনিক ইশারা বহন করে। একজন স্রষ্টা বা কবির কাছে তাঁর পণ্য হলো তাঁর সৃষ্টিশীলতা, তাঁর অর্জিত জ্ঞান, স্বপ্ন এবং জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা। কবি চান তাঁর এই সৃষ্টির ডালি নিয়ে পৃথিবীর দিগ দিগন্তে, অর্থাৎ সপ্তসিন্ধুর ওপারে ছড়িয়ে পড়তে।
কিন্তু মানুষ জীবনের পথে চলতে চলতে কখন যে সংসারের মায়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ে, তা সে নিজেও টের পায় না। কখন যে কৈশোর পেরিয়ে সাংসারিক দায়িত্বের নোঙর জীবনের তটে গেঁথে যায়, তা বোঝা যায় না। অসীমের ডাক বা স্বপ্ন মানুষের মনে তীব্র হলেও পরিচিত গণ্ডির নিরাপত্তা ও দায়িত্ব তাকে শিকল দিয়ে এক জায়গায় বেঁধে রাখে। কবির এই অজান্তে নোঙর পড়ে যাওয়ার ঘটনা আসলে প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনের ট্র্যাজেডি। আমরা অনেক বড়ো কিছু করতে চাইলেও বাস্তবের কঠিন দাবি আমাদের একটা নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে রাখে। এই অসাধারণ রূপকের মাধ্যমেই কবি পঙ্ক্তি দুটির সার্থকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
4. “স্রোতের বিদ্রূপ শুনি প্রতিবার দাঁড়ের নিক্ষেপে”—উক্তিটির ব্যাখ্যা দাও এবং কবির প্রতিক্রিয়ার পরিচয় দাও।
উত্তর: কবি যখন অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় নৌকার দাঁড জলের বুকে নিক্ষেপ করেন, তখন সেখান থেকে যে জলতরঙ্গ ও শব্দ তৈরি হয়, তা কবির কানে উপহাস বা বিদ্রূপের মতো শোনায়।
এই বিদ্রূপ বাইরের কোনো শক্তির নয়, বরং কবির নিজের অসহায়ত্বের প্রতিধ্বনি। কারণ তরীটি ঘাটের মাটিতে নোঙরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা। নোঙর না তুলে এগিয়ে যাওয়ার এই ব্যর্থ প্রয়াস দেখে প্রকৃতি বা স্বয়ং স্রোত যেন কবিকে উপহাসের চোখে দেখে।
- কবির প্রতিক্রিয়া: স্রোতের এই উপহাস ও বৈরিতার মুখেও কবি ভেঙে পড়েননি বা হাল ছেড়ে দেননি। স্রোতের এই তীক্ষ্ণ উপহাস তরণীর মাস্তুলে নতুন পাল বাঁধার জেদ তৈরি করে। যদিও কবি খুব ভালো করেই জানেন যে তরীটি এগোবে না, তবুও তাঁর স্বপ্নগুলো অসীম সাগরের ডাকে স্পন্দিত হতে থাকে। তিনি আকাশের তারার দিকে চেয়ে দিকের নিশানা স্থির করেন। অর্থাৎ, পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, তিনি তাঁর লক্ষ্য থেকে একটুও বিচ্যুত হন না। শেষ পর্যন্ত তিনি বাস্তবের কাছে পরাজয় মেনে নেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই নিরন্তর দাঁড টেনে চলার সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে বীরত্ব শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মধ্যে নয়, অবিরাম সংগ্রামের মধ্যেই বর্তমান।
5. ‘জোয়ার-ভাটা’ এই কবিতায় কীভাবে জীবনের প্রবাহকে চিত্রিত করেছে?
উত্তর: ‘নোঙর’ কবিতায় জোয়ার ও ভাটা প্রকৃতির এক অমোঘ শক্তির প্রতীক হিসেবে এসেছে, যা মানব জীবনের বিচিত্র গতিরূপ ও ওঠাপড়াকে চমৎকারভাবে চিত্রিত করেছে।
- জোয়ারের ভূমিকা: জোয়ারের ঢেউগুলো যখন সমুদ্র থেকে ফুলে উঠে তটের দিকে ছুটে আসে, তখন তা মানুষের মনের অদম্য আশা, তারুণ্য, স্বপ্ন ও উদ্যমের প্রতীক বলে মনে হয়। ঢেউগুলো নৌকায় মাথা ঠুকে যেন বারবার বলতে চায় যে অসীমের ডাক এসেছে, এবার চলো ভেসে পড়ি। এটি কবির মনে ক্ষণিকের জন্য প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
- ভাটার ভূমিকা: কিন্তু জোয়ারের পরেই শুরু হয় ভাটার টান। ভাটা যেমন নদীর স্রোতের প্রবল প্রাণশক্তি ও মত্ততাকে শুষে নেয়, তেমনি মানুষের জীবনে নেমে আসা অবসাদ, বার্ধক্য বা ব্যর্থতাও জীবনের সমস্ত অনুপ্রেরণা শুষে নেয়। এই জোয়ার-ভাটার চক্রাবর্তে আমাদের বাণিজ্য-তরীটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু দুলতে থাকে। এর মাধ্যমে কবি বুঝিয়েছেন যে মানুষের জীবনেও আশা-নিরাশার খেলা প্রতিনিয়ত চলতে থাকে, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির খুব একটা আমূল পরিবর্তন হয় না—বিশেষত যতক্ষণ না আমরা নোঙরেরূপী জাগতিক পিছুটান ছিন্ন করতে পারছি।
6. ‘নোঙর’ কবিতা অবলম্বনে কবির সমুদ্রযাত্রার উদ্যোগ এবং ব্যর্থতার পরিচয় দাও।
উত্তর: ‘নোঙর’ কবিতায় রোমান্টিক কবি অজিত দত্তের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর তীব্র অভীপ্সা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। পারিপার্শ্বিক বন্ধনের সীমানা পেরিয়ে তিনি সপ্তসিন্ধুর ওপারে এক অজানা জগতে চলে যেতে চান।
- সমুদ্রযাত্রার উদ্যোগ: জলপথে যাত্রা করবেন বলে কবি একটি নৌকা প্রস্তুত রেখেছেন। সেই নৌকায় সারা জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিরূপী পণ্য বোঝাই করেছেন, হাওয়ার গতিকে কাজে লাগাতে মাস্তুলে পাল বেঁধেছেন এবং হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরেছেন দাঁড়।
- ব্যর্থতা ও অবিরাম সংগ্রাম: কিন্তু যাত্রা শুরু করার মুহূর্তে দাঁড় বাইতে গিয়ে কবি অনুভব করেন, নিজেরই অজান্তে কখন নৌকার নোঙর পড়ে গেছে তটের কিনারে। তাঁর সুদূরপিয়াসী মন অদৃশ্য জাগতিক বন্ধনে বাঁধা পড়ে গেছে। কিন্তু গতিশীল জীবনধর্মে বিশ্বাসী কবি থেমে থাকতে চান না। এই চরম প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে তিনি অবিরত জীবনতরীর দাঁড় টানেন। তাঁর চোখের সামনে ঢেউগুলো দুরন্ত গতির বার্তা নিয়ে আসে আর সাড়া না পেয়ে ফিরে যায়। চঞ্চল স্রোত কবির স্থবিরতাকে বিদ্রূপ করে। নিস্তব্ধ রাতে কবি অবিরাম দাঁড় টেনে চলেন। বারবার ব্যর্থ হয়েও তিনি গন্তব্যে পৌঁছানোর আশা ও চেষ্টা ত্যাগ করেন না। কিন্তু তিনি জানেন এই দাঁড় টানা মিছে বা বৃথা। এই অসহায়তা আর ব্যর্থতার বেদনাতেই কবির মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।
7. “নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলি সাগরগর্জনে ওঠে কেঁপে / …ততই বিরামহীন এই দাঁড় টানা।”—পঙক্তিগুলির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এই পঙ্ক্তিগুলির মাধ্যমে এক স্তব্ধতা ও বিশালতার মাঝখানে কবির মানসিক টানাপোড়েন বা দোলচাল অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
কবির বর্তমান জীবনটি নিস্তব্ধ ও স্থবির, যা সংসারের ঘাটে নোঙর করে আটকে আছে। কিন্তু দূর থেকে ভেসে আসা সাগরের উত্তাল গর্জন সেই নিস্তব্ধতাকে বারবার ভেঙে দেয়। মানুষের অবচেতন মনে মুক্তির যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা থাকে, সমুদ্রের গভীর ডাক তাকেই যেন বিচলিত করে তোলে। সাগরগর্জনের এই অসীম বিশালতার কাছে যখন কবির নিস্তব্ধ মুহূর্তগুলো কেঁপে ওঠে, তখন নিজের অসহায়তা ও সীমাবদ্ধতা কবির সামনে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নদীর স্রোত তাঁকে উপহাস করে, পরিস্থিতির প্রতিকূলতা বেড়ে যায়।
কিন্তু এতকিছুর পরেও কবি বিরামহীনভাবে দাঁড টানার অঙ্গীকার করেন। এখানে ‘বিরামহীন’ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো নিশ্চয়তা না থাকলেও কবির এই নিরন্তর প্রচেষ্টাতেই তাঁর আসল মনুষ্যত্বের পরিচয় লুকিয়ে আছে। এই পঙ্ক্তিগুলির মাধ্যমে কবি আমাদের বুঝিয়েছেন যে, ফলপ্রাপ্তি বা সফলতার চেয়ে কর্ম করে যাওয়া বা স্বপ্ন পূরণের সাধনাই মানবজীবনের পরম সত্য।
8. “সারারাত তবু দাড় টানি”—কবি সারারাত দাড় টানেন কেন? ‘দাড়’ কথাটি বলার কারণ কী? এই দাঁড় টানার মধ্য দিয়ে কবির কোন্ মানসিক অবস্থার পরিচয় ফুটে ওঠে?
উত্তর: কবি অজিত দত্ত ‘নােঙর’ কবিতায় আক্ষেপ করে বলেছেন যে, পণ্যভরা নৌকা নিয়ে তিনি সাতসাগরের পাড়ে পাড়ি দিতে চান। কিন্তু তটের কিনারে তাঁর নৌকার নোঙর আটকে রয়েছে। নৌকা যে আর তট ছেড়ে সামনে এগোবে না, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। তবু তাঁর রোমান্টিক মন যেন এই বাস্তব সত্য মেনে নিতে চায় না। তাই কঠিন সত্যটি জানা সত্ত্বেও, অজানার উদ্দেশ্যে পৌঁছানোর এক তীব্র বাসনায় কবি সারারাত ধরে দাঁড় টেনে চলেন।
এই কবিতায় ‘দাঁড়’ হলো মানুষের নিরন্তর চেষ্টা ও জীবনসংগ্রামের প্রতীক। এই দাঁড় টানার মধ্য দিয়ে কবির অদম্য ও অপরাজিত মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি জানেন, সমাজ-সংসারের নানা বন্ধন তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। তবু তাঁর কল্পনাবিলাসী মন সব বাঁধন ছিঁড়ে মুক্ত জীবনের স্বাদ পেতে চায়। তাঁর চারপাশের বাস্তব তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দেয় যে এই দাঁড় টানা বৃথা, কিন্তু তাঁর অবচেতন মন আশা আর স্বপ্নের জাল বুনে চলে। কবি জানেন তাঁর বাসনা হয়তো কোনোদিনই পূর্ণ হবে না, তবু স্বপ্নময় জীবনের অনুসন্ধানে তাঁর কোনো ক্লান্তি নেই। দূর সাগরে পাড়ি দেওয়ার এই অদম্য স্বপ্নই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে।